সুন্নাহের আলোকে দৃষ্টিতে কবর যিয়ারত ও গায়েবানা জানাযা

কবর জিয়ারত সম্পর্কে

জিহাদে শহীদগণের কবর জিয়ারত প্রসংগেঃ

ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ (রা) বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বছরের প্রারম্ভে ওহুদ যুদ্ধে শহীদদের সমাধি জেয়ারতে যেতেন এবং বলতেন: السلام عليکم بما صبرتم فنعم عقبي الدار.

আপনাদের উপর সালাম! আপনারা আপনাদের ধৈর্যের ফলস্বরূপ আখেরাতে কি চমৎকার জায়গাই না পেয়েছেন।

আবু বকর, উমর এবং ওসমান (রা) একই ভাবে জেয়ারতে যেতেন।

সুত্র:

১. মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক: ৩:৫৭৩

২. আইনি, উমদাদুল কারী, ৮:৭০

৩. তাবরী, জামি আল কুরআন, ১৩:১৪২

৪. ইমাম সুউতি, দারুল ময়ানসুর, ৪:৬৪১

৫. তাফসীর ইবনে ই কাসীর।

কবর জিয়ারত মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ঃ-


মহানবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: তোমরা ক্কবর জিয়ারত কর কারণ এই অভ্যাস পরকালের কথা মনে করিয়ে দেয়। (এ হাদিসে নির্দেশ দেয়া হয়েছে)

সুত্র:

১. মুসলিম ১:৬৭১ .. ৯৭৬

২. হাকীম আল মুস্তাদরাক: ১:৫৩১ .. ১৩৯০


হযরত বুরহিদাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পারো।
(মুসলিম শরীফ)

হযরত ইবনে মসউদ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা তা করতে পার। কেননা উহা দুনিয়ার আসক্তিকে কমায় এবং আখিরাতকে স্মরণ করায়। 
(ইবনে মাযাহ)

রওজা মোবারক জিয়ারতঃ


পবিত্র মহানবী (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) র রওজা জিয়ারতের ফজিলত:

নবী করীম (সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: যে আমার রওজা জিয়ারত করবে, কিয়ামতের দিনে তাঁর জন্যে আমার শাফায়াত অবধারিত।

সুত্র:

১. দারুল কুতনী, আল সুনান ২: ২৭৮)

২. বায়হাকি, শোহবুল ঈমান ৩: ৪৯০, এবং ৪১৫৯ এবং ৪১৬০)

৩. হাকীম তিরমিজি, নাওয়াদিরুল উসুল ২: ৬৭)

প্রতিনিয়ত অবিরাম ফেরেশতাদের রৌজা মোবারক জিয়ারতঃ

 

রওজা মোবারক কে ঘিরে কিয়ামত পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতাদের অবিরাম সকাল সন্ধ্যা 

জিয়ারত ও

 দুরুদ শরীফ পাঠঃ 

 

 

হযরত ওয়াহাব বিন মুনাব্বাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন,

প্রতিদিন ফজরের সময় আসমান থেকে ৭০ হাজার ফেরেশতা 

নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের, রাওযা শরীফে অবতরণ করেন । তারা চতুর্দিক থেকে রাওযা শরীফ পরিবেষ্টন করে রাখেন, এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত নবী পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদ শরীফ পাঠ করতে থাকেন। অতঃপর সন্ধ্যা হয়ে গেলে এই ফেরেশতাগণ আবার উর্ধগমন করেন এবং তখনই আবার সমপরিমান ফেরেশতা অবতরণ করেন এবং ফজর পর্যন্ত পূর্ববর্তীদের ন্যায় দরূদ শরীফ পাঠ করতে থাকেন। যারা একবার আসবেন , তারা আর দ্বিতীয় বার আসার সুযোগ পাবে না । (সুবহানাল্লাহ)

Reference :

ইমাম বায়হাকীঃ শুআবুল ঈমানঃ খন্ড ৩, হাদিস নং ৪১৭০, ৩৮৬২

ইমাম গাজ্জালিঃ ইহয়াউ উলূমিদ্দীনঃ৪ : ৫২২ পৃ

ইবনুল জাওজীঃ আল ওয়াফা বি আহওয়ালিল মোস্তফাঃ হাদিস ১৫৭৮

ইমাম জুরকানীঃ যুরকানী শরীফ ৭ : ৩৭৯ 

হিদায়াতুস সালিকঃ ১ : ১১৪

ইমাম ইবনে কাসীরঃ তাফসীরে ইবনে কাসীরঃ সুরা আহযাব

ইমাম দারিমীঃ সুনানে দারিমীঃ ৯৪

 

