সন্মিলিত মুনাজাত এর শরয়ী বিধান

সন্মিলিত মুনাজাত এর শরয়ী বিধান

মুনাজাতের স্বপক্ষে কুরআন ও হাদীসের দলীলসমূহ:

কুরআনে কারীমের বিভিন্ন আয়াতে বলা হয়েছে যে নবী কারীম (সঃ) কুরআনের হুকুম আহকামের ব্যাখ্যা ও বাস্তব নমুনা উম্মতের সামনে পেশ করবেন, এটা তার নবুওয়াতের দায়িত্ব। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ

وَاَنْزَلْنَا اِلَیْک الذِّکْرَ لِتُبَیِّنَ لِلنَّاسِ مَانُزِّلَ اِلَیْہِمْ وَلَعَلَّہُمْ یَتَفَکَّرُوْنَ

আর আমি আপনার উপর কুরআন অবতির্ণ করেছি যাতে আপনি লোকদের সামনে তাদের উপর নাযিলকৃত বিষয়গুলোকে স্পষ্ট বর্ণনা করেন এবং তারা চিন্তা-ভাবনা করে।

এই আয়াতের আলোকে এখন আমাদের দেখতে হবে যে, কুরআনে কারীমের উক্ত আয়াতের উপর তিনি নিজে কিভাবে আমল করেছেন এবং হাদীস শরীফের মধ্যে উম্মতকে কিভাবে আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

নামাযের পর মুনাজাত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ:

(عن الضحاک فإذا فرغت قال من الصلاۃ المکتوبۃ، وإلی ربک فارغب، قال في المسئلۃ والدعاء۰ (الدر المنثور : ۶/۳۶۵

১। হযরত যাহ্‌হাক (রাঃ) সূরা ইনশিরাহ তথা আলাম নাশরাহ এর উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, যখন তুমি ফরজ নামায থেকে ফারেগ হবে তখন আল্লাহর দরবারে দু’আতে মশগুল হবে। (তাফসীরে দূররে মানছূর ঃ ৬/৩৬৫)

(إذا فرغت من الصلاۃ المکتوبۃ فانصب في الدعاء۰ (تفسیر ابن عباس : ۵۱۴

২। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি উক্ত আয়াতের তাফসীরে বলেন, “যখন তুমি ফরজ নামায হতে ফারেগ হও, তখন দু’আয় মশগুল হয়ে যাবে।” (তাফসীরে ইবনে আব্বাস (রাঃ), ৫১৪ পৃঃ )

  والدعاء، وار غب إلیہ في المسئلۃ۰

(تفسیر مظہري : ۱/۲۹۴)

৩। হযরত কাতাদাহ, যাহহাক ও কালবী (রাঃ) হতে উক্ত আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত আছে, তাঁরা বলেন-‘ফরজ নামায সম্পাদন করার পর দু’আয় লিপ্ত হবে’।

(তাফসীরে মাযহারী, ১০/২৯৪ পৃঃ)

عن ابن عباس عن النبي صلی اللہ علیہ وسلم إن اللہ تعالی قال : یا محمد! إذا صلیت فقل : اللہم إني أسئلک فعل الخیرات وترک المنکرات وحب المساکین۰

(رواہ الترمذي : ۲/۱۵۹ الحدیث ۳۲۴۹)

৪। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাকীদ করে বলেছেন যে, হে মুহাম্মাদ! যখন আপনি নামায থেকে ফারিগ হবেন তখন এ দু’আ করবেন, হে আল্লাহ আমি আপনার নিকট ভাল কাজের তৌফিক কামনা করছি এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে সাহায্য চাচ্ছি এবং আপনার দরবারের মিসকীন অর্থাৎ আল্লাহ ওয়ালাদের মুহাব্বত কামনা করছি….।

(তিরমিযী শরীফ ঃ ২/১৫৯ হাঃ নং ৩২৪৯)

আল্লাহ তা’আলার এ সমস্ত নির্দেশ দ্বারা বুঝা গেল যে, ফরজ নামাযের পর ইমাম ও মুসল্লীদের জন্য দু’আ ও মুনাজাতে মশগুল হওয়া কর্তব্য, চাই তারা সম্মিলিতভাবে করেন বা প্রত্যেকে আলাদাভাবে করেন। তবে একই সময় আলাদাভাবে করলেও তা সম্মিলিত মুনাজাতের রূপ ধারণ করবে, যা অস্বীকার করা যায় না।

