নামাযে সূরা ফাতেহার পর আমীন আস্তে বলা উচিত

আস্তে আমীন বলা আল্লাহ তা’আলা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হুকুম সম্মত। চিৎকার করে আমীন বলা কুরআনে করীমেরও পরিপন্থী। আর হাদীস ও সুন্নাতেরও বীরোধী। দলীলগুলো নিম্নরূপঃ

রব তা’আলা বলেন-

اُدْعُوْا رَبَّكُمْ تَضَرُّ عًا وَّخفْيَةً অথাৎ স্বীয় প্রভুর কাছে প্রার্থনা করো বিনয়ের সাথে এবং নীচস্বরে বলা উচিত।

আমীন ও দোয়া। তাই এটাও নীচ বলা উচিত। রব তায়ালা বলেন-

 

وَاِذَا سَألَكَ عِبَادِى عَنِّىْ فَاِنِّىْ قَرِيْبٌ اُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ اِذَا دَعَانِ

 

অর্থাৎ হে মাহবুব! যখন আপনার কাছে আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে জানতে চায়, তখন আমি অত্যন্ত কাছেই। আমি আহবানকারীর আহবানে সাড়া দেই যখন সে আমার কাছে প্রার্থনা করে।

বুঝা গেল চিৎকার করে তার কাছেই প্রর্থনা করতে হয় যিনি আমাদের কাছ থেকে দূরে। রব তায়ালা তো আমাদের শাহরগের চেয়েও অতি নিকটে। তাই আমীন চিৎকার দিয়ে বলা নিরর্থক। বরং কুরআনী শিক্ষার পরিপন্থী। এ জন্য যে আমীন হলো দোয়া বিশেষ।

হাদীস নং১-৮ ইমাম বোখারী, মুসলিম আহমদ, মালিক, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, প্রমুখ হযরত আবু হোরায়রা (রাদিঃ) হতে বর্ণনা করেন-

রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যখন ইমাম `আমীন’ বলবে তখন তোমরাও `আমীন’ বলবে। কেননা যার `আমীন’ বলা ফিরিশতাদের আমীন এর সাথে মিলে যাবে তার অতীতের পাপ ক্ষমা করা হবে।

এ হাদিছ দ্বারা বুঝা গেল পাপ মার্জনা ঐ নামাযীর জন্যে যার ‘আমীন’ ফিরিশতাদের আমীনের মত হয়। আর স্পষ্ট ব্যাপার হলো যে, ফিরিশতারা নীচু স্বরে আমীন বলে। আমরা তাদের আমীন আজ পর্যন্ত শুনিনি। তাহলে উচিত হলো যে আমাদের `আমীনও’ আস্তে হওয়া যাতে ফিরিশতাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং গুনাহগুলো মাফ হয়। যে লা-মাযহাবীরা চিৎকার দিয়ে আমীন বলে তারা যেভাবে মসজিদে আসে তেমনিভাবেই মসজিদ থেকে চলে যায়। তাদের গুনাহগুলো মাফ হয় না। কেননা তারা ফিরিশতাদের আমীন এর বিরোধীতা করেছে।

হাদিছ নং ৯-১০: ইমাম বোখারী, শাফেয়ী, মালিক, আবু দাউদ, নাসায়ী প্রমুখ হযরত আবু হোরায়রা )রাদিঃ( থেকে বর্ণনা করেন-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম  ইরশাদ করেন- যখন ইমাম ‘আমীন’ বলবে غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ তখন তোমরাও বলো ‘আমীন’। কেননা যার ‘আমীন’ বলা ফিরিশতাদের ‘আমীন’ এর সাথে মিলে যাবে তার আগেকার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে।

এ হাদীস দ্বারা দুটো মাসআলা জানা গেলো। এক মুকতাদী ইমামের পিছে কখনো সূরা ফাতিহা পড়বেনা। আর যদি মুকতাদী পড়তো তাহলে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলতেন, যখন তোমরা  وَلَا الضَّالِّيْنَ বলবে তখন ‘আমীন’ বলবে। বুঝা গেলো মুক্তাদি শুধুমাত্র আমীন বলবে। وَ لَا الضَّا لِّيْنَ বলা ইমামের কাজ। রব তাআলা বলেন।

 

اِذَا جَاءَ كُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوْهُنَّ

 

অর্থাৎ, ‘যখন তোমাদের কাছে মু’মিনা নারী দেশত্যাগ করে আসবে তখন তোমরা তাদের পরীক্ষা নাও।

