নামাযের কিছু ইচ্ছাকৃত ভুল কিছু না জানার ভুল

নামাযের কিছু ইচ্ছাকৃত ভুল কিছু না জানার ভুল

ভূমিকা: সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত ছালাত আদায় করার ক্ষেত্রে মুমিন সর্বাধিক সতর্ক হবে। যথাসম্ভব নির্ভূলভাবে ছালাত সম্পাদন করতে সচেষ্ট হবে। ছালাতের ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত এবং ছালাতের পূর্বাপর বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে বিশুদ্ধভাবে পালন করবে। তার ছালাত নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ছালাতের সাথে মিলছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে নিবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা কি? বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে তথাকথিত আহলে হাদীসের নামে কিছু লোক এসে এদেশের সর্বসম্মত কোনো মতবিরোধ নেই এমন একটি ইবাদত নামাযকে বিতর্কিত করার জন্য আধাজল খেয়ে নেমেছে। এরা মুসলমানদেরকে সুন্নাতপরিপন্থী বিভিন্ন বিষয়কে আসল সুন্নাত বলে চালাতে চেষ্টা করছে। যা আসলে ভুল। যে লোক অজানা বশত করছে সে এই ভুল বুঝতে পারছে না। যারা আরবের টাকা খেয়ে ইচ্ছাকৃত করছে তারাতো কাফের না হলেও ফাসেক নিশ্চয়ই হবে। এছাড়াও আমাদের সাধারণ ‍মুসল্লিদের মধ্যে আর কিছু ভুল অজানা বশত হয়ে যায়। এসবের প্রতিও কিছু আলোকপাত করা প্রয়োজন। তাই এধরনের বিভিন্ন ভুল সম্পর্কে সতর্ক ও অবগত করানোর জন্যই এই নিবন্ধটি পাঠকদের সামনে উপস্থাপনের চেষ্টা করলাম।

১) তাড়াহুড়া করে ওযু করাঃ সালাত ধরার জন্য তাড়াহুড়া করে ওযু করার কারণে অনেক সময় কোন কোন স্থানে পানি পৌঁছে না। শুকনা রয়ে যায় বিভিন্ন অঙ্গের কোন কোন স্থান। অথচ কোন স্থান শুকনা থেকে গেলে সেই ওযু দিয়ে ছালাত বিশুদ্ধ হবে না।

২) পেশাব ও পায়খানার চাপ রেখে ছালাত আদায় করাঃ রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

لَا صَلَاةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ وَلَا هُوَ يُدَافِعُهُ الْأَخْبَثَانِ

“খাদ্য উপস্থিত হলে এবং দুটি নাপাক বস্তুর (পেশাব-পায়খানা) চাপ থাকলে ছালাত হবে না। (মুসলিম)

৩) দ্রুততার সাথে দৌড়িয়ে সালাতে শরীক হওয়াঃ অনেকে ইমামের সাথে তাকবীরে তাহরীমা পাওয়ার জন্য বা রুকু পাওয়ার জন্য দৌড়িয়ে বা দ্রুত হেঁটে ছালাতে শামীল হয়। অথচ এটা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ عَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا

“যখন সালাতের ইকামত প্রদান করা হয় তখন তাড়াহুড়া করে সালাতের দিকে আসবে না। বরং ধীর-স্থীর এবং প্রশান্তির সাথে হেঁটে হেঁটে আগমণ করবে। অতঃপর সালাতের যতটুকু অংশ পাবে তা আদায় করবে। আর যা ছুটে যাবে তা (ইমামের সালামের পর) পূর্ণ করে নিবে।” (বুখারী ও মুসলিম)

