নবীজীর সুন্নাত

নবীজীর সুন্নাত

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা :

ইস্তিঞ্জার সুন্নাতসমূহ

 ১. মাথা ঢেকে রাখা। (বাইহাকী শরীফ, হাঃ নং ৪৫৬)

 ২. জুতা-সেন্ডেল পরিধান করে যাওয়া।  (তাবাকাতে ইবনে সাআদ’, ১৮৫/ কানযুল উম্মাল, হাঃ নং-১৭৮৭২)

 ৩. পায়খানায় প্রবেশের পূর্বে এই দু‘আ পড়া :  بسم الله اللهم انى اعوذبك من الخبث والخبائث  (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ৫)

 ৪. দু‘আ পড়ার পর আগে বাম পা ঢুকানো।  (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩২)

 ৫. কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ দিয়ে না বসা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৪৪)

 ৬. যথাসম্ভব বসার নিকটবর্তী হয়ে ছতর খোলা এবং বসা অবস্থায় পেশাব ও পায়খানা করা, দাঁড়িয়ে পেশাব না করা।   (নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ২৯/ তিরমিযী শরীফ, হাঃ নং ১৪)

 ৭. পেশাব ও নাপাক পানির ছিঁটা হতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বেঁচে থাকা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২১৮)

 ৮. পানি খরচ করার পূর্বে ঢিলা-কুলুখ (বা টয়লেট পেপার) ব্যবহার করা।  (বাইহাকী, হাঃ নং ৫১৭)

 ৯. ঢিলা ও পানি খরচ করার সময় বাম হাত ব্যবহার করা।  (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৫৪)

 ১০. পেশাবের ফোঁটা আসা বন্ধ হওয়ার জন্য আড়ালে সামান্য চলাফেরা করা। (ইবনে মাজাহ শরীফ, হাঃ নং ৩২৬)

 ১১. যেখানে পেশাব ও পায়খানার জন্য নির্ধারিত কোন জায়গা নেই, সেখানে এমনভাবে বসা যেন ছতর নজরে না পড়ে। (আবু দাউদ হাঃ নং ২)

 ১২. পেশাবের জন্য নরম বা এমন স্থান তালাশ করা যেখান থেকে পেশাবের ছিঁটা শরীরে বা কাপড়ে না লাগে।  (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩)

 ১৩. ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের পর পানি ব্যবহার করা।   (সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাঃ নং ৮৩)

 ১৪. ডান পা দিয়ে বের হওয়া।  (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩২)

 ১৫. বাইরে এসে এই দু‘আ পড়া :  غفرانك الحمد لله الذى اذهب عنى الاذى وعافانى  (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩০ : ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৩০১)

উযুর ফরয ৪টি

 ১. সমস্ত মুখ একবার ধৌত করা। (সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬)

 ২. দুই হাত কনুইসহ একবার ধৌত করা। (ঐ)

 ৩. মাথার এক চতুর্থাংশ একবার মাসাহ করা। (ঐ)

 ৪. উভয় পা টাখনুসহ একবার ধৌত করা। (ঐ)

 ফায়দা : উপরোক্ত চারটি কাজের কোন একটি না করলে বা এর মধ্যে এক চুল পরিমাণও শুকনা থাকলে উযু সহীহ হবে না। (প্রমাণ : শামী, ১ : ৯১/ আল বাহরুর রায়িক, ১ : ৯/ হিদায়া, ১ : ১৬)

উযুর সুন্নাতসমূহ

 ১. উযুর নিয়ত করা অর্থাত উযুকারী মনে মনে এই নিয়ত করবে যে, পবিত্রতা অর্জন করা ও নামায জায়েয হওয়ার জন্য আমি উযু করছি।  (সূরা বায়্যিনাহ, ৫/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৬৮৯)

 ২. বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ে উযু আরম্ভ করা। হাদীসে পাকে আছে, বিসমিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ পড়ে উযু করলে যতক্ষণ ঐ উযু থাকবে, ফেরেশতাগণ তার নামে ততক্ষণ অনবরত সাওয়াব লিখতে থাকবে, যদিও সে কোন মুবাহ কাজে লিপ্ত থাকে।  (নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ৭৮/ তাবারানী সাগীর, ১ : ৭৩)

 ৩. উভয় হাত পৃথকভাবে কব্জিসহ তিনবার ধোয়া।  (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৫৯)

 ৪. মিস্‌ওয়াক করা। যদি মিস্‌ওয়াক না থাকে তাহলে আঙ্গুল দ্বারা দাঁত মাজা মিস্‌ওয়াক অর্ধ হাতের চেয়ে বেশি লম্বা না হওয়া এবং গাছের ডাল হওয়া মুস্তাহাব।   (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ৯২১৬, ১৩৯, ৩৯৯০/ তিরমিযী, হাঃ নং ২৩/ বাইহাকী, হাঃ নং ১৭৪)

 ৫. তিনবার কুলি করা। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৮৫)

 ৬. তিনবার নাকে পানি দেয়া এবং নাক সাফ করা।  (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ নং ১০৭৭)

 ৭. ততসঙ্গে প্রতিবারই নাক ঝাড়া। (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ২৩৬)

 ৮. প্রত্যেক অঙ্গকে পূর্ণভাবে তিনবার করে ধোয়া। এর জন্য তিনবারের বেশি পানি নিতে হলে নিবে। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৫৯)

 ৯. দুই হাতে মুখ ধোয়া এবং মুখমণ্ডল ধোয়ার সময় দাড়ি খিলাল করা।  (তিরমিযী, হাঃ নং ৩১)

 ১০. হাত ও পা ধোয়ার সময় আঙ্গুলসমূহ খিলাল করা।  (তিরমিযী, হাঃ নং ৩৮)

 ১১. একবার সম্পূর্ণ মাথা মাসাহ্ করা। (তিরমিযী, হাঃ নং ৩৪)

 ১২. উভয় কান মাসহ করা। উল্লেখ্য, কানের ছিদ্রের মধ্যে কনিষ্ঠ আঙ্গুল ঢুকিয়ে এবং ভিতর দিকে অবশিষ্ট অংশে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা মাসাহ করা।  (তিরমিযী, হাঃ নং ৩৩/ আবু দাউদ, হাঃ নং ১৩৫)

 ১৩. উযুর অঙ্গসমূহ হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধোয়া।  (মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৫৭৬/ সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাঃ নং ১১৮)

 ১৪. এক অঙ্গ ধোয়ার পর অন্য অঙ্গ ধৌত করতে বিলম্ব না করা।  (মুসলিম, হাঃ নং ২৪৩/ আবু দাউদ, হাঃ নং ১৭৩)

 ১৫. তরতীবের সাথে উযু করা। অর্থাত উযুর অঙ্গসমূহ ধোয়ার সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।  (আবু দাউদ, হাঃ নং ১৩৭)

 ১৬. ডান দিকের অঙ্গ আগে ধোয়া। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৬৮)

 ১৭. শীত অথবা অন্য কোন কারণে যখন উযু করতে ইচ্ছে না হয়, তখনও উযুর অঙ্গসমূহ উত্তমরূপে ধুয়ে উযু করা।   (তিরমিযী, হাঃ নং ৫১/ মুসলিম, হাঃ নং ২৫১)

 ১৮. উযুর মধ্যে নিম্নোক্ত দু‘আটি পড়া :  اللهم اغفرلى ذنبى ووسع لى فى دارى وبارك لى فى رزقى (আমালুল্‌য়াওমি ওয়াল লাইলি লি ইবনিসসুন্নী, হাঃ নং ২৮)

 এবং উযু শেষ করে কালিমায়ে শাহাদাত পড়া। (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ২৩৪)

 অতঃপর এ দু‘আ পড়া : اللهم اجعلنى من التوابين واجعلنى من المتطهرين

(তিরমিযী, হাঃ নং ৫৫)

 উল্লেখ্য, গোসল এবং তায়াম্মুমের শুরু ও শেষে উযুতে বর্ণিত দু‘আ পড়বে।

 বি.দ্র. শুধু এ সব বর্ণনা পড়ার দ্বারা সুন্নাত তরীকায় উযু করা সম্ভব নয়, এ জন্য কোন হাক্কানী আলেম থেকে সব বিষয়গুলো চাক্ষুষভাবে দেখে নিবে। আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে সকল বিষয় চাক্ষুষভাবে দেখিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন।

 (তিরমিযী, হাঃ নং ১৪৯)

গোসলের ফরয তিনট

 ১. ভালভাবে একবার কুলি করা।  (সূরা মায়িদা, আয়াত নং ৬)

 ২. নাকের নরম স্থান পর্যন্ত একবার পানি পৌঁছানো। (ঐ)

 ৩. সমস্ত শরীরে একবার পানি পৌঁছে দেয়া, যেন কোথাও এক চুল পরিমাণ শুকনো না থাকে।

 (ঐ/ তিরমিযী, ১০৩; আল বাহরুর রায়িক, ১ : ৪৫/ শামী, ১ : ১৫১)

গোসলের সুন্নাতসমূহ

 ১. ফরয গোসলের পূর্বে ইস্তিঞ্জা অর্থাত পেশাব করা।   (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ১০২০)

 ২. শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়া।  (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১২৬৯৪)

 ৩. পৃথকভাবে উভয় হাত কব্জিসহ ধোয়া।  (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৪৮)

 ৪. শরীর বা কাপড়ের কোন স্থানে নাপাকী লেগে থাকলে প্রথমে তা তিনবার ধুয়ে পবিত্র করে নেয়া।

(মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৩২১)

 ৫. নাপাকী লেগে থাকলে বা না লেগে থাকলে সর্ব অবস্থায় গুপ্তাঙ্গ ধৌত করা। এরপর উভয় হাত ভালভাবে ধুয়ে নেয়া।  (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৪৯)

 ৬. সুন্নাত তরীকায় পূর্ণ উযু করা। তবে গোসলের স্থানে পানি জমে থাকলে, গোসল শেষ করে পা ধৌত করবে।  (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৬০)

 ৭. প্রথমে মাথায় পানি ঢালা।  (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৫৬)

 ৮. এরপর ডান কাঁধে। (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৫৪)

 ৯. এরপর বাম কাঁধে।  (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৫৪)

 ১০. অতঃপর অবশিষ্ট শরীর ভিজানো।  (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৭৪)

 ১১. সমস্ত শরীরে এমনভাবে তিনবার পানি পৌঁছানো, যেন একটি পশমের গোড়াও শুষ্ক না থাকে।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাঃ নং ৮১৩)

তবে নদী-পুকুর ইত্যাদিতে গোসল করলে কিছুক্ষণ ডুব দিয়ে থাকলেই তিন বার পানি ঢালার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।  (আবু দাউদ, হাঃ নং ২৪৯/ মুসান্নাফে ইবনে আবী মাইবা, হাঃ নং ৮১৩)

 ১২. সমস্ত শরীর হাত দ্বারা ঘষে-মেজে ধৌত করা।  (তিরমিযী, হাঃ নং ১০৬)

তায়াম্মুমের ফরয ৩ট

 ১. নিয়ত করা অর্থাত নামায পড়া বা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা।

(সূরা নিসা, আয়াত : ৪৩)

 ২. অতঃপর মাটি বা মাটি জাতীয় কোন পবিত্র জিনিসে প্রথমবার হাত মেরে সমস্ত মুখমণ্ডল মাসাহ্ করা।

 ৩. অনুরূপভাবে দ্বিতীয়বার মাটিতে হাত মেরে দুই হাত কনুইসহ মাসাহ্ করা। (ঐ/ হিদায়া, ১ : ৫০-৫১/ আলমগীরী, ১:২৫-২৬)

তায়াম্মুমের সুন্নাতসমূহ

 ১. তায়াম্মুমের শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়া।

 (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১২৬৯৪)

 ২. মাটিতে হাত রাখার সময় আঙ্গুলসমূহ ফাঁক করে রাখা।

 (মুসলিম, হাঃ নং ৩৬৮)

 ৩. মাটিতে উভয় হাত রাখার পর হস্তদ্বয় সামান্য আগে পিছে নিয়ে মাটিতে ঘর্ষণ করা।

(মুসলিম, হাঃ নং ৩৬৮)

 ৪. তারপর উভয় হাত ঝেড়ে নেয়া।

(মুসলিম, হাঃ নং ৩৬৮)

 ৫. তায়াম্মুমে অঙ্গসমূহ মাসাহ্ করার সময় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। অর্থাত প্রথমে সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল, তারপর ডান তারপর বাম হাত কনুইসহ মাসাহ্ করা।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৩০)

 ৬. চেহারা ও হাতের মাসাহ্-এর মাঝে বিলম্ব না করা।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৩০)

কাপড় পরিধানের সুন্নাতসমূহ

 ১. প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদা কাপড় বেশি পছন্দ করতেন।

(মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৭৩৭৯)

 ২. জামা-পায়জামাসহ সকল প্রকার পোশাক পরিধানের সময় ডান হাত ও ডান পা আগে প্রবেশ করানো।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৪১৪১)

 ৩. পুরুষদের জন্য পায়জামা, লুঙ্গি এবং জামা, জুব্বা ও আবা-কাবা পায়ের টাখনুর উপরে রাখা। টাখনুর নীচে নামিয়ে পোশাক পরিধান করা হারাম। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে কোন পোশাক পরিধান করবে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৭৮৪/ আবু দাউদ হাঃ নং ৪০৯৩, ৪১১৭/ সহীহ ইবনে হিব্বান, হাঃ নং ৫৪৪৭)

 বি.দ্র. মোজার হুকুম-এর ব্যতিক্রম।

 ৪. সাধারণভাবে কাপড় পরিধান করার সময় এই দু‘আ পড়া :

 الحمد لله الذى كسانى هذا ورزقنيه من غير حول منى ولاقوة

(মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৭৪০৯)

 এবং নতুন কাপড় পরিধান করে এই দু‘আ পড়া :

 الحمد لله الذى كسانى ما اوارى به عورتى واتجمل به فى حياتى

(তিরমিযী, হাঃ নং ৩৫৬০/ ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৩৫৫৭)

 ৫. টুপি পরা। টুপির উপর পাগড়ী পরা মুস্তাহাব এবং লেবাসের আদব। তবে এটা নামাযের সুন্নাত নয়। টুপি ছাড়া পাগড়ী বাঁধা সুন্নাতের পরিপন্থী।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৪০৭৮)

 ৬. পাগড়ী বাঁধার পর মাথার পিছন দিকে এক হাত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখা।

 (মুসলিম, হাঃ নং ১৩৫৯)

 বি.দ্র.- কোন উযুর না থাকলে টুপির সাথে সব সময় পাগড়ী পরিধান করবে। শুধু নামাযের সময়পাগড়ী পরার হাদীস পাওয়া যায় না।

 ৭. বিসমিল্লাহ বলে কাপড় খোলা আরম্ভ করা এবং খোলার সময় বাম হাত ও বাম পা আগে বের করা।

 (আমালুল্‌ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাঃ নং ২৭৪ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ২৪৯১০)

 ৮. জুতা প্রথমে ডান পায়ে পরা, অতঃপর বাম পায়ে পরা।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৮৫৫)

 ৯. জুতা খোলার সময় প্রথমে বাম পা থেকে অতঃপর ডান পা থেকে খোলা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৮৫৫)

মসজিদে প্রবেশের সুন্নাতসমূহ

 ১. বিসমিল্লাহ পড়া।

 (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৬৪৭৩ আমলুল্‌ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাঃ নং ৮৮)

 ২. দরূদ শরীফ পড়া

। (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৬৪৭২)

 ৩. অতঃপর এই দু‘আ পড়া :