নামাযের পর মুনাজাত সম্পর্কে নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর আমল

عن المغیرۃ بن شعبۃ رضي اللہ عنہ کان النبي صلی اللہ علیہ وسلم یدعو في دبر صلاتہ

(التاریخ الکبیر : ۶)

১। হযরত মুগীরা বিন শু’বা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী আলাইহিস সালাম স্বীয় নামাযের শেষে দু’আ করতেন।

(ইমাম বুখারী (রহ) তারীখে কাবীরঃ ৬/৮০)

عن أنس رض کان النبي صلی اللہ علیہ وسلم إذا انصرف من الصلاۃ یقول : اللہم اجعل خیر عمري أخرہ وخیر عملي خاتمہ، وخیر أیامي یوم ألقاک۰

(رواہ الطبراني في الأوسط : ۱/۱۸۷الحدیث ۹۴۱۱)

২। হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম যখন নামায থেকে ফারেগ হতেন তখন এ দু’আ করতেন। হে আল্লাহ! আমার জীবনের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর কর শেষ জীবনকে এবং আমার আমলের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কর শেষ আমলকে এবং আমার দিন সমূহের মধ্যে সবচেয়ে মনোরম কর তোমার সাথে সাক্ষাতের দিনকে।

(তাবারানী আউসাতঃ ১০/১৮৭ হাঃ নং ৯৪১১)

بہن دبر کل صلاۃ۰

(رواہ النساءي : ۱۵۱ الحدیث ۵۴۶۵)

৩। হযরত আবু বকরা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক নামাযের পর এ দু’আ করতেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফর, অভাব অনটন এবং দোযখের আযাব থেকে মুক্তি চাই।”

(নাসাঈ শরীফ ঃ ১/১৫১ হাঃ নং ৫৪৬৫)

عن زید بن أرقم سمعت رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم یدعو في دبر کل صلاۃ اللہم بنا ورب کل شيء۰

(رواہ أبو داود : ۱/۲۱۱ الحدیث ۱۵۰۸)

৪। হযরত যায়েদ বিন আরকাম (রাঃ) বলেন যে, নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম কে প্রত্যেক নামাযের পর এ দু’আ করতে শুনতাম, হে আল্লাহ যিনি আমাদের প্রতিপালক এবং প্রত্যেক জিনিসের প্রতিপালক।

(আবু দাউদ ঃ ১/২১১ হাঃ নং ১৫০৮)

 حدثنا محمد بن یحي الأسلمي قال : رأیت عبد اللہ بن الزبیر ورأي رجلا رافعا یدیہ یدعو قبل أن یفرغ من صلاتہفلما فرغ منہ۰ قال لہ إن رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم لم یکن یرفع یدیہ حتی یفرغ من صلاتہ

৫। হযরত মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন, ‘আমি আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর (রাঃ) কে দেখেছি যে, তিনি এক ব্যক্তিকে সালাম ফিরানোর পূর্বে হাত তুলে মুনাজাত করতে দেখে তার নামায শেষ হওয়ার পর তাকে ডেকে বললেন, ‘রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম কেবল নামায শেষ করার পরই হস্তদ্বয় উত্তোলন করে মুনাজাত করতেন; আগে নয়।’

(ই’লাউস সুনান, ৩/১৬১)

عن السائب بن یزید عن أبیہ أن النبي صلی اللہ علہ وسلم کان إدا دعا فرفع یدیہ مسح وجہہ بیدیہ۰

(رواہ أبو داود : ۱/۲۰۹الحدیث ۱۴۹۲)

৬। হযরত সায়িব বিন য়াযীদ (রাঃ) স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম যখন দু’আ করতেন তখন উভয় হাত উঠাতেন এবং দু’আ শেষে হস্তদ্বয়কে চেহারায় মুছতেন।

(আবু দাউদ শরীফ ১/২০৯ হাঃ নং ১৪৯২)

 عن أبي موسی الأشعري أنہ قال : دعا النبي صلی اللہ علیہ وسلم ثم رفع یدیہ ورأیت بیاض إبطیہ۰

(رواہ البخاري : ۲/۹۳۸ الحدیث)

৭। হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আর জন্য উভয় হাত উত্তোলন করেন। যদ্দরুন আমি তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখতে পাই।

(বুখারী শরীফ ২/৯৩৮ হাঃ নং ৬৩৪১)

