২০ রাকাত তারাবী সুন্নত

২০ রাকাত তারাবী সুন্নত

তারাবীহ্‌র সংজ্ঞা : তারাবীহ অর্থ আরাম,অবসর,বিশ্রাম,বিরতি। শরীয়তের পরিভাষায় রমজানুল মোবারকের রাতে এশার নামাজের পর যে নামায পড়া হয় তাকে তারাবীহ’্‌র নামায বলা হয় ।

والتراويح جمع ترويحة وهى فى الاصل مصدر بمعنى الستراحة سميت به الاربع ركعات المخصوصة لاستلزامها استراحة بعدها كما هوا السنة فيها

অর্থাৎ-প্রতি চার রাকাত নামাযের পর সম পরিমাণ সময় আরাম বা বিশ্রাম নেয়া হয় বলে একে সালাতুত তারাবীহ্‌ বলা হয়। এ সময়টুকু বিশ্রাম নেয়া বা বিরতি দিয়ে পড়া সুন্নত। দ্রঃ বাহরুর রাঈক্ব খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৬৬

তারাবীহ্‌র মর্ম ঃ তারাবীহ্‌র মর্মকথা বা আসল উদ্দেশ্য রমজানের রাতে জেগে থেকে ইবাদতি করা। ইমাম আল হাফিয ও আল কিরমানী এই মত প্রকাশ করে বলেছেন-

قال الحافط المراد من قيام الليل ما يحصل به مطلق القيام كما قدمناه فى التهجد سواء. وكذا النووى ان المراد بقيام رمضان الصلوة التراويح.. واغرب الكرمانى فقال اتفقو على ان المراد بقيام رمضان صلوة التراويح

তারাবিহ‘র নামায কত রাকাত ঃ প্রসিদ্ধ চার ইমাম সহ জমহুর (প্রায় সকাল) উম্মত এ ব্যাপারে একমত যে তারাবীহ্‌র নামায কম পক্ষে ২০ রাকাত। ইমাম মালিক (রঃ) এর একটি বর্ণনা মতে তারাবীহ ৩৬ রাকাত এবং অপর বর্ণনায় ৪১ রাকাতও পাওয়া যায় তৃত্বীয় আরেক বর্ণনায় জমহুর উম্মতের মতই ২০ রাকাত পাওয়া যায় এর মধ্যে ৪১ রাকাতের সাথে তিন রাকাত বেতের আর দু রাকাত নফল অর্থাৎ ৪১ থেকে ৫ বিয়োগ হলে ৩৬ রাকাত ই অবশিষ্ট থাকে যা তারাবীহ হিসাবে গন্য। এরপর বাকী রইল ২০ রাকাত এবং ৩৬ রাকাতের দুটি বর্ণনা। এর mg¤^q কিভাবে হয় বিস্তারিত বেদায়াতুল মুজতাহিদ কিতাবে ইমাম মালিক (রাঃ) বর্ণিত ৩৬ রাকাত ও ২০ রাকাতের mgš^q এভাবে দেয়া হয়েছে যে, মক্কার মুসলমানদের সর্বদাই আমল ছিল যে তারা ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। কিন্তু তারা তারাবীহ‘র প্রতি চার রাকাত অন্তর অন্তর যে বিরতি দেয়া হত এ সময়ে ১ টি তওয়াফ সেরে ফেলতেন। অন্যদিকে মদীনার মুসলমানদের তওয়াফের সুযোগ না থাকায় তারা এ সময়ে আরো ৪ রাকাত পড়ে নিতেন। এ জন্য মদীনা বাসীর হয়ে যেত ২০+১৬ = ৩৬ রাকাত। এতে প্রমানিত হয় তারাবী ২০ রাকাতই এবং এর উপর চার ইমামই একমত। (দ্রঃ ফতোয়া এ ইবনে ক্বাদামা খন্ড-২ পৃষ্ঠা ১৬৭ বাহরুর রাইক্ব খন্ড ২ পৃষ্ঠা-৬৬ মাআরিফুস সুনান খন্ড ৬ পৃষ্ঠা-২২১ দারসে তিরমিয়ি ২য় খন্ড

প্রখ্যাত মুহাদ্দিস মাওলানা হাবিবুর রহমান আযমী রাকাত এ তারাবীহ্‌ গ্রন্থের ৬১-৬২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষক পন্ডিতগন একথা স্পষ্ট করেছেন যে তারাবীহ্‌র নামায ২০ রাকাতই পড়া হত মক্কা মদীনায় কিন্তু সওয়াবের দৌড়ে মক্কাবাসী তওয়াফের মাধ্যমে অনেক এগিয়ে যাচ্ছেন এই ভাবনায় মদীনার লোকেরা প্রতি চার রাকাত অন্তর একাকী আরো চার রাকাত পড়ে নিতেন। তাই ২০+১৬=৩৬ রাকাত হয়ে যেত। এতদ্ব্যাতীত এটাও প্রামানিত যে তারা জামাত শেষে রাতের শেষাংশেই এই ১৬ রাকাত পড়তেন। সুতরাং এটাই সত্য যে ইমাম মালিক (রঃ) তার বর্ণনায় ২০ রাকাত তারাবীহ্‌র সাথে মদীনাবাসীর অতিরিক্ত ১৬ রাকাতের কথাও বাদ দেন নি। ইমাম মালিক (রঃ) তার বর্ণনায় ২০ রাকাত তারাবীহ্‌র সাথে মদীনাবাসীর অতিরিক্ত ১৬ রাকাতের কথাও বাদ দেন নি।

ইমাম মালিক (রঃ) এর চতুর্থ আরেকটি বর্ণনায় বেতের সহ ১১ রাকাতের কথা পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে আল্লামা শামী (রঃ) এবং আবু বকর আল-আরবী বলেছেন এটা তার ব্যক্তিগত আমল ছিল বা থাকতে পারে। (দ্রঃ উমদাতুল ক্বারী) এদিকে তুহফাতুল আহওয়াযী গ্রন্থাকার এই বর্ণনার গুরুত্বই বেশী দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু হাবীবুর রহমান আযমী (রঃ) তার গ্রন্থের ৮৪-৮৮ পৃষ্ঠায় এর বিশদ আলোচনা করে একথা স্পষ্টই প্রমাণ করেছেন যে এই বর্ণনাটি কোন অবস্থায়ই ইমাম মালিক (রঃ) এর বর্ণনা বা তার মত হিসাবে গন্য করা ঠিক নয়।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রাঃ)ঃ- প্রখ্যাত মুজতাহিদ চার মুযহাবের বাইরে সর্বাধিক,আলোচিতও খ্যাতনামা ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রাঃ) এবং তার অনুসারী বিশেষত আমাদের সময়কার গায়র মুকাল্লিদীন (লা মাযহাবী) লোক প্রায় সকল উম্মতের ঐক্যমতের সাথে বিভেদ সৃষ্টি করে ৮ রাকাত তারাবীহ্‌র c¶vej¤^b করে থাকেন। তারাবীহ সম্পর্কে আরো অনেক প্রশ্নও তুলেন। ৮ রাকাত ওয়ালাদের উত্থাপিত নানা প্রশ্নের জবাব দেয়ার আগে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এ সম্পর্কে কি বলেছেন তার পর্যালোচনা এবং mgš^q সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা দরকার। তারাবীহ্‌র নামাযের রাকাত সম্পর্কে ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এর একাধিক বক্তব্য ও মতামত পাওয়া যায়। যথা- রমজান এবং রমজানের আগে পরে রাসুল (সাঃ) ৮ রাকাত এবং ৩ রাকাত বেতের নামায পড়তেন। ৮ রাকাত নামায এতো দীর্ঘ হতো যে কখনো রাত অর্ধেক কখনো দুই তৃতত্বীয়াংশ এবং কখনো সেহরীর সময় শেষ হওয়ার উপক্রমক দেখাদিত। সুতরাং ক্বিয়ামে রমজানের আলাদা কোন নামায ছিলনা। এর প্রমাণ হযরত আয়েশা (রাঃ) এবং আবু যর (রাঃ) এর বর্ণিত দুটি হাদীস।