 اللهم افتح لى ابواب رحمتك (মুসলিম, হাঃ নং ৭১৩)

 উল্লেখিত দু‘আ সমূহ একত্রে এভাবে পড়া যায়-

 بسم الله والصلوة والسلام على رسول الله اللهم افتح لى ابواب رحمتك

৪. মসজিদে ডান পা আগে রাখা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৪২৬)

 ৫. মসজিদে প্রবেশ করে ই‘তিকাফের নিয়ত করা।

 (শামী, ২ : ৪৪৩/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২০৪২)

 বি.দ্র. মসজিদে প্রবেশের সময় প্রথমে বাম পায়ের জুতা খুলে জুতার উপর বাম পায়ে দাঁড়াবে অতঃপর ডান পায়ের জুতা খুলে দু‘আসমূহ পড়ে তারপর প্রথমে ডান পা মসজিদের ভিতরে রাখবে।

মসজিদ থেকে বের হওয়ার সুন্নাতসমূহ

 ১. বিসমিল্লাহ পড়া।

(মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৬৪৭৩)

 ২. দরূদ শরীফ পড়া।

(মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৬৪৭২)

 ৩. অতঃপর এই দু‘আ পড়া :

 اللهم انى اسئلك من فضلك

(মুসলিম, হাঃ নং ৭১৩)

উল্লেখিত দু‘আ সমূহ একত্রে এভাবে পড়া যায় :

 بسم الله والصلوة والسلام على رسول الله اللهم انى اسئلك من فضلك

এ দু‘আ গুলো বের হওয়ার পূর্বেই পড়বে।

 ৪. মসজিদের বাইরে (জুতার উপর) বাম পা আগে রাখা।

 (মুস্তাদরাকে হাকিম, হাঃ নং ৭৯১)

 ৫. অতঃপর প্রথমে ডান পায়ে জুতা পরা। তারপর বাম পায়ে পরা।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৮৫৫)

আযানের সুন্নাতসমূহ

 ১. পাক-পবিত্র অবস্থায় আযান দেয়া।

 (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ১৭৯৯)

 ২. কিবলামুখী হয়ে আযান দেয়া এবং উভয় পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রেখে কিবলামুখী করে রাখা।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৫০৭/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ১৮০২)

 ৩. ক. প্রথম দুই তাকবীর এক শ্বাসে একত্রে বলে থামা।

 খ. অতঃপর দুই তাকবীর এক শ্বাসে একত্রে বলে থামা।

 বি.দ্র. উল্লেখিত তাকবীরসমূহের প্রত্যেকটির শেষে সাকিন করা, অর্থাত ‘আল্লাহু আকবারুল্লাহু আকবার’ এভাবে না বলা।

 (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ২৩৭৭)

 গ. অতঃপর মাঝের বাক্যগুলির মধ্য হতে এক একটি বাক্য এক শ্বাসে বলা এবং প্রত্যেক বাক্যের শেষে সাকিন করা ও থামা।

 (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ২৩৭৭)

 ঘ. শেষের দুই তাকবীর এক শ্বাসে একত্রে বলে থামা ও উভয় তাকবীরের শেষে সাকিন করা।

 ঙ. সর্বশেষে লা-ইলা-হা-ইল্লাল্লাহ বলে আযান শেষ করা।

 (নাসায়ী, হাঃ নং ৬৫২)

 উল্লেখ্য, এক এক বাক্য বলে থামার পর এ পরিমাণ বিরতি দেয়া, যাতে পঠিত বাক্যটি একবার পড়া যায়; অর্থাত শ্রোতাগণ যেন উক্ত সময়ে আযানের জওয়াব দিতে পারেন।

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ২২৩৪)

 ৪. ডান দিকে চেহারা ফিরানোর পর ‘হাইয়া আলাসসালাহ’ বলা এবং বাম দিকে চেহারা ফিরানোর পর ‘হাইয়া আলাল ফালাহ্’ বলা। কিন্তু বুক ও পা কিবলার দিক থেকে ফিরাবে না।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩৪)

 ৫. মহল্লার প্রথম আযান শ্রবণের সাথে সাথে আযান শেষ হওয়া পর্যন্ত শ্রোতাগণের তিলাওয়াত, যিকির, তাসবীহ ইত্যাদি বন্ধ করে দেয়া।

 (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ১৮৪৯)

 ৬. আযানের জওয়াব দেয়া। অর্থাত মুআজ্জিনের আযানের বাক্য উচ্চারণের ফাঁকে ফাঁকে শ্রোতাগণের হুবহু আযানের শব্দগুলোই বলা। তবে ‘হাইয়া আলাসসালাহ’এবং‘হাইয়া আলাল ফালাহ্’ বলার পর জওয়াবে ‘লা -হাউলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলা। আর ফজরের আযানে ‘আসসালাতু খইরুম মিনান নাউম’ এর জওয়াবে ‘সদাক্বতা ওয়া বারারতা’ বলা।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬১১-৬১৩/ মুসলিম হাঃ নং ৩৮৫)

 ৭. আযান শেষে দরূদ শরীফ পড়া।

(মুসলিম, হাঃ নং ৩৮৪)

 ৮. অতঃপর এই দু‘আ পড়া :

 اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلوة القائمة ات محمدن الوسيلة والفضيلة وابعثه مقاما محمود الذى وعدته انك لاتخلف الميعاد

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬১৪, ৪৭১৯/ বাইহাকী হাঃ নং ১৯৩৩)

 বি.দ্র. আযানের তাকবীরসমূহ বিশেষত দ্বিতীয় তাকবীর এক আলিফ-এর চেয়ে বেশি j¤^v করা সহীহ নয় এবং আওয়াজের মধ্যে তরঙ্গ সৃষ্টি করা অর্থাত, ইচ্ছা পূর্বক আওয়াজ উঁচু-নীচু করা মারাত্মক অন্যায়।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬০৯/ দারাকুতনী, হাঃ নং ৯০৬ আদ/ দুররুল মুখতার, ১ : ৩৮৭)

ইকামাতের সুন্নাতসমূহ

 ১. পাক-পবিত্র অবস্থায় ইকামাত দেয়া।

(তিরমিযী, হাঃ নং ২০০)

 ২. কিবলামুখী হয়ে ইকামাত দেয়া এবং উভয় পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রেখে উভয় পা কিবলামুখী করে রাখা।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৪৯৯/ আদ্ দুররুল মুখতার, ১ : ৩৮৯)

 ৩. ক. ইকামাতে হদর করা অর্থাত, প্রথম চার তাকবীর একত্রে এক শ্বাসে বলে থামা এবং প্রত্যেক তাকবীরের শেষে সাকিন করা।

 (তিরমিযী, হাঃ নং ১৯৫)

 খ. অতঃপর মাঝের বাক্যগুলোর মধ্যে হতে দুই দুই বাক্য একত্রে এক শ্বাসে বলে থামা এবং প্রত্যেক বাক্যের শেষে সাকিন করা।

 (কানযুল উম্মাল, হাঃ নং ২৩২১০)

 গ. সর্বশেষ দুই তাকবীরের সাথে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ মিলিয়ে একত্রে এক শ্বাসে বলা এবং উভয় তাকবীরের শেষে সাকিন করা।

 (মা‘আরিফুস সুনান, ২ : ১৯৫/ শামী, ১ : ৩৮৬)

 ৪. ইকামাতেও আযানের ন্যায় ডান দিকে চেহারা ফিরিয়ে তারপরে ‘হাইয়া আলাস্ সালাহ’ বলা। এরপর বাম দিকে চেহারা ফিরিয়ে ‘হাইয়া আলাল ফালাহ্’ বলা। (তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন সীনা না ঘুরে এবং চেহারা ঘুরানো শেষ হওয়ার পর হাইয়া…বলা শুরু করা।)

 (মুসলিম, হাঃ নং ৫০৩/ আদ্ দুররুল মুখতার, ১ : ৩৮৭)

 ৫. আযানের জওয়াবের মতই মুসল্লীগণের ইকামাতের জওয়াব দেয়া। তবে ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’-এর জওয়াবে

اقا مها الله وادامها

(আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা) বলা।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৫২৮)

নামাযের ফরয ১৩ট

 নামাযের বাইরে ৭টি ফরয

 ১. শরীর পাক হওয়া।

(সূরা মায়িদা আয়াত : ৬)

 ২. কাপড় পাক হওয়া।

(সূরা মুদ্দাছ্‌ছির, আয়াত : ৪)

 ৩. নামাযের জায়গা পাক হওয়া।

(সূরা বাকারা, আয়াত : ১২৫)

 ৪. ছতর ঢাকা (অর্থাত পুরুষগণের নাভী হতে হাঁটুর নীচ পর্যন্ত এবং মহিলাদের চেহারা, কব্জি পর্যন্ত দুই হাত এবং পায়ের পাতা ব্যতিরেকে সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা)।

(সূরা আ‘রাফ, আয়াত : ৩১)

 ৫. কিবলামুখী হওয়া।

(সূরা বাকারা, আয়াত : ১৪৪)

 ৬. ওয়াক্তমত নামায পড়া।

(সূরা নিসা আয়াত : ১০৩)

 ৭. অন্তরে নির্দিষ্ট নামাযের নিয়ত করা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১)

নামাযের ভিতরে ৬টি ফরয

 ১. তাকবীরে তাহরীমা অর্থাত শুরুতে আল্লাহু আকবার বলা।

(সূরা মুদ্দাছছির, আয়াত : ৩)

 ২. ফরয ও ওয়াজিব নামায দাঁড়িয়ে পড়া।

(সূরা বাকারা, আয়াত : ২৩৮)

 ৩. ক্বিরা‘আত পড়া (অর্থাত কুরআন শরীফ হতে ছোট এক আয়াত পরিমাণ পড়া।)

(সূরা মুয্‌যাম্মিল ,আয়াত : ২০)

 ৪. রুকু করা।

(সূরা হজ্জ, আয়াত : ৭৭)

 ৫. দুই সিজদা করা।

(সূরা হজ্জ, আয়াত : ৭৭)

 ৬. শেষ বৈঠক (নামাযের শেষে তাশাহহুদ পরিমাণ বসা)

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৯৭০)

 বি.দ্র. নামাযী ব্যক্তির নিজস্ব কোন কাজের মাধ্যমে (যেমন- সালাম ফিরানো) নামায থেকে বের হওয়াও একটা ফরয।

(আল বাহরুর রায়িক, ১ : ৫১৩)

নামাযের কোন ফরয বাদ পড়লে নামায বাতিল হয়ে যায়। সাহু সিজদা করলেও নামায সহীহ হয় না।

 (প্রমাণ : আল বাহরুর রায়িক, ১ : ৫০৫) শামী, ১ : ৪৪৭/ হিদায়া, ১ : ৯৮)

নামাযের ওয়াজিব ১৪ট

 ১. সূরা ফাতিহা পূর্ণ পড়া।

(বুখারী, হাঃ নং ৭৫৬)

 ২. সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সূরা বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ মিলানো।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৭৬, মুসলিম, হাঃ নং ৪৫১)

 ৩. ফরযের প্রথম দুই রাক‘আতকে ক্বিরা‘আতের জন্য নির্দিষ্ট করা।

 (বুখারী শরীফ, হা নং ৭৭৬/ মুসলিম, হাঃ নং ৪৫১)

 ৪. সূরা ফাতিহাকে অন্য সূরার আগে পড়া।

 (তিরমিয়ী, হাঃ নং ২৪৬/ ত্বাহাবী, হাঃ নং ১১৭২)

 ৫. নামাযের সকল রোকন ধীর স্থিরভাবে আদায় করা। (অর্থাত রুকু, সিজদা এবং রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ও দুই সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসে কমপক্ষে এক তাসবীহ পরিমাণ দেরী করা।)

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৮৫৬, ৮৫৭, ৮৫৮)

 ৬. প্রথম বৈঠক করা (অর্থাত তিন অথবা চার রাক‘আত বিশিষ্ট নামাযের দুই রাকআতের পর বসা)।

(বুখারী, হাঃ নং ৮২৮)

 ৭. উভয় বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়া।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮৩০, ৮৩১/ মুসলিম, হাঃ নং ৪০২, ৪০৩)

 ৮. প্রত্যেক রাক‘আতের ফরয এবং ওয়াজিবগুলোর তরতীব বা সিরিয়াল ঠিক রাখা।

(তিরমিযী, হাঃ নং ৩০২)

 ৯. ফরয ও ওয়াজিবগুলোকে স্ব স্ব স্থানে আদায় করা। (যেমন দ্বিতীয় সিজদা প্রথম সিজদার সাথে করা। প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু শেষ করে ততক্ষণাত তৃতীয় রাকা‘আতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

 (বাদায়িউস সানায়ে, ১ : ৬৮৯)

 ১০. বিতরের নামাযে তৃতীয় রাক‘আতে কিরাআতের পর কোন দু‘আ পড়া। অবশ্য দু‘আ কুনূত পড়লে ওয়াজিবের সাথে সুন্নাতও আদায় হয়ে যাবে।

 (নাসায়ী হাঃ নং ১৬৯৯/ ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ১১৮২/ ত্বহাবী, হাঃ নং ১৪৫৫)

 ১১. দুই ইদের নামাযে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলা।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ১১৫৩)

 ১২. দুই ঈদের নামাযে দ্বিতীয় রাক‘আতে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলার পর রুকুর জন্য ভিন্নভাবে তাকবীর বলা।

 (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ৫৭০৪/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৫৬৮৫)

বি.দ্র. এ তাকবীরটি অন্যান্য নামাযে সুন্নাত।

 ১৩. ইমামের জন্য যোহর, আসর এবং দিনের বেলায় সুন্নাত ও নফল নামাযে ক্বিরা‘আত আস্তে পড়া এবং ফজর, মাগরিব, ইশা, জুম‘আ, দুই ঈদ, তারাবীহ ও রমযান মাসের বিতর নামাযে ক্বিরা‘আত শব্দ করে পড়া।

 (মারাসীলে আবু দাউদ, হাঃ নং ৪১/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ ৫৭০০/ মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ৫৪৫২)

 বি.দ্র. আস্তে পড়ার অর্থ মনে মনে নয়, কারণ তাতে নামায শুদ্ধ হয় না। বরং আওয়াজ না করে মুখে পড়া জরুরী।

 ১৪. সালাম-এর মাধ্যমে নামায শেষ করা।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৯৯৬)

 বি.দ্র.- উল্লেখিত ওয়াজিবসমূহের মধ্য হতে কোন একটি ভুলে ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। সিজদায়ে সাহু না করলে বা ইচ্ছাকৃত কোন ওয়াজিব তরক করলে নামায ফাসিদ হয়ে যাবে। পুনরায় পড়া ওয়াজিব হবে।

 (প্রমাণ : শামী, ১৪ : ৪৫৬/ আলমগীরী, ১ : ৭১/ আল বাহরুর রায়িক, ১ : ৫১০)

নামাযের সুন্নাতসমূহ

 ক. দাঁড়ানো অবস্থায় সুন্নাত ১১টি

 ১. উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী করে রাখা এবং উভয় পায়ের মাঝখানে চার আঙ্গুল, উর্ধ্বে একবিঘত পরিমাণ ফাঁকা রাখা।

 (নাসায়ী হাঃ নং ৮৯২/ হিন্দিয়া, ১ : ৭৩)

 ২. তাকবীরে তাহরীমার সময় চেহারা কিবলার দিকে রেখে নজর সিজদার জায়গায় রাখা এবং হাত উঠানোর সময় মাথা না ঝুঁকানো।

