তিন তালাকের দলীলসমূহ

তিন তালাকের দলীলসমূহ

দলীল নং ১

قَالَ اللّٰہُ تَعَالٰی: فَاِنْ طَلَّقَھَا فَلاَ تَحِلُّ لَہُ مِنْ بَعْدُ حَتّٰی تَنْکِحَ زَوْجًا غَیْرَہُ۔

(سورۃ بقرۃ:230)

যদি (কেউ) নিজের স্ত্রীকে তালাক দিল তবে এখন (এ সময় পর্যন্ত তার জন্য ) হালাল নয় যতক্ষন পর্যন্ত সে দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ না হয়।(সূরা বকরা ২৩০)

1: قَالَ الْاِمَامُ مُحَمَّدُ بْنُ اِدْرِیْسَ الشَّافِعِیُّ:وَالْقُرْآنُ یَدُلُّ وَاللّٰہُ اَعْلَمُ عَلٰی اَنَّ مَنْ طَلَّقَ زَوْجَۃً لَّہُ دَخَلَ بِھَا اَوْلَمْ یَدْخُلْ بِھَاثَلَاثًالَمْ تَحِلَّ لَہُ حَتّٰی تَنْکِحَ زَوْجاً غَیْرَہُ۔

(کتاب الام ؛امام محمد بن ادریس الشافعی ج2ص1939)

অর্থ: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস শাফেয়ী বলেন, কুরআনে করীম থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, যে লোক নিজের স্ত্রীকে তিন তালাক দিল, তার সাথে সহবাস হোক আর নাহোক সে স্ত্রী তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত হালাল নয় যতক্ষণ সে স্ত্রীর অন্য কারো সাথে বিয়েতে আবদ্ধ না হয়। (কিতাবু উম ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস শাফেয়ী ২/১৯৩৯)

2: قَالَ الْاِمَامُ اَبُوْبَکْرٍاَحْمَدُ بْنُ الْحُسَیْنِ الْبَیْھَقِیُّ اَخْبَرَنَا اَبُوْزَکَرِیَّا بْنُ اَبِیْ اِسْحَاقَ الْمُزَکِّیُّ اَنَا اَبُوالْحَسَنِ الطَّرَائِفِیُّ نَاعُثْمَانُ بْنُ سَعِیْدٍنَاعَبْدُاللّٰہِ بْنُ صَالِحٍ عَنْ مُعَاوِیَۃَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ عَلِیِّ بْنِ اَبِیْ طَلْحَۃَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِیَ اللّٰہُ عَنْہُمَا فِی قَوْلِہٖ تَعَالٰی {فَاِنْ طَلَّقَھَا فَلاَ تَحِلُّ لَہُ مِنْ بَعْدُ حَتّٰی تَنْکِحَ زَوْجًا غَیْرَہُ} یَقُوْلُ اِنْ طَلَّقَھَا ثَلَاثًا فَلَا تَحِلُّ لَہُ حَتّٰی تَنْکِحَ زَوْجًاغَیْرَہُ۔

(سنن کبریٰ بیہقی ج7ص376 باب نکاح المطلقۃ ثلاثا)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যদি কেউ নিজের স্ত্রীকে তিন তালাক প্রদান করে তবে ঐ স্ত্রী তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত হালাল নয় যতক্ষণ সে অন্য কারো সাথে বিয়ে না করে। (সুনানে কুবরা বায়হাকী ৭/৩৭৬)

দলীল নং ২

قَالَ الْاِمَامُ الْحَافِظُ الْمُحَدِّثُ الْکَبِیْرُ مُحَمَّدُ بْنُ اِسْمٰعِیْلَ الْبُخَارِیُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللّٰہِ بْنُ یُوْسُفَ قَالَ اَخْبَرَنَا مَالِکٌ عَنِ ابْنِ شِہَابٍ اَنَّ سَھْلَ بْنَ سَعْدٍ السَاعِدِیَّ اَخْبَرَہُ…قَالَ عُوَیْمَرُکَذِبْتُ عَلَیْھَا یَارَسُوْلَ اللّٰہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ اِنْ اَمْسَکْتُھَا فَطَلَّقَھَا ثَلاَ ثًا قَبْلَ اَنْ یَّامُرَہُ رَسُوْلُ اللّٰہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ {وَفِیْ رِوَایَۃ ٍ}قَالَ فَطَلَّقَھَاثَلاَثَ تَطْلِیْقَاتٍ عِنْدَ رَسُوْلِ اللّٰہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فَاَنْفَذَہُ رَسُوْلُ اللّٰہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ ۔

