তাজাল্লিয়াতে সফদর : কাথিত আহলে হাদীসদের মুখোশ উন্মোচন- ১

তাযাল্লিয়াতে সফদর-১

ভূমিকাঃ

মুনাযিরে ইসলাম তরজুমানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ওকীলে আহনাফ হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আমীন সফদর সাহেব ‎রহঃ একজন কালের সূর্য ছিলেন। বর্ণিল ছিল তার জীবন। বাতিলের আতংক এই মর্দে মুজাহিদের লিখা “তাযাল্লিয়াতে সফদর” ‎এক অনবদ্য গ্রন্থ। যা তিন খন্ডে সমাপ্য। একেক খন্ডে ৭০০ এর উপর পৃষ্ঠা। প্রতিটি পৃষ্ঠার বাঁকে বাঁকে খোদা প্রদত্ব জ্ঞান আর ‎হক্কানিয়াতের দ্যুতি বিচ্ছুরিত। পাঠককে নিয়ে যায় জ্ঞানের এক অজানা জগতে। শ্বাসরুদ্ধকর বর্ণনায় ফুটিয়ে তুলেন বাতিলের ‎মুখোশ। কুরআন-সুন্নাহ আর যুক্তির আলোকে প্রতিভাত করেন তাগুতী দোসরদের হিংস্রতা। অপব্যাক্ষার নোংরামী। এ যেন ‎এক দীগন্তপ্রসারী আলো। যার অবারিত কিরণে দূর হয়ে যায় আঁধারের কালিমা। বিদূরিত হয় অমানিশা রাতের ভৌতিকতা। ‎কুসংস্বার আর অসত্যের আস্ফালন। উদ্ভাসিত হয় বিকার্ণালোকিত দিবাকর। আসুন ঢুকে পরি জ্ঞানের এক সুবিশাল জগতে। ‎

ধারাবাহিকভাবে মূল উর্দু থেকে সহজ সরল বাংলায় অনূদিত করার চেষ্টা করব। ‎وما توفيق الا بالله‎ আমি বলে যে কথা বলা হবে ‎তা দ্বারা উদ্দেশ্য মুনাযিরে ইসলাম আল্লামা সফদর রহঃ।

অধম অনুবাদক

সফদর রহঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

আমার বংশ ভারতের জালান্দর শহরের সাথে সম্পর্কিত। সেখান থেকে আমার পূর্বপুরুষেরা পাকিস্তানে আসেন। পিতার নাম ‎অলী মুহাম্মদ রহ. আর দাদার নাম পীর মুহাম্মদ ছিল। তাদের উভয়ের নার্সারী ব্যবসা (বৃক্ষ ব্যবসা) ছিল। তারা উভয়ে নামায ‎রোযাসহ সকল ইবাদতের ছিলেন খুবই পাবন্দ। আমরা থাকতাম ফয়সালাবাদ “বাচইয়ানা” ষ্টেশনের নিকট। একবার সেখানে ‎দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ফারিগ এক বুযুর্গ সাইয়্যিদ শামসুল হক শাহ সাহেব আসলেন। আমার পিতা তার কাছে গেলেন ‎এবং বললেন-“আমার যে সন্তানই জন্ম নেয় সে কিছুদিন পর মারা যায়। কেউ বেঁচে থাকেনা। তিন ছেলে আর এক মেয়ে ‎ইতোমধ্যে মারা গেছে”। হযরত সাইয়্যিদ শামসুল হক সাহেব রহ. আমার পিতাকে স্নেহের সাথে বললেন-“ওলী মুহাম্মদ! ‎ঘাবড়িওনা! তুমি আল্লাহ তায়ালার রহমতে সাত ছেলের মুখ দেখবে। হ্যাঁ, তবে এই নিয়ত কর যে, আল্লাহ তায়ালা তোমাকে যে ‎সন্তান দিবেন তাকে আলেম বানাবে”। এরপর আমি জন্মালাম। আমার নাম ঐ বুযুর্গই “মুহাম্মদ আমীন” রাখলেন। তারপর এই ‎বুযুর্গ আমাদের এলাকা থেকে সাদেকাবাদ চলে গেলেন।

আমার পর আমার ছয় ভাই জন্ম হল আল্লাহর রহমাতে। আমার পিতা সত্যি সত্যিই সাত ছেলের মুখ দেখলেন। হযরত শামসুল ‎হক শাহ সাহেবের ভাই সাইয়্যিদ নুরুল হক শাহ সাহেব লাহোরের টাকশালী ফটকের এক মসজিদের খতীব ছিলেন। তিনি খুব ‎প্রসিদ্ধ ভাল ডাক্তার ছিলেন। হযরত সাইয়্যিদ শামসুল হক শাহ সাহেব চিকিৎসার জন্য তার সাদেকাবাদ থেকে লাহোর ‎এলেন। এ সময় আমার বয়স ১২ কিংবা ১৩ বছর ছিল। আমার পিতার সাথে তখন আমিও লাহোরে গেলাম। হযরতের সাথে ‎সাক্ষাৎ হল। হযরত আব্বাকে জিজ্ঞেস করলেন-“ ও মুহাম্মদ আমীন না?” আব্বা বললেন-“হ্যাঁ ও’ই মুহাম্মদ আমীন একটু ‎দু’আ করে দিন আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে আলেম বানান”। হযরত খাটে শোয়া ছিলেন। আমি হযরতকে সালাম দিলাম। ‎হযরত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন-“ওলী মুহাম্মদ! এই ছেলে মাওলানা হবে, মুনাযির (বিতার্কিক) হবে”। আমি এখন ‎বুঝি যে, হযরতের মুখ মুবারক থেকে বের হওয়া কথাকে আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছেন।

আমার শিক্ষা

আব্বা রহঃ গায়রে মুকাল্লিদের কাছে কুরআন শরীফের নাজেরা পড়তে পাঠালেন। হাফেজ মুহাম্মদ রমযান সাহেব আমার উস্তাদ ‎ছিলেন। তার দাওয়াতে আমি গায়রে মুকাল্লিদ হয়ে গেলাম। তারপর মাওলানা আব্দুল জাব্বার মুহাদ্দিসে কান্ধলবী এর কাছে ‎কিছু কিতাব পড়েছি। আমার জন্ম ১৪ই এপ্রিল ১৯৩৪ ঈসাব্দে। ‎

