সাহাবায়ে কেরাম সত্যের মাপকাঠি-২

সাহাবীদের মর্যাদা কুরআন হাদীস দ্বারা জানতে হয়; ঐতিহাসিক বর্ণনা দ্বারা নয়।

সাহাবায়ে কেরাম সাধারণ উম্মতের মতো নন। তাঁরা রাসূল সা. ও তাঁর উম্মতের মাঝে আল্লাহর তৈরি সেতু। তাঁদের মাধ্যম ব্যতীত উম্মতের কাছে কুরআন ও হাদীস এবং রাসূলের শিা পৌঁছার কোনো পথ নেই। তাই ইসলামে তাঁদের বিশেষ একটি মর্যাদা রয়েছে। তাঁদের এই মর্যাদা ইতিহাসগ্রন্থের সত্যমিথ্যা মিশ্রিত বর্ণনা দ্বারা নয়; বরং কুরআন ও হাদীসের চিরসত্য বর্ণনা দ্বারা জানা যায়। এমর্মে এখানে কতিপয় আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করা হল।

إنما المؤمنون الذين امنوا بالله و رسوله ثم لم يرتابوا و جهدوا بأموالهم و أنفسهم في سبيل اللهط أولئك هم الصدقون

অর্থাৎ, তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে। তারাই (সাহাবীগণ) সত্যনিষ্ঠ (বা সত্যবাদী)। Ñসূরা হুজুরাত-১৫

ولكن الله حبب إليكم الإيمان و زينه في قلوبكم و كره إليكم الكفر و الفسوق و العصيانط أولئك هم الراشدون

অর্থাৎ, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের অন্তরে ঈমানের মহব্বত সৃষ্টি করে দিয়েছেন। পান্তরে কুফর, শিরক, পাপাচার ও নাফরমানির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তারাই (সাহাবীগণ) সৎপথ অবলম্বনকারী। Ñসূরা হুজুরাত-৮

وألزمهم كلمة التقوى وكانوا أحق بها

অর্থাৎ, (আল্লাহ তা‘আলা) তাদের (অর্থাৎ সাহাবীদের) জন্য কালিমায়ে তাক্বওয়া তথা সংযমের দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিলেন। বস্তুতঃ তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। (সূরা ফাত্হ-২৬) ‘কালিমায়ে তাক্বওয়া’ মানে তাওহীদ ও রিসালতের কালিমা। সাহাবায়ে কেরাম এই কালিমার অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত আখ্যা দিয়ে সেসব লোকের লাঞ্ছনা প্রকাশ করে দিয়েছেন, যারা তাঁদের প্রতি কুফর ও নিফাকের দোষ আরোপ করে।

أولئك هم المؤمنون حقا ط لهم درجت عند ربهم و مغفرة و رزق كريم

অর্থাৎ, এমন সব লোকই (সাহাবীরা) সত্যিকারের মুমিন (যাদের ভেতর ও বাহির এক রকম এবং মুখ ও অন্তর ঐক্যবদ্ধ)। তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদিগারের নিকট সুউচ্চ মর্যাদা ও মাগফিরাত এবং সম্মানজনক রিয্ক। Ñসূরা আনফাল-৪

عن أبي سعيد الخدريرض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تسبوا أصحابي فلوا أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مد أحدهم و لا نصيفه (بخاري ص ৫১৮ و مسلم ص৩১০)

হ. আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেনÑ তোমরা আমার সাহাবীগণকে গাল-মন্দ করো না। কেননা (তারা এমন শক্তিশালী ঈমান ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী যে,) তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, তবুও তাদের এক মুদ (৩ ছটাক প্রায়) কিংবা অর্ধমুদ (যব খরচ) এর সমান সওয়াবে পৌঁছুতে পারে না। Ñবুখারী-১খ./৫১৮পৃ., হাদীস নং-৩৩৯৭; মুসলিম-২খ./৩১০পৃ., হাদীস নং-৪৬১০; আবুদাউদ-২খ./৬৪০পৃ.; তিরমিযী-২খ./২২৫পৃ.; মিশকাত-৫৫৩পৃঃ

বায্যায সূত্রে মুফতী শফী’ রহ. মাআ’রিফুল ক্বুরআনে উল্লেখ করেছেনÑ হযরত জাবির রা. এর এক হাদীসে রাসূল সা. ইরশাদ করেন- আল্লাহ তা‘আলা সারা জাহান থেকে আমার সাহাবীগণকে পছন্দ করেছেন।

عن جابررض عن النبي قال لا تمس النار مسلما راني أو راى من راني (ترمذي ص২২৫)

হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. ইরশাদ করেন, জাহান্নামের আগুন সে মুসলমানকে স্পর্ষ করতে পারে না, যে আমাকে দেখেছে (অর্থাৎ আমার সাহাবীরা) কিংবা আমাকে যারা দেখেছে তাদেরকে দেখেছে (অর্থাৎ তাবেয়ীরা)।

Ñতিরমিযী-২খ./২২৫পৃ., হাদীস নং-৩৮০১; মিশকাত-৫৯১পৃ.