৪) জায়নামায পাক করার জন্য দুয়া পাঠ করাঃ ইন্নী ওয়াজ্জাহ্‌তু … বলে জায়নামায পাক করার জন্য দুয়া পাঠ করা হয়। এটি ঠিক নয়। কেননা জায়নামায পবিত্র থাকলে দুয়া না পড়লেও ছালাত হবে। আর জায়নামায নাপাক থাকলে হাজার দুয়া পড়লেও তা পাক হবে না। তবে নামাযের জন্য দাড়িয়ে নামায আরম্ভ করার পূর্বে উক্ত দু’আ পড়লে কোনো সমস্যা নেই। মূলত দুআটি তাহাজ্জুদের নামাযের তাকবীরে তাহরীমার পরে স্বীকৃত আছে। এখন কেউ যদি দুআটির আংশিক নামাযের জন্য দাড়িয়ে নামায আরম্ভ করার আগে নিজের পক্ষ থেকে দু’আ হিসেবে পাঠ করে তাতে কোনো সমস্যা নেই। সে সেময় অন্য দু’আ পড়লেও কি সমস্যা? তাই আহলে হাদীসদের এরূপ বলা এই দুআ পড়া বিদআত কোনো মতেই গ্রহণযোগ্য নয়। (দুআটি আরো লম্বাভাবে তাহাজ্জুদের জন্য মুসলিম শরীফেই রয়েছে হাদীস নং ১২৯০)

৫) ছালাত শুরুর সময় মুখে নিয়ত উচ্চারণকে জরুরী মনে করাঃ নিয়ত শব্দের অর্থ-ইচ্ছা বা সঙ্কল্প করা। আর তা অন্তরে হয় মুখে নয়। সুতরাং কোন কিছু করার জন্য অন্তরে ইচ্ছা বা সঙ্কল্প করলেই সে কাজের নিয়ত হয়ে গেল। তবে কেউ যদি বলতে চায় অসুবিধা নেই। কারণ নিয়ত সেটা নিজ নিজ বিষয়। অন্তরের সঙ্কল্পকে মুখে বলাতে কোনো অসুবিধে নেই। তাই যে সকল তথাকথিত আহলে হাদীসরা বলে থাকেন মুখে নিয়ত করাই যাবে না। সেটাও ভুল। আবার মুখে নিয়ত করাকে জরুরী মনে করাও ভুল।

৬) বুকের উপর হাত বাঁধাঃ এক্ষেত্রে সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত ‘ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর রাখা’ হাদীছটি দলীল হিসেবে তথাকথিত আহলে হাদীসরা পেশ করে। কিন্তু হাদীছটির সনদ হিসেবেও দূর্বল, বাস্তবে আমলের পরম্পর ধারাহিসেবেও দূর্বল। তাই উহা আমলযোগ্য নয়, বরং বিধর্মীদের সৃষ্ট তথাকথিত আহলে হাদীসদের নতুন ফেতনা মোকাবেলায় বর্জনাবশ্যক।  সহীহ হাদীসে আছে, হযরত আলী (রাঃ) বলেন, ‘সুন্নাত হচ্ছে ছালাতে ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে নাভীর নীচে রাখা’  (আহমাদ ও আবু দাঊদ)

৭) সিজদার স্থানে দৃষ্টিপাত না করাঃ আকাশের দিকে বা অন্য দিকে দৃষ্টিপাত করার ফলে ছালাতে ভুল হয়ে যায় এবং মনের মাঝে নানান কথার সৃষ্টি হয়। অথচ দৃষ্টি নত রাখা এবং সার্বক্ষণিক দৃষ্টি সিজদার স্থানে রাখার জন্য নির্দেশ রয়েছে। তবে তাশাহুদ অবস্থায় ডান হাতের তর্জনী নামিয়ে রেখে তা স্থির রাখতে হবে এবং তার প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কি হয়েছে কিছু লোকের, তারা ছালাতরত অবস্থায় আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে? তারপর তিনি কঠোর শব্দ ব্যবহার করে বলেন, “তারা এথেকে বিরত হবে; অন্যথা তাদের দৃষ্টি শক্তি ছিনিয়ে নেয়া হবে।” (বুখারী ও মুসলিম)

ছালাত অবস্থায় ডানে-বামে দৃষ্টিপাতের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “এটা হচ্ছে বান্দার ছালাত থেকে কিছু অংশ শয়তানের ছিনিয়ে নেয়া।” (বুখারী)

যদিও আহলে হাদীসদের মতানুসারে নামাযে হাটাও যায়। (নাউজু বিল্লাহ)

