তথাকথিত সুন্নিদের পক্ষ থেকে বিশটি বিষয়ের চ্যালেঞ্জের জবাব

তথাকথিত সুন্নিদের পক্ষ থেকে বিশটি বিষয়ের চ্যালেঞ্জের জবাব

সুন্নি পাঠকবৃন্দ, নিচে আপনাদের বিশটি দাবি এক একটি করে উল্লেখ করে কুরআন হাদীস অনুযায়ী আমরা সেগুলোকে আলোচনা করেছি। প্রথমে আপনাদের দাবী উল্লেখ করেছি । তারপর কুরআন হাদীস অনুযায়ী তার বাস্তবতা কি তা উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। এরপর কুরআন হাদীসের প্রমাণ গুলো পেশ করেছি । আপনাদের প্রতি অনুরোধ বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন না । বরং পড়–ন, ভাবুন, প্রয়োজনে আমাদের সাথে আলোচনা জন্য বসুন । ইনশাআল্লাহ্ কোন ক্ষতি হবে না, বরং দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতাই আমরা অর্জন করতে পারব । আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন । [ আমিন]

ওপেন বাহাছের চ্যালেঞ্জ

* ওহাবীদের বিরুদ্ধে দশ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ *

* নি¤েœ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা গুলো পেশ করা হলঃ                                        যাদের মধ্যে এই আকিদা গুলো পাওয়া যাবে তারাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অর্ন্তভুক্ত। অর্থাৎ এরাই হল সুন্নি। আর যারা এই আকিদা গুলোর বিরুধিতা করিবে তারাই হল ওহাবী, এজিদের দল ও শয়তানের দল ও এবং এরাই হল জঙ্গীবাদি । এদের পিছনে নামাজ পড়া যায়েজ নেই।

মন্তব্য                                                                                                                                          নি¤েœ বর্ণিত আপনাদের দাবীগুলো না মানলে আপনাদের মতে তারা ওহাবী ।                             জবাব                                                                                                                                            আপনি কি জানেন ওহাবী কারা ? যদি না জানেন তাহলে ভাল করে জেনে নিন ওহাবীদের পরিচয় ।“ওহাবী” মুহাম্মদ ইবনে আবদিল ওয়াহ্হাব কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি ইসলামি সম্প্রদায়ের নাম । আরবস্থ এ দলটি নিজেদেরকে “সালাফিয়া” পরিচয় দিতে পছন্দ করেন । মুহাম্মদ ইবনে আবদিল ওয়াহ্হাব ১৭০৩ খৃষ্টাব্দে “উয়ায়না”তে তামীম গোত্রের শাখা গোত্র বনূ সিনান বংশে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৯২ খৃষ্টাব্দে ৮৯ বৎসর বয়সে ইন্তেকাল করেন । তিনি বসরা, বাগদাদ ও কুর্দিস্থানে বহু বৎসর বসবাস করেছেন । নাদির শাহের শাসনামলে (১১৪৮/১৭৩৬) ইসফাহানে গমণ করেন এবং এরিস্টোটলিয় দর্শন, ইশরাকিয়া মতবাদ ও সুফিতত্ত্ব চর্চা করেন।সেখান থেকে কুম গমন করেন । এখানে তিনি হাম্ববী মাযহাবের উৎসাহী সমর্থকে পরিণত হন । এখান থেকে তিনি তার জন্মস্থান উয়ায়নায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং তার রচিত “কিতাবুত তাওহীদ” এ লিপিবদ্ধ মতবাদ প্রচার শুরু করেন । এতে তিনি কিঞ্চিত সাফল্য অর্জন করলেও প্রচন্ড বিরোধিতার সম্মুখীন হন। বিরোধিদের মধ্যে তার ভাই সুলাইমান এবং চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ হুসাইন এর নামও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । এক বর্ণনা অনুসারে চাচাতো ভাইয়ের সাথে তার এই বিবাদের সূত্র ধরে শেষ পর্যন্ত ইয়ামামা-ও তামীম গোত্রের মধ্যে খুনাখুনি পর্যন্ত শুরু হয় । অবশেষে উক্ত অঞ্চলের গভর্নরের নিকট তার নির্বাসন দাবী পেশ করা হয় । ফলে তিনি পরিবার পারজন সহ সেখান থেকে বিদায় নিয়ে দারইয়ায় গমন করেন । সেখানকার সর্দার মুহাম্মদ ইবনে সউদ তার চিন্তাধারা গ্রহণ করেন এবং তার সংরক্ষণ ও প্রচারের দায়িত্বও গ্রহণ করেন । এভাবে উক্ত অঞ্চলের শাসন কর্তৃত্ব সউদের হাতে থাকলেও মুহাম্মদ ইবনে আবদিল ওয়াহ্হাব ধর্মীয় ব্যাপারে নেতৃত্বের অবস্থানে চলে আসেন । ১৭৬৫ সালে ইবনে সউদের ইন্তেকালের পর তার পুত্র আব্দুল আযীযও মুহাম্মদ ইবনে আবদিল ওয়াহ্হাবকে ধর্মীয় নেতারূপে বহাল রাখেন । মুহাম্মদ ইবনে আবদিল ওয়াহ্হাব শিক্ষা দানের সাথে অগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের শিক্ষাও দিতে আরম্ভ করেন। এভাবে গড়ে তোলা তার প্রশিক্ষিত অনুসারী দলটি রিয়াদ দখলের জন্য ১৭৪৭ সনে রিয়াদের শায়খ দাহ্হামের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন । আব্দুল আযীয এই যুদ্ধে সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন । সুদীর্ঘকাল যুদ্ধ করার পর ১৭৭৩ সালে আব্দুল আযীয তারপুত্র সউদ পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক পিতার স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত হন । গালেব পাশা মক্কা ত্যাগের (১৮০৩ সাল) পর এই সউদ বিজয়ীর বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন । ১৮০৪ সালে তিনি মদীনা এবং ১৮০৬ সালে জেদ্দা দখল করেন। ১৮১৪ সালে সাউদের ইন্তেকাল হয় । তার পুত্র আব্দুল্লাহ তার স্থলাভিষিক্ত হন । পরবর্তীতে ইব্রাহীম পাশার নেতৃত্বে এই আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরিত হয় । ১৮১৮ খৃষ্টাব্দের ৬ ই এপ্রিল আব্দুল্লা আতœসমর্পন করেন । এভাবে ওয়াহ্হাবী রাজ্যের পতন হয় । পরবর্তীতে সউদের তুর্কী বামীয় এক চাচাতো ভাই বিদ্রোহ পরিচালনা পূর্বক আবার ওয়াহ্হাবী রাজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন। সামান্য কিছু পতনের মধ্য দিয়ে ওয়াহ্হাবী রাজ্য চলতে থাকে । অবশেষে ১৯০৪ খৃষ্টাব্দের মধ্যে আব্দুল আযীয পুনরায় নাজদের আধিপত্য অর্জনে সক্ষম হন এবং তারই বংশ অদ্যাবধি সউদী শাসন করায়ত্ব করছে । এই রাজকীয় ফ্যামিলী কর্তৃক মদদপুষ্ট ও আনুকুল্য প্রাপ্ত হয়ে ওয়াহ্হাবী বনাম সালাফী মতবাদ অগ্রসর হয়ে চলেছে ।

মিসর, ইরাক, আফগানিস্থান, হিন্দুস্থান প্রভৃতি দেশের কিছু উলামায়ে কেরামও তাদের চিন্তাধারায় প্রভাবিত হন। মুহাম্মদ আব্দুল মিসরী, জামাল ইদ্দীন আফগানী, খায়রুদ্দীন তিউনিসী, সিদ্দীক হাছান খান ভূপালী (ভারত), আমীর আলী (কলিকাতা) প্রমুখ তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ।

এই ওয়াহ্হাবী বা সালাফী মতবাদের সূচনাকারী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাব বিদআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেন । তৎকালে ইসলামে যে সব বিদআত অনুপ্রবিষ্ঠ হয়েছিল যেমন ওলি-আল্লাহদের কবরে সৌধ র্মিান করা, কবরকে সেজদার স্থানে পরিণত করা ইত্যাদির বিরুদ্ধে তিনি কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেন । এতটুকু পদক্ষেপকে জমহুরে উম্মত প্রশংসার দৃষ্টিদে দেখেন ।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে তিনি ও তার অনুসারীগণ বেশ কিছু বাড়াবাড়ি করে ফেলেন যা জমহুরে উম্মত মেনে নেননি । যেমনঃ রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামগণের স্মৃতি বিজড়িত স্থান সমূহকেই সমূলে মুছে ফেলা, এসব স্থান থেকে কোনরূপ বরকত লাভ করা এর ধারণাকে সমূলে অস্বীকার করা, পীর মুরীদীর বাড়াবাড়িকে প্রতিহত করতে যেয়ে সমূলে আধ্যাতিœক সাধনার সিলসিলাকেই অস্বীকার করে বসা , তাকলীদকে খারাপ মনে করা এবং চার মাযহাবের বাইরে ইজতিহাদ করাকে আলেমদের কর্তব্য বলে সাব্যস্ত করা ইত্যাদি ।

এখানে উল্লেখ্য যে, বৃটিশরা ভারতের রায়বেরেলী জেলার অধিবাসী হযরত সাইয়্যেদ আহমদ রহ. যে সংস্কার ও আযাদী আন্দোলন পরিচালনা করেন আরব দেশীয় উপরোক্ত ওয়াহ্হাবী আন্দোলনের সাথে তার কোন সম্পর্ক ছিল না । কিন্তু তাঁর এই আযাদী আন্দোলনকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বৃটিশ সরকার এটাকে ওয়াহ্হাবী আন্দোলন নামে অভিহিত করে। পরবর্তীতে এই সূরে সূর মিলিয়ে যে কোন বিদআত ও কুসংস্কার বিরোধী উলামাকে ওয়াহ্হাবী বলে আখ্যায়িত করার একটা অপপ্রয়াস এই উপমহাদেশে পরিলক্ষিত হয়ে আসছে । যদিও বিদআত ও কুসংস্কার বিরোধী এই উলামা হযরত আরব দেশীয় ওয়াহ্হাবীদের সাথে কোনভাবেই জড়িত নন এবং তাদের বাড়াবাড়ি ও জমহুর উম্মত থেকে বিচ্ছিন্ন চিন্তাধারা পোষণের সাথেও আদৌ একমত নন । নাচ-গান ও মদ পন্থী বেশরা লোকেরাও সুন্নী লোকদেরকে ওহাবী বলে গালী দিত বলে প্রমাণ পাওয়া যায় । যখিরায়ে কারামত গ্রন্থের বর্ণনা মতে হিন্দুস্থানের এক শহরে ওহাবী অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর তার সম্পর্কে আর একজন তাড়ী পান করতে দেখেছে বলে সাক্ষী দেয়ার পর তাকে ওহাবী অভিযোগ থেকে নিস্কৃতি দেয়ার কথা এবং অন্য একজনের ব্যাপারে তাকে নাচ দেখতে দেখা গেছে সাক্ষী দেয়ার পর তাকে ওহাবী অভিযোগ থেকে নিস্কৃতি দেয়ার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে ।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ , এতক্ষনে নিশ্চই আমরা বুঝতে পেরেছি ওহাবী আসলে কারা । আর আমরা কাদেরকে ওহাবী আখ্যায়িত করে কাফের ফতোয়া দিচ্ছি । যদি ব্যাপারটি আমাদের বুঝে আসে তাহলে এবার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে । আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন ।

মন্তব্য                                                                                                                                              আপনাদের দাবী, যারা আপনাদের বিশটি সিদ্ধান্তের সাথে একমত হবে না তারা ইয়াজীদের দল ।জবাব                                                                                                                                           আপনাদের বিশটি সিদ্ধান্তের সাথে কি সর্বপ্রথম ইয়াজিদ বিরোধীতা করেছিল ? যদি না করে থাকে এবং এসকল ব্যাপারে ইয়াজিদের পক্ষ থেকে কোন ধরণের বিরোধী আলোচনা পাওয়া না যায় তাহলে বর্তমানে যারা এর সাথে একমত হবে না তারা ইয়াজিদের দলভুক্ত হল কোন হিসেবে ? আপনাদের প্রথম দাবী হল হযরত হুসাইন রা. কে হত্যাকারী ইয়াজিদ কাফের । এ ব্যাপরে আলোচনা যথাস্থানে ইনশাআল্লাহ আসবে । বর্তমানে পৃথিবীর কোন মুসলমান ইয়াজিদ কর্তৃক হযরত হুসাই রা. কে হত্যা করার ব্যাপারটি সমর্থন করে না কেয়ামত পর্যন্ত কোন মুসলমান করতে পারেও না । অতএব কোন দিকের বিবেচনা করে আপনাদের সাথে একমত না হওয়া লোকদেরকে ইয়াজিদের দল বললেন জানতে পারলে ভাল হত ।

মন্তব্য                                                                                                                                             আপনাদের দাবী, যারা আপনাদের বিশটি সিদ্ধান্তের সাথে একমত হবে না তারা শয়তানের দল ।

জবাব                                                                                                                                          শয়তান সব সময় চেষ্টা করে দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে জাহান্নামী বানানোর জন্য । আর আমরা তো চাই নিজেরাও জাহান্নাম থেকে বাচতে এবং দুনিয়ার সমস্ত মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাচাতে । আমরা নামাজ পড়ি শয়তান নামাজ পড়েনা বরং বাধা দেয় । আমরা রোযা রাখি শয়তান রোযা রাখে না বরং রাখতে নিষেধ করে । আমরা যাকাত দেই শয়তান দারিদ্রতার ভয় দেখিয়ে যাকাত দিতে বারণ করে । আমরা হজ্জ করি শয়তান বিভিন্নভাবে মানুষদেরকে এ থেকে বারণ করে । আমরা মসজিদ মাদ্রাসাসহ দ্বীনের প্রতিটি ক্ষেত্রে খেদমত করছি এবং আরো বেশী করে খেদমত করার চেষ্টা করছি । অথচ এসকল ব্যাপারে শয়তান মানুষদেরকে দূরে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করে থাকে। আমরা চাই মুসলমানদের ঐক্য আর শয়তান চায় মুসলিম ঐক্য ভেঙ্গে দিতে । কোন দিক থেকেই তো শয়তানের সাথে আমাদের কোন ধরণের মিল খুজে পাচ্ছি না । আপনাদের দাবীগুলোর কুরআন হাদীস অনুযায়ী সঠিক জবাব যদি আমরা দিতে পারি তারপরও কেন আমরা শয়তানের দলভুক্ত হব জানালে কৃতজ্ঞ হব ।

মন্তব্য                                                                                                                                     আপনাদের দাবী, যারা আমাদের এই বিশটি দাবীর সাথে একমত নয় তারাই জঙ্গিবাদী ।

জবাব                                                                                                                                               কোন মুসলমান জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করতে পারে না এবং জঙ্গিবাদকে সমর্থন করা এমনকি তাদেরকে কোনভাবে সাহায্য সহযোগিতা করাসহ জঙ্গিবাদীদের সাখে কোন মুসলমানের কোনরূপ সমস্পর্ক থাকতে পারে না । এ কথার উপর পৃথিবীর সমস্ত হক্কানী আলেমগণ একমত । কারণ জঙ্গিবাদ পৃথিবীর মানুষের জন্য হুমকি স্বরূপ। স্বাধীন সুন্দর ও শান্তিপ্রিয় পরিবেশকে নষ্ট করার এক বিরাট মাধ্যম। এই জঙ্গিবাদ সৃষ্টির মাধ্যমে সারা দুনিয়ায় আজ এক অস্থিরতার অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে । পরিবেশ নষ্টকারী এই জঙ্গিবাদ নির্মূলের জন্য কুরআন ও হাদীসের শিক্ষা গ্রহণ করা বাধ্যতা মূলক করা দরকার ।

প্রিয় সুন্নি বন্ধুগণ, আপনাদের এই বিশটি দাবী না মানার সাথে জঙ্গিবাদের কি সম্পর্ক ? মেহেরবানী করে আমাদেরকে বলবেন কি? আপনাদের এই দাবীটি চিন্তা-ভাবনা করে বলেছেন নাকি মুখে যা এসেছে তাই বলে দিয়েছেন ? একটু খেয়াল করুন, আমরাই আজকে আমাদের মুসলিম ভাইদেরকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছি । যেখানে মুসলমানদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসা উচিত ছিল সেখানে আমরা বরং তাদেরকে অপবাদ দিয়ে অমুসলিদের দ্বারা তাদেরকে শায়েস্তা করার চেষ্টা করছি । আপনারা কি একটু ভেবে দেখেছেন যে, আপনাদের এই দাবী মুসলিম সমাজ ধংশের জন্য কতটা ক্ষতিকর ? আমাদের থেকে এসকল সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুরা সুযোগে সদ্বব্যবহার করার জন্য ঝাপিয়ে পড়তে পারে ? আমাদের ছোট ছোট এই ভুলগুলো মুসলিম মিল্লাতের জন্য কতটা ক্ষতিকর নিরবে একটু চিন্তা করে দেখুন । আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন ।

সম্মানিত সুন্নি বন্ধুগণ, আপনাদের সদয় অবগতির জন্য বলছি, আপনারা বিশটি দাবী উল্লেখ করত দশ লক্ষ টাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন । বিষয়টি কেমন হল? ইসলামের কোন বিষয় নিয়ে এভাবে বাজি ধরা বা চ্যালেঞ্জ করাটা কি ঠিক হল ? ইসলামি এসকল বিষয় গুলোকে কি তাহলে পণ্যের সাথে তুলনা করা হল না? যেমন বিভিন্ন কোম্পানী তাদের পণ্যের প্যাকেটের গায়ে লিখে থাকে ভেজাল ধরে দিতে পারলে এক লক্ষ বা দুই লক্ষ টাকা পুরস্কার । ব্যাপারটি কি তাহলে এমন হল না ? ইসলামি কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে এভাবে চ্যালেঞ্জ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত তা আপনাদের বিবেকের ওপরই ছেড়ে দিলাম। খেয়াল রাখতে হবে যে, ইসলামি কোন বিষয়ে বাজি ধরা যায়েজ নেই ।

আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ শব্দটি উল্লেখ না করে যদি এমনভাবে বলা হত যে, নি¤œ বর্ণিত আমাদের বিশটি সিদ্ধান্তকে কুরআন হাদীসের মাধ্যমে যারা ভুল প্রমাণিত করতে পারবে এবং দলীল প্রমাণের ভিত্তিতে তা বুঝিয়ে দিতে পারবে আমরা তাঁর প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকব এবং সেই সত্য গ্রহণে অবশ্যই আমরা এগিয়ে আসব ইনশাআল্লাহ ্। তাহলে ভাল হত ।

প্রিয় সুন্নি বন্ধুগণ, আপনারাও মুসলমান আমরাও মুসলমান । আপনারা যে আল্লার এবাদত করেন আমরাও সেই একই আল্লার ইবাদত করি । আপনারা যে রাসূলের উম্মত আমরাও সেই রাসূলেরই উম্মত। আপনারা যে কিতাবের অনুসরণ করেন আমরাও সেই কিতাবেরই অনুসরণ করি । আপনাদের যে কেবলা আমাদেরও সেই একই কেবলা । আপনারাও পরকাল বিশ্বাস করেন আমরাও পরকাল বিশ্বাস করি । আপনারা যেভাবে পরকালে নাজাত পেতে চান আমরাও ঠিক আপনাদের মতই পরকালে নাজাত পেতে চাই । ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি আপনারাও বিশ্বাস করেন আমরাও বিশ্বাস করি ।

প্রিয় বন্ধুগণ, লক্ষ্য করুন, আমাদের পরস্পরের মধ্যে যে বিষয়গুলো নিয়ে আজ দ্বন্দ সেগুলো ইসলামের মৌলিক পাঁচটি বিষয়ের কোন একটি নয় । তাহলে ইসলামের মৌলিক বিষয়ে আমরা সবাই একমত । বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে শুধু শাখা প্রশাখার মধ্যে। যেসব বিষয় গুলো নিয়ে আমাদের পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ, আমরা ইচ্ছা করলে উভয় পক্ষ এক সাথে বসে কুরআন হাদীসের আলোচনার মাধ্যমে সেই দ্বন্দগুলো দূর করে নিতে পারি । কুরআন হাদীসের আলোকেই আপনারা আপনাদের সিদ্ধান্ত গুলোকে সঠিক মনে করছেন । আর আমরাও কুরআন হাদীসের আলোকেই আমাদের সিদ্দান্ত গুলোকে সঠিক মনে করছি । আপনারাও চান ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝে আমল করে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করত পরকালীন মুক্তি ও জান্নাত লাভ করতে। আর আমাদের চাওয়াও ঠিক আপনাদের মতই । সুতরাং দুই পক্ষের কারোর জন্য এটা উচিত নয় যে, এই মনভাব নিয়ে বসে থাকা যে, আমাদের সিদ্ধান্ত যা আছে এর উপরই আমরা অটুট থাকব যদিও তা ভুল হয় । কারণ, এমন মনভাব যার থাকবে বুঝা যাবে সত্য অনুধাবন করা ও সত্য গহণের প্রতি তার আগ্রহ নেই । তাহলে তো নাজাত পাওয়া যাবে না । নাজাত পেতে হলে হক কে হক হিসেবে জানতে হবে এবং আমল করতে হবে । আর বাতিল কে বাতিল হিসেবে জানতে হবে এবং আমল করতে হবে । আসুন আমরা এক সাথে বসে আলোচনা করি , তাহলে আমাদের বুঝার মধ্যে ভুল হয়ে থাকলে আপনারা প্রমাণ করে দেবেন আমরা অবশ্যই তা গ্রহণ করে নেব । আর আপনাদের কোন সিদ্ধান্তে ভুল থাকলে আমরা তার প্রমাণ করে দিতে পারলে আপনারাও মেনে নেবেন । বাস্তবেই যদি আমরা আল্লাহ কে ভালবাসি , আল্লার দ্বীন কে ভালবাসি, আল্লাহর প্রিয় রাসূল মোহাম্মদ সা. কে ভালবাসি । এবং আমরা মুহাম্মদ সা. এর সঠিক অনুসারি হতে চাই । তাহলে আর পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, পরস্পরকে কাফের ও বিদআতী বলে গালি-গালাজ করা, সুন্নি ও ওহাবী নামে তাচ্ছিল্লের সাথে বিপক্ষকে গায়েল করাসহ সব কিছু ভুলে গিয়ে রাসূল সা. যে দ্বীন রেখে গেছেন এবং হযরত সাহাবায়ে কেরাম যে দ্বীনের অনুকরণ করেছেন ও দ্বীনের জন্য জান কোরবান করে দিয়েছেন , আমরাও সেই দ্বীনকে সঠিক ভাবে অনুধাবন করে মুহাজির ও আনসারদের মত ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্যের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ইসলামের খেদমতে লেগে যাই ।

ইসলাম ও মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানো, মুসলমানদের মাঝে ইসলামের বিভিন্ন ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করা, কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা করে মুসলমানদেরকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া, মুসলমানদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে মুসলিম ঐক্য নষ্ট করাসহ বিভিন্ন প্রকার কলা কৌশলে ইসলাম ও মুসলমানদেরকে পৃথিবীর বুক থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য সারা দুনিয়ার সমস্ত কাফের বেদ্বীনরা উঠে পরে লেগেছে । বিভিন্ন কৌশলে সারা দুনিয়ার সমস্ত মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে মুসলমানদেরকে পারস্পারিক দ্বন্দে ঠেলে দিয়ে সারা দুনিয়ায় আজ তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে নিচ্ছে। অনেক কথা আছে যেগুলো হাদীস নয়, কিন্তু শয়তানের দোষররা হাদীস হিসেবে সেগুলো আজ মুসলিম সমাজে চালিয়ে দিয়ে মুসলমানদের পারস্পারিক ঐক্য ভেঙ্গে দিয়েছে । অনেক সুকৌশলী এবং বিচক্ষণ লোকদেরকে ইয়াহুদী, খৃষ্টানরা টাকার বিনিময়ে কিনে তাদের প্রস্তুত করে দেয়া মতাদর্শ অনুযায়ী ইসলামকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে । তাদের উদ্দেশ্য হল পৃথিবী থেকে ইসলামের নাম কে চিরতরে মুছে দেয়া । কিন্তু দুঃখ জনক হল, আমরা আজকে কোন ধরনের তাহকীক না করে ইয়াহুদী, খৃষ্টান কর্তৃক হাদীস হিসেবে চালিয়ে দেয়া অনেক বিষয়কে আমরা রাসূল সা. এর হাদীস হিসেবে গ্রহণ করে তার উপর আমল করে চলছি । অথচ আমরা বুঝতেই পারছি না যে, আমাদের ঈমান ও আমলের কতটা ক্ষতি আমরা করে চলছি । আমরা অনেকেই কোন একটি বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্তে অটল থেকে বিপক্ষকে প্রতিহত করার জন্য মারামারি কাটাকাটি ও রক্তপাত ঘটানোসহ অনেক অন্যায়ে জড়িয়ে পড়ছি । বিভিন্ন দলীল প্রমাণের ভিত্তিতে বিপক্ষ কে কাফের ফতোয়া দিচ্ছি। ওহাবী, সুন্নি, শয়তানের দল, ইয়াজিদের দল ইত্যাদি বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করছি ।

বিষয়টি একটু খেয়াল করুন, রাসূল সা. পৃথিবীতে আগমন করেছেন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য । পথ ভুলা মানুষদেরকে পথের সন্ধান দেয়ার জন্য । রাসূল সা. সারা জীবন মেহনত করেছেন কাফের মুশরিকদেরকে ঈমানদার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য । অথচ আমরা আজকে আমাদের বিপক্ষ মুসলমানদেরকে কাফের বানানোর বিভিন্ন পথ ও মত খুঁজে বেড়াচ্ছি। আমাদের মতের সাথে যাদের মিল নেই কথায় কথায় তাদেরকে কাফের বলছি । যেন আমাদের মেহনত ও আমাদের সব শ্রম হল কাফের জনসংখ্যাকে বৃদ্ধি করা । আমরা যাদের কাফের বলছি বাস্তবে যদি তারা কাফের না হন , তাহলে একথাটি তো আমাদের দিকেই ফিরে আসবে । মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এসছে রাসূল সা. বলেছেন, কোন মুসলমান যদি অন্য মুসলমানকে কাফের বলে আর সে যদি কাফের না হয় তাহলে কথাটা নিজের দিকেই ফিরে আসবে । অর্থাৎ যিনি বললেন তিনিই কাফের হয়ে যাবেন । হযরত ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেন, যারা আমাদের কেবলাকে বিশ্বাস করে আমি তাদেরকে কাফের বলতে ভয় হয়। কিন্তু আমরা আজকে নিজেদের সার্থের জন্য অন্যকে কাফের, বেঈমান, শয়তানের দল, ইয়াজিদের দল ইত্যাদি বলতে কোন ধরনের ভয় হয় না । যদি কারো আক্বিদা বিশ্বাসে ও আমলের মধ্যে গলত থাকে দূর থেকে বিদআতী, কাফের, ওহাবী , সুন্নি ইত্যাদি উস্কানি মূলক কোন কথা বলার দ্বারা তো কোন ধরনের উপকার হচ্ছে না বরং মুসলমানদের ঐক্য দিন দিন আরো নষ্ট হচ্ছে এবং ঝগড়া-ফাসাদ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে । এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হচ্ছে,তাদেরকে বুঝানো , তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া এবং সংশোধনের জন্য সহযোগিতা করা । এটা আমাদের সকলের উপর জিম্মাদারী ছিল । কিন্তু আমরা আমাদের জিম্মাদারী পালন না করে যে পথ আমরা বেছে নিয়েছি , এ পথে আমাদের শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না । মুসলিম ঐক্য কোন দিন গড়ে উঠবে না । আসুন বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং সারা দুনিয়ায় আল্লার দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার জন্যে আমরা এক হয়ে আমাদের মধ্যকার সকল সমস্যার সমাধান করে সারা বিশ্বে মুসলিম ঐক্য ও ভ্রাতৃত্য প্রতিষ্ঠার জন্য তৈরী হয়ে যাই । আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন । [ আমিন ]

মন্তব্য

অনেকে আবার নিরপেক্ষ থেকে এই শ্লোগান শুরু করেছে যে, ইসলাম নিয়ে এত মতভেদ , ইসলাম পন্থীরা এত দলে বিভক্ত এবং আলেমদের মাঝে ও ঐক্য নেই একেক জন একেক ধরণের কথা বলে এখন আমরা কোথায় যাব ? আমরা কোন মতটি প্রাধান্য দেব? কোন আলেমের অনুস্বরণ করব ? ব্যাপারটি একবারেই ঘোলাটে হয়ে গেছে । ইসলামি কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা একেবারে অসম্ভব হয়ে গিয়েছে ।

জবাব

মন্তব্যটি মোটেও ঠিক নয় । কারণ, যদিও নাকি অনেক জাল হাদীস মুসলিম সমাজে প্রচলন রয়েছে । তবে এই জাল হাদীসের ভান্ডার থেকে রাসূল সা. এর আসল ও বিশুদ্ধ হাদীসগুলো যাচাই বাছাই করে বের করা সম্ভব । আর কুরআনে কারীমের কোন কোন আয়াতের যে বিভিন্ন ভাবে অপব্যাখ্যা করা হয়েছে সেগুলোও যাচাই-বাছাই করে তার আসল এবং বাস্তবতাকেও বের করা সম্ভব । প্রতিটি মুমিনের জন্য উচিত ইসলামি যে কোন বিষয়কে যাচাই করে গ্রহণ করা । নিজের ইমান ও আমলের ব্যাপারে সর্বোচ্চ্য সর্তক থাকা ।

প্রিয় পাঠক বন্ধুগণ, লক্ষ করুন , আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দুটি জগত দিয়েছেন । ইহকাল ও পরকাল । আমাদের উচিত উভয় জগতের কামিয়াবী এবং সফলতা অর্জন করা । দুনিয়ার জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে মানুষের হাজার রকম সমস্যা রয়েছে । প্রতিটি সেকেন্ড মৃত্যুর সম্ভব্য সময় । তারপরও আমরা মৃত্যুকে মাথায় বহন করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যাচ্ছি। বিষয়টি খেয়াল করুন, আপনি বাসা থেকে বর হয়ে অফিসে যাচ্ছেন । আপনি কি বলতে পারেন যে , আপনি নিশ্চিতভাবে অফিসে পৌঁছতে পারবেন এবং অফিস সেরে আবার বাসায় পৌঁছতে পারবেন । না এই নিশ্চয়তা আপনি দিতে পারবেন না । কারণ, যে কোন সময় জীবনের অন্তিম মূহুর্ত সামনে হাজির হতে পারে । চলার পথে একসিডেন্ট হতে পারে। সন্ত্রাসীদের হামলায় আপনার জীবন খেলা সাঙ্গ হতে পারে । পথ চলছেন, যে কোন সময় কোন ভারি বস্তু আপনার মাথায় পরে আপনার জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে । এসব কিছু বুঝে, দেখে, অনুভব করে এমনকি বহু দূর্ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী হয়েও কিন্তু আমাদের জীবন যাত্রা থেমে থাকেনি । সাধ্য অনুযায়ী অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজেদেরকে রক্ষা করে আমাদের জীবন যাত্রা অব্যাহত রেখেছি । সন্ত্রাসীদের ভয়ে রাস্তায় চলা বন্ধ করিনি । একসিডেন্টের ভয়ে যানবাহন থেকে দূরে থাকিনি । অর্থাৎ আমাদের জীবনের প্রতিটি পদে পদে বিপদের সম্ভবনা থাকা সত্যেও আমরা আমাদের জীবন যাত্রাকে থামিয়ে রাখিনি বরং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি সম্ভবনাময় বিপদের জায়গা গুলোকে অতিক্রম করে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছি । বর্তমানে খাদ্যসামগ্রীসহ সবকিছুতে ভেজাল ডুকে গেছে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করি জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই সর্বোচ্চ্য যাচায়ের মাধ্যমে তা গ্রহণ করতে ।

প্রিয় পাঠক বৃন্দ , আমরা বিশ্বাস করি ইহকাল ও পরকাল এ দুটি জগতের মধ্যে পরকালের তুলনায় ইহকাল খুবই সামান্য মাত্র । এই সামান্য কয়েকদিনের জীবনকে সুন্দর করার জন্য এবং সুস্থতার সাথে সুন্দরভাবে বেচে থাকার জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলার চেষ্টা করি । সামান্য ত্রুটির কারণে জীবনের আরাম-আয়েশ ও ভোগ-বিলাসিতার ক্ষেত্রে যেন কোন ধরনের সমস্যা না হয় এবং সুস্থ সাভাবিক জীবন যাপনের জন্য ঝুকির সম্মুক্ষিণ হতে না হয় সে জন্য আমরা সর্বদা সচেষ্ট ও সজাগ থাকি । অথচ এত সতর্কতার সাথে জীবন যাপন করেও চিরদিনের জন্য এই পৃথিবীতে থাকার কোন সুযোগ আমাদের নেই । বরং নির্দিষ্ট অল্প কয়েকটি দিন শেষ হলেই ফিরে যেতে হবে পরপারের অনন্তকালের জীবনে । যার শুরু আছে কিন্তু শেষ কোন দিন আসবে না । তাহলে সেই অনন্তকালের জীবনে চির সুখি ও সুন্দর জিবন পেতে হলে ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক হওয়া উচিত এবং ঈমান ও আমলের বিষয়গুলো কতটা যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করা উচিত তা সকলের বিবেচনার উপর রেখে দিলাম। দুনিয়াতে নিজের জীবন রক্ষার জন্য যতটুকু সতর্কতা আমরা অবলম্বন করি তার সামান্য একটুও যদি দ্বীনের জন্য করি এবং দ্বীনি বিষয়গুলোকে যাচায়ের মাধ্যমে গ্রহণ করি তাহলে আমরা সঠিক পথ ও মতটি ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাব । তাহলে দুনিয়াতে কামিয়াবী হওয়ার পাশাপাশি আখেরাতের কামিয়াবী ও সফলতা অর্জন করতে পারব । আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে মানুষের জীবন উপকরণকে বন্টন করে দিয়েছেন । কুরআনে কারীমের বিভিন্ন আয়াতে তার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে । চেষ্টার মাধ্যমে তা বৃদ্ধি করা সম্ভব নয় । তারপরও আমরা সবময়ই চেষ্টা করছি জীবন উন্নতির আরেকটু অগ্রগতির জন্য । আর কুরআন ও হাদীসে বলা হয়েছে , চেষ্টার মাধ্যমে ঈমান ও আমল বৃদ্ধি পাবে অর্থাৎ পরকালীন সুখ সমৃদ্ধি আরো বেশী করে অর্জন করতে পারবে । তা সত্যেও আমরা মেহ্নত করছি দুনিয়ার জন্যই। পরকালের জন্য নয় । হে আল্লাহ তুমি আমাদের সকলকে সঠিকভাবে বুঝার তাওফিক দান কর । [আমিন ]

  ১নং দাবী

ইমাম হুসাইন আ. কে যারা হত্যা করেছেন ও হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন তারা কাফের অর্থাৎ ইয়াজিদ ও ইয়াজিদের অনুসারিরা কাফের । বর্তমানে যারা ইয়াজিদের পক্ষে কথা বলবে তারাও কাফের ।

 জবাব

হযরত হুসাইন রা. কে যারা হত্যা করেছেন এবং হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন তারা একজন মুমিনকে হত্যা করার কারণে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়ে ফাসেক হয়েছেন কাফের নন। তবে যদি তারা হযরত হুসাইন রা. কে হত্যা করা বৈধ মনে করে থাকেন তাহলে ইসলামের অন্যতম একটি হারাম বিধানকে হালাল মনে করার কারণে অবশ্যই কাফের হবেন । বর্তমানেও যারা ইয়াজিদের পক্ষ হয়ে হযরত হুসাইন রা. কে হত্যা করার ব্যাপারটি হালাল মনে করবে তারাও কাফের হবে । অন্যথায় কাফের হবে না । হযরত হুসাইন রা. কে হত্যা করার ক্ষেত্রে ইয়াজিদেরর চিন্তা-ধারা কি ছিল তা স্পষ্ট নয় । কারণ অন্তরের খবর একমাত্র আল্লাই ভাল জানেন। তিনি কি হুসাইন রা. কে হত্যা করা বৈধ মনে করে করেছেন না কি ক্ষমতার মসনদকে ধরে রাখার জন্য করেছেন তা আল্লাই ভাল জানেন । তবে যে সকল বিসয়ের কারণে মানুষকে কাফের বলা যায় তার কোন একটি ইয়াজিদ ও তার সমর্থকদের থেকে স্পষ্টাভাবে প্রমাণিত নয় । অতএব ইয়াজিদ ও তার সমর্থকদেরকে কাফের বলা যাবে না । তবে প্রকাশ্যে একজন সাহাবী, রাসূল সা. নাতী , হযরত ফাতেমা ও আলী রা. এর কলিজার টুকরা, জান্নাতের যুবকদের সর্দার হযরত হুসাইন রা. কে অন্যায়ভাবে নির্মম হত্যার কারণে ইয়াজিদ ও তার সমর্থকরা ফাসেক হবে।

আমাদে দলীল

কুরআনে কারীমের নিন্মের আয়াতগুলোতে মুসলমানদের পরিচিতি বর্ণনা করা হয়েছে । এখানে যে সকল গুণের কথা বলা হয়েছে যার মধ্যে এ গুণগুলো থাকবে, তারা মুসলমান হিসেবে গণ্য হবে ।

١.انما الامؤمنون الذين اذاذڪر الله وجلت قلوبهم واذا تليت عليهم ايته زادتهم ايمانا وعلی ربهم يتوڪلون الذين يقيمون الصلوة ومما رزقنهم ينفقون اولءڪ هم المؤمنون حقا – انفال

নিশ্চয়ই মুমিন ঐ সকল লোকেরা আল্লাহ পাকের আলোচনা হলে যাদের অন্তর কেঁেপ উঠে । এবং তাদের নিকট আল্লাহ পাকের (কুরআনের) আয়াত তেলাওয়াত হলে তাদের ঈমান বাড়ে। যারা আল্লার উপরই ভরসা করে, নামাজ আদায় করে , যাকাত প্রদান করে , তারাই হল সত্যিকার মুমিন । [ সূরা আনফাল ]

.  ٢.فان لم يستجيبوا لڪم فاعلموا انما انزل بعلم الله وان لا اله الا هو فهل انتم مسلمون

যতি তারা তোমাদের কথায় সারা না দেয়, তাহলে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ পাকের ইলম এসেছে এবং তিনি ব্যতিত কোন মা’বুদ নেই । তোমরা কি মুসলমান হয়েছে ?

