ফাযায়েলে ‘আমালের উপর অভিযোগাবলীর, নীতিসিদ্ধ এক অনুসন্ধান

ফাযায়েলে ‘আমালের উপর অভিযোগাবলীর, নীতিসিদ্ধ এক অনুসন্ধান

(তথ্যঃ দারুল ‘ঊলূম দেওবন্দের ওয়েব সাইটে দেয়া একটি (উর্দুতে) জবাবের হুবহু বাংলা অনুবাদ, নিচে (মূল লিখার) লিংক দেয়া আছে]

ভূমিকাঃ সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র, এবং স্বলাত ও সালাম বর্ষিত হোক তার রসূল হযরত মু’হাম্মাদ মুস্তফা আহমাদ মুজ্তবা স্বল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর।

শাইখুল ‘হাদীস মাওলানা যাকারিয়্যা কান্দলভী (র’হঃ) এর জগৎ বিখ্যাত এবং সর্বজনগৃহিত কিতাব “মাজমু’আয়ে ফাযায়েলে ‘আমাল” (’আমলের ফযিলত সমষ্টি) পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন রাখেনা।

মূল্যবান নয়টি কিতাবের (১. হকায়াতে সাহাবা ২.ফাযায়েলে নামায ৩.ফাযায়েলে তাবলীগ ৪.ফাযায়েলে যিক্র্ ৫.ফাযায়েলে কুরআন ৬.ফাযায়েলে রমাদ্বান ৭.ফাযায়েলে দরূদ ৮.ফাযয়েলে স্বদাক্বাত ৯.ফাযায়েলে ‘হাজ্জ) এই সমষ্টি মা’রিফাতের জ্ঞানের ভান্ডার ও সংশোধনী শিক্ষার দৃষ্টান্ত।

অন্তরে পবিত্র শারী’আত ও তার নির্দেশাবলীর আজমত তথা সম্মানের প্রভাব বিস্তারের জন্য এরক অনন্য রচনা। দ্বীনে ইসলামের দা’ওয়াতের দায়িত্ব আনজামে সম্পৃক্ত প্রত্যেক শিক্ষিত-অশিক্ষিত ব্যক্তির কাছে একটি উজ্জল আলোকবর্তিকা। যার আলোকে পথের অনুকুল-প্রতিকুল পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে দা’ওয়াতের পথচলা দ্রুততার সাথে অতিক্রম করা যায়।

বিশেষত একজন আলিম ও অনুসন্ধানী ব্যক্তির জন্যে তো এই কিতাবের দ্বারা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির উপর কুরআন ‘হাদীসের নস ও শারী’আত বিজ্ঞানীদের বানী ও সাহাবী তাবে’য়ীদের এক তথ্যপুর্ণ রচনা হাতের নাগালে এসে যাওয়া ছাড়াও কঠিন কঠিন নস বুঝতে অসীম সহায়তা মিলে।

কিতাবের একেকটি শব্দ, একেকটি অক্ষর নিষ্টা ও আন্তরিকতার কি মিষ্ট শিরায় যে চুবানো! যে-ই একবার আস্বাদন করেছে, প্রেমবন্দী প্রেমিক না হয়ে থাকতে পারে নি।

আর এটা বাস্তবতা যে, এই কিতাব লক্ষ মানুষের অন্তরে ঈমানী বিপ্লব ঘটিয়েছে (বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে,)

সাইয়িদ আবুল ’হাসান ‘আলী আন-নদবী (রহঃ) এর ভাষায়ঃ এই কিতাবগুলো (ফাযায়েলে ‘আমাল) দ্বারা যে ঈমানী ও ‘আমলী উপকার সাধিত হয়েছে, এই ব্যাপারে সমসাময়িক একজন ‘আলীমের এই কথা মনে হয় একটুও বাড়িয়ে বলা নয় যে, “এই কিতাবগুলো দ্বারা আল্লাহ্র হাজারো বান্দা ওয়ালায়েতের সীমা পর্যন্ত পৌছে গেছেন।”

