৬ তাকবীরের সাথে ঈদের নামায আদায় করা হাদীস মোতাবেক সম্পূর্ণ সহীহ-১

 

সম্মানিত পাঠক/পাঠিকাবৃন্দ। এই ফাতওয়াটি একদল কথিত আহলে হাদীস কর্তৃক প্রকাশিত ঈদের নামাযের ৬ তাকবীর নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক একটি লিফলেটের জবাবে লিখা। ফাতওয়াটি তৈরী করেন ঐতিহ্যবাহী মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার ইফতা বিভাগ। জামিয়াতুল আস’আদ আল ইসলামিয়ার ওয়েব সাইটের পাঠকদের জন্য ফাতওয়াটি প্রশ্নসহ প্রকাশ করা হল। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কথিত আহলে হাদীসের ফিতনা থেকে হিফাযত করুন।

 

প্রশ্ন : (ক) ঈদের নামাজে ছয় তাকবীর ওয়াজিব। এর পক্ষে সহীহ কোন হাদীস আছে কি না?

থাকলে তার প্রমাণসহ জানতে চাই।

(খ) এক শ্রেণীর আলিম বলে থাকেন যে, “ঈদের নামাজে ছয় তাকবীর ওয়াজিব” একথাটা ভিত্তিহীন। সাথে সাথে তারা ঈদের নামাজে বার তাকবীরের পক্ষে বেশ কিছু হাদীসও ওলামায়ে কেরামের আমল পেশ করে থাকেন। যেমন-তাদের কিছু বক্তব্য প্রশ্নের সাথে সংযোজন করা হল। এর জবাব কি? বিস্তারিত জানতে চাই।

১।

 

قال الشافعي سمعت سفيان بن عيينة يقول سمعت عطاء ابن ابي رباح يقول سمعت عبد الله بن عباس يقول اشهد علي رسول الله صلي الله عليه وسلم انه كبر في صلاة العيدين في الأولي سبعا سوي تكبيرة الاحرام وفي الثانية خسما سوي تكبيرة القيام ـ وهذا اصح اسنادا ـ واوثق رجالا واثبت لفظا لانه جاء بقوله سمعت اخرجه الشافعي في الام ـ

অর্থঃ ইমাম শাফেয়ী (রঃ) বলেন- আমি সুফিয়ান বিন উয়াইনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন ঃ আমি আতাআ বিন আবু রাবাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ বিন আব্বাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি দু’ঈদের সালাতের প্রথম রাকআতে তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত সাত তাকবীর দিয়েছেন এবং দ্বিতীয় রাকআতে দাঁড়ানোর তাকবীর ব্যতীত পাঁচ তাকবীর দিয়েছেন।

এ হাদীসের সনদ অধিক ছহীহ এবং রাবীগণ অধিক নির্ভরযোগ্য এবং অধিক প্রতিষ্ঠিত শব্দে বর্ণিত কেননা এ হাদীস সামিতু (আমি নিজে শুনেছি) শব্দ-দ্বারা এসেছে (কিতাবুল উম, ১ম খন্ড, ২৩৬ পৃঃ)।

২।

عن كثير بن عبد الله عن ابيه عن جده ان النبي صلي الله علي وسلم كبر في العيدين في الاولي سبعا قبل القراءة وفي الاخرة خسما قبل القراءة.

অর্থঃ হযরত কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ তাহার পিতা-আব্দুল্লাহ হতে, তিনি তাহার পিতামহ (আমর ইবনে আওফ মুযানী) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী করিম (সঃ) উভয় ঈদের নামাযেই প্রথম রাক’আতে কেরাত পাঠের পূর্বে সাতবার তাকবীর বলেছেন এবং দ্বিতীয় বা পরবর্তী রাক’আতে কেরাআত পাঠের পূর্বে পাঁচ বার তাকবীর বলেছেন (তিরমিযী, ইবনে মাযাহ ও দারেমী, মিশকাত, আলিম ক্লাসের পাঠ্য আরাফাত প্রকাশনী ২য় খন্ড হাঃ নং- ১৩৫৭)।

 