দেখো! পরীক্ষা নেয়া শুধুমাত্র মু’মিনদের কাজ; মু’মিনা নারীদের কাজ নয়। কোন হাদীসের মধ্যে আসে নি যে,

اِذَا قُلْتُمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ فَقُوْلُوْا أمِيْنَ অর্থাৎ, ‘যখন তোমারা وَلَا الضَّالِّيْنَ   বলবে তখন اَمِيْنَ বলো। বুঝা গেল মুকতাদী وَلَا الضَّالِّيْنَ বলবেই না।

দ্বিতীয়ত: এই যে, ‘আমীন’ আস্তে হওয়া উচিত। কেননা ফিরিশতাদের আমীন নীচু স্বরেই হয়। যা আজ পর্যন্ত আমরা শুনতে পায়নি। স্মর্তব্য যে, এখানে ফিরিশতাদের আমীন এর সামঞ্জস্যতা বলতে সময়ের সাথে সামঞ্জস্যতা নয়  বরং আদায় করার পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যতা বুঝানো হয়েছে। ফিরিশতাদের আমীন এর সময়ওতো ওটাই যে যখন ইমাম সূরা ফাতিহার তিলাওয়াত শেষ করে। কেননা আমাদের পাহারাদার ফিরিশতারা আমাদের সাথেই নামাযে অংশগ্রহণ করে এবং ঐ সময় আমীন বলে।

হাদীস নং-১৪-১৮: ইমাম আহমদ, আবূ দাউদ, ত্বায়ালুসী, আবুইয়ালা, মুছিলী, তাবরানী,  দারু কুত্বনী এবং হাকিম স্বীয় মুসতাদরাকে হযরত ওয়াইল ইবনে হাজর থেকে বর্ণনা করেন হাকিম বলেন যে, এ হাদীস এর ইসনাদ পুরোটাই সহীহ:

হযরত ওয়াইল ইবনে হাজর থেকে বর্ণিত- তিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর সাথে নামায পড়েছেন। যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّلِّيْنَ পর্যন্ত পৌছলেন তখন তিনি বললেন, ‘আমীন’ আর ‘আমীন’ এ আওয়াজ ছোট রাখলেন।

বুঝা গেল যে আমীন নীচু স্বরে বলা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর সুন্নাত। উচু আওয়াজে বলা সুন্নাতের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

হাদীস নং-১৯-২১: আবূ দাউদ, তিরমিযী,  ইবনু আবি শায়বা প্রমুখ হযরত ওয়াইল ইবনে হাজর থেকে বর্ণনা করেছেন:

 

قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ فَقَالَ اَمِيْنَ وَخَفَضَ بِهِ صَوْتَهُ

 

তিনি বলেন আমি শুনেছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম পড়েছেন-غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ এর পর বললেন أمِيْنَ এবং তাতে আওয়াজ ছোট রাখলেন।

হাদীস নং২২-২৩: তাবরানী ‘তাহযীবুল আছার’ এ এবং তাহাবী হযরত ওয়াইল বিন হাজর থেকে বর্ণনা করেন:

তিনি বলেন হযরত ওমর ও আলী (রাদ্বিআল্লাহু আনহুমা) না বিসমিল্লাহ উচ্চ স্বরে পড়তেন, না আমীন ।

বুঝা গেল নীচুস্বরে বিসমিল্লাহ পড়াজ সাহাবায়ে কেরামেরও সুন্নাত।

হাদীস নং-২৪: হেদায়ার ব্যাখ্যাকার আইনী হযরত আবূ মা মার (রাদ্বি) থেকে বর্ণনা করেছেন:

 

عَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِىَ اللهُ عَنْهَ قَالَ يُخْفِى الْاِمَامُ اَرْبَعًا اَلتَّعُوْذُ وَبِسْمِ اللهِ وَاَمِيْنَ وَرَبَّنَالَكَ الْحَمْدُ

 

হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন ইমাম চারটি বিষয় নীচু স্বরে বলবেঃ আউযুবিল্লাহ বিসমিল্লাহ আমীন এবং রাব্বানা লাকাল হামদ।

হাদীস নং২৫: বায়হাক্বী হযরত আবূ ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেন: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বি) বলেন:

 

عَنْ عَبْدُ اللهِ قَالَ يُخْفِى الْاِمَامُ اَرْبَعًا بِسْمِ اللهِ وَ اللهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ وَالتَّعُوْذُ والتَّشَهُّدُ

 

ইমাম চারটি বিষয় নীচু স্বরে পড়বে বিসমিল্লাহ রাব্বানা লাকাল হামদ আউযু এবং আততাহিয়্যাত।