عن عبد الله بن مغفلرض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ………من آذاهم فقد آذاني و من آذاني فقد آذى الله و من آذى الله فيوشك أن يأخذه (ترمذي ص২২৫)

হ. আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেনÑ…… যে আমার সাহাবীদেরকে কষ্ট দিল সে যেন আমাকে কষ্ট দিল; যে আমাকে কষ্ট দিল সে যেন আল্লাহকে কষ্ট দিল; যে আল্লাহকে কষ্ট দিল অচিরেই আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন। -তিরমিযী-২খ./২২৫পৃ.; হাদীস নং-৩৭৯৭; মুসনাদে আহ্মদ- হাদীস নং-১৯৬৬৯ও১৯৬৪১;মিশকাত-৫৫৪পৃঃ

ঈমান যাচায়ের কষ্টিপাথর সাহাবায়ে কেরাম।

সাহাবায়ে কেরাম প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা. এর সংস্রব ও সাহচর্যের মাধ্যমে বিশ্বজনীন খ্যাতনামা ও মানবতাবোধসম্পন্ন উন্নত জাতিতে পরিণত হলেন। শুধু তাই নয়; বরং বিশ্বমানবতার জন্য চির অনুসরণযোগ্য এবং উম্মতের ঈমান-আমলের সত্যতা ও শুদ্ধাশুদ্ধি যাচায়ের জন্য মাপকাঠির সনদ লাভ করেছেন মহান আল্লাহর প থেকে।

আল্লাহর বাষায় : সাহাবায়ে কেরামের ঈমানকে অন্যদের ঈমান যাচায়ের কষ্টিপাথর সাব্যস্ত করে আল্লাহ তা‘আলা তাঁদেরকে সম্বোধন করে ইরশাদ করেন,

فإن امنوا بمثل ما امنتم به فقد اهتدوا و إن تولوا فإنما هم في شقاق

অর্থাৎ, যদি তারা ঈমান আনে, যেরূপ তোমরা ঈমান এনেছ, তবে তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে। আর যদি তারা (এত্থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা হঠকারিতায় রয়েছে। Ñসূরা বাক্বারা-১৩৭

এই আয়াতে সাহাবীদের ঈমানকে আদর্শ ঈমানের মাপকাঠি সাব্যস্ত করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মহান আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ও স্বীকৃত ঈমান সেরকম ঈমান, যা রাসূলের সাহাবীগণ অবলম্বন করেছেন। যে ঈমান ও বিশ্বাস এত্থেকে চুল পরিমাণও ভিন্ন, তা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।

অপর আয়াতে মুনাফিকদের হঠকারিতার বিষয় উল্লেখ করে ইরশাদ করেন,

و إذا قيل لهم امنوا كما امن الناس قالوا أنؤمن كما امن السفهاء ألا إنهم هم السفهاء و لكن لا يعلمون

অর্থাৎ, যখন তাদেরকে বলা হয়, মানুষরা অর্থাৎ সাহাবীরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন। তখন তারা বলে আমরাও কি বোকাদের মতো ঈমান আনব? মনে রেখো প্রকৃতপে তারাই বোকা; কিন্তু তারা তা বোঝে না।Ñসূরা বাক্বারা-১৩

এই আয়াতেও একই কথা বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলার দরবারে সাহাবীগণের ঈমানই গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ যে বিষয়ে তাঁরা যেভাবে ঈমান এনেছিলেন অনুরূপ ঈমান যদি অন্যরা আনে, তবেই তাকে ঈমান বলা হয়; অন্যথায় তাকে ঈমান বলা চলে না। এতে বোঝা গেল যে, সাহাবীগণের ঈমানই ঈমানের কষ্টিপাথর, যার নিরিখে ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট সকল উম্মতের ঈমান পরীা করা হয়। এ কষ্টিপাথরের পরীায় যে ঈমান সঠিক বলে প্রমাণিত না হয়, তাকে ঈমান বলা যায় না এবং অনুরূপ ঈমানদারকে মুমিন বলা চলে না। এর বিপরীতে যত ভালো কাজ বা কথা হোক না কেন, আর তা যত নেক নিয়তেই হোক না কেন, আল্লাহর নিকট তা ঈমানরূপে স্বীকৃতি পায় না; বরং তা মুর্খতা ও বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়।