(সুত্রঃ- এক আলমী ও বাইনাল্ আক্বওয়ামী কিতাব ফাযায়েলে ‘আমাল)

অবশেষে আরও কিছু বাস্তবতা হল, নয়টি ‘আমলের ফযিলত সম্বলিত এই ফাযায়েল সমষ্টি আজ-

১.পৃথিবীর একত্রিশটি ভাষায় অনুবাদিত হয়েছে।

২.সৌদি আবর, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ইরান, উজবেকিস্তান, বার্মা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইংল্যান্ড, আফ্রিকা, আমেরিকা, কানাডা, তুর্কি, জাপান, যাম্ভিয়া, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, কেনিয়া, পর্তুগাল এর মতো তেইশটি দেশের একশত পঁয়তাল্লিশ জন দার্শনিক ও শারী’আত বিজ্ঞানী ফাযায়েলে ‘আমালের বৈজ্ঞানিক প্রত্যয়পূর্ণ সেবা ও একে অন্নান্য ভাষায় রুপান্তরকরণে কর্ম-মিমঘ্ন আছেন।

৩. শুধুমাত্র পাক-ভারত সীমানার ভিতরে চৌহাত্তরটি প্রকাশনা প্রতিষ্টান নিয়মিত এই কিতাব প্রকাশ করে যাচ্ছে।

৪. এই জন্য না বাড়িয়েই বলা যায় যে, বিভিন্ন ভাষায় এই কিতাবের প্রতিলিপির পরিমান মোট-কটি! গনণার বাহিরে হবে।

“ফাযায়েলে ‘আমাল” সমষ্টির সংকলনঃ-

এই পুর্ণ কিতাবে যা “ফাযায়েলে ‘আমাল” বা “তাবলীগী নেসাব” নামে প্রসিদ্ধ, শাইখুল ‘হ্দীস যাকারিয়্যা (রহঃ) কোন সুশৃংখল পরিকিল্পনার প্রেক্ষিতে সংকলন করেননি। বরং বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও বিষয়বস্তুর উপরে পিড়াপিড়িতে শাইখুল ‘হাদীস (রহঃ) সুবিন্যস্ত করেছিলেন।

আর এটাকে তাবলীগের দায়িত্বশীলরা দাওয়াতী কাজে বের হওয়া বন্ধুদের দ্বীনী শিক্ষা-দীক্ষার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। এজন্যই কিছু প্রকাশক এই ফাযায়েল সমষ্টিকে “তাবলীগী নেসাব” নামে প্রকাশ করে ফেলেছেন।

অনেক দিন পর্যন্ত এই নামে চলতেছিল, পরবর্তীতে সুবিষয় বস্তুর প্রেক্ষিতে “ফাযায়েলে ‘আমাল” নামে মুদ্রিত হতে লাগল।

নয়টি কিতাবের এই সমষ্টির একেকটির সংকলন ও তার প্রতি উদ্ভুদ্যকারী বিষয়াদির সামান্য কিছু নিম্নরুপঃ-

১. ফাযায়েলে কুরআনঃ- ১৩৪৮ হিজরী জিল’হাজ্ব মাসের প্রারম্ভে এটির সংকলন শুরু হয়েছিল। এবং ১৩৪৮ হিঃ ২৯ জিল’হাজ্ব এ তা পূর্ণ হয়।

হযরত মাওলানা রশিদ আহমাদ গাঙ্গূহী (রহঃ) এর একজন খলিফা ছিলেন শাহ ইয়াছিন নাগীনবী (রহঃ)। তার আদেশ এবং ইচ্ছায় এই কিতাবটি সংকলিত হয়েছিল।

২. ফাযায়েলে রমাদ্বানঃ- এই কিতাবটি শাইখুল ‘হাদীস (রাহঃ) উনার চাচা, ঈমানী আন্দোলনে তাবলীগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা শাইখ ইল্য়াছ (রহঃ) এর নির্দেশে ১৩৪৯ হিঃ রমাদ্বান মাসে সংকলন করেন। এবং ২৭ রমাদ্বান কিতাবটি পূর্ণতা লাভ করে।