 

মাতা-পিতার 

কবর 

 

জিয়ারতঃ

 

 

 

 


তাবেয়ী মুহম্মদ বিন নোমান রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন॥ যে ব্যক্তি প্রত্যেক শুক্রবার আপন মা॥বাপের অথবা তাঁদের মধ্যে একজনের কবর জিয়ারত করবে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং মা॥বাপের সহিত সদ্ব্যব্যবহারকারী বলে লেখা হবে। (বায়হাকী)

ইমাম ও মুহাদ্দিসগনের বর্ননাঃ

 হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি শামদেশ হতে উট সওয়ার শুধু রওজায়ে পাকে তাঁর সালাম জানানোর জন্য পাঠিয়ে দিতেন।

হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি শাফেয়ী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা তিনি যখন কোন মাসআলা সমস্যার সমাধানে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তেন তখন আলমে ইসলামীর সর্বশ্রেষ্ঠ ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা নোমান বিন সাবেত কুফী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মাজার শরীফে এসে জিয়ারত করে তখায় দুরাকাত নামাজ পড়তেন। এরপর হযরত ইমামে আযম ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এর উসিলা দিয়ে আল্লাহ্ পাকের দরবারে ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সমস্যা জানাতেন। আল্লাহ্ পাক তাঁর দোয়া কবুল করতেন অর্থাৎ মাসআলার যে সমস্যার জালে আবদ্ধ হয়ে তিনি সেখানে যেতেন ইমামে আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি এর উসিলার বরকতে তা খুলে যেত। অতঃপর স্বীয় স্থানে প্রত্যাবর্তন করতেন। উল্লেখ্য ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর এ আগমন শুরু হত ফিলিস্তিন হতে, আর এই সূদুর ফিলিস্তিন থেকে আগমনের একমাত্র নিয়ত ছিল মাজার জিয়ারত করা। অন্য কোন উদ্দেশ্যে বাগদাদ এসে মাজার জিয়ারত করা নয় (আন্ নাসিয়াতুলিল ওহাবী)

 

 

এ প্রসঙ্গে ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

 

অর্থঃ নিশ্চয়ই আমি ইমাম আযম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বরকত হাসিল করি। যখন আমার কোন সমস্যা দেখা দেয় আমি তাঁর মাজার শরীফে এসে প্রথমে দুরাকাত নামাজ আদায় করি। অতঃপর তাঁর উসিলা দিয়ে আল্লাহ্ পাকের নিকট সমস্যা সমাধানের জন্য প্রার্থনা করি। তা অতি তাড়া তাড়ি সমাধান হয়ে যায়। (মুকাদ্দিমা,শামী ১ম খন্ড ৫৫ পৃঃ)

 হুজ্জাতুল ইসলাম আল্লামা ইবনে হাযার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি দিয়েছেন এভাবেঃ

জেনে রাখুন পুরুষ ও মহিলাদের জন্য কবর জিয়ারত করা এ সমস্ত হাদীসের রায় অনুযায়ী মোস্তাহাব প্রমাণিত, তবে মহিলাদের ব্যাপারে মতানৈক্য আছে।(ফতহুল বারী ফি শরহে বোখারী ৩য় খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা)

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

কবর জিয়ারত এতে কোন অসুবিধা নেই, বরং এটা মোস্তাহাব। (ফতওয়ায়ে শামী)

পুরুষের জন্য কবর জিয়ারত করা মোস্তাহাব। (ফিক্বহুস সুন্নাহ্, ১ম খন্ড পৃঃ৪৯৯)


দূরবর্তী স্থানেও (কবর) জিয়ারতের জন্য গমন করা মোস্তাহাব। (শামী ২য় খন্ড ২৪২ পৃঃ)


→ 
ওহোদ পাহাড়ের শহীদগণের (কবর) জিয়ারত করা মোস্তাহাব। ইবনে শায়বা হতে বর্ণিত আছে যে, “রসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি বৎসরান্তে ওহোদের শহীদগণের (কবর) জিয়ারত করতে আসতেন। অতঃপর বলতেন, তোমাদের প্রতি সালাম, যেমন তোমরা ধৈর্য্য ধারণ করেছিলে তেমনি পরকালে উত্তম বাসস্থান লাভ করেছ। (ফতোয়ায়ে শামী)