৩।

عن نافع انه قال شهدت الاضحي والفطر مع ابي هريرة فكبر في الركعة الاولي سبع تكبيرات قبل القراءة وفي الاخرة خمس تكبيرات قبل القراءة ـ قال مالك وهو الامر عندنا ـ

অর্থঃ নাফি (রহঃ) বলেন ঃ আমি আবু হুরায়রা (রাঃ) এর সাথে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযে উপস্থিত হয়েছি। তিনি কিরাতের পূর্বে প্রথম রাকাআতে সাতটি তাকবীর ও দ্বিতীয় রাকআত পাঁচটি তাকবীর বলেছেন। ইমাম মালিক বলেন-আমাদের নিকট ইহাই (শরয়ী) হুকুম (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, ১ম খন্ড, ২৩৯ পৃঃ হাঃ নং ৯ইঃ ফাঃ)।

নোট : উপরে বর্ণিত হাদীসের ভিত্তিতে স্বণামধন্য হানাফী মুহাদ্দিস আল্লামা আঃ হাই লক্ষেèৗভী ইমাম মোহাম্মদের মুয়াত্তার টিকায় লিখিয়াছেন-هذا لا يكون رايا الا توقيفا يجب التسليم له অর্থঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) ১২ তাকবীরের উপর আমল করেছেন। এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত নয় বরং তা হল নবী (সঃ) এর নির্দেশ। যার উপর আমল করা অপরিহার্য কর্তব্য (আততালিকুল মুমাজ্জাদ, ১৪১ পৃঃ।

 

৪।

عن عمر بن الخطاب انه صلي صلاة العيد فكبر في الاولي سبعا وفي الثانية خمسا يرفع يديه مع كل تكبيرة ـ

উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি ঈদের সালাত পড়েছেন। প্রথম রাক’আতে তিনি সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিয়েছেন এবং প্রত্যেক তাকবীরে দু’ হাত উত্তোলন করেছেন (বায়হাকী, ৩য় খন্ড, ৪১২ পৃঃ)।

 

৫।

عن عائشة ان النبي صلي الله عليه وسلم كان يكبر في العيدين سبعا و خمسا قبل القراءة.

হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সঃ) দু’ ঈদের সালাতে কিরাতের পূর্বে প্রথম রাকআতে কিরাআতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দিতেন (মুসনাদে আহমদ, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৬৫ পৃঃ)।

 

৬।

عن عمرو بن العاص (رض) قال قال النبي صلي الله عليه وسلم التكبير في الفطر سبع في الاولي وخمس في الاخرة القراءة بعدهما كلتيهما ـ

আমর ইবনুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (সঃ) ইরশাদ করেন ঃ ঈদুল ফিতরের প্রথম রাকাআতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচ তাকবীর এবং উভয় রাকাআতে তাকবীরের পরেই কিরাত পাঠ করতে হয় (আবু দাউদ, ২য় খন্ড, হাঃ নং-১১৫১ ইঃ ফাঃ)।

 

৭।

عن عبد الله بن فروخ قال صليت خلف عثمان العيد فكبر سبعا وخمسا ـ

আব্দুল্লাহ বিন ফুরুখ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন ঃ আমি উসমান (রাঃ) এর পিছনে ঈদের সালাত পড়েছি। তিনি প্রথম রাক’আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিলেন (মুসনাদে আহম্মদ, ১ম খন্ড, ৭৩ পৃঃ)।

 

৮।

عن عائشة ان رسول الله صلي الله عليه وسلم كان يكبر في الفطر والاضحي في الاولي سبع تكبيرات وفي الثانية خمساً ـ

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন ঃ রাসুলুল্লাহ (সঃ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযের প্রথম রাক’আতে সাত এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচবার তাকবীর বলতেন (আবু দাউদ, ২য় খন্ড, হাঃ নং-১১৪৯ ইঃ ফাঃ)।

(৯) عن علي (رض) كبر في العيدين سبعا و خمسا وجهريا القراءة ـ

৯। হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি দু’ঈদের সালাতে প্রথম রাক’আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন এবং উচ্চঃস্বরে কিরাত পড়তেন (ইমাম শাফেয়ী, কিতাবুর রিসালা, ১ম খন্ড, ২০৯ পৃঃ)।

(১০) عن ابن عمر قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم التكبير في العيدين في الركعة الاولي سبع تكبيرات وفي الاخرة خمس تكبيرات ـ