(صحیح البخاری ج2ص791 باب من اجاز اطلاق الثلاث، سنن ابی داود ج1ص324 باب فی اللعان)

হযরত সাহাল ইবনে সাআদ সায়েদী (রা.) বর্ণনা করেন, হযরত উআইমের (রা.) বলেন হে রাসূলাল্লাহ (সা.) আমি যদি তাকে আবদ্ধ করি এবং বৌ বানিয়ে আমার কাছে রাখি এর পর আমি তার উপর মিথ্যারোপ করি সে ব্যক্তি আপনি আদেশ দেওয়ার পূর্বে তিন তালাক দিয়ে দেয় (আবু দাউদের রেওয়ায়াতে আছে) সে তাকে (উআইমের রা. নিজ স্ত্রীকে) নবী (সা.) এর কাছে তিন তালাক প্রদান করে তখন আপনি তা বাস্তবায়ন করে দিলেন। (সহীহে বুখারী ২/৭৯১, সুনানে আবু দাউদ ১/৩২৪)

দলীল নং ৩

قَالَ الْاِمَامُ الْحَافِظُ الْمُحَدِّثُ الْکَبِیْرُ مُحَمَّدُ بْنُ اِسْمَاعِیْلَ الْبُخَارِیُّ حَدَّثَنِیْ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا یَحْیٰ عَنْ عُبَیْدِ اللّٰہِ قَالَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَۃَاَنَّ رَجُلاً طَلَّقَ اِمْرَأتَہُ ثَلٰثاً فَتَزَوَّجَتْ فَطَلَّقَ فَسُئِلَ النَّبِیُّ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ اَتَحِلُّ لِلْاَوَّلِ؟ قَالَ:لَاحَتّٰی یَذُوْقَ عُسَیْلَتَھَا کَمَا ذَاقَ الْاَوَّلُ۔

(صحیح بخاری ج2ص791باب من اجاز طلاق الثلاث)

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়শা (রা.) বর্ণনা করেন, কোন লোক যদি নিজের স্ত্রীকে তিন তালাক দিল, সে অন্য লোকের সাথে বিয়ে বসল (সহবাসের পূর্বে) সে তালাক দিল। নবী করীম (সা.) থেকে প্রশ্ন করা হল সে মহিলা তার পূর্ব স্বামীর জন্য হালাল হবে? নবী পাক (সা.) ইরশাদ করেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত দ্বিতীয় স্বামীর সাথে সহবাস না করে (এবং স্বাদ গ্রহণ না করে) যেমন প্রথম স্বীমার সাথে হয়েছে। (সহীহে বুখারী ২/৭৯১)

দলীল নং ৪

قَالَ الْاِمَامُ الْحَافِظُ عَلِیُّ بْنُ عُمَرَ الدَّارَقُطْنِیُّ نَاعَلِیُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَیْدِ الْحَافِظِ نَامُحَمَّدُ بْنُ شَاذَانَ الْجَوْھَرِیُّ نَامُعَلّٰی بْنُ مَنْصُوْرٍ نَاشُعَیْبُ بْنُ رُزَیْقٍ أنَّ عَطَائَ الْخُرَاسَانِیَّ حَدَّثَھُمْ عَنِ الْحَسَنِ قَالَ نَاعَبْدُاللّٰہِ بْنُ عُمَرَ فَقُلْتُ یَارَسُوْلَ اللّٰہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ! رَأیْت لَوْ اَنِّیْ طَلَّقْتُھَاثَلاَثاً کَانَ یَحِلُّ لِیْ أنْ اُرَاجِعَھَا؟قَالَ لَا کَانَتْ تَبِیْنُ مِنْکَ وَتَکُوْنُ مَعْصِیَۃً۔

