তারাবীহর নামায নিয়ে বিতর্ক কারীরা ইসলামের মূল ধারা থেকে বিচ্চুত

তারাবীহর নামায নিয়ে বিতর্ক কারীরা ইসলামের মূল ধারা থেকে বিচ্চুত

প্রতি বছরই লিফলেট বিলি করা হয়, তারাবীর নামায আট রাকাত, বিশ রাকাত নয়। ঐ বন্ধুরা বিশ রাকাতকে অস্বীকার করে। অনেকে বিদআত বলে। আমি কোনো সাম্প্রদায়ের নাম নিচ্ছি না। আর ‘আহলে হাদীস’ শব্দটি বলি না দুই কারণে। প্রথমত এ নাম সহীহ নয়। এটি কোনো ফের্কা বা সম্প্রদায়ের নাম হতে পারে না। ‘আহলুল হাদীস’ মানে হাদীস বিশারদ মনীষী। দ্বিতীয়ত এ নামে একটি সম্প্রদায় প্রসিদ্ধ হয়ে যাওয়ার পরও বলি না। কারণ তাদের মধ্যেও অনেক ফের্কা রয়েছে। আমি বলব, আহলে হাদীসরা বলে। প্রশ্ন হবে, আহলে হাদীসের কোন ফের্কা বলে? তাদের মাঝেও ফের্কা আছে, এই দেশেই অনেক ফের্কা আছে।
পাকিস্তানেরগুলো মিলালে তো আরো অনেক হবে। তাদের কোনো কোনো ফের্কা মনে করে, আট রাকাত শেষ করে নবম রাকাতের তাকবীর বলার সাথে সাথে পেছনের সব নামায নষ্ট হয়ে যাবে! আশ্চর্য কথা! এটা কোন প্রকারের সুন্নাহ!!
যাই হোক, এ কারণে আমি নাম নিচ্ছি না। আর নাম নেওয়ার প্রয়োজনও নেই। আমার কাজ হল ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া এবং সহীহটা বলা।
যাদের মাঝে এত ফের্কা, আমি বুঝি না, তারা কোন মুখে বলে, মাযহাবের কারণে ফের্কা হয়েছে। আর তা থেকে বাঁচার জন্য তারা ‘আহলে হাদীস’ হয়েছে। অথচ মাযহাব ও ফের্কা এক কথা নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী একটি দল নাজাত পাবে। সেটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআ। এই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর চারটি ফিকহী মাসলাক হল, হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী। এটি হচ্ছে ফিকহ তথা শরীয়তের বিধিবিধান আহরণ ও সংকলনের ক্ষেত্রে চিন্তা-গবেষণার চারটি ঘরানা। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও প্রতিটিই সুন্নাহ ও জামাআর ধারক এবং একে অপরের স্বীকৃতি দানকারী। পক্ষান্তরে আহলে হাদীসদের অবস্থা অত্যন্ত কঠিন। তাদের কোনো কোনো ফের্কা একে অপরকে কাফির বলে। একজন গায়রে মুকাল্লিদ আলিম ছিলেন ছানাউল্লাহ অমৃতসরী রাহ.। জ্ঞান-গরিমায় অনেক গায়রে মুকাল্লিদ থেকে তাঁর অবস্থান ভালো ছিল। দ্বীনের অনেক নেক কাজ করেছেন। তবে তারও ভুল আছে তা আমি অস্বীকার করছি না। অথচ তাদেরই একজন তাঁর বিরুদ্ধে কিতাব লিখেছে। কিতাবটির নামের শুরু অংশ মনে আসছে না। শেষাংশটা এরূপ-
في كفر ثناء الله بجميع اصول لا إله إلا الله
এ ধরনের কঠিন কঠিন কথা তাদের এক ফের্কা অপর ফের্কা সম্পর্কে বলে। সব ফের্কা নয়। তো যখন একে অপরকে বিদআতী বলে, ফাসিক বলে, এমনকি কাফির পর্যন্ত বলে তখন বুঝতে হবে, এটা বৈচিত্র নয়, বিভেদ। চিন্তার ঘরানা নয়, বাস্তবেই ফের্কা। আর যারা এ রকম বলবে না, যেমন চার মাযহাবের কেউ একে অপরকে এরূপ বলে না তারা বাস্তবে ফের্কা নয়; বরং শাখাগত বিষয়ে মতের বৈচিত্র বা মতপার্থক্য। এখানে এটুকুই বললাম। অন্য মজলিসে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