৩. ফাযায়েলে তাবলীগঃ- এটি উনার আরেক চাচা নূরুল্লাহ্ (রহঃ) এর নির্দেশে লেখা হয়েছিল। এবং ৫সফর সোমবার ১৩৫০হিঃতে পূর্ণ হয়েছিল। এটা লিখতে বেশ কিছুদিন লেগেছিল।

৪.হেকায়াতে সাহাবঃ- ১৩৫৭ হিঃ সফর মাসে মিরঠ নামক স্থানে শাইখুল ’হাদীস (রহঃ) এর নাক দিয়ে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয় এবং প্রায় দুই লোটা রক্ত প্রবাহিত হয়ে যায়। ডাক্তার ও হাকিমরা মস্তিস্কের বিশ্রামের জন্য কয়েক মাস পর্যন্ত সর্বপ্রকার মেধাকার্য সম্পূর্ণ নিষেধ করে দেন।

এদিকে হযরত শাহ আব্দুল কাদির য়ায়পুরী (রহঃ) এর পক্ষ থেকে প্রায় চার বৎসর যাবত “হেকায়াতে সাহাবা” লিখার তাগাদা(প্রস্তাব) ছিল।

শাইখুল ‘হাদীস (রহঃ) বললেন এই অসুস্থতার দিনগুলোকে গনিমাত মনে করে আদেশ পালনার্তে অল্প অল্প লিখতে থাকি, অবশেষে ১৩৫৭ হিজরী ১২ শাওয়াল কিতাবটি পূর্ণ হয়ে গেল।

৫. ফাযায়েলে নামাযঃ- এটাও উনার চাচা নূরুল্লাহ (রহঃ) এর নির্দেশ পালনার্তে লিখা হয়েছিল। এবং ১৩৫৮ হিঃ ৭মুহার্রমে সোমবার রাতে পূর্ণ হয়।

৬. ফাযায়েলে যিক্র্ঃ- এটাও উনার চাচার নির্দেশে লিখা হয়েছিল ।১৬ শাওয়াল ১৩৫৮ হিজরী শুক্রবার রাতে পূর্ণ হয়।

৭. ফাযায়েলে ‘হাজ্জঃ- হযরত মাওলানা মু’হাম্মাদ ইউছুফ (রহঃ) এর প্রচন্ড পিাপিড়ি ও তাগাদায় (প্রস্তাব) এই কিতাবটি সংকলন করেছিলেন। ৩শাওয়াল ১৩৬৬ হিজরীতে এটার শুরু হয়েছিল। এবং ১৪ জুমাদাল ঊলা ৬৭ হিজরী শুক্রবার সমাপ্ত করেছিলেন। আসল কিতাবরে সংকলন মারকাজে নেজামুদ্দীনে থাকাবস্থায়ই হয়েছিল।

কেননা ৪৭ সালের হাঙ্গামার কারণে শাইখুল ‘হাদীস (রহঃ) ৪মাস পর্যন্ত মাসকাজে নেজামুদ্দীনে অবরোধ্য থাকতে হয়েছে।

শাইখ (রহঃ) নিজেই বলেনঃ মুল রচনা তো শাওয়াল মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আরো কিছু ঘটনা সাহরানপুর যাওয়ার পর বর্ধিত করা হয়েছে।

এই রচনাটির গ্রহনওযাগ্যা ও উপকারিত এত বেড়ে গিয়েছিল যে, শাইখ (রহঃ) বলেনঃ হাজারো চিঠি-পত্র এই বিষয়ে পৌঁছেছিল যে, এই রচনা দ্বারা ’হাজ্জ ও জিয়ারতে অনেক স্বাদ অনুভুত হয়েছে।