১৯৫৩ সালে রাওয়ালপিন্ডির রাজাবাজারের তা’লীমুল কুরআন মাদরাসার শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুল কাদের রহঃ যিনি ‎সে সময় ওকারা ঈদগাহের মুদার্রিস ছিলেন। তিনি আমাকে বুঝিয়ে সমঝিয়ে আমাকে হানাফী মাজহাবের অনুসারী বানান। ‎দারুল উলুম দেওবন্দের ফারেগ মাওলান জিয়াউদ্দীন সিহারওয়াহী রহঃ হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান ‎সাহেব রহঃ এবং হযরত মাওলানা আব্দুল কাদের সাহেবের কাছে পড়তে লাগলাম। হযরত আব্দুল কাদের রহঃ থেকে হাদিসে ‎পাকও পড়তে লাগলাম। তিনি ইমামুল আসর আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী রহঃ এর ছাত্র ছিলেন। এছাড়া মাওলানা মুহাম্মদ ‎হুসাইন সাহেবের কাছে কিছু পড়াশোনা করি। আর হযরত মাওলানা মুফতী আব্দুল হামীদ সাহেব সীতাপুরী যিনি জামিয়া ‎মাদানিয়া লাহোরের মুফতী ছিলেন তার থেকেও অনেক ফায়দা পেয়েছি।

এই সকল ওলামায়ে হাযরাত সে সময়ের উল্লেখযোগ্য আলেম ছিলেন।

একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা

ঈদগাহ মাদরাসার যখন আমি ছাত্র। তখন শাইখুত তাফসীর সুলতানুল আরেফীন মাওলানা আহমাদ আলী লাহোরী সাহেবের ‎খলীফা হযরত মাওলানা বশীর আহমাদ সাহেব দেহলবী মাদরাসায় আগমণ করলেন। ছাত্ররা হযরতের সাথে মোলাকাত ও ‎মুসাফাহার জন্য একত্র হল।

হযরতের সাথে আগে থেকে আমার কোন পরিচয় ছিলনা। সব ছাত্রদের সাথে তিনি উভয় হাতে ‎মুসাফাহা করতে ছিলেন। আমিও মুসাফাহা করলাম। তখন হযরত উভয় হাতে মুসাফাহা করার পর আমার হাত ধরে তার বাম ‎পাশে বসিয়ে দিলেন। বাকি ছাত্রদের সাথে মুসাফাহা শেষ করলেন। তারপর আমার দিকে ফিরলেন। নাম জিজ্ঞেস করলেন। ‎বললেন-“এই ছেলেতো একটি বড় এলাকা সামলাতে পারবে”। তারপর হযরত অনেক মহব্বতের সাথে আমাকে বাইয়াত ‎‎(আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির হাতে সর্ব প্রকার গোনাহ ছেড়ে দিয়ে জিকির ও ইবাদতে নিমগ্ন হবার অঙ্গিকার করা) হবার জন্য ‎উৎসাহিত করলেন। আমি যেহেতো গায়রে মুকাল্লিদিয়াতের আখড়া থেকে এসেছি তাই বাইয়াতকে বেদআত এ দুনিয়াবী ‎দোকানদারী মনে করতাম। এজন্য আমি বারবার অস্বিকার করছিলাম। আমি বললাম-“বাইয়াত কি জরুরী বিষয়?” কিন্তু ‎হযরত অনেক মহব্বতের সাথে আমাকে বুঝালেন। আমাকে উৎসাহ দিলেন শাইখুত তাফসীর সুলতানুল আরেফীন মাওলানা ‎আহমাদ আলী লাহোরী সাহেবের কাছে বাইয়াত নিতে। আমি “হ্যাঁ করবোতো” বললাম। কিন্তু হযরতের চলে যাবার পর ‎আমার তা আর মনেই ছিলনা। ‎

একদিন আমি “খুদ্দামুদ্দীন” নামক পুস্তিকায় হযরত লাহোরী সাহেব রহঃ এর একটি আলোচনা পড়ছিলাম। সেখানে হযরতের ‎বয়ান দেখলাম। সেখানে তিনি বলছেন-“চর্মচক্ষুতো আল্লাহ তায়ালা গাধা এবং কুকুরকেও দিয়েছেন। চোখতো মূলত অন্তর ‎চক্ষুর নাম। যদি সেটা আলোকিত হয়ে যায় তাহলে এটা দিয়ে হারাম হালালের পার্থক্য বুঝা যায়। আর কবরের পাশ দিয়ে ‎যাবার সময় এটা জানা হয়ে যায় যে, এ কবরটি জান্নাতের বাগান নাকি জাহান্নামের গৃহ”। ‎

আমি এটি পড়তেই ছিলাম। এমন সময় একজন মাষ্টার সাহেব যার নাম রাশীদ আহমাদ ছিল তিনি আমার রুমে ঢুকলেন। তার ‎হাতে পাঁচ টাকার একটি নোট ছিল। তিনি বলতে ছিলেন-“কারো যদি হারাম নোট নেবার ইচ্ছে থাকে সে এটি নিতে পারে। ‎এটি হারাম! এটি হারাম!!” আমি বললাম-“আমাকে দিয়ে দাও”। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন-“তুমি এটা দিয়ে কি ‎করবে?” আমি তাকে উক্ত মজলিসের আলোচনার ইবারত শুনালাম। তারপর বললাম-“আমি লাহোর যাচ্ছি, আর খবর নিব, ‎লাহোরী সাহেবের নিজের হালাল হারাম এর মাঝে পার্থক্য আছে কি নাই?” তারপর চার-পাঁচ মিনিটের মাঝে প্রস্ততি নিয়ে ‎নিলাম। আমরা উভয়ে আমাদের পক্ষ থেকেও টাকা নিলাম।

বাজার থেকে এক টাকার ফল হারাম টাকা থেকে আর এক টাকার ফল আমাদের হালাল টাকা থেকে এমন করে আমরা মোট ‎পাঁচটি ফল কিনলাম। প্রত্যেকটি ফলের নিদর্শন মনে গেঁথে রাখলাম। কোনটি হালাল টাকার ক্রয় করা আর কোনটি হারাম ‎টাকার ক্রয় করা।

অবশেষে লাহোর আমরা পৌঁছলাম। সাহিওয়ার জেলার বন্ধুদের কাছে খবর রটে গেল। আমরা এসে গেছি। আমরা হযরতের ‎কাছে গিয়ে ফল হযরতের সামনে রাখলাম। আমাদের দিকে তাকিয়ে হযরত বললেন-“ভাইয়েরা! এসব কি নিয়ে এলে?” আমি ‎বললাম-“হযরত আপনার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য এসেছি। আর এগুলি সামান্য হাদিয়া”। তিনি বললেন-“হাদিয়া নিয়ে ‎এসেছ? নাকি আমার পরীক্ষা নিতে এসেছে?” তারপর তিনি সব আলাদা আলাদা করে দিয়ে বললেন-“এই ফলগুলি হালাল ‎আর এই ফলগুলি হারাম”।

এসব দেখে আমরা বাইয়াত হবার জন্য হযরতের কাছে দরখাস্ত করলাম। হযরত খুব কঠোরভাবে আমাদের বললেন-“তোমরা ‎বাইয়াত হবার জন্য আসনি। আমার পরীক্ষা নেবার জন্য এসেছ”। হযরত আমাদের উঠিয়ে দিলেন। আমরা রেল ষ্টেশনে চলে ‎এলাম। গাড়িও চলে এল। আমার বাকি চার সাথি গাড়িতে উঠে গেল। কিন্তু আমি উঠলাম না। টিকেট ফেরত দিয়ে আমি চলে ‎গেলাম আমার এক নিকটাত্মীয়ের বাসায়। ‎