عن عمر بن الخطاب کان رسول اللہ صلی اللہ علہ وسلم إذا رفع یدیہ في الدعاء لم یحطہما حتی یمسح بہما وجہہ۰

(رواہ البخاري : ۲/۱۷۶ الحدیث ۶۳۴۱)

৮। হযরত উমর ফারুক (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম দু’আর জন্য যখন হাত তুলতেন তখন চেহারায় মুছার পূর্বে হাত নামাতেন না।

(বুখারী শরীফ ২/১৭৬ হাঃ নং ৬৩৪১)

এ সকল হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হল যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক নামাযের পর মুনাজাত করতেন, চাই ফরজ হোক বা নফল এবং মুনাজাত করার সময় দু’আর আদব হিসাবে উভয় হাত তুলতেন এবং শেষে উভয় হাত চেহারার মধ্যে মুছতেন। আর নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম যখন এরূপ আমল করতেন তাহলে সাহাবাগণও (রাঃ) এ আমল করতেন। কারণ, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর আমল ও নির্দেশ-এর পরে সাহাবাগণ তার বিরুদ্ধাচারণ করতে পারেন না।

নামাযের পর মুনাজাত সম্পর্কে নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ

عن معاذ بن جبل رض أن النبي صلی اللہ علیہ وسلم قال لہ أوصیک یا معاذ! لا تدعن أن تقول دبر کل صلاۃ، اللہم أعني علی ذکرک وشکرک وحسن عباد تک۰

(رواہ النساءي : ۱/۱۴۶، وأبو داود : ۱/۲۱۳ الحدیث ۱۵۲۲)

১। হযরত মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, হে মু’আয! আমি তোমাকে ওসীয়াত করছি যে, প্রত্যেক নামাযের পর এ দু’আ পড়াকে তুমি কখনো ছাড়বে না-হে আল্লাহ! আমাকে তোমার জিকির, শোকর এবং উত্তম ইবাদত করার জন্য সাহায্য কর।

(নাসাঈ শরীফ ১/১৪৬, আবু দাউদ শরীফ ১/২১৩ হাঃ নং ১৫২২)

عن أنس رض عن النبي صلی اللہ علیہ وسلم قال : قل بعد صلاۃ بعد ما ترفع یدک : اللہم إلہي إلہ إبراہیم۰

(ابن السني في عمل الیوم واللیلۃ : ۶۱ ضعیف ۱۳۸)

২। হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম তাকে নির্দেশ করেন যে, তুমি প্রত্যেক নামাযের পর হাত উঠিয়ে এ দু’আ করবে হে আল্লাহ! যিনি আমার এবং ইবরাহীম (আঃ)-এর মাবূদ। (ইবনুছ ছুন্নী ঃ ৬১)

عن أبي أمامۃ الباہلي قال قیل یا رسول اللہ! أي الدعاء أسمع؟ قال : جوف اللیل الأخر ودبر الصلوات المکتوبۃ۰ رواہ الترمذي : ۱/۰۸۷ وکذا۰

( وابن ماجۃ : ۹۳ الحدیث ۳۴۹۹)

৩। হযরত আবু উমামা বাহেলী (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল যে, কোন দু’আ কবূল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী? ইরশাদ হলো, শেষ রাত্রে (তাহাজ্জুদের পর) এবং ফরজ নামায সমূহের পরে।

(তিরমিযী শরীফ পৃঃ ১/৮৭ হাঃ নং ৩৪৯৯)

عن المطلب قال قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم : صلاۃ اللیل مثنی مثنی، وتشہد في کل رکعتین، وتبائس وتمسکن، وتقنع وتقول اللہم اغفر لي فمن لم یفعل ذلک فہو خداج۰

(رواہ ابن ماجۃ : ۹۳، ورواہ أیضا أبو داود : الحدیث ۱۲۹۶)

৪। হযরত মুত্তালিব (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “রাত্রের নামাযে দু-দু রাকাআতের পর বসবে, এবং প্রত্যেক দু রাকাআতের পর তাশাহহুদ পড়বে এবং নামাযের মধ্যে নিজের নিঃস্বতা এবং বিনয়ীভাব প্রকাশ করবে। তারপর নামায শেষে দু হাত উঠাবে এবং দু’আ করবে, হে আল্লাহ! আমাকে মাফ করে দাও। যে ব্যক্তি এরূপ করবে না, তার নামায অসম্পন্ন থাকবে। (আবু দাউদ শরীফ ঃ ১/১৮৩, ইবনে মাজা শরীফ পৃঃ ৯৩ হাঃ নং ১২৯৬)