৮) তাকবীর, কুরআন তেলাওয়াত ও ছালাতের অন্যান্য দুয়ার সময় ঠোঁট না নড়িয়ে শুধু মনে মনে বলাঃ এটি একটি বহুল প্রচলিত ভুল। ইমাম নববী বলেন, ইমাম ছাড়া অন্য সবার জন্য সুন্নাত হচ্ছে (যার তার জন্য পড়া দরকার সবকিছু) চুপে চুপে পাঠ করা। চুপে চুপে বলার সর্বনিম্ন সীমা হচ্ছে নিজেকে শোনানো- যদি তার শ্রবণ শক্তি ঠিক থাকে এবং কথায় কোন জড়তা না থাকে। এ বিধান সকল ক্ষেত্রে তাকবীর, রুকু সিজদার তাসবীহ্‌ প্রভৃতি। তাছাড়া ঠোঁট না নাড়ালে তো তাকে পড়া বলা চলেনা। কারণ আরবীতে এমন অনেক অক্ষর আছে ঠোঁট না নাড়ালে যার উচ্চারণই হবে না।

৯) ছানা এবং আঊযুবিল্লাহ্‌ পাঠ না করে সরাসরি বিসমিল্লাহ্‌ পড়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করা। ছানা ও আঊযুবিল্লাহ্‌ পাঠ করা মুস্তাহাব।

১০) মুক্তাদিদের সূরা ফাতিহা পাঠ করাঃ কারণ সহীহ হাদীসে আছে ইমামের কেরাআত মুক্তাদির কেরাত হিসেবে গণ্য। (সেহাহে সিত্তা) আহলে হাদীসরা বলে মুক্তাদীর সূরা ফাতেহা পড়া ছাড়া নামায হবে না।  অথচ ‍মুক্তাদীর জন্য সূরা ফাতেহা পড়তে হবে এমন কথা কোনো হাদীসে নেই। হাদীসে আছে সূরা ফাতেহা ছাড়া নামায হয় না। যা একাকি নামায আদায়কারী ও ইমামের জন্য খাস। কারণ পবিত্র কুরআনেও আছে যদি কুরআন পাঠ করা হয় তোমরা চুপ থাক। তাহলে এদের মতে কি সূরায়ে ফাতেহা কুরআনের অংশ নয়। আচ্ছা যদি মেনে নেই মুক্তাদি সূরা ফাতেহা না পড়লে নামায হবে না। তাহলে কোনো লোক প্রথম রাকআতের শেষের দিকে এসে রুকুতে ইমামকে পেল এবং সে সরাসরি রুকুতেই চলে গেল। তখন তার এই রাকআত হবে কি না। যদি এই লোকের নামায হয়ে যায় তাহলে আহলে হাদীসদের মুক্তাদী সূরা ফাতেহা না পড়লে নামায হবে না দাবীর বাস্তবতা কতটুকু থাকে? সুতরাং এসব মূর্খ আহলে হাদীসদের ভুল দাবী। যারা এসব না জেনে করে তারাতো ক্ষমাযোগ্য কিন্তু যারা ষড়যন্ত্রমূলক জেনে শুনে করে তারা অপরাধি।

১১) ইমামের ওয়ালয্‌যওয়াল্লীন বলার পর কোন কোন মুছল্লী আমীন উচ্চ স্বরে বলে, অনেক সময় আমীন বলার পর আরো বাড়িয়ে বলে ওয়ালে ওয়ালি দাইয়্যা ওয়া লিল মুসলিমীন। এটা সুন্নাত বহির্ভূত কাজ। বরং সহীহ হাদীসে আছে ইমাম যখন ওয়ালাদ্দাল্লীন বলবে তখন মুক্তাদিগণ অনুচ্চস্বরে আমীন বলবে। (তিরমিযী, মাসনাদে আহমদ, দারু কুতনী, আবুদাউদ তায়ালেসী, মাস্তাদরিকে হাকেম, তাবরানী ইত্যাদি) সহীহ হাদীসের দলীলের সাথে সাথে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে তোমরা দু’আ অনুচ্চস্বরে কর। আর বুখারী শরীফেই আছে ‘আমীন’ একটি দু’আ। সুতরাং কুরআন ও বুখারী শরীফের হাদীস মিলালেই বুঝা যায় আমীন অনুচ্চস্বরে বলাটাই আসল এবং সঠিক। সুতরাং তথাকথিত আহলে হাদীসদের উচ্চস্বরে আমীন বলাটা হাদীসের প্রকৃত ব্যাখ্যার বিপরীত। এখানে এটি বিষয় লক্ষ্য নিয় যে, আহলে হাদীস নামের এই নতুন ফেরকা টাকা পয়সা খরচ করে বিভিন্ন মসজিদে উচ্চ স্বরে আমীন বলার জন্য লোক প্রেরণ করে। কোনো মসজিদে হঠাৎ এক বা কয়েকজন লোক উচ্চ স্বরে আমীন বলার কারণে সকলের নামায ক্ষতির সম্মূখীন হয়। একারণে এটাকে নাম দেওয়া হয়েছে আমীন বিশশর। কিছু হাদীসে আমীন বিসসির তথা অনুচ্চস্বরে বলার কথা আছে কিছু হাদীসে বিল জেহের তথা উচ্চ স্বরে বলার কথা আছে। কিন্তু আহলে হাদীসদের আমীনটা কোনো একটাতে পড়ে না। তাদের উচ্চ স্বরে আমীন বলাটা আমীন বিশশরের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তারা পরিকল্পিতভাবে এক এক দিন এক এক মসজিদে গিয়ে উচ্চ স্বরে আমীন বলে টাকা আয় করে। সে কারণে তাদের আমীনটা হলো আমীন বিশশর তথা দুষ্টামী ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী আমীন বলা হয়। এরূপ আমীন বলা থেকে নিজেকে বাচানো এবং যারা এরূপ দুষ্টামী করে তাদের প্রতিহত করাও সকলের কর্তব্য।