বিশ রাকাত সুন্নতে মুতাওয়ারাসা দ্বারা প্রমাণিত
সুন্নাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকার সুন্নাতে মুতাওয়ারাছা। একটি সহীহ হাদীসে যে সুন্নাহ পেলাম সেটিও সুন্নাহ, আর যা মৌখিক বর্ণনার পাশাপাশি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, প্রত্যেক প্রজন্ম তার পূর্বের প্রজন্ম থেকে গ্রহণ করেছে, এভাবে অবিচ্ছিন্ন কর্মধারার মাধ্যমে নবী-যুগ থেকে বা খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ থেকে চলে আসছে তা হচ্ছে সুন্নতে মুতাওয়ারাছা।
আমরা যে ‘মুতাওয়াতির’ পড়েছি এরই একটি বিশেষ প্রকার এই সুন্নতে মুতাওয়ারাছা। ২০ রাকাত তারাবীর নামায সুন্নতে মুতাওয়ারাছার অন্তর্ভুক্ত। এর বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠেছে অনেক পরে। ১২শ বছর পর। তখন গায়রে মুকাল্লিদদেরই এক আলেম, যিনি অন্তত এ বিষয়ে গায়রে মুকাল্লিদ হননি, গোলাম রাসূল ছাহেব এর প্রতিবাদ করেছিলেন। ১২৯০ হিজরীতে তিনি ‘রিসালায়ে তারাবীহ’ নামে একটি পুস্তিকা লেখেন। এতে আট রাকাতের মতবাদ খন্ডন করে বিশ রাকাত তারাবীর সপক্ষে লেখেন। ঐ পুস্তিকায় অন্যান্য দলিলের পাশাপাশি উম্মতের এই সম্মিলিত ও অবিচ্ছিন্ন কর্মধারাও তিনি উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে মাসিক আলকাউসারে বিস্তারিত লেখা হয়েছে। পরে তা আলাদা পুস্তিকা আকারেও প্রকাশিত হয়েছে এবং ‘‘নবীজীর নামাযে’’র শেষেও সংযুক্ত হয়েছে।
বিশ রাকাত তারাবী খুলাফায়ে রাশেদীনসহ অন্যান্য সাহাবার সুন্নাহ
বিশ রাকাত তারাবী সুন্নাতুল খুলাফা দ্বারা প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে, প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর খেলাফত-আমলে এবং ওমর রা.-এর খেলাফতের প্রথম দিকে তারাবীর নামায ছোট ছোট জামাতে হত। ফরয নামাযের মতো এক ইমামের পিছনে তারাবীর নামায আদায়ের ইহতিমাম ছিল না।
রমযানের এক রাতে মসজিদের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট তারাবীর জামাত দেখে হযরত ওমর রা.-এর মনে হল, সকল নামাযীকে এক ইমামের পিছনে একত্র করে দেওয়া উচিত। তখন তিনি এই আদেশ জারি করেন এবং উবাই ইবনে কাবকে ইমাম বানিয়ে দেন।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ২০১০
এই রেওয়ায়েতটি সনদের দিক থেকে ‘সহীহ’ ও বিষয়বস্ত্তর দিক থেকে ‘মুতাওয়াতির’।
বলাবাহুল্য, উবাই ইবনে কাব রা. বিশ রাকাত পড়াতেন। (দেখুন : মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/২৮৫)
এ বিষয়ে ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ. বলেন-
إنه قد ثبت أن أبي بن كعب كان يقوم بالناس عشرين ركعة في قيام رمضان ويوتر بثلاث.
এটা প্রমাণিত যে, উবাই ইবনে কা’ব রা. লোকদের নিয়ে রমযানের রাতে বিশ রাকাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর আদায় করতেন।-মাজমুউল ফাতাওয়া ২৩/১১২
২০ রাকাত সম্পর্কে তিনি বলেছেন-
ثبت من سنة الخلفاء الراشدين وعمل المسلمين.
