মহিলাদের ইমামতিতে তারা এত উৎসাহী কেন?

মহিলাদের ইমামতিতে তারা এত উৎসাহী কেন?

তথাকথিত আহলে হাদীস আর জাকের নায়েক গং ইসলামের একএকটি বিধানকে বিকৃত করে পুরো মুসলিম উম্মাহের মধ্যে যে ফাটল সৃষ্টি করছে তা কোনো ইহুদী খৃষ্টানদের দ্বারাও সম্ভব হয় নি। একটি বিষয় ইহুদী খৃষ্টান জগত বহু পূর্ব থেকেই কামনা করছিল, তা হলো মুসলমানদের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব তাদের মহিলাদের হাতে কি ভাবে তুলে দেওয়া যায়। তখনই হয়ত মুসলমনদের মধ্যে কিছুটা হলেও অধপতন নেমে আসবে। সে কারণে মুসলিম বিশ্বে মহিলা নেতৃত্ব হালাল করার জন্য বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট, এবং বিভিন্ন উচ্চ পদে মহিলাদেরকে স্থান করে দিয়েছে তারা।নারী স্বাধীনতার নামে তাবৎ দুনিয়ায় বহুবিদ কাণ্ড ঘেটিয়েছে যা সকলের জানা। দুনিয়াবী বিভিন্ন বিষয়ে মহিলাদের নেতৃত্ব তারা সৃষ্টি করতে পারলেও ধর্মীয় কাজে মুহিলাদের নেতৃত্ব ততটা সৃষ্টি করতে পারছিলনা ইহুদী খৃষ্টান জগত। সম্প্রতি কিছু মহলের হঠকারী ফতওয়া ও শরীয়ত বিকৃতির আশ্রয়ে ধর্মীয় কার্যাদিতেও মহিলাদের নেতৃত্ব সৃষ্টি করে ইহুদী খৃস্টানরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সফল হচ্ছে। ইসলামে মহিলাদের ইমামতি হারাম। এটির উপর পুরো মুসলিম উম্মহ একমত। সম্প্রতি তথাকথিত আহলে হাদীস ও জাকের নায়েকগণের বিভিন্ন হঠকারী ও ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক উক্তির কারণে মুসলমানদের মধ্যে সেরূপ হারাম কাজকে হালাল করার জন্য অনেক মুসলমান উঠে পড়ে লেগেছে।

ইদানিং পশ্চিমা ইউরোপীয় রাস্ট্রগুলোতে কিছু নামধারী মুসলমান তথা আহলে হাদীসরা পরিকল্পিতভাবে পুরুষদের নামাযে মহিলাদের ইমমতি জায়েয করার এবং সে বাস্তবতা চতুর্দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যাতে করে সকল মুসলিম দেশে সেরূপ একটা প্রথা চালু হয়ে যায়। আবার মহিলাদের ইমামতি সম্পর্কে আহলে হাদীসরা বাড়াবাড়িও করে থাকে অনেক। নিচে মহিলাদের ইমমতি সম্পর্কে বাড়াবাড়ি ও তার উত্তর দেওয়া হয়েছে।

মহিলাদের ইমামতি করার ব্যাপারে আহলে হাদীসরা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগেও মহিলা সাহাবীরা নারী-পুরুষ সবার নামাজে ইমামতি করেছেন। তাদের মতে যারা তা মানতে চান না তারা ধর্মান্ধ! তারা যে হাদিসটির রেফারেন্স টানেন তার অনুবাদ এবং ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে। হাদিসটির ব্যাপারে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার একটি লেখা উপস্থাপন করা হলোঃ

** ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম হওয়া স্বত্তেও যদিও কোন কোন মুসলিম দেশে ভোট দিয়ে মুসলমানগণ নারীদেরকে একটি দেশ ও জাতির নেতৃত্বের শীর্ষপদে আসীন করেছেন কিন্ত্ত এটাকে কেউ আজ পর্যন্ত ইসলামাইজ অর্থাত্‎ কুরআন হাদীস দিয়ে নারী নেতৃত্বকে জায়েজ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন বলে খুব একটা শুনা যায়নি৷ অতি সাম্প্রতিক ফিতনা তথা মহিলাদের পুরুষ মহিলা সকলের নামাজের ইমামতি জায়েজ প্রমাণের জন্য ঐ দলের জৈনক লেখক একটি হাদীসের আশ্রয় নিয়েছেন এবং তাঁর সুবিধামত অনুবাদ করে মুসলিম সমাজকে নলেজ দিতে চাচ্ছেন যে, ইসলাম ধর্মে মহিলাদের পুরুষ-মহিলা সকলের নামাজের ইমামতি জায়েজ৷

হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ, ইমাম আবূ দাঊদ এবং ইমাম দারুক্বুত্বনী৷ খুব দূরে না গিয়ে হাদীসটি এই তিন কিতাবে মিলিয়ে দেখে নিলেই উনাদের অপচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য৷