পরদিন “শীরানওয়ালা” মসজিদে হযরতের পিছনে ফযর নামায পড়লাম। নামাযের পর কুরআনে কারীম দরস দেবার স্থানে ‎হযরত বসে গেলেন। আমিও ছাত্রদের সাথে বসে গেলাম। হযরত দরস দিলেন। দরস শেষে কিছু ছাত্র হযরতের হাতে বাইয়াত ‎হবার জন্য বসল। আমিও তাদের সাথে বসে গেলাম। হযরত আমাকে দেখে মুচকি হেসে বললেন-“কি এখন বাইয়াত হবার ‎জন্য এসেছ?” আমি বললাম-“হযরত! হাজির হয়ে গেলাম”।

হযরত আমাকে বাইয়াত করালেন। ইসমে জাত, ইস্তিগফার আর দুরুদ শরীফের তাসবীহের তালীম দিলেন। আনুমানিক চার ‎বছর হযরতের খিদমতে উপস্থিত থাকার তৌফিক হয়েছে। হযরত আমাকে স্নেহকরে “ইঞ্জিলে বর্ণবাদ” বইটির ভূমিকা লিখার ‎জন্য বলেন। আমি তা লিখে হযরতকে দিলে হযরত অনেক খুশি হন। আমাকে অনেক দু’আ দেন। হযরতের সম্পর্কের ‎বরকতের মধ্যে এটি একটি ছিল যে, আমি যদিও পারিপার্শিক কিছু কারণে প্রাইমারী স্কুলের টিচারী করতাম। কিন্তু আল্লাহর ‎রহমতে স্কুলের অল্প সময় ছাড়া বাকি সময় আমার আসল মগ্নতা ছিল আরবী দ্বীনী কিতাব পড়া। আর দ্বীন প্রচারের কাজে সময় ‎ব্যয় করা। আমার গ্রামে দুইবার পূর্ণাঙ্গ কুরআন পড়িয়েছি। হযরত রহঃ এর দুআ’র এবং নেক নজরের বরকত এই অধমকে ‎দ্বীনের এক সিপাহী বানিয়ে দিল। কাদিয়ানী, খৃষ্টান, আর আহলে বিদআত (বেরেলবী) এবং শীয়া ছাড়াও বর্তমান কালের ‎সবচে’ মারাত্মক বেদাতী যারা নিজেদের “আহলে হাদিস” নামে ডাকে, আর “গায়রে মুকাল্লিদ” নামে প্রসিদ্ধ তাদের সাথে ‎করাচি থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত একটি সতর্কপূর্ণ আন্দাজে ১০০ এর উপর বাহাস (বিতর্ক) হয়েছে। যাতে আল্লাহ তায়ালা ‎আকাবীরদের এই গোলামকে প্রত্যেক স্থানে বিজয় দান করেছেন। এবং শত শত বরং হাজারো আহলে বাতিলের ধোঁকা থেকে ‎তওবা করেছেন। আল্লাহ এসব কিছু কবুল করুন।

এ সময় মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে কিছু কিছু লিখতাম। যার ৪টি সংকলন ইতোপূর্বে বেরিয়েছে। পঞ্চমটি এখন আপনাদের ‎সামনে। আল্লাহ তায়লা কবুল করুন। ‎

হযরত লাহোরী সাহেবের পর আমার রুহানী সম্পর্ক হযরত শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী রহঃ এর খলীফা ইমামে ‎আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত হযরত মাওলানা কাজী মাযহার হুসাইন সাহেব দাঃ বাঃ এর সাথে হয়। তার দুআ’ এবং নেক ‎নজর আমার জন্য অনেক বড় এক পাথেয়। আল্লাহ তায়ালা তার বয়সে বরকত দিন। ‎

আমার গ্রামে কাদিয়ানীরা ছিল প্রচুর। এজন্য তাদের সাথে বিতর্ক হত। আল্লাহর রহমত এবং বুযুর্গদের নেক নজরের বরকতে ‎এই বিষয়েও আলহামদুলিল্লাহ কখনো পরাজয়ের মুখ দেখিনি। তারপর আমি বাইবেলের উপর মেহনত করি। তারপর ‎খৃষ্টানদের সাথে বিতর্ক করি।

পড়াশোনা করার অভ্যাস ছিল। কিন্তু আল্লাহওয়ালাদের দুআ’র বরকতে যেখানেই কোন প্রশ্নের সম্মুখিন হতাম। উস্তাদদের ‎কাছে এর সমাধান জেনে নিতাম। নিজের কোন সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতামনা। হযরত মাওলানা লাহোরী রহঃ এর নেক নজরে ‎এই বিশ্বাস আমার মনে বদ্ধমূল হয়ে যায় যে, ১. সালাফে সালেহীন(নেককার পূর্ববর্তী ওলামা) দের উপর নির্ভরতা এবং ২. ‎আখেরাতের ফিক্বর এ দু’টি এমন বড় নিয়ামত যার দ্বারা বর্তমান জমানায় দ্বীন নিরাপদ থাকতে পারে। এ দু’টির মাঝ থেকে ‎যেকোন একটির ক্ষেত্রে সামান্য বিচ্যুতির কারণে দ্বীনের উপর থাকা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

ফক্বীরওয়ালীর কাসেমুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা কাসেম সাহেব এবং তার সম্মানিত পিতা হযরত মাওলানা ফযল ‎মুহাম্মদ সাহেব রহঃ বর্তমান যমানার ফিতনা গায়রে মুকাল্লিদিয়াতের উপর সময় ব্যয় করেছেন। হযরত মাওলানা সাহেব ইলম ‎ও আমলের সাথে বিনয়ের দিকে থেকেও ছিলেন এক উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। হযরতের ইখলাসের বরকতে দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন ‎এক স্থানে প্রতিষ্ঠা করা মাদরাসার আলো এখন বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। হে আল্লাহ! তুমি তা দিন দিন আরো বাড়িয়ে দাও!‎

হযরত মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম সাহেব এর পরামর্শে করাচি গেলাম। সেখানে ইলম ও ইখলাসের সমন্বিত এক মহান ব্যক্তিত্ব ‎জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বিন্নুরী টাউনের প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা আহমাদুল্লাহ সাহেব রহ. এর সাথে সাক্ষাত হয়। ‎হযরত বললেন-“কেন তুমি স্কুলে তোমার জীবন বরবাদ করছো? যে ইলম আল্লাহ তায়ালা তোমাকে দিয়েছেন স্কুলে থেকে তা ‎বরবাদ করার জবাব তুমি আল্লাহর কাছে কি দিবে? এখনি ইস্তেফা লিখ। এখন আর কোন কথা শুনা হবেনা”।