৮. ফাযায়েলে স্বদাক্বাতঃ শাইখ ইল্য়াছ (রহঃ) এর পক্ষ থেকে আরো দুটি কিতাব লিখার তাগাদা ছিল। প্রথমটি ফাযায়েলে যাকাত, দ্বিতীয়টি ফাযায়েলে তিজারত। এজন্য ফাযায়েলে ‘হাজ্জের সমাপ্তির পর মারকাজে নেজামুদ্দীনেই শাইখ যাকারিয়্যা(রহঃ) ফাযায়েলে স্বদাক্বাত শুরু করেন। যা ২২ সফর ১৩৬৮ হিজরী সনে পূর্ণতা লাভ করে।

৯. ফাযায়েলে দরূদঃ- ফাযায়েলের ধারায় এটি শেষ রচনা। এটি তিনি শাহ ইয়াছীন নগিনবী (রহঃ) এর নির্দেশে ও তার প্রচন্ড অভিলাষে পুরনার্তে লিখেছিলেন। শাহ ইয়াছিণ সাহেবের ইন্তিকাল ৩০ শাওয়াল ১৩৬০ হিজরীতে হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি ওসিয়্যত করে গিয়েছিলেন যে, আমার মৃত্যুর পরেও মাওলানা যাকারিয়্যার কাছে কিতাবটি লিখার আবেদন তোমরা করতে থাকবে।

শাইখ (রহঃ) নিজেই বলেনঃ কিন্তু বদ আমলগুলো সুযোগ দিচ্ছিলনা। ১৩৮৩ হিজরীতে মদীনা মুনাওয়ারায় যাওয়অতে প্রচন্ডভঅবে এর তাগিদ দেয়া শুরু হল। মদীনা থেকে ফিরেও অলসতা চলতে থাকল।

অবশেষে ২৫ রমাদ্বান ৮৪ হিজরীতে বিছ্মিল্লাহ্ বলে শুরু করেই দিলেন। এবং ৬ জিল্’হাজ্জ ৮৪ হিজরীতে আকস্মিক ভাবে করে ফেলি।

আল্লাহ তা’আলা এই কিতাবগুলিকে এমন গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছেন যে, বর্ণনা করার প্রয়োজনই পরেনা। পক্ষের-বিপক্ষের সবার দ্বারাই এ কথা স্বীকৃত যে, কোন ধর্মীয় পুস্তকই এতো বেশি পরিমানে পড়া হয় না, যতটুকু এই পুস্তকটি পড়া ও শুনা হয়।

দুনিয়ার নীতি হল, প্রত্যেক ফলদার গাছেই ডিলমারা হয়। সূর্যয-যে তার পূর্ণ আলো দ্বারা পৃথিবীকে আলোকিত করে, কিন্তু দিনকালা/চামচিকা তার অন্ধত্বের কারণে তা একবারেই সহ্য করতে পারে না, এভাবে এই কিতাবের উপর ও বিভিন্ন জামাতের পক্ষ থেকে অভিযোগের তীর-বৃষ্টি হয়েছে, বিভিন্ন ভাবে ছিভ্রান্বেষন করা হয়েছে।

আমরা এর বাস্তবতা একবারে অস্বিকার করি না যে, আল্লাহ্র কিতাব ব্যতিত কোন গ্রন্থই ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত নয়।

বড় বড় জ্ঞানী-গুনীদের অমূল্য গ্রন্থাবলীতেও কিছু না কিছু ভূল-চুক হয়েছে। যা কিতাবের বিষয়ভিত্তিক ধারাবাহিকতার সুন্দর্যের তুলনায় গণণার কোন বিষয়ই না, এবং জ্ঞানীরাও এই ভূল-চুকের কোন মূল্য দেননি।

মোটকথাঃ

এই প্রবন্ধে ফাযায়েলে ’আমালের উপর উত্তাপত অভিযোগাবলীকে মৌলিকভাবে তিন ভাগে করা হয়েছে।

১. ঐ অভিযোগ যা কোন সত্যানুসন্ধানীর সামনে আসে এবং আহলে ইলমের দিকে প্রত্যাবর্তন যারা সামান্য কিছু স্পষ্ট করণের মাধ্যমে তা নিঃশেষ হয়েযায়। স্পষ্টত-এরকম প্রশ্ন বা অভিযোগ আলাদা ভাবে আলোচনার কোন বিষয়ই না, এবঙ না এটার কোন সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকে।