(ক) ১০ রাকাত তারাবীহ এবং ৩ রাকাত বেতের সহ ১৩ রাকাত।

(খ) ২০ রাকাত তারাবী এবং ১৬ রাকাত অতিরিক্ত ৩ রাকাত বেতের ২ রাকাত নফল সহ মোট ৩৬ ও (গ) রাকাত কিয়ামে লাইল।

(ঘ)অধিকাংশ উম্মত এবং প্রসিদ্ধ চার ইমামের ঐক্যমত ২০ রাকাত তারাবীহ এবং ৩ রাকাত বেতের।

(ঙ) তারাবী ৮ রাকাত এবং ৩ রাকাত বেতের মোট ১১ রাকাত কিয়ামে লাইল যা ইমাম মালিক (রঃ) এর বর্ণনা।

(চ)মুসল্লিদের অবস্থা বিবেচনায় ২০ রাকাত অথবা ৪১ রাকাত বা ১৩ রাকাত পড়া যাবে যাতে মুসল্লিরা বিরক্ত না হন।

(ছ) উম্মাহর ঐকমত্য হলো ২০ রাকাত বিধায় ৪১ আর ১১ এর মধ্যবর্তি ২০ রাকাতই উত্তম পন্থা। সর্বোপরি মুসল্লিদের অবস্থা বিবেচনা করে এবং একাকিত্বে নিজের মন ও শরীরের অবস্থা বিবেচনা করে যে কোন এক পন্থা গ্রহণ করা যায়।

দ্রঃ মাজমুআ এ ফতোয়াই ইবনে তাইমিয়া ২২ খ ফতোয়াতুল কুবরা খন্ড ১ পৃষ্টা ১৭৬ মুজমুআ জাওয়ায়েদ খন্ডত পৃষ্ঠা ১৭২

mgš^q ঃ ইমাম ইবনে তাই মিয়ার এতোগুলো মতামতের কোথাও বলা নেই যে ৮ রাকাতই সুন্নত। তবে তিনি এটা পরিষ্কার করেই বলে দিয়েছেন যে, মুসল্লিদের বিরক্তির কারণ না হয় এমন পন্থাই Aej¤^b করা উচিত। আর এ পন্থা হচ্ছে ২০ রাকাত। কারণ এটা ৪১ আর ১৩ এর মধ্য পন্থা। অপর দিকে এখানেই উম্মত ঐক্যবদ্ধ। তিনি তার কিতাবে এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ৮ রাকাত নামায আদায় করতেই কখনো কখনো রাতের বেশীর ভাগ সময় কাটিয়ে দিতেন। এজন্য নামাজের দীর্ঘায়তনের ব্যাপারটা নামাজী বা নামাজিদের শারিরীক ও মানসিক অবস্থার উপরই ছেড়ে দেয়া ভাল।

মুহাদ্দিস হাবিবুর রহমান আযমী তার গ্রন্থে পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে ইমাম ইবনে তাই মিয়া (রঃ) ২০ রাকাতকেই মধ্যম পন্থা। এবং উম্মতের ঐকমত্য হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছেন বিধায় এ ব্যাপারে আর কোন নতুন ইখতিলাফ করা ঠিক নয়্‌ হাদীসের বর্ণনার বিভিন্নতার কারণেই তার মতামত গুলো ব্যক্ত করতে একাধিক মত পরিলক্ষিত এবং আট রাকাতের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মনে হলেও তিনি একাধিকবার বলেছেন যে ২০ রাকাতের উপর উম্মত ঐকমত্য সুতরাং-২০ রাকাত সুন্নত হওয়ার ব্যাপারে আর কোন সংশয় তার উপর চাপিয়ে দেয়া যায় না।

والتراويح ان صلاّهاكمذهب ابى حنيفة والشافغى واحمد عشرين ركعته او كمذهب مالك ستاوثلاثين اوثلاث عشرة اِحدى عشرة فقدأحسن ….وكذا فى الفتاوى الكبرى لابن تيميه قد جاء مصرحا فى السنن انه لما صلى بهم قام رمضان بعدالعشاء وكان النبى صلى الله عليه و سلم قيامه بااليل هو وتره يصلى بالليل فى رمضان وغير رمضان… قد ثبت ان ابى ابن كعب كان يقوم بالناس عشرين ركعة فى قيام رمضان ويؤتر بالثلاث..

মুফতি তক্বী উসমানী ঃ বেশ গবেষণার পর এটাই সাব্যস্থ করতে সক্ষম হয়েছেন যে ২০ রাকাত তরাবীহ সুন্নাত। তিনি লিখেছেন এ সম্পর্কিত আরো বিস্তারিত জনার জন্য এই মসলকের সমর্থিত দলীল প্রমাণ ভিত্তিক কিতাব তোহফাতুল আহওয়াযী খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৭২-৭৬ দেখা যেতে পারে।

শায়খ ইবনে হুমাম (রঃ):- তারাবীহ্‌র নামায কত রাকাত এ প্রশ্নে শায়খ ইবনে হুমাম (রঃ) জমহুর উম্মতের মতামতের সাথে একমত পোষন না করে ৮ রাকাতকে প্রধান্য দিয়েছেন। যদিও তিনিই আবার ২০ রাকাত তারাবীহকে সুন্নতে খোলাফা এ রাশেধীন মেনে লিখেছেন এগার রাকাতের মধ্য দিয়েই ক্বিয়ামে রমজান হাসিল হয়ে যায় বেতের সহ জামায়াতের সাথে। রাসুল (সাঃ) তাই করেছেন এবং অসুবিধা জনিত কারনে ছেড়েছেনও। মুসল্লিদের কষ্টও বিবেচনায় ছিল। আর এভাবেই চলছিল তাঁর ইন্তেকাল অবদি। তাই এটাই সুন্নত আর ২০ রাকাত সুন্নত খোলাফা ই রাশিদীন এর। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাাহ (সাঃ) বলেছেন তোমাদের প্রতি আমার সুন্নত এবং খোলাফা এ রাশিদীনেরও সুন্নত (সমান প্রযোজ্য)। দ্রঃ ফহহুল কাদির খন্ড ১ , পৃষ্ঠা- ৩৩৪

তবে আল্লামা জাফর আহমদ উসমানী (রঃ) ফাতহুল কাদিরের এসব বকতব্য দলীল প্রমানের ভিত্তিতে অগ্রহনযোগ্য এবং ইজমা এ উম্মতের বিপরিত সাব্যস্থ করেছেন। তার প্রতিটি বাক্যের সাথে নির্ভর যোগ্য দলীলও রয়েছে। (দ্রঃ আলাউসসুনান খন্ড ৭ পৃষ্ঠা ৬৮-৭২ তারাবীহ অধ্যায় )

কিছু প্রশ্ন ও এর জবাব

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে যারা তারাবীহ্‌র নামায ৮ রাকাত সুন্নত বলে সাব্যস্থ করতে চান তাদের পক্ষ থেকে আরো কিছু অভিযোগ বা প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। আকাবিরীনে দ্বীন এসব প্রশ্নের দলিল ভিত্তিক জবাব দিয়েছেন। এবার সেই অভিযোগগুলো ও তার জবাব দেয়া হলো।

গায়র মুকাল্লিদীনদের প্রথম প্রশ্ন ঃ হযরত আবুযর (রাঃ) এর বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায় যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মাত্র তিন দিন তারাবীহ পড়েছেন। এতে তারাবী মুস্তাহাব (সুন্নত) ই প্রমানিত হয়্‌ অথচ তারাবীহ কে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বলা হয় কেন ?