. ٣.واذ اوحيت الى الحواريين ان امنوابى ربرسولى قالوا امنا واشهد باننا مسلون

আর যখন আমি হাওয়ারিয়্যিনদের নিকট নির্দেশ পাঠালাম যে, তোমরা ঈমান আন আমার প্রতি এবং আমার রাসূলের প্রতি । তারা বলল, আমরা ঈমান এনেছি, তুমি স্বাক্ষী থেক যে, আমরা মুসলমান ।

. ٤.قل انما يوحی الی انما الهڪم اله واحد فهل انتم مسلمون

বলুন, নিশ্চয়ই তোমাদের মা’বুদ কেবলই একজন তোমরা কি বিশ্বাস কর না ? (অর্থাৎ আল্লাহকে একজন মা’বুদ হিসেবে বিশ্বাস করলে তোমরা মুসলমান হবে । (আম্বিয়া)

. ٥.فان تابوا و اقاموا الصلوة و اتوا الزڪوة فاخوانڪم فی الدين

যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে তাহলে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই । (তাওবাহ)

. ٦.فامنوا بالله ورسوله النبی الامی الذی يؤمن بالله وڪلمته واتبعوه لعلڪم تهتدون

সুতরাং তোমরা ঈমান আন আল্লাহর প্রতি এবং উম্মি নবীর প্রতি , যিনি ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি এবং আল্লাহর কালিমার প্রতি এবং তার অনুকরন করবে । তাহলে তোমরা হেদায়েত পেয়ে যাবে ।          ( আ’রাফ)

এ আয়াতে কারীমা গুলোতে মুমিনদের পরিচয় বর্ণণা করা হয়েছে । এখানে কয়েকটি গুণের কথা বলা হয়েছে । যাদের মধ্যে এসকল গুণগুলো থাকবে তারা মুমিন । যদিও মুমিন হওয়ার জন্য শুধু এই গুণগুলোই যথেষ্ট নয় । কুরআনে কারীমের অন্যান্য আয়াতে এবং রাসূলে কারীম সা. এর থেকে আরো কিছু মুমিনদের গুণাবলি এবং বৈশিষ্টের বর্ণনা এসেছে যে সকল গুণাবলি থাকা মুমিন হওয়ার জন্য   শর্ত । যেমন মেশকাত শরীফের এক প্রসিদ্ধ হাদীস, যাকে হাদীসে জিব্রাঈল বলা হয় তাতে এসেছে ,

হযরত ওমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন আমরা রাসূলে কারীম সা. এর নিকট বসা ছিলাম এমন সময় সাদা কাপড় পরিহিত, কাল চুল বিশিষ্ট একজন লোক উপস্থিত হল । যার শরীরে সফরের কোন ‎ নিদর্শন ছিল না । আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে চিনেও না । লোকটি রাসূলে সা. এর নিকটে গিয়ে বসল । রাসূলে হাটুর সাথে তার হাটু মিলিয়ে দিল এবং তার হস্তদ্বয় রাসূলে কারীম সা. এর রানের উপর রেখে বলল, হে মোহাম্মদ ইসলাম সম্পর্কে আমাকে বলুন , রাসূল সা. বললেন, একথার স্বাক্ষী দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই এবং মোহাম্মদ সা. আল্লাহ তাআলার রাসূল । নামাজ কায়েম করা , যাকাত প্রদান করা , রমযানের রোযা রাখা এবং সামর্থবান হলে হজ্জ পালন করা । লোকটি বলল, আপনি সত্য বলেছেন । হযরত ওমর রা. বললেন , আমরা আশ্চার্য হলাম যে, লোকটি প্রশ্ন করছে আবার সত্যায়নও করছে । তারপর লোকটি বলল, আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন, রাসূল সা. বললেন, ‘ঈমান’ হল আল্লাহ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, আল্লাহ তাআলার কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, এবং তাকদিরের ভাল মন্দ সম্পর্কে বিশ্বাস স্থাপন করা । লোকটি আবার বলল আপনি সত্য বলেছেন । এভাবে লম্বা হাদীস বর্ণনা করেছেন । অবশেষে লোকটি চলে যাওয়ার পর রাসূল সা. বললেন, ইনি জিব্রাঈল আ. এসেছিলেন তোমাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্য । [ মেশকাত শরীফ # কিতাবুল ইমান # ১ম হাদীস]

খেযাল করুন এখানে ঈমান ও ইসলামের বর্ণনায় রাসূল সা. যেসকল গুণাবলির কথা বলেছেন এসব গুণাবলি যার মধ্যে থাকবে সেই মুমিন ও মুসলিম । সুতরাং আপনাদের দাবী, কোন মুসলমানকে হত্যা করলে কাফের হয়ে যাবে এটি মোটেও ঠিক নয় ।

কোন মুসলমান যতক্ষন পর্যন্ত দ্বীনের জরুরী বিষয়গুলোর কোন একটিকে অস্বীকার না করবে ততক্ষন পর্যন্ত তাকে কাফের বলা যাজেয নেই । [ আহসানুল ফাতাওয়া # খন্ড ১ পৃষ্ঠাঃ ৭১ # নিবরাস পৃষ্ঠাঃ ৫৭২ # রদ্দুল মুহতার # খন্ড ১ পৃষ্ঠাঃ ৩১৮]

কোন মুসলমানকে হত্যা করা কবিরা গুনাহ বটে কিন্তু দ্বীনের কোন জরুরী বিষয়কে অস্বীকার করা নয় ।

عن انس بن ملڪ رضی الله قال قال رسول الله صلی الله عليه وسلم ثلاثة من اصل الايمان الڪف عمن قال لا اله الا الله ولا تکفره بذنب ولا تخرجه من الاسلام ‌

হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সা. বলেছেন, যে বলে লাইলাহা ইল্লাল্লাহ তাকে হত্যা না করা , গুনাহের কারণে কাউকে কাফের না বলা, হাদীসে র উপর আমল কারর কারণে তাকে ইসলাম থেকে খারেজ মনে না করা । [ আবূ দাউদ # খন্ড ১ পৃষ্ঠাঃ ২৫২ ]

এ কথার উপর সকলে একমত যে, কোন কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণে কাফের হবে না ।                [ আহসানুল ফাতাওয়া # খন্ড ১ পৃষ্ঠাঃ ৭২]

দ্বীনের সকল জরুরী বিষয়গুলোকে স্বীকার করার নাম ইসলাম । আর দ্বীনের কোন একটি বিষয়কে অস্বীকার করা কুফরী । [ আহসানুল ফাতাওয়া # খন্ড ১ পৃষ্ঠাঃ ৭২ ]

যখন কোন লোক ইসলামের অবস্থায় শরীয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়াই কোন মুসলমানকে হত্যা করে তার শাস্তি জাহান্নাম এবং তার তাওবা গ্রহনীয় হবে না । হযরত মুজাহিদ রহ. যখন হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর বর্ণনাটি শ্রবণ করলেন তখন তিনি বললেন, ‘কিন্তু যে অনুতপ্ত হয়’ । [ তাফসীরে ইবনে কাসীর # খন্ড ৬ পৃষ্ঠা ১১]

একটি বিষয় বিশেষভাবে প্রনিধানযোগ্য ও স্বরণযোগ্য যে, যে ব্যক্তি নিজেকে মুসলমান বলে, কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী তাকে কাফের বলা বা মনে করা বৈধ নয় । এর সুস্পষ্ট অর্থ এই যে, কুফরের নিশ্চিত লক্ষণ, এরূপ কোন কথা বা কাজ যতক্ষণ তার দ্বারা সংঘটিত না হবে, ততক্ষণ তার ইসলামের স্বীকারোক্তিকে বিশুদ্ধ মনে করা হবে এবং তাকে মুসলমানই বলা হবে । তার সাথে মুসলমানের মতই ব্যবহার করা হবে এবং তার আন্তরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা কারার অধিকার কারও থাকবে না । [ তাফসীরে মাআরেফুল ক্বোরআন পৃষ্ঠাঃ ২৭৬, তাফসীরে ইবনে কাসীর থেকে]

যে সব কারণে মানুষ কাফের হয়ে যায়

১. যে ব্যক্তি জেনে-বুঝে কুরআনে বর্ণিত সুস্পষ্ট কোন বিধান বা খবরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে অথবা কুরআন দ্বারা স্বীকৃত বিষয়কে অস্বীকার বা কুরআনের মাঝে অস্বীকৃত বিষয়েকে স্বীকার করে কিংবা এ বিষয়ে সংশয় সন্দেহ পোষণ করে, নিঃসন্দেহে সে কাফের হয়ে যায় ।

ڪتاب الاعلام بقواطع الاسلام নামক গ্রন্থে এ কথাগুলো এভাবে বলা হয়েছে ।

من ڪذب بشی مما صرح به فی القران من حڪم او خبر او اثبت مانفاه او نفی ما اثبته علز علم منه بذالڪ او شڪ فی شی من ذالڪ کفر

২. এমন কথা বলা বা উক্তি করা যার দ্বারা আল্লাহ অথবা রাসূল সা. কে অস্বীকার করা বুঝায় অথবা রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা বোঝায়, অথবা শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধান সম্পর্কে অস্বীকার করা বোঝায় এসবের দরুন সে ব্যক্তি মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে যাবে । হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ গ্রন্থে কথাগুলোকে এভাবে বলা হয়েছে ।

وثبتت الردة بقول يدل علی نفی الصانع او الرسل او تڪذيب رسول او فعل تعمد به استهزء صريحا بالدين وڪذا انکار ضروريات الدين

৩. জরুরিয়্যাতে দ্বীনের মধ্যে ভিন্ন কোন ব্যাখ্যা দেয়াও কুফরী ।

وفی حاشية الخالی للعلامة عبد الحڪيم السيالڪوتی . والتاويل فی ضروريات الدين لا يدفع الڪفر – وقال الشيح محی الدين ابن العربی فی الفتوحات المڪية . التاويل الفاسد ڪالڪفر – وفی ايثار الحق علی لبخلق للوزير اليمانی. لان الڪفر هو جحد الضروريات من الدين او تاويلها

وفی الفتوی الظهيرية . ان الاحبار المروية من رسول الله صلی الله عليه وسلم علی ثلث متواتر فمن انڪر ڪفر ومشهور فمن انڪره ڪفر الا عند عيسی بن ابان فانه يضل ولا يڪفر وخبر الواحد فلا يڪفر جاحده غير انه يآثم بترڪ القبول ومن سمع حديثا فقال سمعنا کثيرا بطريق الاستخفاف ڪفر

অর্থাৎ, রাসূল সা. থেকে বর্ণিত হাদীস তিন প্রকার ঃ (১) মুতাওয়াতির এ প্রকার হাদীসকে অস্বীকারকারী কাফের হয়ে যাবে । (২) মাশ্হুর , অধিকাংশ উলামাদের মতে এ প্রকার হাদীস অস্বীকার কতারীও কাফের হয়ে যাবে । তবে হযরত ঈসা ইবনে আবান র. তাকে কাফের বলেন না বরং তাকে গোমরাহ বলেন । এ মতটাই বিশুদ্ধ । (৩) খবরে অহেদ, এ প্রকার হাদীস অস্বীকারকারী কাফের হবে না বটে, তবে হাদীসকে গ্রহণ না করার অ।পরাধে সে অবশ্যই ফাসেক ও গোমরাহ হবে । আর যে ব্যক্তি রাসূল সা. এর কোন হাদীস শোনার পর তাচ্ছিল্ল্যেভরে বলবে যে, আমি অনেক শুনেছি, সে-ও কাফের হয়ে যাবে ।

৪. ইজমার হুকুমকে অস্বীকার করা কুফরী । আল্লামা ইবনে হুমাম বলেন, হানাফী মতালম্বীদের নিকট অকাট্যভাবে প্রমাণিত ইজমার হুকুমকে অস্বীকার কারী কাফের ।

৫. যেসব জরূরিয়্যাতে দ্বীনের উপর ইজমা সংঘটিত হয়েছে এমন জরূরিয়্যাতে দ্বীনের অস্বীকার করা কুফরী । আল্লামা সবকী রহ. লিখেছেন-

জরূরিয়্যাতে দ্বীন যার উপর সর্বযুগে ইজমা সংঘটিত আছে- তার অস্বীকারকারী এক বাক্যে কাফের !

অবশ্য তাদের যদি কেউ এমন হয় যে, কুরআন হাদীসের যেসব ভাষ্য অস্বীকার পূর্বক তারা যে ধ্যান-ধারণা পোষণ করেছে তা শরয়ী বিধানের মাঝে তাবীল বা ব্যাখ্যা সাপেক্ষে করেছে, আর কুরআন-হাদীসের কোন ভাষ্যের অস্বীকৃতি যদি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ হয়, তাহলে তাকে কুফরী বলা যায় না । বরং সেটাকে মুজতাহিদ ব্যক্তির ইজতিহাদী ভুল বলে গণ্য করা যেতে পারে ।

তবে এ ধরনের ক্ষেত্রে দেখতে হবে যে, প্রথমতঃ যদি তারা কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই বেধড়ক কুরআন-হাদীসের ভাষ্যকে অস্বীকার পূর্বক মনগড়া মতামত ব্যক্ত করে । কিংবা শরয়ী হুকুমের মাঝে যে ব্যাখ্যা মূলক মতামত তারা দেয় তা সঠিক ব্যাখ্যা এর নিয়ম নীতি অনুসরণ করে না দেয়, তাহলে তারা যে ব্যাখ্যা এর আলোকে নিজেদের ধ্যান-ধারণা পোষণ করেছে তা শরী‘আতের নীতি মাফিক না হওয়াতে তারা কুফরীতে লিপ্ত হয়ে পড়বে ।

৬. নুসূসে কাত্ইয়্যা কে অস্বীকার করা কুফরী ।

আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশমীরী রহ. কুফ্ফারুল মুলহিদীন গ্রন্থে বলেন, “যারা কুরআনে বর্ণিত কোন স্পষ্ট ভাষ্য কে প্রত্যাখ্যান করবে তা নিয়ে বিরোধ করবে, তাদের তাকফীরের ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের ইজমা’ রয়েছে । যেমন কতক বাতিনিয়ার তার জাহিরী অর্থ বাদ দিয়ে ভিন্ন অর্থের দাবী করে থাকে । অথবা সকলের নিকট নির্ভরযোগ্য বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত কোন ব্যাপক ও নিশ্চিত অর্থবোধক কোন হাদীস যার মানসূখ না হওয়া, তাতে কোনরূপ তাখসীস না থাকা এবং তার জাহিরী অর্থ গ্রর্হীত হওয়ার ব্যাপারে উলামা ও ফকীহদের ঐক্যমত্য রয়েছে এমন কোন হাদীসকে তাখসীস করলেও তার ভিত্তিতে তাকফীর হওয়ার ব্যাপারে উলমায়ে কেরামের ইজমা’ রয়েছে । যেমন খাওয়ারেজ সম্প্রদায় কর্তৃক বিবাহিত যেনাকারী পুরুষ ও নারীদের রজম সম্পর্কিত বিধানকে অস্বীকার করার কারণে তাদেরকে তাকফীর করা । বিবাহিত যেনাকারী পুরুষ ও নারীদের রজম সম্পর্কিত বিষয়টি সর্বসম্মত ও বদীহী বিষয় ।”

মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় এসেছে, মুমিনকে গালি দেয়া ফাসেকী আর মুমিনতে হত্যা করা কুফরী । এর অর্থ এই নয় যে, সে কাফের হয়ে যাবে । যেমন নামাজের ব্যাপারে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামাজ ছেড়ে দিল সে কুফরী করল । এ ক্ষেত্রে আপনারাও ইচ্ছাকৃত নামাজ তরককারীকে কাফের বলেন না । কারণ এখানে কুফরী অর্থ কাফের হওয়া নয় বরং কুফরী অর্থ আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের না শুকরিয়া করা । আরবীতে বলা হয় “কুফরনে নিয়ামত” মুহাদ্দিসীনে কেরামগণ এভাবে বিভিন্ন ব্যাখ্যা করেছেন ।

তবে কোন মুসলমানকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা কবিরা গুনাহ । হযরত সাহাবায়ে কেরাম রা. থেকে আজ পর্যন্ত দুনিয়ার সকল আহলে ইলমগণ এ কথার উপর একমত যে, কোন কবিরা গুনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণে কোন ব্যক্তি ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে কাফের হবে না । সতুরাং আপনাদের দাবীর পক্ষে কোন ধরণের বিশুদ্ধ প্রমাণ না থাকার কারণে দাবীটি একেবারেই নিরর্থক । আশা করি উত্তর পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন ।

বি ঃ দ্র ঃ

আপনারা হযরত হুসাইন রা. এর নামের সাথে আ. কব্দটি উল্লেখ করেছেন । অথচ নবী রাসূ এবং ফেরেশ্তো ছাড়া হযরত হাওয়া আ. এবং মারইয়াম আ. এর নামের সাথে হাদীস ও ইতিহাসে আ. কব্দটি পাওয়া যায় । এর মানেই হচ্ছে আ. কব্দটি নবী, রাসূল, ফেরেশতা, হাওয়া ও মারইয়াম আ. ব্যতীত অন্য কারও নামের সাথে আ. কব্দ প্রয়োগ করা ঠিক নয় ।

দাবী নং ২ ও ৩

১.নূর নবী আমাদের মত সাধারণ মানুষ নন । যদি কেহ নূর নবীজিকে আমাদের মত সাধারণ মানুষ মনে করে, ইসলামী শরীয়ত মতে সে কাফের ।

২.নবী কারীম সা. কে আল্লাহ তায়ালা তাঁর জাতি নূরের জ্যোতি দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছেন। এখানে জ্যোতি নূরের ব্যাখ্যা হল, খালকি নূর, খাছ নূর, বিশেষ সৃষ্টি নূর। এখানে জাতি নূরের জ্যোতি দ্বারা আল্লাহর নূরের অংশ বুঝানো হয়নি । বরং খাস নূর বা বিশেষ নূরকে বুঝানো হয়েছে । যে নূরকে আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর সৃষ্টির পূর্বে সৃষ্টি করিয়া এই নূর দ্বারাই সর্ব প্রথম আল্লাহ তায়ালা নবীজিকে সৃষ্টি করিয়াছেন। নবীজী নূরের তৈরী হওয়াটাও একটি মোজেজা। যারা নবীজী কে মাটির তৈয়ার বলে তারা কাফের ।

জবাব

নবী কারীম সা. এর নূর ও বাশার হওয়া প্রসঙ্গ

নূর শব্দের অর্থ হল আলো, জ্যোতি । নূর শব্দটি প্রকৃত অর্থে ‘দৃশ্যমান’ আলো আর রূপক অর্থে ‘অদৃশ্যমান আলো’ তথা হেদায়েত , জ্ঞান ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে । কুরআন-হাদীসে উভয় অর্থে নূর শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায় । নূরদ্বয়ের মধ্য হতে অদৃশ্য নূরই আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের প্রধান উপায় । তাইতো ফেরেশতাগণ বাহ্যিক নূরের সৃষ্টি হওয়ার পাশা-পাশি অদৃশ্য নূরেরও অধিকারী ছিলেন । আর আদম (আঃ) মাটির সৃষ্টি হওয়া সত্বেও ফেরেশতাদের থেকে অনেক বেশী অদৃশ্য নূরের অধিকারী ছিলেন বিধায় তাঁর মর্যাদাও ফেরেশতাদের উর্ধ্বে । আর বাশার বা ইনসান শব্দের অর্থ হল মানবজাতি, আদম সন্তান ।

নবী করীম (সা:)সম্পর্কে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা বিশ্বাসঃ

নবী কারীম সা. সত্তাগত দিক থেকে বাশার বা মানুষ, তবে গুণাবলী ও আমালাতের দিক থেকে অদ্বিতীয় এবং নূর স্বরূপ । হযরত মাওঃ ইউসুফ লুদিয়ানভী সাহেব ইখতিলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস্তাকীম গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, নবী কারীম সা. শুধু একজন মানুষই নন বরং সর্বোত্তম মানুষ, সমস্ত মানব জাতির সর্দার এবং আদম (আঃ) ও বনী আদমের জন্য মহান গৌরব । হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত- নবী কারীম সা. ইরশাদ করেছেন,

انا سيد ولد ادم يوم القيامة واول من ينشق عنه القبر واول شافع واول مشفع رواه مسلم –

فى كتاب الفضائل باب تفضيل نبينا صلى الله عليه وسلم على جميع الخلائق

অর্থাৎ, আমি কিয়ামত দিবসে আদম সন্তানের সর্দার হব । সর্বপ্রথম আমার কবর খোলা হবে । আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম যার সুপারিশ কবূল হবে সে আমি । (মুসলিম)

নবী কারীম সা. সত্তাগত দিক থেকে একজন মানুষ, তেমনিভাবে হেদায়েতের দৃষ্টিকোন থেকে মানব জাতির জন্য নূরের স্উুচ্চ স্তম্ভ। সেই স্তম্ভের আলোক রশ্মি থেকেই মানব জাতির জন্য সঠিক পথের সন্ধান লাভ হয় । যার কিরণ মালা আজও দীপ্তিমান রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। সুতরাং নবী কারীম সা. বাশার তথা মানুষ হয়েও নূর তথা হেদায়েতের আলোকবর্তিকা । বস্তুত ঃ নবী কারীম সা. সহ সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম মানব জাতির অন্তর্ভুক্ত । নি¤েœ এ সম্পর্কে কয়েকটি আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করা হল-

قل انما انا بشر مثلكم يوحى الى انما الهكم اله واحد

অর্থাৎ,হে নবী ! তুমি বলে দাও আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ । আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয় এই মর্মে যে, তোমাদের মা’বূদই একমাত্র মা’বূদ ।’ (সূরাঃ ১৮-কাহ্ফঃ১১১)

অন্যত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,

قل سبحان وبى هل كنت الا بشرا رسولا- وما منع الناس ان يؤمنوا اذ جاءهم الهدى الا ان فالوا ابعث الله بشرا رسولا قل لو كان فى الارض ملئكة يمشون مطمئنين لنزلنا عليهم من السماء ملكا رسولا-

অর্থাৎ, হে নবী! তুমি বলে দাও আমার প্রতিপালক পূত-পবিত্র সত্তা । আমিতো একজন মানব, রাসূল মাত্র । লোকদের নিকট হেদায়েত এসে যাওয়ার পর এ উক্তি তাদেরকে ঈমান আনা থেকে বিরত রাখে যে, আল্লাহ্ কি মানুষকে রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেছেন । …। (সূরাঃ ১৭-বানী ইসরাঈলঃ ৯৪-৯৫Ñ)

অনুরূপ আরও আয়াতে নবী কারীম সা. কে মানুষ বলা হয়েছে । তবে সাথে সাথে তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথাও বলে দেয়া হয়েছে যে, তিনি একজন মহান রাসূল । তাঁর উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী অবতীর্ণ হয় । হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) কর্তৃক বোখারী ও মুসলিমের এক হাদীসে নবী কারীম সা. ইরশাদ করেছেন ,

عن ام سلمة عن النبى صلى الله عليه وسلم . انه سمع خصومة بباب حجرته فخرج اليهم فقال انما انا بشر و انه ياتينى الخصم الى الحديث . متفق عليه. رواه البخارى ج/١ص٣٣٢ ابواب المظالم والقصاص باب اثم من خاصم فى باطل وهو يعلم .

رواه مسلم فى كتاب الاقضية ص٧٤-

এ হাদীসে নবী কারীম সা. (নামাজের এক ঘটনা প্রসঙ্গে ) নিজের সম্পর্কে বলেছেন , আমিতো তোমাদের মতই একজন মানুষ ; তোমাদের যেমন ভুল হয় আমারও তেমন ভুল হয় । সুতরাং আমি যখন কোন জিনিস ভুলে যাব, তখন তোমরা আমাকে তা স্বরণ করিয়ে দিবে । (বোখারী)

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে প্রমাণিত হল যে, নবী কারীম সা. একজন মানুষ, -ফেরেশতা, জিন, কিংবা অন্য কোন মাখলূক নন । নবী কারীম সা. এর শরীর নূরের তৈরী নয় বরং মানব জন্মের প্রাকৃতিক ধারা অনুসারেই নবী কারীম সা. এর সৃষ্টি হয়েছে । আর মানব সৃষ্টি সম্পর্কে আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,

اذ قال ربك للملئكة انى خالق بشرا من طين

অর্থাৎ, আর স্বরণ কর যখন প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন ঃ আমি মাটি দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করব ।(সূরা ঃ৩৮-সাদঃ ৭১)

অন্যত্র এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে ,

هو الذى خلقكم من تراب ثم من نطفة ثم من علقة ثم يخرجكم طفلا ثم لتبلغوا اشدكم ثم لتكونوا شيوخا

অর্থাৎ, ঐ সত্তা, যিনি তোমাদেরকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর পানি দ্বারা , এরপর জমাট রক্ত , দ্বারা , তারপর তোমাদেরকে শিশু রূপে বের করেন । এরপর তোমরা যৌবনে পদার্পন কর , তারপর বাধ্যর্কে উপনীত হও । (সূরাঃ৪০- মু’মিনঃ ৬৭)

এসব আয়াতে সামগ্রিকভাবে মানব সৃষ্টির ধারা বর্ণিত হয়েছে । আর নবী কারীম সা. নিজের সৃষ্টি সমস্পর্কে ইরশাদ করেছেন ,

عن واثلةالاسقع يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله عز وجل اصطفى كنانة من ولد اسماعيل عليه الصلوة والسلام واصطفى قريشا من كنانة واصطفى من قريش بنى هاشم واصطفانى من بنى هاشم رواه مسلم فى كتاب الفضائل ج/٢ ص٢٤٥ ورواه الترمذى فى اول ابواب المناقب وقال هذا حديث صحيح ج/٢ص٢۰١ واللفظ لمسلم

অথাৎ, হযরত ওয়াছিলা ইবনে আছক্বা’ (রাঃ) বলেন যে, আমি রাসূল সা. কে ইরশাদ করতে শুনেছিযে, আল্লাহ্ তা‘আলা ইসমাঈল (আঃ) এর বংশধর থেকে কিনানা-কে মনোনিত করেছেন। আর কিনানা থেকে কোরাইশকে , কোরাইশ থেকে বনূ হাশিমকে আর বনূ হাশিম থেকে আমাকে মনোনিত করেছেন । (মুসলিম ও তিরমিযী )

আবূ জা’ফর বাকের (রহঃ) থেকে বর্ণিত নবী কারীম সা. ইরশাদ করেছেন,

انما خرجت من نكاح ولم اخرج من سفاح من لدن ادم ولم يصبنى من سفاح اهل الجاهلية شئى لم اخرج الا من طهره رواه ابن سعد فى الطبقات الكبرى عن ابى جعفر الباقر مرسلا وكذا رواه عبد الرزاق قال ابن كثير فىالبداية و النهاية ج/٢ صفحة / ٢۰٩ هذا مرسل جيد

অর্থাৎ, আমার জন্ম বিবাহের মাধ্যমে হয়েছে । কোন অবৈধ পন্থায় নয় । আদম (আঃ) থেকে নিয়ে (আমার মাতা-পিতা পর্যন্ত সমস্ত স্তর বৈধ বিবাহ-বন্ধনের মাধ্যমেই চলে আসছে ।) জাহিলিয়্যাতের কোন অবৈধ প্রদ্ধতি আমাকে স্পর্শ করেনি । পবিত্র ও বৈধ পদ্ধতিতেই আমার জন্ম হয়েছে । (তাবাকাতে ইবনে সাআদ ও মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক)

পূর্বোক্ত আয়াত ও হাদীস দ্বারা এটাই প্রমাণিত হল যে, মানব জন্মের প্রাকৃতিক ধারা অনুসারেই নবী কারীম সা. এর জন্ম হয়েছে । নূর থেকে নয় । এজন্যই আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আকীদার সুপ্রসিদ্ধতম কিতাব ‘শরহে আকাইদে নাসাফীতে’ রাসূল সা. এর সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এভাবে-

انسان بعثه الله لتبليغ الرسالة و الاحكام

অর্থাৎ, রাসূল সা. ঐ ব্যক্তি (মানুষ) কে বলা হয় আল্লাহ্ তা‘আলা যাকে (বান্দা পর্যন্ত) স্বীয় বিধি-বিধান ও রিছালত পৌঁছানোর জন্য প্রেরণ করেছেন।”

 বিপক্ষের দলীল ও তার খন্ডন

রেজাখানী উলামায়ে কেরামের আকীদা-বিশ্বাস যদিও এই যে, ‘নবী কারীম সা. মানুষ (বাশার) । যে এটাকে অস্বীকার করবে সে কাফের ।’ কিন্তু তারা কুরআনে কারীমের নি¤œাক্ত আয়াতে বর্ণিত নূর শব্দের ব্যাখ্যায় নবী কারীম সা. এর পবিত্র সত্তা মুরাদ বলে ব্যক্ত করে থাকেন । যার দ্বারা সাধারণ মানুষ এই বিভ্রান্তিতে পড়েন যে, নবী কারীম সা. নূরের তৈরী , অর্থাৎ তিনি মানুষ (বাশার) নন ।

আয়াতটি এইÑ

قد جاء كم من الله نور و كتاب مبين يهدى به الله من اتبع رضوانه سبل السلام

অর্থাৎ, নিশ্চই আল্লাহ্ তা‘আলার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে নূর (আলো) এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে । যার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তিকে শান্তির পথ দেখান, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে । (সূরা ঃ ৫-মায়িদা ঃ১৬)

এ আয়াতে নূর দ্বারা বোঝানো হয়েছে “কুরআনে কারীম” কে । আর كتاب مبين — نور থেকে عطف تفسير হয়েছে । এর প্রমাণ হল – (এক) আয়াতের পশ্চাদবর্তী অংশে يهدى به الله বাক্যে به তে এক বচনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে । যদি نور ও كتاب مبين দ্বারা পৃথক পৃথক দুটি বিষয় উদ্দেশ্য হত তাহলে এক বচনের সর্বনাম ব্যবহার করা সহীহ হত না ।