হযরতের পীড়াপীড়িতে আমি স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিলাম। জামিয়াতুল ইসলামিয়া বিন্নরী টাউনের “আত তাখাসসুস ফিত ‎দাওয়া ওয়াল ইরশাদ” বিভাগে খিদমাতের দায়িত্ব নিলাম। জামিয়ার দাওয়াত ও গবেষণার লাইব্রেরীতেই আমার দারসের ‎ব্যাবস্থা করা হল। ‎

জামিয়ার লাইব্রেরী একটি নজীরবিহীন লাইব্রেরী। এটি হযরত ইউসুফ বিন্নুরী রহঃ এর গবেষণার গভীরতার নিদর্শন। এখানে ‎গবেষণা করার যথেষ্ট সুযোগ আছে। জামিয়ার লাইব্রেরী এবং জামিয়ার পরিবেশতো বেশ সুন্দর, কিন্তু এখানকার আবহাওয়া ‎আমার শরীরে সইতে ছিলনা। আমি অনেক অসুস্থ্য হয়ে পড়লাম। অবশেষে বাধ্য হয়ে করাচি ছেড়ে দিলাম। “উকারা” চলে ‎এলাম। ওখানকার বন্ধুরা চাচ্ছিল আমি যেন ‘উকারা’ কাজ করি। “ফক্বীরওয়ালী” মাদরাসার কর্তৃপক্ষ চাচ্ছিলেন আমি যেন ‎তাদের কাছে চলে যাই। তাদের লাইব্রেরীও অনেক সমৃদ্ধ। করাচির সাথে পাল্টে দেয়া যাবে, এত পরিমাণ সংগ্রহ এখানে ‎আছে। আরো অনেকেই অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু জামিয়া খাইরুল মাদারিসের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ হানীফ জালন্ধরী ‎সাহেব এবং “নবীরাহ”এলাকার মাখদুমুল ওলামা হযরত মাওলানা খায়ের মুহাম্মদ সাহেবে জালন্ধরী সাহেবের আগ্রহ ছিল ‎সবচে’ বেশী। তিনি জামিয়া খাইরুর মাদারিসে “আত তাখাসসুস ফিত দাওয়া ওয়াল ইরশাদ” এর খিদমাতের দায়িত্ব আমাকে ‎অর্পণ করেন। এই মাদরাসায় আমি হযরত মাওলানা খাইর মুহাম্মদ সাহেবের এখলাসের বরকতে একটি বিষয় আমার দৃষ্টিতে ‎আসে। সেটা হল-“শুধু ইলম নয় আদবেরও একটি আলাদা অবস্থান আছে”।

ফক্বীহুল আসর হযরত মাওলানা মুফতী আব্দুস সাত্তার এবং হযরত শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ সিদ্দীক সাহেব দাঃ বাঃ, ‎হযরত মাওলানা মনজুর আহমাদ সাহেব, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আবেদ সাহেব, এছাড়া অন্যান্য দোস্ত আহবাবের মাঝে ‎ইলমের পাশাপাশি আদব ও তাসাওফের ক্ষেত্রেও ছিল গভীর অনুরাগ। আর বাহ্যিকতার পাশাপাশি মানসিকতা নির্মাণ এটি ‎দারুল উলুম দেওবন্দের একটি স্বকীয় বৈশিষ্ট। সত্য এটাই যে, আমার আঁচলতো ইলম ও আমল থেকে ছিল খালি, কিন্তু হযরত ‎মাওলানা আহমদ আলী লাহোরী রহঃ এর সাথে যে নামের নিসবত ছিল এটাই আমার পাথেয়। আল্লাহ তায়ালা এই সকল ‎বুযুর্গদের বরকতে আমার ভুলগুলি মাফ করে দিন। ‎

আমারতো এসব লিখার অভ্যাস-আগ্রহ কোনটাই ছিলনা। আমার প্রিয়ভাজন মুহাম্মদ ইলয়াস (দারুল উলুম ফায়সালাবাদের ‎শাইখুল হাদিস হযরত মাওলানা মুহাম্মদ যরীফ সাহেব দাঃ বাঃ এর ছেলে) এবং হযরত মাওলানা আবেদ সাহেব দাঃ বাঃ জিদ ‎ধরে বসে গেলেন যে, আমাকে কিছু না কিছু লিখতে হবেই। এজন্য কিছু লিখলাম। নতুবা আমি কে? যে কিছু লিখব? আল্লাহ ‎তায়ালা আমাদের সাথে ক্ষমা এবং দয়ার আচরণ করুন। আর এই সকল প্রাণপ্রিয় বন্ধুবরদের দুআ’ দ্বারা আমাকে উপকৃত ‎করুন। আমীন।

মুহাম্মদ আমীন সফদর আফা আনহু

তাযাল্লিয়াতে সফদর-২

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত হানাফী

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العلمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين، اما بعد-‏

প্রিয় পাঠকেরা! এই দুনিয়ার মাঝে অনেক ধর্ম পাওয়া যায়, কিন্তু এর মাঝে সত্য ধর্ম শুধু ইসলামই। আল্লাহ তায়ালা বলেন-‎নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালার কাছে মনোনিত ধর্ম হল ইসলাম (সূরা আলে ইমরান-১৯) “ আর যারা ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম চায় তা ‎কখনো গ্রহণীয় হবেনা। আর সে আখেরাতে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত”। (সূরা বাকারা-৮৫) ‎

এমনিভাবে মুসলমানদের মাঝে বেশ কিছু ফিরক্বা পাওয়া যায়। কিন্তু তাদের মাঝে নাজাত পাবে শুধু আহলে সুন্নাত ওয়াল ‎জামাআত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“নাজাতপ্রাপ্ত হবে তারা যারা আমার এবং সাহাবাদের মত ও পথে থাকবে” ( ‎তিরমীজী শরীফ, হাদিস নং-২৬৪১) তিনি আরো বলেন-“আমার এবং আমার খুলাফায়ে রাশেদীনদের সুন্নত অবশ্যই আঁকড়ে ‎ধর” (তিরমিজী শরীফ) নবীজী আরো ইরশাদ করেন-“যে আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল সে আমার থেকে নয়” (বুখারী ‎শরীফ-হাদিস নং-৪৭৭৬) আর এক বর্ণনায় নবীজী সাঃ তার সুন্নাত পরিত্যাগকারীকে বলেছেন অভিশপ্ত (মিশকাত শরীফ) ‎আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ছাড়া বাকি দলকে জাহান্নামী বলেছেন নবীজী সাঃ (তিরমীজী শরীফ, হাদিস নং-২৬৪১) ‎হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ বলেন-যখন নবীজী সাঃ থেকে আয়াতে কারীমা-‎يوم تبيض وجوه‎ এর তাফসীর পৌঁছানো হয়, ‎তখন নবীজী সা. ইরশাদ করেন-“যাদের চেহারা কিয়ামতের দিন আলোকিত হবে তারা হল “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত”। ‎আর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ ও এরকম ইরশাদ করেছেন (আদ দুররুল মানসুর-২/৬৩) নবীজী সাঃ আরো বলেন- “হাসান ‎রাঃ এবং হুসাইন রাঃ আহলে সুন্নাতের চোখের শীতলতা”।(আল কামিল লি ইবনে আছীর-৪/৬২)‎