১২) দন্ডায়মান এবং বসাবস্থায় পিঠ সোজা না রাখাঃ যেমন পিঠ কুঁজো করে রাখা বা ডানে-বামে হেলে থাকা। অনুরূপভাবে রুকু ও সিজদায় পিঠ সোজা না রাখা।

রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি রুকু-সিজদায় পিঠ সোজা করে না, আল্লাহ্‌ তার ছালাতের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। (ত্ববরানী ছহীহ সনদে) তিনি আরো বলেন,

أَتِمُّوا الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ

“তোমরা রুকু ও সিজদা পরিপূর্ণরূপে আদায় কর। (বুখারী ও মুসলিম)

১৩) রুকু অবস্থায় প্রশান্তি ও ধীরস্থীরতা অবলম্বন না করাঃ দেখা যায় অনেক মানুষ তাড়াহুড়া করে ছালাত আদায় করতে গিয়ে ভালভাবে রুকু-সিজদা করে না। রুকুর সময় পিঠ সেজা না করে মাথাটা একটু নীচু করে। মোরগের ঠোকর দেয়ার মত করে সিজদা করে। অথচ এভাবে ছালাত আদায়কারীকে হাদীছে নিকৃষ্ট ছালাত চোর বলা হয়েছে। আর তার ছালাতও বিশুদ্ধ হবে না। যায়দ বিন ওয়াহাব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযায়ফা (রাঃ) দেখলেন জনৈক ব্যক্তি অপূর্ণরূপে রুকু-সিজদা করছে। তিনি তাকে বললেন, তুমি তো ছালাত আদায় করো নি। তুমি যদি এ অবস্থায় মৃত্যু বরণ কর, তবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ্‌ যে ফিতরাত (বা বৈশিষ্ট বা ইসলাম) দিয়ে প্রেরণ করেছেন, তুমি তা ভিন্ন অন্য ফিতরাতের উপর মৃত্যু বরণ করবে। (বুখারী ও মুসলিম)

আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি দেখলেন, এক ব্যক্তি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে (দ্রুত) ছালাত আদায় করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, “তুমি ফিরে গিয়ে ছালাত আদায় কর। কেননা তুমি ছালাতই আদায় করো নি।” (বুখারী)

১৪) রুকু থেকে উঠার পর কোন শব্দ বাড়িয়ে বলাঃ যেমন কেউ কেউ রাব্বানা লাকাল হামদু বলার পর ওয়াশ্‌ শুকরু শব্দ বাড়িয়ে বলে। এটা সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত নয়।