(سنن دارقطنی ج4ص20 حدیث نمبر3929)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) তাঁর স্ত্রীকে হায়জ অবস্থায় এক তালাক প্রদান করল। এর পর ইচ্ছা করল বাকী দু তালাক হায়জ (বা পাকী অবস্থায়) প্রদান করবেন। একথা নবী (সা.) জ্ঞাত হওয়ার পর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)কে বললেন, তোমাকে তো আল্লাহ তাআলা এরূপ হুকুম দেননি। তুমি সুন্নাতের বিপরীত করেছ। সুন্নাততো ছিল যখন তুহুর বা পাকীর সময় থাকবে তখন প্রত্যেক পাকী অবস্থায় তাকে তালাক দেবে। তিনি বলেন নবী পাক (সা.) আমাকে হুকুম দিয়েছেন যে, তুমি রুজু বা প্রত্যাবর্তন কর। সুতরাং আমি প্রত্যাবর্তন করলাম। তারপর নবী (সা.) আমাকে বললেন, যখন সে তুহুর বা পাকী অবস্থায় হবে তখন তাকে তালাক দেওয়া অথবা স্ত্রী হিসেবে রেখে দেওয়া। তখন আমি বললাম যদি আমি তাকে তিন তালাকই দিয়ে দিতাম তখন কি আমি প্রত্যাবর্তন করলে সে আমার জন্য হালাল হত? নবী (সা.) ইরশাদ করেন না, সে তোমার কাছ থেকে পৃথক হয়ে যেত এবং এই কাজ করা গোনাহ। (সুনানে দারে কুতনী ৪/২০, হাদীস নং ৩৯২৯)

দলীল নং ৫

عَنْ اَبِیْ سَلْمَۃَ اَنَّ حَفْصَ بْنَ الْمُغِیْرَۃِ طَلَّقَ اِمْرَأتَہُ فَاطِمَۃَ بِنْتَ قَیْسٍ عَلٰی عَھْدِ رَسُوْلِ اللّٰہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ لاَثَ تَطْلِیْقَاتٍ فِیْ کَلِمَۃٍ وَاحِدَۃٍ فَأَبَانَھَامِنْہُ النَّبِیُّ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ وَلَمْ یَبْلُغْنَا أَنَّ النَّبِیَّ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ عَابَ ذٰلِکَ عَلَیْہِ۔

(سنن دارقطنی ج4ص10حدیث نمبر3877)

হযরত আবু সালামা (রা.) বলেন, হাফস ইবনে মুগীরা (রা.) নিজের স্ত্রী ফাতেমা বিনতে কায়স (রা.)কে নবী (সা.) এর আহাদ মোবারকে এক সাথে তিন তালাক দিলেন। তখন নবী করীম (সা.) তার স্ত্রীকে তার থেকে পৃথক করে দিলেন। আবার আমাদের কাছে একথাও জিজ্ঞেস করেননি যে, এসময় থেকে নবী করীম (সা.) হযরত হাফস ইবনে মুগীরা (রা.) এর কোন প্রকার দোষ বর্ণনা করেছেন। (অর্থাৎ নারাজী প্রকাশ করেছেন) (সুনানে দারে কুতনী ৪/১০, হাদীস নং ৩৮৭৭)