 (তিরমিযী, হাঃ নং ৩০৪/ মুস্তাদরাক, ১৭৬১)

 ৩. উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠানো। অর্থাত উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা কানের লতি পর্যন্ত উঠানো।

(মুসলিম, হাঃ নং ৩৯১)

 ৪. হাত উঠানোর সময় আঙ্গুলসমূহ ও হাতের তালু কিবলামুখী রাখা।

 (তাবরানী আউসাত, হাঃ নং ৭৮০১)

 ৫. আঙ্গুলসমূহ স্বাভাবিক রাখা অর্থাত একেবারে মিলিয়েও না রাখা, আবার বেশি ফাঁক ফাঁক করেও না রাখা।

(মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৮৫৬)

 ৬. ইমামের তাকবীরে তাহরীমা বলার পর সাথে সাথে মুক্তাদীর তাকবীরে তাহরীমা যেন ইমামের তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে শেষ না হয়। এরূপ হলে মুক্তাদীর নামায হবে না।

 (মুসলিম, হা নং ৪১৪, ৪১৫/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৩৪)

 ৭. হাত বাঁধার সময় ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের (পাতার) উপর রাখা।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭২৬/ মুসান্নাফে ইবন আবী শাইবাহ, হাঃ নং ৩৯৪২)

 ৮. ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলি দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরা।

(তিরমিযী, হাঃ নং ২৫২/ ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৮১১)

 ৯. অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের উপর স্বাভাবিকভাবে বিছিয়ে রাখা।

 (ফাতহুল কাদীর, ১ : ২৫০)

 ১০. নাভীর নীচে হাত বাঁধা।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৫৬/ হিন্দিয়া, ১ : ৭৩)

 ১১. ছানা পড়া।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৭৫, ৭৭৬)

  খ. ক্বিরা‘আতের সুন্নাত ৭টি

 ১. প্রথম রাকা‘আতে ছানা পড়ার পর পূর্ণ আ‘উযুবিল্লাহ পড়া।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৬৪/ ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৮০৭)

 ২. প্রতি রাকা‘আতে সূরা ফাতিহা ও সূরা মিলানোর পূর্বে পূর্ণ বিসমিল্লাহ পড়া।

(নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ৯০৫)

 ৩. সূরা ফাতিহার পর সকলের জন্য নীরবে ‘আমীন’ বলা।

 (সুনানে দারাকুতনী, হাঃ নং ১২৫৬/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৮০)

 ৪. ফজর এবং যোহরের নামাযে ত্বিওয়ালে মুফাসসাল (লম্বা ক্বিরা‘আত ) অর্থাত সূরা ‘হুজুরাত’ থেকে সূরা ‘বুরূজ’ পর্যন্ত, আসর এবং ইশার নামাযে আউসাতে মুফাসসাল (মধ্যম ক্বিরা‘আত) অর্থাত সূরা ‘ত্বরিক’ থেকে সূরা ‘লাম-ইয়াকুন’ পর্যন্ত এবং মাগরিবে ক্বিসারে মুফাসসাল (ছোট ক্বিরা‘আত) অর্থাত সূরা ‘ইযা-যুলযিলাত্’ থেকে সূরা ‘নাস’ পর্যন্ত থেকে প্রতি রাকা‘আতে যে কোন একটি সূরা বা কোন কোন সময় বড় সূরা থেকে এ পরিমাণ ক্বিরা‘আত পড়া।

 (নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ৯৮৩/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ২৬৭২)

 ৫. ফজরের প্রথম রাক‘আত দ্বিতীয় রাক‘আত অপেক্ষা লম্বা করা। অন্যান্য ওয়াক্তে উভয় রাক‘আতে ক্বিরা‘আতের পরিমাণ সমান রাখা উচিত।

 (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৪৫১, ৪৫২)

 ৬. ক্বিরা‘আত অত্যন্ত তাড়াতাড়ি বা একেবারে ধীর গতিতে না পড়া, বরং মধ্যম গতিতে পড়া।

(মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৭৩৩)

 ৭. ফরয নামাযের তৃতীয় এবং চতুর্থ রাক‘আতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়া।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৭৬)

 গ. রুকুর সুন্নাত ৮টি

 ১. তাকবীর বলা অবস্থায় রুকুতে যাওয়া।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৮৯)

 ২. উভয় হাত দ্বারা হাঁটু ধরা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৯০)

 ৩. হাতের আঙ্গুলসমূহ ফাঁক করে ছড়িয়ে রাখা।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৩১)

 ৪. উভয় হাত সম্পূর্ণ সোজা রাখা, কনুই বাঁকা না করা।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৩৪)

 ৫. পায়ের গোছা, হাঁটু ও উরু সম্পূর্ণ সোজা রাখা। হাঁটু সামনের দিকে বাঁকা না করা।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৮৬৩)

 ৬. মাথা, পিঠ ও কোমর সমান রাখা, উঁচু-নীচু না করা এবং পায়ের দিকে নজর রাখা।

(মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৪৯৮/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮২৮)

 ৭. রুকুতে কমপক্ষে তিনবার রুকুর তাসবীহ (সুবহানা রাব্বিয়াল ‘আযীম) পড়া।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৮৮৯)

 ৮. রুকু হতে উঠার সময় ইমামের ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ এবং মুক্তাদীর ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ এবং একাকী নামায আদায়কারীর উভয়টি বলা।

(আলমগীরী, ১ : ১২/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৮৯, ৭৩৩)

 বি.দ্র. রুকু থেকে উঠে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে এক তাসবীহ পরিমাণ স্থিরভাবে দাঁড়ানো জরুরী।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮০০, ৮০১, ৮০২)

  ঘ. সিজদার সুন্নাত ১২টি

 ১. তাকবীর বলা অবস্থায় সিজদায় যাওয়া।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮০৩)

 বি.দ্র. সিজদায় যাওয়া ও সিজদা হতে দাঁড়ানোর সময় তাকবীর এক আলিফ থেকে অধিক টানা উচিত নয়। অবশ্য হদর এবং তারতীলের পার্থক্য থাকবে।

(শামী, ১ : ৪৮০)

 ২. প্রথমে উভয় হাঁটু মাটিতে রাখা।

 (নাসায়ী, হাঃ নং ১০৮৯/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৮৩৮)

 ৩. তারপর হাঁটু থেকে আনুমানিক এক হাত দূরে উভয় হাত রাখা এবং হাতের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী করে সম্পূর্ণরূপে মিলিয়ে রাখা।

 (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১৮৮৮২/ সহীহ ইবনে খুযাইমাহ, হাঃ নং ৬৪৩)

 ৪. তারপর উভয় বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা বরাবর নাক রাখা।

 (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১৮৮৮০)

 ৫. তারপর কপাল রাখা।

(মুসনাদে আহমদ, হাঃ নং ১৮৮৮০)

 ৬. অতঃপর দুই হাতের মাঝে সিজদা করা এবং দৃষ্টি নাকের অগ্রভাগের দিকে রাখা।

(মুসলিম, হাঃ নং ৪০১/ মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ নং ১৭৬১)

 ৭. সিজদায় পেট উরু থেকে পৃথক রাখা।

 (মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৩৬৬২/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৭৩৫)

 ৮. পাঁজড়দ্বয় থেকে উভয় বাহু পৃথক রাখা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮০৭)

 ৯. কনুই মাটি ও হাঁটু থেকে পৃথক রাখা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮২২)

 ১০. সিজদায় কমপক্ষে তিনবার সিজদার তাসবীহ

(সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা ) পড়া। ১১. তাকবীর বলা অবস্থায় সিজদা হতে উঠা।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮২৫)

 ১২. প্রথমে কপাল, তারপর নাক, তারপর উভয় হাত, তারপর উভয় হাঁটু উঠানো।

(তিরমিযী, হাঃ নং ২৬৮/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ২৯৫৮)

 বি.দ্র.- দাঁড়ানো অবস্থা থেকে সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু মাটিতে লাগার আগ পর্যন্ত বুক সম্পূর্ণ সোজা রাখা জরুরী। বিনা ওজরে বুক ঝুঁকিয়ে সিজদায় গেলে একাধিক রুকু হয়ে সুন্নাতের খেলাফ হবে। দু‘সিজদার মাঝে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে এক তাসবীহ পরিমাণ স্থির হয়ে বসা জরুরী।

 (আবু দাউদ হাঃ নং ৮৩৮/ শামী, ১ঃ৪৬৪)

  ঙ. নামাযে বসার সুন্নাত ১৩টি

 ১. বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা। ডান পা সোজা ভাবে খাড়া রাখা। উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ সাধ্যমত কিবলার দিকে মুড়িয়ে রাখা।

 (নাসাঈ, হাঃ নং ১১৫৮)

 ২. উভয় হাত রানের উপর হাঁটু বরাবর করে রাখা এবং দৃষ্টি দুই হাঁটুর মাঝ বরাবর রাখা।

(মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১৬১০৬)

 ৩. ‘আশ্‌হাদু’ বলার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা এক সাথে মিলিয়ে গোলাকার বৃত্ত বানানো এবং অনামিকা ও কনিষ্ঠাঙ্গুলিদ্বয় মুড়িয়ে রাখা এবং ‘লা-ইলাহা’ বলার সময় শাহাদাত আঙ্গুল সামান্য উঁচু করে ইশারা করা। অতঃপর ‘ইল্লাল্লাহু’ বলার সময় আঙ্গুলের মাথা সামান্য ঝুঁকানো। হাঁটুর সাথে না লাগানো।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৭২৬/ নাসাঈ, হাঃ নং ১২৭৪)

 ৪. আখেরী বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর দরূদ শরীফ পড়া।

 (তিরমিযী, হাঃ নং ৩৪৭৭)

 ৫. দরূদ শরীফের পর দু‘আয়ে মাছুরা পড়া।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮৩৪/ তিরমিযী, হাঃ নং ৫৯৩)

 ৬. উভয় দিকে সালাম ফিরানো।

(তিরমিযী, হাঃ নং ২৯৫)

 ৭. ডান দিকে আগে সালাম ফিরানো। উভয় সালাম কিবলার দিক থেকে আরম্ভ করা এবং সালামের সময় দৃষ্টি কাঁধের দিকে রাখা।

 (মুসলিম, হাঃ নং ৫৮২)

 ৮. ইমামের উভয় সালামে মুক্তাদী, ফেরেশতা ও নামাযী জ্বিনদের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা।

(মুসলিম, হাঃ নং ৪৩১)

 ৯. মুক্তাদীগণের উভয় সালামে ইমাম, অন্যান্য মুসল্লী, ফেরেশতা ও নামাযী জ্বিনদের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা।

 (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৩১৪৯, ৩১৫২)

 ১০. একাকী নামাযী ব্যক্তি শুধু ফেরেশতাগণের প্রতি সালাম করার নিয়ত করা।

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৩১৪০)

 ১১. মুক্তাদীগণের ইমামের সালাম ফিরানোর পরপরই সালাম ফিরানো।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৮৩৮)

 ১২. দ্বিতীয় সালাম প্রথম সালাম অপেক্ষা আস্তে বলা।

 (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ৩০৫৭)

 ১৩. ইমামের দ্বিতীয় সালাম ফিরানো শেষ হলে মাসবূকের ছুটে যাওয়া নামায আদায়ের জন্য দাঁড়ানো।

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৩১৫৬)

নামাযে সাধারণ ঘটে যাওয়া ভুলসমূহ

  কাতারের ভুলসমূহ

 ১. দাগের উপরে বা দাগে আঙ্গুল রেখে দাগের পিছনে দাঁড়ানো। নিয়ম হলো দাগের আগে গোড়ালী রেখে উভয় পা কিবলামুখী সোজা করে দাঁড়ানো।

 ২. কাতার ইমামের ডানে বাড়িয়ে ফেলা। অথচ নিয়ম হলো, ইমামের সোজাসুজি পিছনে একজন দাঁড়িয়ে তাঁর দু’দিক থেকে সমানভাবে কাতারে লোক দাঁড়াবে। কোন দিকে কাতার লম্বা করবে না।

(আলমগীরী ১ : ৮৭)

 ৩. সামনের কাতারে খালি জায়গা রেখে পিছনের কাতারে বসে থাকা বা পিছের কাতারে দাঁড়ানো। নিয়ম হল সবচেয়ে সামনের যে কাতারে খালী পাওয়া যায় সেখানে চলে যাওয়া।

(শামী, ১ : ৫৭০)

 ৪. কাতারে মিলে মিলে না দাঁড়ানো এবং দু’জনের মাঝে এতটুকু ফাঁকা রাখা যার মধ্যে আর একজন দাঁড়াতে পারে।

(মাসায়িলে নামায, ৮৭ পৃষ্ঠা)

 ৫. শেষ কাতারে শুধু একজন দাঁড়ানো। নিয়ম হলো কেউ কাতারে একা হলে, সামনের কাতার হতে মাসআলা জানেন এমন একজন মুসল্লীকে হাতে ধরে পিছনে নিয়ে আসবে, তিনিও সিনা ঠিক রেখে দু-এক কদম হেঁটে পিছের কাতারে আসবেন। মাসআলা জানেন এমন লোক না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে একাই পিছনে দাঁড়াবে।

(শামী, ১ : ৫৬৮)

 ৬. জামা‘আত শুরু হওয়ার পর কাতারে দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়া। নিয়ম হলো ইকামত শুরু হয়ে গেলে একমাত্র ফজরের সুন্নাত ছাড়া অন্য কোন সুন্নাত শুরু না করা। আর ফজরের সুন্নাত জামা‘আত পাওয়ার শর্তে কাতারের পিছনে বা বারান্দায় পড়া।

(আলমগীরী, ১ : ১০৮)

 ইকামাতের সময় ভুলসমূহ

 ১. ইকামতের সময় বা তাহরীমা বাঁধার পূর্বে অনেকেই হাত বেঁধে দাঁড়ায়। অথচ এমনটি করা মাকরূহ। নিয়ম হলো এ সময় হাত ছেড়ে রাখা।

(ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া, ৩ : ১৪)

 ২. অনেকে ইকামাতের জবাব দেয় না। অথচ আযানের ন্যায় ইকামাতের জবাব দেয়াও মুস্তাহাব।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৫২৮)

  তাকবীরে তাহরীমার ক্ষেত্রে ভুলসমূহ

 ১. অনেকে তাকবীরে তাহরীমার জন্য হাত উঠানোর সময় মাথা ঝুঁকায়, এটা নাজায়েয। সুন্নাত হলো মাথা সোজা রেখে সিজদার জায়গায় নজর রাখা।

 (শামী ১ : ৪৪৪)

 ২. তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় পুরুষদের অনেকে চাদরের ভিতর থেকে হাত বের করে না। অথচ পুরুষদের জন্য চাদর থেকে হাত বের করে কান পর্যন্ত উঠানো মুস্তাহাব। তবে মহিলারা কাপড়ের ভিতর হতে হাত বের করবে না।

 (শামী, ১ : ৪৭৮)

 ৩. অনেকে হাতের তালু কিবলামুখী করে উঠায় না। বরং হাতের তালু কানমুখী করে দু‘পার্শ্বে উঠিয়ে বা হাতের আঙ্গুলসমূহ কিবলার দিকে বাঁকা করে নিয়ত বাঁধ। এরূপ করা ভুল।

 ৪. হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের লতি পর্যন্ত উঠাতে হয়। অথচ অনেকে তড়িঘড়ি করে হাত সামান্য একটু উঠিয়েই নিয়ত বাঁধে।