২. ঐ সমস্ত অভিযোগ যার সম্পর্ক মস্তিস্ক পূজার প্রবনতার সাথে। যে সমস্ত বুসূস ও ‘হাদসিকে নিজের নামসর্বস্ব উদারচিত্তের বিপরিত। সাব্যস্ত করে অথবা নিজের অপরিপক্ক জ্ঞানের কারণে কুরআনের বিপরিত সাব্যস্ত করে বিবাদে লেলিয়ে দেয়ার ভাষ্যকার।

চাই প্রমানিত হওয়অ ও সনদের দিক থেকে তার ভিত্তি যতই দৃঢ় হোক, এবং চাই উম্মতের উলামায়ে কেরাম যতই যথার্থ ও যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দেন।

তাই এর দু-এরক উদাহরন দিয়ে সংক্ষিপ্তাকারে দলিল ভিত্তিক ভাবে অভিযোগের সূলোৎপাটন করা হয়েছে।

৩. ঐ সমস্ সমালোচনা যার সম্পর্ক জ্ঞানগ। তম্মধ্যে কিছু ক্ষেত্রবিশেষ ভারীও মনে হয়।

ঐ সমস্ত সমালোচনার মূল ও মেরুদন্ড এই যে, ফাযায়েলে ’আমালে শাইখুল ‘হাদীসে (রহঃ) বহু “য’য়ীফ

এমনকি “মাও’যূ” ‘হাদীস অন্তরভুক্ত করেছেন। যদ্বারা ধর্মের মূলচিত্র বিকৃত হয়ে পড়ে।

এরকম সমালোচনার জবাবকে মৌলিকভাবে তিনটি দর্শনে ভাগ করা হয়েছে।

১. “ফাযায়েলে ‘আমাল” সমষ্টির নির্ভরযোগ্যতা তার উৎস ও উৎপত্তিস্থলের দর্শনে/আয়নায় কি? ও কেমন?

২. ‘হাদীস প্রমাণ ও উদাহরণ হিসেবে উপস্থঅপণ পারিভাষিকভাবে “স’হীহ” হওয়া কি জরুরী? নাকি িএর চেয়ে নিম্নপর্যায়ের ‘হাদীসও যথেষ্ট? যদি যথেষ্ট হয় তাহলে তার সীমা কতটুকু? উম্মতের উলামায়ে কেরামের কার্যরীতি কি?

৩. তারগীব ও তারহীব (উৎসাহ প্রদান ও ভতি প্রদর্শন) এর ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহ্র নুসুস ব্যতিত বুযুর্গদের বাণী,কার্য,ঘটনা/কাহীনি এবং স্বপ্নও সুসংবাদের দ্বাবন্থ হওয়া ঠিক কি না? যদি ঠিক হয় তাহলে তার সীমা কতটুকু?

প্রথম দর্শনে প্রমাণ করা হয়েছে যে, শাইখুল ‘হাদীস (রহঃ) যে সমস্ত কিতাব ও উৎসের সাহায্যে পুস্তকগুলো সংকলণ করেছেন, তার স্বল্পকটি ব্যতিত সবগুলিই স্বনির্ভরযোগ্য এবং শারী’আত বেক্তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য ও প্রমাণপুষ্ট হিসেবে স্বীকৃত।

এবং যে উৎসগুলি অপ্রমাণপুষ্ট, সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার প্রকাভেদ ও স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। যদ্বারা ফাযায়েলে ‘আমালের নির্ভরযোগ্যতা প্রভাবিত হয়না।

দ্বিতীয় দর্শনে পরিপক্ক প্রমানাদির আলোকে প্রমাণ করা হয়েছে যে, ‘হাদীস- প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে তা পারিভাষিক “ছ’হীহ বা ‘হাসান” হওয়া আবশ্যক নয়। বরং য’য়ীফ ‘হাদীসও যথেষ্ট হয়। বিধি-বিধান পরিচ্ছেদেও, এবং ফাযায়িল,মানাক্বিব,ইতিহিাস,ভীতি প্রদর্শন ও উৎসাহ ব্যঞ্জকপরিচ্ছেদেও।