আরো বর্ণিত আছে যে, পরবর্তীতে খলিফাতুল মোসলেমীন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু আনহু ও আমিরুল মোমেনীন হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই ধারাকে বজায় রেখেছিলেন। (উমদাতুল ফিক্বাহ)

বিখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উল্লেখ করেন: সাইয়্যিদাহ্ ফাতিমা রাদিআল্লাহু আনহু প্রতি শুক্রবার হযরত হামযাহ্ রাদিআল্লাহু আনহু এর কবর জিয়ারত করতে যেতেন, অনুরূপভাবে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিআল্লাহু আনহু স্বীয় ভ্রাতা আবদুর রহমান রাদিআল্লাহু আনহু এর কবর জিয়ারত করার জন্য মক্কা শরীফ যেতেন। (উমদাতুল ক্বারী ফি শরহে বোখারী)

 শায়েখ ওলি উদ্দীন ইরাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন আমার পিতা জয়নুদ্দীন ইরাকী এবং শায়েখ আব্দুর রহমান ইবনে রজব হাসলী, হযরত ইব্রাহীম খলীল আলাইহিস সালাম এর জিয়ারতে বলেছিলেন; যখন শহরের নিকটবর্তী হলেন তখন ইবনে রজব বলতে লাগলেন, আমি খলীলুল্লাহ্ আলাইহিস সালাম এর মসজিদে নামাজ পড়ার নিয়ত করে নিলাম যেন জিয়ারতের নিয়ত না থাকে। আমার পিতা বললেন, আপনিতো হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এরশাদের বিপরীত আমল করলেন। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের জন্য সফর করা যায় না অথচ আপনি চতুর্থ এক মসজিদের নিয়ত করলেন আর আমি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এরশাদের উপর আমল করেছি। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কবর জিয়ারত করতে থাকবে। এমন কোন হাদীস নেই যাতে নবী আলাইহিস সালাম গণের কবরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমি হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এরশাদ মোতাবেক আমল করেছি। (ফাযায়েলে হজ্ব, জুরক্বানী)

 ইমামে রাব্বানী আফজালুল আউলিয়া শায়েখ আহমদ সিরহিন্দী ফারুকী মোজাদ্দেদে আলফেসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সুলতানুল হিন্দ হাবীবুল্লাহ ইমামুত্ব ত্বারীকত হযরত খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতী আজমিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মাজার শরীফ জিযারত করতে গিয়েছিলেন। আর এতে জিয়ারত ভিন্ন অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না।(সীরাতে মোজাদ্দেদে আলফেসানীরহমতুল্লাহি আলাইহি।

 আল্লামা আবদুর রহমান যাফিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন:

কবর জিয়ারত এর ক্ষেত্রে নিকট ও দূরের কোন পার্থক্য নাই। (কিতাবুল ফিক্বাহ আলা মাযাহিবিল আরবা ১ম খন্ড ৫৪০ পৃঃ)

 হাকিমূল উম্মত মাওলানা আশ্রাফ আলী থানভী বলেন॥ পুরুষদের জন্য কবর জিয়ারত করা মোস্তাহাব। জিয়ারত করার অর্থ দেখাশুনা। সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন কবর জিয়ারত করা উচিৎ। সেই দিন শুক্রবার হওয়াই সবচেয়ে ভাল। বুজুর্গানে দ্বীনের কবর জিয়ারত করার জন্য সফরে যাওয়াও দুরস্ত আছে 
(এমদাদুল ফতওয়া)

ইসলামের দৃষ্টিতে গায়েবানা জানাযা সুন্নাহ পরিপন্থীঃ

গায়েবানা জানাযা“ হুযুর পাক(ছ. ও সা. বেশুমার) একবার মাত্র করেছিলেন। এ কর্ম (আ’মল) মহান আল্লাহ্ পাক হুযুর পাক (ছ. ও সা. বেশুমার)’কে প্রদত্ত ইখতিয়ারের অনন্য বৈশিষ্ঠের নিদর্শণ।

  • অমুসলিম দেশে জানাযা ছাড়াই দাফন হওয়ার কারণে হুযুর পাক (ছ. ও সা. বেশুমার), বাদশাহ নাজাশী (তাঁর প্রতি সালাম)’র অনূপস্থিত (গায়েবানা) জানাযা পড়েছিলেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৬৫২) (আল-জাওহারুন নাক্বী শরহ সুনানুল বায়হাক্বী ৪/৫১)।