(দুই) নি¤েœা দুই আয়াতে যেমনিভাবে তাওরাত এবং ইঞ্জিলকে নূর বলা হয়েছে , তদ্রƒপ আলোচ্য আয়াতে ও “নূর” দ্বারা কুরআন উদ্দেশ্য হওয়াটাই যুক্তি সংগত এবং তা দ্বারা নবী কারীম সা. এর সত্তা উদ্দেশ্য নেয়া ভুল।

انا انزلنا التوراة فيه هدى و نور

অর্থাৎ আমি নাযিল করেছি তাওরাত , যাতে রয়েছে হেদায়েত ও নূর । (সূরা ঃ ৫-মায়িদা ঃ ৪৪)

وآتينه الانجيل فيه هدى ونور

অর্থাৎ, আমি তাকে দান করেছি ইঞ্জীল, যাতে রয়েছে হেদায়েত ও নূর । (সূরা ঃ ৫-মায়িদাঃ৪৬)

২. আর একদল রয়েছে যারা বলে নবী কারীম সা. আল্লাহ্ তা‘আলার নূর সমূহের একটি নূর । যিনি বাশারিয়্যাতের তথা মানবের আবরণে আবির্ভুত হয়েছেন । অর্থাৎ, তারা বলতে চান যে, নবী কারীম সা.আল্লাহর প্রকাশ ছিলেন । আর অনেকে এ পর্যন্তও বলে যে, আহাদ তথা আল্লাহ আর আহমদ তথা নবী কারীম সা. এর মাঝে শুধু (মীম) বর্ণের মার্থক্য । (নাউযুবিল্লাহ)

 খন্ডন

এটা হুবহু ঐ আকীদা যা, ঈসা (আঃ) এর ব্যাপারে পোষণ করে থাকেন যে, তিনিই খোদা তবে তিনি মানুষের রূপে আগমন করেছেন । এ আকীদা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত । কেননা সৃষ্টি আর সৃষ্টিকর্তা কখনো এক হতে পারে না । উম্মত কর্তৃক এধরনের বাড়াবাড়ির আশংকা ছিল বিধায় নবী কারীম সা. এ ব্যপারে উম্মতকে সতর্ক করে বলেছেন,

عن عمر رض- قال سمعت النبى صلى الله علي وسلم يقول لا تطرونى كما اطرت النصارى عيسى بن مريم فانما انا عبده ولكن قولوا عبدالله ورسوله رواه البخارى فى كتاب الانبياء- باب قول الله عز وجل و اذكر فى الكتاب مريم الخ ج/٢صفحة ٤٩۰

অর্থাৎ, হযরত ওমর (রাঃ) থেকে বলেন, আমি নবী কারীম সা. কে বলতে শুনেছি আমার প্রশংসায় তোমরা এতটা বাড়াবাড়ি কর না, যেমনটি ঈসা (আঃ) এর ব্যাপারে করেছি । (তারা ঈসা (আঃ) কে খোদা এবং খোদার বেটা বানিয়ে দিয়েছিল ।)

আমি তো আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর প্রেরিত রাসূল । সুতরাং তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা এবং রাসূলই বলবে । বোখারী)

৩. বাতিল পন্থীরা তাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে কয়েকটি জাল হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করে থাকেন । যা লোক মুখে হাদীস বলে প্রসিদ্ধ হলেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলো জাল হাদীস । নি¤েœ সেরূপ কয়েকটি প্রদত্ত হল ।

اول ما خلق الله نورى

(১) আল্লাহ্ তা‘আলা সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন ।

عن جابر .. سآلت رسول الله صلى الله عليه و سلم عن اول شئى خلقه الله

قال هو نور نبيك يا جابر

(২) জাবের (রাঃ) বলেন , আমি রাসূল সা. কে আল্লাহ্ তা‘আলার সর্বপ্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন , “ হে জাবের ! সেটা হল তোমার নবীর নূর”।

نا من نور الله وكل شئى منى

(৩)আমি আল্লাহ্ তা‘আলার নূর থেকে (সৃষ্টি) আর সব কিছু আমার নূর থেকে (সৃষ্টি)

انا من نور الله والمؤمنون من نورى

(৪) আমি আল্লাহ্ তা‘আলার নূর থেকে আর মু‘মিনগণ আমার থেকে ।

انا من الله و المؤمنون منى

(৫) আমি আল্লাহ্ তা‘আলা থেকে আর মু‘মিনগণ আমার থেকে ।

(৬) আর একটি হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূল সা. হযরত জিবরাঈল (আঃ) কে তাঁর বয়স সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন-একটি তরকা প্রতি ৭০ হাজার বছর পর পর উদিত হয়, আমি সেটিকে ৭০ হাজার বার উদিত হতে দেখেছি । এতে আপনি আমার বয়স আন্দায করে নিন । নবী কারীম সা. ইরশাদ করেন-সেটিই ছিল আমার নুর ।

(৭) আর একটি হাদীসে বলা হয়েছে, হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টির ১৪ হাজার বছর পূর্বে আমি সা. নূর আকারে বিদ্যামান ছিলাম ।

খন্ডন

বাতিল পন্থীদের দলীল হিসাবে প্রদত্ত এ হাদীসগুলোর ব্যাপারে সুপ্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে সিদ্দীক আল গমারী (রহঃ), শায়খ আহমদ ইবনে আব্দুল কাদের শানকীতী, হাফেজ ইবনে তাইমিয়া ও ইবনে কাছীর সহ অন্যান্য অনেক হাদীস বিশেসজ্ঞ মন্তব্য করেছেন যে, এসবগুলোই জাল, মিথ্য ও বানোয়াট ।

৪. নবী কারীম সা. নূর ছিলেন-এ প্রসঙ্গে বিদ‘আতীগণ ঐ রেওয়ায়েত দ্বারাও দলীল দিয়ে থাকেন, যাতে বলা হয়েছে নবী কারীম সা. এর ছায়া ছিল না ।

খন্ডন

এ সম্পর্কিত কোন সহীহ রেওয়ায়েত পাওয়া যায় না । জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহঃ) তাঁর “খাসায়েসে কুবরা” গ্রন্থে এ রেওয়াতটি হাকিম তিরমিযীর বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছেন । তবে নি¤েœাক্ত কারণ সমূহের ভিত্তিতে সে রেওয়ায়েতটি গ্রহণযোগ্য নয়-

(১) উক্ত রেওয়ায়েত বর্ণনাকারীদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে কায়ছ যা’ফরানী, যিনি গ্রহণযোগ্য রাবী নন । এমনকি তার সম্বন্ধে জাল হাদীস রচনা করারও অভিযোগ রয়েছে । তার সমস্পর্কে নি¤েœাক্ত মন্তব্যসমূহ লক্ষ্যণীয় ।

١. قال ابن حجر . متروك- التقريب ج/١ صفحة ٥٨٨

٢. قال ابوزرعة . كذاب. تاريخ بغداد جلد / ٨ صفحة ٢٧٧

٣. قال الامام مسلم . ذاهب الحديث . المصدر السابق

٤. قال ابو على . كان يضع الحديث . المصدر السابق-

(২) উক্ত রেওয়ায়েতটি মুরসাল যা, মুহাদ্দিছীনে কেরামের অনেকের নিকট দলীলযোগ্য নয় । বিশেষতঃ এরূপ হাদীস দিয়ে আকাইদের বিষয়ে দলীল দেয়া চলে না ।

(৩) রাসূল সা. কর্তৃক রৌদ্রে এবং চাঁদের আলোতে চলার অসংক্ষ্য ঘটনা রয়েছে । আর সাহাবায়ে কেরামের অভ্যাস ছিল রাসূল সা. এর ক্ষুদ্রস্য ক্ষুদ্র বিষয় বর্ণনা করা। যদি রাসূল সা. এর ছায়া না পড়ার মত একটি অলৌকিক বিষয় ঘটত, তাহলে তা অসংক্ষ সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হত । কিন্তু সেখানে মাত্র একটি রেওয়ায়েতে তা বর্ণিত হওয়া তাও একটি জয়ীফ রেওয়ায়েতে- এ বিষয়টি উপরোক্ত রেওয়ায়েতকে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

৫. বিদ‘আতীগণ ঐ রেওয়ায়েত দ্বারাও দলীল দিয়ে থাকেন যাতে নবী কারীম সা. কর্তৃক নিজেকে নূর বানিয়ে দেয়ার দু‘আ বর্ণিত হয়েছে ।

তিনি বলতেন . اللهم اجعلنى نورا

অর্থাৎ, হে আল্লাহ্ ! আমাকে নূর বানিয়ে দাও ।

খন্ডন

তিনি নিজেকে নূর বানিয়ে দেওয়ার দু‘আ করতেন এটাই প্রমাণ করে যে, তিনি নূর ছিলেন না । আর বস্তুত ঃ এখানে নূর অর্থ হল হেদায়েতের নূর। তিনি নিজেকে নূর বানিয়ে দেয়ার দু‘আ করতেন তথা তাঁর হেদায়েতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে দেয়ার দু‘আ করতেন ।

নূর ও বাশার প্রসঙ্গে দেওবন্দীদের বিরুদ্ধে

রেজাখানীদের একটি মিথ্যা অভিযোগ ও তার খন্ডন

রেজাখানী বা রেজভীগণ মাওঃ শাহ মুহাম্মদ ইসমাঈল শহীদ ও আকাবীরে দেওবন্দের ব্যাপারে একটি মিথ্যা অভিযোগ পেশ করে থাকেন যে, তারা নবী কারীম সা. কে নিজেরদের মত মানুষ মনে করেন এবং নবী কারীম সা. এর মর্যাদা বড় ভাইয়ের মত বলে মনে করেন ।

খন্ডন

এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা । আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের যে আকীদা, দেওবন্দের শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) এর ও সেই আকীদা । (আকাইদে ওলামায়ে দেওবন্ধ)

স্বয়ং হযরত মাওঃ শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ) তাকবিয়াতুল ঈমান গ্রন্থে ৫৮ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন-

নবী কারীম সা. সমস্ত আম্বিয়া এবং আউলিয়ায়ে কেরামের সর্বদার ছিলেন । আর মানুষ তাঁর বড় বড় মু;যিজা দেখেছে , তাঁর থেকেই সমস্ত সুক্ষ্ম বিষয়াদী শিখেছে এবং বুযুর্গদের বুযুর্গী অর্জন হয়েছে তাঁরই অনুসরণের মাধ্যমে ।

দাবী নং ৪

নূর নবীজি আল্লাহ পাকের ক্ষমতা বলে ইলমে গায়েব জানেন। ইহা নূর নবীজির নবুয়্যতের প্রমাণ হিসাবে একটি মোজেজা । যারা বলবে নবীজি আল্লাহ পাকের ক্ষমতা বলে ইলমে গায়েব জানেন না তারা কাফের ।

জবাব

নবী কারীম সা. এর গায়েব জানা প্রসঙ্গ

গায়েবের পরিচিতি

“গায়েব” এর আভিধানিক অর্থ হল কোন জিনিস গোপন থাকা। যে জিনিস আমাদের থেকে গোপন রয়েছেতাকেও গায়েব বলা হয়। আর শরী‘আতের পরিভাষায় “গায়েব” বলা হয় প্রত্যেক ঐ জিনিসকে যা বান্দার থেকে গোপন থাকে।

ইবনে কাছীর (রহঃ) সুদ্দী ও র্মুরা হামাদানী সূত্রে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন,

اما الغيب فما غاب عن العباد من امر الجنة و امر النار وما ذكر فى القرآن –

تفسير ابن كيثر جلد١ ص٣٤

অর্থাৎ “গায়েব” হল ঐ জিনিস, যা বান্দা থেকে গোপন রয়েছে। যেমন জান্নাত জাহান্নামের অবস্থা সমূহ এবং কুরআনে কারীমে বর্ণিত বিষয়াবলী।

আইম্মায়ে আ‎‎হনাফের প্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ ‘মাদারেক’ -য়ে বলা হয়েছে,

والغيب هو ما لم يقم اليه دليل ولا اطلع عليه مخلوق –

অর্থাৎ, ঐ জিনিসকে গায়েব বলা হয় , যার উপর কোন প্রমাণ বিদ্যমান নেই এবং কোন মাখলুক সে বিষয় অবগত নয়।

“গায়েব”এর স্তরভেদ ঃ

গায়েব জানার মৌলিক স্তর প্রথমতঃ ২টি । যথা ঃ

(১) [সত্তাগত] (২) [অন্য প্রদত্ত]

অন্য প্রদত্ত আবার দুই প্রকার যথাঃ

(১) [ব্যাপক] (২) [সীমিত]

ব্যাপক আবার দুই প্রকার যথা

(১) [সর্বব্যাপী] (২) [সীমিত ব্যাপী]

এই সর্বমোট চারটি স্তর । এর মধ্যে তিনটির হুকুম প্রায় সর্বসম্মত । মতানৈক্য শুধু একটি তথা তৃতীয়টির মাঝে। আর এ মতানৈক্যটাই ইলমে গায়েব-এর ইখতিলাফ হিসাবে খ্যাত।

স্তর চতুষ্ঠয়ের হুকুম

১ম প্রকার ঃ যে গায়েব এর জ্ঞানটা সত্তাগত অর্থাৎ, যার মাঝে অন্যের কোন হস্তক্ষেপ নেই। এ প্রকার ইলমে গায়েবের ব্যাপারে সকলেই একমত যে, এটা একমাত্র আল্লাহর জন্য খাস । কেউ যদি কোন রাসূলের জন্য কিংবা কোন ওলির জন্যে সামান্যতম এরূপ সত্তাগত জ্ঞান সাবাস্ত করে , তাহলে সে সর্ব সম্মতিক্রমে মুশরিক ও কাফের হয়ে যাবে।

২য় প্রকার

যে গায়েবের জ্ঞানটা অন্য কোন সত্তা কর্তৃক প্রদত্ত এবং সেটা সীমিত । অর্থাৎ, সামগ্রিক জ্ঞান নয় বরং বিশেষ বিশেষ জ্ঞান । এ প্রকার ইলমে গায়েব গায়রুল্লাহর জন্য প্রমাণিত। কেননা , আল্লাহ তা‘আলা আম্বিয়ায়ে কেরামকে ওহী ও ইলহামের মাধ্যমে কিছু বিষয়ের জ্ঞান দান করেছেন। সেমতে ওহী এবং ইলহামের মাধ্যমে যে সকল গায়েব এর বিষয় সম্পর্কে তাঁরা অবগত হয়েছেন। তা ছাড়া দুনিয়ার সকল বিষয়ে পুংখানুপুংখ জ্ঞান তাঁদের নেই।

৩য় প্রকার

যে গায়েবের জ্ঞানটা অন্য কোন সত্তা কর্তৃক প্রদত্ত এবং সেটা সর্বব্যাপী । অর্থাৎ, আদি অন্তের সমস্ত বিষয়ের মৌলিক জ্ঞান । এ প্রকার ইলমে গায়েবের ব্যাপারে সকলের সর্বসম্মত বিশ্বাস হল এ প্রকারটিও আল্লাহর জন্য খাস । সুতরাং যদি কেউ এ ধারণা পোষণ করে যে, রাসূল সা. ও সার্বিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত, আল্লাহ তা‘আলার ইলম আর নবী কারীম সা. এর ইলমের মাঝে শুধু সত্তাগত ও অন্য প্রদত্ত এর পার্থক্য, তাহলে এই ধারণা পোষণকারীও মুশরিক ও কাফের হয়ে যাবে। এ সম্বন্ধে মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) উল্লেখ করেন-

من اعتقد تسوية علم الله ورسوله يكفر اجماعا كملا يخفى. الموضوعات الكبرى ص ١١٩

অর্থাৎ,যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং রাসূল সা. এর ইলমের মাঝে সমতার বিশ্বাস রাখে, তাকে সর্ব সম্মতিক্রমে কাফের বলা হবে। যা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়।

৪র্থ প্রকার

যে গায়েবের জ্ঞানটা অন্য কোন সত্তা কর্তৃক প্রদত্ত এবং সেটা আদি অন্তের অর্থাৎ, পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে নিয়ে জান্নাত জাহান্নামে প্রবেশ পর্যন্ত সমস্ত বিষয়ের সীমিত সামগ্রিক জ্ঞান । এ প্রকার ইলমে গায়েবের হুকুমের ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আকীদা-বিশ্বাস মতে এ প্রকারটিও আল্লাহর জন্য খাস একান্ত । কিন্তু রেজাখানীসহ বেদ‘আতীদের আকীদা-বিশ্বাস হল নবী কারীস সা. ও এই প্রকার ইলমের অধিকারী ।

খান সাহেব বেরেলভী বলেন,

অর্থাৎ, যা কিছু হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে- সবকিছুর জ্ঞান নবী কারীম সা. এর ছিল । পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে নিয়ে জান্নাত হাজান্নামে প্রবেশ পর্যন্ত কোন ক্ষুদ্রস্য ক্ষুদ্রস্য বিষয়ও নবী কারীম সা. এর জ্ঞান বহির্ভূত নয়।

নবী কারীম সা. এর গায়েব জানা সম্পর্কে সারকথা

নবী কারীম সা. এর গায়ের জানা সম্পর্কে আহলুস সন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আকীদা-বিশ্বাস হল নবী কারীম সা. কে তাঁর শান মত আল্লাহ্ তা‘আলার সত্তা ও সিফাত সম্পর্কে, অতীত ও ভবিষ্যতের অসংখ্য ঘটনার মধ্যে বরযখ, কবরের অবস্থা, হাশরের ময়দানের চিত্র, জান্নাত , জাহান্নমের পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে এমন জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে যা কোন নবী কিংবা কোন নৈকট্য লাভকারী ফেরেশÍাকেও দেয়া হয়নি। যার আন্দাজ একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলাই করতে পারেন। তবে সেটা আল্লাহ তা‘আলার “সর্ব বিষয়ের সামগ্রিক জ্ঞান” এর সামনে কিছুই নয়।

পূর্বে উল্লেখিত বিদ‘আতী ও রেজাখানীদের আকীদা বিশ্বাস হল যা কিছু হয়েছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে -সেই সবকিছুর জ্ঞান নবী কারীম সা. এর ছিল। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে নিয়ে জান্নাত জাহান্নামে প্রবেশ পর্যন্ত কোন ক্ষুদ্রস্য ক্ষৃদ্রস্য বিষয়ও নবী কারীম সা. এর জ্ঞান বিহর্ভুত নয়। তাদের বক্তব্য হল নবী কারীম সা. এর আদি অন্তের সবকিছুর জ্ঞান ছিল। আহমদ রেজাখান রচিতالدولة المكية بالمادة الغيبية গ্রন্থে এবং আহমদ ইয়ার খান রচিতجاء الحق গ্রন্থে স্পষ্টতঃ এ দাবী করা হয়েছে । অতএব যদিও তারা বলে নবী কারীম সা. এর সীমিত সামগ্রিক জ্ঞান ছিল, কিন্তু যখন বলে আদি অন্ত সবকিছুর জ্ঞান ছিল তখন সেটা আর সীমিত সামগ্রিক জ্ঞানের দাবী থাকেনা বরং সেটা হয়ে দাড়ায় আল্লাহর ন্যায় সর্বব্যাপী জ্ঞান থাকার দাবি

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের দলীল

কুরআনে কারীমের বহু আয়াতে “গায়েব-এর জ্ঞান” বিষয়কে আল্লাহর বিশেষ সিফাত বা বৈশিষ্ট্য হিসাকে উল্লেখ করা হয়েছে । আর সমস্ত মাখলূক থেকে এমনকি নবী কারীম সা. থেকেও “গায়েব-এর জ্ঞান”কে নিবারিত করা হয়েছে । উদাহরণ স্বরুপ কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হল।

قل لا يعلم من فى السموت والارض الغيب الا الله وما يشعرون ايان يبعثون (١)

অর্থাৎ. হে নবী! তুমি বলে দাও যত মাখলূক আসমান ও যমিনে রয়েছে কেউ গায়েব জানে না । একমাত্র আল্লাহ ছাড়া । আর (একারণেই) তারা জানে না কবে পূনরায় উঠানো হবে । (সূরা নামল ৬৫ )

قل لا اقول لكم عندى خزائن الله ولا اعلم الغيب ولا اقول لكم انى ملك (٢)

অর্থাৎ, হে নবী! তুমি বলে দাও আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহ তা‘আলার (সমস্ত মাকদুরাতের ) ভান্ডার রয়েছে । আর না একথা বলি যে, আমি গায়েব জানি । আর না আমি তোমাদেরকে বলি আমি ফেরেশতা । (সূরা আনআম ঃ ৫০)

قل لا املك لنفسى نفعا ولا ضرا الا ما شاءالله ولو كنت اعلم الغيب لاستكثرت من الخير

وما مسنى السوء

অর্থাৎ, তুমি বলে দাও আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত আমার ভাল-মন্দের উপরও আমার কোন কর্তৃত্ব নেই । আমি যদি গায়েব জানতাম তাহলেতো আমি প্রভূত কল্যাণ লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না । (সূরা ৭-আ’রাফঃ১৮৮)

وعنده مفاتيح الغيب لا يعلمها الاهو

অর্থাৎ, তাঁরই নিকট রয়েছে গায়েবের চাবি , তিনি ব্যতীত কেউ তা জানে না (সূরা ঃ৮ আন্আমঃ৫৯)

يسئلونك عن الساعة ايان مرساها قل انما علمها عند ربى لايجايها لوقتها الا هو

الى قوله قل انما علمها عند الله ولكن اكثر الناس لايعلمون

অর্থাৎ, তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে কিয়ামত কখন ঘটবে ? তুমি বলে দাও এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আমার প্রতিপালকেরই আছে । শুধু তিনিই যথা সময়ে তার প্রকাশ ঘটাবেন । তুমি বলে দাও এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আল্লারই আছে । (সূরা ৭-আ’রাফঃ ১৮৭)

এসব আয়াত এবং বোখারী ও মুসলিমে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদীসে জিব্রীলে এসেছে

ما المسئول عنها باعلم من السائل

অর্থাৎ, এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞেস করা হয় সে জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে বেশী জানে না ।

এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বুঝে আসে যে , কেয়ামতের সুনিদিষ্ট সময় ও তৎসংশ্লিষ্ট বিস্তারিত বিষয়াদি নবী কারীম সা. থেকেও গোপন রয়েছে । সুতরাং দুনিয়া সৃষ্টির শুরু থেকে জান্নাত জাহান্নামে প্রবেশ পর্যন্ত সকল বিষয়ের পুংখানুপুংখ জ্ঞান নবী কারীম সা. এর ছিল এ ধারণা ঠিক নয় । নাবী কারীম সা. এর জন্য কিয়ামত পর্যন্ত সবকিছু সামগ্রিক জ্ঞান প্রমাণিত করা এবং নবী কারীম সা. কে আলেমুল গায়েব বা গায়েব জান্তা মনে করা পূর্বোল্লিখিত আয়াতসমূহ এবং হাদীসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ।

বিপক্ষের দলীল ও তা খন্ডন

১ম দলীল

“জাআল হক্ক” নামক গ্রন্থে আহমদ ইয়ার খান সাহেব তাদের দাবীর স্বপক্ষে দলীল দিতে গিয়ে উল্লেখ করেন ,

وما كان الله ليطلعكم على الغيب ولكن الله يجتبى من رسله من يشاء

অর্থাৎ, আল্লাহ তা‘আলার এই শান না যে, তিনি তোমাদের সর্বসাধারণকে গায়েবের ইলম/জ্ঞান দান করবেন । হ্যাঁ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলগণ থেকে যাকে চান তাকে মনোনিত করেন । (সূরা ঃ ৩-আলে ইমরান ঃ ১৭৯)

উক্ত আয়াতের অধীনে তাফসীরে বাইযাভী ও তাফসীরে খাজেনের ব্যাখ্যা উল্লেখ করতঃ খান সাহেব বলেন, “এতে বোঝা যায় আল্লাহ তা‘আলার খাস ইলমে গায়েব পয়গম্বরের সামনে প্রকাশিত ও উদ্ভাসিত হয় ।কতক মুফাসসিরীনে কেরাম বলেন যে, “কতক ইলমে গায়েব” দ্বারা উদ্দেশ্য হল আল্লাহ তা‘আলার ইলমের মোকাবেলায় কতক । আর দুনিয়ার শুরু থেকে জান্নাত জাহান্নামে প্রবেশ পর্যন্ত সমস্ত জ্ঞানও আল্লাহর ইলমের মোকাবেলায় কতকই বটে ।

খন্ডন

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ তা‘আলা ওহী এবং ইলহামের মাধ্যমে আম্বিয়ায়ে কেরামকে গায়েবের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবগত করেন । কিন্তু এর দ্বারা কোন নবীকে কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত বিষয়ের বিস্তারিত জ্ঞান প্রদান করা হয় না । আর তাফসীরের কিতাবে উল্লেখিত কতক ইলমে গায়েব এর জাহিরী বা সুস্পষ্ট ও পরিস্কার ব্যাখ্যা হল কতক আংশিক জ্ঞান আল্লাহর ইলমের মোকাবেলায় কতক নয় । বিনা কারণে যাহিরী অর্থ ত্যাগ করা তাফসীর ও ব্যাখ্যার সহীহ নীতি নয় ।

২য় দলীল

فلا يظهر على غيبه احدا الا من ارتضى من رسوله

অর্থাৎ, আল্লাহ তা‘আলা গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ে কাউকে অবগত করেন না তবে রাসূলদের মাঝে যাদের পছন্দ করেন । (সূরাঃ ৭২-জিনঃ২৬-২৭)

আহমদ ইয়ার খান সাহেব উক্ত আয়াতের অধীনে বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থের ব্যাখ্যা (যদিও তা তাদের দাবীর বিপরীত) উল্লেখ করতঃ বলেন, “এ থেকে বোঝা যায় আল্লাহ তা‘আলার খাস ইলমে গায়েব এমনকি কিয়ামতের ইলমও নবী সা. কে দেয়া হয়েছে । সুতরাং নবী সা. এর জ্ঞান থেকে বাকী রইল কী ?”

খন্ডন

এ আয়াতের পূর্বাংশে আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

قل ان ادرى اقريب ما توعدون ام يجعل له ربى امدا

অর্থাৎ, তুমিবলে দাও, আমি জানি না তোমাদের সাথে যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা অতি নিকটে না আমার প্রতিপালক তার জন্য দীর্ঘ সময় নির্ধারণ করে রেখেছেন । (সূরাঃ ৭২-জিন২৬-২৭)

এ আয়াতে “ما توعدون” অর্থ ‘আযাব’ কিংবা ‘কিয়ামত’ । এতদুভয়ের যেটাই মুরাদ নেয়া হোক না কেন, সেটা ما كان وما يكون এর অন্তর্ভুক্ত । সুতরাং সর্বাবস্থায় ما كان وما يكون -এর কিছু বিষয় এমন রয়ে গেছে যার ইলম নবী কারীম সা. এর ছিল না ।

৩য় দলীল

তারা নি¤েœাক্ত হাদীসের মাধ্যমেও দলীল দেয়ার চেষ্টা করেছেন । হযরত হুযাইফা (রাঃ) বলেন,

قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقاما ما ترك شيئا يكون فى مقامه ذالك الى قيام الساعة الا حدث به حفظه من حفظه ونسيه من نسيه …. رواه البخارى ومسلم وابو داؤد-

অর্থাৎ, একদা নবী কারীম সা. আমাদের মাঝে খুতবা দেয়ার জন্য দাঁড়ালেন । তিনি তাঁর খুতবার মাঝে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিত হবে এমন কোন বিষয় বলতে ছাড়েননি । যে স্বরণ রেখেছে সে স্বরণ রেখেছে , আর যে ভুলে গেছে সে ভুলে গেছে । বোখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ)

খন্ডন

বিদ‘আতীরা এরূপ বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমে দলীল দেয়োর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সে হাদীসগুলো তাদের মূলনীতি অনুসারেই দলীল হতে পারে না । মূলনীতি হল আহমদ ইয়ার খান সাহেব লিখেছেন-

ইলমে গায়েব অস্বীকারকারী নিজের দাবীর স্বপক্ষে দলীল দিতে চাইলে তাকে ৪ টি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। যথাঃ (১) সেটা এমন আয়াত হতে হবে যার অর্থ হবে দ্ব্যর্থহীন অর্থাৎ, তাতে একাধিক অর্থের অবকাশ থাকতে পারবে না। (২) দলীলটি হাদীস হলে সেটা ‘মুতাওয়াতির’ হতে হবে।….ইত্যাদি।

অথচ তাদের প্রকৃত হাদীস একটিও ‘মুতাওয়াতির’ নয় । এতো গেল ইলযামি উত্তর । তাহ্ক্বীক্বী উত্তর হচ্ছে-তাদের পেশকৃত হাদীসগুলোর কতেকের মতলব হল নবী সা. কিয়ামত পর্যন্ত যত বড় বড় ঘটনা সংঘটিত হবে তা এবং বিভিন্ন ফিতনা ও কিয়ামতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামকে খুতবায় যা শুনিয়েছেন বিদ‘আতীগণ এগুলোকেই হুজুর সা. এর গায়েব জানার প্রমাণ দাঁড় করেছেন । অথচ এটা সব ধরনের বিষয়ে রাসূল সা. এর বক্তব্য ছিল না । বিশেষ এক ধরনের বিষয় ছিল । আমাদের এ বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায় আবূ দাঊদ শরীফে-এর নি¤েœাক্ত হাদীস দ্বারা । ইমাম আবূ দাঊদ পূর্বোক্ত হাদীস বয়ান করার পরপরই নি¤েœাক্ত হাদীসটি বয়ান করেছেন । পূর্বোক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত হুযাইফা (রাঃ) ই বলেছেন যে,

والله ما ادرى انسى اصحابى ام تناسو والله ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم من قائد فتنة الى ان تنقضى الدنيا يبلغ من معه ثلاث مأة فصاعدا الا قد سماه لنا باسمه واسم ابيه واسم قبيلته – رواه ابوداود فى اول كتاب الفتن

অর্থাৎ, আল্লাহর কসম! আমি জানি না আমার সাথীরা ভুলে গেছেন নাকি ভুলের ভান করেছেন । আল্লাহর কসম নবী কারীম সা. কিয়ামত পর্যন্ত ফিতনা সৃষ্টি কারীর কথা বলতে ছাড়েননি । যাদের চেলা চামুন্ডার সংখ্যা হবে তিনশত বা ততোধিক । নবী কারীম সা. আমাদের সামনে তার নাম, তার পিতার নাম, তার গোত্রের নাম পর্যন্ত বলেছেন । (আবূ দাঊদ)

সুতরাং বোঝা গেল নবী কারীম সা. খুতবায় যা বলেছেন সে সব ফিতনা ও কিয়ামতের আলামত সংক্রান্ত । দুনিয়ার সকল বিষয় নয়।

তাদের পেশকৃত কতক হাদীসের উদ্দেশ্য হল নবী কারীম সা. এর সামনে উদ্ভাসিত হয়েছে গায়েবের বিষয়াবলীর মধ্য থেকে শুধু শরীআতের বিধি-বিধান ও দ্বীনের বিষয়াবলী , যা নবী কারীম সা. এর শানের সাথে সংগতিপূর্ণ । হাদীসে পূর্বাপর অবস্থা থেকে এমনটিই বুঝে আসে ।

সুতরাং এই দীর্ঘ আলোচনা থেকে সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে , علم ذاتى এবং علم محيط با لكل একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই একান্ত জ্ঞান। কোন রাসূল কিংবা গায়রে রাসূল তাতে শরীক নন এবং কোন نص এর মাঝে মাখলূকের জন্যعالم الغيب এর ব্যবহার দেখা যায় না।

সর্বশেষে আরো একটি বিষয় উল্লেখ করতে হয় তাহল মুফতী আহমদ ইয়ার খান সাহেব তার “জাআল হক্ক” গ্রন্থে স্পষ্টত ঃ উল্লেখ করেছেন যে, নবী কারীম সা. কে গায়েবের যে জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তা দেয়া হয়েছিল মেরাজে । আর একথা সর্বজন বিদিত যে, মেরাজ হয়েছিল হিজরতের পূর্বে। এখন উল্লেখ করার বিষয় হল -মেরাজের রাতে নবী কারীম সা. কে গায়েবের জ্ঞান দেয়া হয়েছিল মেনে নিলে কি একথা বলার অবকাশ বের হয়ে আসেনা যে, তাহলে বীরে মাউনার ঘটনায় সত্তুর জন সাহাবী নির্মমভাবে শহীদ হয়ে যাবেন- একথা জেনেও নবী কারীম সা. তাদেরকে প্রেরণ করেন । নাউযুবিল্লাহ কত নিষ্ঠুর ছিলেন তিনি! উহুদের যুদ্ধের বিষয়টিও সেরকম । হযরত আয়েশা (রাঃ) এর প্রতি যখন অপবাদ আরোপের ঘটনা ঘটে,তখন তিনি ওহীর অপেক্ষায় ছিলেন কেন? এভাবে নবী কারীম সা. এর জীবনের বহু ঘটনার কোন সুস্থ্য ব্যাখ্যা চলবে না , যদি মেনে নেয়া হয় যে, তিনি আদি -অন্তের সব বিষয় জানতেন।

দাবী নং ৫

নূর নবীজি আল্লাহ পাকের ক্ষমতা সবলে সারা জাহানের সব জায়গাতে হাজির ও নাজির থাকিতে পারেন । এমনকি তিনি মদীনা শরীফের রওজা থেকেও পৃথিবীর সব কিছু দেখেন। আর নবীজি আল্লাহ পাকের ক্ষমতা বলে হাজির ও নাজির থাকা ইহা নবীজির একটি মোজেজা ।

জবাব

নবী সা.-এর হাজির-নাজির হওয়া প্রসঙ্গ

হাজির ও নাজির শব্দ দুটো আরবী । হাজির অর্থ মওজুদ, বিদ্যমান বা উপস্থিত । আর নাজির অর্থ দ্রষ্টা । যখন এ শব্দ দুটোকে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয় , তখন অর্থ হয় ঐ সত্তা, যার অস্তিত্ব বিশেষ স্থানে সীমাবদ্ধ নয় বরং তাঁর অস্তিত্ব একই সময়ে গোটা দুনিয়াকে আবেষ্টিত করে রাখে এবং দুনিয়ার প্রত্যেকটি জিনিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবস্থা তার দৃষ্টির সামনে থাকে ।