অতঃপর বিধি-বিধান পরিচ্ছেদে য’য়ীফ ‘হাদীস দর্তব হওয়ার ব্যাপারে চার মাযহাবের ফুক্বাহা,মু’হাদ্দিছীন এবং জাহিরিয়্যাহসহ সবার বিশদ বর্ণনা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিধি-বিধান পরিচ্ছেদ ব্যতিত অন্যান্ন পরিচ্ছেদে “য’য়ীফ” ‘হাদীসের উপর ’আমল করা এবং বর্ণনার বৈধতার উপর উম্মতের ইজমা’, আহলে ’ইল্ম্দের বাণী ও কর্মপদ্ধতি দ্বারা স্পষ্ট বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এমনকি যে সমস্ত বড় বড় আহলে ‘ইল্ম্দের দিকে এব্যাপারে মতানৈক্যের সংবোধনন করা হয়, তাদের মতামতও জমহুরে উলামার অনুরুপ, এর উপর মজবুত শক্তিশালি প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

(যেমন ইমাম বুখারী,মুসলিম,ইয়া’হ্ইয়া ইব্ন্ মু’ঈন,আবু বাকার ইব্ন্ ‘আরাবী,আবূ শামাহ মুকাদ্দাসী, ইব্ন্ তাইমিয়্যাহ, আল্লামা শাওকানী এই সবারই মতামত জমহুর উলামাদের অনুরুপ যে, বিধি-বিধানের বেলায়ও “য’য়ীপ” ‘হাদীস গ্রহণযোগ্য বিশেষতঃ ছ’হীহাইনে ইমাম বুখারী ও মুসলিমের কর্মপদ্ধতির দ্বারাও এই বাস্তবতার দৃষ্টিগোচর হয়। তার উদাহরণ ও উল্লেখ করা হয়েছে।

ঐতিহাসকভাবে একদৃষ্টিতে “ফাযায়েলের উপর প্রামাণিত গ্রন্থাবলীঃ

হযরতশাইখুল ‘হাদীস (রহঃ) এর এই ফাযায়েলের কিতাবে আলোচ্য বিষয়াদি নতুন কোন বিষয় নয়, বরং সাধারনত ’হাদীসরে কিতাবাদি ছাড়াও আলাদা নিয়মতান্ত্রিকভঅবে এখনো পরিপূর্ণ হয়নি) আদাব ও স্বচ্চরিত্রতা, দুনয়াবিমুখতা ও আখেরাত মুখিতা, এবঙ ফাযায়েল ও তারগীব এব উপরে কিতাবাদি প্রনয়নের ধারা শুরু হয়ে গিয়েছিল। আজ অবদি যা হয়ে আসছে।

এই সমস্ত বিষয়ে প্রণিত কিছু কিতাবাদির নিম্নরূপ-

১.কিতাবুল্ যুহ্দ্, ’আব্দুল্লাহ ইব্ন্ মুবারক রহঃ, ১৮১হিঃ

২.ফাযয়েলে কুরআন, ইমাম শাফি’য়ী রহঃ, ২০৪হিঃ

৩.ফাযায়েলে কুরআন, আবু উবাইদ রহঃম, ২৪১হিঃ

৪.কিতাবুল যুহ্দ্, ইমাম আহমাদ ইব্ন্ হাম্বাল রহঃ, ২৪১হিঃ

৫.আল-আদাবুল মুফরদ, ইমাম বুখারী রহঃ, ২০৬হিঃ

৬.কিতাবুল আদব, ইমাম বায়হাক্বী রহঃ, ৪৫৭হিঃ

৭.কিতাবুয্ যুহ্দ্, ঐ ঐ

৮.ফাযায়েলে আওক্বাত, ঐ ঐ

৯.আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, ইবনে শাহীন রহঃ, ৩৮৫হিঃ

১০. ঐ, আবুল কাসিম ইসমাঈল ইব্ন্ মু’হাম্মাদ ইসফাহানী, ৫৩৫হিঃ

১১. ঐ, হাফিয আঃ আযীম ইব্ন্ আঃ ক্বাওয়ী মুনযিরী, ৬৫৬হিঃ

যিক্‌র্‌-আয্কার এবং দু’আ বিষয়ক প্রণিত কিছু কিতাবাদিঃ

১২.’আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাতী, ইমাম নাসায়ী রহঃ, ৩০৩হিঃ