উল্লেখ্য যে হযরত আবুযর (রাঃ) বলেন —

قال صمنامع رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يصلى بنا حتى بقى سبع من الشهر فقام بنا حتى ذهب ثلث الليل ثم لم يقم بنا فى السادسة وقام بنا فى الخامسة حتى ذهب شطر الليل فقلنا يا رسول الله لو نفلتنا بقية الليلتنا هذه ؟ فقال انه من قام مع الامام …….

আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে রোজাদার ছিলাম এমতাবস্থায় আমাদের সাথে তিনি নামায পড়েননি অথচ মাসের ৭ দিন বাকী ছিল। এর পর নামাজে দাড়ালেন রাতের এক তৃত্বীযাংশ পর্যন্ত। এর পর আর ৬ দিন বাকী থাকা পর্যন্ত নামাযে দাড়াননি। এরপর পাচ দিন বাকী থাকতে আবার নামাজে দাড়ান এবং রাত প্রায় গভীর হওয়া অবদি নামাজ পড়েন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম হে আল্লাহর রাসুল আপনি কেন আমাদের সাথে নিয়মিত দাড়ালেন না ? তিনি জবাব দিলেন এটা নফল,তিনি নিয়মিত দাড়ালে তা ফরজ হয়ে যায় কিনা এই ভেবে। এর পর তিন দিন বাকী থাকতে আবার দাড়ালেন এবং আহল ও মহিলাদের ও ডাকলেন। তিনি এত দীর্ঘক্ষন দাড়ালেন যে আমাদের ভয় হচ্ছিল যে ফালাহ হয়ে যায় কি না। জিজ্ঞোসা করা হল ফালাহ কি? বলা হল সেহরী । দ্রঃ তিরমিযী খন্ড-২,পৃষ্ঠা -১৩০ ।

জবাব ঃ তারাবীহ সুন্নত হওয়া নবী করীম (সাঃ) এর এই হাদীস দ্বারাই সাব্যস্থ হয় যে যেখানে নবীজি বলেছেন —- ان تبارك وتعالى فرض صيام رمضان عليكم وسنت لكم قيامه.. الخ

অর্থাৎ-আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর রোজা ফরজ করে দিয়েছেন আর আমি তোমাদের জন্য ক্বিয়াম (এ লাইল) সুন্নত করলাম। দ্রঃ নাসাঈ খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৩০৮ এবনে মাজাহ পৃষ্ঠা ৯৪।

এতদ্ব্যতীত হযরত আবু যর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসেই আছে যা থেকে জানা যায় যে রাসুল্লাহ (সাঃ) প্রাথমিকভাবে তারাবীহ পড়ার জন্য জবরদস্তি করেননি কিন্তু একাকিত্বে পড়া নিষেধ করেন নি। আবার তিনি একাকিত্বে নিয়মিত নামাজ পড়তেন বলে অন্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে নামায হত দীর্ঘ সময় নিয়ে।এ সম্পর্কিত প্রমাণ পরবতিীতে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। এতে স্পষ্টই প্রমাণিত যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) একাকিত্বে সুদীর্ঘ সময় ধরে যে নামায পড়তেন তা ছিল তারাবীহ্‌র নামায। সাহাবা এ কেরাম যেভাবে গুরুত্ব সহকারে নিয়মিত তারাবীহ্‌র নামায পড়তেন তা থেকেই তারাবীহ্‌র নামায সুন্নাতে মুয়াক্কাদা প্রমাণ করা যথেষ্ট। অর্থাৎ সুন্নাতে মুয়াক্কাদার এটাই যথেষ্ট প্রমাণ আর তা এজন্য যে এখানে সুন্নাতে খোলাফা ই রাশিদীন সম্পৃক্ত। হুজুর (সাঃ) বলেছেন তোমাদের প্রতি আমার সুন্নত এবং হেদায়াত প্রাপ্ত খোলাফা এ রাশিদীন এর সুন্নত। হাদীসের মূল রিডিং এ “সুন্নাতে খোলাফাইল মাহাদিয়্যান আর রাশিদীন বিভিন্ন বর্ণনায় বিভিন্ন শব্দ কম বেশী হয়েছে। তদুপরি হাদিীসটি যে সব কিতাবে এসেছে তার শুধু নাম এখানে উল্লেখ করা হলো। عليكم بسنتى وسنة الخلفـاءالمهـدين الراشـديـن

আবু দাউদ খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৬৩৫, তিরমিযী খ;২ পৃষ্ঠা ১০৮,ইবনে মাজাহ ৫ দারামী খন্ড ১ পৃষ্ঠা ৪৩।

গায়র মুকাল্লিদীনদের ২য় প্রশ্ন ঃ ৮ রাকাত সুন্নত এমন ধারণা পোষনকারী গায়র মুকাল্লিদীনদের আরেক অভিযোগ হলো যে তারাবীহ্‌র নামায ২০ রাকাত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে ধার্যকৃত নয়।

জবাব ঃ ১. ইমাম মালিক (রঃ) সঙ্কলিত হাদীস গ্রন্থে হযরত ইয়াযিদ বিন রুম্মান (রঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে আছে তিনি বলেন হযরত ওমর (রাঃ) এর জামানায় লোকজন ২০ এবং তিন রাকাত অর্থাৎ তারাবীহ ও বেতের সহ ২৩ রাকাত পড়তেন আর তা রমজান মাসে-

كـــان النـــاس يقـــومــون فــى زمــان عــمر بــن الخــطــاب فـى رمضــان بثـلاث وعشــريــن ركــعــة

২. অনুরূপ সুনানে কুবরায় ইমাম বায়হাক্বী (রঃ) হযরত নায়িব ইবনে ইয়াযিদ (রাঃ) থেকে বলেছেন

كـانو يقـومـون عهد عمر بن الخطاب رضى الله عنه فى شهر رمضان بعشرين ركعة وكانو يقومون بالمأتين وكانو يتوكؤن على عصيتهم فى عهد عثمان من شدة القيام”