হাজির-নাজির সম্পর্কে আহলুস সুন্নাত

ওয়াল জামা‘আতের আকীদা।

পূর্বোক্ত ব্যাখ্যা অনুসারে হাজির-নাজির কথাটি একমাত্র আল্লাহতা‘আলার ব্যাপারেই প্রযোজ্য । হাজির-নাজির কথা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই সিফাত । নবী কারীম সা. এর ব্যাপারে হাজির-নাজিরের আকীদা পোষণ করা শরীআতগত ও যুক্তিগত উভয় দিক থেকে ভ্রান্ত ।

হাজির-নাজির সম্বন্ধে ভুল আকীদা

বিদ‘আতীদের আকীদা হল রাসূল সা. সর্বত্র হাজির-নাজির । তাদের এ বিশ্বাসের পশ্চাতে মীলাদে কিয়াম করার বিষয়টার স্বপক্ষে দলীল দাঁড় করানোর চিন্তা -চেতনা কাজ করেছে। সেটি এভাবে যে, রাসূল সা. এর নামে দুরূদ শরীফ পাঠ করা হলে তিনি তা জানেন , যেহেতু তিনি হাজির-নাজির বা সর্বত্র উপস্থিত । তাই তাঁর উপস্থিতি হেতু কেয়াম করতে হবে।

বিদ‘আতীদের আকীদা মতে শুধু হুজুরে পাক সা. ই নন , বরং বুযুর্গানে দ্বীনও পৃথিবীর সবকিছুকে হাতের তালুর মত দেখতে পান । তারা দূরের ও কাছের আওয়াজ শুনতে পান। এবং মুহুর্তের মধ্যে গোটা বিশ্ব ভ্রমণ করেন এবং হাজার হাজার মাইল দূরের হাজতমান্দ ব্যক্তির হাজত পূর্ণ করেন ।

খন্ডন

নবী কারীম সা. সর্বত্র হাজির-নাজির এটা দ্বারা যদি নবী কারীম সা. এর সর্বত্র শারীরিক হাজির-নাজির থাকা উদ্দেশ্য হয় , তাহলে এটা যুক্তিগত ভাবে অসম্ভব এবং সুস্পষ্ট ভ্রান্তি । কারণ , এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, নবী কারীম সা. রওযা মোবারকে আরাম করছেন। এবং সমস্ত আশেকীনরা সেখানে গিয়ে হাজিরা দেন, যিয়ারত করেন । বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে তাঁর প্রতি দুরূদ সালাম পাঠ করা হলে নিয়মিত ফেরেশতাগণ সে দুরূদ ও সালাম তাঁর কাছে পৌঁছে দেন। এ সম্বন্ধে “মীলাদে কেয়াম এর হুকুম”শিরোনামে পূর্বে দলীল প্রমাণ সহ বিস্তারিত আলোচনা পেশ করা হয়েছে।

আর নবী কারীম সা. সর্বত্র হাজির-নাজির এটা দ্বারা যদি তাঁর রূহানী হাজিরী উদ্দেশ্য হয়ে থাকে । অর্থাৎ, এই বোঝানো হয়ে থাকে যে, দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর নবী কারীম সা. এর পবিত্র রূহের জন্য সর্বস্থানে বিচরণ করার অনুমতি রয়েছে, তাহলে বলা হবে সর্বস্থানে বিচরণের অনুমতি থাকার দ্বারা বাস্তবেই সর্বস্থানে উপস্থিত থাকা জরূরী নয় । বরং তিনি যে সর্বত্র হাজিন-নাজির থাকেন না , তার প্রমাণ ইতি পূর্বে দেয়া হয়েছে যে, তিনি সর্বদা রওযা মুবারকে আরাম করছেন । অতএব এখানে যদি কেউ অন্য কোন নির্দিষ্ট স্থানে নবী কারীম সা. এর উপস্থিতির কথা দাবী করেন, তাহলে সেটা হবে একটা স্বতন্ত্র দাবী । এর স্বপক্ষে দলীল চাই । অথচ এর স্বপক্ষে কোন দলীল নেই। সুতরাং দলীল বিহীন এমন আকীদা পোষণ করা নাজায়েয ।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের দলীল

১ম দলীল

আল্লাহ তা‘আলা নবী করীম সা. কে হযরত মূসা (আঃ) এর ঘটনা সম্পর্কে অবগত করার পর ইরশাদ করেন,

وما كنت بجانب الغربى اذ قضينا الى موسى الامر وما كنت من الشاهدين

অর্থাৎ, তুমি (তূর পর্বতের) পশ্চিম পাশ্বে উপস্থিত ছিলে না, যখন আমি মূসা (আঃ) এর কাছে হুকুম প্রেরণ করি । আর তুমি তার প্রত্যক্ষকারী ছিলে না । (সূরা ঃ২৮-কাসাসঃ৪৪)

সুতরাং বোঝা গেল- হযরত মূসা (আঃ) এর নবুওয়াত প্রাপ্তির সময় হমানবী সা.তূর পর্বতের পশ্চিম পার্শ্বে হাজিরও ছিলেন না নাজিরও ছিলেন না । তাহলে রাসূল সা. সর্বত্র হাজির নাজির একথাটি সঠিক হয় কি করে ?

২য় দলীল

সূরা তওবায় আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,

وممن حولكم من الاعراب منفقون ومن اهل المدينة مردوا على النفاق لاتعلمهم نحن نعلمهم

অর্থাৎ, তোমার আশপাশের পল্লীবাসী ও মদীনাবাসীর মাঝে এমন কিছু মুনাফিক রয়েছে যারা মুনাফেকিতায় সিদ্ধ। তুমি তাদেরকে জান না । আমি তাদেরকে জানি । (সূরাঃ৯- তাওবা ঃ১০১)

দেখা গেল রাসূল সা. মদীনার আশপাশের অনেক লোক সম্পর্কে জানতেন না। তিনি সর্বত্র হাজির-নাজির থাকলে তো অকশ্যই সকলের সম্বন্ধে অবগত থাকতেন । তাহলে রাসূল সা. সর্বত্র হাজির-নাজির এ দর্শন সঠিক হয় কি করে ?

বিপক্ষের দলীল ও তার খন্ডন

১ম দলীল

আহমদ ইয়ার খান সাহেব তার দাবীর স্বপক্ষে দলীল দিতে গিয়ে লিখেন-

يايها النبى انا ارسلنك شاهدا و مبشرا ونذيرا وداعيا الى الله باذنه وسراجا منيرا

অর্থাৎ, হে গায়েবের খবর প্রদানকারী ! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে হাজির-নাজির, সুসংবাদদাতা, ভীতি প্রদর্শনকারী এবং আল্লাহর সাথে তার নির্দেশে আহবানকারী এবং দীপ্তমান সূর্য রূপে প্রেরণ করেছি । (সূরাঃ৩৩-আহযাবঃ৪৫-৪৬)

আহমদ ইয়ার খান সাহেব বলেন, শাহেদ এর অর্থ সাক্ষীও হতে পারে আবার হাজির-নাজিরও হতে পারে । সাক্ষীকে শাহেদ বলার কারণ হল সে ঘটনা স্থলে উপস্থিত থাকে । আর হুজুর সা. কে শাহেদ বলা হয় একারণে যে, তিনি দুনিয়াতে গায়েব জগতের বিষয় দেখে সাক্ষ্য দেন। অন্যথায় অন্যান্য নবীগণও তো সাক্ষ্যদানকারী । তাহলে তফাৎ থাকল কোথায় ? অথবা একারণে যে, নবী কারীম সা. কিয়ামতের দিবসে সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরামের পক্ষে চাক্ষুস সাক্ষ্য দান করবেন । আর এ সাক্ষ্য দেখা ছাড়া সম্ভব নয় । এমনিভাবে নবী কারীম সা. এর সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হওয়াও তাঁর হাজির-নাজির হওয়ার প্রমাণ । কেননা , অন্যান্য নবীগণ একাজ করেছেন শুনে , আর হুজুর সা. এ কাজ করেছেন দেখে। এ জন্যইতো স্বশরীরে মে’রাজ একমাত্র হুজুর সা. এরই হয়েছে। আবার সিরাজাম-মুনীরা বলা হয় সূর্যকে । এটা পৃথিবীর সর্বস্থানে বিরাজমান , প্রত্যেক ঘরে বিদ্যমান । তদ্রƒপ নবী কারীম সা. ও সর্বস্থানে বিদ্যমান । সুতরাং এ আয়াতের প্রত্যেকটি বাক্য থেকে নবী কারীম সা. এর হাজির-নাজির হওয়া প্রমাণিত হয়।

খন্ডন

খান সাহেব এ সত্যটুকুও অবলোকন/অনুধাবন করেননি যে, সূর্য সর্বস্থানে বিদ্যমান নয় বরং যেখানে দিন সেখানে সূর্য বিদ্যমান আর যেখানে রাত সেখানে সূর্য অবিদ্যমান। সুতরাং এই উপমার মাধ্যমে খান সাহেবের দাবী প্রমাণিত না হয়ে বরং নবী কারীম সা. এর সর্বত্র হাজির-নাজির না হওয়াই প্রমাণিত হয়। নবীগণ শুধু গায়েব সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেন-এর দ্বারা কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর সবকিছু জানা ও দেখা প্রমাণিত হয় না। বরং আল্লাহ তা‘আলার ওহী ও ইলমের মাধ্যমে যতটুক জানেন তাঁরা ততটুকুই অবগত থাকেন ।

আর আহমদ ইয়ার খান সাহেবشاهد এর যে অর্থ বর্ণনা করেছেন তা ঠিক নয়। বরং شاهد শ্বদটি شهد يشهد (س) থেকে ইসমে ফায়েল এর ছীগা । এর অর্থ হল নিশ্চিত ও সঠিক সংবাদ প্রদানকারী । এর জন্য আলেমুল গায়েব হয়ে দেখে সাক্ষ্য দেয়া জরূরী নয় । সুতরাং এ আয়াত দ্বারা কোনভাবেই নবী কারমি সা. এর হাজির-নাজির হওয়া প্রমাণ করা যায় না ।

অনুরূপভাবে আহমদ ইয়ার খান সাহেব কুরআনে কারীমের যে আয়াত নবী কারীম সা. এর হাজরি -নাজিরের স্বপক্ষে দলীল হিসাবে পেশ করেছেন সেখানেই তিনি গলত ফা‏হমী বা ভুল বুঝার শিকার হয়েছেন । তিনি সূরা বাকারার ১৪৩ নং আয়াত , সূরা নিসার ৪১ নং আয়াত ও সূরা তাওবার ১২৮ নং আয়াত দ্বারাও এমনভাবে প্রমাণ পেশ করার চেষ্টা করেছেন, যা সাধারণ বোধ সম্পন্ন ব্যক্তির নিকটও অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে ।

২য় দলীল

বিদ‘আতীগণ হুজুর সা. এর হাজির-নাজির হওয়ার পক্ষে আরও কিছু হাদীস উল্লেখ করেন, যার দ্বারা হুজুর সা. এর হাজির-নাজির হওয়া আদৌ প্রমাণিত হয় না ।

এ ব্যাপারে শেখ সা’দী (রহঃ) গুলিস্থায় সুন্দর বলেছেন,

কেউ হযরত ইয়াকুব (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছেন ব্যাপার কি ? শত সহ¯্র মাইল দূর মিশর থেকে ইউসুফ (আঃ) এর জামার ঘ্রাণ পান, অথচ কেনানের নিকটে এক কুঁয়ায় ইউসুফ (আঃ) এর ভাইয়েরা যখন তাকে নিক্ষেপ করল আপনি তা দেখতে পেলেন না ।

উত্তরে ইয়াকুব (আঃ) বলেছেন, আমাদের অবস্থা হল আকাশের চমকানো বিদ্যুতের ন্যায় । যা উদ্দীপ্ত হয়েই নিভে যায় । (অর্থাৎ যখন আল্লাহ তা‘আলার মেহেরবানীর ফয়যান হয় তখন আমরা দূর দূরান্তে দেখতে পাই । তবে এ অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী থাকে না অল্প সময় পর শেষ হয়ে যায় ।) কখনো আমরা বহু উঁচু আসমানে বসি , আবার কখনো নিজের পায়ের পিঠ পর্যন্ত দেখতে পাই না।

যে সমস্ত বিদ‘আতীরা অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি বশত ঃ শুধু নবী কারীম সা. নন বরং বুযুর্গানে দ্বীন সম্বন্ধেও হাজির-নাজির থাকার আকীদা পোষণ করেন, তাদের ব্যাপারে ফাতাওয়া হল-

ফাতাওয়ায়ে বায্যাযিয়ায় বলা হয়েছ্,ে

قال علمائنا من قال ارواح المشائخ حاضرة تعلم يكفر

অর্থাৎ, আমাদের উলামায়ে কেরামগণ বলেনঃ যে সমস্ত ব্যক্তি এ কথা বলে যে, বুযুর্গানে দ্বীনের রূহ হাজির বা বিদ্যমান এবং সে সবকিছু জানে এমন ব্যক্তিগণ কাফের

দাবী নং ৬

ঈদে মিলাদুন্নবী সা. উদযাপন করা ও জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী সা. এর র‌্যালী বাহির করা ইসলামী শরীয়ত মতে জায়েজ । এমনকি ইহা দ্বারা নবীর প্রেম বৃদ্ধি পায়।

জবাব

ঈদে মিলাদুন্নবি সা. প্রসঙ্গ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম                                                                                                     র্বতমানে মুসলমিদরে বরিাট একটি অংশ ঈদে মীলাদুন্ নবী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামরে জন্ম দবিস উপলক্ষে প্রতি বছর রবউিল আওয়াল মাসরে ১২ তারখিে বশিষে অনুষ্ঠান পালন করে থাক।ে এমন কি যারা ইসলামরে বুনযি়াদী বষিয়গুলো পালন করতে আগ্রহী নয় তারাও এটি পালনে বশে তৎপর। আমাদরে দশেরে পত্রপত্রকিা, ইলক্ট্রেনকি মডিযি়া ও এক শ্রণেীর পীর-মাশায়খে এবং আলমে-উলামার বক্তব্যওে এর বশিষে গুরুত্ব র্বণনা করা হয়। বশে কছিু মুসলমি দশেে এ উপলক্ষে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়। আমি এই রবউিল আউয়াল ও ঈদে মীলাদুন নবী উপলক্ষে একটি র্পূণাঙ্গ আলোচনা উপস্থাপন করছ।ি আশা করি এটি পাঠ করে অনকেরেই ভুল ভাঙব।ে

ঈদে মীলাদুন্নবী মূলত: অমুসলমিদরে অনুকরণ:

মূলত: অমুসলমি ইয়াহুদ-নাসারাদরে অনুসরণ থকেইে এসছেে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জন্ম দবিস উপলক্ষে ঈদে মীলাদুন্ নবীর অনুষ্ঠান। অজ্ঞ মুসলমিরা এবং একদল গোমরাহ আলমে প্রতি বছর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জন্ম উপলক্ষে রবউিল আওয়াল মাসে এই অনুষ্ঠান পালন করে থাক।ে কউে কউে মসজদিে এ অনুষ্ঠান করে থাক।ে আবার কউে ঘর বা বশিষেভাবে এর জন্য প্রস্তুতকৃত স্থানে এ অনুষ্ঠান পালন করে থাক।ে আর এতে শত শত সাধারণ লোক উপস্থতি হয়। তারা নাছারাদরে অন্ধ অনুসরণ করইে এ অনুষ্ঠানরে ব্যবস্থা করে থাক।ে

এ অনুষ্ঠানে বদিআত ও নাসারাদরে সাদৃশ্য থাকার সাথে সাথে রয়ছেে বভিন্নি প্রকার শরিক ও অপছন্দনীয় র্কম-কাণ্ড। এতে এমন কছিু কবতিা আবৃতি করা হয়, যাতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ব্যাপারে এমন বাড়াবাড়ি রয়ছে,ে যা আল্লাহ ছাড়া অন্যরে কাছে দু’আ করা এবং আশ্রয় র্প্রাথনা করা র্পযন্ত নযি়ে যায়। অথচ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রশংসার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে নষিধে করছেনে। তনিি বলনে:

لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ فَقُولُوا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ

“নাসারাগণ যমেন মরযি়ম পুত্র ঈসা (আঃ)এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করছেলি, তোমরা আমার ব্যাপারে সরেূপ বাড়াবাড়ি করোনা। আমি কবেলমাত্র আল্লাহর একজন বান্দা। তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল বল।

নাসারারা ঈসা (আঃ)এর র্মযাদা বাড়াতে বাড়াতে আল্লাহর পুত্র হওয়ার আসনে বসযি়ছেলি। আবার কউে কউে তাঁকে স্বয়ং আল্লাহ হসিাব বশ্বিাস করে তাঁর ইবাদত শুরু করছে।ে কউে বা তাঁকে তনি আল্লাহর এক আল্লাহ হসিাবে নর্ধিারণ করে নযি়ছে।ে কছিু বদিআতী নবী প্রমেকি বশ্বিাস করে য,ে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদরে মীলাদ মাহফলিে উপস্থতি হন।

ঈদে মীলান্নবীতে নানা ধরণরে বদিআত ও পাপাচার:

তাছাড়া এসমস্ত মীলাদ মাহফলিে যে সমস্ত পাপ কাজরে র্চচা করা হয়, তার মধ্যে রয়ছেে দলবদ্ধভাবে গান-বাজনা করা, ঢোল বাজানো এবং সূফীদরে বানানো বদিআতী নযি়মে বভিন্নি জকিরি-আজকার করা। কখনও কখনও নারী-পুরুষ একত্রতি হয়ে এসমস্ত কাজে অংশ নযি়ে থাক।ে যার কারণে অনকে সময় অশালীন কাজর্কম সংঘটতি হওয়ার সংবাদও শুনা যায়। এমন কি যদি এ সমস্ত অনুষ্ঠান এধরণরে অশ্লীল কাজ হতে মুক্ত হয় এবং শুধুমাত্র একত্রতি হয়ে খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ-র্ফুতরি মাঝে সীমতি থাক,ে তথাপওি তা বধৈ নয়। কারণ তা নব আবষ্কিৃত বদিআত। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেনে “দ্বীনরে ব্যাপারে প্রতটিি নতুন বষিয়ই বদিআত। আর প্রতটিি বদিআতই গোমরাহী । তাছাড়া এতে অন্যান্য অনুষ্ঠানরে মত অশ্লীল কাজ সংঘটতি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়ছে।ে

কারো জন্মোৎসব পালন করা জায়যে ক?ি

শাইখ আব্দুল আযীয বনি আব্দুল্লাহ বনি বায (রঃ) বলনে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা অন্য কারও জন্মোৎসব পালন করা জায়জে নয়, বরং তা থকেে বরিত থাকা আবশ্যক। কারণ এটি দ্বীনরে মাঝে একটি নতুন প্রর্বততি বদিআত। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনও একাজ করনে ন।ি তাঁর নজিরে বা তাঁর র্পূবর্বতী কোন নবী বা তাঁর কোন আত্মীয়, কন্যা, স্ত্রী অথবা কোন সাহাবীর জন্মদনি পালনরে নর্দিশে দনে ন।ি খোলাফায়ে রাশদেীন, সাহাবায়ে করোম অথবা তাবযে়ীদরে কউে একাজ করনে ন।ি এমন কি র্পূব যুগরে কোন আলমেও এমন কাজ করনে ন।ি তাঁরা সুন্নাহ সর্ম্পকে আমাদরে চযে়ে অধকিতর জ্ঞান রাখতনে এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তার শরীয়ত পালনকে র্সবাধকি ভালবাসতনে। যদি এ কাজটি ছওয়াবরে হত, তাহলে আমাদরে আগইে তাঁরা এটি পালন করতনে।

বদিআত র্বজনরে ব্যাপারে দলীল সমূহ:

ইসলাম একটি পরপর্িূণ দ্বীন। এ দ্বীন পরপর্িূণ বধিায় আমাদরেকে তার অনুসরণ করার নর্দিশে দযে়া হয়ছেে এবং বদিআত থকেে বরিত থাকার আদশে দযে়া হয়ছে।ে

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলনে مَنْ أَحْدَثَ فِى أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدٌّ

“আমাদরে এই দ্বীনরে মাঝে যে নতুন কছিু উদ্ভাবন করব,ে তা প্রত্যাখ্যাত হব।ে”সহীহুল বুখারী

তনিি আরও বলনে:

وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّهَا ضَلاَلَةٌ فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَعَلَيْهِ بِسُنَّتِى وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ عَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ

“তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরর্বতী খোলাফায়ে রাশদেীনরে সুন্নাত পালন করব।ে আর তা দৃঢ়তার সাথে ধারণ করব।ে সাবধান! তোমরা দ্বীনরে মধ্যে নতুন বষিয় আবষ্কিার করা থকেে বরিত থাকব।ে কারণ প্রত্যকে নব প্রর্বততি বষিয়ই বদিআত এবং প্রত্যকে বদিআতই ভ্রষ্টতা”। (তরিমযিী, অনুচ্ছদে: সুন্নত গ্রহণ, ইমাম তরিমযিী বলনে, হাদীসটি হাসান সহীহ)

এসমস্ত হাদীছে বদিআত প্রর্বতনরে বরিুদ্ধে কঠোর সর্তকবাণী উচ্চারণ করা হয়ছেে এবং উম্মতকে এর ভয়াবহতা সর্ম্পকে সাবধান করা হয়ছে।ে

আল্লাহ তায়া’লা বলনে:

فَلْيَحْذَرْ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

“অতএব, যারা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদশেরে বরিুদ্ধাচরণ কর,ে তারা এ বষিয়ে সর্তক হোক য,ে ফতিনা (বর্পিযয়) তাদরেকে গ্রাস করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদরেকে আক্রমণ করব।ে” (সূরা নূর: ৬৩)

আল্লাহ তায়া’লা আরও বলনে:

وَمَاَآتاَكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا

“তোমাদরে জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নযি়ে এসছেনে তা গ্রহণ কর। এবং যা থকেে তোমাদরেকে নষিধে করনে, তা থকেে তোমরা বরিত থাক। (সূরা হাশর: ৭)

আল্লাহ আরও বলনে :

وَلَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِى رَسُوْلِ اللَّهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ

তোমাদরে মধ্যে যারা আল্লাহকে বশেী করে স্মরণ কর,ে পরকালরে আশা রাখে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা কর,ে তাদরে জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর জীবনীতে এক র্সবোত্তম আর্দশ রয়ছে।ে (সূরা আহযাবঃ ২১)

আল্লাহ বলনে:

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمْ الْإِسْلَامَ دِينًا

“আজকরে দনিে তোমাদরে জন্য তোমাদরে দ্বীনকে পরপর্িূণ করে দলিাম। তোমাদরে উপর আমার নযে়ামতকে র্পূণ করে দলিাম এবং ইসলামকে তোমাদরে জন্য দ্বীন হসিাবে মনোনীত করলাম।” (সূরা মায়দোঃ ৩)

এই আয়াতরে মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণতি হয় য,ে উম্মাতে মুহাম্মাদীর জন্য মনোনীত দ্বীনকে আল্লাহ তায়া’লা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ওফাতরে র্পূবইে র্পূণ করে দযি়ছেনে। তনিি এই বষিয়টি পরষ্কিার করে বলে দযি়ছেনে য,ে তাঁর ওফাতরে পরে লোকরো কথায় বা কাজে যে সব নতুন প্রথার উদ্ভাবন করে শরীয়তরে সাথে যুক্ত করব,ে তা বদিআত হসিাবে প্রত্যাখ্যাত হব।ে যদওি এগুলোর উদ্দশ্যে ভাল হয়। সাহাবায়ে করোম এবং তাবযে়ীগণ বদিআত থকেে জনগণকে সর্তক করছেনে ও ভয় প্রর্দশন করছেনে। কনেনা এটা র্ধমরে ভতিরে অতরিক্তি সংযোজন, যার অনুমতি আল্লাহ তায়া’লা কোন মানুষকে প্রদান করনে ন।ি ইহা আল্লাহর দুশমন ইয়াহুদী-খ্রষ্টিান র্কতৃক তাদরে র্ধমে নব প্রথা সংযোজনরে সাথে সামঞ্জস্য স্বরূপ। সুতরাং এরূপ করার র্অথ এই য,ে ইসলাম অসর্ম্পূণ ছলি। মীলাদপন্থীরা মীলাদরে মাধ্যমে তা র্পূণ করে দলিনে। এটা যে কত বড় অপরাধ এবং আল্লাহর বাণীর বরিোধী, তা র্সবজন বদিতি। আল্লাহ বলনে:

اَلْيَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ

“আজ আমি তোমাদরে জন্য তোমাদরে দ্বীনকে পরপর্িূণ করে দলিাম। (সূরা মায়দোঃ ৩)

মীলাদ মাহফলি বা নবীর জন্মোৎসব পালন বা এ জাতীয় অন্যান্য উৎসবাদরি প্রর্বতনরে দ্বারা এ কথাই বুঝা যায় য,ে আল্লাহ তায়া’লা এই উম্মতরে জন্য র্ধমকে র্পূণতা দান করনে নি এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উপর র্অপতি রসোলাতরে দায়ত্বি পালন করনে ন।ি পরর্বতীতে মীলাদপন্থীরা এসে তাকে র্পূণ করে দযি়ছেনে। এতে মারাত্মক ভয়রে কারণ রয়ছেে এবং এধরণরে ইবাদত তরৈি করার মাধ্যমে আল্লাহ তায়া’লা এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর আপত্তি উত্থাপনরে শামলি। অথচ আল্লাহ তাঁর বান্দাদরে জন্য র্ধমকে র্সাবকিভাবে র্পূণ করত: তাঁর নযে়ামত সর্ম্পূণ করছেনে এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলামরে সুস্পষ্ট র্বাতা যথাযথভাবে পৌঁছযি়ে দযি়ছেনে। তনিি এমন কোন পথ, যা জান্নাতরে দকিে নযি়ে যায় এবং জাহান্নাম থকেে দূরে রাখে উম্মতকে তা বলে দতিে কোন ত্র“টি করনে ন।ি

এ কথা সকলরে জানা য,ে আমাদরে নবী সকল নবীদরে মধ্যে র্সব শ্রষ্ঠে ও র্সবশষে। তনিি সবার চযে়ে অধকিতর পরপর্িূণভাবে দ্বীনরে পয়গাম ও উপদশে র্বাতা পৌঁছযি়ছেনে। যদি মীলাদ মাহফলি আল্লাহ র্কতৃক মনোনীত দ্বীনরে অংশ হত, তাহলে তনিি অবশ্যই উম্মতরে কাছে র্বণনা করতনে বা তাঁর সাহাবীগণ তা করতনে। যহেতেু এমন কছিু পাওয়া যায়না, তাই প্রমাণতি হয় য,ে ইসলামরে সাথে এই মীলাদ মাহফলিরে কোন সর্ম্পক নইে বরং এটা বদিআত, যা থকেে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতকে সাবধান থাকতে বলছেনে।

যদি আমরা এই মীলাদ মাহফলিরে বষিয়টি সর্ম্পকে কুরআন মাজদিরে দকিে ফরিে যাই, তাহলে দখেতে পাই আল্লাহ তায়া’লা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে যা আদশে করছেনে বা যা থকেে নষিধে করছেনে, তনিি আমাদরেকে তা অনুসরণ করার আদশে দযি়ছেনে এবং জানযি়ে দযি়ছেনে য,ে তনিি এই দ্বীনকে উম্মতরে জন্য র্পূণতা দান করছেনে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নযি়ে এসছেনে তার মধ্যে মীলাদ মাহফলিরে কোন ইঙ্গতি র্পযন্ত নইে। এভাবে যদি আমরা সুন্নাতরে দকিে লক্ষ্য কর,ি তাহলে দখেতে পাই য,ে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একাজ করনে ন,ি এর আদশেও দনে ন।ি এমন কি তাঁর সাহাবীগণও তা করনে ন।ি তাই আমরা বুঝতে পারি য,ে এটা র্ধমীয় কাজ নয় বরং ইয়াহুদী-খ্রষ্টিানদরে উৎসব সমূহরে অন্ধ অনুকরণ মাত্র। যে ব্যক্তরি সামান্যতম বচিক্ষণতা আছে এবং হক গ্রহণে ও তা বুঝার সামান্য আগ্রহ রাখ,ে তার বুঝতে কোন অসুবধিা হবে না য,ে র্ধমরে সাথে মীলাদ মাহফলি বা যাবতীয় জন্ম র্বাষকিী পালনরে কোন সর্ম্পক নইে। বরং যে বদিআতসমূহ থকেে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নষিধে করছেনে, এটি সগেুলোরই অর্ন্তভুক্ত।

বভিন্নি স্থানে অধকি সংখ্যক লোক এই বদিআতী কাজে লপ্তি দখেে কোন বুদ্ধমিান লোকরে পক্ষে প্রবঞ্চতি হওয়া সংগত নয়। কনেনা সংখ্যাধক্যিরে ভত্তিতিে সঠকি পথ জানা যায়না। বরং শরীয়তরে দলীলরে মাধ্যমে তা অনুধাবন করা হয়।

এই মীলাদ মাহফলি সমূহ বদিআত হওয়ার সাথে সাথে অনকে এলাকায় অন্যান্য পাপরে কাজ থকেওে মুক্ত নয়। যমেন নারী-পুরুষরে মলো-মশো, গান-বাজনা ও মাদক দ্রব্যরে ব্যবহার ইত্যাদ।ি র্সবোপরি এসব মাহফলিে শরিকে আকবার তথা বড় ধরণরে শরিকও সংঘটতি হয়ে থাক।ে আর তা হল রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও অন্যান্য আওলীয়ায়ে করোমরে ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা, তাদরে কাছে দু’আ করা, সাহায্য ও বপিদ মুক্তরি র্প্রাথনা করা এবং এই বশ্বিাস পোষণ করা যে তারা গায়বেরে খবর জাননে। এই সমস্ত কাজ করলে মানুষ কাফরে হয়ে যায়।

অতীব আর্শ্চযরে বষিয় এই য,ে অনকে লোক এ ধরণরে বদিআতী অনুষ্ঠানে উপস্থতি হওয়ার ক্ষত্রেে খুবই তৎপর ও সচষ্টে এবং এর পছিনে যুক্ত-িপ্রমাণ দাঁড় করাতে প্রস্তুত। এধরণরে অনুষ্ঠানরে পছিনে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে তারা দ্বধিা বোধ করে না। অথচ তারা নামাযরে জামাতে ও জুমআতে অনুপস্থতি থাকাতে বন্দিুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করে না। যদওি আল্লাহ তা’আলা এ আমলগুলো পালন করা ওয়াজবি করছেনে। তারা এটাও উপলব্ধি করে না য,ে নামাযরে মত গুরুত্বর্পূণ ইবাদত ছডে়ে দযি়ে তারা চরম অন্যায় করছ।ে নঃিসন্দহেে এটা র্দুবল ঈমানরে পরচিয় এবং পাপাচাররে মাধ্যমে অন্তরকে কুলষতি করে নযে়ার পরচিয় বহন কর।ে

ফাতাওয়া রহমানিয়া থেকে

১২ রউিল আউয়ালে জশ্নে জুলূছে ঈদে মীলাদুন্নবী নামে যে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয় , দামী দামী ব্যানার তৈরী করা হয় , কয়েকদিন যাবত বিভিন্ন প্রোগ্রামসহ বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়, কুরআন হাদীসে এর কোন মূল বা ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না । বিশেষ করে যেই তিন যুগকে (সাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন) খাইরুল কুরুন বা সর্বোত্তম যামানা বলে অভিহিত করা হয়েছে, সেই তিন যুগে এর কোন অস্তিত্বই ছিল না । বরং এগুলো বহু পরে ৬০৪ হিজরীতে আবিস্কার হয়েছে । সুলতান আবূ সাঈদ মুযাফ্ফর ও আবূ খাত্তাব ইবনে দেহইয়া এর উদ্ভাবক ছিলেন । কোন কোন ঐতিহাসিক এ ব্যক্তিদ্বয়কে ফাসিক, কায্যাব ও মিথ্যাশ্রয়ী বলে উল্লেখ করেছেন । তাদের উদ্ভাবিত এ প্রথা শরীয়তের দৃষ্টিতে বিদ’আত ও নাজায়িয কাজ ।

সামান্য চিন্তা করলেও বুঝা যায় যে, এটাকে ঈদ বলে অভিহিত করা যায় না । কারণ-রাসূল সা. যে ১২ ই রবিউল আউয়ালে ইনতিকাল করেছেন এব্যাপারে কোন প্রকার মতভেদ নেই । সুতরাং ১২ই রবিউল আউয়াল নিশ্চিতভাবে রাসূল সা. এর মৃত্যুর তারিখ । আর কোন্ তারিখে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন, এ ব্যাপারে ১২ই রবিউল আউয়াল ছাড়া অন্য কয়েক তারিখের কথাও ইতিহাসের কিতাবে পাওয়া যায় । যেমন ৮ই রবিউল আউয়াল, ৯ই রবিউল আউয়াল। তবে ১২ ই রবিউল আউয়াল হল প্রসিদ্ধ মত । অর্থাৎ, রাসূল সা. এর জন্মগ্রহণের তারিখের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে । অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে রাসূল সা. ১২ই রবিউল আউয়ালে জন্মগ্রহণ করেছেন । কেউ কেউ উপরে বর্ণিত তারিখদ্বয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন । কিন্তু পরলোকগমণের তারিখের ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই । সকলেই ১২ই রবিউল আউয়ালের কথা বলেছেন । এ ব্যাপারে কারো কোন দ্বিমত নেই । এখন চিন্তা করুন, ১২ই রবিউল আউয়াল ঈদ (খুশী)-এর দিবস কিভাবে হতে পারে ?