  • বাদশাহ্ নাজাশী (তাঁর প্রতি সালাম)’র দূরবর্তী স্থানে থাকা অবস্থায় পৃথিবীর তৎকালীন মানুষ জানতে না পারলেও তাঁর মুছলিম হওয়ার জ্ঞান এবং মরে যাওয়ার পর জানাযা ছাড়া কবরস্থ হওয়ার জ্ঞান, মহান আল্লাহ্ পাক প্রদত্ত তাঁর (ছ. ও সা. বেশুমার) মুজিযা বা অদৃশ্য (গয়িব) জ্ঞান (ইলম)।সুতরাং, জানাযা হয়েছে এরূপ ব্যক্তির গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েয নয় (বিস্তারিত দ্র. ছালাতুর রাসূল, পৃঃ ১৫১-১৫২)।

  • ইবনু ওমর (তাঁর প্রতি সালাম) তাঁর ভাই আছেম(তাঁর প্রতি সালাম) এর জানাযা তিনদিন পরে কবরকে সামনে রেখে পড়েছেন (বায়হাক্বী ৪/৪৯ পৃঃ)
  • ছাহাবি হাযরাত ইমরান বিন হুছাইন (সকলের প্রতি ছালাম) বলেন, “[বাদশাহ্ নাজাশী(তাঁর প্রতি ছালাম)র যানাজা কালে এটাই অনূধাবন করছিলাম যে, তাঁর মুবারাক দেহ আমাদের সামনে মওজুদ (রাখা) রয়েছে।মাছনাদে আহমাদ:২০০০৫।

  • ছাহাবি হাযরাত ইমরান বিন হুছাইন (সকলের প্রতি ছালাম) বলেন, “সম্মানিত ছাহাবি (সকলের প্রতি ছালাম)গণের বিশ্বাস এটাই ছিল যে, বাদশাহ্ নাজাশী(তাঁর প্রতি ছালাম)র মুবারাক দেহ হুযুর পাক (ছ. ও ছালাম বেশুমার)র সামনে মওজুদ (রাখা) রয়েছে।ছহীহ ইবনে হিব্বান:৩১০২।

  • হাযরাত আবান (তাঁর প্রতি ছালাম)র সূত্রে ছাহাবি হাযরাত ইমরান বিন হুছাইন (সকলের প্রতি ছালাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বর্ণিত হয়েছে, “যখন হুযুর পাক (ছ. ও ছালাম বেশুমার)র পেছনে যানাজা পড়ছিলাম তখন বাদশাহ্ নাজাশী(তাঁর প্রতি ছালাম)র মুবারাক দেহ আমাদের সামনে হাযির (উপস্থিত) দেখতে পাচ্ছিলাম

উমদাতুল ক্বরি শারহুল বুখারি: ৭/৩৩; মাকতাবাতুল তাওফিকিয়া, মিশর
আল ফাতহুল বারি: ৩/২৪; দারুল ক্বুতুবুল ইলমিয়্যাহ্।

এরুপ অনূধাবন হুযুর পাক (ছ. ও ছালাম বেশুমার)কে আল্লাহ্ পাক প্রদত্ত তাঁর (ছ. ও ছালাম বেশুমার) সম্মানিত ছাহাবি (সকলের প্রতি ছালাম)গণের প্রতি মুযিজা (আল্লাহ্ পাক পদত্ত গয়িবি ক্ষমতা)।

হুযুর পাক (ছ. ও ছালাম বেশুমার), চার খলিফা (সকলের প্রতি ছালাম) সহ সকল সম্মানীত ছাহাবি (সকলের প্রতি ছালাম), তাবিয়িন (সকলের প্রতি ছালাম) কোন দিন কারো অনূপস্থিত (গয়িব) যানাজা করেন নিঃ

  • আল্লামা ইবনুল কায়্যিম বলেন, “মুছলমানদের এমন অনেক ব্যাক্তি মৃত্যুর স্বাদ নিয়েছেন যাঁরা হুযুর পাক (ছ. ও ছা. বেশুমার) থেকে দূরে (জাহিরিতে গয়িব) ছিলেন; কিন্তু তিনি কারো অনূপস্থিত (গয়িবানা) যানাজা করেন নি।যাদুল মাআদ:১/৫১৯।

আল্লাহর রাসুল (সঃ) জীবনে ১বার হাবশার বাদশা নাজাশীর মৃত্যুতে সাহাবীদের নিয়ে তার গায়েবানা জানাযা আদায় করেছেন | (সহীহ বুখারী ১/১৯৭,৪৪৩,৪৪৬,হাঃ১১৮৮,১২৫৪,১২৬৩ সহীহ মুসলিম ১/৬৫৬ হাঃ৯৫২) 