রাসূলের ভাষায় : রাসূলুল্লাহ সা.ও পরবর্তী উম্মতদেরকে সাহাবীদের অনুকরণ ও অনুসরণ করে নিজেদের জীবনকে হেদায়াতের আলোতে আলোকিত করার জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন। এমর্মে বহু হাদীস রয়েছে। তম্মধ্যে এখানে একটি হাদীস উল্লেখ করা হল।

عن عمر بن الخطابرض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابي كالنجوم فبأيهم اقتديتم اهتديتم –

رزين (مشكاة ৫৫৪)

হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, আমার সাহাবীরা আকাশের তারকাতুল্য। তোমরা তাদের যে কোনো একজনের অনুসরণ করবে, হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে।Ñরাযীন,মিশকাত-৫৫৪ পৃঃ

বিশিষ্ট সাহাবী হ.আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রা.-এর ভাষায় :

عن عبد الله بن مسعودرض قال من كان مستنا فليستن بمن قد مات ……. واتبعوهم على أثرهم وتمسكوا بما استطعتم من أخلاقهم وسيرهم فإنهم كانوا على الهدى المستقيم- رزين (مشكواة ৩২১)

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রা. উম্মতে মুহাম্মদীকে উদ্দেশ্য করে বলেন (যার মর্মার্থ এমন) যে, তোমরা যদি হেদায়াতের পথ চাও, সফলতা অর্জনে আগ্রহী হও, মহান আল্লাহর পরিচয় ও রাসূল সা.- এর প্রেম-ভালোবাসার উচ্চ শিখরে পৌঁছুতে আবেগমান হও, তবে তোমরা পূণ্যাত্মা সাহাবায়ে কেরামের পথ ধরে চল। তাঁদের আখলাক ও আদর্শকে নিজেদের জন্য গন্তব্যে পৌঁছার একমাত্র তরিকা স্থির করে নাও। তাঁদের অনুকরণ ও অনুসরণকে নিজেদের জন্য চূড়ান্ত সফলতার মাধ্যম মনে কর এবং তাঁদের প্রতি অগাধ মায়া-মহব্বত ও গভীর ভক্তি-শ্রদ্ধার বিনিময়ে নিজেদের জীবনের প্রতিটি অংশকে নূরান্বিত করতে সচেষ্ট হও। কেননা তাঁরা সরল-সঠিক পথে ছিলেন। Ñরাযীন, মিশকাত- ৩২ পৃঃ

সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা করলে কিংবা তাঁদেরকে সত্যের মাপকাঠি না মানলে সমস্যা কী?

সত্যিকারের আহ্লে সুন্নাত ওয়াল্ জামাতপন্থীদের জন্য অনেক সমস্যা; যদিও পরিপন্থীদের জন্য কোনো সমস্যা নেই। এখানে কয়েকটি সমস্যার কথা উল্লেখ করা হল।

