জুলম একটি ভয়াবহ কবিরা গুনাহ

জুলম একটি ভয়াবহ কবিরা গুনাহ

যুলম শব্দটি আরবী। বাংলায় এর র্অথ অত্যাচার করা, অবচিার করা, নর্যিাতন করা বা সীমা অতক্রিম করা। অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ দখল করা, কারো চরত্রি হনন করা, কারো অধকিার থকেে বঞ্চতি করা, কাউকে অন্যায়ভাবে গ্রফেতার করা, মথ্যিা সাক্ষ্য প্রমাণ করার ব্যবস্থা করা, মথ্যিা মামলা দযে়া, কাউকে ন্যায় বচিার থকেে বঞ্চতি করা, কারো জমি দখল করা, অন্যায়ভাবে চাকরীচ্যুত করাসহ ইত্যাদি কাজ যুলুমরে অর্ন্তভুক্ত।

যুলম এমন একটি ভয়ানক বষিয় য,ে আল্লাহ তা‘আলা যালমেকে জাহান্নামে নক্ষিপে করবনে। এটি একটি জঘন্য অপরাধ, মানবতাবরিোধী কাজ, গুরুতর পাপকাজ। কোন ইমানদার ব্যক্তি কারো উপর যুলম করতে পারে না। যুলুমরে কারণে দুনযি়া এবং আখরোতে ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হতে হব।ে আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿فَقَدۡ كَذَّبُوكُم بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسۡتَطِيعُونَ صَرۡفٗا وَلَا نَصۡرٗاۚ وَمَن يَظۡلِم مِّنكُمۡ نُذِقۡهُ عَذَابٗا كَبِيرٗا ١٩﴾  [الفرقان:১৯]
‘অতঃপর তোমরা যা বল তারা তা মথ্যিা বলছে।ে অতএব তোমরা আযাব ফরোতে পারবে না এবং কোন সাহায্যও করতে পারবে না। আর তোমাদরে মধ্যে যে যুলম করবে তাকে আমি মহাআযাব আস্বাদন করাব।’ [সূরা আল-ফুরকান-১৯]
আমাদরে ব্যক্তগিত, পারবিারকি, সামাজকি ও রাষ্ট্রীয় জীবনরে বভিন্নি দকিে যুলুম এমনভাবে ব্যাপকতা লাভ করছে,ে  যা থকেে উত্তরণ হওয়া খুবই জরুরী।
যুলুমরে কারণে দুনযি়াতে যসেব ভয়াবহ পরণিামরে সম্মুখীন হতে হবে তাহলো:
ক) যুলুমরে কারণে ব্যাপক বর্পিযয় দখো দবি।ে এ বর্পিযয় কোন বশিষে গোষ্ঠী বা ব্যক্তরি উপর আসবে না,  বরং সকলইে এর ভুক্তভোগী হব।ে  আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿وَٱتَّقُواْ فِتۡنَةٗ لَّا تُصِيبَنَّ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنكُمۡ خَآصَّةٗۖ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٢٥﴾ [الأنفال: ২৫]
‘আর তোমরা ভয় কর ফতিনাকে যা তোমাদরে মধ্য থকেে বশিষেভাবে শুধু যালমিদরে উপরই আপততি হবে না। আর জনেে রাখ, নশ্চিয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর।’ [সূরা আনফাল -২৫]
খ) যালমেদরে জন্য যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু অপক্ষো করছ।ে আল্লাহ্ বলনে,
﴿وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّنِ ٱفۡتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوۡ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمۡ يُوحَ إِلَيۡهِ شَيۡءٞ وَمَن قَالَ سَأُنزِلُ مِثۡلَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُۗ وَلَوۡ تَرَىٰٓ إِذِ ٱلظَّٰلِمُونَ فِي غَمَرَٰتِ ٱلۡمَوۡتِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ بَاسِطُوٓاْ أَيۡدِيهِمۡ أَخۡرِجُوٓاْ أَنفُسَكُمُۖ ٱلۡيَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ ٱلۡهُونِ بِمَا كُنتُمۡ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ غَيۡرَ ٱلۡحَقِّ وَكُنتُمۡ عَنۡ ءَايَٰتِهِۦ تَسۡتَكۡبِرُونَ﴾ [الأنعام: ৯৩]
‘আর যদি তুমি দখেত,ে যখন যালমিরা মৃত্যু কষ্টে থাক,ে এমতাবস্থায় ফরেশেতারা তাদরে হাত প্রসারতি করে আছে (তারা বল)ে, ‘তোমাদরে জান বরে কর। আজ তোমাদরেকে প্রতদিান দযে়া হবে লাঞ্ছনার আযাব, কারণ তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তোমরা তার আয়াতসমূহ সর্ম্পকে অহংকার করত।ে’ [সূরা আল-আন‘আম:৯৩]
গ) যুলুমরে কারণে জাতরি সফলতা আসে না । আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿إِنَّهُۥ لَا يُفۡلِحُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٢١﴾ [الأنعام: ২১]
নশ্চিয় যালমিরা সফলকাম হয় না। [সূরা আন‘আম-২১]
অনুরূপভাবে আরও এসছে,ে
﴿وَعَنَتِ ٱلۡوُجُوهُ لِلۡحَيِّ ٱلۡقَيُّومِۖ وَقَدۡ خَابَ مَنۡ حَمَلَ ظُلۡمٗا﴾ [طه: ১১১]
‘আর চরিঞ্জীব, চরিপ্রতষ্ঠিতি সত্তার সামনে সকলইে অবনত হব।ে আর সে অবশ্যই র্ব্যথ হবে যে য্লুম বহন করব।ে’ [সূরা ত্বা-হা:১১১]