Explanation : 

মাযহাবের ইমামগন ও মুহাদ্দিসগনের আকিদাঃ

এ হাদীসটিকে মুহাদ্দিস গন নানা ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এরপর রাসুলুল্লাহ (সঃ) বা কোন সাহাবী বা তাবেয়ী বা তাবে তাবেয়ীন কোনদিন কোন মুসলিমের গায়েবানা জানাযা পড়েছেন বলে জানা যায় না। (লামেউদ দুরারী ৪/৪৩২;ফত হুল ক্বদীর ১/৪৩২) 

বহু সাহাবী দূর দুরান্তে শহীদ হয়েছে কেউ মারা গেছে কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সঃ) কারো গায়েবানা জানাযা পড়েন নাই। ঈমাম শাফেয়ী ছাড়া বাকী তিন ইমাম এর বিরোধি ছিল তবে শাফেয়ীদের এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছেঃদূর দুরান্ত মাইয়েত যার জানাযা পড়ানো হয় নাই তার জন্য ই এ জানাযা সবাই একবার ই আদায় করা যাবে
(যাদুল মাআদ লিবনেল কাইয়ুম রাহ,) 

হানাফী, মালেকী ও হাম্বলীদের ও ঊলামায়েকেরামদের মতে জানাযার নামাযে মৃত ব্যাক্তি সামনে থাকা জরুরী নতুবা গায়েবানা জানাযা পড়া যাবেনা আর গায়েবানা জানাযা সুন্নাহ সম্মত নয় |
Reference :
বাহরুর রায়েক;
 ফতোয়ায়ে শামী
আহকামুল মাইয়েত
বেহেশতী জেওয়ার
যাদুল মাআদ- বাবে সলাতুল জানায়েয;
আল মাজমূ‘-৫/২৫৩;
আল মুগনী ২/৩৮৬;
যারকানী ২/১০
ইলাউস সুনান ২/২৩৪;
ফয়দুল বারী ২/৪৬৯;
মুগনী মুহতাজ ১/১৬৫;
কাশফুল কান্না ২/১২৬;
শরহুছ ছগীর ১/৫৬৯) 

ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহ.) ও তার অনুগামী সকল ইমাম এবং ইমাম মালেক (রাহ.)এর মতে- গায়েবানা জানাযা জায়েয নেই। চাই দাফনের আগে হোক বা পরে। মাইয়্যিত শহরের ভিতরে থাক বা বাইরে। (মাবসূতে সারাখসী- ২/৬৭, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বৈরুত, মানহুল জালীল- ১/৩৭৬ পৃষ্ঠা)।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহ.) থেকে জায়েয হওয়ার একটি উক্তি থাকলেও স্বীয় শাগরিদ ইবনে আবী মুসা তাঁর থেকে নাজায়েয হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। হাম্বলী মাযহাবের প্রসিদ্ধ ফিক্বাহ্বিদ আল্লামা ইবনে কুদামা (রাহ.) এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, অর্থাৎ- ইমাম মালেক (রাহ.) ও ইমাম আবু হানীফা (রাহ.) উভয়ে বলেন, গায়েবানা জানাযা জায়েয নেই। ইমাম আহমদ (রাহ.) থেকে ইবনে আবী মুসা উক্ত ইমামদ্বয়ের অনুরূপ (নাজায়েয হওয়ার) একটি উক্তি বর্ণনা করেছেন।” (আলমুগনী, ইবনে কুদামা (রাহ.)- ২/৩৮৬ পৃষ্ঠা)।

ইমাম শাফেয়ী (রাহ.) ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রাহ.)এর মতে মাইয়্যিত ভিন্ন শহরে থাকলে গায়েবানা জানাযা জায়েয। কিন্তু শহরের ভিতরে থাকার মাইয়্যেতের গায়েবানা জানাযা জায়েজ নয়। মাইয়্যেতকে উপস্থিত করতে হবে। (আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু- ১/৫০৪, মাকতাবাতুল হক্কানিয়্যাহ, পাকিস্তান, আল মাজমু- ৫/২৫৩)।