 ৫. আরবী নিয়ত বলতে গিয়ে অনেকে তাকবীরে উলা, আবার অনেকে রুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে। অথচ আরবীতে নিয়ত বলা জরুরী নয়। বরং আরবীতে নিয়ত বলা জরুরী মনে করলে বিদ‘আত হবে। বাংলায় নির্দিষ্ট নামাযের ও ইমামের ইকতিদার নিয়ত করাই মুস্তাহাব আদায়ের জন্য যথেষ্ট। অধিকন্তু শুধু অন্তরে নির্দিষ্ট নামাযের সংকল্প করার দ্বারাই নিয়ত করার ফরয আদায় হয়ে যায়। নিয়ত মুখে বলা ফরয নয়, মুস্তাহাব। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, অনেকে আরবী নিয়ত পড়তে যেয়ে সেদিকে অর্থ না বুঝে এত বেশী মনোনিবেশ করে যে, নির্দিষ্ট নামায ও ইমামের ইকতিদার এরাদা বা সংকল্প অন্তরে উপস্থিত থাকেনা সেক্ষেত্রে নিয়ত ফরয এটা না পাওয়ায় তার নামায হয় না।

 ৬. অনেকে তাকবীরে তাহরীমা ও অন্যান্য তাকবীরে ‘আল্লাহ’ শব্দ এর লামকে এক আলিফের চেয়ে বেশি লম্বা করে থাকে-এটা ভুল। এক আলিফকে এক আলিফই রাখতে হবে। বেশি লম্বা করা অনুচিত।

 ৭. অনেক সময় ইমামের তাকবীরে তাহরীমার পূর্বেই অনেকে তাকবীরে তাহরীমা বলে ফেলে। সে ক্ষেত্রে ইমামের আগে যদি মুক্তাদীর তাকবীর শেষ হয়ে যায়, তাহলে তার ইকতিদা ও নামায সহীহ হবে না। পুনরায় তাকবীর বলে তাহরীমা বাঁধতে হবে।

 ৮. ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধার আগে অনেকে হাত দু’দিকে ছেড়ে দিয়ে ঝুলিয়ে তারপর বাঁধে। এরূপ না করে হাত উঠিয়ে সরাসরি বাঁধাই বাঞ্ছনীয়।

 ৯. ইমামের তাকবীরের পরে খামাখা তাকবীর বলতে দেরী করা। অথচ ইমামের তাকবীরের পর সাথে সাথেই তাকবীর বলতে হয়।

  কিয়াম অবস্থায় ভুলসমূহ

 ১. উভয় পায়ের মাঝে গোড়ালী ও আঙ্গুলের দিকে সমানভাবে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রেখে আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী করে রাখা সুন্নাত। কিন্তু অনেকেই তা এভাবে রাখে না। বরং পায়ের আঙ্গুলসমূহ উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ছড়িয়ে রাখে। এতে পায়ের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী থাকে না যা সুন্নাতের পরিপন্থী।

 ২. অনেকে দাঁড়ানো অবস্থায় মাথা ঝুঁকিয়ে রাখে। অথচ দাঁড়ানো অবস্থায় মাথা সোজা রেখে সিজদার স্থানে নজর রাখা সুন্নাত।

 ৩. দাঁড়ানো অবস্থায় অনেকে দু’পায়ে সমান ভর না দিয়ে এক পায়ে ভর দিয়ে বেঁকে দাঁড়ায়। অথচ এভাবে দাঁড়ানো উচিত নয়।

 ৪. অনেকে নাভী বরাবর বা নাভীর উপর হাত বাঁধে। অথচ হানাফী মাযহাবে নিয়ম হলো নাভীর নীচে হাত বাঁধা।

 ৫. ইমামের সাথে নামায পড়ার সময় ‘ছানা’ না পড়া। অথচ একা হোক বা জামা‘আতে হোক, সর্বাবস্থায় ছানা পড়া সুন্নাত। তবে যাহেরী ক্বিরা‘আতে ইমামের ক্বিরা‘আত শুরু হয়ে গেলে, ছানা পড়বে না। তাছাড়া মুক্তাদী আউযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহও পড়বে না।

  ক্বিরা‘আত অবস্থায় ভুলসমূহ

 ১. অনেকে ইমামের পিছনে বিড়বিড় করে সূরা ফাতিহা বা অন্য কিছু পড়তে থাকে। অথচ মুক্তাদীর জন্য সূরা ফাতিহা বা অন্য কোন সূরা মুখে পড়া নিষেধ।

 ২. অনেকের ধারণা অনুচ্চ স্বরে ক্বিরা‘আত পড়লে মদ, গুন্নাহ, ইযহার, ইখফা ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য করার প্রয়োজন হয় না। এটা সঠিক নয়। বরং সব কিরাআতেই তাজবীদ জরুরী। তাই সিররী নামাযেও জাহরী নামাযের মত সময় ব্যয় করে তাজবীদসহ ক্বিরা‘আত পড়া উচিত।

 ৩. যোহরের নামাযে ‘তিওয়ালে মুফাসসাল’ (লম্বা ক্বিরা‘আত ) বা কমপক্ষে ‘আওসাতে মুফাসসাল’ (মধ্যম ক্বিরা‘আত ) পড়া সুন্নাত। অথচ অধিকাংশ ইমামগণ যোহরের নামাযে ‘কিসারে মুফাসসাল, (ছোট সূরা) পড়ে থাকেন যা সুন্নাত পরিপন্থী।

 ৪. অনেকে ক্বিরা‘আত এত বেশি ধীরে পড়েন যার কারণে সুন্নাত পরিমাণ ক্বিরা‘আত পড়া সম্ভব হয় উঠে না। অথচ নিয়ম হলো বেশি ধীরেও না পড়া, আবার বেশি তাড়াতাড়িও না পড়া; বরং মধ্যম গতিতে হদরের সাথে সুন্নাত পরিমাণ ক্বিরা‘আত পড়া। তারাবীহ নামাযে অধিকাংশ হাফেযগণ এত দ্রুত ক্বিরা‘আত পড়ে থাকেন যে, তাদের পড়া বুঝাই যায় না। এমন দ্রুত পড়া কুরআন বিকৃত করার শামিল, যা নাজায়েয। এতে নামাযের সওয়াব হাসিল হওয়া তো দূরের কথা, নামায সহীহ হওয়ার ব্যাপারেই সন্দেহ রয়েছে।

 ৫. অনেকে তিন রাক‘আত বা চার রাক‘আত বিশিষ্ট ফরয নামাযের সব রাক‘আতেই সূরা মিলিয়ে থাকে। অথচ ফরযের শুধু প্রথম দু’রাকা‘আতে সূরা মিলাতে হয়। আবার অনেকে চার রাকা‘আত বিশিষ্ট সুন্নাত ও নফরের মধ্যে শেষের দু’রাকা‘আতের মধ্যে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে থাকে। অথচ সুন্নাত ও নফরের সব রাকা‘আতেই সূরা ফাতিহার পর সূরা মিলানো জরুরী।

 ৬. অনেক ইমাম প্রথম রাকাআতকে দ্বিতীয় রাকাআত থেকে তিন আয়াত বা তার বেশি লম্বা করে থাকেন অথচ সুন্নাত হলো একমাত্র ফজরের নামায ব্যতীত অন্য চার ওয়াক্তে উভয় রাকা‘আতে কিরাআতের পরিমাণ সমান রাখা এবং এক দু‘আয়াতের বেশি না বাড়ানো।

  রুকু অবস্থায় ভুলসমূহ

 ১. অনেকে রুকুতে গিয়ে মাথা, পিঠ, কোমর বরাবর করে না এবং পিঠ বিছিয়ে রাখে না এবং কেউ মাথা উঁচু করে রাখে, আবার কেউ মাথা নীচু করে রাখে, এসবই মাকরূহ। কেউ পিঠ গোল করে রাখে। অথচ মাথা, পিঠ, কোমর বরাবর রাখা এবং পিঠ বিছিয়ে রাখা সুন্নাত।

 ২. অনেকে হাঁটু বাঁকা করে তা সামনে বাড়িয়ে রাখে। আবার কেউ এমনভাবে দাঁড়ায় যে, উপরের অংশ পিছের দিকে বাঁকা হয়ে থাকে। উভয় পদ্ধতিই পা সম্পূর্ণ সোজা না থাকায় ভুল। পা সম্পূর্ণ সোজা রাখা সুন্নাত। এর নিয়ম হল শরীরের ভার সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকিয়ে রাখা।

 ৩. অনেকে রুকু অবস্থায় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে রাখে এবং হাতকে হাঁটুর উপর একেবারে হালকাভাবে রেখে দেয়। অথচ পুরুষদের জন্য নিয়ম হল আঙ্গুলসমূহ ফাঁকা রাখা এবং উভয় হাত দ্বারা হাঁটুতে শক্তভাবে ধরা।

 ৪. অনেকে কনই বাঁকা করে রাখে, যা ভুল। রুকু অবস্থায় হাত সম্পূর্ণ সোজা রাখতে হয়।

 ৫. অনেকে কোন রকম রুকুতে গিয়েই তাড়াতাড়ি আবার দাঁড়িয়ে যায়। অথচ নিয়ম হলো রুকুতে গিয়ে ধীরস্থিরভাবে কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ পড়ে তারপর দাঁড়ানো।

 ৬. অনেকে রুকু থেকে সোজা হয়ে হাত ছেড়ে স্থিরভাবে দাঁড়ায় না, বরং সামান্য মাথা উঁচিয়েই সিজদায় চলে যায়। এতে ইচ্ছাকৃতভাবে দু’টি ওয়াজিব (অর্থাত রুকু থেকে সম্পূর্ণ সোজা হওয়া এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর এক তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব করা।) তরক করায় নামায নষ্ট হয়ে যায়। এমন নামায পুনরায় পড়া ওয়াজিব।

  সিজদা অবস্থায় ভুলসমূহ

 ১. অধিকাংশ লোকই দাঁড়ানো হতে সিজদায় যাওয়ার সময় বিনা ওযরে বুক ও মাথা নীচের দিকে ঝুঁকিয়ে সিজদায় যায়। এটা মারাত্মক ভুল। এতে এক রাকা‘আতে দুই রুকু হয়ে নামায খেলাফে সুন্নাত হয়ে যায়। সিজদায় যাওয়ার সময় হাঁটু মাটিতে লাগার আগ পর্যন্ত বুক ও মাথা সম্পূর্ণ সোজা রাখা উচিত।

 ২. সিজদায় যাওয়ার সময় বা সিজদা থেকে উঠার সময় অনেকে তাকবীর এক আলিফ থেকে বেশি টানতে থাকে, এটা ভুল। তারতীলের সাথে এক আলিফ লম্বা করা উচিত।

 ৩. অনেকে সিজদায় গিয়ে দুই হাতের আঙ্গুলসমূহ ছড়িয়ে রাখে। অথচ সিজদায় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে রাখা সুন্নাত। এরূপ অনেকে হাতের আঙ্গুলসমূহ কান বরাবর রাখে না। বরং আগ-পাছ করে রাখে, এটাও ভুল।

 ৪. অনেকে সিজদায় উভয় পায়ের মাঝে দাঁড়ানোর ন্যায় চার আঙ্গুল ফাঁক রাখে না এবং আঙ্গুলসমূহ মুড়িয়ে কিবলা মুখী করে উভয় পা খাড়া করে রাখে না বরং উভয় গোড়ালী মিলিয়ে রাখে অথবা পায়ের আঙ্গুলগুলোর মাথা পূর্ব দিকে করে রাখে যা সুন্নাতের খেলাফ।

 ৫. অনেকে সিজদায় পা যমীন থেকে উঠিয়ে রাখে। অথচ সিজদা আদায় হওয়ার জন্য পা যমীনে লাগিয়ে রাখা জরুরী।

 ৬. সিজদা অবস্থায় অনেকে উভয় উরু সোজা খাড়া রাখে না। বরং উপরাংশ পূর্বদিকে বা পশ্চিম দিকে বাঁকা করে রাখে যা ভুল। এই ভুল থেকে বাঁচার পদ্ধতি হলো সিজদার সময় হাঁটু থেকে আনুমানিক এক হাত দূরে হাত রেখে উভয় হাতের মাঝে চেহারা রেখে সিজদা করবে।

 ৭. সিজদায় অনেক সময় পুরুষরা কনুই মাটির উপর বিছিয়ে রাখে বা কনুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে রাখে আবার অনেকে বাহু বা হাত পাঁজরের সাথে মিলিয়ে রাখে। অথচ এসব অঙ্গ পৃথক রাখতে হয়। তবে মহিলারা জড়সড় ও সংকুচিত হয়ে এক অঙ্গের সাথে আরেক অঙ্গ মিলিয়ে সিজদা করবে।

 ৮. মহিলারা অনেক সময় পুরুষদের মত পা খাড়া করে সিজদা করে। অথচ মহিলাদের সিজদা করার সময় উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে কিবলামুখী করে বিছিয়ে রাখতে হয়।

  নামাযে বসা অবস্থায় ভুলসমূহ

 ১. অনেকে দুই সিজদার মাঝে সোজা হয়ে না বসেই আরেক সিজদায় চলে যায়। অথচ এতে ইচ্ছাকৃতভাবে দুটি ওয়াজিব (সিজদা থেকে সোজা হয়ে বসা এবং বসার পর এক তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব করা) তরক করায় নামায নষ্ট হয়ে যায়। এমতাবস্থায় নামায পুনরায় পড়া ওয়াজিব।

 ২. অনেকে দুই সিজদার মাঝে এবং তাশাহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ার সময় ডান পা খাড়া রাখে না, বরং বাঁকা করে রাখে। অথচ তা সুন্নাতের খেলাফ।

 ৩. দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠার সময় বা মধ্যবর্তী বৈঠক হতে দাঁড়ানোর সময় অনেকে বিনা ওযরে হাত দিয় যমীনে ভর করে দাঁড়ায়। অথচ তা মাকরূহ।

  সালামের ভুলসমূহ

 ১. অনেকে উভয় সালাম ফিরানোর সময় কোন নিয়ত করে না। অথচ উভয় দিকে সালাম ফিরানোর সময় মুসল্লী, ফেরেশতা, নামাযী জ্বিন ও ইমামের প্রতি সালাম করার নিয়ত করতে হয়।

 ২. অনেকে ‘আসসালামু’ বলা শুরু করার সাথে সাথে চেহারা ডানে বা বামে ঘুরিয়ে ফেলে অথচ ‘আসসালামু’ বলা পর্যন্ত উভয় সালামে চেহারা কিবলার দিকে রাখতে হয়। তারপর ‘আলাইকুম’ বলার সময় চেহারা ঘুরাতে হয়। অনেকেই দ্বিতীয় সালাম কিবলার দিক হতে শুরু করে না। বরং ডান দিকে চেহারা থাকা অবস্থাতেই দ্বিতীয় সালাম শুরু করে দেয়, এটা ভুল। এমনিভাবে সালামের সময় বুক ফিরানো ভুল। বরং শুধু চেহারা এতটুকু ঘুরাবে, যেন পিছনের কাতার হতে চোয়াল দেখা যায়।

 ৩. ইমামের জন্য দ্বিতীয় সালামের আওয়াজ প্রথম সালামের আওয়াজের তুলনায় ক্ষীনস্বরে বলা সুন্নাত। কিন্তু অনেকেই তা পালন করেনা এবং উভয় সালামে এক সমান আওয়াজ করে, যা ভুল।

 ৪. মাসবূক ইমামের দ্বিতীয় সালাম ফিরানো শুরু করার সাথে সাথে উঠে পড়ে। অথচ ইমামের দ্বিতীয় সালাম সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পরই মাসবূকের জন্য দাঁড়ানো উত্তম।