যে হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর জামানায় রমজানুল মুবারকে ২০ রাকাত তারাবীহ্‌ প্রতিষ্ঠিত ছিল। উসমান (রাঃ) এর জামানায় এসে তা আরো কঠোর ভাবে মান্য করা হতো। মা আরেফুস সুনান ৬ ষ্ঠ খন্ডের ২২ পৃষ্ঠায় আল্লামা আযমী সুনানে কুবরা বায়হাক্বী ২য় খন্ডের ৪৯৬ পৃষ্ঠার উদৃতি দিয়ে লিখেছেন যে এই বিবরণী ইমাম বায়হাক্বী (রঃ) অন্যরকম ভাবে মা আরেফুস সুনান এ বর্ণনা করেছেন। আহলে হাদীসদের দিত্বীয বিতর্কের এ পর্যায়ে বলেছেন যে দুটি হাদীসই সহীহ। প্রথম সনদকে ইমাম নববী (রঃ) ইমাম হরাক্বী (রঃ) এবং আল্লামা ইমাম সুয়ুতী প্রমুখ সহীহ বলেছেন। ২য় সনদকে সাবাকি (রঃ) এবং মোল্লা আলী ক্বারী (রঃ) সহীহ বলেছেন। আহলে হাদীসরা প্রতিষ্ঠিত বিবরনী সম্পর্কে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তার বিস্তারিত জবাব দলীল প্রমাণ সহ দেয়া হয়েছে। দ্রঃ রাকাত এ তারাবীহ পৃ ৬৩

৩. প্রতিষ্ঠিত মত হলো এই যে তারাবীহ ২০ রাকাত সুন্নাত এটা সুনির্দিষ্ট করেছেন হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)। এ সময় আরো অনেক সুপ্রসিদ্ধ প্রবীণ সাহাবা এ কেরাম জিবীত ছিলেন। কোন সাহাবীই এই আমলের ব্যাপারে আপত্তিতো করেন ই নি বরং সকলেই এই আমল করেছেন। এটা তারই প্রমাণ বহন করে যে তারাবীহ ২০ রাকাত ই সুন্নাত। এর উপর উম্মতের ইজমা বা ঐকমত্য। এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয় যে হযরত ওমর ইবনুল খাত্বাব (রাঃ) তারাবীহ্‌র নামাজ ২০ রাকাত সুনির্দিষ্ট করেছেন। আর দ্বিতীয বিষয় হলো হযরত ওমর (রাঃ) কিসের ভিত্তিতে ২০ রাকাত সাব্যস্থ করলেন তার প্রমান কি? আর তা হলো-

(ক) ওমর কর্তৃক ২০ রাকাত সুনির্দিষ্ট ঃ বর্ণিত দুটি হাদীস থেকে যে ভাবে প্রমাণিত হয় যে তারাবীহ ২০ রাকাত সুন্নত হিসাবে সুনির্দিষ্ট

ان رســـول الله صـــلى الله عليـــه وسلـــــم كـــان يصــــــلى فــى رمضــان عشـــريـــن ركعــة والــــوتــــر

এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয় যে হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তারাবীহ্‌র নামাজ ২০ রাকাত সুনির্দিষ্ট করেছেন। আর দিত্বীয বিষয় হলো হযরত ওমর (রাঃ) কিসের ভিত্তিতে ২০ রাকাত সাব্যস্থ করলেন তার প্রমান কি? । বর্ণিত দুটি হাদীস থেকে যে ভাবে প্রমাণিত হয় যে তারবীহ ২০ রাকাত সুন্নত হিসাবে সুনির্র্দিষ্ট করেন হযরত ওমর (রাঃ)। ঠিক আব্দুর রহমান বিন আব্দুল বারীর বর্ণনায় আব্দুর রহমান বিন অব্দুল বারীর একটি সুদীর্ঘ বর্ণনা বুখারী শরীফেও আছে। বুখারী ১ম খন্ড ২৬৯ পৃষ্ঠা। এদিকে আল্লামা হাবিবুর রহমান আযমী লিখেছেন ২০ রাকাত তারাবীহ্‌র পক্ষে ইজমা সাব্যস্থ হওয়ার বিষয়টি এবং এর প্রতি আমাদের বিবরণ হাফিজ ইবনে আব্দুল বার মালিকী (রাঃ) দিয়েছেন। দ্রঃ মাসাবীহ্‌ ই সুয়ুতী (রঃ), হোদায়াতুস সাইল নবাব সিদ্দীক হোসেন খান পৃষ্ঠা ১৩৮।

ইমাম নববী শাফী লিখেছেন ২০ রাকাত সুন্নত এটাই সাব্যস্থ হয়ে গেছে একারণে যে এভাবেই পূর্ববর্তি ও পরবর্তিদের মধ্যে চলে আসছে। ইবনে কা্‌বাদামাহ nv¤^wj (রঃ) লিখেছেন এটাই ইজমাহ বা ঐকমত্য যে তারাবীহ ২০ রাকাতই সুন্নত। (দ্রঃ) মুগনী।

হাফেজ ইবনে হাজার মক্কী শাফী লিখেছেন

ولكـن اجمعت الصحابة عـلى ان الـتراويـح عشـرون ركعـة….وقـال ابن تيمـيه وهو الذى يعمـل به اكثر المسلمين..

তারাবীহ্‌র নামায ২০ রাকাত সুন্নত এ ব্যাপারে সাহাবা এ কিরাম ঐকমত্য তাই এটাই ইজমা এবং সাব্যস্থ বিষয়্‌। দ্রষ্টব্য .মিরকাত। হাফিজ ইবনে তাইমিয়া (রঃ)এ ব্যাপারে বলেছেন অধিকাংশ মুসলমানই ২০ রাকাত তারাবীহ্‌র উপর আমল করেন। দ্রঃ রাকাত এ তারাবী পৃঃ ৯২ বরং তিনি আরো লিখেছেন যে উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে রামজান মাসে ক্বিয়ামে লাইল এ লোকজন ২০ রাকাত পড়েছেন এর পর বেতের ৩ রাকাত। সুতরং অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম এটাকেই সুন্নত সাব্যস্থ করেছেন। কারণ আনসার ও মুহাজির সাহাবায়ে কেরামদের বর্তমানেই তা প্রচলিত ছিল কিন্তু কেউ এ ব্যাপারে ভিন্ন মত প্রকাশ করেননি। (দ্রঃ ফতোয়া ইবনে তাইমিয়া খন্ড ২৩২ পৃষ্টা ১১২)