( দেখুন মুসনাদ ইমাম আহমদঃ মুসনাদুল ক্বাবাইলঃ বাবু মা জা-আ ফী ইমামাতিল মারআহ, সুনান আবূ-দাঊদঃকিতাবুস সালাহঃবাবুন ফী জিকরিল জামাআতি ওয়া আহলিহা ওয়া সিফাতিল ইমাম৷)

মূল হাদীসটি পেশ করার আগে লেখকের অনুবাদটি দেখুনঃ

(Evidence for Women Leading Congregational Prayers):

“The Prophet (peace be upon him) commanded Umm Waraqah, a women who had collected the Quran, to lead the people of her area in prayer. She had her own mu’adhdhin (person who performs the call to prayers)

এই অনুবাদের মাধ্যমে প্রমাণ করা হচ্ছে নামাজে এলাকার লোকদের ইমামতি করার জন্য আল্লাহর রাসূল (সাঃ) উম্মে ওয়ারাক্বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে আদেশ করেছিলেন, সুতরাং মহিলাদের জন্য পুরুষ-মহিলা সকলের নামাজের ইমামতি জায়েজ৷

এবার মূল হাদীস ও তার অনুবাদ পেশ করা যাকঃ

عَنْ أُمِّ وَرَقَةَ بِنْتِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ الْأَنْصَارِيِّ وَكَانَتْ قَدْ جَمَعَتِ الْقُرْآنَ وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَمَرَهَا أَنْ تَؤُمَّ أَهْلَ دَارِهَا وَكَانَ لَهَا مُؤَذِّنٌ وَكَانَتْ تَؤُمُّ أَهْلَ دَارِهَا ( حم : مسند القبائل : باب ما جاء في إمامة المرأة ، د : كتاب الصلاة 500)

উম্মে ওয়ারাক্বাহ বিনতে আব্দুল্লাহ ইবনিল হারিছ আল-আনসারী, যিনি ক্বুরআন শরীফ জমা করেছিলেন/কুরআন শরীফ পড়েছিলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরবাসীদের নামাজের ইমামতি করার জন্য উম্মে ওয়ারাক্বাহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তিনি ঘরবাসীদের নামাজের ইমামতি করতেন৷

কেউ মনে করতে পারেন “ঘরবাসী” (আহলে দার) বলতে তো পুরুষ-মহিলা সবাইকেই বুঝায় আর যেহেতু এই বর্ণনায় কাউকে বিশেষিত করা হয় নাই সুতরাং মহিলাদের জন্য পুরুষ-মহিলা সকলের নামাজের ইমামতি জায়েজ৷

আসুন এবার দারুক্বুত্বনীতে বর্ণিত একই হাদীস ও তার অনুবাদ দেখিঃ

عن أم ورقة : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أذن لها أن يؤذن لها ويقام وتؤم نساءها ( دار قطني : كتاب الصلاة : باب في ذكر الجماعة وأهلها وصفة الإمام)

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মর্মে উম্মে ওয়ারাক্বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে অনুমতি দিয়েছিলেন যে, আজান ও ইক্বামত দেয়া হবে এবং তিনি (উম্মে ওয়ারাক্বাহ) মহিলাদের নামাজের ইমামতি করবেন (ওয়া তাউম্মা নিসা-আহা)”

সুতরাং প্রমাণিত হল উম্মে ওয়ারাক্বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে মসজিদ, আর্টগ্যালারী কিংবা কোন চার্চের কনফারেন্স হলের মত কোন জায়গায় পুরুষ-মহিলা সকলের নামাজের ইমামতি করার অনুমতি দেয়া হয় নাই বরং তাঁর নিজ ঘরে মহিলাদের নামাজের ইমামতি করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল৷

সুনান ইবনে মাজাহ শরীফ থেকে দীর্ঘ একটি হাদীসের সংশ্লিষ্ট অংশটি উল্লেখ করে আমার আলোচনা শেষ করতে চাই৷

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ .. .. .. أَلَا لَا تَؤُمَّنَّ امْرَأَةٌ رَجُلًا ( جه : كتاب إقامة الصلاة والسنة فيها : باب في فرض الجمعة )

হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে দেয়া এক খুতবায় এরশাদ করেছেনঃ ……… “আলা লা তাউম্মান্না ইমরাআতুন রাজুলান” খবরদার কোন মহিলা যেন পুরুষের ইমাম না হয়৷ (ইবনে মাজাহঃকিতাব ইক্বামাতিস সালাহঃবাব ফী ফারদ্বিল জুমুআহ)

Advertisements

One thought on “মহিলাদের ইমামতিতে তারা এত উৎসাহী কেন?

  1. নাঈম says:

    এরা যে ধোকাবাজ আর একবার প্রমাণ হল।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s