عن فضل بن عباس قال قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم الصلاۃ مثنی مثنی تشہد في کل رکعتین وتخشع وتضرع وتمسکن وتقنع یدیک یقول ترفعہما إلی ربک مستقبلا بطونہما وجہک وتقول : یارب! یا رب! فمن لم یفعل ذلک فہو کذا

(رواہ الترمدی الحدیث ۳۷۵)

৫। হযরত ফযল ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘নামায দুই দুই রাক’আত; প্রত্যেক দুই রাক’আতে আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করতে হয়। ভয়-ভক্তি সহকারে কাতরতার সহিত বিনত হয়ে নামায আদায় করতে হয়। আর (নামায শেষে) দু’হাত তুলবে এভাবে যে, উভয় হাত প্রভু পানে উঠিয়ে চেহারা কিবলামুখী করবে। অতঃপর বলবে-প্রভু হে! প্রভু হে! যে ব্যক্তি এরূপ করবে না, সে অসম্পূর্ণ নামাযী। (তাঁর নামায অঙ্গহীন সাব্যস্থ হবে)।

(তিরমিযী শরীফ ঃ ১৮৭ হাঃ নং ৩৮৫)

عن عبد اللہ بن عباس رض قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم إذا فرغت من الدعاء فامسح بیدیک وجہک۰

(رواہ ابن ماجۃ : ۲۷۵، وأبو داود : ۱/۲۰۹ الحدیث ۱۴۹۲)

৬। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত নবী সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, দু’আ করার তরীকা হল যে তুমি উভয় হাত কাঁধ বরাবর তুলবে।(আবু দাউদ শরীফ ঃ ১/২০৯ )

عن ابن عباس أن رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم قال : المسئلۃ أن ترفع یدیک حذو منکبیک۰

(رواہ أبو داود : ۱/۲۰۹ الحدیث ۱۴۸۹ صیحح)

৭। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, যখন তুমি দু’আ শেষ করবে তখন উভয় হাতকে চেহারার মধ্যে মুছবে।

(ইবনে মাজা ঃ ২৭৫ হাঃ নং ১৪৮৯)

عن سلمان رض قال قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم : ما رفع قوم أکفہم إلی اللہ تعالی یسألونہ شیئا إلا کان حقا علی اللہ أن یضع فی أیدیہم الذي سألوا۰

(رواہ الطبر انی في الکبیر : ۶/۲۵۴ الحدیث ۶۱۴۲)

৮। হযরত সালমান (রাঃ) বলেন, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন জামাআত কিছু প্রার্থনা করার জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুললে আল্লাহ তাআলার উপর ওয়াজিব হয়ে যায় তাদের প্রার্থিত বস্তু তাদের হাতে তুলে দেয়া।

(তাবারানী কাবীর ঃ ৬/২৫৪ হাঃ নং ৬১৪২)

عن سلمان رض قال قال رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم : إن ربکم حي کریم یستحي أن یرفع العبد یدیہ فیردہما صفرا۰

(رواہ أبو داؤد عن سلمان ۱/۷۰۹ برقم ۱۴۸۸)

৯। হযরত আলী ইবনে আবী তালিব থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভূ অত্যন্ত লাজুক, এবং দয়ালু। কোন বান্দা তার হাত দুটি উঠিয়ে মুনাজাত করলে তার হাত খালি অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন। (আবু দাউদ হাঃ নং ১৪৮৮)

ما من عبد مؤمن بسط کفیہ في دبر کل صلاۃ ثم بقول : اللہم إلہي ۰۰۰

(ابن السنی فی عمل الیوم ۱۳۸)

১০। হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম বলেন, যে বান্দা প্রত্যেক নামাযের পর দু’হাত তুলে এ দু’আ পড়বে- “আল্লাহুম্মা ইলাহী ……… “আল্লাহু তা’আলা নিজের উপর নির্ধারিত করে নিবেন যে, তার হস্তদ্বয়কে বঞ্চিত ফেরত দিবেন না।

(ইবনুস সুন্নী হাঃ নং ১৩৮)

عن حبیب ابن مسلمۃ ۔۔۔ قال سمعت رسول اللہ صلی اللہ علیہ وسلم یقول : لا یجتمع ملأفیدعو بعضہم ویؤمن البعض إلا أجابہم اللہ ۔۔۔