১০। হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) হতে বর্র্ণিত, তিনি বলেন ঃ রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, দু’ ঈদের সালাতে তাকবীর হল প্রথম রাক’আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর (দারাকুতনী ১ম খন্ড, ১৮১ পৃঃ)।

(১১) عن ابن عباس انه كبر في العيد في الركعة الاولي سبعا ثم قرأ وكبر في الثانية خمسا ـ

১১। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি ঈদের সালাতে প্রথম রাকআতে সাত তাকবীর দিয়েছেন। অতপর কিরাত পড়েছেন এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিয়েছেন (বায়হাকী, ৩য় খন্ড, ৪০৭ পৃঃ)।

 

(১২)

عن سعد (موذن رسول الله صلي الله عليه وسلم) ان رسول الله صلي الله عليه وسلم كان يكبر في العيدين في الاولي سبعا قبل القراءة وفي الاخرة خمسا قبل القراءة ـ

অর্থঃ রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর মুয়াযযিন সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) দুই ঈদের সালাতের প্রথম রাক’আতের কিরাআতের পূর্বে সাত তাকবীর এবং শেষ রাক’আতে কিরাতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর বলতেন। ইবনে মাযাহ ১ম খন্ড হাঃ নং-১২৭৭, ইঃ ফাঃ।

(১৩)

عن جعفر بن محمد عن ابيه قال كان علي (رض) يكبر في الفطر والاضحي سبعا في الاولي وخمسا في الاخرة ويصلي قبل الخطبة ويجهر بالقراءة قال وكان رسول الله صلي الله عليه وسلم وابو بكر وعمر وعثمان يفعلون ذلك .

অর্থ : জাফর বিন মুহাম্মদ হতে বর্ণিত ঃ তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করে বলেন, আলি (রাঃ) ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার সালাতে প্রথম রাকআতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন আর খুৎবার পূর্বে সালাত আদায় করতেন এবং উচ্চঃস্বরে কিরাত পাঠ করতেন।

রাবী (বর্ণনাকারী) বলেন , রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ), উসমান (রাঃ) ঐ রূপই ১২ তাকবীর দিতেন (মুসন্নাফে আব্দুর রায্যাক, ৩য় খন্ড, ৮৫ পৃঃ)।

বিঃ দ্রঃ হাদীসের কিতাব সমূহের মধ্যে বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ ও নাসাঈ শরীফ এ তিনটি কিতাবে ঈদের সালাতের তাকবীর সম্পর্কে কোন হাদীস নেই। অবশিষ্ট সব হাদীসের কিতাবগুলোতে ১২ তাকবীর সম্পর্কে ১৫২টিরও অধিক হাদীস রয়েছে। আমরা তার থেকে মাত্র ১৩টি হাদীস আপনাদের খিদমতে পেশ করলাম, যার মাধ্যমে ঈদের সালাতের বাড়তি তাকবীর সংখ্যা মাত্র (৭+৫) বার প্রমাণিত হল। কিন্তু দুঃখের বিষয় ছয় তাকবীরের কোন অস্তিত্ব হাদীসের কিতাবে এমন কি ফিকহের কিতাবেও খুঁজে পাওয়া যায় না।

 

অতএব, ঈদের সালাত ছয় তাকবীরের পক্ষে কোন ব্যক্তি যদি ছহীহ, মারফু, মুত্তাসিল একটি মাত্র হাদীস দেখাতে পারেন তবে তাকে এক লক্ষ টাকা (১,০০,০০০) পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কার লাভের জন্য নি বর্ণিত শর্ত অবশ্যই মানতে হবে।

১। যে সকল হাদীসের সনদে হাদীস শাস্ত্রের ইমামদের কোন একজন আপত্তিজনক মন্তব্য করেছেন এমন কোন হাদীস দয়া করে পাঠাবেন না।

২। কোন ছাহাবী বা ইমাদের ব্যক্তিগত আমল ও উক্তি দয়া করে পাঠাবেন না, যেই আমল বা উক্তির সাথে নবী (সঃ) এর সুন্নাতের কোন মিল নাই কারণ আমরা চেয়েছি মারফু হাদীস।