ব্যাক্ষা

নবীজী সাঃ বলেন-আমার উম্মতের মাঝে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। এ দু’টিকে মজবুতভাবে আঁকড়ে রাখলে তোমরা পথভ্রষ্ট ‎হবেনা, আল্লাহ তায়ালা কিতাব, এবং আমার সুন্নাত (মুয়াত্তা মালিক-হাদিস নং-৭০২) কুরআনে কারীমে আল্লাহ তায়ালার ‎সর্বশেষ এবং পূর্ণাঙ্গ কিতাব। যা সর্ব প্রকার সন্দেহ থেকে পবিত্র। তা শাব্দীক ইলহাম তথা ওহীয়ে মাতলু’। আর নবীজী সা. এই ‎কিতাবের উপর খোদ আল্লাহ তায়ালার বুঝানোর হিসেবে তিনি যে আমলী নমুনা আমাদের সামনে পেশ করেছেন তাই হল ‎সুন্নাত। আর এতে আহলে সুন্নাত এর অর্থটাও বুঝে এসে গেল। অর্থাৎ যারা কুরআন পাকের উপর নিজের সিদ্ধান্ত নয় বরং ‎রাসূল সা. এর আমলী নমুনা সামনে রেখে আমল করে তাদেরকেই বলা হয় “আহলে সুন্নাত”। কেননা শব্দটা কুরআনের আর ‎আমলের নমুনা হল নবীজী সা. এর। আর এইতো সুন্নাত!‎

ওয়াল জামা’আত

যেমন কুরআনে কারীম সহীহভাবে বুঝার জন্য কেবল আরবী ভাষাই যথেষ্ট নয়। বরং নবীজী সা. এর আমলী জীবনই হল এর ‎সহীহ তাফসীর। এমনিভাবে রাসূল সা. আগত উম্মতদের জন্য সাহাবায়ে কিরামের জন্য একটি বিরাট দল তৈরী করলেন, যারা ‎তাঁর তত্বাবধানে তাঁরই সুন্নাতের আমল করেছেন। আর পরবর্তী আগত উম্মতের জন্য তারা সুন্নাতের আমলী নমুনা হলেন। ‎তারা শুধু নবীর নিগারানীতেই তৈরী হননি, বরং আল্লাহ তায়ালাও তাদের পূর্ণাঙ্গ তত্বাবধায়ন করেছেন। সাথে সাথে ‎رضى الله ‏عنهم ورضو عنه‎ (আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহ তায়ালার উপর সন্তুষ্ট।) সার্টিফিকেটও আল্লাহ তায়ালা ‎দিলেন। ‎

নবীজী সা. তাগীদের সাথে হুকুম করেছেন-‎عليكم بالجماعة‎ এই জামাআতকে দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধর। নবীজী সা. জামাআত ‎থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে শয়তানের লোকমা বলেছেন। আর ঐ বকরীর সাথে তুলনা করেছেন- যে রাখালের নিয়ন্ত্রণ এবং ‎বকরীর পাল থেকে বেরিয়ে কোন নেকড়ের শিকারে পরিণত হয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ)‎

শায়েখ ইবনে তাইমিয়া র. বলেন-‎فاهل السنة والجماعة هم المتبعون للنص والإجماع‎ অর্থাৎ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত হল ঐ ‎সকল লোক-যারা কুরআন সুন্নাহ এবং ইজমায়ে উম্মতের অনুস্বরণ করে (আল মানহাজুস সুন্নাহ-৩/২৭২)‎

পূর্ণাঙ্গ দ্বীন

আল্লাহ তায়ালা তাঁর শেষ এবং এবং পূর্ণাঙ্গ কিতাবের মাঝে দ্বীনের পূর্ণাঙ্গতার ঘোষণা দিয়েছেন-‎الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ ‏وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلامَ دِيناً [المائدة:3]‏‎ অর্থাৎ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ ‎করে দিলাম, আর তোমাদের উপর আমার নিয়ামতকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। আর তোমাদের জন্য ধর্ম হিসেবে নির্বাচিত করলাম ‎ইসলামকে।(সূরা মায়িদা-৩)‎

শক্তিশালী দ্বীন

রাসূল সাঃ যেই পূর্ণাঙ্গ দ্বীনে ইসলাম নিয়ে এসেছেন গোটা পৃথিবীর জন্য। আরবে তা নবীজী সা. এর জীবদ্দশায়ই পরিপূর্ণ ‎বিকাশ লাভ করে। বাকি অনারবে নবীজীর সাহাবা যারা নবীজীর সুন্নাতের নমুনা ছিলেন তাদের দ্বারা তা বিকাশ লাভ করে। ‎একথার সুসংবাদতো খোদ কুরআনে কারীমেই বিদ্যমান-“আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা করেছেন ঐ সকল লোকদের জন্য যারা ‎তোমাদের মাঝে ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের পৃথিবীতে খলীফা বানাবো, যেমন তাদের পূর্ববর্তীদের বানিয়েছি। ‎এবং তাদের জন্য নির্বাচিত দ্বীনকে তাদের জন্য দৃঢ় করে দিব। আর তাদের জন্য ভীতিকে নিরাপত্তা দিয়ে পাল্টে দিব। তারা ‎আমার ইবাদত করবে। আমার সাথে কারো শরীক করবেনা। তারপরও যারা কুফরী করবে তারাই নাফরমান”। (সূরা নূর-৫৫)‎

সুতরাং যেই দ্বীনের পূর্ণাঙ্গতা হুজুর সা. উপর হয়েছিল তা সাহাবায়ে কিরামের মেহনত এবং চেষ্টায় দুনিয়ায় মজবুতির সাথে ‎প্রতিষ্ঠিত হয়। এটাই পবিত্র জামাআত, যাদের সুন্দর উল্লেখ্যতা আমাদের নামের মাঝে জামাআত নামে চলে এসেছে। আহলে ‎সুন্নাত ছাড়া কোন আহলে বিদআতের নাম না ওয়াল জামাআত না এর দ্বারা সাহাবাদের জামাআত উদ্দেশ্য।