১৩. ঐ, ইবনুস্ সুন্নী রহঃ, ৩৬৪হিঃ

১৪.কিতাবুদ্ দু’আ , ইমাম তাবারানী রহঃ, ৩৬০হিঃ

১৫.আদ্ দা’ওয়াতুল্ কাবীর, ইমাম বায়হাক্বী রহঃ, ৪৫৭হিঃ

১৬.আল্ আয্কার, ইমাম নববী রহঃ, ৬৭৬হিঃ

দরীদ শরীফ এবং উহার নির্দিষ্ট শব্দাবলীল ফযিলতের উপর-

হাফিয শামছুদ্দীন সাখাবী রহঃ (৯০২) এর লিখিতঃ আল ক্বউলুল্ বাদী ফিস্ স্বলাতি ‘আলাল ‘হাবিবিশ্ শাফী অধিক প্রসিদ্ধ।

শাইখুল ‘হাদীস যাকারিয়্যা রহঃ লিখিত “ফাযায়েলে ‘আমাল” এই সুনালী ধারাবহিকতায় প্রণিত।

যা উর্দ্দু ভাষায় নিজ স্বকীয়তা,সুসংক্ষিপ্ততা এবং শরাহ-বিশ্লেষন ও ব্যাখ্যা হিসেবে আলাদা বিশেষত্বের অধিকারী।

(অদ্ভূত মনে হলেও আজকাল “ফাজায়েলে আমাল” কিতাবটির বাজার মূল্য আগের থেকে অনেক বেশি বেড়ে গেছে। তার কারণ অনেকগুলোর মধ্যে অন্যতম কারণটি জানা যায় যে, কিতাবটির সমালোচনা হেতু এর ক্রয় বিক্রয় বর্তমানে অনেক বেড়ে গেছে।নতুন নতুন পাঠক প্রতিদিন বেড়ে চলছে।এক সময় যারা এ কিতাবের সমালোচক ছিল অন্ধভাবে, আজ তারাই এ কিতাবটির মূলধারার পাঠক হিসেবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলছে।একজন লাইব্রেয়িয়ানকে প্রশ্ন করে জানতে পারলাম, ইদানীং ইন্টারনেটে কিতাবটির আলোচনা সমালোচনা বেড়ে যাওয়ায় কিতাবটির মূল লেখার সঙ্গে সমালোচকদের সমালোচনামূলক লেখার কতখানি মিল রয়েছে তা খতিয়ে দেখতেই নাকি সম্প্রতি কিতাবটির কদর বেড়ে গেছে।আরো মজার ব্যাপার হল, সমালোচনা যত বাড়ছে, কিতাবটির কদর যেন তত বাড়ছে!

http://darululoom-deoband.com/urdu/current/fazail1.htm

Advertisements

3 thoughts on “ফাযায়েলে ‘আমালের উপর অভিযোগাবলীর, নীতিসিদ্ধ এক অনুসন্ধান

  1. Habib Ullah Kaiser says:

    ভাই ! এখানে “ফাযায়েলে ‘আমালের উপর অভিযোগাবলীর, নীতিসিদ্ধ এক অনুসন্ধান” করেছেন, অভিযোগবলীর যবাব তো দেন নি ৷ যয়ীফ হাদীস না হয় আমল যোগ্য করলেন কিন্তু ভিত্তিহীন কিচ্ছা -কাহিনী গুলোর কি যবাব দেবেন ?

  2. Muhammad says:

    Jaja kallahu khair….

  3. Muhammad says:

    HTML Tag likhar babostha korle valo hoy.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s