মুনাজাতের সুন্নাতসমূহ

 ১. উযুর সাথে কিবলামুখী হয়ে দু‘আ করা। মুনাজাতের শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করা।

 (তিরমিযী, হাঃ নং ৩৪৭৬)

 ২. উভয় হাত সিনা বরাবর সামনে রাখা।

 (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৩২৩৪)

 ৩. হাতের তালু আসমানের দিকে প্রশস্ত করে রাখা।

 (তাবরানী কাবীর, হাঃ নং ৩৮৪২)

 ৪. হাতের আঙ্গুলসমূহ ¯^vfvweK ফাঁক রাখা।

(হিসনে হাসীন, ২৭)

 ৫. দু‘হাতের মাঝখানে সামান্য ফাঁক রাখা।

(ত্বাহত্বাবী, ২০৫)

 ৬. মন দিয়ে কাকুতি-মিনতি করে দু‘আ করা।

 (সূরা আ‘রাফ আয়াত নং ৫৫)

 ৭. আল্লাহর নিকট দু‘আর বিষয়টি বিশ্বাস ও দৃঢ়তার সাথে বারবার চাওয়া।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩৩৮)

 ৮. ইখলাসের সাথে নিঃশব্দে দু‘আ করা মুস্তাহাব। তবে দু‘আ সম্মিলিতভাবে হলে এবং কারো নামাযে বা ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টির আশংকা না থাকলে, সশব্দে দু‘আকরাও জায়েয আছে।

 (সূরা আ‘রাফ, ২০৫/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৯৯২)

 ৯. আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও দরূদ-সালাম যেমন- ‘সুবহানা রাব্বিকা রাব্বিল ইয্‌যাতি’ শেষ। পর্যন্ত পড়া ও ‘আমীন’ বলে দু‘আ শেষ করা।

 (তাবরানী কাবীর, হাঃ নং ৫১২৪/ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৩১১৭/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৯৩৮) ১০. মুনাজাতের পর হস্তদ্বয় দ্বারা মুখমণ্ডল মুছে নেয়া।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ১৪৮৫)

 বি.দ্র. ফরয নামাযের পর মুনাজাত করা মুস্তাহাব, সালাম শেষ হওয়ার পরে ইমামের ইকতিদাও শেষ সুতরাং মুনাজাতের মধ্যে

মহিলাদের নামাযের পার্থক্য

 ১. তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠানো।

 (তাবারানী কাবীর ২২ : ১৯)

 ২. হাত কাপড়ের ভিতর হতে বের না করা।

(তিরমিযী, হাঃ নং ১১৭৩)

 ৩. হাত বুকের উপর রাখা।

(শামী, ১ : ৪৮৭)

 ৪. আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর স্বাভাবিকভাবে রাখা। পুরুষদের মত বাম হাতের কব্জি না ধরা।

 (ফাতাওয়া রাহীমিয়া, ৭ : ২২২)

 ৫. রুকুতে পুরুষদের তুলনায় কম ঝুঁকা।

 (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৫০৬৯)

 ৬. রুকুতে উভয় বাহু পাঁজরের সঙ্গে পরিপূর্ণ মিলিয়ে রাখা।

 (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৫০৬৯)

 ৭. রুকুতে উভয় হাত হাঁটুর উপর স্বাভাবিক রাখা এবং হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে রাখা। পুরুষদের ন্যায় আঙ্গুল ছড়িয়ে হাঁটু না ধরা।

 (ত্বাহত্বাবী, ২১৫)

 ৮. রুকুতে উভয় পায়ের গোড়ালী পরিপূর্ণ মিলিয়ে রাখা।

(শামী, ১ঃ ৫০৪)

 ৯. অত্যন্ত জড়সড় ও সংকুচিত হয়ে সিজদা করা।

 (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৫০৬৯)

 ১০. সিজদায় পুরুষদের ন্যায় কনুইদ্বয় খোলা ও ছড়িয়ে না রাখা।

 (মারাসীলে আবী দাউদ, হাঃ নং ৮৭)

 ১১. উভয় রানের সঙ্গে পেট মিলিয়ে রাখা।

 (মারাসীলে আবী দাউদ, হাঃ নং ৮৭)

 ১২. বাহুদ্বয় সাধ্যানুযায়ী পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা।

 (মারাসীলে আবী দাউদ, হাঃ নং ৮৭)

 ১৩. উভয় কনুই সাধ্যমত মাটিতে মিলিয়ে রাখা।

 (মারাসীলে আবী দাউদ, হাঃ নং ৮৭)

 ১৪. সিজদায় উভয় পা খাড়া না রাখা, বরং ডান দিক দিয়ে উভয় পা বের করে মাটিতে বিছিয়ে রাখা এবং উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ যথাসম্ভব কিবলামুখী করে রাখা।

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাঃ নং ২৭৮১, ২৭৯২)

 ১৫. বৈঠকের সময় বাম নিতম্বের উপর বসা।

 (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, ৩ : ১৩৯)

 ১৬. এবং উভয় পা ডান দিকে দিয়ে বের করে কিবলামুখী করে মাটিতে বিছিয়ে রাখা।

(আল ইস্তিযকার, ১ঃ ৪৮০)

 ১৭. বৈঠকের সময় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে হাঁটু বরাবর রাখা।

 (মুসানাফে ইবনে আবী শাইবা, হাঃ নং ২৭৮৫)

 বি.দ্র. দাঁড়ানো অবস্থায় মহিলাদের উভয় পা মিলিয়ে রাখার স্পষ্ট কোন প্রমাণ না থাকায় হযরত থানবী (রহ.) দু’পায়ের মাঝে পুরুষদের ন্যায় চার আঙ্গুল ফাঁক রাখার ফতওয়া দিয়েছেন।

(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১ : ২২২)

জুমু‘আর দিনের বিশেষ আমল

 যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিনে ছয়টি কাজ করবে, সে জুমু‘আর নামাযের যাওয়ার পথে প্রতি কদমে (পা ফেলায়) এক বছরের নফল নামায ও এক বছরের নফল রোযার সওয়াব পাবে।

  ছয়টি কাজ এই- ১. জুমুআর নামাযের উদ্দেশ্যে ভালভাবে গোসল করা।

 ২. ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে (আযানের অপেক্ষা না করে) মসজিদে যাওয়া।

 ৩. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।

 ৪. ইমাম সাহেবের নিকটে বসা। অর্থাত, যতদূর সম্ভব সামনের কাতারে বসা।

 ৫. মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনা।

 ৬. খুতবার সময় কোন কথা না বলা ও কোন কাজ না করা।

 (সহীহ ইবনে খুযাইমাহ, হাঃ নং ১৭৫৮/ নাসায়ী, হাঃ নং ১৩৮৪, তিরমিযী, হাঃ নং ৪৯৬/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৪৫)

বি.দ্র. কোন সহীহ হাদীসে বর্ণিত আমল ছাড়া অন্য কোন নফল আমলের ব্যাপারে এত বেশি ফযীলতের কথা পাওয়া যায় না। এছাড়াও জুমু‘আর দিনে আরো কিছু আমল করা সুন্নাত। যথা : উত্তম ও পরিষ্কার কাপড় পরিধান করা, আতর লাগানো, সূরায়ে কাহফ তিলাওয়াত করা, বেশি বেশি দুরূদ শরীফ পড়া, সালাতুত তাসবীহ পড়া, দুই খুতবার মাঝখানে হাত উঠানো ব্যতীত মনে মনে দু‘আকরা, পুরুষ ও মহিলা সকরের জন্য আসরের নামাযের পর নিজ স্থানে বসেই নিচের দরূদ শরীফটি ৮০ বার পাঠ করা।

 اللهم صلى على محمدن النبى الامى وعلى اله وسلم تسليما

বি.দ্র. বর্ণিত দরূদ শরীফের ফযীলত এই যে, আমলকারীর আমলনামায় ৮০ বছরের ইবাদাত বন্দেগীর সওয়াব লেখা হয় এবং তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

(ইবনু বাশকুয়াল, আল কাওসুল বাদী ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলাল হাবীবিশ শাফী, পৃ. ২৮৪)

 এবং সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পূর্ব হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত গুরুত্বের সাথে যিকির ও দু‘আয় লিপ্ত থাকা।

 (আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৪৭/ আবু দাউদ, হাঃ নং ১২৯১/ মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৩৩৯২/ মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৮৬৮১)

ঈদের সুন্নাতসমূহ

 (১) অন্য দিনের তুলনায় সকালে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া।

 (বাইহাকী, হাঃ নং ৬১২৬)

 (২) মিসওয়াক করা।

(তাবঈনুল হাকাইক, ১ : ৫৩৮)

 (৩) গোসল করা।

(ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ১৩১৫)

 (৪) শরীয়তসম্মত সাজসজ্জা করা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৯৪৮)

 (৫) সামর্থ অনুপাতে উত্তম পোশাক পরিধান করা।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৯৪৮/ মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ নং ৭৫৬০)

 (৬) সুগন্ধি ব্যবহার করা।

(মুস্তাদরাকে হাকেম হাঃ নং ৭৫৬০)

 (৭) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে মিষ্টি জাতীয় যেমন (খেজুর ইত্যাদি) খাওয়া। তবে ঈদুল আযহাতে কিছু না খেয়ে ঈদের নামাযের পরে নিজের কুরবানীর গোশত আহার করা উত্তম।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৯৫৩/ তিরমিযী শরীফ, হাঃ নং ৫৪২/ দারেমী হাঃ নং ১৬০৩)

 (৮) সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ১১৫৭)

 (৯) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে ছাদাকায়ে ফিতর আদায় করা।

(দারাকুতনী, হাঃ নং ১৬৯৪)

 (১০) ঈদের নামায ইদগাহে আদায় করা, বিনা অপারগতায় মসজিদে আদায় না করা।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৯৫৬/ আবু দাউদ হাঃ নং ১১৫৮)

 (১১) যে রাস্তায় ঈদগাহে যাবে সম্ভব হলে ফিরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে ফেরা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৯৮৬)

 (১২) পায় হেঁটে যাওয়া।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ১১৪৩)

 (১৩) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার সময় আস্তে আস্তে এই তাকবীর পড়তে থাকা-

 الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله والله اكبر الله اكبر ولله الحمد

তবে ঈদুল আযহাতে যাওয়ার সময় পথে এ তাকবীর আওয়াজ করে পড়তে থাকবে।

(মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ নং ১১০৫/ বাইহাকী, হাঃ নং ৬১৩০)

খানা খাওয়ার সুন্নাতসমূহ

 ১. উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়া।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৭৬১)

 ২. দস্তরখানা বিছিয়ে খানা খাওয়া।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৩৮৬)

 বি.দ্র. (ক) প্রথমে খানা তথা আল্লাহর নেয়ামতের দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে বসা, তারপর দস্তরখানা বিছানো।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৩৮৫, ৫৩৯৯)

 (খ) দস্তরখানা খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। এর উপর ঝুটা (উচ্ছিষ্ট খাবার) হাড্ডি ইত্যাদি না ফেলা বা তাতে পা না রাখা উচিত।

 (মুসলিম হাঃ নং ২০৩৩)

 ৩. (উঁচু স্বরে) বিসমিল্লাহ পড়া।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৩৭৬)

 ৪. ডান হাত দিয়ে খাওয়া।

 (বুখারী, হাঃ নং ৫৩৭৬/ মুসলিম, হাঃ নং ২০২০)

 ৫. খানার মজলিসে বয়সের দিক দিয়ে যিনি বড় এবং বুযুর্গ, তাঁর দ্বারা খানা শুরু করানো।

(মুসলিম, হাঃ নং ২০১৭)

 ৬. খাদ্য এক ধরনের হলে নিজের সম্মুখ হতে খাওয়া।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৩৭৬)

 ৭. খাদ্যের কোন অংশ পড়ে গেলে উঠিয়ে (প্রয়োজনে পরিষ্কার করে) খাওয়া।

(মুসলিম, হাঃ নং ২০৩৩)

 ৮. হেলান দিয়ে বসে না খাওয়া।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৩৯৮)

 ৯. খাদ্যের ত্রুটি বের না করা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৪০৯)

 ১০. জুতা পরিহিত থাকলে জুতা খুলে খানা খাওয়া।

(মুস্তাদরাকে হাকেম, হাঃ নং ৭১২৯)

 ১১. খানার সময় তিনভাবে বসা যায়। ক. উভয় হাঁটু উঠিয়ে এবং পদ যুগলে ভর করে।

(মুসলিম, হাঃ নং ২০৪৪)

 খ. এক হাঁটু উঠিয়ে এবং অপর হাঁটু বিছিয়ে।

(শরহুস্ সুন্নাহ, হাঃ নং ৩৫৭৭)

 গ. উভয় হাঁটু বিছিয়ে অর্থাত নামাযে বসার ন্যায় বসে সামান্য সম্মুখ পানে ঝুঁকে আহার করা।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৭৭৩)

 বি.দ্র. উযরের কারণে আসন দিয়ে বসারও অনুমতি আছে।

(সূরা নূর, আয়াত-৬১/ আল ইতহাফ, ৫ : ৪৮০)

 ১২. আহার গ্রহণ শেষে খানার পাত্রসমূহ আঙ্গুল দ্বারা ভালভাবে চেটে পরিস্কার করে খাওয়া। এতে খাবারের পাত্রসমূহ আহারকারীর জন্য মাগফিরাত কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে দু‘আকরে। হাতের আঙ্গুলসমূহ যথাক্রমে মধ্যমা, শাহাদাত, বৃদ্ধা চেটে খাওয়া।

(মুসলিম, হাঃ নং ২০৩৩/ তিরমিযী, হাঃ নং ১৮০৪/ তাবরানী আউসাত, হাঃ নং ১৬৪৯)

 ১৩. খানা শেষে এই দু‘আ পড়া :

 الحمد لله الذى اطعمنا وسقانا وجعلنا من المسلمين

(আবু দাউদ, ৩৮৫০)

 ১৪. খানা শেষে আগে দস্তরখানা উঠিয়ে তারপর নিজে উঠা।

(ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৩২৯৫)

 ১৫. দস্তরখানা ও অবশিষ্ট খানা উঠানোর সময় এই দু‘আ পড়া :

 الحمد لله حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه غير مكفى ولا مودع ولا مستغنى عنه ربنا

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৪৫৮)

 ১৬. খানা খেয়ে উভয় হাত ধোয়া।

(তিরমিযী, হাঃ নং ১৮৪৬)

 ১৭. কুলি করে মুখ পরিষ্কার করা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৪৫৫)

 ১৮. খানার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে ভুলে গেলে স্মরণ হওয়ার পর খানার মাঝে এই দু‘আ পড়া : بسم الله اوله واخره

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৭৬৭)

 ১৯. কারো মেহমান হয়ে খানা খেলে প্রথমে আল্লাহর শুকর আদায়ে ১৩নং এ বর্ণিত দু‘আ পড়ার পর মেযবানের শুকরিয়া আদায়ে এই দু‘আ পড়া :

 اللهم اطعم من اطعنى واسق من سقانى

(মুসলিম, হাঃ নং ২০৫৫)

 হাদীসে মেযবানকে শুনিয়ে এ দু‘আটি পড়তেও উতসাহিত করা হয়েছে :

 اكل طعامكم الابرار وصلت عليكم الملائكة وافطر عندكم الصائمون

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৮৫৪)