ঘ) সমাজ ও রাষ্ট্রে যখন যুলুম চলতে তাকে তখন আল্লাহর নযে়ামত সংকুচতি হয়ে যায়। অন্য আয়াতে এসছে,ে
﴿فَبِظُلۡمٖ مِّنَ ٱلَّذِينَ هَادُواْ حَرَّمۡنَا عَلَيۡهِمۡ طَيِّبَٰتٍ أُحِلَّتۡ لَهُمۡ وَبِصَدِّهِمۡ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ كَثِيرٗا ١٦٠﴾ [النساء: ১৬০]
‘সুতরাং ইয়াহূদীদরে যুলমরে কারণে আমি তাদরে উপর উত্তম খাবারগুলো হারাম করছেলিাম, যা তাদরে জন্য হালাল করা হয়ছেলি এবং আল্লাহর রাস্তা থকেে অনকেকে তাদরে বাধা প্রদানরে কারণ।ে’ [সূরা আন-নসিা:১৬]
ঙ) যালমেদরে জন্য দুনযি়াতে বভিন্নি শাস্তরি ব্যবস্থা রয়ছে।ে আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿فَلَمَّا نَسُواْ مَا ذُكِّرُواْ بِهِۦٓ أَنجَيۡنَا ٱلَّذِينَ يَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلسُّوٓءِ وَأَخَذۡنَا ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ بِعَذَابِۢ بَ‍ِٔيسِۢ بِمَا كَانُواْ يَفۡسُقُونَ ١٦٥﴾ [الأعراف:১৬৫]
‘অতঃপর যে উপদশে তাদরেকে দযে়া হয়ছেলি, যখন তারা তা ভুলে গলে তখন আমি মুক্তি দলিাম তাদরেকে যারা মন্দ হতে নষিধে কর।ে আর যারা যুলম করছেে তাদরেকে কঠনি আযাব দ্বারা পাকড়াও করলাম। কারণ, তারা পাপাচার করত।’ [সূরা আল-আ‘রাফ -১৬৫]
চ) যালমিরে শক্তি যতই শক্তশিালী হোক না কনে তার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ বলনে,
﴿ فَقُطِعَ دَابِرُ ٱلۡقَوۡمِ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْۚ ﴾ [الأنعام:৪৫]
‘অতএব যালমি সম্প্রদায়রে মূল কটেে ফলো হল।’ [ সুরা আনাম ৪৫]
দুনযি়ার পাশাপাশি আখরোতওে যুলুমরে কারণে যসেব ভয়াবহ অবস্থা হবে তাহলো:
ক) আল্লাহ তা‘আলা যালমেদরেকে আখরোতে ভয়ানক শাস্তি দবিনে। সূরা বুরুজরে ১০ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ فَتَنُواْ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ ثُمَّ لَمۡ يَتُوبُواْ فَلَهُمۡ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمۡ عَذَابُ ٱلۡحَرِيقِ ١٠﴾ [البروج:১০]
নশ্চিয় যারা মুমনি পুরুষ ও মুমনি নারীদরেকে নর্যিাতন কর,ে তারপর তাওবা করে না, তাদরে জন্য রয়ছেে জাহান্নামরে আযাব। আর তাদরে জন্য রয়ছেে আগুনে দগ্ধ হওয়ার আযাব।’’[ সুরা বুরুজ ১০]
সূরা ফুরকানরে ৩৭ নং আয়াতে বলা হয়ছে,ে
﴿ وَأَعۡتَدۡنَا لِلظَّٰلِمِينَ عَذَابًا أَلِيمٗا ٣٧﴾ [الفرقان:৩৭]
‘‘আর আমরা যালমেদরে জন্য কঠনি পীড়াদায়ক শাস্তরি ব্যবস্থা করছে’ি’। [ সুরা ফুরকান ৩৭]
খ) যালমেরে জন্য কযি়ামতরে দনি বরিাট মুসবিত রয়ছে,ে তার জন্য শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার । ইমাম বুখারী ও মুসলমি (রহ.) আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদযি়াল্লাহু আনহুমা থকেে র্বণনা করনে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেনে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রالظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِগ্ধ
র্অথ: যুলুম-অত্যাচার যালমিরে জন্য অন্ধকাররে কারণ হব।ে র্অথাৎ হাশররে ময়দানে যালমিরে চারপাশে শুধু অন্ধকার আর  অন্ধকার থাকব।ে [বুখারী:২৪৪৭; মুসলমি:২৫৭৮]
গ) যুলুম করে সাময়কি আনন্দ, কোন প্রার্চুয বা কোন পদোন্নতি হলে ও যালমেরে মত হতভাগা আর কহে নইে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ্রأَتَدْرُونَ مَنِ الْمُفْلِسُগ্ধ ؟ قَالُوا : الْمُفْلِسُ فِينَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ لاَ دِرْهَمَ لَهُ ، وَلاَ مَتَاعَ لَهُ ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْمُفْلِسُ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلاَتِهِ وَصِيَامِهِ وَزَكَاتِهِ ، فَيَأْتِي وَقَدْ شَتَمَ هَذَا ، وَأَكَلَ مَالَ هَذَا ، وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا ، فَيَقْعُدُ ، فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ ، وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُعْطِيَ مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ ، فَطُرِحَ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِগ্ধ.