দ্বীনি বিষয় সংকলন

কুরআনে কারীমের পূর্ণাঙ্গ আমলী ব্যাক্ষা সুন্নাত। এই সুন্নাতের পূর্ণাঙ্গ আমলী নমুনা সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন, যারা নীবজী সা. ‎এর তত্বাবধানে তৈরী হয়েছিলেন। তাদের মাধ্যমে নবীজী সা. এর সুন্নাত দুনিয়ায় বিকাশ লাভ করেছে। নবীজী সা. ‎হেদায়াতের সূর্য ছিলেন। আর তাঁর সাহাবারা রা. ছিলেন তারকার মত। তাদের মাধ্যমে দুনিয়াজুড়ে ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছে। ‎এই সকল পবিত্রাত্মাদের জীবন জিহাদে অতিবাহিত হয়েছে। তাদের এই সুযোগ ছিলনা যে, তারা নবীজীর সুন্নাতকে সাজানো ‎গোছানোভাবে সন্নিবিষ্ট করবেন। কিন্তু এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যে, যে দ্বীন কিয়ামত পর্যন্তের জন্য এল। তার ‎সহজ এবং সাধারণ্যের বুঝার অনুকূল করে সাজিয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাক্ষাসহ একত্রিত করে দেয়া হবে। যেন কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানরা ‎এ থেকে তাদের প্রিয় নবীজী সা. এর সুন্নাতের উপর সহজে আমল করতে পারে। এই কারণে এই মহান কর্ম সাহাবায়ে ‎কিরামের শেষ জমানায় শুরু হয়। আর সংকলনের প্রথম পদক্ষেপ সাইয়্যিদুনা ইমামে আজম নু’মান বিন সাবেত আবু হানীফা ‎কুফী রহ. সূচনা করেন। আর এর সুসংবাদও কুরআনে কারীম এবং হাদিসে বিদ্যমান। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-“তোমরা ‎শুন! তোমাদের আল্লাহর পথে খরচ করার জন্য আহবান করা হচ্ছে, তোমাদের মাঝে কিছু লোক এমন আছে যারা কৃপণতা করে, ‎আর যারা কৃপণতা করে, তারা মূলত নিজের সাথেই কৃপণতা করে। আল্লাহ তায়ালাতো অমুখাপেক্ষি, তোমরাই মুখাপেক্ষি, ‎সুতরাং তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে তোমাদের বদলে অন্য এক জাতিকে নিয়ে আসবেন। তারা তোমাদের মত ‎হবেনা”। (সূরা মুহাম্মদ-৩৮)‎

আল্লামা উসমানী রহ বলেন-“অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা যেই হিকমত এবং উপকারিতার জন্য বান্দাদের খরচ করার হুকুম ‎দিয়েছেন তা অর্জিত হওয়া তোমাদের উপর নির্ভরশীল নয়। যদি এমন হয় যে, তোমরা কৃপণতা করবে, আর তার আদেশ থেকে ‎মুখ ফিরিয়ে নিবে, তাহলে তিনি তোমাদের স্থানে অন্য এক জাতিকে দাঁড় করিয়ে দিবেন, যারা তোমাদের মত কৃপণ হবেনা। ‎বরং অনেক আনন্দের সাথেই আল্লাহ তায়ালার আদেশ পালন করবে। আর তার রাস্তায় খরচ করবে। যেভাবেই হোক আল্লাহ ‎তায়ালার হিকমত এবং উপকারিতাতো পূর্ণ হবেই কিন্তু এই সৌভাগ্য থেকে তোমরা হবে বঞ্চিত।

হাদিসের মধ্যে এসেছে সাহাবায়ে কিরাম প্রশ্ন করলেন-“হে আল্লাহর রাসূল! দ্বিতীয় জাতি কারা হবে? যাদের দিকে ইঙ্গিত করা ‎হল?” নবীজী সা. হযরত সালমান ফারসী রা. এর উপর হাত রেখে বললেন-“‎ এর জাতি” আর বললেন-“আল্লাহর কসম! যদি ‎ঈমান সুরাইয়া নক্ষত্র পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে তাহলে পারস্যের লোকেরা তা সেখান থেকেও নামিয়ে নিয়ে আসবে”। (বুখারী শরীফ-‎হাদিস নং-৪৩১৫ মুসলিম শরীফ-হাদিস নং-৬৬৬২) আলহামদুলিল্লাহ! সাহাবায়ে কিরামা এরকম নজীরবিহীন কর্মতৎপরতা ‎আর ঈমানের জোশ দেখিয়েছেন যে, তাদের স্থলে অন্যদের রাখার সুযোগই হয়নি। এমনকি পারস্যবাসী ইসলামে প্রবিষ্ট হয়ে ‎ইলম ও ঈামানের শানদার প্রকাশ করেছেন। আর এমন জবরদস্ত দ্বীনী খিদমাত করেছেন যে, যা দেখে যে কেউ চিন্তা ছাড়াই ‎স্বীকার করবে যে, নিশ্চয় হুজুর সা. এর ভবিষ্যতবাণীর তারাই ছিলেন উদ্দেশ্য। যারা প্রয়োজনের সময় আরবের স্থলাভিষিক্ত ‎হতে পারতেন। হাজারো উলামায়ে কিরাম ও আইয়িম্মায়ে কিরামের দিকে না তাকিয়েও শুধু ইমাম আবু হানীফা রহ. এর ‎বিদ্যমানতাই এই ভবিষ্যতবাণীর সত্যতার জন্য যথেষ্ঠ। বরং মহান ভবিষ্যতবাণীর পূর্ণাঙ্গ এবং প্রথম মিসদাক হযরত আবু ‎হানীফা রহ.। অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা স্বাক্ষরতাহীন (আহলে আরব) ব্যক্তিদের উল্লেখের পর ইরশাদ করেন-“আর নবীকে ‎পাঠানো হয়েছে দ্বিতীয় আরেকটি জাতির জন্য যারা এখনো তার সাথে একত্র হয়নি, আর তিনিই পরাক্রমশালী ও ‎হিকমতওয়ালা। আর এসব আল্লাহ তায়ার করুণা, আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছে দান করেন। আর আল্লাহ তায়ালা বড়ই ‎করুণাকারী” (সূরা জুমআ-৩-৪)‎

আল্লামা উসমানী রহ. বলেন-“হযরত শাহ সাহেব রহ. লিখেন যে,-আল্লাহ তায়ালা আরবদের সৃষ্টি করেছেন এই দ্বীনকে ‎প্রতিষ্ঠার জন্য যাদের পিছনে রয়েছে অনারবী কামেল লোকেরা”। হাদিসের মধ্যে এসেছে-“যখন নবীজী সা. কে এই আয়াত‏ ‏آخرون منهم لما يلحقوا بهم‎ ‎و‎ এর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হল তখন নবীজী সা. হযরত সালমান ফারসী রা. এর কাঁধে হাত রেখে ‎বললেন-“যদি ইলম বা দ্বীন “সুরাইয়া” পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে তাহলে তাঁর জাতি পারস্যের লোকেরা সেখান থেকেও তা নিয়ে ‎আসবে। শায়েখ জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহ. প্রমুখগণ একথা স্বীকার করেছেন যে, এই ভবিষ্যতবাণীর বড় মিসদাক (লক্ষ্য) হল ‎ইমামে আজম আবু হানীফা রহ.”। (তাফসীরে উসমানী হাশিয়া নং-৭)‎