 ২০. খানা খাওয়ার সময় একেবারে চুপ থাকা মাকরূহ। এজন্য খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে পরস্পরে ভাল কথা আলোচনা করা। কিন্তু যে ধরনের কথা বা সংবাদে দুশ্চিন্তা বা ঘৃণার উদ্রেক হতে পারে, তা খানার সময় বলা অনুচিত।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৩৭৬)

ঘুম থেকে উঠার সুন্নাতসমূহ

 ১. ঘুম থেকে উঠেই উভয় হাত দ্বারা মুখমণ্ডল এবং চক্ষুদ্বয়কে হালকাভাবে মর্দন করা, যাতে ঘুমের ভাব দূর হয়ে যায়।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৮৩)

 ২. ঘুম হতে উঠার পর এই দু‘আ পড়া :

 الحمد لله الذى احيانا بعد ما اماتنا واليه النشور

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩২৪)

 ৩. যখনই ঘুম হতে উঠা হয়, তখনই মিসওয়াক করা একটা সুন্নাত। উযু করার সময় উযুর সুন্নাত হিসেবে মিসওয়াক করা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৪৫/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৪৭)

বিবাহের সুন্নাতসমূহ

 ১. মাসনূন বিবাহ সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর হবে, যা অপচয়, অপব্যয়, বেপর্দা ও বিজাতীয় সংস্কৃতি, গান-বাদ্য, ভিডিও-অডিও মুক্ত হবে এবং তাতে যৌতুকের শর্ত বা সামর্থের অধিক মহরানার শর্ত থাকবে না।

 (তাবরানী আউসাত, হাঃ নং ৩৬১২)

 ২. সত ও খোদাভীরু পাত্র-পাত্রীর সন্ধান করে বিবাহের পয়গাম পাঠানো। কোন বাহানা বা সুযোগে পাত্রী দেখা সম্ভব হলে, দেখে নেয়া মুস্তাহাব। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটা করে পাত্রী দেখানোর যে প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত, তা সুন্নাতের পরিপন্থী ও পরিত্যাজ্য।

(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪ : ২০০/ বুখারী হাঃ নং ৫০৯০)

 ৩. শাওয়াল মাসে এবং জুমু‘আর দিনে মসজিদে বিবাহ সম্পাদন করা। উল্লেখ্য, সকল মাসের যে কোন দিন বিবাহ করা জায়েয আছে।

(মুসলিম, হাঃ নং ১৪২৩/ বাইহাকী, হাঃ নং ১৪৬৯৯)

 ৪. বিবাহের খবর ব্যাপকভাবে প্রচার করে বিবাহ করা এবং বিবাহের পরে আকদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকদের মাঝে খেজুর বণ্টন করা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫১৪৭)

 ৬. বাসর রাতে স্ত্রীর কপালের উপরের চুল হাতে নিয়ে এই দু‘আ পড়া :

 اللهم انى اسئلك خيرما وخير جبلتها عليه واعوذبك من شرها ومن شرما جبلتها عليه-

(আবু দাউদ, হাঃ নং ২১৬০)

 ৭. স্ত্রীর সঙ্গে প্রথমে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি করবে, তারপর যখনই সহবাস-এর ইচ্ছা হয়, তখন প্রথমে নিম্নোক্ত দু‘আ পড়ে নেবে :

 بسم الله اللهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا-

(মুসলিম, হাঃ নং ১৪৩৪)

 বি.দ্র. উপরোক্ত দু‘আ না পড়লে শয়তানের তাছীরে বাচ্চার উপর কু-প্রভাব পড়ে। অতঃপর সন্তান বড় হলে, তার মধ্যে ধীরে ধীরে তা প্রকাশ পেতে থাকে এবং বাচ্চা নাফরমান ও অবাধ্য হয়। সুতরাং পিতা-মাতাকে খুবই সতর্ক থাকা জরুরী। ৮. বাসর রাতের পর দু’হাতে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং গরীব-মিসকীনদের তাওফীক অনুযায়ী ওলীমা খাওয়ানোর আয়োজন করা।

(মুসলিম, হাঃ নং ১৪২৭)

 বি.দ্র. (ক) কোন পক্ষ যেওরের শর্ত করা নিষেধ এবং ছেলের পক্ষ থেকে যৌতুক চাওয়া হারাম।

(আহসানুর ফাতাওয়া, ৫ : ১৩)

 (খ) কনের ইযন-এর জন্য সাক্ষীর কোন প্রয়োজন নাই। সুতরাং ছেলের পক্ষের লোক ইযন শুনতে যাওয়া অনর্থক এবং বেপর্দা। সুতরাং তা নিষেধ। মেয়ের কোন মাহরাম বিবাহের ওকীল হওয়ার অনুমতি নিবে।

(মুসলিম, হাঃ নং ১৪২১)

 (গ) শর্ত আরোপ করে বরযাত্রীর নামে বরের সাথে অধিক সংখ্যক লোকজন নিয়ে যাওয়া এবং কনের বাড়ীতে মেহমান হয়ে কনের পিতার উপর বোঝা সৃষ্টি করা আজকের সমাজের একটি জঘন্য কু-প্রথা, যা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা আবশ্যক।

(মুসনাদে আহমদ, হাঃ নং ২০৭২২/ বুখারী হাঃ নং ২৬৯৭)

 (ঘ) ওলীমায় অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা খুব উঁচু মানের খানার ব্যবস্থা করা জরুরী নয়। বরং সামর্থানুযায়ী খরচ করাই সুন্নাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট। যে ওলীমায় শুধু ধনী ও দুনিয়াদার লোকদের দাওয়াত করা হয়, দীনদার ও গরীব-মিসকীনদের দাওয়াত করা হয় না, সে ওলীমাকে হাদীসে নিকৃষ্টতম ওলীমা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সুতরাং এ ধরনের নিকৃষ্ট ওলীমার আয়োজন থেকে বিরত থাকা উচিত।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৭৫৪)

 (ঙ) ওলীমার মজলিসে হাদিয়া লেন-দেন ঠিক নয়। কেউ হাদিয়া দিতে চাইলে নিজের সুযোগ মত পাঠিয়ে দিবে, প্রচার করবে না। গোপনে দিবে, এটাই হাদিয়ার সুন্নাত।

সফরের সুন্নাতসমূহ

 ১. কমপক্ষে দুই ব্যক্তি এক সাথে সফরে যাওয়া, পারতপক্ষে একা সফর না করা।

(তিরমিযী, হাঃ নং ২১৬৫)

 ২. বাড়ী থেকে بسم الله توكلت على الله পড়ে বের হওয়া।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৫০৯৫)

 ৩. যানবাহনের দরজায় ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে বলতে পা রাখা।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ২৬০২)

 ৪. যানবাহনে ভাল ভাবে আসন গ্রহণের পর তিনবার আল্লাহু আকবার বলে এই দু‘আ পড়া :

 سبحان الذى سخر لنا هذا وما كنا له مقرنين وانا الى ربنا لمنقلون- اللهم انى اسئلك فى سفرنا هذا البر والتقوى ومن العمل ما ترضى اللهم هون علينا سفرنا هذا اللهم اطولنا البعد-اللهم انت الصاحب فى السفر والخليفة فى الاهل والمال اللهم انى اعوذبك من وعثاء السفر وكأبة المنظر وسوء المنقلب فى المال والاهل-

(আবু দাউদ, হাদীস নং ২৫৯৮, ২৫৯৯)

 ৫. সফরে কোথাও অবস্থানের প্রয়োজন হলে, কোন জায়গায় এমনভাবে অবস্থান করা, যাতে মানুষের চলাফেরা ইতাদির ব্যাঘাত না ঘটে।

(বুখারী, হাঃ নং ৬২২৯)

 ৬. নিজে বা যানবাহন উপরের দিকে উঠতে লাগলে আল্লাহু আকবার বলা।

(মুসলিম, হাঃ নং ১৩৪৪)

 ৭. নিজে বা যানবাহন নীচের দিকে নামতে বা অবতরণ করতে লাগলে সুবহানাল্লাহ বলা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৯৯৩)

 ৮. দূর হতে গন্তব্যস্থান দৃষ্টিগোচর হতেই এই দু‘আ তিন বারপাঠ করা : اللهم بارك لنا فيها

(তাবারানী আউসাত, হাঃ নং ৪৭৫৫)

 ৯. গন্তব্যবস্থানে প্রবেশ কালে এই দু‘আ পড়া :

 اللهم ارزقنا جناها وحببنا الى اهلها وحبب صالحى اهلها الينا

(তাবরানী আউসাত, হাঃ নং ৪৭৫৫)

 ১০. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : সফরের কার্য শেষ হলেই তাড়াতাড়ি বাড়ী ফিরে আসবে। অযথা সফরকে দীর্ঘ করা ভাল নয়।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৮০৪)

 ১১. দীর্ঘ দিনের সফর শেষে বাড়ী প্রত্যাবর্তনকালে হঠাত করেই ঘরে প্রবেশ না করা। বরং প্রথমে নিজ গ্রাম বা মহল্লার মসজিদে এসে অবস্থান করা ও দু‘রাক‘আত নামায পড়া। অতঃপর বাড়ীতে আসার সংবাদ পৌঁছিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে লোকজনের সাথে সাক্ষাত করে নিজ বাড়ীতে প্রবেশ করা। তেমনিভাবে দীর্ঘদিন সফর হতে পিরে এসে গভীর রাতে বাড়ীতে প্রবেশ না করা।

(মুসলিম, হাঃ নং ২৭৬৯/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৮০০)

 বি.দ্র. সফরের প্রোগ্রামই এরূপ বানাবে যাতে সকাল হলে বাড়ী পৌঁছা যায়। তবে ঘরের লোকদের যদি তার গভীর রাতে পৌঁছার সংবাদ জানা থাকে এবং তারা তার জন্য অপেক্ষায় থাকে, তবে রাতে এসে সরাসরি ঘরে প্রবেশ করায় কোন দোষ নেই।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫২৪৭)

 ১২. সফরে কুকুর, ঘুংড়ু ও গলঘন্টী সঙ্গে না রাখা। কেননা, শয়তান এগুলোর পিছু নেয়, তাতে সফরের বরকত চলে যায়। উল্লেখ্য, সখ করে বাড়ীতে কুকুর পালা শরীয়তে নিষেধ।

(মুসলিম, হাঃ নং ১৫৭৪/ মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ২১১৩)

 ১৩. সফর হতে প্রত্যাবর্তন করে এই দু‘আ পড়া :

 ائبون تائبون عابدون لربنا حامدون

(তিরমিযী, হাঃ নং ৩৪৪০)

নখ কাটার সুন্নাতসমূহ

 ১. সপ্তাহে একবার নখ কাটা।

(শরহুস্ সুন্নাহ, হাঃ নং ৩০৯০)

 ২. শুক্রবার জুমু‘আর নামাযে যাওয়ার পূর্বে নখ কাটা।

(শরহুস্ সুন্নাহ, হাঃ নং ৩০৯১)

 ৩. উভয় হাত (মুনাজাতের আকৃতিতে ধরে) ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল থেকে আরম্ভ করে ধারাবাহিকভাবে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখ কেটে শেষ করা। অতঃপর সর্বশেষে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গলীর নখ কাটা।

(ফাতাওয়ায়ে শামী- ৬ : ৪০৬/ ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী, ৫ : ৩৫৮)

 ৪. ডান পায়ের কনিষ্ঠাঙ্গুলি থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বাম পায়ের কনিষ্ঠাঙ্গুলির নখ কেটে শেষ করা।

(শামী, ৬ : ৪০৬)

বিবিধ সুন্নাত

 ১. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথ চলার সময় রাস্তা হতে লোকদের ধাক্কানো বা সরানো হত না।

(মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১৪২৩৬)

 ২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কেউ কিছু চাইলে তিনি কখনও না বলতেন না। (অর্থাত প্রার্থীত জিনিস থাকলে তা দিয়ে দিতেন, আর না থাকলে অপরাগতা প্রকাশ করতেন।)

(মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ১৪২৯৪)

 ৩. প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারো মুখ হতে স্বীয় চেহারা মুবারক ফিরিয়ে নিতেন না যতক্ষণ না সে তার চেহারা ফিরিয়ে নিত। কোন ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কানে কানে কোন কথা বলতে চাইলে তিনি তার দিকে স্বীয় কান মুবারক বাড়িয়ে দিতেন এবং যতক্ষণ তার কথা শেষ না হতো, ততক্ষণ স্বীয় কর্ণ মুবারক সরিয়ে নিতেন না।

(ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৩৭১৬/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৪৭৯৪)

 ৪. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষাতকালে নিজেই আগে সালাম করতেন, তারপর দু’হাতে মুসাফাহা করতেন। অনেক দিন পর কারো সাথে সাক্ষাত হলে তার সাথে মু‘আনাকাও করতেন।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৫২১৪/ বুখারী শরীফ হাঃ নং ৬২৬৫-৬২৬৬)

 বি.দ্র. সালাম দেয়ার সময় হাত তোলা বিধর্মীদের নীতি। সুতরাং হাত তুলবে না। তবে আওয়াজ না পৌঁছার আশংকা থাকলে হাত তুলতে পারে। কিন্তু স্যালুটের মত করে হাত তুলবে না। আর মুসাফাহার সময় প্রত্যেকের এক হাত অপর ব্যক্তির দু‘হাতের মাঝখানে থাকবে।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং-৬২৬৫)

 অমুসলিমদের হ্যান্ডসেকের মত করে হাত ধরবে না। মু‘আনাকার সময় উভয় ব্যক্তি নিজের ডান গর্দান একবার মিলাবে। সাধারণত লোকেরা উভয় দিকে তিনবার সিনা মিলিয়ে থাকে এবং ঈদের দিন মুআনাকার ধুম পড়ে যায়। এর কোন ভিত্তি নেই। ৫. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে বিদায় দেয়ার সময় মুসাফাহা করতেন এবং এই দু‘আ পড়তেন :

 استودع الله دينكم واما نتكم وخواتيم اعمالكم

(আবু দাউদ, হাঃ নং ২৬০১)

 এবং যাকে বিদায় দিতেন তিনি এ দু‘আটি পড়তেন-

 استو دعك الله الذى لا تضيع ودائعه-

(ইবনে মাজাহ হাঃ নং ২৮২৫)

 ৬. রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন পছন্দনীয় জিনিস হাসিল করলে এই দু‘আ পড়তেন :

 الحمد لله الذى بنعمته تتم الصالحات-

(ইবনে মাজাহ, হাঃ নঙ ৩৮০৩)

 ৭. পক্ষান্তরে মনের ইচ্ছার ব্যতিক্রম কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে এই দু‘আ পড়তেন : الحمد لله على كل حال-

(ইবনে মাজাহ, হাঃ নং ৩৮০৩)

 ৮. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে এই দু‘আ পড়তেন : يا حى يا قيوم برحمتك استغيث

(তিরমিযী, হাঃ নং ৩৫২৪)

 ৯. হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কারো দিকে তাকাতেন, তখন সম্পূর্ণ চেহারা ঘুরিয়ে তাকাতেন। অহংকারীদের ন্যায় আড় চোখে তাকাতেন না।

(শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ১)

 ১০. হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সৃষ্টি নীচু করে থাকতেন। অধিক লাজুক হওয়ার কারণে তিনি কারো প্রতি দৃষ্টি ভরে তাকাতে পারতেন না।

(শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২)

 ১১. হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথ চলার সময় কিছুটা সম্মুখ পানে ঝুঁকে চলতেন। দেখলে মনে হতো যেন তিনি উপর হতে নীচের দিকে অবতরণ করছেন।

(শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ১)

 ১২. প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবার সাথে মিলেমিশে থাকতেন, স্বাতন্ত্র্য মর্যাদা বজায় রেখে চলতেন না। মাঝে মাঝে তিনি হাসি-কৌতুকও করতেন। তবে সে কৌতুকও হতো বাস্তবসম্মত। কাউকে কটাক্ষ করে বা অবাস্তব কথা বলে তিনি কোন কৌতুক করতেন না।

(শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ১৫)

 বি.দ্র. হাসি কৌতুক-এর অনেক হিকমতের মধ্যে একটা হিকমত ছিল যে, এর কারণে লোকেরা নির্ভয়ে তাঁর নিকট যে কোন দীনী প্রশ্ন করার সুযোগ পেত। ১৩. কোন দুঃস্থ বা বৃদ্ধা মহিলা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলতে চাইলে, রাস্তার একপার্শ্বে গিয়ে তিনি তাদের কথা শুনতেন।

(শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২২)

 ১৪. রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পরিবারের লোকদের ব্যাপারেও খুব লক্ষ্য রাখতেন। যাতে তাঁর দ্বারা তাদের কোনরূপ কষ্ট না হয়। এজন্য রাতে ঘর হতে বের হওয়ার প্রয়োজন হলে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে উঠে জুতা পরিধান করতেন এবং নিঃশব্দে দরজা খুলে বের হতেন। অনুরূপভাবে ঘরে প্রবেশ করার সময়ও নিঃশব্দে প্রবেশ করতেন, যাতে ঘুমন্ত ব্যক্তিদের ঘুমের কোন প্রকার ব্যাঘাত না ঘটে।

(মুসলিম, হাঃ নং ১০৩)

 ১৫. কোন সন্তানের বয়স সাত বছর হলে তাকে নামায এবং শরীয়তের অন্যান্য বিধি-বিধান পালনে অভ্যস্ত করানোর নির্দেশ দিতেন।

(তিরমিযী, হাঃ নং ৪০৭)

 ১৬. সন্তানের বয়স দশ বছর হলে প্রয়োজনে তাকে নামাযের জন্য হাত দ্বারা (বেত বা লাঠি দ্বারা নয়) প্রহার করার তাকীদ করতেন।

(তিরমিযী, হাঃ নং ৪০৭)

 ১৭. সকল গোত্রের সম্মানিত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতেন।

(শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২৩)

 ১৮. দিনের সময়কে তিন ভাগ করে এক ভাগ আল্লাহর ইবাদত এবং দীনের ফিকিরের জন্য, এক ভাগ পরিবার-পরিজনের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য এবং আরেক ভাগ ব্যক্তিগত কাজ ও নিজের শরীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়ার তা‘লীম দিতেন।

(শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২২)

 ১৯. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি অধিক পরিমাণ দরূদ পড়তে থাকা, প্রতিবেশীদের সাথে ভাল ব্যবহার করা, বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করা নবীজীর গুরুত্বপূর্ণ তালীম।

(মুসলিম হাঃ নং ৪০৮/ শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২৩)

 ২০. কোন আত্মীয়ের পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহার পেলে তাকে মাফ করে দিয়ে তার সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখা নবীজীর তরীকা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৯৯১)

 ২১. সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর চাই সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক হালকা শব্দ করে তার ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত বলা, কোন বুযুর্গের মুখে চিবিয়ে খেজুর, মিষ্টিদ্রব্য বাচ্চার মুখের তালুতে লাগিয়ে দেয়া, সপ্তম দিনে তার সুন্দর নাম রাখা এবং আক্বীকা করা।

(তিরমিযী, হাঃ নং ১৫১৪, ১৫২২, ১৫১৫/ মুসলিম, হাঃ নং ৫৬১৭)

 ২২.আত্নীয়-স্বজনদের সাথে ঘনিষ্ঠ ও আন্তরিক সম্পর্ক রাখা এবং সর্বদা সাধ্যমত তাদের খোঁজ-খবর নেয়া।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৯৮৭)

 ২৩. বোগল, নাভীর নীচের অংশ নিয়মিত পরিস্কার করে রাখা, এগুলো পরিস্কার না করা অবস্থায় চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে গুনাহগার হবে।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬২৯৭/ তিরমিযী, হাঃ নং ২৭৫৮)

 ২৪. যাদের দাড়ি লম্বা হয়, তাদের দাড়ি তিন দিকে এক মুষ্টির কিছু বেশি বা কমপক্ষে এক মুষ্টি পরিমাণ রাখা ওয়াজিব। এক মুষ্টি থেকে ছোট করে রাখা বা একেবারে মুণ্ডিয়ে ফেলা হারাম। মোচ (গোঁফ) কাচি দ্বারা ছোট ছোট করে রাখা, যাতে উপরের ঠোঁটের কিনারা স্পষ্ট দেখা যায়। ব্লেড বা ক্ষুর দ্বারা মোচ একদম মুণ্ডিয়ে ফেলা অনুচিত।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৮৯২, ৫৮৯৩)

 ২৫. দুর্বলদের প্রতি সুনজর রাখা। তাদের প্রতি যুলুম হতে দেখলে সাধ্যানুযায়ী তা প্রতিহত করা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৪৪৫)

 ২৬. নিজ স্ত্রীকে আনন্দ দানের জন্য তার সাথে কখনো কখনো হাসি-কৌতুক এবং খোশ গল্প করা।

(শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ১৭)

 ২৭. মুসলমান ভাইয়ের সাক্ষাতে হাসিমুখে মিলিত হওয়া। সাক্ষাতের জন্য আগন্তুক ভাইয়ের উদ্দেশ্যে নিজস্থান থেকে সামান্য সরে গিয়ে বা অগ্রসর হয়ে তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

(তিরমিযী, হাঃ নং ১৮৩৩/ তাকমিলাতু ফাত্‌হুল্ মুলহিম, ৩ : ১২৭)

 ২৮. হাঁচি বা হাই আসলে হাত বা কাপড় দ্বারা মুখ ঢেকে নেয়া এবং যথাসাধ্য শব্দ কম করা।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৫০২৯)

 ২৯. বিধর্মীদের মত দেখা যায় বা সতর-এর আকৃতি প্রকাশ পায় বা পুরুষদের জন্য টাখনুর নীচে কাপড় পরা হারাম।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৭৮৭/ মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ৮৬৬৫)

 ৩০. নীচের কয়েকটি বিষয়ের প্রতি খুব বেশি খেয়াল রাখা অপরিহার্য। কেননা, উক্ত কাজগুলোই দীনের সারমর্ম। এবং উক্ত বিষয়গুলোর ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরযে আইন।

 ক. নিজের ঈমান আক্বীদা সহীহ ও মজবুত করা।

 খ. ইবাদত-বন্দেগীসমূহ আমলী মশকের মাধ্যমে পরিপূর্ণ সুন্নাত অনুযায়ী শিখে নেয়া।

 গ. রিযিককে হালাল রাখার পিকির করা।

 ঘ. পিতা-মাতা, স্ত্রী সন্তান থেকে নিয়ে সকল আত্নীয়-স্বজন ও মুসলমানদের হক আদায়ে সচেষ্ট থাকা। মোটকথা, বান্দার হক্বের ব্যাপারে খুব বেশি ফিকির রাখা নতুবা সমস্ত ইবাদত-এর সওয়াব শেষ হয়ে যাবে।

 ঙ. নিজের আত্মার রোগের চিকিতসার জন্য কোন হক্কানী বুযুর্গের সাথে সম্পর্ক রাখা।

 চ. গুনাহে কবীরা, হারাম, মাকরূহে তাহরীমী ও মুশতাবিহ মনে হয় এমন জিনিস থেকে কঠোরভাবে পরহেয করা।

 ছ. নিজের পরিবারের লোকজন,আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব ও মহল্লাবাসী লোকদেরকে সর্বদা দীনের দাওয়াত দিতে থাকা এবং তাদের দীনের তা‘লীম দিতে থাকা। সারকথা, আল্লাহর দীনের জন্য প্রতিদিন কিছু সময় বের করা।

 (সূরা বাক্বারা, আয়াত, ১৭৭/ তিরমিযী, হাঃ ২২৬৭)

মৃত্যু কালীন সুন্নাত সমুহ

 ১. মৃত্যুশয্যায় শায়িত ব্যক্তির চেহারা কিবলামুখী করে দেয়া এবং তার সামনে বসে তাকে শুনিয়ে কালিমা শরীফ পড়তে থাকা। তবে তাকে কালিমা পড়ার হুকুম দিবে না এবং তার পাশে বসে সূরা ইয়াসীন পড়া। উল্লেখ্য, কালিমা শরীফ একবার পড়ে নিয়ে তারপর যদি দুনিয়াবী কোন কথা না বলে তাহলে দ্বিতীয় বার কালিমার তালকীন না করা।

(মুস্তাদরাক, হাঃ নং ১৩০৫/ মুসরিম, হাঃ নং ৯১৬/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৩১২১)

 ২. স্বীয় মৃত্যু নিকটবর্তী মনে হলে এই দু‘আ পড়তে থাকা :

 اللهم اغفرلى وارحمنى والحقنى بالرفيق الاعلى-

(তিরমিযী, হাঃ নং ৩৪৯৬/ আবু দাউদ, হাঃ নং ৩১২১)

 ৩. যখন রূহ বের হচ্ছে বলে অনুভব হতে থাকে, তখন এই দু‘আ পড়া :

 اللهم اعنى على غمرات الموت او سكرات الموت-

(তিরমিযী, হাঃ নং ৯৭৮)

 ৪. কোন মুসলমানের মৃত্যু সংবাদ শ্রবণে এই দু‘আ পড়া :

 انا لله وانا اليه راجعون اللهم اجرنى فى مصيبتى واخف لى خيرا منها

(মুসলিম, হাঃ নং ৯১৮)

 ৫. মৃত ব্যক্তির চক্ষুদ্বয় ও মুখ খোলা থাকলে বন্ধ করে দেয়া। প্রয়োজন বোধে মাথার উপর ও থুতনীর নীচ দিয়ে কাপড় বেঁধে দেয়া। চেহারা দেখা,আত্মীয়-স্বজনদের আসা,জানাযায় লোক কম হবে এসব কথা বলে দাফনে বিলম্ব করা নিষেধ।

(মুসলিম, হাঃ নং ৯২০)

 ৬. মৃত ব্যক্তিকে খাটে রাখার সময় বা মৃত ব্যক্তির লাশবাহী খাট কাঁধে উঠানোর সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা।

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাঃ নং ১২০৬২)

 ৭. যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি মৃত ব্যক্তিকে গোসল, কাফন ও জানাযার নামায সম্পন্ন করে নিকটস্থ গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা। দাফনের জন্য বিনা অপারগতায় দূরের গোরস্থানে বা এক শহর থেকে অন্য শহরে নেয়া মাকরূহ।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩১৮, ৩১৬৫)

 বি. দ্র. জানাযার পরে দাফনের পূর্বে হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা নিষেধ এবং জানাযার পর থেকে মুর্দার চেহারা দেখানো নিষেধ।

(আহসানুল ফাতাওয়া, ৪ : ২১৯/ ইমদাদুল মুফতীন, ৪৪৪ দারুল উলূম, ৫ : ৩০৫)

 ৮. মৃত ব্যক্তির লাশ কবরে রাখার সময় এই দু‘আ পড়া :

 بسم الله وعلى ملة رسول الله

(আবু দাউদ, হাঃ নং ১০৪৬/ মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ৪৯৮৯)

 ৯. কবরে লাশ পুরোপুরি ডান কাতে শোয়ানো অর্থাত তার চেহারা ও সীনা কিবলামুখী করে দেয়া। এর জন্য কবরের তলদেশে পশ্চিম পার্শ্বে উত্তর দক্ষিণে লম্বাভাবে এক হাত পরিমাণ গর্ত করতে হবে অথবা পিঠের পেছনে ও মাথার নীচে মাটির চাকা দিয়ে ডান কাতে শোয়াতে হবে। মৃত ব্যক্তিকে কবরে চিত করে শুইয়ে শুধু তার চেহারা কিবলামুখী করে দিলেই সুন্নাতের অনুসরণ হবে না।

(মুস্তাদরাক, হাঃ নং ১৯৭)

 ১০. আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির পরিবার পরিজনের জন্য প্রথম দিন খানার ব্যবস্থা করা উচিত। মৃত ব্যক্তির উপর যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব ছিল, শুধু তারাই এ খানা খাবে। আগন্তুক মেহমানগণ উক্ত খানায় শরীক হবে না। বরং তারা সান্ত্বনা দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে যাবে। মৃত ব্যক্তির লোকদের উপর বোঝা সৃষ্টি করবে না। বর্তমানে বিষয়টিকে মোটেও খেয়াল করা হচ্ছে না। রেওয়াজ হিসেবে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে মৃতের পরিবারের পক্ষ হতে কোনরূপ খানার আয়োজন না করা চাই। তেমনিভাবে ৪ দিনা, ৭/ ১০ দিনা, ত্রিশ-চল্লিশ কুলখানী ইত্যাদি বিধর্মীদের রসম। এগুলো থেকে কঠোরভাবে পরহেজ করবে। চাই মূর্খ লোকেরা যতই বদনাম করুক। আল্লাহর জন্য এ সব বদনাম বরদাশ্ত করে নিবে। ‘জীবনের শেষদিন’ কিতাব থেকে বিস্তারিত দেখে নিবে।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৪১৭/ মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ৯০৫)

 ১১. কবর খুব বেশি উঁচু না করা এবং পাকা না করা।

(মুসলিম, হাঃ নং ৯৬৯, ৯৭০)

 ১২. কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়া।

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৬৪৮১)

 ১৩. মৃত ব্যক্তির দাফনকার্য সম্পন্ন করার পর হযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তার মাগফিরাত কামনায় দু‘আ করতেন এবং অন্যদেরকেও মাগফিরাতের দু‘আ করতে বলতেন। বিশেষত মুনকার নাকীর ফিরিশতাদ্বয়ের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে সে যেন দৃঢ়পদ ও অবিচল থাকতে পারে, সে জন্য দু‘আ করতে বলতেন।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩২২১)

 ১৪. কবরের মাথার দিকে এক ব্যক্তি সূরা বাকারার শুরু থেকে مفلحون পর্যন্ত এবং পায়ের দিকে অপর ব্যক্তি امن الرسول থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করবে। কবরের চার কোণায় খুটি গাড়া এবং চার কোণায় চার কুল পড়ার কোন ভিত্তি পাওয়া যায় না।

(শুআবুল ঈমান, হাঃ নং ৮৮৫৪)

  সমাপ্ত

মুনাজাতের ভুলসমূহ

 ১. মুনাজাতের সময় অনেকে উভয় হাত কাঁধ থেকে উপরে উঠিয়ে রাখে। অথচ এ সময় উভয় হাত বুক বা কাঁধ বরাবর রাখাই নিয়ম।

 ২. মুনাজাতের সময় অনেকে উভয় হাত অনেক বেশি ফাঁকা করে অথবা একেবারে মিলিয়ে রাখে। আবার কেউ কেউ দড়ি পাকানোর মত করতে থাকে। এসবই ভুল। নিয়ম হল, উভয় হাতের মাঝখানে দু’এক আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রাখা।

 ৩. অনেকে হাতের তালু চেহারামুখী করে রাখে। অথচ হাতের তালু আসমানের দিকে করে রাখা উচিত।