আবু হুরায়রা রাদআিল্লাহু আনহু থকেে র্বণনা করনে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেনে, তোমরা কি জান গরীব ক?ে সাহাবীগণ বললনে, আমাদরে মধ্যে যার সম্পদ নাই সে হলো গরীব লোক। তখন তনিি বললনে, আমার উম্মতরে মধ্যে সে হলো গরীব য,ে কযি়ামতরে দনি নামায, রোযা ও যাকাত নযি়ে আসবে অথচ সে অমুককে গালি দযি়ছে,ে অমুককে অপবাদ দযি়ছে,ে অন্যায়ভাবে লোকরে মাল খযে়ছে,ে সে লোকরে রক্ত প্রবাহতি করছেে এবং কাউকে প্রহার করছে।ে কাজইে এসব নর্যিাততি ব্যক্তদিরেকে সদেনি তার নকে আমল নামা দযি়ে দযে়া হব।ে এবং তাকে জাহান্নামে নক্ষিপে করা হব।ে [তরিমযিী:২৪১৮]
ঘ) যে নজিরে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত বা দুনযি়া উর্পাজন করার জন্য কারো উপর যুলুম করলো কযি়ামতরে দনি সে হবে নকিৃষ্ট ব্যক্ত।ি ইবনে মাজাহ আবু উমামা রাদযি়াল্লাহু আনহু থকেে র্বণনা করনে, কযি়ামতরে দনি র্মযাদার দকি দযি়ে সে হবে র্সবাধকি নকিৃষ্ট যে নজিরে আখরোতকে অন্যরে দুনযি়ার কারণে ধ্বংস করে দযি়ছে।ে
ঙ) আখরোতে যালমেরে ভাল আমল ছনিযি়ে নযে়া হবে । আবু হুরায়রা রাদআিল্লাহু আনহু র্বণনা করনে, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলছেনে, যদি কোন ব্যক্তি কারো মানহানি বা অন্যকোন বষিয়ে অত্যাচার করে তাহলে সে যনে জীবতি থাকতইে তা ক্ষমা চযে়ে নযে় অথবা অত্যাচার পরমিাণ বনিমিয় পরশিোধ করে দযে়। কনেনা সে দনি (কযি়ামত) তার নকিট কোন দীনার ও দরিহাম কছিুই থাকবনো। যদি তার ভাল কোন আমল থাকে তাহলে অত্যাচার অনুপাতে তার থকেে ভাল আমল ছনিযি়ে নযে়া হব।ে আর যদি কোন নকে আমল না থাকে অত্যাচারতি ব্যক্তরি পাপকে এনে তার উপর চাপযি়ে দযে়া হব।ে [সহীহ ইবন হব্বিান:৭৩৬১]
আবু মূসা আল -আশ‘আরী  (রা.) হতে র্বণতি। তনিি বলনে, রাসূলুল্লাহ (স.) বলছেনে, নশ্চিয়ই আল্লাহ তা‘আলা অত্যাচারীকে অবকাশ দযি়ে  থাকনে। অবশষেে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করনে য,ে সে আর ছুটে যতেে পারে না। [বাইহাকী: ৬/৯৪]
যুলুম থকেে বাঁচার উপায়:
ক) যুলুম থকেে বাঁচার জন্য আল্লাহর নকিট আশ্রয় র্প্রাথনা করতে হব।ে আল্লাহ তা‘আলা মহাপরাক্রমশালী এবং যালমিরে যুলুম থকেে তনিইি একমাত্র রক্ষাকারী। এজন্য বশেী বশেী আল্লাহর নকিট র্ধনা দতিে হবে । আল্লাহ বলনে,
﴿ وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدۡعُونِيٓ أَسۡتَجِبۡ لَكُمۡۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسۡتَكۡبِرُونَ عَنۡ عِبَادَتِي سَيَدۡخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ ٦٠ ﴾ [غافر:৬০]
তোমাদরে পালনর্কতা বলনে, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দবি, যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা অচরিে জাহান্নামে প্রবশে করবে লাঞ্ছতি হয়।ে’ [আল-মু‘মনি-৬০]
﴿ وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ﴾ [البقرة:১৮৬]
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জজ্ঞিসে করে আমার ব্যাপারে বস্তুত: আমি রয়ছেি সন্নকিট।ে [আল-বাকারাহ: ১৮৬]

খ ) যুলুম থকেে বাঁচার জন্য ধর্যৈধারণ করতে হবে । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলনে :
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ – رضى الله عنه – أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – قَالَ ্র مَثَلُ الْمُؤْمِنِ كَمَثَلِ خَامَةِ الزَّرْعِ ، يَفِىءُ وَرَقُهُ مِنْ حَيْثُ أَتَتْهَا الرِّيحُ تُكَفِّئُهَا ، فَإِذَا سَكَنَتِ اعْتَدَلَتْ ، وَكَذَلِكَ الْمُؤْمِنُ يُكَفَّأُ بِالْبَلاَءِ ، وَمَثَلُ الْكَافِرِ كَمَثَلِ الأَرْزَةِ صَمَّاءَ مُعْتَدِلَةً حَتَّى يَقْصِمَهَا اللَّهُ إِذَا شَاءَগ্ধ
‘‘ঈমানদার ব্যক্তরি উদাহরণ শস্যরে নরম ডগার ন্যায়, বাতাস যে দকিইে বয়ে চল,ে সদেকিইে তার পত্র-পল্লব ঝুঁকে পড়।ে বাতাস যখন থমেে যায়, সওে স্থরি হয়ে দাঁড়ায়। ইমানদারগণ বালা-মুসবিত দ্বারা এভাবইে পরীক্ষতি হন। কাফরেদরে উদাহরণ দবেদারু (শক্ত পাইন) বৃক্ষরে ন্যায়, যা একবোরইে কঠনি ও সোজা হয়। আল্লাহ যখন ইচ্ছা করনে, তা মূলসহ উপড়ে ফলেনে।’’ [বুখারী: ৭৪৬৬]
শস্যরে শকিড় মাটি আঁকড়ে ধর।ে তার সাথে একাকার হয়ে যায়। যদওি বাতাস শস্যকে এদকি-সদেকি দোলায়মান রাখ।ে কন্তিু ছুঁড়ে মারত,ে টুকরা করতে বা নীচে ফলেে দতিে পারে না। তদ্রূপ মুসবিত যদওি মুমনিকে ক্লান্ত, র্ঘমাক্ত ও চন্তিামগ্ন রাখ,ে কন্তিু সে তাকে হতবহিবল, নরিাশ কংিবা পরাস্ত করতে পারে না। কারণ, আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বশ্বিাস তাকে প্ররেণা দযে়, তার মধ্যে শক্তি সঞ্চার কর,ে র্সবোপরি তাকে হফোযত কর।ে আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ﴾ [البقرة:১৫৩]