আল্লামা ইবনু আবদিল বার (রাহ.) গায়েবানা জানাযা নাজায়েয হওয়ার উক্তিকে জমহুর ফুক্বাহা তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মতামত বলে অভিহিত করেছেন। যেমনটি উল্লেখ করেছেন তাবলিগিদের গুরু মাওলানা যাকারিয়া। তিনি বলেন, “হানাফী ও মালেকী ওলামাগণ বলেন, গায়েবানা জানাযা শরীআত সম্মত নয়। ইবনু আবদিল বার (রাহ.) এ উক্তিকে অধিকাংশ ওলামাদের মত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।” (লামিউদ দারারী- ৪/৪৩২ পৃষ্ঠা)।

গায়েবানা জানাযা জায়েয প্রবক্তাদের দলীল ও তার খন্ডনঃ

দলীল

বুখারী শরীফে হযরত আবু হুরাইরা (রা) সূত্রে একটি বর্ণনায় রয়েছে, “মহানবী (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে বাদশাহ নাজাশীর মৃত্যু সংবাদ দিলেন। অতঃপর জানাযার জন্য অগ্রসর হলেন। সাহাবায়ে কেরাম তাঁর পিছনে কাতার বন্দী হয়ে দাঁড়ালে নবীজী (সা.) চারটি তাকবীর বললেন।” (বুখারী শরীফ, দিল্লী- ১/ ১৬৭ পৃষ্ঠা)।

একই বর্ণনা সহীহ ইবনে হিব্বানে (১/১৬৭) হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে ।

আর নাজাশী যেহেতু মদীনায় উপস্থিত ছিল না, অথচ রাসূল সাঃ তাদের নাজাশীর জানাযা নামায পড়িয়েছেন, তাই বুঝা গেল যে, গায়েবানা জানাযা পড়া জায়েজ। রাসূল সাঃ থেকেই গায়েবানা জানাযা পড়ার প্রমাণ রয়েছে।

উত্তর

১ম জবাব

প্রথমে আমরা দেখে নেই উক্ত হাদীসটি কোন রাবী বর্ণনা করেছেন? উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারীগণ নাজাশীর জানাযা সংশ্লিষ্ট হাদীস থেকে গায়েবানা জানাযা জায়েজ হবার দলীল হিসেবেই বুঝেছেন না ভিন্ন কিছু?

উক্ত হাদীসের প্রসিদ্ধতম রাবী রয়েছেন তিনজন। যথা-

১- হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ।

২- হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ।

৩- হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ।

বাদশা নাজাশী ইন্তেকাল করেছেন নবম হিজরীর রজব মাসে। {হাশিয়ায়ে মুয়াত্তা মালিক-২০৮}

আর হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ ইন্তেকাল করেছেন ৫৯ হিজরীতে। অর্থাৎ উক্ত ঘটনার পর হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ প্রায় ৫০ বছর জীবিত ছিলেন। হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ ইন্তেকাল করেছেন ৭৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন। সেই হিসেবে তিনি উক্ত ঘটনার পর ৭০ বছর জীবিত ছিলেন। আর হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ উক্ত ঘটনার পর জীবিত ছিলেন প্রায় ৪৩ বছর।

কিন্তু হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ এ ৫০ বছরের মাঝে, হযরত জাবের রাঃ পুরো ৭০ বছরের মাঝে এবং হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ তার জীবনের এই ৪৩ বছরের মাঝে কোনদিন কারো গায়েবানা জানাযা পড়েছেন, কিংবা গায়েবানা জানাযা পড়তে বলেছেন কেউ প্রমাণ দেখাতে পারবে?

এত দীর্ঘ বেঁচে থাকার পরও উক্ত ঘটনা থেকে এসকল সাহাবাগণ যদি গায়েবানা জানাযা জায়েজের প্রমাণই বুঝে থাকতেন, তাহলে তাদের জমানায় ইন্তেকাল হওয়া অসংখ্য সাহাবীদের গায়েবানা জানাযা তাদের পড়ার কথা। কিন্তু একজনের গায়েবানা জানাযা পড়ানোর কোন প্রমাণ না কোন হাদীস গ্রন্থে আছে না কোন ইতিহাস গ্রন্থে পাওয়া যায়। যা পরিস্কার প্রমাণ করছে যে, উক্ত ঘটনা দ্বারা কোন সাহাবী গায়েবানা জানাযা জায়েজ বুঝেননি। বরং বিষয় ছিল ভিন্ন। আসলে কি হয়েছিল তখন? আমরা যদি উক্ত ঘটনার বর্ণনা সম্বলিত সকল হাদীসকে সামনে রাখি, তাহলে আমাদের কাছে উক্ত বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