দলীল নং ৬

قَالَ الْاِمَامُ الْحَافِظُ عَلِّیُّ بْنُ عُمَرَ الدَّارَقُطْنِیُّ نَاأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَیَّادِ الْقَطَّانُ نَااِبْرَاہِیْمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْھَیْثَمِ صَاحِبُ الطَّعَامِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَیْدٍ نَا سَلْمَۃُ بْنُ الْفَضْلِ عَنْ عَمْرِوبْنِ أبِیْ قَیْسٍ عَنْ اِبْرَاھِیْمَ بْنِ عَبْدِالْأعْلٰی عَنْ سُوَیْدِ بْنِ غَفْلَۃَ قَالَ کَانَتْ عَائِشَۃُ الْخَثْعَمِیَّۃُ عِنْدَ الْحَسَنِ بْنِ عَلِیِّ بْنِ أَبِیْ طَالِب وَقَالَ لَوْلَاأَنِیْ سَمِعْتُ جَدِّیْ أوْحَدَّثَنِیْ أَبِیْ أَنَّہُ سَمِعَ جَدِّیْ یَقُوْلُ أَیُّمَا رَجُلٍ طَلَّقَ اِمْرَأَتَہُ ثَلاَثاً مُبْھَمَۃً أَوْثَلاَثاً عِنْدَ الْاِقْرَائِ لَمْ تَحِلَّ لَہُ حَتّٰی تَنْکِحَ زَوْجاً غَیْرَہُ ۔

(سنن دارقطنی ج4ص20 حدیث نمبر3927)

হযরত সুওয়াইদ ইবনে গাফলা (রাহ.) বলেন, হযরত আয়েশা খুছআমিয়া  হযরত হাসান ইবনে আলী (রা.) এর বিয়েতে আবদ্ধ ছিল। (যখন হযরত আলী (রা.) কে শহীদ করে দেওয়া হলো এবং হযরত হাসান (রা.) এর হাতে লোকেরা বাইআত গ্রহণ করে তাকে নিজেদের খলীফা মনোণীত করলো) তিনি (স্ত্রী) তাঁকে বলল হে আমীরুল মুমিনীন আপনার খেলাফত মোবারক হোক। তখন হযরত হাসান (রা.) বললেন এ মোবারকবাদ কি হযরত আলী (রা.) এর শাহাদাতের উপর?  তোমরা তাতে খুশি প্রকাশ করছ? যা তোকে তিন তালাক দিলাম। ইদ্দত পালনের পর তাকে বাকী মোহর এবং অতিরিক্ত দশহাজার টাকা দিয়ে দেন। তখন সে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী বলল তালাক দানকারী বন্ধু থেকে এমালের মূল্য খুবই নগণ্য তখন হযরত হাসান (রা.) কেদে ফেললেন। এবং বললেন আমি যদি আমার নানাজান হযরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে একথা না শোনতাম অথবা বলেছেন আমাকে আমার পিতা আমার নানাজানের পক্ষ থেকে যদি এই হাদীস না শোনাতেন “ যে লোক নিজের স্ত্রীকে এক সাথে বা তিন তুহুরে তিন তালাক দিয়ে দিল তবে সে তার জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ না সে কোন অন্য লোকের সাথে বিয়ে করে” তবে আমি নিশ্চয় আমার এই স্ত্রী থেকে রুজু করতাম। (সুনানে দারুকুতনী ৪/২০, হাদীস নাম্বার ৩৯২৭)

দলীল নং ৭

قَالَ الْاِمَامُ الْحَافِظُ الْمُحَدِّثُ عَبْدُالرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا یَحْیَ بْنُ الْعَلاَئِ عَنْ عُبَیْدِ اللّٰہِ بْنِ الْوَلِیْدِ الْعَجَلِیِّ عَنْ اِبْرَاھِیْمَ عَنْ دَاوٗدَ عَنْ عُبَادَۃَ (بن) الصَامِتِ قَالَ: طَلَّقَ جَدِّیْ اِمْرَأۃً لَہُ أَلْفَ تَطْلِیْقَۃً فَانْطَلَقَ أبِیْ اِلٰی رَسُوْلِ اللّٰہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فَذَکَرَلَہُ فَقَالَ النَّبِیُّ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ اَمَااِتَّقٰی اللّٰہَ جَدُّکَ اَمَّا ثَلاَثٌ فَلَہُ وأمَّا تِسْعُ مِائَۃٍ وَسَبْعٌ وَّتِسْعُوْنَ فَعُدْوَانٌ وَظُلْمٌ اِنْ شَائَ اللّٰہُ تَعَالیٰ عَذَّبَہُ وَاِنْ شَائَ غَفَرَلَہُ۔