হে মুমনিগণ, ধর্যৈ ও সালাতরে মাধ্যমে সাহায্য চাও। নশ্চিয় আল্লাহ্‌ ধর্যৈশীলদরে সাথে আছনে। সুরা বাকারাহ-১৫৩।
হাদসিে এসছেে ,
্রوَلَنْ تُعْطَوْا عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرগ্ধ
‘‘ধর্যৈরে চযে়ে উত্তম ও ব্যাপকতর কল্যাণ কাউকে প্রদান করা হয় ন।ি’ [বুখারী:১৪৬৯; মুসলমি:১০৫৩]
সহহি মুসলমিে র্বণতি আছ,ে
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ্রعَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُগ্ধ
‘‘মুমনিরে ব্যাপারটি চমৎকার, তার প্রতটিি কাজই কল্যাণরে; মুমনি ছাড়া আর কারও জন্য তা হয় না; নযে়ামত র্অজতি হলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর,ে যা তার জন্য মঙ্গলজনক এতে কৃতজ্ঞতার সওয়াব র্অজতি হয়। মুসবিতে পততি হলে ধর্যৈধারণ কর,ে তাও তার জন্য কল্যাণকর এতে ধর্যৈরে সওয়াব লাভ হয়।’ [মুসলমি:২৯৯৯]
হাসান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলনে : ‘‘আমাদরে অভজ্ঞিতা এবং জ্ঞানীদরেও অভজ্ঞিতা, ধর্যৈরে চযে়ে মূল্যবান বস্তু আর পায়ন।ি ধর্যৈরে মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা যায়, তবে তার সমাধান সে নজিইে।’’ র্অথাৎ প্রত্যকে জনিসিরে জন্য ধর্যৈরে প্রয়োজন, আবার ধর্যৈরে জন্যও ধর্যৈ প্রয়োজন।
গ ) যালমেরে যুলুমকে ভয় না পযে়ে আল্লাহর উপর দৃঢ় আস্থা এবং তাকদীররে প্রতি বশ্বিাস স্থাপন করতে হবে । দুনযি়ার উত্থান-পতন সুখ-দুঃখ স্বাভাবকি ও নগণ্য মনে করতে হব।ে তদুপরি চরি-সত্যবাদী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরে হাদসিে বশ্বিাস তো আছইে: ‘‘জনেে রখে, সমস্ত মানুষ  জড়ো হয়ে যদি তোমার উপকার করতে চায়, কোনও উপকার করতে পারবে না, তবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লখিে রখেছেনে। আবার তারা সকলে মলিে যদি তোমার ক্ষতি করতে চায়, কোনও ক্ষতি করতে পারবে না, তবে যতটুকু আল্লাহ তোমার কপালে লখিে রখেছেনে। কলম উঠযি়ে নযে়া হয়ছে,ে কতিাব শুকযি়ে গছে।ে’’ [সুনান তরিমযিী:২৫১৬]
ঘ ) আল্লাহর রহমাতরে প্রশস্ততা ও তার করুণার কথা বশেী বশেী স্মরণ করা । কনেনা যুলুমরে কষ্টরে তুলনায় আল্লাহর রহমাতরে প্রশস্ততা অনকে বড় বষিয়। ইমাম বুখারী ও মুসলমি র্বণনা করনে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনে,‘‘আমার ব্যাপারে আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী, আমি ব্যবহার কর।ি’’ [বুখারী:৭৪০৫; মুসলমি: ২৬৭৫]
যুলুম দৃশ্যত অসহ্য-কষ্টদায়ক হলওে পশ্চাতে কল্যাণ বয়ে আনতে পার।ে এরশাদ হচ্ছে : ‘‘এবং হতে পারে কোন বষিয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তোমাদরে জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোন বষিয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদরে জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জাননে এবং তোমরা জান না।’’ [বাকারাহ-১১৬]
ঙ ) মুমনিরে র্কতব্য বপিদরে মুর্হূতে প্রতদিানরে কথা স্মরণ করা। এতে মুসবিত সহনীয় হয়। কারণ কষ্টরে পরমিাণ অনুযায়ী সওয়াব র্অজতি হয়। সুখরে বনিমিয়ে সুখ র্অজন করা যায় না- সাধনার ব্রজি পার হতে হয়। প্রত্যকেকইে পরর্বতী ফলরে জন্য নগদ শ্রম দতিে হয়। দুনযি়ার কষ্টরে সঁিড়ি পার হয়ে আখরোতরে স্বাদ আস্বাদান করতে হয়।
একদা হজরত আবু বকর রা. ভীত-ত্রস্ত হালতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জজ্ঞিাসা করনে, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনরে এ আয়াত অবর্তীণ হওয়ার পর কীভাবে অন্তরে স্বস্তি আস?ে ‘‘না তোমাদরে আশায় এবং না কতিাবীদরে আশায় (কাজ হব)ে। যে মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতফিল দযে়া হব।ে আর সে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া কোন অভভিাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।’’ [নসিা-১২৩]।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলনে :‘‘হে আবু বকর, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন, তুমি কি অসুস্থ হও না? তুমি কি বষিণ্ণ হও না? মুসবিত তোমাকে কি পষ্টি করে না? উত্তর দলিনে, অবশ্যই। বললনে : ‘‘এগুলোই তোমাদরে অপরাধরে কাফফারা-প্রায়শ্চত্তি।’’ [মুসনাদ আহমাদ: ১/১১]
চ ) যুলুম থকেে বাঁচার জন্য মাযলুমরে পক্ষাবলম্বন করা। কারণ আল্লাহ তা‘আলা মাযলুমরে  উপর রহমত করনে এবং তার দোয়া কবুল করনে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনে,
্রوَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ গ্ধ.