১. কুরআনের উপর অনাস্থা ঃ একথা চিরসত্য যে, সরাসরি রাসূল সা. এর পবিত্র যুবান থেকে কুরআন শরীফের এক একটি আয়াত সহী-শুদ্ধভাবে শিখেছেন এবং তা সংরণ করতঃ পরবর্তী উম্মত পর্যন্ত নিখুঁতভাবে পৌঁছে দিয়েছেন যাঁরা, তাঁরা হলেন রাসূল সা. এর আস্থাভাজন সাহাবায়ে কেরাম। সাহাবীগণ যখনই কোনো আয়াত রাসূলের যুবানে শোনতেন, তাৎণিক তা লিখে নিতেন বা মুখস্থ করে নিতেন। আবার বিশেষভাবে কয়েকজন সাহাবী রাসূল সা. এর প থেকে ওহী লিখার দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে হযরত মু‘আবিয়া রা. বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাসূল সা. ইহজগৎ ত্যাগ করার পর হযরত উমর রা.- এর পরামর্শক্রমে মুসলিমজাহানের প্রথম খলীফা হ. আবুবকর রা.- এর তত্ত্বাবধানে কুরআনের বিপ্তি আয়াতকে সংকলন করতঃ পর্যায়ক্রমে তাকে এডিশনে রূপায়ণের কাজও আঞ্জাম দিয়েছেন নবীজীর সৌভাগ্যবান সাহাবীরা। তাঁদের মধ্যে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত রা. বিশেষভাবে উলেখযোগ্য। এরপর দুরদর্শী সাহাবী হযরত হুযায়ফা রা. এর পরামর্শক্রমে হযরত উসমান রা. ২৫হিজরী সনে পঞ্চাশ হাজার সাহাবীর বিশাল সম্মেলন ডেকে সকলের সম্মতিক্রমে কুরাইশী ভাষায় কুরআনের নতুন এডিশন তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেজন্যে তিনি চার সদস্যবিশিষ্ট পরিষদ তথা হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত রা., আব্দুলাহ ইবনে যুবায়র রা., সাঈদ ইবনে ‘আস রা. ও আব্দুলাহ ইবনে হারিস রা.কে দায়িত্ব দেন। তাঁরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত সততা, দতা ও নিষ্ঠার সাথে নিখুঁতভাবে এই মহতী কাজের আঞ্জাম দেন। তৈরী হয় ক্বুরআনের নতুন এডিশন, যার অবিকল অনুুলিপি আজ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের হাতে রয়েছে।

-মিশকাত-১৯৩পৃ.; মিরক্বাত-৫খ./২৮পৃ.; মাও. নূর মুহাম্মদ ‘আজমী রহ. অনুদিত ‘মিশকাত শরীফ’-৫খ./৪১পৃ.

নবীজীর সাহাবীগণ যদি অকান্ত পরিশ্রম ও অপূর্ব সাধনার বিনিময়ে কুরআনের সংরণ ও সংকলনের কাজ আঞ্জাম না দিতেন, তাহলে পরবর্তী উম্মত চিরদিনের জন্য কুরআনের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত থেকে যেত। অতএব যাঁদের মাধ্যমে আমরা কুরআন পেয়েছি, তাঁদেরকে সত্যের মাপকাঠি না মানা; তাঁদেরকে সমালোচনার উর্ধ্বে মনে না করা; এক কথায় তাঁদের প্রতি অনাস্থাভাব পোষণ করা এবং তাঁদেরকে কোনো না কোনোভাবে কদর্য করাÑ পরোভাবে কুরআনকে কদর্য করা এবং কুরআনের প্রতি অনাস্থাভাব পোষণ করা। যেহেতু বর্ণনার উপর নির্ভরতা বর্ণনাকারীর উপর নির্ভর করে। বর্ণনাকারী গ্রহণযোগ্য হলে, তার বর্ণিত বিষয় গ্রহণযোগ্য; আর বর্ণনাকারী অনির্ভরযোগ্য হলে, তার বর্ণিত বিষয় অনির্ভরযোগ্য; বর্ণনাকারী বিতর্কিত সমালোচিত হলে, তার বর্ণিত বিষয় বিতর্কিত সমালোচিত হয়ে যায়Ñ এটাইতো সর্বজন স্বীকৃত কথা।

২. হাদীস শরীফের উপর অনাস্থা ঃ কুরআনের সংরণ করেছেন যেমন সাহাবায়ে কেরাম, নবীজীর হাদীসভাণ্ডারের সংরণও করেছেন তাঁরা। তাঁদের থেকেই পর্যায়ক্রমে তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। অতএব সাহাবীগণকে যদি সমালোচনার পাত্র বানানো হয়, তবে তাঁদের সংরতি হাদীসভাণ্ডারও নির্ভরযোগ্য থাকে না। তাহলে দ্বীন-শরীয়ত বলতে আর কী থাকে?

৩. রাসূলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা ঃ বহু হাদীসে রাসূল সা. সাহাবীদের সমালোচনা করতে এবং তাঁদেরকে তুচ্ছ নজরে দেখতে নিষেধ করেছেন। এমর্মে এখানে একটি হাদীস উল্লেখ করা হল,

عن عبد الله بن مغفلرض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الله الله في أصحابي لا تتخذوهم غرضا من بعدي الخ

হ. আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেনÑ আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহকে ভয় কর। তাদেরকে (সমালোচনার) ল্যবস্তু স্থির করো না।

তিরমিযী-২খ./২২৫পৃ.; হাদীস নং-৩৭৯৭; মুসনাদে আহ্মদ- হাদীস নং-১৯৬৬৯ ও ১৯৬৪১;মিশকাত-৫৫৪পৃঃ