এতদ্ব্যতীত শুধুমাত্র এই দললিটাই তারাবীহ ২০ রাকাত সুন্নত হওয়ার জন্য যথেষ্ট যেখানে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন তোমাদের প্রতি আমার সুন্নাত এবং আমার খোলাফা এ রাশেদীন এর সুন্নাত এছাড়াও হযরত হুজায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন আমার পর তোমরা আবু বকর ও ওমরের অনুস্মরন করবে। হাদীসটি আরো দীর্ঘভাবেই বর্ণিত হয়েছে একই বর্ননাকারীর যেখানে বলা আছে আমার পর যদি আর কিছু জানা ও বুঝার প্রয়োজন হয় তাহলে তা আবু বকর ও ওমরের কাছ থেকে বুঝে নেবে। এই বলে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) আবু বকর ও ওমরের দিকে ঈশারা করেন। দ্রঃ তিরমিযী খন্ড ২ পৃষ্ঠা ২২৯,তারাবীহ যদি ২০ রাকাত সুন্নত নাই হতো আর তা হযরত রাসুলে করীম (সাঃ) থেকে সাব্যস্থ না হত তাহলে হযরত ওমর (রাঃ) এর মত সুন্নত এর অনুসারী বিদ আতের দুশমন তা সাব্যস্থ করতেন না। অগত্যা অনিচ্ছায় কোন সুন্নতের খেলাফ কোন কাজ হয়ে গেলে যে সাহাবায়ে কেরাম প্রাণ উৎসর্গ করে দিতে চাইতেন সেই সাহাবা এ কিরাম এর সামনে কি ভাবে দলীল প্রমাণ ছাড়া এতো বড় একটা কাজ করে ফেলবেন। অবশ্যই তাদের কাছে রাসুলের কোন কথা বা কাজের দলীল তাদের কাছে ছিল বলেই তারা তারাবীহ্‌র নামায ২০ রাকাত সুন্নত সাব্যস্থ করেছেন যে দলীল প্রমাণ ধারাবাহিকভাবে আমাদের কাছে এসে পৌছায়নি। এ প্রসঙ্গে ইমাম আবু ইউসুফ(রঃ) বলেছেন ু আমরা ইমাম আবু হানিফা (রঃ) কে তারাবীহ্‌র নামায এবং হযরত ওমর (রাঃ) এর কার্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছেন “তারাবীহ্‌ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। হযরত ওমরের কার্যক্রম সম্পর্কে কোন সন্দেহ পোষন করা জঘন্য কাজ। যার জীবনে রাসুলের বর্তমানে ও অবর্তমানে দ্বীনের মৌলিকত্ব ছাড়া আর কিছু ছিল না। তিনি ভিত্তিহীন কোন আমল করতেন না করতে বলতেনও না। দ্র: মারাক্বিউল ফালাহ ৮১ পৃষ্ঠা তারাবীহ পাঠ।

তারাবীহ্‌ ২০ রাকাত ই সুন্নাত

দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল ২০ রাকাত তারাবীহ্‌র পক্ষে দলীল কি? প্রথম পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে যে সুন্নাতে খোলাফা এ রাশেদীন হিসাবেই এটা সুন্নাত এবং রাসূল তাগীদ দিয়েছেন বলেই সুন্নাতে মোয়াক্কাদা। ইজমা দ্বারা সাব্যস্থ এবং ইসলামের প্রথম থেকেই সু প্রতিষ্ঠিত ও ২০ রাকাত হিসাবেই প্রচলিত। চার মাযহাবের ইমামগন সহ জমহুর ওলামা এ উম্মত ঐকমত্য্‌ কিন্তু এর পরও প্রশ্ন থেকে যায় হযরত ওমর (রাঃ) এর মত একজন সুন্নাতে রাসুল প্রেমিক এবং বিদ্‌ আতের দুশন সাহাবী খলিফাতুল মুসলিমীন কিসের ভিত্তিতে ২০ রাকাত তারাবীহ সুন্নত সাব্যস্থ করলেন। বহু আনসার ও মুহাজির সাহাবী থাকাবস্থায় তাদের পক্ষ থেকে কোন ভিন্নমত না আসাই এর বড় প্রমান যে হযরত ওমর (রাঃ) কোন না কোন দলীলের ভিত্তিতে করেছিলেন বলেই উম্মাহর ইজমা হিসাবেই তা গ্রহনযোগ্য হয়ে শতাব্দির পর শাতাব্দি ধরে পালিত হয়ে আসছে। যে ওমর (রাঃ) কুরআনের একটি হরকত ভূল পড়তে শুনে আরেক সাহাবীকে টানতে টানতে রাসুলের খেতমতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করার কথা বলেন। অথচ সেই সাহাবীর পড়াটাও শুদ্ধ ছিল এটা ওমর জানতেন না। রসুলই তা বলে দিলেন যে এই কেরাতেও পড়া যায়্‌ সেই ওমর বিনা দলীলে কিছু করবেন আর সকল সাহাবী তা মেনে নেবেন এ কথা কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু একথাতো সত্য যে উম্মতের জন্য তা দলীল হয়ে গেছে। এর পরও ২০ রাকাতত তারাবীহ সম্পর্কিত একাধিক হাদীস আমাদের সামনে বিদ্যমান। সনদের দিক থেকে দুর্বল বলা হলেও যেহেতু আমলটি ইজমােএ উম্মত হিসাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে প্রচলিত সেহেতু সনদের দিক থেকে দুূর্বল এই হাদীস আমলের জন্য গ্রহণযোগ্য হিসাবে বিবেচিত। যেমনটা হয় আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর বর্ণিত মরফু হাদীস। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রাঃ) আল-মাতালিবুল আলীয়া গ্রন্থে মুসান্নিফ ইবনে আবী সায়বাও মুসনাদে আবদ বিন হুমায়দ এর উদৃতিতে পেশ করেছেন যে –

ان رســـول الله صـــلى الله عليـــه وسلـــــم كـــان يصــــــلى فــى رمضــان عشـــريـــن ركعــة والــــوتــــر

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রমজানুল মোবারকের ২০ রাকাত নামায পড়ার পর বেতের পড়েন। (দ্রঃ মাতালিবুল আলীয়া খন্ড ১ পৃষ্টা ১৪৬ হাদিস নং – ৫৩৪)

হাদিসটি মারফু বা সনদের দিক থেকে দুর্বল হলেও ইজমা ও অধিক গ্রহনীয় আমল হওয়ায় তা শক্তিশালী হয়ে গেছে। হাদিসটি সম্পর্কে আরো বিশদ জানতে হলে দেখা যেতে পারে রাকাআতই তারাবীহ্‌ পৃষ্ঠা ৫৬-৬৩। বুসায়রীও হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন সনদের দিক থেকে। কিন্তু অধিক গ্রহণযোগ্যতা ও ইজমার কারণে তা আর আমলের জন্য বাধা হয়ে থাকেনা।

প্রশ্ন উত্থাপন করা হয় যে বর্ণিত হাদীসের বিপরিত একটি হাদিস বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে যা হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এই হাদীসে বলা হয়েছে “রমজান এবং রমজান ছাড়াও ১১ রাকাতের অধিক হতনা। এতে বুঝা যায় যে রমজানেও বেতের ব্যতিত ৮ রাকাত তারাবীহর চেয়ে বেশী পড়তেন না। তাই প্রশ্ন দাড়ায় ২০ রাকাত সুন্নত হল কিভাবে?

জবাবঃ- বর্ণিত হাদীসটি তারাবীহ সম্পর্কিত এর বরং এটি তাহাজ্জুদ সম্পর্কিত। এই জবাবের প্রেক্ষিতে গায়র মুকাল্লিদিনেরা বলে থাকেন যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রমজানে দু রকম নামায আলাদ আলাদা পড়তেন এ রকম কোন প্রমানতো নেই?