তোমরা মাযলুমরে ফরযি়াদ থকেে বঁেচে থাক। কনেনা, মাযলুম এবং আল্লাহর মাঝে কোন দযে়াল নইে । [সহহি বূখারী:২৪৪৮]
ছ ) মাযলুমরে ক্রন্দন আকাশ-বাতাস ভারী কর।ে তাই যুলুমরে প্রতবিাদ ও প্রতরিোধ করা ইমানরে দাবী। আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿وَمَا لَكُمۡ لَا تُقَٰتِلُونَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلۡمُسۡتَضۡعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلۡوِلۡدَٰنِ ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَخۡرِجۡنَا مِنۡ هَٰذِهِ ٱلۡقَرۡيَةِ ٱلظَّالِمِ أَهۡلُهَا وَٱجۡعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيّٗا وَٱجۡعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا ٧٥﴾ [النساء:৭৫]
আর তোমাদরে কী হল য,ে তোমরা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছ না! অথচ র্দুবল পুরুষ, নারী ও শশিুরা বলছ,ে ‘হে আমাদরে রব, আমাদরেকে বরে করুন এ জনপদ থকে’ে যার অধবিাসীরা যালমি এবং আমাদরে জন্য আপনার পক্ষ থকেে একজন অভভিাবক নর্ধিারণ করুন। আর নর্ধিারণ করুন আপনার পক্ষ থকেে একজন সাহায্যকারী। (সূরা নসিা-৭৫)
জ ) যালমিরে পক্ষ ত্যাগ করা এবং তাকে যুলুম করা থকেে বরিত রাখা । আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿وَلَا تَرۡكَنُوٓاْ إِلَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ فَتَمَسَّكُمُ ٱلنَّارُ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِنۡ أَوۡلِيَآءَ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ ١١٣﴾ [هود:১১৩]
আর যারা যুলম করছেে তোমরা তাদরে প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় আগুন তোমাদরেকে র্স্পশ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদরে কোন অভভিাবক থাকবে না। অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। (সূরা হুদ-১১৩)।
উপরোক্ত আলোচনা থকেে এ কথা প্রতীয়মান হয় য,ে যুলুম একটি পাপকাজ এবং এর জন্য দুনযি়া ও আখরোতে সবাইকে জবাবদহিরি কাঠগড়ায় দাড়াতে হব।ে তাই আমাদরেকে  মাযলুমরে পক্ষাবলম্বন করে যালমিরে বপিক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হব।ে রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেনে,
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ্রانْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًاগ্ধ
তোমার ভাই যালমিকে (যুলুম করা থকেে বরিত রাখার মাধ্যম)ে সাহায্য কর এবং মাযলুমকে (যুলুমরে হাত থকেে বাঁচানো মাধ্যম)ে সাহায্য কর। [বুখারী: ২৪৪৩]
Ryjg GKwU fqven Kweiv ¸bvn

wemwgjøvwni ingvwbi iwng

যুলম শব্দটি আরবী। বাংলায় এর অর্থ অত্যাচার করা, অবিচার করা, নির্যাতন করা বা সীমা অতিক্রম করা। অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ দখল করা, কারো চরিত্র হনন করা, কারো অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, কাউকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রমাণ করার ব্যবস্থা করা, মিথ্যা মামলা দেয়া, কাউকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা, কারো জমি দখল করা, অন্যায়ভাবে চাকরীচ্যুত করাসহ ইত্যাদি কাজ যুলুমের অন্তর্ভুক্ত।
যুলম এমন একটি ভয়ানক বিষয় যে, আল্লাহ তা‘আলা যালেমকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। এটি একটি জঘন্য অপরাধ, মানবতাবিরোধী কাজ, গুরুতর পাপকাজ। কোন ইমানদার ব্যক্তি কারো উপর যুলম করতে পারে না। যুলুমের কারণে দুনিয়া এবং আখেরাতে ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَقَدۡ كَذَّبُوكُم بِمَا تَقُولُونَ فَمَا تَسۡتَطِيعُونَ صَرۡفٗا وَلَا نَصۡرٗاۚ وَمَن يَظۡلِم مِّنكُمۡ نُذِقۡهُ عَذَابٗا كَبِيرٗا ١٩﴾  [الفرقان:19]
‘অতঃপর তোমরা যা বল তারা তা মিথ্যা বলেছে। অতএব তোমরা আযাব ফেরাতে পারবে না এবং কোন সাহায্যও করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে যে যুলম করবে তাকে আমি মহাআযাব আস্বাদন করাব।’ [সূরা আল-ফুরকান-১৯]
আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বিভিন্ন দিকে যুলুম এমনভাবে ব্যাপকতা লাভ করেছে,  যা থেকে উত্তরণ হওয়া খুবই জরুরী।
যুলুমের কারণে দুনিয়াতে যেসব ভয়াবহ পরিণামের সম্মুখীন হতে হবে তাহলো:
ক) যুলুমের কারণে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিবে। এ বিপর্যয় কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যক্তির উপর আসবে না,  বরং সকলেই এর ভুক্তভোগী হবে।  আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَٱتَّقُواْ فِتۡنَةٗ لَّا تُصِيبَنَّ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنكُمۡ خَآصَّةٗۖ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلۡعِقَابِ ٢٥﴾ [الأنفال: 25]
‘আর তোমরা ভয় কর ফিতনাকে যা তোমাদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে শুধু যালিমদের উপরই আপতিত হবে না। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর।’ [সূরা আনফাল -২৫]
খ) যালেমদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু অপেক্ষা করছে। আল্লাহ্ বলেন,