এটি খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ ও মুসলিম উম্মাহর কর্মধারা দ্বারা প্রমাণিত।
দেখার বিষয় এই যে, তখন বিশ রাকাত তারাবীর মুসল্লি কারা ছিলেন। মুহাজির, আনসার ও বদরী সাহাবাসহ বিপুল সংখ্যক সাহাবী তখন মুসল্লী ছিলেন। এটি সাহাবীদের শেষ যমানার ঘটনা নয়; বরং দারুল খিলাফায় মসজিদে নববীতে বিপুল সংখ্যক সাহাবীর উপস্থিতিতে এটি হয়েছে। হযরত জাবির রা.-এর উপস্থিতিতে হয়েছে, যার উদ্ধৃতিতে বর্ণিত একটি মুনকার রেওয়ায়েত দ্বারা ঐ বন্ধুরা আট রাকাত প্রমাণ করতে চায়। আম্মাজান আয়েশা সিদ্দীকা রা.-এর উপস্থিতিতে হয়েছে, যার থেকে বর্ণিত তাহাজ্জুদ বিষয়ক একটি হাদীস দ্বারা আট রাকাত প্রমাণের চেষ্টা করা হয়। তিনি মসজিদে নববীর পাশে নিজ হুজরাতেই ছিলেন। কিন্তু কোনো প্রতিবাদ করেননি।
দেখুন, ২০ রাকাত তারাবী অস্বীকার করলে রাকাত-সংখ্যার ক্ষেত্রে অনিবার্যভাবে সুন্নাতুর রাসূল থেকেও বিচ্যুত হতে হবে।
এর কারণ দুটি : প্রথমত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গৃহিত। কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে ‘রাশিদ ও মাহদী’ তথা হেদায়েতের পথের পথিক বলেছেন। আর হেদায়েতের পথের পথিক তারাই, যারা সদা সর্বদা বিদআত থেকে মুক্ত। সুতরাং দ্বীনের বিষয়ে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো বিধান আবিষ্কার করতে পারেন না।
আরো লক্ষ্য করুন, হাদীসের শেষে আছে
عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين … وإياكم ومحدثات الأمور
অর্থাৎ আমার সুন্নাহ ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে ধারণ কর আর বিদআত থেকে বেঁচে থাক। সুতরাং যেটা খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ তা কখনো বিদআত হবে না। বেদআত এর বিপরীত জিনিস।
সুতরাং অনিবার্যভাবে খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহর সূত্র হবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ। সেই সূত্র আমাদের জানা থাকতেও পারে, না-ও থাকতে পারে। সুতরাং সুন্নাতুল খুলাফাকে অস্বীকার করা মানে সুন্নাতুর রাসূলকে অস্বীকার করা। এ হল এক কারণ।
দ্বিতীয় কারণ এই যে, তর্কের খাতিরে যদি মেনেও নেওয়া হয়, খুলাফায়ে রাশেদীনের এই সুন্নাহর সূত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ নয়। এটি তাঁরা ইজতিহাদের ভিত্তিতে করেছেন তাহলে এখানে দুটো অবস্থা হতে পারে : সব সাহাবা সম্মিলিতভাবে করেছেন। তাহলে সেটা হবে ইজমায়ে সাহাবা। আর সাহাবাদের ইজমা তো অনেক উপরের বিষয়, আল্লাহর রাসূল তো উম্মাহর ইজমার উপরও আমল করতে বলেছেন। সুতরাং এক্ষেত্রেও সুন্নাতুল খুলাফাকে অস্বীকার করার অর্থ সুন্নাতুর রাসূলকে অস্বীকার করা।
আর যদি ধরে নেই, সকল সাহাবা একমত ছিলেন না, এটি শুধু খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ। তাহলেও আমাদেরকে তা অনুসরণ করতে হবে। কারণ সুন্নাতুল খুলাফাকে আঁকড়ে ধরার আদেশ স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে করেছেন। কেউ যদি সুন্নাতুল খুলাফার বিরুদ্ধাচরণ করে তাহলে عليكم بسنتي … এ হাদীসেরও বিরুদ্ধাচরণ হবে এবং সুন্নাতুল খুলাফা ত্যাগ করার সাথে সাথে সুন্নাতুর রাসূলও ত্যাগ করা হবে।
বিশ রাকাত তারাবী কি উমর রা.-এর যমানা থেকে শুরু হয়েছে
অনেকের ধারণা, বিশ রাকাত তারাবী উমর রা.-এর যমানা থেকে শুরু হয়েছে। এর আগে তা ছিল না। এ ধারণা ভুল। কারণ হযরত ওমর রা. শুধু আলাদা আলাদা তারাবীর জামাতকে একত্র করেছেন, তারাবীহর রাকাত-সংখ্যার বিষয়ে তাঁর কোনো পদক্ষেপ ছিল না। মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদ ও যিয়াউদ্দীন মাকদেসীর কিতাবুল মুখতারায় পুরো ঘটনা আছে, যার সারসংক্ষেপ হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে উমর রা.-এর খিলাফতের শুরু ভাগ পর্যন্ত মসজিদে নববীতে তারাবীর ছোট ছোট জামাত হত। উমর রা. দেখলেন এতে কিছুটা অসুবিধা হয়। কারণ মসজিদে নববী তখন এত প্রশস্ত ছিল না। এক জামাতের আওয়াজ অপর জামাতের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করত। কেউ কিছুক্ষণ এক জামাতে নামায পড়ে অন্য জামাতে চলে যেত। এ ধরনের কিছু অসুবিধা হত। তাই উমর রা. সকলকে এক জামাতের অধীনে করে দিলেন এবং উবাই ইবনে কাব রা.কে ইমামতির নির্দেশ দিলেন। (দেখুন : আলআহাদীসুল মুখতারাহ ১/৩৮৪; তাসদীদুল ইসাবা ৮০; কানযুল উম্মাল ৮/৪০৮, হাদীস : ৩৪৭১)
তাহলে দেখা যাচ্ছে, উমর রা. যা করেছেন তা ছিল একটি ব্যবস্থাপনার বিষয়, বিধানের বিষয় নয়। অথচ রেওয়ায়েতে এটিও আছে যে, উবাই ইবনে কাবকে যখন উমর রা. আদেশ করলেন তখন তিনি বললেন-
يا أمير المؤمنين! هذا شيء لم يكن!