১৫) রফউল ইয়াদায়ন করাঃ কিছু কিছু লোককে দেখা যায় রুকুতে যাওয়া ও উঠার সময়ও রফউর ইয়াদাইন তথা হাত উঠান। যা সুন্নাত পরিপন্থী। যেমন সহীহ হাদীসে আছে, হযরত যাবের ইবনে সমুরা বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা.) আমাদের সেখানে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন বললেন, কি আশ্চর্য দেখলাম তোমরা রফয়ে ইয়াদাইন তথা হাত উঠচ্ছ।যেন ওই হাত অবাধ্য ঘোড়ার গর্দনের মত। নামাযে স্থিতিশীল থাকো। অর্থাৎ হাত উঠায়োনা। (মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী, আহমদ, তাহাবী) এছাড়া আরো অনেক হাদীস দ্বারা তা প্রমাণিত। এরূপ সহীহ হাদীসের বর্ণনার পরও তথাকথিত আহলে হাদীসরা রফয়ে ইয়াদাইন না করলে বলে নামায সঠিক হচ্ছে না। আরো বিভিন্ন কথা। বিভিন্ন মসজিদে তা নিয়ে হট্টগোল বাজায়। এটিও তাদের আমীন বিশশরের ন্যায় আরেকটি ‍দুষ্টোমি। এব্যাপারেও সবার সতর্ক থাকা আবশ্যক।

১৬) ছালাতে সিজদা করার সময় সাতটি অঙ্গ পরিপূর্ণরূপে মাটিতে না রাখাঃ আবদুল্লাহ্‌ বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করতে আদিষ্ট হয়েছেন। মুখমণ্ডল (নাক ও কপাল) দুহাত, দুহাঁটু, দুপা। (বুখারী) কিছু লোক সিজদা করার সময় দুটি পা সামান্য একটু উঠিয়ে রাখে বা এক পা অন্যটির উপর রাখে। অনুরূপভাবে কেউ কেউ শুধু কপাল মাটিতে রাখে নাক রাখে না। এরূপ করা সুন্নাতের পরিপন্থী।

১৭) দুসিজদার মধ্যে তর্জনী আঙ্গুল নাড়ানোঃ একাজ সুন্নাত থেকে প্রমাণিত নয়।

১৮) প্রথম রাকআতের দ্বিতীয় সাজদার পর বসা : কিছু কিছু লোক জালসায়ে ইস্তিরাহাত নামে দ্বিতীয় সিজদার পর বসে পড়ে। তা সুন্নাত পরিপন্থী। সহীহ হাদীসে আছে নবী করীম (সা.) দ্বিতীয় সিজদা করে ওঠে যেতেন, বসতেন না। (আবু দাউদ, আহমদ) বুখারী শরীফের বর্ণনায় আছে ‘তার ধিরস্থিরভাবে সিজদা করো তার মাথা উঠাও এবং সোজা দাড়িয়ে যাও। (বুখারী) কিন্তু মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার এই নতুন দল জালসায়ে ইস্তিরাহাত নামে আরেকটা আমল বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে হ্যাঁ যদি কোনো দূর্বল মাজুর। তার বিধান ভিন্ন।

১৯) তাশাহুদের সময় আঙ্গুল নড়ানোঃ কিছু কিছু লোক তথাকথিত আহলে হাদীসেরই হবে হয়ত তাশাহহুদের সময় শাহাদাত আঙ্গুল উচু করে রেখে তা নড়াতে থাকে। তা সম্পূর্ণ সুন্নাত পরিপন্থী। সহীহ হাদীসে আছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন তাশাহহুদ পড়তেন আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করতেন কিন্তু আঙ্গুল নাড়াতেন না। (আবু দাউদ, নাসায়ী) সুতরাং যারা আঙ্গুল নড়াতে থাকেন তারা ভুলের মধ্যে আছেন।

২০) তিন বা চার রাকাআত বিশিষ্ট ছালাতের শেষ তাশাহ্হুদে তাওর্য়ারুক করাঃ অধিকাংশ মুছল্লী সব ধরণের তাশাহ্হুদে বসে ইফতেরাশ করে। (ইফতেরাশ হচ্ছে, ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসা। আর তাওর্য়ারুক হচ্ছে, ডান পা খাড়া রেখে বাম পাকে ডান পায়ের নীচ দিয়ে সামনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে নিতম্বের উপর বসা।) কিন্তু আহলে হাদীসদের কিছু লোকদের দেখা যায় তারা তাওয়াররুক করে। তা সম্পূর্ণ ভুল, সুন্নাহ পরিপন্থী। হাদীস শরীফে আছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক দু’রাকআতের পর তাশাহহুদ পড়তেন এবং ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসতেন। (বুখারী, ‍মুসলিম, আবুদাউদ, তিরমিযী, নাসায়ীসহ প্রায় হাদীসের কিতাবে এভাবে আছে)কিন্তু আহলে হাদীসগণ তাওয়াররুক করার পক্ষ নিয়ে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে চায়। এগুলো আহলে হাদীসের ইচ্ছাকৃত মতভেদ সৃষ্টি পায়তারা।