﴿وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّنِ ٱفۡتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا أَوۡ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمۡ يُوحَ إِلَيۡهِ شَيۡءٞ وَمَن قَالَ سَأُنزِلُ مِثۡلَ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُۗ وَلَوۡ تَرَىٰٓ إِذِ ٱلظَّٰلِمُونَ فِي غَمَرَٰتِ ٱلۡمَوۡتِ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ بَاسِطُوٓاْ أَيۡدِيهِمۡ أَخۡرِجُوٓاْ أَنفُسَكُمُۖ ٱلۡيَوۡمَ تُجۡزَوۡنَ عَذَابَ ٱلۡهُونِ بِمَا كُنتُمۡ تَقُولُونَ عَلَى ٱللَّهِ غَيۡرَ ٱلۡحَقِّ وَكُنتُمۡ عَنۡ ءَايَٰتِهِۦ تَسۡتَكۡبِرُونَ﴾ [الأنعام: 93]
‘আর যদি তুমি দেখতে, যখন যালিমরা মৃত্যু কষ্টে থাকে, এমতাবস্থায় ফেরেশতারা তাদের হাত প্রসারিত করে আছে (তারা বলে), ‘তোমাদের জান বের কর। আজ তোমাদেরকে প্রতিদান দেয়া হবে লাঞ্ছনার আযাব, কারণ তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তোমরা তার আয়াতসমূহ সম্পর্কে অহংকার করতে।’ [সূরা আল-আন‘আম:৯৩]
গ) যুলুমের কারণে জাতির সফলতা আসে না । আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿إِنَّهُۥ لَا يُفۡلِحُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٢١﴾ [الأنعام: 21]
নিশ্চয় যালিমরা সফলকাম হয় না। [সূরা আন‘আম-২১]
অনুরূপভাবে আরও এসেছে,
﴿وَعَنَتِ ٱلۡوُجُوهُ لِلۡحَيِّ ٱلۡقَيُّومِۖ وَقَدۡ خَابَ مَنۡ حَمَلَ ظُلۡمٗا﴾ [طه: 111]
‘আর চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে সকলেই অবনত হবে। আর সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে যে যু্লম বহন করবে।’ [সূরা ত্বা-হা:১১১]
ঘ) সমাজ ও রাষ্ট্রে যখন যুলুম চলতে তাকে তখন আল্লাহর নেয়ামত সংকুচিত হয়ে যায়। অন্য আয়াতে এসেছে,
﴿فَبِظُلۡمٖ مِّنَ ٱلَّذِينَ هَادُواْ حَرَّمۡنَا عَلَيۡهِمۡ طَيِّبَٰتٍ أُحِلَّتۡ لَهُمۡ وَبِصَدِّهِمۡ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِ كَثِيرٗا ١٦٠﴾ [النساء: 160]
‘সুতরাং ইয়াহূদীদের যুলমের কারণে আমি তাদের উপর উত্তম খাবারগুলো হারাম করেছিলাম, যা তাদের জন্য হালাল করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাস্তা থেকে অনেককে তাদের বাধা প্রদানের কারণে।’ [সূরা আন-নিসা:১৬]
ঙ) যালেমদের জন্য দুনিয়াতে বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿فَلَمَّا نَسُواْ مَا ذُكِّرُواْ بِهِۦٓ أَنجَيۡنَا ٱلَّذِينَ يَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلسُّوٓءِ وَأَخَذۡنَا ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ بِعَذَابِۢ بَ‍ِٔيسِۢ بِمَا كَانُواْ يَفۡسُقُونَ ١٦٥﴾ [الأعراف:165]
‘অতঃপর যে উপদেশ তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, যখন তারা তা ভুলে গেল তখন আমি মুক্তি দিলাম তাদেরকে যারা মন্দ হতে নিষেধ করে। আর যারা যুলম করেছে তাদেরকে কঠিন আযাব দ্বারা পাকড়াও করলাম। কারণ, তারা পাপাচার করত।’ [সূরা আল-আ‘রাফ -১৬৫]
চ) যালিমের শক্তি যতই শক্তিশালী হোক না কেন তার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ বলেন,
﴿ فَقُطِعَ دَابِرُ ٱلۡقَوۡمِ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْۚ ﴾ [الأنعام:45]
‘অতএব যালিম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হল।’ [ সুরা আনাম ৪৫]
দুনিয়ার পাশাপাশি আখেরাতেও যুলুমের কারণে যেসব ভয়াবহ অবস্থা হবে তাহলো:
ক) আল্লাহ তা‘আলা যালেমদেরকে আখেরাতে ভয়ানক শাস্তি দিবেন। সূরা বুরুজের ১০ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ فَتَنُواْ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ ثُمَّ لَمۡ يَتُوبُواْ فَلَهُمۡ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَلَهُمۡ عَذَابُ ٱلۡحَرِيقِ ١٠﴾ [البروج:10]
নিশ্চয় যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে নির্যাতন করে, তারপর তাওবা করে না, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। আর তাদের জন্য রয়েছে আগুনে দগ্ধ হওয়ার আযাব।’’[ সুরা বুরুজ ১০]
সূরা ফুরকানের ৩৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে,
﴿ وَأَعۡتَدۡنَا لِلظَّٰلِمِينَ عَذَابًا أَلِيمٗا ٣٧﴾ [الفرقان:37]
‘‘আর আমরা যালেমদের জন্য কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করেছি’’। [ সুরা ফুরকান ৩৭]
খ) যালেমের জন্য কিয়ামতের দিন বিরাট মুসিবত রয়েছে, তার জন্য শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার । ইমাম বুখারী ও মুসলিম (রহ.) আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
অর্থ: যুলুম-অত্যাচার যালিমের জন্য অন্ধকারের কারণ হবে। অর্থাৎ হাশরের ময়দানে যালিমের চারপাশে শুধু অন্ধকার আর  অন্ধকার থাকবে। [বুখারী:২৪৪৭; মুসলিম:২৫৭৮]
গ) যুলুম করে সাময়িক আনন্দ, কোন প্রাচুর্য বা কোন পদোন্নতি হলে ও যালেমের মত হতভাগা আর কেহ নেই।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : «أَتَدْرُونَ مَنِ الْمُفْلِسُ» ؟ قَالُوا : الْمُفْلِسُ فِينَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ لاَ دِرْهَمَ لَهُ ، وَلاَ مَتَاعَ لَهُ ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْمُفْلِسُ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلاَتِهِ وَصِيَامِهِ وَزَكَاتِهِ ، فَيَأْتِي وَقَدْ شَتَمَ هَذَا ، وَأَكَلَ مَالَ هَذَا ، وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا ، فَيَقْعُدُ ، فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ ، وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُعْطِيَ مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ ، فَطُرِحَ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ».
আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জান গরীব কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে যার সম্পদ নাই সে হলো গরীব লোক। তখন তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে সে হলো গরীব যে, কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে আসবে অথচ সে অমুককে গালি দিয়েছে, অমুককে অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে লোকের মাল খেয়েছে, সে লোকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। কাজেই এসব নির্যাতিত ব্যক্তিদেরকে সেদিন তার নেক আমল নামা দিয়ে দেয়া হবে। এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। [তিরমিযী:২৪১৮]
ঘ) যে নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত বা দুনিয়া উপার্জন করার জন্য কারো উপর যুলুম করলো কিয়ামতের দিন সে হবে নিকৃষ্ট ব্যক্তি। ইবনে মাজাহ আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, কিয়ামতের দিন মর্যাদার দিক দিয়ে সে হবে সর্বাধিক নিকৃষ্ট যে নিজের আখেরাতকে অন্যের দুনিয়ার কারণে ধ্বংস করে দিয়েছে।
ঙ) আখেরাতে যালেমের ভাল আমল ছিনিয়ে নেয়া হবে । আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি কারো মানহানি বা অন্যকোন বিষয়ে অত্যাচার করে তাহলে সে যেন জীবিত থাকতেই তা ক্ষমা চেয়ে নেয় অথবা অত্যাচার পরিমাণ বিনিময় পরিশোধ করে দেয়। কেননা সে দিন (কিয়ামত) তার নিকট কোন দীনার ও দিরহাম কিছুই থাকবেনা। যদি তার ভাল কোন আমল থাকে তাহলে অত্যাচার অনুপাতে তার থেকে ভাল আমল ছিনিয়ে নেয়া হবে। আর যদি কোন নেক আমল না থাকে অত্যাচারিত ব্যক্তির পাপকে এনে তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। [সহীহ ইবন হিব্বান:৭৩৬১]
আবু মূসা আল -আশ‘আরী  (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা অত্যাচারীকে অবকাশ দিয়ে  থাকেন। অবশেষে তাকে এমনভাবে পাকড়াও করেন যে, সে আর ছুটে যেতে পারে না। [বাইহাকী: ৬/৯৪]
যুলুম থেকে বাঁচার উপায়:
ক) যুলুম থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা মহাপরাক্রমশালী এবং যালিমের যুলুম থেকে তিনিই একমাত্র রক্ষাকারী। এজন্য বেশী বেশী আল্লাহর নিকট ধর্না দিতে হবে । আল্লাহ বলেন,
﴿ وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدۡعُونِيٓ أَسۡتَجِبۡ لَكُمۡۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسۡتَكۡبِرُونَ عَنۡ عِبَادَتِي سَيَدۡخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ ٦٠ ﴾ [غافر:60]
তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দিব, যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা অচিরে জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।’ [আল-মু‘মিন-৬০]
﴿ وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ﴾ [البقرة:186]
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুত: আমি রয়েছি সন্নিকটে। [আল-বাকারাহ: ১৮৬]

খ ) যুলুম থেকে বাঁচার জন্য ধৈর্যধারণ করতে হবে । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ – رضى الله عنه – أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ – صلى الله عليه وسلم – قَالَ « مَثَلُ الْمُؤْمِنِ كَمَثَلِ خَامَةِ الزَّرْعِ ، يَفِىءُ وَرَقُهُ مِنْ حَيْثُ أَتَتْهَا الرِّيحُ تُكَفِّئُهَا ، فَإِذَا سَكَنَتِ اعْتَدَلَتْ ، وَكَذَلِكَ الْمُؤْمِنُ يُكَفَّأُ بِالْبَلاَءِ ، وَمَثَلُ الْكَافِرِ كَمَثَلِ الأَرْزَةِ صَمَّاءَ مُعْتَدِلَةً حَتَّى يَقْصِمَهَا اللَّهُ إِذَا شَاءَ»
‘‘ঈমানদার ব্যক্তির উদাহরণ শস্যের নরম ডগার ন্যায়, বাতাস যে দিকেই বয়ে চলে, সেদিকেই তার পত্র-পল্লব ঝুঁকে পড়ে। বাতাস যখন থেমে যায়, সেও স্থির হয়ে দাঁড়ায়। ইমানদারগণ বালা-মুসিবত দ্বারা এভাবেই পরীক্ষিত হন। কাফেরদের উদাহরণ দেবদারু (শক্ত পাইন) বৃক্ষের ন্যায়, যা একেবারেই কঠিন ও সোজা হয়। আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, তা মূলসহ উপড়ে ফেলেন।’’ [বুখারী: ৭৪৬৬]
শস্যের শিকড় মাটি আঁকড়ে ধরে। তার সাথে একাকার হয়ে যায়। যদিও বাতাস শস্যকে এদিক-সেদিক দোলায়মান রাখে। কিন্তু ছুঁড়ে মারতে, টুকরা করতে বা নীচে ফেলে দিতে পারে না। তদ্রূপ মুসিবত যদিও মুমিনকে ক্লান্ত, ঘর্মাক্ত ও চিন্তামগ্ন রাখে, কিন্তু সে তাকে হতবিহবল, নিরাশ কিংবা পরাস্ত করতে পারে না। কারণ, আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস তাকে প্রেরণা দেয়, তার মধ্যে শক্তি সঞ্চার করে, সর্বোপরি তাকে হেফাযত করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ﴾ [البقرة:153]
হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। সুরা বাকারাহ-১৫৩।
হাদিসে এসেছে ,