আমীরুল মুমিনীন! এভাবে এক জামাতে তারাবী পড়ার নিয়ম তো আগে ছিল না।
উমর রা. তাকে বুঝানোর পর তিনি সম্মত হন।
চিন্তা করুন, একটি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে উবাই ইবনে কাব রা. আপত্তি করেছেন। অথচ তারাবীর রাকাত-সংখ্যা তো ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, শরীয়তের বিধান। যদি প্রথম থেকে অন্য কোনো রীতি থাকত, যেমন ধরুন আট রাকাতের নিয়ম যদি চলে আসত, আর এখন নতুন করে ২০ রাকাত শুরু হচ্ছে তাহলে যিনি একটি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আপত্তি করেছেন তিনি শরীয়তের বিধানের বিষয়ে কী করতেন? কিন্তু না উবাই ইবনে কাব আপত্তি করেছেন, না মুহাজির, আনসার কোনো সাহাবী আপত্তি করেছেন। সুতরাং পরিষ্কার বোঝা যায়, বিশ রাকাত তারাবী তাদের মাঝে পূর্ব থেকেই চলে এসেছে এবং এটিই ছিল আল্লাহর রাসূলের শিক্ষা।
আরো চিন্তা করুন, রাকাত-সংখ্যার বিষয়টি ‘মুদরাক বিল কিয়াস’ বা কিয়াস ও ইজতিহাদের ভিত্তিতে সাব্যস্ত করার মতো বিষয় নয়। তাছাড়া কোনো বিশুদ্ধ বর্ণনায় নেই যে, উমর রা. তারাবীর রাকাত-সংখ্যার বিষয়ে পরামর্শ করেছেন। অথচ বিধান ও ব্যবস্থাপনা দু ধরনের বিষয়েই পরামর্শ করা ছিল তাঁর সাধারণ রীতি। তো কোনো পরামর্শ ছাড়া কিভাবে সকল সাহাবী বিশ রাকাতের বিষয়ে একমত হয়ে গেলেন? কোনো সন্দেহ নেই, তাদের এই ঐক্যমতের পিছনে সূত্র হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিক্ষা ও নির্দেশনা। তাঁদের কাছে আল্লাহর নবীর বিধান যদি হত আট রাকাত তারাবী তাহলে না উবাই ইবনে কা’ব ২০ রাকাত পড়াতেন, না মুহাজির ও আনসারী কোনো সাহাবী চুপ থাকতেন। এই বাস্তবতা কেন ঐ বন্ধুদের বুঝে আসে না তা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
এ বিষয়ে তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর সাথে নেই
এই মাসআলায় তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআ-এর পথে/মাসলাকের উপর নেই। এ বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর দুটি রোকনই তাদের হাতছাড়া হয়েছে। প্রথম রোকন ছিল সুন্নাহ। এটি যে হাতছাড়া হয়েছে তা তো স্পষ্ট। দ্বিতীয় রোকন ছিল জামাআ। এটিও তাদের হাতছাড়া হয়েছে। কারণ তারা বিশ রাকাতকে অস্বীকার করে ইজমার সর্বোচ্চ প্রকার তথা খুলাফায়ে রাশেদীন, মুহাজির ও আনসার সাহাবা, বদর ও বাইআতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী সাহাবায়ে কেরামের ইজমার বিরোধিতা করেছে। উপরন্তু সুন্নাহ ও ইজমার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মুসলমানদের একতা বিনষ্ট করছে। ফিতনা-ফাসাদ ছড়াচ্ছে। অথচ এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো দলিল নেই। সর্বসাকুল্যে তাদের পুঁজি হচ্ছে, একটি মুনকার বর্ণনা, একটি তাহাজ্জুদের হাদীস আর কিছু মা’লুল রেওয়ায়েত। যদি বিষয়টি এমন হত যে, উভয় দিকে দলিল আছে তাহলেও বিশকে অস্বীকার করার অবকাশ ছিল না। অথচ তারা তা-ই করছে এবং মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট করছে। সুতরাং দ্বিতীয় রোকনের উপরও তারা নেই।
সারকথা, তারাবীর রাকাতসংখ্যায় তারা সুন্নাহ ও জামাআ দুটো থেকেই বিচ্যুত

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s