২১) দুদিকে সালাম ফেরানোর সময় মাথা ঝাঁকানোঃ লক্ষ্য করা যায় কতিপয় মুছল্লী সালাম ফেরানোর সময় মাথাটা একটু উপর দিকে উঠয়ে আবার নীচে নামায়। উভয় দিকে এরূপ করে। অথচ এটা সুন্নাতে রাসূলের বিপরীত কাজ। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডান দিকে সালাম ফেরানোর সময় বলতেন, আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্। সে সময় তাঁর ডান গালের শুভ্র অংশ পিছন থেকে দেখা যেত। আর বাম দিকে সালাম ফেরানোর সময় বলতেন, আস্ সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্। সে সময় তাঁর বাম গালের শুভ্র অংশ দেখা যেত। (তিরমিযী, নাসাঈ, আবু দাউদ)

২২) পূর্বের কাতার পূর্ণ না করেই নতুন কাতার শুরু করাঃ মসজিদের প্রশস্থতা দীর্ঘ হয়ার কারণে বা তাড়াহুড়া করে রাকাআত ধরার জন্য অনেক মানুষ অলসতা করে আগের কাতার পূর্ণ না করেই নতুন একটি কাতার শুরু করে দেয়। ফলে পরবর্তীরা তাদের সাথে এসে শরীক হয় এবং অনেক সময় আগের কাতারের ডান দিক বা বাম দিক অপূর্ণই রয়ে যায়। অথচ এরূপ করা কোন উচিত নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

(مَنْ وَصَلَ صَفاًّ وَصَلَهُ اللهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفاًّ قَطَعَهُ اللهُ)

“যে ব্যক্তি কাতার মিলিত করে আল্লাহ্ তার সথে সম্পর্ক জুড়ে দেন, আর যে ব্যক্তি কাতার বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহ্ তার সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করেন।” (নাসাঈ, ইবনু খুযায়মা ও হাকেম।)

২৩। কাতারা পূরনোর জন্য নামায অবস্থায় হেটে উপরে উঠা। এতে নামাযই বেঙ্গে যাবে। সুতরাং কাতার পূরনর জন্য এরূপ করা উচিত নয়।

২৪) সরাসরি ইমামের সাথে ছালাতে শরীক না হয়ে অপেক্ষা করাঃ অর্থাৎ- ইমাম সিজদায় থাকলে বাসার অপেক্ষা করা বা বসা অবস্থায় থাকলে দাঁড়ানোর অপেক্ষা করবে। তিনি যখন দাঁড়াবেন বা রুকুতে যাবেন তখন তার সাথে ছালাতে শামিল হবে। এটা সুন্নাত বহির্ভূত কাজ; বরং ইমাম যে অবস্থাতেই থাকুন তার সাথে ছালাতে শরীক হতে হবে।

মুয়ায বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

إِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الصَّلاةَ وَالْإِمَامُ عَلَى حَالٍ فَلْيَصْنَعْ كَمَا يَصْنَعُ الْإِمَامُ

“তোমাদের কেউ যদি ছালাতে উপস্থিত হয়ে ইমামকে কোন অবস্থায় পায় তবে সেভাবেই তার সাথে ছালাতে শরীক হবে ইমাম যেভাবে থাকেন।” (তিরমিযী)

২৫) ইমামের আগ বেড়ে কোন কাজ করাঃ যেমন ইমামের আগেই রুকূ, সিজদা করা বা দাঁড়িয়ে পড়া ইত্যাদি। তাড়াহুড়া করতে গিয়ে অনেকে এরূপ করে ফেলে। অথচ উচিত ছিল ধীরস্থিরভাবে ইমামের পরে পরে এসমস্ত কাজ করা। কেননা এক্ষেত্রে হাদীছে কঠিন নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কোন ব্যক্তি কি এ ভয় করে না যে, যখন ইমামের আগে সে মাথা উঠাবে, তখন হতে পারে আল্লাহ্ তার মাথাটা গাধার মাথায় পরিবর্তন করে দিবেন অথবা তার আকৃতিকে গাধার আকৃতিতে পরিবর্তন করে দিবেন? (বুখারী ও মুসলিম)