গায়র মুকাল্লিদীন গনের এই দাবী সম্পূণৃ ভূর। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর জামানায় ও এবং হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর সময়ও হামেশাই তারাবীহ্‌র নামাজ রাতের প্রথমাংশে পড়া হত। আর তাহাজ্জুদের নামায রাতের শেষাংশে পড়া হত। প্রসঙ্গে হাদীসের ব্যাখ্যাতা মুজতাহিদীনে কেরামের মতামত ও এখানে প্রতি ফলিত হয়েছে।

রমজান এবং গায়রে রমজানে ৮ রাকাত প্রসঙ্গে – মাওলানা হাবিবুর রহমান আযমী বলেছেন প্রশ্ন বা অভিযোগটি সম্পূনৃ অবান্তর ও অজ্ঞতা প্রসূত। কারণ পূর্বেকার বিস্তারিত আলোচনায় সম্পষ্টতই বলা হয়েছে যে তারাবীহ্‌র নামায ২০ রাকাত সুন্নাত হওয়ার পক্ষে যারা আছেন অথবা বিপক্ষেও আছেন তাদের কারো মতেই সহীত দ্বয়ের এ হাদীস সম্পষ্ট বক্তব্য নয় কোন বিষয়্ে‌ আবার সদাসয় কোন আদতেরও বর্ণনা নয় কেননা হযরত আয়েশা (রা:) নিজেই একথা বর্ণনা করছেন যে রমজান এবং রমজান ছাড়াও রসুল (সা:) ১১ রাকাতের বেশী পড়তেন না। অন্য এক বর্ণনায় স্পষ্টতই বলেছেন ফজরের রাকাত সমূহ বাদ দিয়ে ১৩ রাকাতও পড়তেন। এখানে তো কেউ বর্ণনাটি পূর্বের বলা হয়েছে বর্ণনা দুটিই শুদ্ধ কিন্তু সময়ের তারতম্যগত কারণেই তা হয়েছে। ইবনে হাজর আসকালানী (র:) এর বক্তব্য উপস্থাপন করা হয় যেখানে বলা হয়েছে সময়ের তারতম্য বর্ণনার তারতম্য হয়। (দ্র: ফতহুল বারী খন্ডত পৃষ্ঠা-১৪ )।

আল্লামা সুয়ুতী (র:) বলেছেন হাদীছে বর্ণিত “বেশী” পড়তেন না এর মধ্যে হামেশা বেশী পড়তেন না উদ্দেশ্য নয় বরং অধিকাংশ সময়ের আদতের কথা উদ্দেশ্য (দ্র: তানবীরুল হাওয়ালিক খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১৪২)। আর ১৩ রাকাতের কথা হামেশার আদত নয় কোন কোন সময়ের কথা বুঝানো হয়েছে। অতএব সহীহ দ্বয়ের হাদীসে যখন হামেশার আদতের কথা বলা হযনি বরং অধিকাংশ সময়ের কথাই বুঝানো হয়েছে বিধায় কোন কোন সময় ১৩ রাকাতের কথা বলাটাও আগের হাদীসের বিপরিত হয়নি। অনুরূপ এ কথা বলাও হাদীসে সহীহ দ্বয়ের বিপরিত হবেনা যে মাঝে মধ্যে ২০ রাকাতও পড়তেন। এতে প্রমাণিত হয় হাদীসের বক্তব্যের গভীরে না গিয়ে বাহ্যিক শব্দ গুলোর প্রতি দৃষ্টি দিয়েই এমন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।

শুধু তাই নয় হযরত আবুযর (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসেই এটা প্রমাণিত হয় যেখানে তিনি বলেছেন যে ২৩, ২৫ ও ২৭ এর রাতে যখন আল্লাহর রাসুল তারাবীহর নামাজ পড়তেন তখন রাতের প্রথমাংশেই পড়েছিলেন যেখানে জামাআতের কথাও আছে। এর মধ্যে ২৩ তম রাতের কথা বলা হয়েছে রাতের প্রথম ভাগ আর ২৭ তম রাতের কথা বলা হয়েছে যে সাহরীর সময় চলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল এর অর্থ এই নয় যে রাতের শেষাংশে নামাজ পড়া হয়। বরং নামাজ এতই দীর্ঘায়ীত হয়েছিল যে সাহরী খাওয়ার সময় অতিক্রম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে দুটি ব্যাখ্যাও মেনে নেয়া দরকার। আর তা হলো-

১. নবী করীম (সা:) এর জামানায় তারাবীহ্‌র নামায রাতের প্রথমার্ধেই পড়া হত। হযরত ওমর (রা:) মসজিদে প্রবেশ করে তারাবীহ্‌র নামায হতে দেখে বললেন এ সময়ই তারাবীহ পড়া উত্তম। কারণ এতে লোকজন ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদের নামায পড়তে পারবে। জামায়াতে ইমামতি করছিলেন হযরত উবাই ইবনে কাব (রা:),যিনি হযরত ওমর (রা:) কর্তৃক নিয়োগকৃত ছিলেন। অতপর হযরত ওমর (রা:) বললেন তারাবীহ যদি wej‡¤^I পড়া হয় তাহলে এর দ্বারা তাহাজ্জুদের সওয়াবও হাসিল হয়ে যাবে। উদ্দেশ্য ছিল তাহাজ্জুদের প্রতি প্রেরণা দেয়া। একটি উভয় কাজ করতে আরেক উত্তম ত্যাগ না করা। আর যদি দেরীতে পড়া সম্ভব হয় তাহলে তাহাজ্জুদের ও সওয়াব পাওয়া যাবে। এ কথা ধারা এটা আরো তারাবীহ নামায নয় বরং দুটি ¯^Zš¿ নামায এবং ¯^Zš¿ সময়।

(২) ইমাম নব্বী (রা:) লিখেছেন, তারাবীহ্‌র নামায মসজিদে জামায়াতের সাথে রাতের প্রথমাংশে পড়া যা তাহাজ্জুদের বিপরিত।

التراويح كانت فى المسجد وبالجماعت و اول لليل.بخلاف التهجد فكان فى اخر اليل فى البيت من غير جماعة

অর্থাৎ- তারাবীহ মসজিদে জামায়াতের সাথে পড়া হয় এবং তাহাজ্জুদ এর বিপরিত, রাতের শেষাংশে ঘরে একাকিত্বে পড়া হয়। দ্র: ইফাদাতুশ শায়খ, মাআরিফুস সুনান খন্ড ১, পৃষ্ঠা-২২২।

(৩) হযরত আসওয়াদ (র:) বলেন হযরত আয়েশা (রা:) কে প্রশ্ন করা হয়েছিল রাসুলুল্লাহর (সা:) রাতের নামায সম্পর্কে। قالـت ينـام اولـه و يقـوم اخره فيصـلى ثـم يرجـع الى فراشـه

তিনি বললেন রাতের প্রথম প্রহরে ঘুমিয়ে পড়তেন এরপর জেগে নামাজ পড়তেন অত:পর পুনরায় বিছানায় ফিরে আসতেন। দ্র: সহীহ বুখারী খন্ড ১, পৃষ্ট – ১৫৪।

তাহাজ্জুদ ও তারাবীহ এক নয়

তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ: তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য রাসুলুলুাহ (সা:) কখনো নিয়মিত জামায়াতের আয়োজন করেননি। কিন্তু হযরত আবুযর (রা:) বর্ণিত হাদীসেই এটা প্রমাণিত যে তারাবীহ্‌র নামাজের জন্য জামায়াতের আয়োজন করেন। অতএব তারাবীহ আর তাহাজ্জাুদকে একাকার করে দেয়া ঠিক নয়। হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে রমজান এবাং রমজান ছাড়াও ৮ রাকাতের বেশী পড়তেন না। এ কথা দ্বারা তারাবীহর ২০ রাকাত নিষিদ্ধ বা লেশহীন হয়ে যায় না। বরং আয়েশা (রা:) এর অন্য বর্ণনার দ্বারা এর গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দেয়্‌ যে তিনি বলেছেন রমজানে এবং রমজান ছাড়াও তাহাজ্জুদ পড়তেন এতে কোন তফাৎ ছিলনা। প্রশ্ন দাড়ায় রমজান এবং গায়রে রমজানে যদি কোন তফাৎ নাই থাকবে তাহলে এই হাদীসের মর্ম কি? এ সম্পর্কিত প্রশ্নের উপর কিছু ব্যাখ্যা মুলক আলোচনা পেশ করা যাক। হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীস গুলো এ রকম –