৩। এমন কোন হাদীস বা আসার পাঠাবেন না যে হাদীসের মধ্যে ৬ শব্দটি উল্লেখ নেই। কারণ আমরা চেয়েছি ছয় তাকবীরের ছহীহ মারফু, মুত্তাসিল হাদীস। যেমন-নি¤েœ বর্ণিত কয়েকটি হাদীস যার ছনদ ছহীহ নয়, এবং ৬ তাকবীরের শব্দও যার মধ্যে উল্লেখ নাই।

عن سعيد بن العاص قال سالت ابا موسي وحذيفة كيف كان رسول الله صلي الله عليه وسلم يكبر في الاضحي والفطر فقال ابو موسي كان يكبر اربعا تكبيرة علي الجنائز فقال حذيفة صدق ـ

অর্থ ঃ হযরত সাঈদ ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি একবার হযরত আবু মুছা আশয়ারী ও হুযাইফা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করিলাম যে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) ঈদুল আযহার ও ঈদুল ফিতরে কিভাবে (কতবার) তাকবীর বলিতেন? তখন হযরত আবু মুছা আশয়ারী (রাঃ) বলিলেন- তিনি চার চার তাকবীর বলিতেন। যেইরূপ তিনি জানাযার তাকবীর বলতেন। ইহা শুনিয়া হযরত হুযাইফাহ (রাঃ) উহার সমর্থন করিয়া বলিলেন যে, তিনি সত্য কথা বলিয়াছেন (আবু দাউদ, মিশকাত আলিম ক্লাসের পাঠ্য আরাফাত প্রকাশনী, ২য় খন্ড, হাঃ নং ১৩৫৯)।

উপরে বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন-

واسناده ضعيف لان ابا عائشة المذكور غير معروف كما قال الذهبي ـ

অর্থ ঃ উপরে বর্ণিত হাদীসের সনদ যঈফ, কারণ উক্ত হাদীসটি বর্ণনাকারী রাবী আবু আয়েশার কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি (লোকটি মুসলিম না ইহুদী ভাল না মন্দ কিছুই জানা যায়নি। আর আল্লাহর নবী এমন লোকের হাদীস গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন) দেখুন-মিশকাত, আলবানির তাহকীক সহ, ১ম খন্ড ৪৫৩ পৃঃ।

عن عبد الله بن مسعود قال التكبير في العيدين خمس في الاولي واربع في الثانية

অর্থ ঃ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দুই ঈদের সালাতে তাকবীর সংখ্যা হল প্রথম রাক’আতে পাঁচ তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকআতে চার তাকবীর (বায়হাকী, ৩য় খন্ড, ৪১০ পৃঃ; মুসান্নাফে ইবনে আমি শায়বা, ২য় খন্ড, ৭৮ পৃঃ)।

নোট ঃ উপরে বর্ণিত হাদীস দ’ুটিতে কোথাও ছয় শব্দ উল্লেখ নেই বরং প্রথম হাদীসটিতে চার তাকবীরের বর্ণনা আছে এবং দ্বিতীয় হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের ব্যক্তিগত উক্তি যার সাথে রাসুলের সুন্নাতের কোন সম্পর্ক নেই। এ হাদীসটিতে ৯ তাকবীরের উল্লেখ আছে, ছয় তাকবীরের অস্তিত্ব কোন হাদীসের কিতাবে খুঁজে পাওয়া যায় না। এর পরেও যদি কোন ব্যক্তি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের ব্যক্তিগত উক্তিই আমাদের দলীল, তাকে আমরা বলব তাহলে কেন আপনি সুরা নাস ওফালাক্বকে কুরআনের অংশ মনে করেন?