হাদীস নং-২৬: হযরত ইমাম আবূ হানীফা (রাদ্বী.) হযরত হাম্মাদ থেকে উনারা হযরত ইবরাহীম নাখয়ী (রাদ্বি.) থেকে বর্ণনা করেন:

 

قَالَ اَرْبَعٌ يُخْفِيْهِنَّ الْاِمَامُ اَلتَّعُوْذُ وَبِسْمِ اللهِ وَسُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَ أمِيْنَ رَوَه مُحَمَّدُ فِى الْاَثَارِ وَعَبْدُ الرَّزَّاقُ فِى مُصَنِّفِهِ

 

অর্থাৎ তিনি বলেন ইমাম চারটি বিষয় নীচূ স্বরে পড়বে আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা এবং আমীন। এ হাদীস ইমাম মুহাম্মদ ‘আছার’ এ এবং আবদুর রাযযাক তার মুসান্নাফ এ বর্ণনা করেন।

বিবেকও চায় যে আমীন আস্তে বলা হোক। কেননা আমীন কুরআনে কারীমের আয়াত কিংবা কুরআনের শব্দ নয়। এ জন্যই তা না জিবরীল  আমীন নিয়ে  এসেছেন না কুরআনে কারীমে লেখা হয়েছে। বরং তা দু’আ এবং আল্লাহর যিকর।

সুতরাং যেমনিভাবে ‘ছানা’ ‘আততাহিয়্যাত’ ‘দরূদে ইবরাহীমি’ ‘দোআ’য়ে মাছুরাহ’ ইত্যাদি নীচু স্বরে পড়া হয় ঠিক তেমনিই ‘আমীনও’ নীচু স্বরে হওয়া উচিত।

এটা কেমন যে, সমস্ত যিকর নীচু স্বরে হয় আর আমীন এর ক্ষেত্রে সবাই চিৎকার দেয়। এ চিৎকার করাটা কোরআনেরও পরিপন্থী। সহীহ হাদীসসমূহ সাহাবায়ে কেরাম এবং সুস্থ জ্ঞানেরও বিরোধী। আল্লাহ তাআলা আমল করার তাওফীক দান করুন।

দ্বিতীয়ত, এজন্য  যে যদি মুকতাদীর উপর সুরা ফাতিহাও পাড়া ফরয হয় এবং আমীন বলারও হুকুম হয় তাহলে যদি মুকাতাদী সূরা ফাতিহার মাঝখানে হয় আর ইমাম وَلَا الضَّالِّيْنَ পড়ে ফেলে তখন মুকতাদী যদি আমীন না বলে তাহলে সুন্নাতের পরিপন্থী হবে। আর যদি আমীন বলে এবং চিৎকার দিয়ে বলে তাহলে আমীন মাঝখানে হয়ে যাবে। কুরআনের মাঝখানে গায়রে কুরআন এসে যাবে এবং সূরা ফাতিহার মাঝখানে শোরগোল হবে।

2 thoughts on “নামাযে সূরা ফাতেহার পর আমীন আস্তে বলা উচিত

  1. Monir says:

    সুরা ফাতেহা ব্যতীত সালাত হয় না এবং সুরা ফাতেহা না পেলে শুধু রুকু পেলে রাকাত গন্য হয় না, শেষ এই রাকাত সুরা ফাতেহা দিয়ে পড়ে নিতে হবে।

    বুখারির হাদিস একদম সহিহ। রাসুল (সাঃ) কেন বললেন ইমামের পিছনে চুপে চুপে সুরা ফাতেহা পড়ে নাও যদি ইমামের ‘কেরাত নামে সুরা ফাতেহা’ যথেষ্ঠ হত মুকতাদীদের জন্য?
    আনাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন, أَتَقْرَءُوْنَ فِيْ صَلاَتِكُمْ خَلْفَ الْإِمَامِ وَالْإِمَامُ يَقْرَأُ ؟ فَلاَ تَفْعَلُوْا وَلْيَقْرَأْ أَحَدُكُمْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِيْ نَفْسِهِ، أَخْرَجَهُ ابْنُ حِبَّانَ- ‘তোমরা কি ইমামের ক্বিরাআত অবস্থায় পিছনে কিছু পাঠ করে থাক? এটা করবে না। বরং কেবলমাত্র সূরায়ে ফাতিহা চুপে চুপে পাঠ করবে’।