২য় জবাব

নাজাশীর ঘটনা সম্বলিত হাদীসমূহ



হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ বলেন- وَمَا نَحْسِبُ الْجِنَازَةَ إِلَّا مَوْضُوعَةً بَيْنَ يَدَيْهِতথা আমরা জানাযার ব্যাপারে এটাই অনুধাবন করছিলাম যে, তা আমাদের সামনে রাখা আছে। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২০০০৫}



হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ বলেন- وَهُمْ لَا يَظُنُّونَ إِلَّا أَنَّ جَنَازَتَهُ بَيْنَ يديهতথা সাহাবায়ে কেরামের বিশ্বাস এটাই ছিল যে, জানাযা হুযূর (সা.)এর সামনে উপস্থিত। {সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩১০২}



এছাড়া উক্ত বর্ণনাটি হযরত আবান (রাহ.) সূত্রে হযরত ইমরান ইবনে হাছীন থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে যে, “যখন নবীজী (সা.)এর পিছনে জানাযা পড়েছি, তখন নাজাশীর লাশকে আমাদের সামনে উপস্থিত দেখতে পেয়েছি।” (উমদাতুল কারী শরহুল বুখারী- ৭/৩৩, মাকতাবায়ে তাওফীকিয়া, মিসর; ফাতহুল বারী- ৩/২৪৩ দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ)।



আবু আওয়ানাতে এ শব্দ এসেছে যে, نحن لا نرى ان الجنازة قدمناতথা আমরা দেখছিলাম যে, আমাদের সামনে জানাযা রাখা।

উপরোক্ত সকল বর্ণনার দিকে তাকালে পরিস্কার হয়ে যাবে, নাজাশীর জানাযা বর্ণনাকারী সাহাবীগণ কেন উক্ত ঘটনা দ্বারা গায়েবানা জায়েজের দলীল মনে করেননি। নাজাশীর জানাযার বর্ণনা করলেও জীবনে কোনদিন নিজে গায়েবানা জানাযা পড়েননি। কারণ তারা পরিস্কার বুঝেছিলেন নাজাশীর জানাযার নামাযটি গায়েবানা জানাযা নয়। বরং উপস্থিত ব্যক্তির জানাযা। রাসূল সাঃ এর মুজেযা স্বরূপ নাজাশীকে নবীজী সাঃ এর সামনে উপস্থিত করে দেয়া হয়েছিল। আর সেই জানাযা সামনে নিয়ে নবীজী সাঃ জানাযা পড়িয়েছেন। আর সামনে নিয়ে জানাযা পড়ার নাম উপস্থিত ব্যক্তির জানাযা গায়েবানা জানাযা নয়। সাহাবাগণ এ ভেদ জানার কারণে কোন সাহাবী জীবনে কোনদিন গায়েবানা জানাজা পড়েননি। কিংবা গায়েবানা জানাযা পড়ার দাবিও করেননি, কিংবা গায়েবানা জানাযার পক্ষে উক্ত হাদীসের দলীলও পেশ করেননি। কারণ তারা জানতেন আসলে উক্ত ঘটনাটি একটি মুজেজা। যাতে নাজাশী গায়েব ছিল না, আল্লাহর কুদরতে নবীজী সাঃ এর মুজেজা স্বরূপ উপস্থিত ছিল।

দূরের বস্তু উপস্থিত হয়ে যাওয়ার মুজেজার প্রমাণ কি?

আল্লাহ তাআলার জন্য কোন কিছুই অসম্ভব নয়। নবীদের মুজেজা আর ওলীদের কারামত সত্য। এটাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আকিদা। রাসূল সাঃ থেকে আল্লাহ তাআলা অনেক মুজেজা প্রকাশিত করেছেন। এর মাঝে এটাও ছিল যে, মাঝে মাঝে দূরের বস্তুকে কাছে করে দিতেন। এসব করায় রাসূল সাঃ এর নিজের কোন ক্ষমতা ছিল না। পুরোটাই আল্লাহ প্রদত্ব।