২৬) দেয়াল, স্তম্ভ প্রভৃতিতে হেলান দিয়ে ছালাত আদায় করাঃ কেননা ফরয ছালাতে ওয়াজিব হচ্ছে সামর্থবান ব্যক্তি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করবে। নফল ছালাতের ক্ষেত্রে এরূপ করতে অসুবিধা নেই। কেননা নফল ছালাত বসে আদায় করা বৈধ। সুতরাং বসে আদায় করার চাইতে দাঁড়িয়ে হেলান দিয়ে আদায় করা উত্তম।

২৭) সামান্য ব্যথা হলেই চেয়ারে বসে নামায। এটি একটি ভুল। অনেক সময় নামায হবে না। তাই সতর্ক থাকা উচিত।

২৮) নামাযীর সামনে দিয়ে চলে যাওয়াঃ এবিষয়ে অনেক মানুষ ভীষণ শিথীলতা প্রদর্শন করে থাকে। অথচ এক্ষেত্রে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। আবুল জুহাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَيِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُو النَّضْرِ لَا أَدْرِي أَقَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً

“ছালাতের সম্মুখ দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত এতে কি পরিমাণ পাপ রয়েছে। তবে তার সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করার চাইতে চল্লিশ (বছর) দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম হত।” হাদীছের বর্ণনাকারী আবু নযর বলেন, আমার মনে পড়ে না- চল্লিশ দিন না চল্লিশ মাস না চল্লিশ বছর বলেছেন।” (বুখারী) কিন্তু বিষয়টি তথাকথিত আহলে হাদীসের সেখানে বেশি পাওয়া যায়। আরবের মসজিদগুলোতে বেশিরভাগ কাতারের সামনে দিয়ে চলা ফেরা করে থাকে। এটি ইচ্ছাকৃত করলে গোনাহ হবে।

২৯) অনর্থক বেশী নড়াচড়া করাঃ সুন্নাত হচ্ছে মুমিন ব্যক্তি শরীর হৃদয়-মন সবকিছু উপস্থিত রেখে বিনয়-নম্র সহকারে ছালাত আদায় করবে। উক্ত ছালাত ফরয হোক বা নফল। কেননা আল্লাহ্ তাআলা বলেন, নিশ্চয় মুমিনগণ সফলকাম হবে। যারা ছালাতে বিনয়ী একাগ্র থাকে। (সূরা মুমিনূন- ১/২) সুতরাং আবশ্যক হচ্ছে অনর্থক নড়াচড়া না করে প্রশান্তি ও ধীরস্থিরভাবে ছালাত আদায় করা।

তাই ছালাত অবস্থায় বেশী নাড়া-চাড়া করা, ঘড়ি দেখা, বোতাম লাগানো, আঙ্গুল ফুটানো, নাক, দাড়ী, কাপড় প্রভৃতি নাড়াচাড়া করা মাকরূহ। এধরনের নড়াচড়া অতিরিক্ত হলে নামায ভেঙ্গে যাবে। যেমন কেউ নামাযে পড়া অবস্থায় হাটল। তার নামায ভেঙ্গে যাবে। আহলে হাদীসরা মনে করে কাতার সোজা করতে গিয়ে বা পূরণ করতে গিয়ে নামাযে হাটাহাটি করলে নামায ভাঙ্গবে না। এটি তাদের মস্তবড় ভুল। কারণ হাটাকেও যদি আমলে কাসীর না বলা হয় আর কাকে বলা হবে?

৩০) বিনা কারণে চোখ বন্ধ করে ছালাত আদায় করাঃ “ছালাত অবস্থায় দুচোখ বন্ধ রাখা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হেদায়াত বহির্ভূত কাজ। তিনি তাশাহ্হুদে বসে ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি রাখতেন এবং দুআ পাঠ করতেন। অবশ্য মুছল্লীর সামনে যদি এমন কিছু থাকে যার দিকে দৃষ্টি পড়ার কারণে তার বিনয় ও একাগ্রতা বিনষ্ট হবে, তবে এক্ষেত্রে চোখ বন্ধ করতে কোন অসুবিধা নেই।