    বুখারী, জুয্উল ক্বিরাআত; ত্বাবারাণী আওসাত্ব, বায়হাক্বী, ছহীহ ইবনু হিববান হা/১৮৪৪; হাদীছ ছহীহ- আরনাঊত্ব; তুহফাতুল আহওয়াযী, ‘ইমামের পিছনে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-২২৯, হা/৩১০-এর ভাষ্য (فالطريقان محفوظان) , ২/২২৮ পৃঃ; নায়লুল আওত্বার ২/৬৭ পৃঃ, ‘মুক্তাদীর ক্বিরাআত ও চুপ থাকা’ অনুচ্ছেদ।

    যারা অস্বীকার করে তর্কে লিপ্ত হতে চান তারা আশংকায় রয়ে গেলেন যে তাদের সালাত পরিপূর্ণ হচ্ছে কিনা!
    কেননা সুরা ফাতেহা ব্যতীত সালাত অসম্পূর্ণ অপুর্নাঙ্গ বিকলাঙ্গ দলিল মুসলিম, মিশকাত হা/৮২৩, ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২; নায়ল ৩/৫১-৫২।

    যে ব্যাক্তি ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়বে না তার নামায হবে না (কেতাবুত কেরাত বায়হাকী ৪৭ পৃঃ);
    রাসুল (সঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি ইমামের পিছনে নামায পড়বে সে যেন সুরা ফাতেহা পড়ে (জামেউস সগির ১ম খন্ড ১৪৯ পৃঃ);
    আল্লামা আল-কেমি (রহঃ) বলেন, সুরা ফাতেহা ছাড়া নামায হয় না । তাই সে ফরজ নামায হোক, সুন্নত নামায হোক আর নফল নামায হোক । আর সে নামাযী ইমাম হোক, মুক্তাদী হোক আর মুনফারিদ হোক । আর সে নামায জোরের হোক বা আস্তের হোক, পুরুষ হোক বা মহিলা হোক, মুসাফের হোক, মুকিম হোক বা বাচ্চা হোক । আর সে নামায দাঁড়িয়ে পড়ুক, বসে পড়ুক বা শুয়ে পড়ুক । আর সে নামায ভয়ের মধ্যে পড়ুক বা নির্ভয়ে পড়ুক সবার জন্য সমান (তাহকীকুল কালাম ১ম খন্ড ৪৪ পৃঃ);
    আবু হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেন- ইমামের সাথে যতটুকু পাবে সেটুকু পড়ে নাও এবং যেটা বাকি থাকে সেটা ইমামের সালাম ফিরানোর পর পড়ে নাও (বুখারী ১ম খন্ড ৮৮ পৃঃ; মুসলিম ১ম খন্ড ২২০ পৃঃ; যুয বুখারী ২২ পৃঃ);
    আবু হুরায়রাহ (রাঃ) এর এই হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহন করা হয়েছে যে, রুকু পাওয়া ব্যাক্তি যেন ঐ রাকাত কে যেন রাকাত বলে গণ্য না করে (মির’আত ১ম খন্ড ৪৪৯ পৃঃ);
    এই হাদিস সামনে রেখে ইমাম বুখারি বলেন- যে ব্যক্তির দুটি ফরজ কেয়াম এবং কেরাত ছুটে গেছে রাসুল (সঃ) এর হুকুম অনুযায়ী সে ব্যক্তির কেয়াম এবং কেরাত পরে পূর্ণ করে নেওয়া ওয়াজিব (যুয বুখারী ২০ পৃঃ; কেতাবুত কেরাত বায়হাকী ১৫৭ পৃঃ);
    আল্লামা যুরকানী বলেন আবু হুরায়রাহ (রাঃ) এর এই হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহন করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেয়েছে তার রাকাত হয় নাই (যুরকানী ১ম খন্ড ১৪১ পৃঃ);
    আল্লামা ইবনে হযম লিখেছেন- আবু হুরায়রাহ (রাঃ) এর এই হাদিসের দৃষ্টিতে রাকাত গণ্য করার জন্য কেয়াম এবং কেরাত পাওয়া জরুরী- তার উদ্ধৃতি দিয়েছে, (নাইলুল আওতার ২য় খন্ড ২২৭-২২৮ পৃঃ);
    হযরত আবু কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, হযরত আনাস ও হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) নবী (সঃ) থেকে বর্ণনা করেন, যখন তোমরা নামাযে আসবে তখন যা পাবে সেটা পড়ে নেবে এবং যা ছুটে যাবে সেটা পুর্ণ করে নেবে । আতঃপর যার থেকে ফরয কেয়াম এবং কেরাত ছুটে গেছে তার ওয়াযেব হল সেটা পুর্ণ করে নেওয়া যেভাবে নবী (সঃ) নির্দেশ দিয়েছেন (যুয বুখারী ৮০ পৃঃ);
    ডাঃ আসাদুল্লাহ আল গালিব লিখেছেন, ইমামের পিছনে কেবল রুকু পেলে রাকাত পাওয়া হবে না । বরং উভয় হাদিসের উপর আমলের জন্য মুক্তাদীকে কেয়াম সহ কেরাতে ফাতেহা ও রুকু দুটিই পেতে হবে (সলাতুর রাসুল ৩৮ পৃঃ);
    আবু সাঈদ খুদরী ও আয়শা (রাঃ) বলেছেন, সুরা ফাতেহা না পড়ে কেউ যেন রুকু না করে (যুয বুখারী ১৪ পৃঃ);
    আ’রাজ (রাঃ) বলেন, আমি হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে যতক্ষণ তুমি ইমামকে রুকুর আগে দাঁড়ান অবস্থায় না পাবে ততক্ষণ তোমার ঐ রাকাত হবে না (যুযউল কেরাত ৪ ও ১৭ পৃঃ);
    আল্লামা ইবনে হযম লিখেছেন, যদি নামাযী আসে এবং ইমাম রুকুতে থাকে তাহলে নামাযী ইমামের সংগে রুকু করবে কিন্তূ সেটাকে রাকাত বলে গণ্য করবে না । যখন ইমাম সালাম ফিরাবে তখন ঐ রাকাতকে কাযা করে নিবে (আল মুহাল্লা, ইবনে হযম ২৪৩ পৃঃ);
    ইমাম বায়হাকী লিখেছেন, আমি হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ থেকে শুনেছি । তিনি বলেন, আমিতো শায়খ আবু বাকার আহমাদ বিন ইসহাক বিন আইয়ুব আযযবয়ী (রহঃ) কে ফতোয়া দিতে নিজ কানে শুনেছি যে রুকু পাওয়া ব্যক্তির রাকাত হতে পারে না (কেতাবুল কেরাত বায়হাকী ১৫৭ পৃঃ);
    ইমাম শাওকানী মেনে নিয়েছেন যে রুকু পেলে রাকাত হয় না (নাইলুল আওতার ২য় খন্ড ২২৫ পৃঃ);
    রুকু পেলে রাকাত হয় না এটা ওই ব্যক্তির মাযহাব যে ব্যক্তি ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়া জরুরী মনে করেন । জমহুরে মুহাদ্দেসিন ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা পড়ার পক্ষপাতী । তাই রুকু পেলে রাকাত হবে না এটা হচ্ছে জমহুরে মুহাদ্দেসিনের মসলা (যুয বুখারী ৯ পৃঃ);
    ———————–
    হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِّنَ الصَّلاَةِ مَعَ الْإِمَامِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ كُلَّهَا- ‘যে ব্যক্তি ইমামের সাথে ছালাতের এক রাক‘আত পেল, সে ব্যক্তি পূর্ণ ছালাত পেল’।
    মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৪১২, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘খুৎবা ও ছালাত’ অনুচ্ছেদ-৪৫।