مـا كـان يـزيـد فـى رمـضـان ولافــى غـيره عـلى احـدى عـشر ركـعـة

অর্থাৎ- রমজান এবাং রমজান ছাড়াও ৮ রাকাতের বেশী পড়তেন না।

كان رســـول الله صـــلى الله عليـــه وسلـــــم يتهجـد فى رمضـان مـالا يتهـجهـد فـى غيره…وقالـت لـم يقـم رســـول الله صـــلى الله عليـــه وسلـــــم ليـلته يتهـمـها الـى الصبـاح

অর্থাৎ- রমজানে এবং রমজান ছাড়াও তাহাজ্জুদ পড়তেন এতে কোন তফাৎ ছিলনা

তাহাজ্জুদের জামায়াত : সাধারনত: তাহাজ্জুদ এর নামাজের জন্য কোন জামায়াতের ব্যবস্থা ছিলনা। রাসুলের সাথে মাঝে মধ্যে দু একজন দাড়িয়ে যেতেন। যেমন ইবনে আব্বাস (রা:) এর খালা মায়মুনার (রা:) ঘরের ঘটনায় এমনই আভাস পায়া যায়। (দ্র: মুয়ত্তা ইমাম মালিক (র:), পৃষ্ঠা ১০৩-১০৪।

মসনদে আহমদে বর্ণিত অপর একটি হাদীসের কথা এখানে উল্লেখ যোগ্য হযরত আবু যর (রা:) বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায় রাসুলুল্লাহ (সা:) আবু যর (রা:) রাসুলের (সা:) সাথে তার ঘরে রাতের নামায পড়ার ইচ্ছা পোষন করলে রাসুল (সা:) এটাকে অভ্যাসে পরিনত করবেনা মর্মে নির্দেশনা দেয়ার পর আবু যরকে নামাজে শরীক হওয়ার সুযোগ দেন। দীর্ঘায়িত নামাযের এক পর্যায়ে হযরত বিলাল (রা:) এসে হাজির হন। এবং তিনিও শরীক হন এর পর রাসুল (সা:) বললেন কি হে বিলাল আযান দিবে নাকি। এমতাবস্থায় পূর্বকাশে সাদা রং স্পষ্ট হতে দেখা যাচ্চিল। কিন্তু হযরত বিলাল (রা:) আযান দিয়ে সাহরীর জন্য আহবান করলেন এবং সাহরী খেতে গেলাম। বায়হাক্বীও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি নিম্নরূপ-

قال” قلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم انى اريد ان ابيت معك الليلة فاصلى بصللاتك قال لاتستطيع فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم يغتسل ………..ثم اتاه بلال …..وليس ذاك الصبح انما الصبح هكذا…..”

দ্র: মাজমুআ এ জাওয়াইদ খন্ড ৩ পৃষ্ঠা ১৭২ ।

অনুরূপ সাআলাবা ইবনে আবি মালিক কারবী (রা:) থেকে বর্ণিত অপর এক বর্ণনায় জানা যায় –

خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فى رمضان.فرأىناسا فى ناحية االمسجد يصلون فقال مايصنع هؤلاء؟ قال قائل”يا رسول الله هؤلاء ناس معهم القرآن وأبى ابن كعب يقرأوهم معه يصلّون بصلاته قال” قد أحسنوا وآصابوا ولم يكره ذلك لهم

অর্থাৎ- রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে রমজানের এক রাতে মসজিদে গিয়ে দেখা গেল কিছু লোক জামায়াতের সাথে নামায পড়ছেন কিছু লোক একা আবার কিছু লোক অন্যান্য ইবাদত বা অন্য কাজে। ইমামতি করছেন উবাই ইবনে কাব (রা:)। আমরা রাসুলুল্লাহ (সা:) এর দৃষ্টি আকর্ষন করলে রাসুলুল্লাহ (সা:) বললেন ভালো তাতে কোন অসুবিধা নেই। হাদীসটি সুনানে আবু দাউদ বায়হাক্বীসহ আরো অনেক হাদীস গ্রন্থেই স্থান পেয়েছে শব্দের হের ফের সহ হাদীসটি আবু হুরায়রা (রা:) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। (দ্র: আসার এ সুনান পৃষ্ঠা ২০০-১

সুতরাং এসব আলোচনা থেকে এটা স্পষ্টই প্রতিয়মান যে তারাবীহ্‌র নামাজের জামায়াত রাসুলের (সা:) জামানায় ছিল এবং যারা জামায়াতে শরীক হননি তাদেরকেও রাসুল মন্দ বলেন নি বা তাদের এ কাজকেও মন্দ বলেননি। অনুরূপ নিজ গৃহেও নামাজ পড়ার সময় ডানে বামে দু একজন মাঝে মধ্যে দাড়াতেন। রমজান মাস এবং গায়রে রমজানে একই ভাবে নামাজ এ তাহাজ্জুদ পড়া সম্পর্কিত হযরত আয়েশা সিদ্দিীকা (রা:) বর্ণিত হাদীসের শব্দাবলি সম্পর্কে বিচারপতি মুফতি তক্ব উসমানী একটি মতামত ব্যক্ত করে বলেছেন-

“হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) এর বর্ণিত হাদীসটিতে মুসলিম সহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে ফিল আশরিল আওয়াখির (অর্থাৎ রমজানের শেষ দশের মত তাহাজ্জুদ পড়তে দেখিনি) এসছে। দ্র: মুসলিম খন্ড ১ । কিন্তু এই বর্ণনায় আমাদের দাবীর যথাযথ দলীল হয় না। বরং বায়হাক্বীর একটি বর্ণনায় আমাদের দাবীর যথার্থতা প্রমাণ হয়। যেখানে হযরত আয়েশা (রা:) বলেছেন যখন রমজান আসে তখন রাসুল আর বিছানায় আসেন না এমতাবস্থায় শাওয়াল আসে। দ্র: দুররে মনসুর , খন্ড ১, পৃষ্ঠা-১৮৫। আগেই উল্লেখ করা হয়েছিল রমজান ও গায়র রমজান যদি বরাবরই হয় তাহলে হাদীসের তাৎপর্য কি থাকে? তাই এবার এই হাদীস সম্পর্কিত আলোচনায় ফিরে আসা যাক।

রমজান ওগায়র মরজানে পার্থক্য ছিল:

১. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) এর বর্ণিত অপর এক হাদীসে জানাযায় রমজানের শেষাংশে রাসুলুল্লাহ (সা:) নিজেও বিছানায় আরাম করতেন না এবং পরিবার পরিজনকেও উৎসাহ দিতেন।

২. এখন প্রশ্ন হল রমজান এবং গায়র রমজানে যদি কোন পর্থক্যই না থাকবে তাহলে রমজানের শেষ দশকে এরকম করার কারণ কি? আর এতেই প্রমাণিত হয় যে রাসুলুল্লাহ (সা:) রমজানে এতো বেশী বেশী নামাজ পড়তেন যে তারাবীহ শেষ হতে না হতে তাহাজ্জুদের সময় হয়ে যেত। অত:পর তাহাজ্জুদ শেষ হতে না হতে ( সেহরীর সময় চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিত। এটাই হাদীসের মর্ম বিশেষত: রমজানের শেষ দশকেই এরকম হত।) দ্র: মুসলিম খন্ড ১ পৃষ্ট ৩৭২,বুখারী খন্ড ১ পৃষ্ঠা ১১০ দারামী খন্ড ১ পৃষ্টা ২৮৫ হাদীস নং ১৬৫ ও ১৪৮৩ ।