বেশ কিছু মুজেজাপূর্ণ ঘটনায় দূরের বস্তু কাছে দেখেছেন রাসূল সাঃ। যেমন-



রাসূল সাঃ মদীনায় ছিলেন। তুমুল যুদ্ধ চলছিল তখন মুতা প্রান্তরে। সাহাবাগণ জীবন বাজি রেখে দ্বীনের জন্য লড়াই করে যাচ্ছিলেন। মদীনায় বসে শত শত মাইল দূরের মুতা প্রান্তরের বর্ণনা রাসূল সাঃ দিচ্ছিলেন। বলতেছিলেন, “জায়েদ ঝান্ডা নিয়েছে এবং শহীদ হয়ে গেছে। তারপর ঝান্ডা জাফর নিয়েছে সেও শহীদ হয়ে গেছে। তারপর ঝান্ডা আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা নিয়েছে সেও শহীদ হয়ে গেছে।এ পর্যায়ে রাসূল সাঃ কেঁদে দিলেন। বলতে লাগলেন-এবার ঝান্ডা খালিদ বিন ওয়ালিদ নিয়েছে আর বিজয়ী হয়ে গেছে।{সহীহ বুখারী-১/১৬৭}



মক্কায় অবস্থান করা অবস্থায় হাজার মাইল দূরের বাইতুল মাকদিসের পূর্ণ হালাত দেখে দেখে কাফেরদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন। {বুখারী-১/৫৪৮}

হাবশা, মুতা আর বাইতুল মাকদিসতো দূনিয়ার স্থান। আমাদের নবীতো মদীনায় বসে থেকে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখেছেন। {বুখারী-১/৭৭,১০৩,১২৬,১৪৪,১৬৪}

৩য় জবাব

এ ঘটনা রাসূল সাঃ এর সাথে বৈশিষ্টমন্ডিত। যদি রাসূল সাঃ এর সাথে বৈশিষ্টমন্ডিত না হতো, তাহলে রাসূল সাঃ পরবর্তীতে অন্যান্য সাহাবীদের গায়েবানা জানাযা পড়তেন। খুলাফায়ে রাশেদীন ও অন্যান্য সাহাবাগণও পড়তেন। অথচ কারো থেকেই গায়েবানা জানাযা পড়ার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। মালেকী মাযহাবের ইমাম আল্লামা ইল্লিশ রহঃ লিখেছেনঃ মদীনায় নাজাশীর গায়েবানা জানাযা পড়ার বিষয়টি রাসূলের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল। কেননা, উম্মত রাসূলের জানাযা আদায় করার প্রতি অধিক আগ্রহী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর গায়েবানা জানাযা আদায় করেনি। এবং নাজাশীর লাশকে অলৌকিকভাবে রাসূলের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে রাসূল (সা.) নাজাশীর লাশ সামনে দেখেই তার জানাযা পড়েছেন। যেমন, মাইয়্যিত ইমামের সামনে থাকা অবস্থায় ইমাম মাইয়িতকে দেখতে পায়, কিন্তু অনেক মুক্তাদী দেখতে পায় না। আর এ ক্ষেত্রে নামায সহীহ হওয়ার ব্যাপারে কোন মতানৈক্য নেই।” (মানহুল জালীল- ১/৩১৬-৩১৭)।

৪র্থ জবাব

শায়েখ জাকারিয়া লিখেনঃ, “আমার নিকট সঠিক এটাই মনে হয় যে, ইমাম বুখারী (রাহ.) এ মাসআলাটিতে হানাফী ও মালেকী মতকে সমর্থন করেছেন এবং আল-জানাযাতু আলাস সুফূফতথা জানাযাতে কাতারবন্দী হওয়াশিরোনাম স্থাপন করে ইঙ্গিত করেছেন যে, নাজাশীর জানাযা দৃশ্যমান ছিল; গায়েব ছিল না। আর এটাই উক্ত মাযহাবদ্বয়ের প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা (যা আলোচ্য বিষয়কে সমর্থন করে)। তাইতো হাদীস থাকা সত্ত্বেও তিনি আল-গায়েবু আলাস সফূফতথা অনুপস্থিত ব্যক্তির জানাযাঅধ্যায় স্থাপন করেননি। তাছাড়া বুখারী শরীফে শিরোনাম স্থাপনের নীতিমালার ৬৫ নম্বরে উল্লেখ রয়েছে, কোন মাসআলা ইমাম বুখারী (রাহ.)এর মতামতের পরিপন্থী হলে শিরোনাম হিসেবে উল্লেখ করেন না। (হাশীয়া লামিউদ দারারী শরহুল বুখারী- ২/১২২, মাকতাবাতুল আশরাফিয়া দিল্লী)।

সুতরাং বুঝা গেল যে, ইমাম বুখারী রহঃ নিজেই উক্ত হাদীসকে গায়েবানা জানাযা জায়েজের দলীল মনে করেন নি।