    জমহূর বিদ্বানগণ এখানে ‘রাক‘আত’ অর্থ ‘রুকূ’ করেছেন। ইমাম বুখারী বলেন যে, এখানে রাক‘আত বলা হয়েছে। রুকূ, সিজদা বা তাশাহহুদ বলা হয়নি’ (অথচ সবগুলো মিলেই রাক‘আত হয়) (‘আওনুল মা‘বূদ ৩/১৫২)।
    শামসুল হক আযীমাবাদী বলেন, ‘এখানে কোন কারণ ছাড়াই রাক‘আত অর্থ রুকূ করা হয়েছে যা ঠিক নয়। যেমন ছহীহ মুসলিমে বারা বিন আযেব (রাঃ) হ’তে বর্ণিত হাদীছে ‘ক্বিয়াম ও সিজদার বিপরীতে রাক‘আত শব্দ এসেছে। সেখানে রাক‘আত অর্থ রুকূ করা হয়েছে।
    মুসলিম হা/১০৮৫, ‘ছালাত’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩৮; আবুদাঊদ (আওন সহ), অনুচ্ছেদ-১৫২, হা/৮৭৫, ৩/১৪৫ পৃঃ।

    ‘আব্দুর রহমান সা‘দীও তাই বলেন’ (আল-মুখতারাত, পৃঃ ৪৪)

  2. 786786 says:

    bujy dekun aponi koto gani

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s