এই হাদীসে হযরত আয়েশার (রা:) বর্ণনায় বোঝা যায় এতোসময় পর্যন্ত নামাজ পড়তেন না যে সুবেহ হয়ে যায়। এটাই যক্তি যুক্ত যে হযরত আয়েশা রা:) এখানে নামাজের সময় সীমা নির্ন্ধারন করেছেন মাত্র। অথচ তা নাহলে হযরত আবু যর (রা:) এর বর্ণিত হাদীসে সুবেহ পর্যন্ত তারাবীহ্‌র নামায পড়া সাব্যস্থ হয়্‌ এজন্যই এ হাদীস দুটি দ্বারা তাহাজ্জুদ এবং তারাবীহ নামাযের ই পার্থক্য সাব্যস্থ হয় যা রমজান ও গায়র রমজানেরই পার্থক্য বুঝায়।

৩. হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) অপর এক বর্ণনা দ্বারাও তাহাজ্জুদ এবং তারাবীহ্‌র তথা রমজানও গায়র রমজানের পর্থক্য আছে এটা সাব্যস্থ হয়ে যায় যেখানে তিনি বলেছেন রাসুলুল্লাহ (সা:) জেগে উঠতেন না যতক্ষন না ভোর রাত হয়েছে। অপর বর্ণনায় সারা রাতের কথা আছে। এর mgš^q এভাবেই যক্তি যুক্ত তারাবীহ এবং তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য সারা রাত জেগে থাকতেন অপর দিকে কেবল তাহাজ্জুদের জন্য নিশি রাতের আগে জাগতেন না। অতএব এখানেও তাহাজ্জুদ এবং তারাবীহ্‌র যেমন পর্থক্য আছে তেমনি রমজান ও গায়র রমজানেরও পার্থক্য সাব্যস্থ হয়ে যায়। এরপরও এ কথা স্পষ্ট যে নামাজের ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘায়িত হওয়ার সূত্রে যদি তারাবীহ্‌র নামায তাহাজ্জুদের সময় পর্যন্ত চলে যায় তাহলে একসাথে তাহাজ্জুদেরও সওয়াব পাওয়া যাবে যেভাবে অন্যান্য নফল নামাযের বেলায় পাওয়া যায় বলে হাদীসে প্রমাণ আছে। যেমন সালাতে কসুফ ও খসুফ উমরাতুল কাযা ইত্যাদি। আবু যর (রা:) বর্ণিত হাদীসে তৃত্বীয় দফায় সারা রাতভর নামায পড়ানো ধারা এটাই প্রমাণিত হয়।

গায়রমুকাল্লিদীন গনের বক্তব্য: তাহাজ্জুদ ও তারাবীহর পার্থক্য এবং গভীর রাত পর্যন্ত নামায না পড়লে সারারাত বিশষত: রমজান মাসের শেষ দশকে এতো গুরুত্ব সহকারে পরিবার পরিজনকে জমায়েত করার কারণ কি? এই জবাবের প্রেক্ষিতে গায়র মুকাল্লিদীন গনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে এর অর্থ এই নয় যে নামায বেশী পড়েছেন। তাদের মতে নামায দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে রাত বেশী হয়েছে বা সাহরীর সময় চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

জবাব: গায়র মুকাল্লিদীন গনের এই বক্তব্যের বা কারণ বর্ণনার জবাবে বলা হয়েছে প্রথমত: একথা অবান্তরই বলা যায় যে এতো দীর্ঘ সময়ে তথা সারা রাতে সাসুলুল্লাহ (সা:) মাত্র ৮ রাকাত নামাযই পড়েছেন।

দিত্বীয়ত: দীর্ঘ সময়ে ৮ রাকাত নয় বেশি নামায পড়েছেন মর্মে প্রমাণ আছে। যেমন -হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) বর্ণিত হাদীসে আছে রমজান ও গায়র রমজানের তাহাজ্জুদে কোন পরিবর্তন হতনা । তবে এটাই যক্তি যুক্ত যে তারাবীহর কারণেই কেবল হত। দ্র: দুররে মনসুর খন্ড ১ , পৃষ্ঠা ১৮৫

রাকাত সম্পর্কিত আরেকটি প্রশ্ন: গায়র মুকাল্লিদীনরা আরো ১ টি প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে হযরত ওমর (রা:) থেকে ২০ রাকাত তারাবীহ্‌র যে ভাবে বর্ণনা আছে অনুরূপ ১১, ১৩ এবং ২১ রাকাতেরও বর্ণনা আছে। তাহলে শুধু কুড়িতে কেন সুন্নাত সাব্যস্থ হল ?

১১,১৩, ও ২১ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাব: ২১ রাকাতের উপর ইজমা সাব্যস্থ হওয়ার আগে এ সব বর্ণনাগত মত ছিল। ইজমা সাব্যস্থ হওয়ার পর পূর্বেকার বর্ণনা মতের দলিল দেয়া উসূলের খেলাপ। ২০ রাকাতের উপর ইজমা সাব্যস্থ হওয়া এবং চার ইমাম সহ জমহুর উম্মতের আমলে গ্রহণ যোগ্যতা পাওয়া ২০ রাকাত সুন্নত হওয়ার বড় দলীল। সুতরাং ¯^xK…Z ও গ্রহণ যোগ্য মত ও আমলের উপর পূর্বেকার কোন বর্ণনামত দিয়ে দলীল ও প্রশ্ন উত্থাপন করা উসূল বা মৌলনীতি সম্মত নয়। এখানে প্রণিদানযোগ্য যা ২০ রাকাত সুন্নত হওয়াকে অকাট্যতার সাথে প্রমানিত করে। বলাই বাহুল্য হযরত আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত আট আর তিন মিলে এগারো রাকাতের বর্ণনা তাহাজ্জুদ সম্পর্কিত তারাবীহ সম্পর্কিত নয়। আর তারাবিহ সম্পর্কিত বর্ণনায় এটা পরিস্কার যে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রাতের প্রথম অংশে নামাজ পড়তেন এর পর বিছানায় এসে আরাম করতেন আবার জেগে গিয়ে নামাজ পড়তেন আর এ অবস্থায়ই সেহরীর সময় হয়ে যেত। আরো বিস্তরিত জানতে হলে এবং এ সম্পর্কিত হাদীসের ব্যাপারে জানতে নিম্নলিখিত কিতাবগুলো অধ্যায়ন করা যেতে পারে।

(১) রাকাআত ই তারাবীহ

(২) আদায়ে রাকআতে তারাবীহ ।

(৩) মিসাবিহুত তারাবীহ

(৪) রাকাতাই তারাবীহ

(৫) তাহক্বীক আত্‌ তারাবীহ

(৬) রিসালা এ তারাবীহ

(৭) আলা উস সুনান প্রভৃতি

http://www.nagorikbarta.com/%E0%A6%86%E0%A6%9C%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6/%E0%A7%AC%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%93-%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8/

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s