 ৪. আল্লাহর হামদ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরূদ দ্বারা মুনাজাত আরম্ভ করা এবং হামদ ও দরূদ এবং আমীন দ্বারা মুনাজাত শেষ করা সুন্নাত। অথচ অনেকে এ নিয়ম ব্যতিরেকেই ‘আল্লাহুম্মা আমীন’ বলে মুনাজাত শুরু করে এবং ‘বাহক্বে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে মুনাজাত শেষ করে। এরূপ সব সময় করতে থাকা বিদ‘আত।

 ৫। অনেকে ফরয নামাযের পর দু‘আ, যিকির না পড়েই সালাম ফিরানোর সাথে সাথে সুন্নাত বা নফল পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে যায়। এটাও সুন্নাতের খেলাফ। ফরয নামাযের পর কিছু সময় দু‘আ-দরূদ, যিকির-আযকার ও তাসবীহ-তাহলীল ইত্যাদি পাঠ করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, এর ব্যতিক্রমকারীকে হযরত উমর (রা.) কাঁধে ঝাঁকুনি দিয়ে বসিয়ে দিয়েছিলেন এবং হযরত নবী কারীম (সা.) হযরত উমর (রা.)-এর এ কাজকে সমর্থন করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ফরয সুন্নাত ও নফল নামাযের মাঝে পার্থক্য না করায় বনী ইসরাঈলকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ১০০৭)

 তবে মাগরিবের ফরয নামাযের পর সুন্নাত পড়তে অধিক সময় বিলম্ব করা অনুচিত। মনে মনে মুনাজাত করা মুস্তাহাব। কারো ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হলে আওয়াজ করে দু‘আকরা জায়েয। অনেক ইমাম সাহেব উচ্চৈঃস্বরে মুনাজাত করে মাসবূকদের অবশিষ্ট নামাযের মধ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করেন, এটা নাজায়েয।

পান করার সুন্নাতসমূহ

 ১. পানির পেয়ালা ডান হাত দিয়ে ধরা।

(মুসলিম, হাঃ নং ২০২০)

 ২. বসে পান করা, বসতে অসুবিধা না হলে দাঁড়িয়ে পান না করা।

(মুসলিম, হাঃ নং ২০২৪)

 ৩. বিসমিল্লাহ বলে পান করা এবং পান করে আলহামদুলিল্লাহ বলা।

(তাবরানী আওসাতা, হাঃ নং ৬৪৫২)

 ৪. কমপক্ষে তিন শ্বাসে পান করা এবং শ্বাস ছাড়ার সময় পানির পাত্র মুখ হতে সরিয়ে নেয়া।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৬৩১)

 ৫. পাত্রের ভাঙ্গা দিক দিয়ে পান না করা।

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৭২২)

 ৬. পাত্র যদি এমন হয়, যার ভিতর নজরে আসে না, সেটার মুখে মুখ লাগিয়ে পান না করা। কারণ, তাতে কোন বিষাক্ত প্রাণী ক্ষতি সাধন করতে পারে।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৬২৬)

 ৭. পানি পান করার পর এই দু‘আ পড়া :

 الحمد لله الذى سقانا ماء عذبا فراتا برحمته ولم يجعله ملحا اجاجا بذنوبنا

৮. পানীয় দ্রব্য পান করে কাউকে দিতে হলে ডান দিকের ব্যক্তিকে আগে দেয়া এবং এই ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই শেষ করা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৬১৯)

 ৯. উযু করার পর যে পাত্রে হাত দিয়ে পানি নেয়া হয়, সে পাত্রের অবশিষ্ট পানি কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে পান করা। এতে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি হতে আরোগ্য লাভ হয়।

(শামী, ১ : ১২৯/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৬১৬)

  ১০. দুধ পান করার পূর্বে এই দু‘আ পড়া :

 اللهم بارك لنا فيه وزدنا منه

(আবু দাউদ, হাঃ নং ৩৭৩০)

 দুধ ব্যতীত অন্য কোন পানীয় দ্রব্য হলে وزدنا এর পরে خيرا বৃদ্ধিথ করা।

(আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলাহ, ১২৭)

 ১১. যে ব্যক্তি পান করাবে তার সর্বশেষে পান করা।

(মুসলিম, হাঃ নং ৬৮১)

 ১২. যমযমের পানি কিবলামুখী হয়ে এ দু‘আ পড়ে পান করা :

 اللهم انى اسئلك علما نافعا ورزقا واسعا وشفاء من كل داء

(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাঃ নং ৯১১২/ সুনানে দারাকুতনী, হাঃ নং ২৭১২)

ঘুমানোর সুন্নাতসমূহ

 ১. ইশার নামাযের পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চেষ্টা করা, যাতে তাহাজ্জুদের জন্য উঠা সহজ হয়।

(বুখারী, হাঃ নং ৫৪৭)

 বি.দ্র. নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমীন, চৌকি, কাপড়ের বিছানা, চাটাই, চামড়ার বিছানা ইত্যাদির উপর শয়ন করেছেন বলে হাদীসে বর্ণিত আছে।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২০৬৯/ শামায়িলে তিরমিযী, পৃ. ২২)

 ২. উযু করে শয়ন করা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩১১)

 ৩. শোয়ার পূর্বে বিছানা ভালভাবে ঝেড়ে নেয়া।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩২০)

 ৪. শয়নের পূর্বে পরিহিত কাপড় পরিবর্তন করে ঘুমের কাপড় পরিধান করা।

(আল মাদখাল, ৩ : ১৬২)

 ৫. শয়নের পূর্বে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে নিম্নে বর্ণিত কাজগুলো করা : ১. দরজা বন্ধ করা। ২. মশক বা পানির পাত্র এবং খাদ্য দ্রব্যের পাত্র ও অন্যান্য পাত্রসমূহ ঢেকে রাখা। যদি ঢাকার জন্য কোন বস্তু না পাওয়া যায়, তাহলে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ে তার মুখে একটি লাটি বা ছড়ি রেখ দেয়া, ৩. বাতি নিভানো।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫৬২৩-২৪)

 ৬. ঘুমানোর পূর্বে উভয় চোখে তিনবার করে সুরমা লাগানা।

(মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৮২৪৯)

 ৭. ঘুমানোর পূর্বে কিছু পরিমাণ কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা। যথা : আলহামদু শরীফ, সূরা কাফিরূন, আয়াতুল কুরসী, আমানার রসূল থেকে সূরা বাক্বারার শেষ পর্যন্ত, সূরা মুলক, আলিফ লাম মীম সিজদাহ ইত্যাদি তিলাওয়াত করা বেশি পড়া সম্ভব না হলে কমপক্ষে ছোট ২/ ৩ টি সূরা পড়ে নেয়া।

(তাবারানী কাবীর হাঃ নং-২১৯৫) (আল আদাবুল মুফরাদ, হাঃ নং ১২০৯/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৩২৭৫)

 ৮. ঘুমানোর পূর্বে কয়েকবার দরূদ শরীফ পাঠ করা এবং তাসবীহে ফাতেমী অর্থাত ৩৩ বার সূবাহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৩১১৩)

 ৯. সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব ও সূরা নাস প্রত্যেকটা তিনবার করে পড়ে হাতে দম করে যতটুকু সম্ভব মাথা হতে পা পর্যন্ত সমস্ত শরীরে হাত মুছে দেয়া। তিনবার এরূপ করা।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫০১৭)

 ১০. ঘুমানোর সময় ডান কাতে কিবলামুখী হয়ে শোয়া সুন্নাত। উপুড় হয়ে শয়ন করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এভাবে শয়ন করাকে আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন না।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩১৪/ সহীহ ইবনে হিব্বান হাঃ নং ৫৫৪৯)

 ১১. শয়ন করে এ দু‘আ পড়া :

 باسمك ربى وضعت جنبى وبك ارفعه، ان امسكت نفسى فارحمها وان ارسلتها فاحفظها بما تحفظ به عبادك الصالحين

(বুখারী শরীপ, হাঃ নং ৬৩২০)

 ১২. ঘুমানোর পূর্বে তিনবার এই ইস্তিগফার পড়া :

 استغفر الله الذى لا اله الا هو الحى القيوم واتوب اليه

(তিরমিযী, হাঃ নং ৩৩৯৭)

 ১৩. এই দু‘আটিও পড়া :

اللهم باسمك اموت واحيى

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৬৩১৪)

 ১৪. সর্বশেষে এ দু‘আটি পড়া :

 اللهم اسلمت وجهى اليك وفوضت امرى اليك والجأت ظهرى اليك رغبة ورهبة اليك لاملجأ ولا منجا منك الا اليك- اللهم امنت بكتابك الذى انزلت وبنبيك الذى ارسلت-

(বুখারী, হাঃ নং- ২৪৭)

 ১৫. শয়ন করার পর ভয়ে ঘুম না আসলে এই দু‘আ পড়া :

 اعوذ بكلمات الله التامة من غضبه وعقابه وشرعباده ومن همزات الشياطين وان يحضرون-

(তিরমিযী, হাঃ নং ৩৫২৮)

 ১৬. স্বপ্নে ভয়ংকর কিছু দেখে চক্ষু খুলে গেলে তিনবার

اعوذ بالله من الشيطان الرجيم

পড়ে বাঁ দিকে থু-থু ফেলে পার্শ্ব পরিবর্তন করে শোয়া। তাতে ক্ষতির আর কোন আশংকা থাকে না এবং এ দু‘আটি পড়া :

 اللهم انى اعوذبك من شر هذه الرؤيا-

(মুসলিম, হাঃ নং ২২৬২)

 ১৭. সুযোগ হলে দুপুরে খানার পর কিছুক্ষণ কাইলূল্লাহ করা অর্থাত শয়ন করা। চাই ঘুম আসুক বা না আসুক।

(বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৯৩৯)

কুরআনে কারীম তিলাওয়াতের তিনটি বিশেষ উপকার

 ১. দিলের জং (গুনাহের কালিমা) মুছে যায়।  (শুআবুল ঈমান ৩ : ৩৯, হাঃ নং ১৮৫৯)

 ২. আল্লাহ তা‘আলার মুহাব্বত বৃদ্ধি পায়।  (সূরা আনফাল, ২/ শুআবুল ঈমান, ৩ : ৩৯৪, হাঃ নং ১৮৬৩)

 ৩. প্রত্যেক হরফে কমপক্ষে ১০টি করে নেকী পাওয়া যায়, না বুঝে পড়লেও। (তিরমিযী, হাঃ নং ২৯১০, মুস্তাদরাক, হাঃ নং ২০৪০) কেউ যদি বলে, না বুঝে পড়লে কোন লাভ নেই, তার এই কথা ঠিক না।

  কুরআনে কারীম তিলাওয়াতের দুটি আদব

 ১. তিলাওয়াতকারী মনে মনে এই ধারণা করবে যে, মহান আল্লাহ তা‘আলা হুকুম দিচ্ছেন- পড়, দেখি আমার কালাম কত সুন্দর করে পড়তে পার। (৫ মুযযাম্মিল, ৪/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৭৫৪৪)

 ২. আর শ্রবণকারীরা অন্তরে এই ধারণা করবে যে, মহান আল্লাহ তা‘আলার পবিত্র কালাম তিলাওয়াত করা হচ্ছে, সুতরাং অত্যন্ত ভক্তি, মহাব্বত ও মনযোগসহ কুরআন শরীফ তিলাওয়াত শ্রবণ অপরিহার্য।  (সূরা আ‘রাফ, ২০৪)

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত

বযুর্গানে দীন তাঁদের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন, তিনটি এমন সুন্নাত আছে, যেগুলোর উপর আমল করতে পারলে অন্তরে নূর পয়দা হয় এবং এর দ্বারা অন্য সকল সুন্নাতের উপর আমল করা সহজ হয়ে যায় এবং অন্তরে সুন্নাতের প্রতি আমল করার স্পৃহা জাগ্রত হয়।

 ১. সহীহ শুদ্ধ করে আগে আগে সালাম করা ও সর্বত্র সালামের ব্যাপক প্রসার করা।

(মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৫৪; তিরমিযী, হাঃ নং ২৬৯৯)

 বি.দ্র. السلام (আস্-সালামু) এর শুরুর হামযা এবং মীমের পেশ স্পষ্ট করে উচ্চারণ করতে হবে। সালামের উত্তর শুনিয়ে দেয়া ওয়াজিব। (আলমগিরী, ৫ : ৩২৬)

 ২. প্রত্যেক ভাল কাজে ও ভাল স্থানে ডান দিককে প্রাধান্য দেয়া। যথা : মসজিদে ও ঘরে প্রবেশকালে ডান পা আগে রাখা। পোশাক পরিধানের সময় ডান হাত ও ডান পা আগে প্রবেশ করানো এবং প্রত্যেক নিম্নমানের কাজে এবং নিম্নমানের স্থানে বাম দিককে প্রাধান্য দেয়া। যথা : মসজিদ বা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা আগে রাখা, বাম হাতে নাক পরিষ্কার করা, পোশাক থেকে বাম হাত বা বাম পা আগে বের করা।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ১৬৮/ মুসনাদে আহমাদ, হাঃ নং ২৫০৪৩) মুস্তাদরাক, হাঃ নং ৭৯১/ মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ২০৯৭)

 ৩. বেশি বেশি আল্লাহ তা‘আলার যিকির করা।

 (সূরায়ে আহযাব, ৪১/ মুস্তাদরাক, হাঃ নং ১৮৩৯)

 তাছাড়া ক. উপরে ওঠার সময় আল্লাহু আকবার, নীচে নামার সময় সুবহানাল্লাহ, সমতল ভূমিতে চলার সময় লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ্ পড়তে থাকা।

 (বুখারী শরীফ, হাঃ নং ২৯৯৩/ তিরমিযী, হাঃ নং ৩৩৮৩)

 খ. প্রতিদিন কুরআনে কারীম থেকে কিছু পরিমাণ তিলাওয়াত করা বা অন্যের তিলাওয়াত শ্রবণ করা।

 (মুসলিম, হাঃ নং ৭৯১/ বুখারী শরীফ, হাঃ নং ৫০৩৩)

 গ. পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর সুন্নাত থাকলে সুন্নাতের পরে নতুবা ফরযের পরে তিনবার ইস্তিগফার, একবার আয়াতুল কুরসী, একবার সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব, সূরা নাস এবং তাসবীহে ফাতেমী অর্থাত ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ্, ৩৩ বার আল-হামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়া।

 (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৫৯১/ ইমাম নাসায়ীর সুনানে কুবরা, হাঃ নং ৯৮৪৮, তাবারানী কাবীর, হাঃ নং ৭৫৩২/ নাসায়ী শরীফ, হাঃ নং ১৩৩৬/ আবু দাউদ, হাঃ নং ১৫২৩/ মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ৫৯৬)

 ঘ. সকাল-বিকাল তিন তাসবীহ আদায় করা অর্থাত ১০০ বার কালিমায়ে সুওম-সুবহানাল্লাহি ওয়াল্ হামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ১০০ বার ইস্তিগফার ও ১০০ বার কোন সহীহ দরূদ শরীফ পড়া।

 (মুসলিম শরীফ, হাঃ নং ২৬৯২, ২৬৯৫/ মুসলিম, হাঃ নং ২৭০২/ ইতহাফ, ৫ : ২৭৫)

 ঙ. প্রত্যেক কাজে মাসনূন দু‘আ পড়া।

 (মুসলিম, হাঃ ৩৭৩/ তিরমিযী শরীফ, হাঃ নং ৩৩৮৪)

লেখক : মুফতী মনসূরুল হক (দা. বা.)

সূত্র : দরসে মনসূর (ওয়েব)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s