(مصنف عبدالرزاق ج6ص305باب المطلق ثلاثا)

হযরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) বর্ণনা করেন আমার দাদা আপন স্ত্রীকে হাজার তালাক দিয়ে দিলেন তখন আমার পিতা নবী (সা.) এর কাছে গিয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করলেন। নবী (সা.) বললেন, তোমার বাবা কি আল্লাহর ভয় রাখে না? তার শুধু তিন তালাক দেওয়ার অধিকার আছে। আর নয়শত সাতানব্বইটি অতিরিক্ত এবং জুলুম। যদি আল্লাহ তাআলা চান তাকে আযাব দিতে পারেন অথবা ক্ষমাও করে দিতে পারেন। (মুসান্নাফে আব্দুর রযযাক ৬/৩০৫ বাবুল মুতাল্লাকি ছালাছান)

দলীল নং ৮

قَالَ الْاِمَامُ الْحَافِظُ الْمُحَدِّثُ ابْنُ اَبِیْ شَیْبَۃَ حَدَّثَنَا أَبُوْبَکْرٍقَالَ نَاعَلِیُّ بْنُ مُسْھِرٍ عَنْ شَقِیْقِ بْنِ أَبِیْ عَبْدِاللّٰہِ عَنْ أَنَسٍ قَالَ کاَنَ عُمَرُ اِذَا اَتیٰ بِرَجُلٍ قَدْ طَلَّقَ اِمْرَأتَہُ ثَلاَثاً فِیْ مَجْلِسٍ أَوْجَعَہُ ضَرْباً وَفَرَّقَ بَیْنَھُمَا۔

(مصنف ابن ابی شیبۃ ج4ص11 باب من کرہ ان یطلق الرجل امرأتہ ثلاثا)

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, হযরত উমর (রা.) এর কাছে যদি কোন এমন লোককে হাজীর করা হতো যে নিজের স্ত্রীকে এক বৈঠকে তিন তালাক দিয়েছে তবে হযরত উমর (রা.) তাকে শাস্তি দিতেন এবং তাদের পরস্পরকে পৃথক করে দিতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৪/১১)

দলীল নং ৯

قَالَ الْاِمَامُ الْحَافِظُ الْمُحَدِّثُ عَبْدُالرَّزَّاقِ عَنْ اِبْرَاھِیْمَ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ شَرِیْکِ بْنِ أَبِیْ نَمْرٍقَالَ جَائَ رَجُلٌ اِلٰی عَلِیٍّ فَقَالَ اِنِّیْ طَلَّقْتُ اِمْرَأتِیْ عَدَدَ الْعَرْفَجِ۔ قَالَ تَاْخُذْ مِنَ الْعَرْفَجِ ثَلاَثاً وَتَدْعُ سَائِرَہُ۔

مصنف عبدالرزاق ج6ص306 باب المطلق ثلاثا )

শুরাইক ইবনে আবী নিমর (রহ.) বলেন “জনৈক লোক হযরত আলী (রা.)কে এসে বলতে লাগলেন আমি আমার স্ত্রীকে আরফাজ গাছের সংখ্যা পরিমাণ তালাক দিয়েছি।  হযরত আলী (রা.) বললেন “আরফাজ গাছ থেকে তিনটিকে নাও বাকীটা ত্যাগ কর।” (মুসান্নাফে আব্দুর রযযাক ৬/৩০৬)

দলীল নং ১০

قَالَ الْاِمَامُ الْاَعْظَمُ الْحَافِظُ الْمُحَدِّثُ الْفَقِیْہُ الْکَبِیْرُ أَبُوْحَنِیْفَۃَ نُعْمَانُ بْنُ ثَابِتٍ التَّابِعِیُّ الْکُوْفِیُّ عَنْ عَبْدِاللّٰہِ بنِ عَبْدِالرَّحْمٰنِ بْنِ أَبِیْ حُسَیْنٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ دِیْناَرٍ عَنْ عَطَائٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّہُ أَتَاہُ رَجُلٌ فَقَالَ طَلَّقْتُ اِمرَأتِیْ ثَلاَثًا فَقَالَ عَصَیْتَ رَبَّکَ وَحَرُمَتْ عَلَیْکَ حَتّٰی تَنْکِحَ زَوْجاًغَیْرَکَ۔