সুতরাং এই ভবিষ্যতবাণী অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা ইমাম আজম আবু হানীফা রহ. দ্বীন সংকলন করেছেন। যেহেতো কুরআনে ‎কারীমের দ্বিতীয় নাম “লুকায়িত দ্বীন”। যার পূর্ণাঙ্গতা নবীজী সা. এর উপর, শক্তিশালীত্ব সাহাবায়ে কিরামের দ্বারা, আর ‎সংকলনের মহান দায়িত্ব প্রথম হবার সৌভাগ্য হযরত ইমাম আবু হানীফা রহ. এর হয়েছে। আর একারণেই সর্বসম্মতভাতে তার ‎উপাধী আবু হানীফা নির্ধারিত হয়েছে, অর্থাৎ দ্বীনে হানীফের প্রথম সংকলক।

ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মূল নাম নু’মান। ইবনে হাজার মক্কী রহ. নু’মান এর তিনটি অর্থ লিখেছেন-‎

১. “নিয়ামত থেকে ইসমে মুবালাগা”, আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারীমে দ্বীনের পূর্ণাঙ্গতা পূর্ণ হবার ঘোষণা দিয়েছেন। তাহলে ‎সবচে’ বড় নিয়ামতের সংকলন যার হাতে হয়েছে তিনি অবশ্যই নামের সাথে মিলে নু’মান।

২. “নু’মান” এক ঘাসের নাম। যার খুশবো বহুদূর পর্যন্ত পাওয়া যায়। বিশ্বনবী সা. এর সার্বজনীন সুন্নাতের খুশবো বিশ্বব্যাপী ‎ছড়িয়েছেন হযরত নুমান বিন সাবেত রাহ.। অন্য কোন ইমামের মাজহাব তার চারপাশেই ছড়েনি। এই জন্যই তিনি নামের ‎সাথে মিলে “নু’মান”।

৩. “নু’মান” ঐ রক্তকে বলে যার উপর জীবন নির্ভরশীল। যা শরীরের প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে পৌঁছে। তিনি প্রিয় নবীজীর প্রিয় ‎সুন্নাতকে এরকম ব্যাক্ষা করেছেন যে, মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের ছোট বড় প্রায় সকল মাসআলার সমাধান সুন্নাত ‎থেকে অনুসন্ধান করে নিয়েছেন। এই অর্থেও তিনি “নুমান”। এছাড়া তার ফিক্বহ পরবর্তীদের জন্য মূল ভিত্তির কাজ দেয়। ‎

ইমাম মালিক রহ. ইমাম শাফেয়ী রহ. এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. সবাই তার থেকে উপকৃত হয়েছেন। তাই এই অর্থেও ‎তিনি নামের সাথে মিলে ‘নুমান”। ‎

তার উপাধী “ইমামে আজম” কারণ নবীজী সা. বলেছেন-‎أعظم الناس نصيبا في الإسلام أهل فارس‎ অর্থাৎ ইসলামে বড় অংশ ‎পারস্যবাসীর! (কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আক্বওয়াল-হাদিস নং-৩৪১২৬)‎

বিষয়টি সুষ্পষ্ট। যাদের ইসলামে বড় (আজম) অংশ হবে, তাদের ইমামও বড় (আজম) হবে, এটাই স্বাভাবিক। তাই ইমাম আবু ‎হানীফা রহ. এর উপাধী “ইমামে আজম”। সাহাবায়ে কিরামের পর তাঁকেই মানুষ আজম মেনেছেন। আর দুনিয়ার মাঝে এক ‎বিশাল জামাআত এখনো তার মুকাল্লিদ বা অনুসারী। ‎

মোদ্দাকথা হল-রাসূল সা. হিদায়াতের সূর্য। সাহাবায়ে কিরাম হিদায়াতের তারকা। আর আর সুরাইয়া তারকা পর্যন্ত পৌঁছাকারী ‎ব্যক্তিত্ব হযরত ইমামে আজম রহ.। আহলে সুন্নাতের মাঝে আমাদের নিসবত হিদায়াতের সূর্য পর্যন্ত গিয়ে মিশেছে। ওয়াল ‎জামাআতের মাঝে আমাদের নিসবত হিদায়াতের তারকাপুঞ্জ পর্যন্ত সুরাইয়া তারকায় পৌঁছাকারী হানাফী ইমামের সাথে।

রাসূল সা. দ্বীন আনয়নকারী। সাহাবায়ে কিরাম দ্বীনকে প্রসারকারী। আর চার মাজহাবের ইমাম দ্বীনকে লিখাকারী। সাহাবায়ে ‎কিরাম সুনিশ্চিতভাবে ঐ দ্বীনই প্রসার করেছেন যা নবী সা. এনেছেন। আর আইয়িম্মায়ে কিরাম ঐ দ্বীনই লিখেছেন যা ‎সাহাবায়ে কিরাম প্রসার করেছেন। আমাদের এই নাম “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত হানাফী’ আমাদের মাজহাবের ‎নিরবচ্ছিন্ন সনদ। যা নিরবচ্ছিন্ন সূত্র পরম্পরার আমলের উপর নির্ভরশীল। নবী কারীম সা. এর সুন্নাত সাহাবায়ে কিরাম স্বচক্ষে ‎দেখেছেন। আর এর উপরই নিরবচ্ছিন্নভাবে আমল প্রচলন হয়েছে। আর ইমাম সাহেব রহ. সাহাবীদের দেখেছেন। তাদের ‎নিরবচ্ছিন্ন আমল দেখেছেন। তাদের নিরবচ্ছিন্ন আমলকে কিতাবে সংকলন করেছেন। আর আমল হিসেবে পূর্ণ দুনিয়ায় তা ‎নিরবচ্ছিন্নতায় ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রত্যেক স্থানে সুন্নাতের উপর আমল প্রচলন হয়ে গেছে। যেমনিভাবে আমাদের এই নাম ‎নবীজী সা. পর্যন্ত মিলিত। এমনিভাবে এই নামে পূর্ণাঙ্গতাও রয়েছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত তারতীবের সাথে চার ‎দলিলে শারইয়্যাহকে মানেন। কিতাবুল্লাহ, সন্নাতে রাসূল, ইজমায়ে উম্মাত, কিয়াস। এই নামের মাঝে চারটি দলিলেরই ‎সমাবেশ আছে। ‎

সুন্নাতে রয়েছে কুরআনের শব্দের আর নবীজী সা. এর আমলী নমুনা। ওয়াল জামাআতের মাঝে ইজমা এবং হানাফী কিয়াস ‎অন্তর্ভূক্ত।