বরং এটা মুসলমানদের জন্য ভীষণ শোকের এবং দুঃখের হলে তার কিছুটা যুক্তি ছিল । কারণ-এ দিবসেই রাসূল সা. ইন্তেকাল করেছেন । কিন্তু রাসূল সা. এর জন্মের তারিখ হিসেবে তো আর ১২ই রবিউল আউয়আল নির্দ্ধারিত নয় । কাজেই মৃত্যুর দিবসে খুশী করা কত বড় বে-আদবী ও ধৃষ্টতা তা বলার অপেক্ষা রাখে না । আর এগুলো যদি সত্যিকার দ্বীনের কাজই হতো বা এতে যদি রাসূল সা. এর কোন সম্মাান হতো , তাহলে খোলাফায়ে রাশেদীন বা সাহাবা রা. গণও এরূপ জশনে জুলূছের ঈদ করতেন । কিন্তু কোন হাদীসে এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না । বরং উলামায়ে কেরামগণ তো শুধু হাদীসে দুই ঈদের উল্লেখ পেয়েছেন ।

সুতরাং এজাতীয় বিদ’আত ও গর্হিত কাজ থেকে দ্বীনদার মুসলমানদের বেঁচে থাকা কর্তব্য ।

[প্রমাণ কিফায়াতুল মুফতী ১নং খন্ড ১৪৫ পৃষ্ঠা# ইখতিলাফে উম্মত ও সীরাতে মুস্তাকীম ৯০-১২৯# মিশকাত ২৭ পৃষ্ঠা # ওফায়াতুল আয়ান ৪নং খন্ড ১১৭ পৃষ্ঠা ]

দাবী নং ৭

মিলাদ শরীফ পাঠ করা ও মিলাদের মধ্যে কিয়াম করা বা দাড়িয়ে নবীজিকে সালাম দেয়া জায়েজ ও নবীজির প্রতি প্রেম বৃদ্বিধ পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম। এর অস্বিকার কারীরা আন্তর্জাতিক বেয়াদব ও নবীর দুশমন ।

জবাব

মীলাদ মাহফিল প্রসঙ্গ

মীলাদ এর আভিধানিক অর্থ জন্ম ,জন্মকাল ও জন্মতারিখ। পরিভাষায় মীলাদ বা মীলাদ মাহফিল বলতে বোঝায় রাসূল সা. এর জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা বা জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনার মজলিস। তবে আমাদের দেশের প্রচলিত মীলাদ মাহফিল বলতে সাধারণতঃ বোঝায় ঐ সব অনুষ্ঠান , যেখানে মওজূ’ রেওয়ায়েত সম্বলিত তাওয়ালূদ পাঠ করা হয় , রাসূল সা. এর প্রশংসামূলক বিভিন্ন কাসীদা পাঠ করা হয় , ও সমস্বরে দুরূদ শরীফ পাঠ করা হয় । অনেক স্থানে দুরূদ পাঠ করার সময় রাসূল সা. মজলিসে হাজির-নাজির হয়ে যান এই বিশ্বাসে কেয়ামও করা হয়। এসব করা হলে রাসূল সা. এর জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা হোক বা না হোক সেটাকে মীলাদ মাহফিল মনে করা হয়। আর এসব না হলে অর্থাৎ , তাওয়ালূদ পাঠ না হলে , সমস্বরে দুরূদ পাঠ না হলে সেটাকে মীলাদ মনে করা হয়না , চাই সে মজলিসে রাসূল সা. এর আলোচনা করা হোক বা না হোক। তাই প্রচলিত মীলাদ-মাহফিল আর সত্যিকার পারিভাষিক মীলাদ-মাহফিল তথা নবী কারীম সা. এর জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনার মাহফিল আমাদের সমাজে দুটি ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে।

মীলাদ-মাহফিলের হুকুম

পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে , আমাদের দেশে প্রচলিত মীলাদ- মাহফিল আর প্রকৃত মীলাদ-মাহফিল তথা নবী কারীম সা.এর বরকতময় জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা দু’টি ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করেছে। সেমতে প্রচলিত মীলাদ মাহফিল বিদ‘আত আর প্রকৃত মীলাদ-মাহফিল তথা রাসূল সা. এর করকতময় জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনার মাহফিল মুস্তাহাব । এ ব্যাপারে ফাতাওয়ায়ে রশীদিয়্যার কিতাবুল বিদ‘আতে উল্লেখ করা হয়েছে,

নবী কারীম সা. এর জন্ম-বৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা সভা অত্যন্ত পূণ্য ও বরকতময় যখন সেটা সব ধরণের প্রচলিত শর্ত-বন্ধন থেকে মুক্ত হবে। অর্থাৎ, সব ধরনের শর্ত-বন্ধন তথা সময় নিদিষ্ট করণ, কেয়াম ও জাল রেওয়ায়েত বর্ণনা করন ইত্যাদি ছাড়া শুধু নবী কারীম সা. এর জন্ম-বৃত্তান্তের আলোচনা কল্যাণ ও পূণ্যময় কিন্তু বর্তমান প্রচলিত মীলাদ সম্পূর্ণ শরী‘আত বিরোধী এবং বিদ‘আত ও গোমরাহী ।

একটি সন্দেহ-নিরসন

যারা প্রচলিত মীলা-মাহফিলের বিরোধিতা করেন , প্রচলিত মীলাদ পন্থীদের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপারে নবী কারীম সা. এর প্রতি মুহাব্বত- ভালবাসা তথা প্রেম কম থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। অতএব এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে , নিঃসন্দেহে নবী কারীম সা. এর প্রতি মুহাব্বত ও ভালবাসা পোষণ করা প্রকৃত ঈমানের দাবী । আর নবী কারীম সা. এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক বিবরণ এবং নবী কারীম সা. এর প্রতিটি কথা ও কাজকে বর্ণনা করা আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জনের মহান উপায়। তাই জীবনের এমন কোন মুহুর্ত নেই যখন নবী কারীম সা. এর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা করা নিষেধ। কিন্তু প্রচলিত মীলাদ-মাহফিলের বৈধতার জন্য দু’টো বিষয় দেখার রয়েছে ঃ

দেখতে হবে প্রচলিত মীলাদ-মাহফিল নবী কারীম সা. সাহাবায়ে কেরাম এবং খাইরুল কুরুনের কারও থেকে প্রমাণিত কিনা ? যদি প্রমাণিত হয় , তাহলে মুসলামনদের এতে কুন্ঠাবোধ করার কোন অবকাশ নেই । কেননা ,তারা যা কিছু করেছে সেটাই দ্বীন । আর যদি প্রমাণিত না হয় , তাহলে তা দ্বীনী কাজ নয় বরং দ্বীন বহির্ভূত গর্হিত কাজ । কিন্তু নবী কারীম সা. এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর দীর্ঘ ২৩ বৎসর ,খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরামের সুদীর্ঘ কাল অতঃপর তাবেঈন , তাবে তাবেঈনের সময়কাল ছিল প্রায় ৪০০ বৎসর। নবী প্রেম ছিল তাদের মাঝে চরম পর্যায়ের। নবীর প্রতি তাদের চাইতে বেশী ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আর কেই করতে পারবে না। এতদ্বসওে¦ও খাইরুল কুরুনের এ সুদীর্ঘ সময়টিতে মীলাদ মাহফিল করার কোন প্রমাণ নেই। এখন প্রশ্ন হল- তাঁদের মাঝে নবী প্রেম চুড়ান্ত পর্যায়ের থাকা সওে¦ও বিদ‘আতীদের কথিত ও আচরিত বরকতময় অসীম পূণ্যের এ কাজটি তাঁরা কেন করেননি? নিশ্চই তাঁরা এটাকে পূণ্যের কাজ মনে করেননি । সুতরাং খাইরুল কুরুনে যেটা পূণ্যের কাজ ছিল না সেটা এতদিন পর এসে পূণ্যের কাজ হতে পারে না। নবী কারীম সা. এবং খাইরুল কুরুণ-এর পূণ্যবান ব্যক্তিগণ যা বলেছেন তা-ই দ্বীন আর যা তাঁরা বর্জন করেছেন তা দ্বীন বহির্ভূত ।

২.প্রচলিত মীলাদ-মাহফিল না করাকে নবী প্রেম না থাকার নামান্তর আখ্যায়িত করা ভুল। নবী কারীম সা. কে ভালবাসা বা নবী প্রেমের পদ্ধতি কি তাও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আর তা হল নবী কারীম সা. এর সুন্নতকে ভালবাসা , নবী কারীম সা. এর সাহাবায়ে কেরামকে ভালবাসা, নবী কারীম সা. এর দেশের মানুষকে ভালবাসা , নবী কারীম সা. যা ভালবেসেছেন তাই ভালবাসা ইত্যাদি । হাদীসে এগুলিকে ভালবাসাই রাসূল সা. কে ভালবাসা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

মীলাদ-মাহফিলের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

৬ষ্ঠ শতাব্দী পর্যন্ত কোন সাহাবী , তাবেঈ , তাবে -তাবেঈ , মুহাদ্দিছীন কিংবা কোন ফকীহ ওবুযুর্গ এই মীলাদের প্রচলন করেননি । বরং মুসেল শহরের অপচয়ী ও ধর্মীয় ব্যাপারে উদাসীন বাদশাহ্ মুজাফফরুদ্দীন কুক্রী ইবনে ইরবিল (৫৪৯-৬৩০ হিঃ) এর নির্দেশে সর্বপ্রথম ৬০৪ হিজরীতে এই মীলাদ মাহফিলের সূচনা হয়। এব্যাপারে মীলাদের স্বপক্ষে দলীলাদি সম্বলিত কিতাব রচনা করে বাদশাকে সহযোগিতা করেন দুনিয়ালোভী দরবারী মৌলভী উমার ইবনে হাছান ইবনে দেহ্ইয়া আবুল খাত্তাব। (রাহে সুন্নাত)

এই বাদশার চরিত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে ইমাম আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ মিসরী মালেকী উল্লেখ করেন,

كانت ملكا مسرفا يآمر علماء زمانه ان يعملوا باستنباطهم واجتهادهم وان لا يتبعوا لمذهب غيرهم حتى مالت اليه جماعة من العلماء وطاءفة من الفضلاء ويحتفل لمولد النبي صلى الله عليه وسلم

فى الربيع الاول و هو اول من الملوك هذا العمل . القول المعتمد فى عمل المل المولد.

অর্থঃ সে ছিল একজন অপচয়ী বাদশাহ্ । সে তার সময়কার উলামায়ে কেরামকে অন্যের মাযহাব অনুসরণ বর্জন করে নিজ নিজ ইজতিহাদ ও গবেষণা অনুসারে চলার নির্দেশ দিত । আর এতে দুনিয়া পুজারী উলামা ও ফুযালার একটি দল তার দিকে ঝুকে পড়ে । সে রবিউল আওয়ল মাসে মীলাদ-মাহফিলের আয়োজন করত । বাদ্শাহদের মাঝে এ-ই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি এই বিদ‘আতের (মীলাদ-মাহফিলের ) প্রচলন করেন ।

এ অপচয়ী বাদ্শাহ প্রজাদের অন্তরকে নিজের দিকে আকুষ্ট ও অনুরক্ত রাখার জন্য এই বিদ‘আত উৎসবের আয়োজন করত , আর তাতে জাতির বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদ অকাতরে অপচয় করত । এ অপচয়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লামা যাহাবী রহ. বলেন,

كان ينفق كل سنة على مولد النبى صلى الله عليه وسلم نحو ثلاث مآة الف

অর্থাৎ সে প্রতি সৎসর মীলাদ-মাহফিলে প্রায় তিন লাখ (দেরহাম/দীনার) ব্যয় করত। (দুয়ালুল ইসলাম ২/১০৩)

দুনিয়ালোভী দরবারী মৌলভী উমার ইবনে হাছান ইবনে দেহ্ইয়া আবুল খাত্তাব যিনি মীলাদ-মাহফিল ও জশনে জুলুসের স্বপক্ষে দলীল প্রমাণ সম্বলিত কিতাব রচনা করে বাদ্শাহর কাছ থেকে প্রচুর অর্থ কড়ি হাতিয়ে নিয়েছেন , তার ব্যাপারে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বর্ণনা করেন,

كثير الواقعة فى الائمة وفى السلف من العلماء خبيث اللسان احمق شديد المكر قليل النظر

فى امور الدين متهاونا

অর্থাৎ, সে আইম্মায়ে দ্বীন এবং পূর্বসূরী উলামায়ে কেরামের ব্যাপারে অত্যন্ত আপত্তিকর ও গালিগালাজ মূলক কথাবার্তা বলত । সে ছিল দুষ্টভাষী , আহমক ও চরম ধোকাবাজ । আর ধর্মীয় ব্যাপারে ছিল চরম উদাসীন । (লিসানুল মীযান)

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী আরো বর্ণনা করেন,

قال ابن النحار رايت الناس محتمعين على كذبه و ضعفه

অর্থাৎ. ইবনে নাজ্জার রহ. বলেন, আমি মানুষদেরকে তার (উমার ইবনে হাছান ইবনে দেহ্ইয়া আবুল খাত্তাব-এর) মিথ্যা ও অবিশ্বাসযোগ্যতার উপর ঐক্যবদ্ধ বা একমত পেয়েছি। (লিসানুল মীযান)

সুতরাং উপরোক্ত বিবরণ থেকে বোঝা গেল যে, মীলাদ মাহফিল প্রচলনকারীদের একজন হলেন প্রতারক , ধূর্তবাজ বাদ্শাহ , আরেকজন হলেন স্বার্থান্বেষী দুনিয়ালোভী মৌলভী । আর তাদের সাথে মিলিত হয়েছেন ঐ সকল পীর , সূফী-যারা ধর্মীয় জ্ঞানের গভীরতায় পৌঁছেননি । এ তিন দলের সমন্বিত প্রয়াস ও অপপ্রচারে সাধারণ জনগণ হয়েছেন বিভ্রান্ত। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. যথার্থই বলেছেন,

و هل افسد الدين الا الملوك + و احبار سوء ورهبانها

অর্থাৎ, রাজা বাদশাহ অসৎ পন্ডিত ও সাধুরাই দর্মকে নষ্ট করে থাকে।

প্রচলিত মীলাদ-মাহফিল সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের উক্তি

তাই সর্বযোগের হক পন্থীরা এবং সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম কঠোরভাবে এর (মীলাদ-মাহফিলের) বিরোধিতা করেছেন এবং বাতিল পন্থীদের সমস্ত ভ্রান্ত যুক্তি খন্ডন করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া হাম্বলী রহ. (তার ফাতাওয়ার ১ম খন্ডের ৩১২নং পৃষ্ঠায়), ইমাম নাসিরুদ্দিন শাফেঈ رشاد الاخيارগ্রন্থে, মুজাদ্দেদে আলফেসানী রহ.مكتوبات ৫ম খন্ডের ২২ নং পৃষ্ঠায় এবং ইবনে আমীরুল হাজ্ব মালেকী রহ. সুস্পষ্ট রূপে বর্ণনা করেছেন,

ومن جملة ما احدثوا من البدع مع اعتقادهم ان ذلك من اكبر العبادات واظهار الشعائر ما يفعلون فى الشهر الربيع الاول من المولد وقد احتوى ذلك على بدع ومحرمات الى ان قال وهذه المفاسد مترتبة على فعل المولد اذا علم بالسماع فان خلا منه وعمل طعاما فقط ونوى به المولد ودعا اليه الا خوان وسلم من كل ما تقدم ذكره فهو بدعة بنفس نيته فقط لان ذلك زيادة فى الدين وليس من عمل السلف الماضين و اتباع السلف اولى

আল্লামা আব্দুর রহমান মাগরীবী তার ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেন,

ان عمل المولد بدعة لم يقل به ولم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم والخلفاء الائمة

كذا فى الشرعة الالهية –

অর্থাৎ, মীলাদকর্ম বিদ‘আত । রাসূল সা. , খোলাফায়ে রাশেদীন ও ইমামগণ কেউ এ ব্যাপারে বলেননি এবং তা করেননি।

আল্লামা আ‏হমদ ইবনে মুহাম্মদ মিসরী মালেকী (রহঃ) লিখেন-

قد اتفق علماء المذاهب الاربعة بذم هذا العمل – راه سنة از القول المعتمد فى عمل المولد

অর্থাৎ, মাযহাব চতুষ্ঠয়ের উলামায়ে কেরাম এই কাজ (মীলাদ) নিন্দনীয় হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ ।

প্রচলিত মীলাদ পন্থীদের দলীল-প্রমাণ ও তার খন্ডন

পূর্বের বক্তব্যে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, খাইরুল কুরুনে এই মীলাদ মাহফিলের সূচনা হয়নি । বরং ৬ষ্ঠ শতাব্দির পর এর সূচনা হয়েছে। সূচনা কারীদের অবস্থা আলোচিত হয়েছে যে, তৎকালীন এক বদকার বাদশাহ এর পৃষ্টপোষকতা করেছেন । আর স¤্রাটের গৃহিত এই নীতির পরে সর্ব সাধারণের মাঝে এর ব্যপক প্রভাব পড়েছে। এমনকি বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিবর্গও এই বিভ্রান্তির শিকার হয়ে পড়েছেন ।

এত কিছুর পর মীলাদের স্বপক্ষে গ্রহণযোগ্য যুক্তি প্রমাণ না দিতে পেরে প্রসিদ্ধ বিদ‘আতী মৌলভী আব্দুস সামাদ সাহেব আরো অনেকে নিজেদের আত্ম প্রশান্তি ও অনুসারীদের সান্তনা প্রদানের জন্য তিহাত্তরজন মনীষীর তালিকা পেশ করেছেন , যারা মীলাদ অনুষ্ঠানকে পছন্দ করতেন ।

কিন্তু এ তালিকায় সাহাবায়ে কেরাম , তাবেঈন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন এবং নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিছীনে কেরামের নাম নেই। যাদের নাম আছে তাদের অধিকাংশই সূফীয়ায়ে কেরাম , মুজাদ্দিদে আলফে সানী (রহঃ) এর কথা ( হালাল হারামের ব্যাপারে সূফীদের কথা সনদ নয়) অনুযায়ী যাদের আমল গ্রহণযোগ্য নয়। আর যে কয়েকজন দার্শনিক আলেম রয়েছেন তারা ভ্রান্ত কিয়াসের শিকার হয়েছেন। আবার অনেকেই শুধু জন্ম বৃত্তান্তের আলোচনাতে মুস্তাহাব বা উত্তম বলেছেন , যেটাকে কেউ অস্বীকার করেন না । প্রচলিত মীলাদের কথা তারা বলেননি ।

মুফতী আহমদ ইয়ার খান সাহেব মীলাদেরস্বপক্ষে একটি দলীল পেশ করেছেন যে, হারামাইন শরীফাইনে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পবিত্র মীলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয় এবং যে রাষ্টেই যাবে সেখানেই মুসলমানদের মাঝে এ কাজটি পাবে। বুযুর্গানে দ্বীন এবং উলামায়ে কেরাম এর বড় বড় ফায়দা বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন , সবযুগেই সবস্থানেই উলামায়ে কেরাম , মাশায়েখ ও সাধারণ মুসলমান মুস্তাহাব জেনে আসছেন-“মুস্তাহাব হওয়া-এর জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে , মুসলমান কাজটিকে ভাল জানে।”

খন্ডন

এই দলীলের উত্তর হল- তখন এ হারামাইন শরীফাইনও ছিল, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন তাঁরাও ছিলেন । তাঁরা কি মীলাদ মাহফিলের বরকত ও ফযীলত সম্পর্কে অবগত ছিলেন না ? তবে কেন তাঁরা করেন নি ? সাহাবায়ে কেরাম , তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন , আইম্মায়ে মুজতাহিদীন সকলেই এমন একটি উত্তম কাজ পরিত্যাগ করেছেন তা কি মেনে নেয়া যায় ?

আর শরী‘আতের ভাষ্যসমূহ (نصوص) এর মাঝে হারামাইন শরীফাইনের অনেক ফযীলত ও মর্যাদার কথা এসেছে । তবে হারামাইন শরীফাইন তথা সেখানকার আমল শরী‘আতের দলীল নয়। সেখানে শরী‘আত পরিপন্থী কাজের প্রচলনও হয়ে পড়তে পারে । শরী‘আতের দলীল মাত্র চারটি তথা কোরআন , হাদীস , ইজমা , কিয়াস । তাই হারামাইন শরীফাইনে যদি কোন ভাল কাজ হয় তাহলে ভাল نور على نور – । অন্যথায় কক্ষনো তা দলীল হতে পারে না । হারামাইনেও মাঝে মধ্যে অন্যায় কর্ম সংঘটিত হয়েছে তার প্রমাণ রয়েছে । মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) এক সময়কার হারামাইন শরীফাইনের অবস্থার বিবরণ দিয়ে বলেছেন,

فى الحرمين الشريفين من شيوع الظلم وكثرة الجهل وقلة العلم وظهور المنكرات وفشو البدع والسيئات واكل الحرام والشبهات

অর্থাৎ, হারামাইন শরীফাইনের মাঝে অন্যায় অত্যাচার ব্যাপক লাভ করেছে, অজ্ঞতা বেড়ে গেছে , ইলম কমে গেছে , অপ্রীতিকর কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে, বিদ‘আত প্রসার লাভ করেছে, হারাম ও সন্দেহপূর্ণ জিনিস খাওয়া বেড়ে গেছে। (মেরকাত ৫ম খন্ড ৬১৪ নং পৃষ্ঠা)

অতএব হারামাইন শরীফাইন দলীল হতে পারে না। আর মুফতী আহমদ ইয়ার খান সাহেব বলেছেন, মুস্তাহাব হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, মুসলমান সেটাকে ভাল জানে । অথচ মুস্তাহাব তো অনেক- উঁচু জিনিস , বরং ( মোবাহ হওয়াটা) ও শরী‘আতের একটি হুকুম, যা নবী কারীম সা. এর কথা বা কাজ ছাড়া প্রমাণিত হয় না । এ ব্যাপারে আল্লামা শামী (রহঃ) লিখেছেন, الاستحباب حكم شرعى لا بدله من دليل

অর্থাৎ, মুস্তাহাব হওয়া শরী‘আতের একটি হুকুম । তাই তার জন্য দলীলের প্রয়োজন রয়েছে।

সারকথা- উপরের এই সুদীর্ঘ আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, প্রচলিত মীলাদ-মাহফিল বিদ‘আত এবং দ্বীন-বহির্ভুত বিষয় । তবে রাসূল সা. এর বরকতময় জন্ম-বৃত্তান্ত এবং তাঁর আদর্শ আলোচনার মজলিস মুস্তাহাব ও উত্তম ।

মীলাদে কেয়াম করা প্রসংঙ্গ

কেয়াম কাকে বলে

“কেয়াম” শব্দের আভিধানিক অর্থ দাঁড়ানো । আর মুআশারা তথা সমাজ সামাজিকতার পরিভাষায় “কেয়াম” বলতে বোঝায় কারও আগমনে দাঁড়ানো । আর মীলাদ প্রসঙ্গে উল্লেখিত কেয়াম: দ্বারা বোঝানো হয় বিশেষ ধরনের কাসীদা পাঠ করার পর রাসূল সা. মজলিসে হাজির হয়ে গেছেন ধারণায় “ইয়া নবী …” বলার সময় দাঁড়িয়ে যাওয়া এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দুরুদ পাঠ করা ।

সমাজ-সামাজিকতায় কেয়ামের হুকুম

কোন বুযুর্গ তথা সম্মানী ব্যক্তি যখন স্বশরীরে আগমন করেন,তখন কোন কোন মুহূর্তে কোন ধরণের বাড়াবাড়ি ছাড়াছাড়ি ছাড়া ক্বেয়াম করা (আগন্তুক ব্যক্তির সম্মানে দাঁড়িয়ে যাওয়া)বৈধ । এ ব্যাপারে ইমাম নববী (রহঃ)قوموا الى سيدكم (অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের নেতার কাছে গিয়ে দাঁড়াও) হাদীস দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন।

অন্যান্য উলামায়ে কেরাম এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এ ভাবে যে, হযরত সাআদ ইবনে মু‘আয (রাঃ) আঘাত প্রাপ্ত ছিলেন । নবী কারীম সা. তাঁকে গাঁধার পিঠ থেকে নামানোর জন্য মজলিস থেকে উঠেছিলেন । এটা কোন সম্মান প্রদর্শনের নিমিত্তে দাঁড়ানো নয়। এ ব্যপারে মুসনাদে আহমদে বিবরণ নি¤œরূপঃ

قوموا الى سيدكم فانزاره من الحمار – অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের নেতার কাছে গিয়ে দাঁড়াও তাঁকে গাঁধার পিঠ থেকে নামাও । এজন্যই الى سيدكم “তোমাদের নেতার কাছে ” কথাটা বলেছে- لسيدكم “নেতার জন্য” কথাটা বলেননি । ( মুসনাদে আহমদ)

যাহোক উপরোক্ত হাদীস অকাট্য অর্থ বোধক না হওয়ায় এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের আমল কি ছিল এবং নবী কারীম সা. কোন আমলটিকে পছন্দ করতেন, তা দেখা দরকার এবং সেটাই হবে আমাদের আমল । আর এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে যানা যায় হযরত আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত নিমোক্ত হাদীস দ্বারা-

عن انس قال لم يكن شخص احب اليهم من رسول لله صلى الله عليه وسلم وكانوا اذا رآوه لم يقوموا لما يعلمون من كراهيته لذلك رواه الترمذى فى اباب الاستيذان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم – باب ماجاء فى ركاهية قيام الرجل للرجل وقال هذا حديث حسن صحيح غريب ورواه احمد حديث رقم ١٢٢٨٥ واسناده صحيح كذا فى هامشه

অর্থাৎ, হযরত আনাস (রাঃ) বলেন , সাহাবায়ে কেরামের কাছে নবী কারীম সা. এর জাত মোবারকের চেয়ে বড় সম্মানের ও প্রিয় এ দুনিয়তে আর কোন কিছুই ছিল না , এতদসত্বেও তাঁরা নবী কারীম সা. কে দেখলে ক্বেয়াম করতেন না । যেহেতু তারা জানতেন নবী কারীম সা. এ কাজটিকে (তাঁর সম্মানে দাড়িয়ে যাওয়া ক্বেয়াম করাকে ) অপছন্দ করেন । (তিরমিযী ও মুসনাদে আহমদ)

মীলাদে কেয়াম-এর হুকুম

পূর্বে উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী কারীম সা. নিজের জন্য কেয়াম করাকে অপছন্দ করতেন। তাই সাহাবায়ে কেরাম নবী কারীম সা. এর প্রতি চরম ভালবাসা ও মহব্বত পোষণ করা সত্বেও নবী কারীম সা. যখন স্বশরীরে উপস্থিত হতেন তখন তাঁকে দেখতে পেয়েও তাঁরা দাঁড়াতেন না। তাই মীলাদ-মাহফিলে রাসূল সা. এর নাম আসলে যদি মেনে নেয়া হয় যে,তিনি হাজির হয়ে যান তবুও কেয়াম করা যাবে না। কেননা , নবী কারীম সা. এর জীবদ্দশায় ও তাঁর জন্য কেয়াম করা হত না এবং তিনি তাঁর উদ্দেশ্যে কেয়াম করা তথা দাঁড়িয়ে যাওয়াকে পছন্দ করতেন না । তদুপরি মীলাদ-মাহফিলে রাসূল সা. এর নাম আসলে সেখানে রাসূল সা. এর আগমন ঘটে এটা শরী‘আতের কোন দলীল দ্বারাও প্রমাণিত নয় । বরং রাসূল সা. এর উদ্দেশ্যে দুরূদ পাঠ করা হলে তিনি সেখানে হাজির হন না বরং নির্ধারিত ফেরেশÍারা রাসূল সা. এর কাছে সে দুরূদ পৌঁছে দেন-এ কথা স্পষ্টঃ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে । হাদীসে এরশাদ হয়েছে,

عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من صلى على عند قبرى سمعته ومن صلى على نا ءيا ابلغته رواه البيهقى فى شعب الايمان فى باب فى تعظيم النبى صلى الله عليه وسلم واجلاله وتوقيره حديث رقم ١٥٨٣ وللحديث شواهد ساقها السخارى فى القول البديع

অর্থাৎ, হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, যে আমার কবরের নিকট এসে আমার উপর দুরূদ পাঠ করবে আমি তা সরাসরি শুনব, আর যে দূরে থেকে আমার উপর দুরূদ পাঠ করবে তা আমার নিকট পৌঁছানো হবে । (শুআবুল ঈমান)

অন্য এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,

عن عيدالله بن مسعود رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان لله ملئكته سياحين فى الارض يبلغونى من امتى السلام رواه الدرمى فى كتاب الرقاق باب فى فضل الصلاة على النبى صلى الله عليه وسلم . حديث رقم .٢٧٧٤

واسناده صحيح كذا فى هامشه. ورواه النسائى فى كتاب الافتتاح – باب التسليم على النبى صلى الله عليه وسلم . ورواه ابن حبان صحيحه .حديث رقم ٩۰٢. واللفظ للدارمى

অর্থাৎ, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর কতক ফেরেশÍা রয়েছেন, যারা পৃতিবীতে ভ্রমণ করেন এবং আমার উম্মতের সালাম আমার নিকট পৌঁছান । (নাসায়ী, দারিমী ও ইবনে হিব্বান)

কেয়াম পন্থীদের কেয়াম সম্বন্ধে বক্তব্য ও তার খন্ডন

বিদ ‘আতীদের বক্তব্য হল মীলাদ-মাহফিলে রাসূল সা. এর নাম আসলে তিনি মজলিসে হাজির হয়ে যান । তাই তাঁর সম্মানার্থে কেয়াম করতে হবে অর্থাৎ. দাঁড়িয়ে যেতে হবে। বিদ ‘আতীগণ এই কেয়াম করাকে জায়েয এবং মুস্তহাব হিসাবে গন্য করেন। এমনকি এটাকে ওয়াজিব ও ফরয বলেও আখ্যায়িত করেন । আর কেয়াম না করনেওয়ালাদেরকে কাফের পর্যন্ত বলা হয়। ( এ কথার বরাত একটু পরেই উল্লেখ করছি।)

খন্ডন

পূর্বোল্লিখিত হাদীসে স্পষ্ট ঃ রাসূল সা. বলেছেন যে, তাঁর কাছে দুরূদ সালাম পৌঁছে দেয়া হয়, তিনি হাজির হন না। অথচ বিদ ‘আতীগণ বলেছেন তার বিপরীত। হাদীসে বর্ণিত আকীদার বিপরীত কোন বিষয় কিভাবে মুস্তাহাব এমনকি ফরয হয়ে যায় তা বোধগম্য নয় । আর যারা হাদীসে বর্ণিত আকীদা মোতাবেক মীলাদের মজলিসে রাসূল সা. এর হাজির না হওয়ার আকীদা রাখেন, তারা কিভাবে কাফের হয়ে যান তা আরও অবোধগম্য বৈ কি ? যারা কুরআন হদীসের বর্ণনা মোতাবেক আকীদা পোষন করেন তাদেরকে কাফের আখ্যায়িত করা , পক্ষান্তরে যারা কুরআন হাদীসের বর্ণনার বিপরীত আকীদা পোষণ করেন তাদেরকে খাঁটি মুসলমান মনে করাটা কি কুফরি নয় ?

একটি অপকৌশল প্রসঙ্গ

মীলাদ মাহফিলে রাসূল সা. হাজির হওয়ার বিষয় অস্বীকারকারী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের লোকদেরকে কাফের আখ্যা দেয়ার অপরাধকে ঢাকা দেয়ার জন্য প্রসিদ্ধ বিদ ‘আতী আলেম মুফতী আহমদ ইয়ার খান সাহেব বলেলেছেন যে, ‘মুসলমান মীলাদের মাঝে কেয়াম করাকে ওয়াজিব মনে করে’-এ কথাটি মুসলমানদের উপর অপবাদ মাত্র । কেননা , কোন আলেমে দ্বীন একথা লেখেনও নি বলেনও ন যে, কেয়াম করা ওয়াজিব । বরং সর্ব সাধারণও এ ধারণাই পোষণ করে যে, কেয়াম মীলাদ এগুলো পূণ্যের কাজ ।

মুফতী সাহেবের এ দাবী সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং অবাস্তব সম্মত । কেননা , মৌলভী আব্দুস সামী’ নিজের দাবীর স্বপক্ষে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহ্ইয়া- মুফতীয়ে হানাবেলা থেকে বর্ণনা করেন,

يجب القيام عند ذكر ولادة صلى الله عليه وسلم راه سنت از انوار ساطعه ٢٥۰

অর্থাৎ, নবী কারীম সা. এর জন্ম -বৃত্তান্তের আলোচনার সময় কেয়াম করা ওয়াজিব ।

অনুরূপভাবে বিদ‘আতীদের প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ফাতাওয়ার কিতাব “মাজমুআ ফাতাওয়া” অর্থাৎ, غا ية المرام এর ৫৫-৫৬-৬৭-৭১ নং পৃষ্ঠায় পরিস্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রত্যেক মীলাদ-মাহফিলে নবী কারীম সা. উপস্থিত হন। এবং তাঁর সম্মানে কেয়াম করা ফরয। কেয়াম না করনেওয়ালা কাফের ।

দাবী নং ৮

প্রচলিত ছয় উসূলের তাবলীগ বিদআতে ছাইয়্যা (হারাম) । আর পাঁচ (আপনার লেখা পাঁচ রাসূলের ,সঠিক হল পাঁচ উসূলের ) উসূলের তাবলীগ হল তাবলীগে রাসূল। অর্থাৎ সুন্নাতে রাসূল , সুন্নাতে সাহাবা, সুন্নাতে আউডিলয়া ।
জবাব
ছয় উসূলের তাবলীগ বেদআত নয় বরং হযরত আদম আ. থেকে নিয়ে হযরত মুহাম্মদ সা. পর্যন্ত সমস্ত নবী, রাসূল, সাহাবা তাবেয়ীন এবং আউলিয়াগণ উক্ত ছয় উসূলের তাবলীগ করেছেন, যার হাজার হাজার প্রমাণ কুরআন হাদীস এবং ইতিহাসে রয়েছে ।
উক্ত ছয়টি উসূল হলো ঃ
(১) কালিমা (২) নামায (৩) ইলম ও যিকির (৪) ইকরামুল মুসলিমিন (৫) তাসহীহুন নিয়্যাত (৬) তাবলীগ ।

১. কালিমা
لا اله الا الله محمد رسول الله
এ কথার তাবলীগ রাসূল সা. নিজে করেছেন,সাহাবায়ে কেরাম করেছেন, তাবেয়ীনগণ করেছেন, তাবেতাবেয়ীনগণ করেছেন , আইম্মায়ে মুজতাহিদীনগণ করেছেন এবং আজ পর্যন্ত সর্বযুগের হক্কানী আলেমগণ এ কালিমার তাবলিগ করছেন । এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে, যে দিন এ কালিমার তাবলিগ থাকবে না সে দিন আর দুনিয়াও আল্লাহ তাআলা রাখবেন না ।
এ ছাড়াও পৃথিবীতে এমন কোন নবী বা রাসূল আসে নাই যিনি তৎকালিন কালিমার দাওয়াত মানুষকে দেন নাই বরং নবী রাসূলদেরকে আল্লাহ তাআলা যে দায়িত্ব দিয়ে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন তার প্রথম নাম্বারই হলো কালিমার দাওয়াত দেয়া অর্থাৎ আল্লার সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেয়া । অতএব এ কালিমার তাবলীগ কি করে বিদআত হয় ?
২. নামায
ঈমান আনার পর সর্ব প্রথম ইবাদত হচ্ছে নামায । কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব নিবেন, এ কথাগুলো সমস্ত হাদীস গ্রন্থে অসংখ্যবার এসেছে । কুরআনে কারীমে নামাযের ব্যাপারে ৮০ টির বেশী আয়াত নাযিল হয়েছে । হযরত আদম আ. থেকে নিয়ে শেষ নবী মুহামাদ সা. পর্যন্ত সকল নবী রাসূলগণ নামায পড়েছেন এবং এর তাবলীগ করেছেন । অতএব এই নামাযের তাবলীগকে যারা বিদআত বলে তারা মুসলমান কি করে হয় ?