(مسند ابی حنیفۃ بروایۃ قاضی ابی یوسف بحوالہ جامع المسانید للخوارزمی ج2ص148)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এর কাছে এক লোক বলতে লাগল আমি আমার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছি। তিনি (রা.) বললেন তুমি তোমার রবের সাথে নাফরমানী করেছ এবং তোমার স্ত্রী তোমার উপর হারাম হয়ে গেছে যতক্ষন পর্যন্ত সে অন্য লোকের সাথে বিয়ে না বসে। (মাসনাদে আবুহানীফ, কাজী আবু ইউসুফের বর্ণনায় জামিউল মাসানিত লিল খাওয়ারযামী ২/১৪৮)

তিন তালাক দিলে তিন তালাক পতিত হওয়ার বিষয়  উম্মতের ইজমা বা ঐক্যমত

1: قَدْ قَالَ الْاِمَامُ أَبُوْبَکْرِ ابْنُ الْمُنْذِرِ النِّیْشَابُوْرِیُّ: وَأجْمَعُوْا عَلٰی أَنَّ الرَّجُلَ اِذَاطَلَّقَ اِمْرَأتَہُ ثَلاَ ثًا أَنَّھَالَاتَحِلُّ لَہُ اِلَّابَعْدَ زَوْجٍ عَلٰی مَا جَائَ بِہٖ حَدِیْثُ النَّبِیِّ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ:أَوْ اَجْمَعُوْاعَلٰی أَنَّہُ اِنْ قَالَ لَھَا أَنْتِ طَالِقٌ ثَلاَثاً اِلَّا ثَلاَثاً اَنَّھَا اُطْلِقَ ثَلاَ ثًا۔

(کتاب الاجماع لابن المنذر ص92)

ইমাম ইবনে মুনযির (রহ.) বলেন, “ফক্বীহগণ এবং মুহাদ্দিসগণ এই বিষয়ে একমত যে, যদি কোন লোক নিজের স্ত্রীকে তিন তালাক দেয় তবে সে স্ত্রী তার জন্য হালাল থাকে না। হাঁ যদি সে নারী অন্য স্বামীর সাথে বিয়েতে আবদ্ধ হয় (এর পর স্বাভাবিকভাবে সে তালাক দেয়) তখন তার জন্য হালাল হয়ে যায়। কারণ সে ব্যাপারে নবী করীম (সা.) হতে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনুল  মুনযির বলেন “ফক্বীহ ও মুহাদ্দিসগণ এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যদি স্বামী নিজ স্ত্রীকে বলে, انت طالق ثلاثا الا ثلاثا (তোমাকে তিন তালাক কিন্তু তিন তালাক) তখনও তিন তালাক পতিত হবে। (কিতাবুল ইজমা লিইবনে মুনযার ৯২)

2: قَالَ الْاِمَامُ الْحَافِظُ الْمُحَدِّثُ الْفَقِیْہُ أَبُوْجَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ الطَّحَاوِیُّ مَنْ طَلَّقَ اِمْرَأتَہُ ثَلاَثاً فَاَوْقَعَ کُلاًّ فِیْ وَقْتِ الطَّلَاقِ لَزِمَہُ مِنْ ذٰلِکَ…فَخَاطَبَ عُمَرُبِذٰلِکَ النَّاسَ جَمِیْعًا وَفِیْھِمْ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللّٰہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ وَرَضِیَ اللّٰہُ عَنْھُمُ الَّذِیْنَ قَدْعَلِمُوْامَاتَقَدَّمَ مِنْ ذٰلِکَ فِیْ زَمَنِ رَسُوْلِ اللّٰہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ فَلَمْ یُنْکِرْہُ عَلَیْہِ مِنْھُمْ مُنْکِرٌوَلَمْ یَدْفَعْہُ دَافِعٌ فَکَاَنَّ ذٰلِکَ اَکْبَرُ الْحُجَّۃِ فِیْ نَسْخٍ مَاتَقَدَّمَ مِنْ ذٰلِکَ لِاَنَّہُ لَمَّاکَانَ فِعْلُ اَصْحَابِ رَسُوْلِ اللّٰہِ صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَسَلَّمَ جَمِیْعاً فِعْلاً یَجِبُ بِہِ الْحُجَّۃُ کَانَ کَذٰلِکَ اَیْضاً اِجْمَاعُھُمْ عَلَی الْقَوْلِ اِجْمَاعاً یَجِبُ بِہِ الْحُجَّۃُ۔