অথচ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ সুরা নাস ও ফালাক্বকে কুরআন মনে করতেন না। দেখুন- তাফসীরে ইবনে কাসীর, ৪র্থ খন্ড, ৭৪২ পৃঃ; তাফসীরে রুহুল মায়ানী, ১৫তম খন্ড, ৩২২ পৃঃ; তাফসীরে ফাতহুল কাদীর, ৫ম খন্ড, ৬২২ পৃঃ; তাফসীরে ফাতহুল বায়ান, ১ম খন্ড, ৩৬৩ পৃঃ; তাফসীরে দুররে মানসুর, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৪১৬ পৃঃ; তাফসীরে কুরতুবী, ১০ম খন্ড, ১৭ পৃঃ।

* হানাফী ইমাম ও অন্যান্য আলিমদের ১২ তাকবীরের উপর আমল।

عن ابي يوسف انه يكبر ثنتي عشرة تكبيرة سبعا في الاولي وخمسا في الثانية ـ

অর্থঃ আবু ইউসুফ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি ঈদের সালাতে ১২ তাকবীর দিতেন। প্রথম রাক;আতে সাত তাকবীর দিতেন এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন (বাদায়িউস সানায়ী, ১ম খন্ড, ৪২০ পৃঃ)।

عن اي يوسف ومحمد فانهما فعلا ذلك لان هارون امرهما ان يكبرا ـ

অর্থঃ আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা উভয়ই এরূপ করতে অর্থাৎ ১২ তাকবীরে ঈদের সালাত পড়তেন। কেননা বাদশা হারুন-অর-রশিদ তাঁদের দু’জনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাঁরা যেন ১২ তাকবীর দেয় (রদ্দুল মোহতার, দুররে মুখতার, শামী, ৩য় খন্ড, ৫০ পৃঃ)।

 

ভারতগুরু শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) বলেন ঃ

السنة صلاة العيدين ان يبدأ بالصلاة من غير اذن ولا اقامة يجهر فيها القرأة يكبر في الالي سبعا قبل القراءة والثانية خمسا قبل القرأة ـ

অর্থঃ দু’ঈদের সালাতের সুন্নাত হল-সালাত, আযান ও ইকামাত ব্যতীত শুরু করা এবং কিরাত জোরে পাঠ করা এবং প্রথম রাক’আতে কিরাতের পূর্বে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে কিরাতের পূর্বে পাঁচ তাকবীর দেয়া (হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা, ২য় খন্ড, ৩১ পৃষ্ঠা)।

মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাকারক ইমাম নববী বলেন-

والسنة ان يكبر في الاولي سبع تكبيرات سوي تكبيرات الاحرام وتكبيرة الركوع وفي الثانية خمسا سوي تكيرة القيام والركوع ـ شرح المهذبة ـ

অর্থঃ সুন্নাত হল প্রথম রাক’আতে তাকবীরে তাহরীমা ও রুকুর তাকবীর ব্যতীত সাত তাকবীর দেয়া এবং দ্বিতীয় রাক’আতে দাঁড়ানোর ও রুকুর তাকবীর ব্যতীত পাঁচ তাকবীর দেয়া (ইমাম নববী, শরহুল মুহায্যাব, ৫ খন্ড, ২০ পৃঃ)।

وقد روي عن النبي صلي الله علي وسلم من طرق كثيرة حسان انه كبر في العيد سبعا في الاولي وخمسا في الثانية ولم يروي عنه من وجه قوي ولا ضعيف خلاف هذا وهو اولي فاعمل به ـ

অর্থঃ নবী (সঃ) থেকে অনেক উত্তম সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সঃ) ঈদের সালাতের প্রথম রাক’আতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাক’আতে পাঁচ তাকবীর দিতেন। এর বিপরীতে কোন সবল কিংবা দুর্বল সনদে কোন হাদীস নবী (সঃ) থেকে বর্ণিত হয়নি, আর ১২ তাকবীরই হল সর্বোত্তম এবং এটার উপরই আমল করা হবে (আল-মুগনী, ৩য় খন্ড, ২৭২ পৃঃ)।

আল্লামা আব্দুল হাই লাক্ষৌভী হানাফী বলেন ঃ هذا الا يكون رايا الا توقيفا يجب التسميم له অর্থঃ আবু হুরায়রা (রাঃ) ১২ তাকবীরের উপর আমল করেছেন। এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত নয় বরং তা হল নবী (সঃ) এর নির্দেশ যার উপর আমল করা অপরিহার্য কর্তব্য (আত-তালিকুল মুমাজ্জদ, ১৪১ পৃঃ)।

এর পর ৬ তাকবীরের সাথে ঈদের নামায আদায় করা হাদীস মোতাবেক সম্পূর্ণ সহীহ-২  দেখুন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s