তথাকথিত আহলে হাদীসদের কাছে প্রশ্নগুলো করে দেখুন

১৯৭৯ সাল। আজ থেকে ১৩০ বছর আগের কথা। দারুল উলূম দেওবন্দ তখনও কিশোর। তার বয়স ১৩ কি ১৫।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে।এমনি এক কঠিন মূহুর্তে আকাশে উড়ে এল এক ‘লিফলেট’। কে উড়াল ‘লিফলেট’? কোথা হতে উড়ে এল এই ‘লিফলেট’?

এই লিফলেট এল লাহোর থেকে,মুসলিম নামধারী স্বজাতির এক আলেম থেকে।তাঁর নাম হোসাইন আহমদ বাটালভী।

এই ‘লিফলেটে’ মাযহাবকে মান্য করে এমন সব মানুষ-বিশেষ করে হানাফীদের টার্গেট করে নির্লজ্জ হামলা করা হল। ‘লিফলেটে’ এমন ১০টি প্রশ্ন তুলে ধরা হল যা হানাফীরা শতাদ্বীর পর শতাদ্বী ধরে আমল করে আসছেন।শুধু কি তাই! ঐ ‘লিফলেটের’ শেষে বলা হল, ‘হানাফীদের যে বা যারা ওই প্রশ্নগুলোর উত্তর ‘সহীহ’ ‘মুত্তাফাকুন আলাইহি’ হাদিসের পারবেন-তাকে/তাদেরকে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে ১০ রুপি করে পুরস্কার দেওয়া হবে’।

কিন্তু ‘বাটালভী’ মিঁয়া পরে বুঝতে পারলেন কি ভুলটাই না তিনি করেছেন।

কারণ তার অবার্চীনতার জবাব দেওয়ার মত জগদ্বিখ্যাত মনীষীরা ছিলেন। হযরত নাননতুবী (রহ.), হযরত গাঙ্গুহী (রহ.), হযরত সাহারানপুরী (রহ.) তখনও জীবিত। তাঁরা চিন্তা করলেন ‘বাটালভী ‘ না হয় একটা ছেলেমি করেছে, এ জন্য আমাদের মুল্যবান সময় এই গর্দভের পিছনে খরচ করতে যাব কেন? তাই তাঁদেরই হাতেগড়া যোগ্য এক কিশোরকে বললেন, ‘বাপ! তুমি এর একটা বিহিত কর’।মুরুব্বীদের নির্দেশ পেয়ে সেদিনের কিশোর, পরবর্তী ইতিহাস যাকে ‘শাইখুল হিন্দ’ নামে অভিহিত করে, তিনি কলম হাতে নিলেন। সেই ‘লিফলেটের’ এমন দাঁতভাঙ্গা জবাব লিখলেন তাতে বিপক্ষের শুধু দাঁতই ভাঙল না, এর পাশাপাশি মাঢ়ি-চোয়াল সবই ধরধরে খুলে পড়ল। সেই বালক শাইখুল হাদীস মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রহ. যে বইটি লিখলেন তার নাম ‘আদিল্লায়ে কামেলাহ’। প্রথম প্রকাশ ১৮৮০ সালে ভারতে। তিনি শুধু সেসব প্রশ্নের জবাবই দিলেননা, পাশাপাশি এমন কিছু লা-জাওয়াব মার্কা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন।এবং প্রত্যেকটার জন্য ১০ রুপি নয়, ২০ রুপি করে দেওয়ার চ্যালেন্ঞ্জ করলেন। যেগুলোর জবাব দেওয়া তথাকথিত ‘আহলে হাদীস’, গায়রে মুকাল্লিদ লা-মাযহাবী, সালাফী ও আহলে জাহেরদের যিম্মায় শতাব্দিকাল ধরে ফরয হয়ে আছে। বুকে বিন্দুমাত্ত হিম্মত থাকলে জবাবগুলো দিয়ে ধন্য করবেন।

লা-মাযহাবী বন্ধুদের প্রতি তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলো-

১। আপনারা যেহেতু প্রতি ওয়াক্তের প্রতি রাকাতে রুকুতে যেতে ও রুকু থেকে উঠতে ‘রাফেঈ ইয়াদাইন’ করেন- সেহেতু এমন একটি সহীহ হাদীস, সরীহ ও মুক্তাফাক আলাইহি হাদীস পেশ করুন, যাতে দেখাতে হবে, রাসূলুল্লাহ সা. জীবনের প্রতি ওয়াক্তের নামাযে প্রতি রাকাতে রুকুতে যেতে উঠতে ‘রাফেঈ ইয়াদাইন’ করেছেন। এটি না পারলে কমপক্ষে তার জীবনের সর্বশেষ নামাযটিতে ‘রাফেঈ ইয়াদাইন’ ছিল প্রমান করুন!!!???

২। রাসূলুল্লাহ সা. ২৩ সালা যিন্দেগীর সব নামাযেই “সর্বদা উচ্চস্বরে আমীন” বলেছেন। সহীহ হাদীস, সরীহ ও মুক্তাফাক আলাইহি হাদীস দ্বারা প্রমান করুন?

৩। নাভীর নীচ ছাড়া সর্বদা বিশেষ অঙ্গের ওপর নামাযে হাঁত বাধা সম্পর্কে সহীহ, সরীহ ও মুক্তাফাক আলাইহি হাদীস দ্বারা প্রমান করুন?

৪। মুক্তাদীদেরকে ইমামের পিছনে অকাট্য দলীলে ক্বেরাত পড়তে বলা হয়েছে-এমন একটি মরফু, মুত্তাসিল, সহীহ, সরীহ, মুক্তাফাক আলাইহি ও গায়রে মুয়ারিয লিল কুরানি ওয়াস সুন্নাহ বিশিষ্ট হাদীস পেশ করুন???

৫। দুই মেছেলের পূর্বে ‘সর্বদা’ জোহরের নামাজ আডায় করা যায়-এ মর্মে মরফু, মুত্তাসিল, সহীহ, সরীহ, মুক্তাফাক আলাইহি ও গায়রে মুয়ারিয লিল কুরানি ওয়াস সুন্নাহ বিশিষ্ট হাদীস পেশ করুন???

4 thoughts on “তথাকথিত আহলে হাদীসদের কাছে প্রশ্নগুলো করে দেখুন

  1. ebrahim bin mustafiz says:

    nice.

  2. mamun says:

    ahleh hadis vul pore doren apnader pir sab vondo je allak ke gali dey agulu deken na na chok takte kana

  3. এহসানুল হক শিপন says:

    সম্ভবত ১৮৭৯;১৯৭৯ না

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s