(سنن الطحاوی ج2ص34باب الرجل یطلق امرأتہ ثلاثاً معا،ونحوہ فی مسلم ج1 ص477 )

মুহাদ্দিসে কবীর ইমাম আবু জাফর তাহাবী (রহ.) বলেন, যে নিজের স্ত্রীকে তিন তালাক দিল এবং তিন তালাক সাব্যস্তও করেছে তবে তা অবশ্যক হয়ে যাবে। (দলীল হলো এই বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের ইজমা) যখন হযরত উমর (রা.) সকল লোককে যখন এ বিষয়ে সম্বোধন করে বললেন তিন তালাকের তিন তালাকই পতিত হয় এবং সে লোকদের মধ্যে নবী সা. এর সাহাবীও উপস্থিত ছিলেন যারা নবী সা. এর যুগের সব কিছু সম্পর্কে ভালভাবে ওয়াকিফহাল ছিলেন কিন্তু কেউ হযরত উমর (রা.) এর এই কথার উপর অস্বীকৃতি জানাননি। তাহলে এটিই সব চেয়ে বড় দলীল যে, এর পূর্বে যা ঘটেছে সবই রহিত হয়েগেছে। কারণ সকল সাহাবায়ে কেরামের আমল এত শক্তি শালী যে, তা থেকে দলীল গ্রহণ করা ওয়াজিব সেরূপ তাদের কোন বিষয়ের উপর ঐক্যমত্য পোষণও দলীল। (সুনানে তাহাবী ২/৩৪, অনুরূপ মুসলিম ১/৪৭৭)

3: قَالَ الْاِمَامُ الْحَافِظُ الْمُحَدِّثُ الْمُفَسِّرُ الْقَاضِیُّ ثَنَائُ اللّٰہِ الْعُثْمَانِیُّ فِیْ تَفْسِیْرِ ھٰذِہِ الْآیَۃِ{أَلطَّلاَقُ مَرَّتٰنِ}لَاَنَّ قَوْلَہُ أَلطَّلَاَقُ عَلٰی ھٰذَا التَّاوِیْلِ یُشْمِلُ الطَّلَقَاتِ الثَّلاَثَ اَیْضاً…لٰکِنَّھُمْ اَجْمَعُوْاعَلیٰ اَنَّہُ مَنْ قَالَ لِاِمْرَأتِہِ أَنْتِ طَالِقٌ ثَلاَثاً یَقَعُ ثَلاَثٌ بِالْاِجْمَاعِ ۔

(تفسیر مظہری ج2ص300)

মুফাসসিরে কুরআন কাজী সানাউল্লাহ পানীপতী الطلاق مرتن এর তাফসীরে লেখেন “আল্লাহ তাআলার ইরশাদ الطلاق  এর তাফসীর মতে যা প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে তিন তালাককে পরিব্যস্টন করে। আরো বলেন ফকীহ এবং মুহাদ্দিসগণ এই কথার উপর ইজমা বা ঐক্যমত যে, যে লোক নিজের স্ত্রীকে انت طالق ثلاثا বলবে তবে তিন তালাকই পতিত হয়ে যাবে। (তাফসীরে ‍মুজহারী ২/৩০০)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s