৩. ইলম ও যিকির
ইলম হচ্ছে আল্লাহ পাককে চিনা এবং আল্লার আদেশ-নিষেধগুলোকে জানা । অর্থাৎ শরীয়তের সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা । আর যিকির হচ্ছে আল্লাহকে স্মরণ করা এবং আল্লাহ পাকের নামের তাসবীহ পাঠ করা । ইলম শিক্ষার গুরুত্ব, ফযিলত এবং যিকিরের গুরুত্ব ও ফযিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে শত শত প্রমাণ রয়েছে । অতএব এই ইলম ও যিকিরের তাবলীগ করা কিভাবে বিদআত হয় ?

৪. ইকরামুল মুসলিমিন
ইকরামুল মুসলিমিন মানে অপর ভাইয়ের সহযোগিতা করা । সমস্ত নবী রাসূলগণ মানুষের প্রতি ইকরাম করেছেন এবং ইকরাম করার জন্য মানুষকে তাবলীগও করেছেন । হযরত সাহাবায়ে কেরামগণও ইকরাম করেছেন ইকরাম করার তাবলীগ করেছেন আজ পর্যন্ত দুনিয়ার সকল নেককার লোকেরা মানুষের প্রতি ইকরাম করে এবং ইকরাম করার জন্য মানুষকে তাবলীগ করে , কুরআন হাহীসে যার হাজার হাজার প্রমাণ রয়েছে । তারপরও ইকরামুল মুসলিমিনের তাবলীগকরা কিভাবে বিদআত হতে পারে?

৫. তাসহীহুন নিয়্যাত
নিয়্যত পরিশুদ্ধ করা । বুখারী শরীফের প্রথম হাদীস হলো নিয়্যতকে পরিশুদ্ধ করার জন্য আর তা হলো, انما الاعمال بالنيات সমস্ত আমল নির্ভর করে নিয়্যতের উপর । নিয়্যত পরিশুদ্ধ করার ব্যাপারে হাদীস প্রায় সমস্ত হাদীস গ্রন্থে রয়েছে এবং নিয়্যত পরিশুদ্ধ করার তাবলীগ রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরাম থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত সকল মুবাল্লিগগণ করছেন । অতএব নিয়্যত পরিশুদ্ধ করার তাবলীগ কি করে বিদআত হতে পারে ?
৬. তাবলীগ
তাবলীগ হলো, শরীয়তের জ্ঞান যার কাছে যতটুকু আছে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়া । আল্লাহ তাআলা এ উদ্দেশ্য নিয়েই সমস্ত নবী রাসূলদেরকে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন । এ ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে অগণিত প্রমাণ রয়েছে । দ্বীনের দাওয়াত দেয়া যদি বিদআত হয় তাহলে আল্লাহও কি তার নবী রাসূলগণকে দিয়ে বিদআত কাজ করিয়েছেন ? এ কথা যারা বলে তাদের ঈমানের কি অবস্থাহতে পারে ?

বিঃ দ্রঃ
ছয় উসূলের তাবলীগ জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে কোন দলীল পেশ করিনি । কারণ, যারা কুরআন-হাদীস পড়তে যানেন তারা অবশ্যই বুঝতে পারছেন যে, উক্ত ছয়টি বিষয়ের দলীল কুরআন ও হাদীসে অগণিত এবং তা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট । তাই এখানে কোন দলীল ও প্রমাণ পেশ করা প্রয়োজন মনে করিনি।
প্রশ্ন ঃ
শরীয়তের উসূল হলো ৫টি আর প্রচলিত তাবলীগের উসূল হলো ৬টি তাহলে শরীতের উপর বাড়াবাড়ি হলো না ?
উত্তর ঃ
তাবলীগের উসূল ছয়টি বলা হয়েছে , শরীীয়তের নয় । কারণ শরীয়তের উসূল ৫টি এ কথা সকলকেই মানতে হবে না হয় ঈমান থাকবে না । অতএব দুটি কথার মধ্যে কোন ধরনের বিরোধিতা নেই ।
যারা তাবলীগের উক্ত ৬টি উসূলের ব্যপারে বিদআত বলবে তাদের তওবা করা জরুরী । আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তওবা করার তাওফিক দান করুন । []আমীন]

দাবী নং ৯

জানাযার নামাজের পর দাফনের পূর্বে মৃত ব্যক্তির জন্য সংক্ষিপ্তভাবে খালেস দোআ করা সুন্নাতে রাসূল ও সুন্নাতে সাহাবা ।
জবাব
জানাযা পড়াটাই প্রকৃত পক্ষে মাইয়্যিতের জন্য মুসলমানদের তরফ থেকে আল্লাহ তাআলার নিকট উৎকৃষ্ট সম্মিলিত দু’আ । জানাযার তৃতীয় তাকবীরের পর দু’আ পড়ে মায়্যিতের জন্য সকলে মিলে আল্লার কাছে মাগফেরাত কামনা করে থাকে । কাজেই জানাযা পড়ে তার জন্য সকলে মিলে আবার দু’আ করা নিষ্পপ্রয়োজন এবং এ ধরনের দু’আ করার কথা কুরআন হাদীসে সাবেত নেই ।বরং জানাযার পর দু’আ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে । কারণ, এতে মায়্যিতকে দাফন করতে দেরি হয়ে যায় যা শরীয়তে নিষেধ । এই কারণে জানাযার পর মায়্যিতের চেহারা দেখা নিষেধ করা হয়েছে । কারণ, এতেও দাফনে দেরি হয়ে যায় ।

উল্লেখ্য, জানাযার পর সকলে মিলে লাশ সামনে নিয়ে দু’আর অর্থ হলো আল্লাহ প্রদত্ব নিয়মের উপর সন্তুষ্ট না হয়ে নিজেরা একটা নতুন পদ্ধতি আবিস্কার করে নেয়া যা শরীয়তে নিন্দনীয় ও বিদআত । সম্মিলিত ভাবে দু’আ না করে মনে মনে দুআ করতে কোন নিষেধ নেই । তেমনিভাবে দাফন করার পরও দু’আ করতে পারে । প্রমাণ , ( ফাতাওয়া শামী , খন্ড-২, পৃষ্ঠা ১২১২, ফাতাওয়া রহীমিয়া , খন্ড-১. পৃষ্ঠাঃ ২৫৬, আহসানুল ফাতাওয়া, খন্ড-১ পৃষ্ঠাঃ ৩৩৬ )।

দাবী নং ১০

আযানের পূর্বে বা পরে নবীজির উপর সালাতু সালাম পাঠ করা ও দুরূদ শরীফ পাঠ করা মুস্তাহাব। এর অস্বিকারকারীরা শয়তানের দল ।
জবাব
নবী কারীম সা. এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ করা অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ । দুরুদ পাঠের মাধ্যমে নবী সা. এর প্রতি মুহাব্বত প্রকাশ পায় যা প্রতিটি ম’মিনের জন্য জরুরী । তবে মুসলমানদেও সকল আমলই শরীয়ত নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী হতে হবে । ইচ্ছামত কেউ কোন আমল নির্ধারণ করে নিতে পারবে না । যেমন নামাজ পড়া খুবই ফজিলতপূর্ণ । কিন্তু ফযর ও আসরের পর নফল পড়া শরীয়তে নিষেধ । তখন কেউ নমাজ পড়লে সাওয়াব তো দূরের কথা বরং গুনাহ হবে । আযানের পর দু’আর পূর্বে শরীয়তে সুন্নত হিসেবে নির্ধারণ হয়েছে। কিন্তু আযানের পূর্বে নিয়ম বানিয়ে দুরুদ পাঠ করার কোন বিধান শরীয়তে নেই । তাই দুরুদ পাঠ ফযীলতের বিষয় হলেও আযানের পূর্বে দুরুদ পাঠ করার নিয়ম বানিয়ে নেয়া শরীয়তে গর্হিত ও বিদ’আত কাজ । এটা শরীয়তের নিয়মকে পরিবর্তন করার শামিল । এ নিয়মের দ্বারা মানুষ এরূপ বিভ্রান্তিতে পড়বে যে, মানুষ মনে করবে আযানের পূর্বে হয়ত এভাবে দুরুদ পাঠ করা শরীয়তের নিয়ম । অথচ এটা শরীয়তের কোন বিশেষ নিয়ম নয় । তাই তার এ কাজের দ্বারা আযান শরীয়তের বিধানকে বিকৃত করা হচ্ছে। বলাবাহুল্য-আযানের শেষে দুরুদ পড়ার নিয়ম ছিল । তা না পড়ে আযানের পূর্বে দুরূদ পড়া নামাজের শেষে (আত্তাহিয়্যাতুর পর) দুরূদ না পড়ে সূরা ফাতিহার শুরুতে পড়ার মতই অপরাধ । যা গর্হিত হওয়া স্পষ্ট। দুরূদ শরীফ পড়া অবশ্যই রাসূল সা. কর্তৃক বর্ণিত তরীকা অনুযায়ী হতে হবে । মনগড়া তরীকায় না হওয়া জরুরী । আযানের পূর্বে দরূদ পড়া মনগড়া তরীকা । সাহাবায়ে কেরাম রা. রাসূল সা. এর প্রতি আমাদের চেয়ে বেশী মহাব্বত রাখতেন। উল্লেখিত পদ্ধতি কোন উত্তম কাজ হলে তাঁরাই সর্বপ্রথম এ কাজে অগ্রগামী হতেন। অথচ কোন সাহাবী রা. থেকে এমনটি বর্ণিক নেই । হযরত নাফে রা. বলেন, এক ব্যক্তি রাসূল সা. এর সামনে হাঁচি দিয়ে আলহামদু এর সাথে আস্সালামু আলা রাসূল্ল্রিাহ বললেন- এটা বাহ্যিকভাবে ভাল হলেও রাসূল সা. হাঁচির পর আমাদেরকে এ দুরূদ পড়তে শিক্ষা দেননি । বরং আলহামদুল্লিøাহি আলা কুল্লি হালিন শিক্ষা দিয়েছেন । [তিমিযী শরীফ খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১০৩] শরীফ খন্ড-২ , পৃষ্ঠাঃ ১০৩ ]

এতদভিন্ন ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ! ইয়া শাফি’আল মুযনিবীন! ইয়া রাহমাতাললিল আলামীন! এভাবে ‘ইয়া’ হরফ দ্বারা নবী কারীম সা. আলিমুল গায়েব এবং সর্বত্রই বিরাজমান, এই ভ্রান্ত আকীদা প্রকাশ প্রায়- যা নিঃসন্দেহে নাজায়িয ও শিরকের পর্যায়ভুক্ত। যে ব্যক্তি শিরক থেকে বাঁচতে চায়, তার কর্তব্য শিরকের আশংকাজনক শব্দ হতেও বিরত থাকা। হ্যাঁ, নবীজি সা. এর রওযা মুবারক সামনে নিয়ে এভাবে বলতে নিষেধ নেই । কারন, তখন নবী সা. কে সরাসরি সম্বোধন করাই নিয়ম এবং তিনি সরাসরি সেই ডাকের জবাব দেন বলে হাদীসে রয়েছে ।
দলীল
[ মিশকাত ১ নং খন্ড ২৭ নং পৃষ্ঠা, আহসানুল ফাতাওয়া ১ নং খন্ড ৩৬৯ পৃষ্ঠা # আলমগীরী ১নং খন্ড ৫৭ নং পৃষ্ঠা ]
দাবী নং ১১ এবং ১২

১১. নবী অলীদের মাজার শরীফ ও সাধারণ মানুষের কবরকে সামনে রাখিয়া যিয়ারত করা ও হাত তোলে দোয়া করা সুন্নাত । আর মাযার ও কবরকে পিছ দিয়ে কেবলামুখি হয়ে দোআ করা হারাম । এমনকি নবী অলীদের মাজার শরীফকে যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে বাড়ি হতে নিয়ত করে সফর করা জায়েয। বরং এই যিয়ারত মানুষকে পরকালের কথা স্বরণ করে দেয় ।
১২. নবী ও অলীদের মাজারে আল্লাহর রেজামন্দির উদ্দেশ্যে মান্নত করা জায়েজ। কিন্তু কোন মাজারে বা কবরে সেজদা করা হারাম ও মাজার ও কবরকে সামনে রাখিয়া নামাজ পড়াও হারাম। তবে নামাজের সামনে দেয়াল থাকিলে অসুবিধা নেই।
জবাব
যে কবর দূরে অবস্থিত, দীর্ঘ সফর করে সেখানে পৌঁছতে হয়, আর সফরের একমাত্র উদ্দেশ্য হয় উক্ত মাযারকে পবিত্র স্থান বা পুণ্যভূমি ও বরকতের স্থান মনে করে সেখানে গেলে মাকসূদ পূর্ণ হবে , বিপদ দূর হবে মনে করে সফর করা শরীয়াতে নাজায়িয; কোন আলেমের মতেই এধরনের সফর জায়িয নয় । রাসূল সা. এধরনের সফর করতে নিষেধ করেছেন ।
হযরত আবু হুরাইরা রা. ও হযরত আবু সাঈদ কুদরী রা. বর্ণনা করেন- নবী কারীম সা. এরশাদ করেছেন, তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন স্থানকে পূণ্যস্থান মনে করে তার উদ্দেশ্যে সফর করবে না । মসজিদ তিনটি হচ্ছে মসজিদে হারাম, মসজিদে আকসা , ও আমার এই মসজিদ অর্থাৎ মসজিদে নববী ।
দলীল
[ মুসলিম শরীফ ১ নং খন্ড ৪৪৭ পৃষ্ঠা]
সুতরাং, কোন পীর আউলিয়ার মাযারকে পূণ্যস্থান মনে করে বেশী সাওয়াবের জন্যে তার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ হবে না ।
যেমন “মুসান্নাফে আর্ব্দু রাজ্জাক” নামক হাদীস গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে হযরত আরফাজা রা. বর্ণনা করেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এর নিকট বললাম- আমি “তুর” পাহাড়ে যাওয়ার ইচ্ছা করেছি । তিনি বললেন, তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন ন্থানকে পূণ্যস্থান মনে করে তার উদ্দেশ্যে সফর করা যায় না । মসজিদ তিনটি হচ্ছে, মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী, ও মসজিদে আকসা । তাই “তুর” পাহাড় সফরের ইচ্ছা ত্যাগ কর। কেননা, আমি নবী কারীম সা. কে বলতে শুনেছি, তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন স্থানকে পুণ্যস্থান মনে করে তার উদ্দেশ্যে সফর করবে না ।
দলীল
[ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৫ম খন্ড ১৩৫ পৃষ্ঠা ]

ইমাম আহমদ ইডবনে হাম্বল রা. উল্লেখ করেছেন, হযরত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন, “তুর” পাহাড় থেকে প্রত্যাবর্তন কালে আবু বসরা গিফারী রা. এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো । তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোথা থেকে আসলেন? উত্তরে আমি বললাম, “তুর” পাহাড় থেকে, তিনি বললেন- “তুর” পাহাড়ে যাওয়ার পূর্বে যদি আপনার সাথে আমার সাক্ষাৎ হতো, তাহলে আমার কাছ থেকে রাসূল সা. এর নিষেধ বাণী শ্রবণ করতঃ আপনি আর “তুর” পাহাড়ে যেতেন না । কেননা, আমি নবী কারীমস সা. কে বলতে শুনেছি, তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন স্থানকে পুণ্যস্থান মনে করে তার উদ্দেশ্যে সফর করবে না ।
দলীল
[ মুসনাদে আহমদ ৬ নং খন্ড ৭নং পৃষ্ঠা # মুয়াত্তা ইমাম মালেক৩৮ পৃষ্ঠা]

নবী কারীম সা. এর রওজা মুবারক যিয়ারত যেহেতু মসজিদে নববীর সাথেই হয়ে যায়, এজন্য তা ব্যতিরেকে অন্য ওলী-বুযুর্গের মাযারকে পূণ্যস্থান মনে করে তার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে আসা জায়িয নয় ।
দলীল
[ হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ ১নং খন্ড ১৬২ নং পৃষ্ঠা, ও ৪৫৪ পৃষ্ঠা]
তবে যদি ব্যাপারটি এমন হয় যে, মাযার যিয়ারত ছাড়া অন্য কোন বৈধ উদ্দেশ্যে কেউ দূরে কোথাও সফরে গেল । সেখানে কোন একজন বুযুর্গের কবরও রয়েছে এবং সেখানে কোন মেলা বা শিরক-বিদ‘আত ঐ মুহূর্তে চালু নেই , তাহলে সুযোগ মত তার যিয়ারত করে আসতে এবং সেই বুযুর্গের মাযারে সাওয়াব রিসানী করতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ, মূল সফর ঐ মাযারকে পুণ্যস্থান মনে করে হয়নি, বরং সফর অন্য বৈধ প্রয়োজনে করা হয়েছে ।
দলীল
[ ফাতাওয়া শামী ২ নং খন্ড ২৪২ পৃষ্ঠা # ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম, ৫ নং খন্ড ৪৫৮ নং পৃষ্ঠা]

আর যদি মাযারে শিরক-বিদ‘আত চলতে থাকে, তাহলে সে মুর্দা ব্যক্তি বুযুর্গ হওয়া সত্ত্বেও শিরক বিদ‘আত চালু অবস্থায় তার মাযারে যাওয়া যাবে না । আর ভন্ড পীরের মাযারে যাওয়ার মতো কোন প্রশ্নই উঠে না । সেখানে যাওয়া সর্বাবস্থায়ই হারাম ।
নবী ওলীদের মাজার যিয়ারত করা এবং কবরকে সামনে রেখে হাত তুলে দোআ করা সুন্নত এ কথাটি ভিত্তিহীন । এর কোন প্রমাণ কুরআন ও হাদীসের কোথাও নেই ।

দলীল
[ ইমদাদুল মুফতী ১৬৬ পৃষ্ঠা # ফাতাওয়ায়ে রশীদিয়া, ১৫০ পৃষ্ঠা ]
আর মাজার ও কবরকে পিছ দিয়ে কেবলা মুখী হয়ে দোয়া করা হারাম । এ কথাটির দলীল -প্রমাণ কোন কিতাবে নেই । অতএব এ দাবীটি একেবারেই ভিত্তিহীন।

মাযার প্রসঙ্গ
পৃথবিীর বভিন্নি স্থানে কবর পাকা করা, চুনকাম করা, কবর উঁচু করার প্রবনতা দখো যায়। বশিষে করে আমাদরে দশে বাংলাদশে, ভারত ও পাকস্থিানে এ ধরণরে র্কমকান্ড খুবই বশেী। প্রতনিযি়ত তা বডে়ইে চলছ।ে মানুষরে ধারণা হল এ সমস্ত কাজ শরীয়ত সম্মত এবং এতে ছোয়াব রয়ছে।ে তাই দখো যায় করবস্থান,ে রাস্তার আশ-েপাশ,ে চৌরাস্তায় ও বটগাছ তলায় কবর পাকা কর,ে চুনকাম কর,ে তাতে উন্নত নমেপ্লটে ব্যবহার করে মৃত্যু ব্যক্তরি জন্ম, মৃত্যু তারখি ও বভিন্নি বানী লখিে রাখা হয়। এ জাতীয় সকল কাজ শরীয়ত বরিোধী। শরীয়তে এর হুকুম হল বদিআত। কারণ এ গুলো করার পছিনে ইসলামী শরীয়তে কোন দলীল নইে, বরং এ গুলো থকেে দূরে থাকার ব্যাপারে শরীয়ত কঠোর নষিধোজ্ঞা আরোপ করছে।ে বশিষ্টি সাহাবী জাবরে (রাঃ) হতে র্বণতি তনিি বলনে,
نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُجَصَّصَ الْقَبْرُ وَأَنْ يُقْعَدَ عَلَيْهِ وَأَنْ يُبْنَى عَلَيْه .
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরে চুন কাম করা, তার উপর বসা এবং তার উপর বল্ডিংি নর্মিান করতে নষিধে করছেনে। (মুসলমি)
এ হাদীস দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণ হল য,ে কবরে প্লাস্টার লাগানো, চুন কাম করা, পাকা করা, কবররে উপর বল্ডিংি ও গম্বুজ নর্মিাণ করা কঠোর ভাবে নষিধে। তারা বলে থাকনে আমরা সৌর্ন্দয প্রকাশ ও কবরকে হফোযতরে জন্য এ গুলো করে থাক।ি জনেে রাখুন সোর্ন্দয প্রকাশরে জন্য হোক, মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য হোক কংিবা হফোযতরে জন্য হোক, তা শরীয়তে জঘন্যতম বদিআত। এ গুলো করার পছিনে কোন দলীল নইে।

র্বতমান কালে অধকিাংশ মুসলমি সমাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নষিধোজ্ঞা অমান্য করে চলছ।ে রাসূল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নষিধে করছেনে, তারা তাতইে লপ্তি হয়ছে।ে এতে করে তারা বড় শর্কিে লপ্তি হয়ছে।ে কবরে উপর নর্মিাণ করছে মাসজদি ও গম্বুজ। কবরকে পরণিত করছে মাযারে ও যযি়ারতরে স্থান।ে সখোনে তারা পশু যবহে করা ও কবর বাসীর কাছে চাওয়া-পাওয়া, নযর-নওেয়াজ ইত্যাদি সকল প্রকার ইবাদতে লপ্তি হয়ছে।ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ ওয়া সাল্লাম এর যুগে বদর, উহুদ, খন্দক, তাবুক যুদ্ধ ছাড়াও যে সকল সাহাবী শহীদ হয়ছেনে অথবা মৃত্যু বরণ করছেনে তাঁদরে কারও কবর উচু করা হয় নাই। তাঁদরে কারও কবর পাকা ও চুনকামও করা হয়নি এবং তাতে নামও লখিা হয়ন।ি তাঁদরে কারও কবর মোজাইক অথবা পাথর দ্বারা বাঁধানো হয়নি বরং এ সকল কাজ যমেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নষিধে করছেনে, তাঁর পরে র্স্বণ যুগরে খোলাফায়ে রাশদেীনগণও কঠোর হস্তে দমন করছেনে। এর একটি উজ্জল উদাহরণ হল, প্রখ্যাত তাবযে়ী আবুল হাইয়্যাজ আল আসাদী বলনে, আমাকে আলী (রাঃ) বললনেঃ
أَلاَّ أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ تَدَعَ تِمْثَالاً إِلاَّ طَمَسْتَهُ وَلاَ قَبْرًا مُشْرِفًا إِلاَّ سَوَّيْتَ
“তোমাকে কি আমি এমন একটি কাজ দযি়ে পাঠাবো না যে কাজ দযি়ে আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠযি়ছেলিনে? তা হল কোন প্রতকিৃতি ও র্মূতি পলেে তাকে র্চূণ বচর্িূণ করে ফলেব,ে আর কোন উচুঁ কবর পরলিক্ষতি হলে তা সাধারণ কবররে সমপরমিান করে দবি।ে” (মুসলমি)

আকীদাগত ক্ষতঃি আমরা যদি দৃষ্টি নক্ষিপে করি তবে দখেতে পাব এসব উচুঁ উচুঁ কবররে কারণে অধকিাংশ লোকরে আকীদাহ বপিন্ন হতে চলছ।ে দখেুন আমাদরে দশেে বভিন্নি এলাকাতে কবর উচুঁ করা হয়ছে,ে তাতে মূল্যবান মোজাইক পাথর দ্বারা সৌর্ন্দযমন্ডতি করা হয়ছে,েসুন্দরভাবে বাঁধাই করা হয়ছে,ে বভিন্নি রংবরেং এর বাতওি লটকানো হয়ছে।ে যা ইসলামী শরীয়ত আদৌ সর্মথন করে না। এসব কবররে কাছে নারী-পুরুষরে আড্ডা বস,ে তারা সখোনে কবরকে সামনে করে র্দীঘ সময় তসবীহ জপ,ে কান্না-কাটি কর,ে র্আজি পশে কর,ে মনরে কাকুত-িমনিতি নযি়ে সকল সমস্যার কথা তুলে ধর,ে আবার মাঝে মাঝে সজেদায় লুটযি়ে পড়।ে অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবররে কাছে বা কবররে দকিে মুখ করে নামায আদায় করতে নষিধে করছেনে। মুসলমানরা তাঁর নষিধে অমান্য করে কবরকে নামাযরে স্থানে পরণিত করছে।ে তনিি কবরকে মাসজদি বানাতে নষিধে করছেনে। তারা তাকে মাসজদি বানযি়ছে।ে তনিি কবরে বাতি জ্বালাতে নষিধে করছেনে। তারা বাতি জ্বালযি়ে প্রচুর র্অথ অপচয় করছ।ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবররে পাশে ওরশ-উৎসব করতে নষিধে করছেনে এরা প্রতি বছর ঈদরে মত ধুমধামরে সাথে ওরশ অনুষ্ঠান পালন করে চলছ।ে কখন কখনও আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হওয়ার পরর্বিতে আল্লাহর যকিরি-আযকাররে ন্যায় যকির কর।ে অনকে সূফী বদিআতী ভন্ড মুরীদরা নামায বাদ দযি়ে সখোনে সময় অতবিাহতি কর।ে আবার নামায পড়া অবস্থায় পীররে ধ্যান করে থাক।ে আরও দখো যায় এ ধরণরে কবর যা রাস্তার র্পাশ্বে অবস্থতি সখোন দযি়ে পথচারী পথ চলার সময় বদিআতী নযি়মে সালাম করে এবং বুর্যুগরে অধকি তা’যমিরে জন্য কবরে চুমু খায়, কবররে মাটি গায়ে মাখ,ে কখনও তওয়াফ কর,ে সাথে সাথে কছিু র্অথও দান করে যায়। অথচ দান করা, নযর-মানত করা, র্প্রাথনা করা, দুআ করা, সজেদাহ করা, যকিরি করা, র্আজি পশে করা ইত্যাদি সকল কছিু হতে হবে একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য।ে এ সর্ম্পকে কুরআনে ও হাদীসে যথষ্টে আলোচনা করা হয়ছে,ে যাতে রয়ছেে মানব জীবনরে র্পূণ দকি নর্দিশেনা । আল্লাহ তাআলা বলনেঃ
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
“আপনি বলুন, নশ্চিয় আমার নামায, আমার হজ্ব ও কুরবানী, আমার জীবন-মরণ একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য যনিি জগত সমূহরে প্রতপিালক।” (সূরা আনআমঃ ১৬২)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলনেঃ
إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ
“কোন কছিু চাওয়ার হলে আল্লাহর কাছে চাইবে এবং সাহায্য চাইলে একমাত্র তাঁর কাছইে সাহায্য চাইব।ে” (তরিমযিী)

সুপ্রযি় পাঠক বন্ধুগণ! কবররে ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বলছেনে? আর এরা করছে ক?ি এরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নতরে সর্ম্পূণ বপিরীত পথে চলছ।ে তাদরে বদিআতী কাজ-র্কমে র্বণনা দযি়ে শষে করা যাবে না।

আরও লক্ষ্য করুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদরেকে কনে কবর যযি়ারত করতে বলছেনে? আমাদরেকে কবর যযি়ারত করতে বলছেনে যাতে আমাদরেকে আখরোতরে কথা স্মরণ করযি়ে দযে় এবং যাতে কবরবাসীর পাশে গযি়ে কবরবাসীর জন্য দুআ কর,ি তাদরে জন্য আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা র্প্রাথনা করতে পার।ি আর র্বতমান যুগরে মুসলমানরো কবর যযি়ারতরে লক্ষ্য ও উদ্দশ্যেকে সর্ম্পূণ পাল্টযি়ে ফলেছে।ে তাদরে উদ্দশ্যে হল সখোনে গযি়ে শর্কিে লপ্তি হওয়া। কবরবাসীর কাছে দুআ করা। সমস্যার কথা তুলে ধরা। তার উসলিা দযি়ে আল্লাহর কাছে দুআ করা, প্রয়োজন পূরণরে আবদেন করা ইত্যাদ।ি এধরণরে শরিক ও বদিআত কোথা থকেে চালু হয়ছে?ে
এ ধরণরে শরিক ও জঘন্যতম বদিআত চালু হয়ছেে ইহুদী-খ্রীষ্টানদরে দ্বারা। এগুলো হল ইহুদী-খ্রীষ্টনদরে রীত।ি খ্রীষ্টানরা ঈসা ও মরযি়ম এবং ক্রশরে পূজা করে থাক।ে ইউরোপীয়ান, আমরেকিান এবং রাশযি়ানরা তাদরে নতোদরে প্রতমর্িূতরি পূজা করে এবং তাদরে সম্মার্নাথে তাদরে সামনে মাথা নত কর।ে আর তাদরে অনুকরণে অনকে মুসলমি উক্ত শরিক ও বদিআতে লপ্তি হয়ছে।ে যা অত্যন্ত পরতিাপরে বষিয়। ইসলাম র্পূব লোকরো তাদরে নবীদরে কবরকে মাসজদি বানযি়ে নযি়ে সখোনে ইবাদত করত। এ কথা হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরস্কিার ভাবে বলে দযি়ছেনেঃ
أَلَا وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مَسَاجِدَ أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ
“জনেে রাখা উচৎি য,ে তোমাদরে র্পূবরে লোকরো তাদরে নবীদরে কবরসমূহকে মাসজদিে পরণিত করত। সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মাসজদিে পরণিত কর না। আমি তোমাদরেকে তা থকেে নষিধে করছ।ি” (মুসলমি)
কবরকে মাসজদিে পরণিত করার র্অথ হল কবররে কাছে নামায আদায় করা। যদওি তার উপর মাসজদি নর্মিাণ করা হয়ন।ি মূলতঃ নামাযরে জন্য কোন স্থানে গমণ করাই উক্ত স্থানকে মাসজদিে রূপান্তরতি করার শামলি। রাসূল সাল্লাল্লাহু ইহুদী-খ্রীষ্টানদরে প্রতি লা’নত করছেনে, কনেনা তারা তাদরে নবীদরে কবরকে মাসজদি বানযি়ছে।ে

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবর কি উঁচু করা হয়ছে?ে এর উত্তর হল, না। র্অথাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবর উঁচু করা হয় ন।ি তার কবর বাঁধানোও হয়ন,ি তার কবরকে মাযারও বানানোও হয়ন,ি কোন খানকাতে পরণিত করা হয়ন,ি তাতে কোন প্রকার বাতওি জ্বালানো হয়ন।ি র্বতমানে কোন কোন এলাকাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবররে উচুঁ ছবি পরলিক্ষতি হয়, যা দখেতে মাযাররে মত তা মোটইে ঠকি নয়। এ ধরণরে ছবি বানোয়াট। অতএব এ ধরণরে জঘন্যতম অপরাধ থকেে আমাদরেকে ফরিে এসে সঠকি পথে চলা দরকার এবং আল্লাহর কাছে খালছে ভাবে তাওবা করা দরকার। অন্যথায় পরকালে মুক্তরি কোন উপায় নইে। আল্লাহ আমাদরে মুক্তি দনি।

মান্নত প্রসঙ্গ
মাজারে মান্নত করা বা সাজ-সজ্জার উদ্দেশ্যে বাতি দেওয়া জায়িয নাই এবং আউলিয়াদের নামে মান্নতকৃত বস্তু বক্ষণ করা হারাম ও নাজায়িয । অবশ্য যদি বাতি কোন প্রয়োজনে দেয়া হয় তাহলে তা জায়িয আছে ।
দলীল
[ ফাতাওয়া শামী খন্ড ২ পৃষ্ঠাঃ ৪৩৯# আদ্দুররুল মুখতার খন্ড ২ পৃষ্ঠা ৪৩৯ # ইমদাদুল ফাতাওয়া খন্ড ২ পৃষ্ঠাঃ ৫৫৫ # ফাতাওয়া দারুল উলুম খন্ড ১২ঃ ১৩৬]
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী মান্নত এবং সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্যই খাছ । সুতরাং কোন পীর বা তার মাজারে মান্নত করা হারাম । এরূপ মান্নত করার পর কাজ পূর্ণ হলেও পীরের দরবারে যেয়ে সে মান্নত পূর্ণ করবে না । এমনকি অন্য কোন মসজিদেও তা আদায় করা জরূরী নয় । মান্নত একমাত্র আল্লাহর জন্যেই শুদ্ধ হয় । আর মান্নতের বস্তু ফকীর মিসকীনদেরকে দান করতে হয় ।
দলীল
[ আদ্দুররুল মুখতার খন্ড ২ পৃষ্ঠাঃ ৪৩৯ # ফাতাওয়া মাহমূদিয়া খন্ড ৫ পৃষ্ঠাঃ ৩২২ # কিফায়াতুল মুফতী খন্ড ২ পৃষ্ঠা ২১০ ]