এই হাদীসের আলোকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সাহাবীদের সমালোচনা করলে, নিশ্চিত রাসূল সা. এর নিষেধাজ্ঞা অমান্য হয়।

৪. রাসূলের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ ঃ সাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলে, তা স্বয়ং নবীজীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণের নামান্তর। নিম্নবর্ণিত হাদীসাংশ তা-ই বলে।

عن عبد الله بن مغفلرض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ………. فمن أحبهم فحبي أحبهم و من أبغضهم فبغضي أبغضهم (مشكاة ৫৫৪)

হ. আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, ………..যারা (আমার) সাহাবাকে ভালোবাসল, তারা আমার ভালোবাসায় তাদেরকে ভালোবাসল এবং যারা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, তারা আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল।

-তিরমিযী-২খ./২২৫পৃ.; হাদীস নং-৩৭৯৭; মুসনাদে আহ্মদ- হাদীস নং-১৯৬৬৯ ও ১৯৬৪১;মিশকাত-৫৫৪পৃঃ

৫. সাহাবীদেরকে কদর্য করা রাসূল সা.কে কদর্য করার নামান্তর ঃ সাহাবায়ে কেরামের সম্পূর্ণ শিা ও শিষ্টাচার রাসূল সা. থেকে অর্জিত। তাঁদের নম্রতা-ভদ্রতা ও ঈমানী-আমলী ত্যাজদীপ্ততা রাসূল সা. এর মহত্বের প্রতিনিধিত্ব করে। যেমন বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে চন্দ্র, সূর্য থেকে আলো গ্রহণ করতঃ সূর্যের ঔজ্জ্বল্যের প্রতিনিধিত্ব করে। এমর্মে কবি যথার্থ বলেছেন,

অর্থাৎ, যেই চাঁদ (রাসূল সা.) বত্হা তথা মক্কা নগরির দিগন্তজুড়ে আভা ছড়িয়ে উদ্ভাসিত হল, সেই চাঁদের উজ্জ্বল নত্র হলেন সাহাবায়ে কেরাম।

অতএব, সাহাবায়ে কেরামের জীবনকে কলুষযুক্ত করে দেখা, স্বয়ং রাসূলের জীবনকে কলুষযুক্ত করে দেখার নামান্তর।

৬. সুন্নতের বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া ঃ এটা স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, বিদ্যুতের পাওয়ার হাউজ থেকে স্বচ্ছ বিদ্যুৎ লাভ করার জন্য নিখুঁত তারের মাধ্যম গ্রহণ করা আবশ্যক। তবেই বিদ্যুৎ দ্বারা উপকৃত হওয়ার আশা করা যায়। পান্তরে ত্র“টিযুক্ত তারের মাধ্যম গ্রহণ করলে উপকৃত হওয়ার বিপরীতে বিপদ অবশ্যম্ভাবী। ঠিক তেমনিভাবে যারা রাসূলে করীম সা. এর স্বচ্ছ সোনালী আদর্শের পাওয়ার হাউজ থেকে আলো গ্রহণ করতঃ নিজেদের জীবনকে আলোকিত করতে চায়, তবে তারা অবশ্যই সাহাবায়ে কেরামকে মাপকাঠি মেনে তাঁদেরকে নিখুঁত মাধ্যমরূপে গ্রহণ করা আবশ্যক। পান্তরে যারা এই নিখুঁত মাধ্যমকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো ত্র“টিযুক্ত মাধ্যম গ্রহণ করবে, তারা নিশ্চয় সুন্নতে রাসূলের বরকত থেকে আজীবন বঞ্চিতই থাকবে। ইহকাল ও পরকালে তাদের বিপদ অবশ্যম্ভাবী।

৭. আল্লাহর লা’নতের পাত্র হওয়া ঃ যারা সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা করে, তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ পতিত হয়। নিম্নবর্ণিত হাদীস একথার সাী।

عن عبد الله بن عمررض قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا رأيتم الذين يسبون أصحابي فقولوا لعنة الله على شركم (ترمذي ص২২৫)

হ. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেনÑ যখন তোমরা ওইসব ব্যক্তিকে দেখবে, যারা আমার সাহাবাকে গাল-মন্দ করে, তখন তোমরা বলে দাও, তোমাদের এই মন্দ আচরণের কারণে তোমাদের উপর আল্লাহর লা’নত।

Ñতিরমিযী-২খ./২২৫পৃ.; মিশকাত-৫৫৪পৃ.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s