৩১) কাঁচা পিঁয়াজ-রসুন খেয়ে মসজিদে আসাঃ ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন

مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ يَعْنِي الثُّومَ فَلَا يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا

“যে ব্যক্তি এ বৃক্ষ (পিয়াজ-রসুন) থেকে কোন কিছু খাবে সে যেন আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়।” (বুখারী) অবশ্য রান্নার মাধ্যমে পিঁয়াজ-রসুনের দুর্গন্ধ দূর হয়ে গেলে কোন অসুবিধা নেই। অনুরূপভাবে ধুমপান করে (মুখে দুর্গন্ধ নিয়ে) মসজিদে আসাও নাজায়েয।

৩২) ছালাতরত অবস্থায় হাই প্রতিরোধ না করাঃ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

(إذاَ تَثاَءَبَ أحَدُكُمْ فِيْ الصَّلاَةِ فَلْيَكْظِمْ ماَ اسْتَطاَعَ، فَإنَّ الشَّيْطاَنَ يَدْخُلُ)

”তোমাদের কোন ব্যক্তির ছালাত অবস্থায় যদি হাই আসে তবে সাধ্যানুযায়ী তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করবে। কেননা ঐ অবস্থায় শয়তান ভিতরে প্রবেশ করে। (মুসলিম) প্রতিরোধ করার পদ্ধতি হচ্ছে, ঐ অবস্থায় মুখে হাত দেয়া। যেমনটি অন্যান্য বর্ণনায় পাওয়া যায়।

এখানে উল্লেখিত অনেক কিছু আছে যা আহলে হাদীসরা ইচ্ছা করেই করে থাকে। এক কথায় আমি বলব ইহুদী খৃষ্টানরা মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন বাতিল ফেরকা সৃষ্টি করে এসেছে। তার মধ্যে আহলে হাদীসও একটি বাতিল এবং জঘণ্য একটি ফেরকা। যাদেরকে মুসলমানদের ইবাদত নষ্ট করার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। উপমহাদেশে আমরা একটা বিষয় ভাল করেই জানি যে, কাদিয়ানী সৃষ্টি করা হয়েছে আকীদা নষ্ট করার জন্য, বেরলভী সৃষ্টি করা হয়েছে বিভিন্ন বিদআতের প্রসার ঘটানোর জন্য, মওদূদীকে সৃষ্টি করা হয়েছে সামাজতন্ত্রের বদলে পাশ্চাত্য গণতন্ত্রকে ইসলাম সম্মত বলে মুসলমানদের মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটানোর জন্য। যার এখন আর প্রয়োজন নেই। সে কারণেই মওদুদী জমাআতকে এখন আর পাশ্চাত্যরা পাত্তা দিচ্ছে না। সেরূপই আহলেহাদীসকে ইংরেজরা মুসলমানদের ইবাদতকে বিতর্কিত করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। যা ইংরেজ আমল থেকে শুরু হলেও তখন মুসলমানদের মাঝে এরা পাত্তা পাইনি। কিন্তু বর্তমানে এই দলটিকে নতুন করে মোটা অংকের টাকা ব্যায়ের মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রর্তামনে এই দলের মিশন হলো, সারা দুনিয়ায় মুসলমানদের পূর্বসূরী আকাবির, ইমাম, মুহাদ্দিস, সাহাবায়ে কেরামসহ সকলের বদনামী করে তাদের ব্যাপারে মুসলমানদের ভক্তি শ্রদ্ধা হ্রাস করা, তাদের বিতর্কিত করা, ইবাদাত যা বিতর্কিত নয় তা বিতর্কিত করা এবং আধুনিক পাশ্চাত্য যা চায় তথা মিডিয়ার প্রতি মুসলমানদের ঝোঁকা, নারী নেতৃত্ব হালাল করা, ইবাদাতের মধ্যে নারীদের ইমামতী বৈধ হয় এমন অবস্থার সৃষ্টি করা, দ্বিনদার নারীরাও যেন ঘর থেকে বের হয়ে যায় তার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। এসব মিশন নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছে। তাই মুসলমানদের এদের ব্যাপারে খুবই সতর্কতা প্রয়োজন।

সকল বিষয়ে আল্লাহ যেন আমাদেরকে সতর্ক থাকার এবং সঠিকভাবে বোঝার তাওফীক দান করেন আমীন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s