দাবী নং ১৩

তারাবীর নামাজ বিশ রাকাত এবং বিতিরের নামাজ তিন রাকাত । এবং নামাজে “আমিন” আস্তে বলা ওয়াজিব। ঈদের নামাজে ছয় তাকবির দেয়া ওয়াজিব । ১২ তাকবির দেয়া নাজায়েজ। এর অস্বিকার কারীরা হল শয়তানের দল।
জবাব
তারাবীর্হ নামায বিশ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আালামীনের জন্য; দুরূদ ও সালাম প্রিয় নবী, আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রতি । আল্লাহ তা’আলা মভমানুষ সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত বা আনুগত্যের জন্য, আর দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন খিলাফাত বা প্রতিনিধিত্বের জন্য। আমলের মাধ্যমে মানুষ তার খিলাফতের কর্তব্য পালনে সক্ষমতা অর্জন করে, পরিণতিতে সে আল্লাহর ওয়ালী বা বন্ধুর মর্যাদায় ভূষিত হয় ।
আল্লাহর ভালবাসা লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল হলো নামায । নামাযের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভ করে । বেশী বেশী নামাযের দ্বারা আল্লাহর প্রিয়ভাজন হওয়ার কথা বুখারী শরীফসহ হাদীসের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে । রমযান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস; রমযান মাস তাকওয়া অর্জনের মাস । সুতরাং এ মাসে কিয়ামুল লাইল বা তারাবীহ উক্ত লক্ষ অর্জনের অতীব গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ।

তারাবীহ শব্দের আভিধানিক অর্থ ঃ
তারাবীহ শব্দটি বহু বচর, এর একবচন হলো তারবীহাতুন যার আভিধানিক অর্থ হলো ঃ বিশ্রাম গ্রহণ, শান্তি উপভোগ করা ।
তারাবীহ নামাযের পারিভাষিক অর্থঃ
‘রমযান মাসে ইশার নামাযের পর যে সুন্নত নামায কায়েম করা হয়, তা হলো তারাবীহর নামায।’ (কামূসুল ফিকহি লুগাতান ওয়া ইস্তিলাহান ) ।
তারাবীহ নামাযের নাম করণের কারণ ঃ
১. যেহেতু প্রতি ৪ রাকাত পর পর বিরতির মাধ্যমে বিশ্রাম নেয়া হয় তাই এর এ নাম করণ করা হয়েছে । (উল্লেখ্য যে, চার রাকাত নামায পড়তে যতক্ষণ সময় লাগে, প্রতি চার রাকাত পর ততক্ষণ বিরতি দেয়া উত্তম; কিন্তু এতে অনেকের অসুবিধা হয় বিধায় আজকাল এত দীর্ঘ বিরতি দেয়া হয় না । তবও খেয়াল রাখতে হবে, যেন তারাবীহ নামাযে খুব ভেশী তাড়াহুড়া করা না হয় ; কেননা এটা তারাবীহ )শান্তি ও বিশ্রাম) এর বিররীত ) ।
২. তারাবীহ নামাযের মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে চির সুখের (বিশ্রাম ও শান্তির) আবাসন জান্নাত লাভের সৌভাগ্য অর্জনে সমর্থ হয়, তাই একে তারাবীহ নাম করণ করা হয়েছে ।
তারাবীহ নামাযের বিধান ঃ
১. তারাবীহ নামায ২০ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা ।
২. জামাআতে আদায় করা সুন্নত ।
৩. তারাবীহ নামাযে কুরআন শরীফ খতম করা সুন্নত ।
৪. একা পড়লেও ২০ রাকাত সুন্নত ।
৫. মহিলাদের জন্যও ২০ রাকাত সুন্নত ।

তারাবীহ নামাযের ফযীলতঃ
‘যে ব্যক্তি ঈমানের সহিত সওয়াবের নিয়াতে রমযান মাসে তারাবীহ পড়বে, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে । ( মুসলিম শরীফ, কন্ড-২ পৃষ্ঠাঃ ২৫৯; শুআবুল ঈমান, খন্ড-৩ পৃষ্ঠাঃ ১৭৬; সহীহ ইবনে খুজাইমাহ, খন্ড-৩ পৃষ্ঠাঃ ২৩৯ )।
‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি (দিনের বেলায় ) রোযা ফরয করেছেন, আর আমি তোমাদের জন্য ( রাতের বেলায়) তারাবীহর নামাযকে সুন্নত করেছি; অতএব যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের নিয়তে রোযা পালন করবে ও রাতে তারাবীহর নামায আদায় করবে, সে গুনাহ থেকে এরূপ পবিত্র হবে যেরূপ নবজাতক মাতৃগর্ভ থেকে ( নিষ্পাপ অবস্থায়) ভূমিষ্ট হয়। (নাসায়ী শরীফ, খন্ড-১ পৃষ্ঠাঃ ২৩৯ ) ।
তারাবীহর নামায ওয়াজিব না হয়ে সুন্নত হওয়ার প্রেক্ষাপটঃ
হযরত আয়েশা রা. বর্ণনা করেন, একদা রমযানের মধ্য রজনীতে নবী কারীম সা. বের হয়ে মসজিদে গেলেন এবং তারাবীহর নামায পড়লেন ( কিছু সাহাবীও তাঁর সাথে শামিল হলেন ) । দিনের বেলায় সাহাবীদের মাঝে পরষ্পরে এনিয়ে আলোচনা হলো । দ্বিতীয় রাতেও নবী কারীম সা. হুজরা থেকে বের হয়ে মসজিদে গেলেন এবং তারাবীহর নামায পড়লেন বহু সাহাবীও তাঁর সাথে তারাবীহর নামাযের জামাতে শরীক হলেন । পরদিন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রচার হয় । তৃতীয় রজনীতেও নবী কারীম সা. ও সাহাবায়ে কেরাম জামাতের সাথে তারাবীহর নামায আদায় করলেন; এ রাতে লোক সংখ্যা অনেক বেশী হয় । দিনের বেলায় বিষয়টি সকলের জানাজানি হয়ে যায় । ূঅতঃপর যখন চতুর্থ রাত এলো, মুসল্লি সাহাবীগণের সমাগমে সমজিদ কানায় কানায় ভরে গেল; কিন্তু নবী কারীম সা. হুজরা থেকে বের হলেন না । ফজরের নামাজান্তে নবী কারীম সা. ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ তোমরা সকলে যে গত রাতে তারাবীহর নামায আমার সাথে জামাতে পড়ার জন্য মসজিদে এসে ছিলে তা আমি জানতাম । তবে আমার ভয় হচ্ছিল যে, যদি এভাবে পড়ার কারণে তা তোমাদের উপর ফরয করে দেয়া হয় তখন তোমরা তা আদায় করতে কষ্ট হবে । (বুখারী শরীফ, খন্ড-১ পৃষ্ঠাঃ ২৬৯; মুসলিম শরীফ, খন্ড-১ পৃষ্ঠাঃ ২৫৯ )।

২০ রাকাত তারাবীহ সম্পর্কীত কতিপয় হাদীস ঃ
(১)
عن ابن عباس رضی الله عنه قال ان رسول الله صلی الله عليه وسلم کان يصلی فی رمضان عشرين رکعة والوتر
‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, নবী কারীম সা. রমযানে ২০ রাকাত (তারাবীহর নামায) পড়েতেন এবং বিতির ।’ ([ক] আল মুসান্নাফ ফিল হাদীস ওয়াল আসার- ইবনে আবীশায়বাহ র., খন্ড-২ পৃষ্ঠাঃ ১৬৪, হাদীস-৭৬৯২; [খ] আল মুজামুল কারীর- মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া, খন্ড-১১, পৃষ্ঠাঃ ৩৯৩, হাদীস-১৬১০৬’ [গ] আল মুজামুল আসওয়াত, খন্ড-১ পৃষ্ঠাঃ ২৪৩, হাদীস- ৭৮৯ এবং খন্ড-৫, পৃষ্ঠাঃ ৩২৪, হাদীস-৫৪৪০); [ঘ] আল মুনতাখাব মিন মুসনাদি আবি ইবনে হুমাইদ র., পৃষ্ঠাঃ ২১৮, হাদীস-৬৫৩; [ঙ] আস সুনানুল কুবরা- বায়হাকী র., খন্ড-২ পৃষ্ঠা ঃ ৬৯৮, হাদীস-৪২৮৬ ।

(২)
عن يزيد بن رومان انه قال کان الناس يقومون فی زمان عمربن الخطاب رضی الله عنه فی ثلاث وعشرين رکعة
‘হযরত ইয়াযিদ ইবনে রূমান রা. বলেন, হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. এর খিলাফতের সময় মানুষ ২৩ রাকাত (বিতিরসহ তারাবীহর নামায) এর মাধ্যমে রাত জাগরণ করতো ।’ ([ক] মুআত্তা-ইমাম মালিক র., খন্ড-১, পৃষ্ঠাঃ ১১০, হাদীস-২৮১; [খ] সুনান- আবু দাউদ, খন্ড-১ পৃষ্ঠাঃ ৬৯৯, হাদীস-৪২৮৯) ।

(৩)
عن الحسن رضی الله تعالی عنه قال ان عمربن الخطاب رضی الله تعالی عنه جمع الناس علی ابی بن کعب فڪان يصلی لهم عشرين رڪعة
‘হযরত হাসান রা. বলেন, হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. মানুষকে হযরত উবাই ইবনে কাআব রা. এর পিছনে একত্রিত করলেন; তখন উবাই ইবনে কাআব রা. তাদের ইমামতি করে ২০ রাকাত নামায পড়তেন ।’ (আবূ দাউদ, খন্ড-২ পৃষ্ঠাঃ ৬৫, হাদীস-১৪২৯)।

(৪)
عن شتيربن شڪل رضی الله تعالی عنه قال ان رسول الله صلی الله عليه وسلم ڪان يصلی فی رمضان عشرين وڪعة والوتر
‘হযরত শুতাইর ইবনে শাকাল রা. বলেন, নবী কারীম সা. রমযানে ২০ রাকাত (তারাবীহর নামায) পড়তেন এবং বিতির ।, (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ র., খন্ড-২ পৃষ্ঠাঃ ১৬৩, হাদীস-৭৬৮০ )।
(৫)
عن علی ابن ابی الحسناء عنه قال ان علیا رضی الله تعالی عنه امر رجلايصلی بهم فی رمضان عشرين رڪعة والوتر
‘হযরত ইবনে আবিল হাসান রা. বলেন, হযরত আলী রা. এক ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন রমযানে ২০ রাকাত (তারাবীহ নামায) পড়তে ।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ র., খন্ড-২ পৃষ্ঠাঃ ১৬৩, হাদীস-৭৬৮১ )।
(৬)
عن نافع ابن عمر قال کان ابن ابی مليکة رضی الله عنه يصلی بنا فی رمضان عشرين رڪعة
‘হযরত নাফে ইবনে উমর রা. বলেন, হযরত ইবনে আবী মুলাইকা রা. আমাদেরকে সাথে নিয়ে রমযানে ২০ রাকাত (তারাবীহ নামায ) পড়তেন।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ র., খন্ড-২, পৃষ্ঠাঃ ১৬৩, হাদীস-৭৬৮৩)।
(৭)
عن عبد العزيز بن رفيع قال کان ابی بن کعب رضی الله عنه يصلی با لناس فی رمضان بامدينة عشرين رکعة
‘হযরত আব্দুল আযীয ইবনে রুফাই রা. বলেন, হযরত উবাই ইবনে কাআব রা. রমযানে মদীনা শরীফে সকলের সাথে ২০ রাকাত (তারাবীহ নামায) পড়তেন; আর বিতির পড়তের তিন রাকাত ।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ র., খন্ড-২, পৃষ্ঠাঃ ১৬৩)।

(৮)
عن الحارث انه کان يؤم الناس فی رمضان بالليل بعشرين رکعة ويوتر بثلاث
‘হযরত হারিস রা. বলেন, তিনি রমযানে ২০ রাকাত (তারাবীহ নামায) এ মানুষের ইমামতি করতেন; আর বিতির পড়তের তিন রাকাত ।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ র., খন্ড-২, পৃষ্ঠাঃ ১৬৩, হাদীস-৭৬৮৫)।

(৯)
عن ابی البختری انه کان يصلی خمس ترويحات فی رمضان ويوتر بثلاث
‘হযরত আবুল বাখতারী রা. বলেন, তিনি রমযানে পাঁচ তারবীহাহ (বিশ্রাম-বৈঠক) [৫ী৪=২০ রাকাত] পড়তেন; আর বিতির পড়তেন তিন রাকাত ।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ র., খন্ড-২. পৃষ্ঠাঃ ১৬৩, হাদীস-৭৬৮৬)।

(১০)
عن عطاء قال ادرکت الناس وهم يصلون ثلاثا و عشرين رکعة بالوتر
‘হযরত আতা রা. বলেন, আমি দেখতে পেয়েছি লোকেরা (রমযানে তারাবীহর নামায) বিতিরসহ ২৩ রাকাত পড়ে ।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ র., খন্ড-২, পৃষ্ঠা” ১৬৩)।

(১১)
عن سعيد بن عبيد ان علی بن ربيعة کان يصلی بهم فی رمضان خمس ترويحات ويوتر بثلاث
‘হযরত সাঈদ ইবনে উবাইদ রা. বলেন,আলী ইবনে রবীআহ রা. তাদের সাথে রমযানে পাঁচ তারবীহাহ (বিশ্রাম-বৈঠক) [৫ী৪=২০ রাকাত] পড়তেন; আর বিতির পড়তের তিন রাকাত ।’ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ র., খন্ড-২, পৃষ্ঠাঃ ১৬৩, হাদীস-৭৬৯০)।

নামাজে “আমিন” আস্তে বলা মুস্তাহাব আর জোরে বলা জায়েয ।
দলীল
[ তিমিযী শরীফ # মেশকাত শরীফ স# হেদায়া # ফাতাওয়া শামী # ফাতহুল কাদীর # ফাতাওয়া আলমগীর ]

দাবী নং ১৪

নামাজের মধ্যে রফে ইয়াদাইন অর্থাৎ বার বার হাত তোলার হাদীসটি পরবর্তি হাদীস দ্বারা মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে । এবং নামাজের মধ্যে নাভি বরাবর পুরুষ লোক হাত বাঁধবে আর মহিলারা মানাজের মধ্যে বুক বরাবর হাত বাঁধবে ইহাই হল শরীয়তের বিধান।
জবাব
নামাযের মধ্যে রফে ইয়াদাইন অর্থাৎ বার বার হাত তোলার হাদীসটি পরবর্তী হাদীস দ্বারা মানসুখ বা রহিত হয়ে গিয়েছে। এবং এই হাদীসের তুলনায় বার বার হাত না তোলার হাদীসটি সনদের দিক থেকে বেশী শক্তি শালী । এবং যে সকল বর্ণনাকারীগণ বার বার হাত তোলার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাঁরা নিজেরাও নামাজে বার বার হাত তোলার উপর আমল করেননি। এসকল কারণে নামাযের মধ্যে বার বার হাত না তোলাই উত্তম ।
হ্যাঁ নামাযের মধ্যে পুরুষগণ নাভির নিচে হাত বাঁধবে আর নারীগণ বুকে হাত বাঁধবে এটাই উত্তম।
দাবী নং ১৫

চার মাজহাবের কোন একটি মাজহাবের অনুসরণ করা মুকাল্লিদের জন্য ওয়াজিব। যারা মুকাল্লিদ হয়েও মাযহাব অনুসরণ করবে না নিজেকেই মুস্তাহিদ বলে মনে করবে তারাই হল পথভ্রষ্ট দল ও ই্য়াজিদের দল । যেমন- তথাকথিত আহলে হাদীস, লামাজহাবি, ছলুফি, কাদিয়ানী ইত্যাদি ।
জবাব
আহলে হাদীসের বাস্তবতা ও মাযহাবের প্রযোজনিয়তা
রাসূল সা. এর তেইশ বছর নববী জীবনের প্রতিটি বাণী এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি আচরণ-উচ্চারণ ও উঠা-বসাকে বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষণ করা এবং হাদীসে নববীকে মিথ্যাচারীদের বানানো অনুপ্রবেশ ও অগ্রহণীয় অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের ভুল-ভ্রান্তি থেকে মুক্ত করে উম্মতের নিকট পৌঁছে দেয়ার মহান ও গুরু দায়িত্ব যে উলামায়ে উম্মত আঞ্জাম দিয়েছেন তাদের “আহলে হাদীস ” বা আসহাবুল হাদীস বলা হয়।

ইসলামের বিগত চৌদ্দশত বছরের ইতিহাসে বর্তমান আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের কোন অস্তিত্ব পৃথিবীর বুকে ছিল না । উপমহাদেশে বৃটিশ শাসনামলে মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি ও মতপার্থক্য সৃষ্টি করে তাদের ধর্মীয় ও জিহাদী চেতনাকে বিলুপ্ত করার কুটিল ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য বৃটিশ সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তথাকথিত আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের জন্ম হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, এই সম্প্রদায়টি ইংরেজদের নিকট দরখাস্ত প্রদান করে এই আহলে হাদীস খেতাবটি অর্জন করে। স্বভাবতই এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এদের আহলে হাদীস হওয়ার পিছনে হাদীসের কোন সম্পর্ক নেই। এখানে আহলে হাদীসের সূচনা ও এই উপাধি গ্রহণ সম্পর্কে জনাব মুহাম্মদ হুসাইন বটালবীর ঐতিহাসিক দরখাস্তটি উল্লেখ করছি যা ইংরেজ সরকার বাহাদুর বরাবর তিনি পাঠিয়েছিলেন। এ থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইতিহাসের কোন অংশ থেকে তাদের অস্তিত্বের সূচনা হয়।
“আমি (মুহাম্মদ হুসাইন বটালবী) এ বিষয়ে একটি কপি লিখিত আবেদনের মাধ্যমে পাঞ্জাব গভর্নমেন্টের বরাবর পেশ করছি এবং দরখাস্ত করছি যে, গভর্নমেন্ট যেন এ প্রতিবেদনের প্রতি লক্ষ্য করেন এবং ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্টকে এর প্রতি লক্ষ করতে উৎসাহিত করেন। এ দলটির ব্যাপারে ওহাবী শব্দটি সরকারী চিঠিপত্রে ব্যবহার করা বন্ধ করে তাদেরকে আহলে হাদীস নামেই যেন সম্বোধন করা হয়। তাই পাঞ্জাবের (সাবেক) লেফটেনেন্ট গভর্ণর আনারবেল স্যার চার্লস এচিনের সাহেব যেন গভর্নমেন্টের দৃষ্টি এ দরখাস্তের প্রতি আকৃষ্ট কারে হিন্দুস্তান গভর্নমেন্টের অনুমতি ক্রমে দরখাস্তটি মুঞ্জুর করেন এবং তিনি যেন ওহাবী শব্দটির বিরোধিতা এবং আহলে হাদীস নাম চালুকরার হুকুম পাঞ্জাবে জারী করেন।”
আপনাদের একান্ত বাধ্যগত খাদেম
আবু সাঈদ মুহাম্ম দ হুসাইন
সম্পাদক ইশায়াতুস সুন্নাহ
বৃটিশ সরকার এ আহলে হাদীস নামধারী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সহযোগিতা এবং বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তাদের সৌহার্দ মূলক আচরণের বিনিময়ে মুহাম্মদ হুসাইন সাহেবের দেয়া দরখাস্তটি বিনা বাক্যব্যয়ে গ্রহণ করে নেয়। পাঞ্জাব সরকার সর্বপ্রথম ৩/১২/১৮৮৬ ইং তারিখে দরখাস্তটি মুঞ্জুুর করেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রাদেশিক সরকারও এই স্বীকৃতি প্রদান করেন।

মুক্তিপ্রাপ্ত দলের নতুন সংজ্ঞা
রাসূল সা. ইরশাদ করেন পূর্ববর্তী বনী ইসরাঈল বাহাত্তুর দলে বিভক্ত হয়েছে আর আমার উম্মত তেহাত্তুর দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ব্যতীত তাদের সকলেই জাহান্নামী। সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই দল কোনটি? তিনি বললেন, আমি ও আমার সাহাবারা যে পথের উপর প্রতিষ্ঠিত (তার অনুসরণকারী দল) অন্য হাদীসে এরশাদ করেন, আমার পরে যারা আসবে তারা বহু ইখতিলাফের সম্মুখীন হবে। তখন তোমাদের করণীয় হল, আমার ও হেদায়াত প্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতকে আঁকড়ে ধরা। তোমরা দীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ সকল নতুন জিনিস বিদ‘আত। আর বিদ‘আত হল গোমরাহী। ( আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ)।
এ উভয় হাদীসের ভিত্তিতে মুক্তি প্রাপ্ত দলকে সাহাবাদের যুগ থেকে “আহলুস্সুন্নাহ ওয়াল জামাত” নাম দেওয়া হয়েছে। কারণ মুক্তিপ্রাপ্ত দলের লোকেরা ইখতিলাফের সময় সুন্নতে রাসূলকে আঁকড়ে ধরে জামাতে সাহাবা এবং সর্বযুগে তাদের অনুসারী হক পন্থী জামাতের সাথে থাকবে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও ইবনে সীরীন (রহঃ)থেকেও এই বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া যায়। তাহলে বুঝা গেল হাদীসে রাসূলের আলোকে সাহাবা, তাবেয়ীন এবং সর্বযুগে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের মহামণীষীরা এ দলকে আহলুস্সুন্নাহ ওয়াল জামাত হিসাবেই চিনেছিলেন। কিন্তু লামাযহাবী সম্প্রদায়টি মুক্তিপ্রাপ্ত দলের ব্যাপারে সর্বযুগে ঐক্যমত্যে গৃহীত নাম বাদ দিয়ে এই দলের নাম দিয়েছে “ আহলে হাদীস” এবং দাবী করেছে যে, তারাই একমাত্র মুক্তিপ্রাপ্ত দল।
হাদীসে রাসূল সা. অস্বীকারের একটি লোমহর্ষক চিত্র
উল্লেখিত হাদীসে রাসূল সা. কঠোরভাবে উম্মাতকে সতর্ক করেছেন যে, তোমরা খুলাফায়ে রাশেদীনের মত ও পথকে আঁকড়ে ধরবে। কারণ এ মত ও পথ ব্যতীত সব বিদ‘আত ও গোমরাহী। বলাবাহুল্য রাসূলের সুন্নত ও খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নতের বাইরেই হল বিদ‘আতের অবস্থান এবং উভয়টির সম্পর্ক একদম বিরীতমুখী। কিন্তু আবিস্কৃত এ দলটি খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে অস্বীকার করে সেগুলোকে বিদ‘আত বলে প্রচার করেছে। বহু হাদীস ও সাহাবাদের আমলের মাধ্যমে তারাবীহর নামাজ বিশ রাকাত প্রমানিত হওয়ার পরও তারা বলে তারাবীহ বিশ রাকাত পড়া ওমরের বিদ‘আত। তাদের এ উক্তির জবাবে আমরা শুধু শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করছি “তারাবীহর নামাজ বিদ‘আত নয়, বরং রাসূল সা. এর কথা ও কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণিত সুন্নত । কারণ তিনি ইরশাদ করেন“ আল্লাহ তোমাদের উপর রমযানের রোযা ফরয করেছেন আর আমি রমযানের রাতে তারাবীহ পড়া সুন্নত করেছি” অনুরুপভাবে জামাতের সাথে তারাবীহ পড়াও বিদ‘আত নয়, বরং সুন্নত । কারণ রাসূল সা. রমযানের প্রথমভাগে দুই দিন অথবা তিনদিন জামাতের সাথে তারাবীহ পড়েছেন। (হযরত ওমর (রাঃ) এর উক্তি এ তো উত্তম বিদ‘আত) এর ব্যাখ্যা হল, এখানে তিনি তারাবীহর নামাজ জামাতের সাথে পড়ার সৌন্দর্য প্রকাশ করতে গিয়ে শাব্দিক অর্থের বর্ণনা দিতে বিদ‘আত বলেছেন । শরীয়তের পারিভাষিক বিদ‘আত নয়। কারণ আভিধানিক অর্থে বিদ‘আত বলতে প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়কে বুঝায়। (ইকতিযাউস সিরাতিল মুনস্তাকিম ২ ৫৮৮-৫৮৯) তেমনিভাবে তারা বলে, এক বৈঠকে তিন তালাক পতিত হওয়া ওমরের বিদ‘আত , জুমার প্রথম আযান উসমানের বিদ‘আত ইত্যাদি (নাউযুবিল্লাহ)
তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, হযরত ওমর (রা.) হযরত উসমান (রা.) কি খুলাফায়ে রাশেদা ছিলেন না? তাদের মত ও পথকে রাসূল সা. সুন্নাত কলেছেন তাকে আপনারা বিদ‘আত আখ্যা দেয়ার অধিকার কোথায় পেলেন? সাড়ে তেরশ বছর পর যে মত ও পথ আপনারা আবিস্কার করেছেন সেগুলোকে প্রচার করছেন হাদীস বলে। আর এই সূত্রে নিজেরা বনে গেলেন আহলে হাদীস। এ কি হাদীসে রাসূলের সাথে প্রকাশ্য বেয়াদবী নয় কি? যদি একে হাদীস অস্বীকার না বলা হয় তাহলে হাদীস অস্বীকার করতে কী করতে হয় আমাদের একটু বলেদিবেন কি?
লামাযহাবীদের হাদীস অনুসরণের প্রকৃত রুপ
গাইরে মুকাল্লিদগণের হাদীসের অনুসরণ শুধু তাদের দাবী পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। এর প্রকৃত বিবরণ তাদের আলিমদের লেখনী থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠে। এ সম্পর্কে তথাকথিত আহলে হাদীসদের বড় আলেম নবাব সিদ্দিক হাসান খানের বক্তব্য লক্ষ্য করুনঃ
“এই যামানায় এক সুখ্যাতিকামী ফিরকার জন্ম হয়েছে, যারা শত অযোগ্যতা ও ত্রুটি-বিচ্যতি সত্তেও নিজেদের কোরআন হাদীসের আলেম ও তার উপর আমলকারী হিসাবে দাবী করে, অথচ দ্বীনের প্রকৃত বিজ্ঞ আলেমদের সাথে তাদের কোন তুলনা নেই। কারণ তারা হাদীস শাস্ত্রে পান্ডিত্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞান থেকেই অজ্ঞ। তাই তাদের দেখা যায় যে, তারা শুধু হাদীসের শব্দ বর্ণনার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে। হাদীসের অর্থ-ব্যাখ্যা ও তৎ সংশ্লিষ্ট আহকামের দিকে ভ্রুক্ষেপই করে না। তাদের ধারণা যে, শুধু শব্দ বর্ণনা করাই যথেষ্ট। অথচ এ ধারণা সম্পুর্ন বাস্তবতা পরিপন্থি। খোদার কসম এ খুবই আশ্চর্য বিষয় যে, তারা নিজেদের পরিপুর্ণ মুসলমান দাবী করে আর তারা ব্যতীত সকল মুসলমানকে মুশরিক ও বেদ‘আতী সাব্যস্ত করে। অথচ নিজেরাই দীনের ব্যাপারে চরম গোড়াপন্থী ও হটকারী। (আল হিত্তা যিকরিস সিহা সিত্তা ১৫৪ পৃষ্ঠা)

পাঠক বন্ধুগন! নবাব সাহেবের যুগে লামাযহাবীর অবস্থা যদি এই হয়, তাহলে বর্তমান যুগের লামাযহাবীদের অবস্থা কি হতে পারে অনুমান করুন।
মাযহাবের পরিচয়
সকল মুসলমান একথা বিশ্বাস করে যে, দীনের একমাত্র দাওয়াত ও আহবান হল শুধু আল্লাহর আনুগত্য করা। এমনকি রাসূল সা. এর অনুসরণএই জন্যই ফরয যে তিনি তার সকল কাজ-কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতিটি হুকুমের বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। তাই হালাল, হারাম, যায়েয, নাযায়েয,শরীয়তের সকল আহকামের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তার রাসূলের অনুসরণ করতে হবে। আর কেউ যদি অন্য কোন সওাকে এ পর্যায়ের অনুসরণ যোগ্য মনে করে, তাহলে সে অবশ্যই ইসলামের গন্ডি থেকে বেরিয়ে যাবে। কোরআন ও সুন্নার অনুসরণের ক্ষেত্রে এ একটি ব্যাপার খুবই স্পষ্ট যে, কোরআন সুন্নাহের কিছু আহকাম এমন আছে যা সাধারণ শিক্ষিত ব্যক্তিও বুঝে নিতে পারে। এর মধ্যে কোন অস্পষ্টতা বা বৈপরিত্য পরিলক্ষিত হয় না। এবং এর অর্থ বুঝে নিতে কোন ধরণের ব্যাক্ষা বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এরই বিপরীতে কোরআন হাদীসের বহু আহকাম এমন আছে যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে অন্য একটি আয়াত বা হাদীসের বিপরীত মনে হয়। এ ক্ষেত্রে এর সঠিক সমাধানে পৌঁছা দুস্কর হয়ে উঠে। এ সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন যারা একই সাথে কোরআন, হাদীস, ইজমা,কিয়াস তথা উলুমে শরীতের উপর পারদর্শী যা কোরআন হাদীস থেকে মাসআলা বের করার জন্য অত্যাবশ্যক। এসব গুণের অধিকারী ছিলেন আইম্মায়ে মুজতাহিদীন। যে কথাটি এখানে বিবেচনা করার পয়োজন তা হলো, বর্তমান অধঃপতিত এ যুগে সত্যিকার অর্থে উক্ত গুণাবলীর অধিকারী পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এর বিপরিতে আইম্মায়ে মুজতাহিদীন এক্ষেত্রে পূর্ণ যোগ্যতার অধিকারী ছিলেন। তাই আয়াত ও হাদীস থেকে মাসআলা বের করা তাদের জন্য সহজ ছিল। উপরন্ত মেধা, স্বরণ শক্তি ও আমানত দারীতায় তারা ছিলেন অনন্য।
তাই পরবর্তী উম্মত সকল যুগে নিজেদের মেধা ও জ্ঞানের উপর ভরাস না করে,পূর্ববর্তী ইমামদের থেকে যে কোন একজনকে মুকতাদা তথা পথ পদর্শক হিসাবে গ্রহণ করেছেন। যে ইমামগণ আহকামে শরইয়্যার প্রতিটি সুক্ষ থেকে সুক্ষ বিষয়ের উপর গবেষনা করে কোরআন হাদীস, ইজমা ও কিয়াসে শরয়ীর আলোকে তার হুকুম বাতলে দিয়ে গেছেন। আইম্মায়ে কেরামের রেখে যাওয়া কোরআন হাদীসের সে বাস্তব রুপ রেখাকেই পরিভাষায় (ফিকহী) মাযহাব বলা হয়।
আহলে হাদীসের কর্মপন্থা
লামাযহাবীদের কিতাবাদী অধ্যায়ন করলে তাদের কর্মপদ্ধতি অনেকাংশে এমনই পাওয়া যায় যে, তারা মাযহাব পন্থীদের মতই কোন স্পষ্ট সহীহ হাদীসের উপর তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেয় না। তবে একটি ক্ষেত্রে তাদের পার্থক্য দেখা যায় তাহল যে, সকল ক্ষেত্রে কোরআন হাদীসে কোন স্পষ্ট হুকুম বিধিত হয়নি সে ক্ষেত্রে মাযহাব পন্থীগণ উসূলে শরয়ীর আলোকে আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আর তারা প্রত্যেকে আপন আপন বুঝের উপর আমল করে অথবা নিজে না পারলে তাদের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।
অনুরুপভাবে কোনটি হাদীস, কোনটি হাদীস নয়, এবং হাদীসের ক্ষেত্র নির্ণয়ের ক্ষেত্রে মাযহাব পন্থীগণ নবী যুগের নিকটবর্তি ইমামগণের ফায়সালা ও সিদ্ধান্তকেই চুড়ান্ত মনে করেন। পক্ষান্তরে এই দলটি এসব ব্যাপারে পরবর্তী কোন আলেমের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। ( যেমন হাফেজ ইবনে তাইমিয়া মৃত৭২৮হিঃ হাফেজ শাওকানী মৃত ১২৫০হিঃ, আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী মৃত ঃ১৪২১হিঃ)এর উপর ভিত্তি করে কোন হাদীসকে সহিহ বা যয়ীফ বলে থাকে ।
তাদের স্ববিরুধী এই আচরণ থেকে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যে, তারা কোন বিশেষত্বের কারণে নিজেদেরকে তাইমি, নাসেরী নামের পরিবর্তে আহলে হাদীস নাম করন করলেন। আর কোন ত্রুটির কারনে বিশ্বের সকল মুসলমানদেরকে হাদীস বিদ্বেষী মনে করলেন। হাদীসে নববীকে সকল মুসলমান যেভাবে মানে তারাও সেভাবেই মানলেন, আর যে সমস্ত ক্ষেত্রে হাদীস পাওয়া যায়নি সে সকল ক্ষেত্রে যেমন সকল মুসলমান বিশেষজ্ঞ ইমামদের শরণাপন্ন হন ঠিক তারাও কোন আলেমের শরণাপন্ন হয়। একই ধারাবাহিকতায় মাযহাব পন্থীদের হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী ইত্যাদি হওয়ার অপরাধে তাদের ভাষায় মুশরিক হয়ে গেলেন কিন্তু তারাও এরুপ ক্ষেত্রে তাদের আলেমদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আহলে হাদীস হয়ে গেলেন ? এ দ্বারা কি এ কথাই প্রমাণিত হয় না যে, তারা নিজস্ব চিন্তাধারার আলেমদের কথাকে হাদীস সাব্যস্ত করে নিয়েছে।
আহলে হাদীসের উদ্দেশ্য সুন্নাত জিন্দা নয় ইখতিলাফ ও মতভেদ সৃষ্টি করা
তাদের দৃষ্টিতে সুন্নাতের খেলাফ করা জায়েজ এবং সুন্নত ছাড়লে কোন গুনাহ হবেনা। এর প্রমাণ স্বরুপ মৌলভী ছানাউল্লাহ আমরতাসরীর বর্ণনা উল্লেখ করা যায়। তিনি বলেন, সুন্নতকে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তাই সুন্নত ছাড়লে মর্যাদা হ্রাস পায়। কিন্তু এ কারণে আখেরাতে আল্লাহ পাকড়াও করবেন না, ইনশাআল্লাহ।
নবাব সিদ্দীক হাসান খান লিখেন, নামাযের মধ্যে সুন্নত হল ফাতেহা ও আমীনের পর সুরা এবং অন্যান্য সুরা কোরআনের তারতীব অনুসারে পড়া। যদি এই তারতীবের ব্যতিক্রম পড়া হয় তাহলে নামায জায়েয হবে এবং মাকরুহ হবে না। (নাযালাল আবরার-৮৩পৃষ্ঠা,:ইযহারুততাহসীন পৃ:৪৭)
ইামাম ব্যতীত অন্যান্য সুন্নতের ব্যাপারেও তাদের অনীহার চিত্র এরকমই পরিলক্ষিত হয়।
উপরোক্ত উদ্ধৃতির দ্বারা প্রমাণ হয় যে, লামাযহাবীগণ সর্বসম্মত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা পালনকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে এবং এই সুন্নত ছেড়ে দেয়াকে গুণাহ মনে করে না। বরং সুন্নত বহির্ভূত আমলকে নির্দিধায় সহীহ বলে দেয়, কিন্তু রফয়ে ইয়াদাইন, আমীন জোরে পড়া ও অন্যান্য মাসআলা যেগুলো মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের মাঝে ইখতিলাফ আছে সেগুলো গুরুত্বের সাথে পালন করে যে, এ ছাড়া কারো নামায সহীহ হবে না এবং কেউ মুহাম্মদী হতে পারবে না। এ আলোচনা দ্বারা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, আহলে হাদীসের উদ্দেশ্য সুন্নতের বাস্তবায়ন নয়, বরং তাদের লক্ষ্য একটাই যে, সঠিক সমাধান ব্যতীত বিরোধপূর্ণ মাসায়িলের প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের নীতির প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা।