(رواہ الحاکم فی مستدرکہ : ۳/۳۴۷ الحدیث ۵۴۷۸)

১১। হযরত হাবীব ইবনে মাসলামা (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন “যদি কিছু সংখ্যক লোক একত্রিত হয়ে এভাবে দু’আ করে যে, তাদের একজন দু’আ করতে থাকে, আর অপররা ‘আমীন’ ‘আমীন’ বলতে থাকে, তবে আল্লাহ তা’আলা তাদের দু’আ অবশ্যই কবুল করে থাকেন।’

(তালখীসুয যাহাবী, ৩ঃ৩৪৭ পৃঃ, মুস্তাদ্‌রাকে হাকেম ঃ হাঃ নং ৫৪৭৮)

عن ثوبان عن النبی صلی اللہ علیہ وسلم لا یحل لامرإ أن ینظر فی جوف بیت امرء حتی یستأذن، فإن نظر فقد دخل ولا یؤم قوما فیخص نفسہ بدعوۃ دونہم فإن فعل فقد خانہم ولا یقوم إلی الصلاۃ وہو حقن

(رواہ الترمذي : ۱/۸۲ الحدیث ۳۵۷)

১২। হযরত ছাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলে খোদা সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কোন ব্যক্তি লোকদের ইমাম হয়ে এমন হবে না যে, সে তাদেরকে বাদ দিয়ে দু’আতে কেবল নিজেকেই নির্দিষ্ট করে। যদি এরূপ করে, তবে সে তাদের সহিত বিশ্বাসঘাতকতা করল।”

(তিরমিযী শরীফ ঃ ১ঃ৮২ হাঃ নং ৩৫৭)

এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, ইমাম সাহেব সকল মুসল্লীদের সঙ্গে নিয়ে সকলের জন্য দু’আ করবেন। নতুবা তিনি খিয়ানতকারী হবেন।

উল্লেখিত হাদীসসমূহ দ্বারা বুঝা যায়ঃ

(ক) ফরজ নামাযের পর দু’আ কবুল হওয়ার বেশী সম্ভাবনা। তাই ফরজ নামাযের পর সকলের জন্য দু’আয় মশগুল হওয়া বাঞ্ছণীয়।

(খ) নামাযের পর হাত তুলে দু’আ করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নামাযের পর দু’আয় হাত উঠাতেন এবং মুনাজাত শেষে উভয় হাত চেহারার মধ্যে মুছতেন এবং অন্যদেরকে এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। সুতরাং এটাই দু’আর আদব। আর এ কথা তো হতেই পারে না যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম নামাযের পর হাত তুলতেন কিন্তু সাহাবা (রাঃ) গণ নবী কারীম সল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম-এর বিরোধিতা করে হাত তুলতেন না।

(গ) একজন দু’আ করবে; আর অন্যরা সবাই আমীন বলবে; এভাবে সকলের দু’আ বা ‘সম্মিলিত মুনাজাত’ কবুল হওয়া অবশ্যম্ভাবী। আর ইমাম সাহেব শুধু নিজের জন্য দু’আ করবেন না। দু’আতে মুসল্লীদেরকে শামিল করবেন। নতুবা তিনি খিয়ানতকারী সাব্যস্ত হবেন।

(ঘ) উল্লেখিত হাদীস সমূহের সমষ্টিগত বর্ণনা দ্বারা নামাযের পর একাকী মুনাজাতের পাশাপাশি ফরজ নামাযের পর ইমাম-মুক্তাদী সকলের সম্মিলিত মুনাজাতের প্রমাণ দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। অতএব, তা মুস্তাহাব হওয়াই হাদীস সমূহের মর্ম ও সমষ্টিগত সার কথা।

(বিস্তারিত জানার জন্য দেখুনঃ কিফায়াতুল মুফতী, ৩:৩০০ পৃঃ, ইলাউস সুনান ৩:১৬১ পৃঃ/ইমদাদুল ফাতাওয়া ১:৭৯৬)

Advertisements

One thought on “সন্মিলিত মুনাজাত এর শরয়ী বিধান

  1. mmnoman kasem says:

    আলহামদুল্লিহ খুব ভাল লাগলো, আরো লেখার জন্য অনুরোধ রইলো। এসকল বিষয়ে সকলের জানা দরকার তাই বেশি করে লেখার জন্য আবেদন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s