‎ ফিক্বহে হানাফীর চার আসাস(ভিত্তি) ‎

‎ কিতাব, সুন্নাত, ইজমা, কিয়াস

এখন এই বিস্তারিত এবং সনদপূর্ণ মত ও পথের উল্টো কথিত আহলে হাদিসদের পর্যালোচনাও জেনে নিন। প্রফেসর আব্দুল্লাহ ‎ভাগলপুরী নিজের কিতাবে লিখেন-“কতটা আফসোসের ব্যাপার যে, খৃষ্টান, আর মির্যায়ীরা যে কাফের তারাতো তাদের ‎নিসবত তাদের নবীর দিকে করে ঈসায়ী এবং আহমদী বলে। আর তোমরা মুসলমান হয়ে নিজ নবী ছেড়ে নিজের ইমামের ‎দিকে করে হানাফী বলো। কি মির্যায়ী এবং ঈসায়ীরা ভাল না? যারা নিজেদের নিসবত অন্তত তাদের নবীর দিকে করে যারা ‎তাদের নিসবত তাদের ইমামের দিকে করে তাদের তুলনায়?” (আসলী আহলে সুন্নাত-৩) তিনি আরো বলেন-“আসল বাপ ‎রেখে অন্য কারো দিকে নিসবত করা কোন শরীয়তের মাসআলা? যখন নবীজী সা. আমাদের রুহানী পিতা। তো পিতাকে ছেড়ে ‎অন্য কারো দিকে নিসবত করার অর্থ হল যে, হয়তো নবীজী তাদের পিতা নয়!!!! নতুবা তারা ভুলে আছে। রাসূল সা. ‎বলেছেন-“যেই ব্যাক্তি তার পিতা থেকে নিজের নিসবত ভেঙ্গে দেয়া সে কুফরী করল। সাথে সাথে তার জন্য জান্নাত ‎হারাম”।(আসলী আহলে সুন্নাত-৪)‎

সম্মানিত পাঠক/পাঠিকাগণ! আপনারা আহলে হাদিসদের মৌলিকত্ব দেখেন-সমস্ত হানাফী মালেকী, শাফেয়ী, হাম্বলী, ‎মুহাদ্দিসীন, ফুক্বাহা, মুফাসসিরীন, ওয়ালী আল্লাহদের মাঝে যারা নবীকে ছেড়ে দিয়েছেন। তারা ঈসায়ী আর মির্যায়ী থেকেও ‎জঘন্য। তাদের মাঝে কেউই নিজেরে বাপ থেকে নয়। তারা সবাই কাফের! তাদের উপর জান্নাত হারাম!! এরকম আহলে ‎হাদিসের জন্য জীবন উৎস্বর্গ হোক!‎

একটু বুঝে শুনে বলুন-ইসলামের কোন সংস্করণ কিংবা কোন প্রকার সমাজতন্ত্র এবং গণতন্ত্র নয় যে, শাফেয়িয়্যাত, এবং ‎হানাফিয়্যাত ও ইসলামের কোন প্রকার হবে। সোস্যালিজম হোক বা গণতন্ত্র হোক বা হানাফিয়্যাত বা শাফিয়ীয়্যাত কিংবা ‎দেওবন্দীয়্যাত হোক অথবা বেরলবীয়্যাত হোক, এসব কিছুই ইসলামের মাঝে অতিরঞ্জন। যা ইসলামে একেবারেই নেই। ‎‎(আসলী আহলে সুন্নাত-১৩) ‎

প্রিয় পাঠকবৃন্দ! কথিত আহলে হাদিসদের হাদিসের উপর আমলের পরিণাম দেখুন! দুনিয়াতে কোথাও মুসলমান ‎পাওয়া যায়??‎

ইখতিলাফ এবং স্বাতন্ত্রতা

সাহাবায়ে কিরামের মাঝে এ ব্যাপারে ঐক্যমত্ব ছিল যে, হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. সবচে’ উত্তম ছিলেন। এজন্য কাউকে ‎আবু বকরী বলা হয়না। তারপর হযরত ওমর রা. এর ব্যাপারেও কোন মতভেদ ছিলনা। এজন্য কাউকে ওমরী বলা হয়না। ‎হযরত উসমান রা. এবং হযরত আলী রা. এর ব্যাপারে কিছু ইখতিলাফ ছিল।

জমহুর সাহাবীরা হযরত উসমান রা. কে হযরত আলী রা. থেকে উত্তম বলতেন। স্বাতন্ত্রতার জন্য হযরত উসমানকে উত্তম ‎বলাকারীদের উসমানী বলা হয়। আর আলী রা. কে উত্তম বলাকারীদের আলিয়ী বলা হয়।

কিছু তাবেয়ীকে উসমানী এবং আলিয়ী বলার বর্ণনা বুখারী শরীফের ১ নং খন্ডের ৪৩৩ নং পৃষ্টায় আছে। ‎

কুরআনে পাকের ক্বিরাতের মাঝে যখন ইখতিলাফ হয় তখন স্বাতন্ত্রতার জন্য ক্বারী আসেম রহ. এর ক্বিরাত এবং ইমাম হামযাহ ‎রাহ. এর ক্বিরাত রাখা হল। এটাকে কেউতো এই উদ্দেশ্য নেয়নি যে, এটা আল্লাহর কুরআন নয়, বরং ক্বারী আসেমের বানানো! ‎হাদিসের মাঝে মতভেদ হলে বলা হয় এটা আবু দাউদের হাদিস আর এটা বুখারীর হাদিস। এই কথার উপরও কেউ কুফরীর ‎নিসবত করেনাতো! ‎

ঠিক এমনি হাল ফিক্বহী বিষয়ে মতভেদের সময় ‘হানাফী” আর “শাফেয়ী” বলাটা। আমরা ঈসায়ীদের বিপরীতে নিজেকে ‎মুসলমান বলি। আহলে বিদআতি খারেজী মুতাজিলীদের বিপরীতে নিজেদের আহলে সুন্নাত বলি। আর শাফেয়ীদের বিপরীতে ‎নিজেদের হানাফী বলি। ‎

যেমন আমরা ভারতীদের বিপরীতে নিজেদের পাকিস্তানী বলি। (আমরা বলি বাংলাদেশী-অনুবাদক) জাতিভেদের বিপরীতে ‎বলি আমরা পাঞ্জাবী, লাহোরীদের বিপরীতে এসে বলি ওকারওয়ী। ওকারওয়ী পাঞ্জাবী, পাকিস্তানিকে মেনে বলা হয়। ছেড়ে ‎নয়। বেচারা প্রফেসর সাহেবের এই অবস্থা হল যে, “নাকি” শব্দের ব্যবহারও সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানেননা। এই শব্দটি ‎একই প্রকারের ক্ষেত্রে আসে। যেমন আজ শনিবার নাকি রবিবার? আজ নভেম্বর নাকি ডিসেম্বর? সুতরাং প্রশ্ন হবে-“তুমি ‎মুহাম্মদী না ঈসায়ী? তুমি হানাফী না শাফেয়ী?” কিন্তু একথা বলা ভুল এবং হাস্যকর যে, “তুমি পাকিস্তানী না পাঞ্জাবী? আজ ‎নভেম্বর না শনিবার? তুমি হানাফী না মুহাম্মদী?” ‎

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s