শেষ কথা
প্রবন্ধটির মূল উদ্দেশ্য ছিল সংক্ষিপ্ত কলেবরে প্রকৃত আহলে হাদীস ও বর্তমান যুগে নামধারী আহলে হাদীসের মাঝে ঐতিহ্যগত পার্থক্য তুলে ধরা এবং গাইরে মুকাল্লিদদের দীনের নামে ইসলামী উম্মাহর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি কুট-কৌশলের মুখোশ উম্মোচন করা। আশা করি সংক্ষিপ্ত পরিসরে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মৌলিক আক্বিদাগুলো পাঠকের সামনে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে এবং গাইরে মুকাল্লিদদের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা ও আহলে হকের সাথে তাদের মতবিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো প্রকাশ পেয়েছে। সাথে সাথে অকাট্য দলিল প্রমাণ উপাস্থাপনের মাধ্যমে তাদের জবাব দেয়া হয়েছে।
তাক্বলীদে-শাখ্ছী বা ব্যক্তি বিশেষের অনুকরণ
‘তাক্বলীদে-শাখ্ছী’ বা ব্যক্তি-বিশেষের অনুসরণ বলতে বুঝানো হয়-“কোন বিশেষ মুজতাহিদ (মুজতাহিদ বলাহয়.যিনি গবেষণা করে কোরআন-সুন্নাহ্ থেকে মাসায়িল আকারে ইসলামী আইন বের করেন) এর সাথে সম্পর্ক যুক্ত মাযহাবের চুড়ান্ত পর্যায়ের আইনসমূহের উপর দলীল-প্রমাণ তালাশ করা ব্যতীত আমল করে যাওয়া। চাই উক্ত কিধানাবলী সরাসরি মাযহাব প্রতিষ্ঠাতার গবেষণালব্ধ হোক বা তাঁর রচিত মূলনীতির আলোকে তাঁর শিষ্যরা গবেষণা করে বের করুক। কিন্তু ওই মাযহাবেরই হওয়া চাই। আর ‘তাক্বলীদে-গাইরে-শাখ্ছী’ বলতে বুঝানো হয়, “দলীল-প্রমাণ তালাশ ব্যতীত একাধিক মুজতাহিদের চুড়ান্ত পর্যায়ের বিধি-বিধান অনুযায়ী আমল করতে থাকা। যেমন, এক মাসআলা এই মাযহাবের, অন্য মাসআলা অন্য মাযহাবের। মোট কথা, শুধু বিশেষ কোন এক মাযহাব অনুসরণ না করা।”
প্রিয় নবী সা. এর যুগ থেকে শুরু করে দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত কোন নির্র্দিষ্ট ব্যক্তি বিশেষের অনুসরণের প্রচলন ছিল না। কারণ, তখন পর্যন্ত মুজতাহিদগণের গবেষণালব্ধ ধর্মীয় বিধি-বিধানের মূলনীতিসমূহ সুশৃংখল ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিসমাপ্তিতে পৌঁছেনি। সুতরাং কোন বিশেষ মুজতাহিদের বের করা বিধি-বিধানে আমল করা কঠিন ছিল। তা ছাড়া উক্ত সময়ে মুজতাহিদগণের মধ্যেও পরিপূর্ণ ‘তাক্বওয়া’ এবং নিষ্ঠার পরাকাষ্ঠা মজুদ ছিল। তাই একাধিক মুজতাহিদের অনুসরণে কোন রুপ কু-প্রবৃত্তির তাড়নার সম্ভবনাও ছিল না।
হযরত শাহ্ ওলীউল্লাহ (রহ) বলে, “কেননা লোকজন সাহাবাদের যুগ থেকে শুরু করে, মাযহাব চতুষ্টয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ‘আলিম-সাহাবাদের অনুসরণ করে আসছিল, নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী অর্থাৎ তারা আশে পাশে যেখানে যাকে পেয়েছেন সেই ‘আলিম-সাহাবীর’ কথা অনুযায়ী আমল করেছেন। এতে দ্বিমত করার মত কাউকে পাওয়া যায়নি; বা উক্ত তাক্বলীদকে কেউ মন্দও ভাবেনি অথবা সমালোচনাও করেনি। যদি উক্ত ‘তাক্বলীদ’ মন্দ হত. তবে অবশ্যই অন্যান্য সাহাবীগণ তা প্রতিহত-প্রতিরোধ করতেন।
অতঃপর হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষের দিকে তৎকালীন ওলামায়ে রাব্বানীগণ শরীয়তের বিধানাবলীকে মূলনীতি আকারে ও শাখা-প্রশাখা আকারে রুপান্তরিত করতে শুরু করলেন এবং তাঁদের যোগ্যতম শিষ্যগণ তা সুশৃংখলিত এবং সুনিয়ন্ত্রিত করলেন। অতঃপর তৃতীয় শতাব্দীর অগনীত মুসলমান তা তাক্বলীদে শাখ্ছী আকারে পালন করতে থাকে বা গ্রহণ করে নেয়।
উক্ত মূলনীতিরুপ বিধানাবলী এবং শাখা-প্রশখামূলক বিধানাবলী, মস্পূর্ণ কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী প্রনয়ন করা হয়েছে। তা ছাড়া এগুলোকে পুংখানু-পুংখানরুপে যাচাই-বাছাই কারীগণও এমন ধরনের ওলামায়ে রাব্বানী এবং মুজতাহিদ ছিলেন; যাদের দ্বীনী ইলম,প্রজ্ঞা ও নির্ভরযোগ্যতা সর্বজন গ্রাহ্য ছিল। উক্ত মুজতাহিদের গবেষণালব্ধ বিধি-বিধান যেহেতু অত্যন্ত সুন্দর ও সহজলভ্য ছিল, তাই তা দ্রুত পরস্পরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। শাহ্ সাহেব (রহঃ) বলেন, “তদানীন্তন সময়ে বর্তমানকার এই তাক্বলীদই ওয়াজিব ছিল। দ্বিতীয় শতাব্দীর পরে মুসলমানদের মধ্যে নির্দিষ্ট মুজতাহিদগণের মাযহাব অনুযায়ী, তাক্বলীদের প্রচলন শুরু হয়। খুব নগণ্য সংখ্যক লোকই এমন পাওয়া যেত যে, তারা নির্দিষ্ট কোন গবেষকের প্রতি আস্থাবান ছিলেন না। আর বর্তমানকার তাক্বলীদও ঐ সেই যুগের ওয়াজিব তাক্বলেিদর অন্তর্ভুক্ত। (আল্ ইন্সাফ ঃ৫৯পৃঃ)

চতুর্থ হিজরী শতাব্দী পর্যন্ত মাযহাব-চতুষ্ঠয় ব্যতীত অপরাপর মুজতাহিদেরও তাক্বলীদ করা হত। কিন্তু উক্ত চার-মাযহাব ছাড়া অন্যান্য মুজতাহিদদের মাযহাব তেমন সংরক্ষিত হয়নি; যাতে করে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে। যদ্দরুন চতুর্থ -শতাব্দী পরে আর কোন মাযহাব অবশিষ্ট থাকেনি। আল্লাহ পাকের মেহেরবানীতে উক্ত চার মাযহাবই ‘তাক্বলীদ’ সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। হযরত শাহ্ সাহেব(রহ) বলেন, “আর যখন সব-মাযহাব নিঃশেস হয়ে শুধু চার মাযহাবই অবশিষ্ট থাকলো তখন এ চার মাযহাবের ( কোনএকটির) অনুসরণ বিমুখ হওয়া মানে বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহ থেকে বের হয়ে যাওয়া। (ইকদুল জীদ ঃ৩৮পৃঃ)
আল্লামা ইবনে খালদুন (রহঃ) তাঁর মুকাদ্দামায় বলেন, “উক্ত চার ইমামের তাক্বলীদ গোটা বিশ্বে চালু হয়ে গেছে। অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বগণ (আলিমগণ) অন্যান্যদের শিক্ষা দিতে শুরু করলেন এবং সর্বসাধারণের মধ্যে মতবিরোধ ও মতানৈক্যের ধারা বন্ধ করে দিলেন। কারণ দ্বীনী ইল্মের পরিভাষাসমূহ অনেক শাখা-প্রশাখায় ব্যাপক রুপ ধারন করেছে। আর ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছার মত প্রতিভার অনেক বিরল হয়ে যাচ্ছিল। তা ছাড়া অনুপযুক্ত-অযোগ্য লোক, যাদের মতামত বা ধর্মের ব্যাপারে, আস্থা রাখা যায়না। এমন ধরনের মুজতাহিদ নামধারীদের প্রাদুর্ভাবের আশংকায়, উক্ত বিদ্যান-অনুসারীরা, নিজেদের বেলায় অপারগতার (নতুন মতামত প্রতিষ্ঠার), অন্যদের নিরুৎসাহিত করনের এবং মুসলমানদের উক্ত চার ইমামের তাক্বলীদের দিকে ধাবিত করতে লাগলেন, নিজ নিজ অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বের প্রতি। আর সতর্ক করতে থাকলেন যাতে কেউ কখনও একজনের আবার কখনও অন্যজনের তাক্বলীদ না করে। কেননা এটা একটা তামাশার বস্তুতে পর্যবসিত হয়ে যাবে। অতঃপর তাদের মাযহাব ব্যতীত অন্য কোন মাযহাবের ধারাবাহিকতা অবশিষ্ট রইল না। প্রত্যেক মুকাল্লিদ ব্যক্তি নিজ নিজ মাযহাব সঠিক সূত্র-পরম্পরা ও পরিশুদ্ধি বজায় রেখে আমল করে আসছেন। যা কিনা বর্তমানে আমাদের সামনে‘ফিকাহ্’ নামে বিদ্যমান। তা ছাড়া এ যুগে যারা মুজতাহিদ হওযার দাবী করবে, তারা প্রত্যাখ্যাত। তাদের ‘তাক্বলীদ’ বা অনুসরণ নিষিদ্ধ। কেননা, তর্বমানে মুসলিম বিশ্ব উক্ত চার ইমামের তাক্বলীদেই সীমিত হয়ে গেছে।” (মুক্বাদ্দামা-ই-ইবনে খালদুন ঃ ১০১৭পৃঃ)
বিখ্যাত উসূলবিদ ও গ্রন্থকার আল্লামা মোল্লা জীউন (রহঃ)এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত সুন্দর উক্তি করেছেনঃ “প্রকৃত নিরপেক্ষ কথা হল, (উক্ত ‘বিশেষ কোন মাযহাব’মেনে নেওয়া প্রসঙ্গে) এই যে, মাযহাবগুলো চারের মধ্যে সীমিত হয়ে যাওয়া এবং মুসলমানদের অনুসরণ করে যাওয়া, আল্লাহ্ তা’য়ালার বিশেষ করুণা এবং অনুমোদন। এতে দলীল-প্রমাণ তালাশ করে বা বেশী মাথা ঘামায়ে কোন ফায়দা নেই। (তাফ্সীরাতে আহমদী ঃ২৯৭পৃষ্ঠা)
ব্যক্তি বিশেষের বা নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে অনুসরণ করাও ওয়াজিব
ওয়াজিব বা জরুরীকর্ম দু ,প্রকার। যথা ঃ(১) প্রত্যক্ষ ওয়াজিব (২) পরোক্ষ ওয়াজিব। প্রত্যক্ষ ওয়াজিবের বেলায় তো কেউর কোন দ্বিমত নেই। পরোক্ষ ওয়াজিব বলতে বুঝানো হয়, যে কার্য সম্পাদন করতে সরাসরি ‘শরীয়ত’ কিছু বলেনি বটে। তবে, যে সব কর্মকে জরুরী করে দিয়েছে; সেগুলো সম্পাদন উক্ত পরোক্ষ ওয়াজিব ব্যতীত বাস্তবেও সম্ভব। তাই করনীয় বিষয়গুলোর খাতিরে উক্ত পরোক্ষ-ওয়াজিব পালন করা জরুরী। কেননা,“যে জরুরীকর্ম-সম্পাদন করতে গিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্য কোন জরুরী কর্মের আশ্রয় নিতে হয়। সেই প্রাথমিক পর্যায়ের কর্মটিও ওয়াজিব রুপে সাব্যস্ত থাকে। ” যেমন কোরআন ও হাদীস সংরক্ষণের নিমিত্তে (৩০) ত্রিশ পারা একত্রিত করনের ব্যাপার ও লিখনের ব্যাপার। অনুরুপভাবে হাদীসসমূহ একত্রিত করন বা লিখিতাকারে রুপদানের কথা, শরীয়তের কোথাও ওয়াজিব বলা হয়নি। কিন্তু হিফাযত বা সংরক্ষণ জরুরী করে দেয়া হয়েছে। অতঃপর বাস্তবতার নিরিখে যখন দেখা গেল যে, একত্রিত করণ বা লিখিতাকারে গ্রথিত করন ছাড়া সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তাই সর্ব সম্মতিক্রমে একত্রিত করন ও লিপিবদ্ধ করাটাও ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। সুতরাং এখানে “একত্রিত করণ” ও “লিখন” শরীয়ত সমর্থিত পরোক্ষ ওয়াজিব। যার কোন বিকল্প নেই। ঠিকতদ্রুপ ‘তাক্বলীদ’ বা ব্যক্তিবিশেষের অনুসরণও জরুরী তথা ওয়াজিব। কেননা সুনির্দিষ্ট ইমামের অনুসরণ পরিহার করলে এমন সব বিশৃংখলার উদ্ভব ঘটে যেগুলো থেকে বাঁচা ওয়াজিব। সুতরাং নির্দিষ্ট কোন ইমামের অনুসরণ বা ‘তাক্বলীদ’ও ওয়াজিব।
এ ব্যাপারে কোন মুসলমানেরই দ্বিমত নেই, মানব জাতির জন্য একমাত্র আল্লাহর হুকুম (বিধান/দায়িত্ব) মেনে চলাই অব্যশ্যই কর্তব্য। অন্য কারো নয়। কেননা, অন্য সবই তো মাখলুক বা সৃষ্টি যার কারণে বিধান চলবে একমাত্র তাঁরই। আর ¯্রষ্টাতো একমাত্র তিনিই। তবে হাঁ, নবী-রাসূলগণের (অথবা তাঁদের অবর্তমানে নায়েবে নবী বা খাটি আলেমদের) আদেশ-নিষেধ কেন মানবো? নবী-রাসূলগণের আদেশ-নিষেধ মান্য করা ওয়াজিব এই জন্য যে, তাঁরা মহানআল্লাহ রাব্বুল আ-লামীনের পক্ষ থেকে নির্বাচিত ও নিযুক্ত। তাঁরই আদেশ-নিষেধ পৌঁছেদিবার দায়িত্ব পালন করেন মাত্র। তাঁরা যা করতে বলেন অথবা যত কিছু ছাড়তে বলেন, তা সব আল্লাহ তায়া’লারই নির্দেশে বলে থাকেন। তাঁরা ¯্রষ্টা এবং সৃষ্টির মধ্যে মাধ্যম স্বরুপ হয়ে থাকেন। এই জন্যই স্বয়ং আল্লাহ পাক নবীদের আনুগত্য/অনুসরণ মানুষের উপর ওয়াজিব বা জরুরী করে দিয়েছেন। পবিত্র কালামের একাধিক আয়াতে আল্লাহর নির্দেশ পালনের সঙ্গে সঙ্গে রাসূলের নির্দেশও পালনের কথা বলা হয়েছে। আবার এ কথাও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য বা অনুসরণ প্রদর্শন করল সে যেন সরাসরি আল্লাহরই আনুগত্য প্রদর্শন করল। ঠিত তদ্রুপ নবী/রাসূলদের অবর্তমানে ‘নায়েবেনবী’ তথা শরীত বিশেষজ্ঞ উলামাদের আনুগত্যের কথাও পবিত্র কোরআনেই আছে। যেমন “অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে।” অন্যত্র আছে “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। এ কথা সতঃসিদ্ধ যে, মুসলমাদের বিচারক সেই ব্যক্তিই হতে পারে;যাঁর কোরআন-সুন্নাহর পর্যাপ্ত জ্ঞান আছে।যিনি ফতোওয়া/ফায়সালা দানে সক্ষম অর্থাৎ আলেমগণ ও শরয়ী মুফতিগণ। (সুরা নিসা,আয়াত-৫৯)
এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাহাবাদের পরে তাবেয়ী বা তাবঈ-তাবেয়েিদর মধ্যে, বিশেষ করে ইমাম চতুষ্টয়ের চেয়ে বড় আলেম বা বড় জ্ঞানী আর কেউই ছিলেন না। তা ছাড়া বাস্তবতার নিরিক্ষে বা বিগত ১৪০০ বছরের তুলনামূলক সমীক্ষার আলোকে পর্যালোচনা করলে, ভবিষ্যতে আর তাঁদের মত সুযোগ্য শরীয়ত বিশেষজ্ঞ পয়দা হওয়ার সম্ভবনাও নেই বললেই চলে। সুতরাং কেউ উক্ত শরীয়ত বিশেষজ্ঞ মুজতাহিদ ইমামদের অনুসরণ করল মানেই নববী আনুগত্য করল।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, নবী-রাসূলগণের অনুসরণ বা আনুগত্যে, যেমনিভাবে আল্লাহর আনুগত্য-অনুসরণের সাথে শিরক(অংশীদারিত্ব) সাব্যস্ত হয় না। ঠিক তদ্রুপ মুজতাহিদ ইমামগণের বা নায়েবে নবীদের আনুগত্য, অনুসরণ (বা তাক্বলীদ)ও শিরক হিসাবে সাব্যস্ত হতে পারে না। উক্ত আনুগত্য বা অনুসরণকেই ফিক্বহের ভাষায় ‘তাক্বলীদ’ বলা হয়ে থাকে।

দাবী নং ১৬

নামাজের ইকামতের সময় মোয়াজ্জিন “হাইয়া আলাস্সাহ” বা “হাইয়া আলাল ফালাহ” বলার সময় মুসল্লিগণ নামাজের জন্য দাড়ানো । সুন্নতের পূর্বে বা ইকামতের মসয় বা ইকামতের পূর্বক্ষণে নামাজের জন্য দাড়ানো মাকরুহে তাহরীমি বা খেলাফে সুন্নত। এর অস্বিকারকারীরা ইয়াজিদের দলের অন্তর্ভুক্ত । এ ব্যাপারে চার মাজহাবের সকল ইমামই একই মতামত পোষণ করেছেন । কোন ইমামই ইকামতের পূর্বে দাড়ানোর জন্য রায় দেননি।
জাবব
মুক্তাদীগণ পূর্ব থেকে কাতার সোজা করে বসে থাকলে মুয়ায্যিন সাহেবের ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ বলার সময় সকলের উঠে দাঁড়ানোর অনুমতি আছে । তবে এটা কোন জরূরী বা সুন্নাত আমল নয় । আর পূর্ব থেকে কাতার সোজা করে বসা না থাকলে কাতার সোজা করা যেহেতু জরূরী তাই কাতার সোজা করার লক্ষ্যে ইকামত শুরুর সাথে সাথে দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করে নিতে হবে । এটাই সহীহ নিয়ম । কারণ, প্রিয় নবী সা. কাতার সোজা করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছেন । অনুরূপভাবে সাহাবায়ে কিরামও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কাতার সোজা করার প্রতি লক্ষ্য রাখতেন । এমনকি অনেক সাহাবায়ে কিরাম কাতার সোজা না হওয়া পর্যন্ত ইকামত শুরু করতেন না । [
দলীল
[ আহসানুল ফাতাওয়া ২ঃ১১২] তিরমিযী শরীফ ১ঃ৫২# আদ্দুররুল মুখতার ১ঃ ১১২]

                                                         দাবী নং ১৭

আযানের মধ্যে বা অন্য কোন সময় এবং একামতের সময় মোয়াজ্জিনের কন্ঠে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূল উল্লাহ সা. উচ্চারিত হওয়ার সময় ¯্রােতাগণ প্রথম বার সা. বলবে। এবং দ্বিতীয় বার কুররাতু আইনী বিকা ইয়া রাসূল আল্লাহ বলা সুন্নাতে রাসূল । এবং দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলীর নখ চুমু খেয়ে উভয় চোখে লাগানো মুস্তাহাব । এবং চোখের জন্য ইহা শেফা স্বরূপ।
জবাব
আযানের মধ্যে বা অন্য কোন সময় এবং একামতের সময় মোয়াজ্জিন যা বলবেন শ্রবণকারীও ঠিক তাই বলবে। হ্যাঁ রাসূল সা. এর নাম শুনলে সাথে সাথে দরূদ শরীফ পড়তে হয় , শুধু এই এখানে ব্যতিক্রম । আর তা হলো যে, আযানের মধ্যে রাসূল সা. এর নাম শুনার সাথে সাথে দরূদ শরীফ না পড়ে আযানের শেষে দরূদ শরীফ পড়বে । কারণ, রাসূল সা. নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন, আযানের পরে দরূদ শরীফ পড়ার জন্য ।
দলীল
عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضی الله عنهما قال قال رسول الله صلی الله عليه وسلم اذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول ثم صلوا علی فانه من صلی علی صلوة صلی الله عليه بها عشرا ثم سلوا الله لی الوسيلة قانها منزلة فی الجنة لا ينبغی لعبد من عباد الله وارجوان اڪون هو فمن سآل لی الوسيلة حلت ليه الشفاعة – مسلم
[ সহীহ মুসলিম শরীফ ]
وقال فی التنوير ويجب من سمع الاذان بان يقولوا ڪمقالته
[ রদ্দুল মুহতার ১ নং খন্ড ৩৬৮ নং পৃষ্ঠা ]
আর আযানের সময় বা অন্য সময় এবং একামতের সময় রাসূল সা. এর নাম শুনে আংগুল চুম্বন করা এবং চোখে লাগানো মারফু হাদীস দ্বারা প্রমানিত নয় । এ কাজকে সুন্নাত মনে করা ভুল । অবশ্য অতীতের কোন কোন আলেম চোখের ব্যথা দূর করার জন্য এবং পাওয়ার বৃদ্ধির জন্য চিকিৎসা স্বরূপ এরূপ করেছেন। এখনো যদি কেউ সুন্নাত বা মুস্তাহবের গুরুত্ব না দিয়ে চোখের উপকারের জন্য চিকিৎসা স্বরূপ এমন করে তাহলে করতে পারে । কিন্তু শর্ত হল যে, কেউ যদি না করে তাহলে তাকে খারাপ মনে করতে পারবে না এবং ওহাবী ইত্যাদি বলতে পারবে না । যদি খারাপ মনে করে বা ওহাবী ইত্যাদি বলে, তাহলে তা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়িয হয়ে যাবে । কেননা, মুস্তাহাব নিয়ে বাড়াবাড়ি করা নাজায়িয । আর এই আমল তো মুস্তাহাবও নয় । বরং এক ধরনের চিকিকৎসা মাত্র । সুতরাং এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা চরম মূর্খতা ।
দলীল
ان المندوب ينقلب مکروها اذا خيف ان يرفع عن مرتبه … الخ مجمع البحار ٢/٢٤٤ فتح الباری ٢/١٨١مجالس الابرار٢٩٩
[মাজমাউল বাহার ২ নং খন্ড ২৪৪ নং পৃষ্ঠা # ফাতহুল বারী ২নং খন্ড ১৮১ নং পৃষ্ঠা # মাজালিসুল আবরার ২৯৯ পৃষ্ঠা ]
[ফাতাওয়া রহীমিয়া ১/৫৮ পৃষ্ঠা, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১/১৮৬ পৃষ্ঠা ]

                                                             দাবী নং ১৮

দরূদে ইব্রাহীমি ছাড়াও আরও অসংখ্য দরূদ শরীফ রয়েছে । দরূদে ইব্রাহীমি শুধু নামাজের জন্য খাস । আর নামাজের বাহিরে তথা ওয়াজ মাহফিলে অন্যান্য অজিফায় দরূদ শরীফ পাঠ করা সুন্নত । এমনকি মিলাদ কিয়ামে অন্যান্য দরূদ শরীপ পড়া মুস্তাহাব । এর অস্বীকার কারীরাই ওহাবী।
জবাব
এতে যা বলা হয়েছে শুধু মিলাদের মধ্যে দরুদ পড়ার বিষয়টি বাদ দিয়ে বাকীগুলো ঠিক আছে আর মিলাদের বিষয়টি ৭ নং এর মাঝে দেয়া হয়েছে ।

                                                        দাবী নং ১৯

কোন সুন্নী মুসলমান বা মোমেন মারা গেলে তার জন্য দোয়ার উদ্দেশ্যে কোলখানি করা, চল্লিশা করা বা যেকোন সময় তার দোয়া করার উদ্দেশ্যে মিলাদ মাহফিল করা যায়েজ । এমনকি ছোয়াবের কাজ । এর বিরোধিতাকারীরাই শয়তানের দল ।
জবাব
আমাদের যে কোন কাজই আল্লাহ তা‘আলার হুকুম ও রাসূল সা. এর তরীকা অনুযায়ী আদায় করতে হবে । এর দ্বারাই সাওয়াবের আশা করা যায় । রাসূল সা. এর তরীকা বহির্ভূত সকল কাজই পরিত্যাজ্য ও গোনাহের কাজ ।
বর্তমানে মানুষ মৃত্যুর পরও গোনাহ থেকে নিস্তার পায় না । মৃত ব্যক্তির আতœীয়-স্বজনরা যে ত্রিশা ও চল্লিশার খাবারের আয়োজন করে রুসম পালন করে শরীয়তের দৃষ্টিতে এসব কাজ বিদ’আত ও কুস্ংস্কার হিসেবে বিবেচিত । এর দ্বারা মৃত ব্যক্তির রূহে সামান্য পরিমাণও সাওয়াব পৌঁছে না । ফাতাওয়া শামীতে উল্লেখ রয়েছে এ ধরনের প্রায় সকল কাজই অহংকার ও লৌকিকতার মনোভাব নিয়ে করা হয় । আর তখন এরূপ মনোভাব না থাকলেও পরবর্তীতে এ মনোভাব এসে যায় । মৃতের পরিবার ধনী হলে অধিকাংশ ধনীদেরকেই এতে দাওয়াত দেয়া হয়, আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য হয় না ।
এজন্য উত্তম হল, কোন দিন-তারিখের দিকে লক্ষ্য না রেখে গোপনীয়তা রক্ষা করে যে কোন দিন ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে গরীব ও ইয়াতীমদেরকে আহার করানো, ল্লিাহ বোর্ডিং-এ গরীব ছাত্রদের জন্য দান করায় (এতে সাওয়াব অনেক বেশী হয়) সদকায়ে জারিয়ার সাওয়াবও পাওয়া যায় ।
তবে এ ধরনের খাবার মৃতের ওয়ারিসগণের ইজমালী সম্পত্তি থেকে খাওয়াবে না । বালিগ ওয়াসিগণ নিজেদের মাল থেকে এ খাবারের ব্যবস্থা করবে ।
দলীল
[ ইবনে মাজাহ্ ১/১১৬# ফাতাওয়া শামী ২/২৪০# ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/১৬৭# ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৫৪৭,# খাইরুল ফাতাওয়া ১/৫৯৬]

                                                       দাবী নং ২০

আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের তরিকামতে চলার জন্য পীর ধরা ফরজ। তথা পীর মুরিদি বেতআত নয় বরং ইসলামকে বোঝার জন্য সঠিক পথ, সঠিক পথ বুঝার জন্য পীর ধরা ফরজ । যার পীর নাই, তার পীর হল শয়তান । অর্থাৎ ওহাবীদের পীর হল শয়তান । যেমন-কাজীি মোহাম্মদ ইব্রাহীম সে হল আসল ওহাবী ও শয়তানের দল । তার পীর হল শয়তান । সে “তৌহিদ জিজ্ঞাসা জবাব” নামক কিতাবে ইসলাম বিরোধী ও ইমান বিধ্বংশী অসংখ্য ফতোয়া দিয়েছেন । এর মধ্যে একটি হল, পীর মুরিদি, বেদআত । (“নাউযুবিল্লাহ”) তাহার এই বইয়ের দাঁত ভাঙ্গা জবাব ইতিমধ্যেই ইনশাআল্লাহ বাহির হতে যাচ্ছে।
জবাব
শরীয়তের অন্যান্য আহকাম যথাঃ নামায,. রোযা, হজ্জ, যাকাত, ইত্যাদি । নেসাব পরিমাণ মালের মালিকানা থাকার শর্তে) যেমন প্রত্যেক আক্বেল বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) মুসলমান নর-নারীর উপর ফযে আইন তথা অবশ্য পালনীয়, তদ্রƒপ অন্তরের দশটি রোগ অর্থাৎ (১) লোভ , (২) অহেতুক কথা বলার আগ্রহ, , (৩) অযথা ক্রোধ, (৪) হিংসা বা পরশ্রীকাতরকা, (৫) কৃপনতা, (৬) পদের মোহ তথা বড়ত্ব কামনা , (৭) দুনিয়ার মোহ, (৮) তাকাব্বুর বা অহংকার , (৯) খোদপছন্দি বা আতœশ্লেষা, (১০) রিয়া তথা প্রদর্শনী ও লৌকিকতা, এর চিকিৎসা করানোর মাধ্যমে সমস্ত জাহেরী গুনাহ তরক রকা এবং দশটি ভাল গুণ তথা (১) তাওবা, (২) খোদাভীতি, (৩) যুহুদ বা দুনিয়ার প্রতি অনিহা, (৪) সবর বা ধৈর্যশীলতা, (৫) শুকর বা কৃতজ্ঞতা, (৬) এখলাস তথা যে কোন কাজে খালেস নিয়ত বা একনিষ্ঠতা, (৭) তাওয়াক্কুল তথা আল্লার উপর পূর্ণ ভরসা, (৮) মহব্বত বা আল্লাহ ও রাসূল সা. এর ভালবাসা, (৯) তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্টি, (১০) মৃত্যু চিন্তা অর্জন করা এবং সর্বক্ষণ আল্লাহর ধ্যান ও স্মরণ রাখার সিফাত হাসিল করা প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নর-নারীর উপর ফরযে আই । আর এরই নাম হচ্ছে তাযকিয়া বা আতœশুদ্ধি । এ আতœশুদ্ধি এমনই এ ফরয দায়িত্ব যে, আল্লাহ তা‘আলা এর গুরুত্ব বোঝাতে কুরআনে পাকের সূরা আশ-শামসে ১১ বার কসম খেয়ে এই আতœশুদ্ধির কথা উল্লেখ করেছেন । যেই কসম অন্য কোন বিষয় বর্ণনার ক্ষেত্রে এতবার খাওয়া কুরআনের কোথাও নেই । তামাম আম্বিয়ায়ে কেরামের প্রধানতঃ যে চারটি দায়িত্ব ছিল তন্মধ্যে অন্যতম একটি হল আতœার পরিশুদ্ধি ।
আর কুরআনে অনেক আয়াত, রাসূল সা. এর অগণিত বাণী ও আমল, সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়ীন, তাবয়ে তাবেয়ীন, আইম্মাায়ে মুজতাহিদীন, মুহাদ্দিসীন, মুফাসসিরীনসহ সকল যুগের আউলিয়ায়ে কিরামের আমল বাস্তব অভিজ্ঞতা দ্বারা একথা স্বীকৃত যে, আতœশুদ্ধি তথা আতœার রোগের চিকিৎসার জন্য এমন কোন শাইখের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক রাখা জরূরী যিনি অন্য শাইখের সোহবতে থেকে নিজের আতœার পরিশুদ্ধি করেছেন । এক্ষেত্রে উত্তম হল বিভিন্ন সময়ে শাইখের দারস্ত না হয়ে এমন কোন একজনকে নির্দিষ্ট করে নেওয়া, যার সাথে মনের অধিকতর মিল আছে, এবং যার প্রতি মনের আকর্ষণ বেশী যদিও তিনি তত প্রসিদ্ধ বা খ্যাতি সম্পন্ন না হন ।
উল্লেখ্য, আতœশুদ্ধির জন্য কারো সাথে ইসলাহী সম্পর্ক রাখা জরূরী বটে যাকে বাইআতে হাকীকী বলে । তবে কোন শাইখের হাতে হাত দিয়ে বাইআত হওয়া বা তার মুরীদ হওয়া যাকে যাহেরী বাইআত বলে এটা জরুরী নয় । বরং এটা মুস্তাহাব ও বরকতের কাজ ।
দলীল
[ সূরা তাওবা আয়াত ১১৯, সূরা আনআম আয়াত ১২০, সূরা বাকারা আয়াত ১২৯, সূরা আশ-শামস আয়াত ৭-৯, ফাতাওয়ায়ে শামী খন্ড ১ পৃষ্ঠাঃ ৪৩, ইমদাদুল ফাতাওয়া খন্ড ৫ পৃষ্ঠা ১৩৯, মাহমূদিয়া খন্ড ১৫ পৃষ্ঠা ৮৮]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s