«وَلَنْ تُعْطَوْا عَطَاءً خَيْرًا وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْر»
‘‘ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপকতর কল্যাণ কাউকে প্রদান করা হয় নি।’ [বুখারী:১৪৬৯; মুসলিম:১০৫৩]
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে,
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : «عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لِأَحَدٍ إِلَّا لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ»
‘‘মুমিনের ব্যাপারটি চমৎকার, তার প্রতিটি কাজই কল্যাণের; মুমিন ছাড়া আর কারও জন্য তা হয় না; নেয়ামত অর্জিত হলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যা তার জন্য মঙ্গলজনক এতে কৃতজ্ঞতার সওয়াব অর্জিত হয়। মুসিবতে পতিত হলে ধৈর্যধারণ করে, তাও তার জন্য কল্যাণকর এতে ধৈর্যের সওয়াব লাভ হয়।’ [মুসলিম:২৯৯৯]
হাসান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন : ‘‘আমাদের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানীদেরও অভিজ্ঞতা, ধৈর্যের চেয়ে মূল্যবান বস্তু আর পায়নি। ধৈর্যের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা যায়, তবে তার সমাধান সে নিজেই।’’ অর্থাৎ প্রত্যেক জিনিসের জন্য ধৈর্যের প্রয়োজন, আবার ধৈর্যের জন্যও ধৈর্য প্রয়োজন।
গ ) যালেমের যুলুমকে ভয় না পেয়ে আল্লাহর উপর দৃঢ় আস্থা এবং তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে । দুনিয়ার উত্থান-পতন সুখ-দুঃখ স্বাভাবিক ও নগণ্য মনে করতে হবে। তদুপরি চির-সত্যবাদী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে বিশ্বাস তো আছেই: ‘‘জেনে রেখ, সমস্ত মানুষ  জড়ো হয়ে যদি তোমার উপকার করতে চায়, কোনও উপকার করতে পারবে না, তবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আবার তারা সকলে মিলে যদি তোমার ক্ষতি করতে চায়, কোনও ক্ষতি করতে পারবে না, তবে যতটুকু আল্লাহ তোমার কপালে লিখে রেখেছেন। কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, কিতাব শুকিয়ে গেছে।’’ [সুনান তিরমিযী:২৫১৬]
ঘ ) আল্লাহর রহমাতের প্রশস্ততা ও তার করুণার কথা বেশী বেশী স্মরণ করা । কেননা যুলুমের কষ্টের তুলনায় আল্লাহর রহমাতের প্রশস্ততা অনেক বড় বিষয়। ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,‘‘আমার ব্যাপারে আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী, আমি ব্যবহার করি।’’ [বুখারী:৭৪০৫; মুসলিম: ২৬৭৫]
যুলুম দৃশ্যত অসহ্য-কষ্টদায়ক হলেও পশ্চাতে কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। এরশাদ হচ্ছে : ‘‘এবং হতে পারে কোন বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোন বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।’’ [বাকারাহ-১১৬]
ঙ ) মুমিনের কর্তব্য বিপদের মুহূর্তে প্রতিদানের কথা স্মরণ করা। এতে মুসিবত সহনীয় হয়। কারণ কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী সওয়াব অর্জিত হয়। সুখের বিনিময়ে সুখ অর্জন করা যায় না- সাধনার ব্রিজ পার হতে হয়। প্রত্যেককেই পরবর্তী ফলের জন্য নগদ শ্রম দিতে হয়। দুনিয়ার কষ্টের সিঁড়ি পার হয়ে আখেরাতের স্বাদ আস্বাদান করতে হয়।
একদা হজরত আবু বকর রা. ভীত-ত্রস্ত হালতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর কীভাবে অন্তরে স্বস্তি আসে? ‘‘না তোমাদের আশায় এবং না কিতাবীদের আশায় (কাজ হবে)। যে মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেয়া হবে। আর সে তার জন্য আল্লাহ ছাড়া কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।’’ [নিসা-১২৩]।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন :‘‘হে আবু বকর, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন, তুমি কি অসুস্থ হও না? তুমি কি বিষণ্ণ হও না? মুসিবত তোমাকে কি পিষ্ট করে না? উত্তর দিলেন, অবশ্যই। বললেন : ‘‘এগুলোই তোমাদের অপরাধের কাফফারা-প্রায়শ্চিত্ত।’’ [মুসনাদ আহমাদ: ১/১১]
চ ) যুলুম থেকে বাঁচার জন্য মাযলুমের পক্ষাবলম্বন করা। কারণ আল্লাহ তা‘আলা মাযলুমের  উপর রহমত করেন এবং তার দোয়া কবুল করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ ».
তোমরা মাযলুমের ফরিয়াদ থেকে বেঁচে থাক। কেননা, মাযলুম এবং আল্লাহর মাঝে কোন দেয়াল নেই । [সহিহ বূখারী:২৪৪৮]
ছ ) মাযলুমের ক্রন্দন আকাশ-বাতাস ভারী করে। তাই যুলুমের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা ইমানের দাবী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَمَا لَكُمۡ لَا تُقَٰتِلُونَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلۡمُسۡتَضۡعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلۡوِلۡدَٰنِ ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَخۡرِجۡنَا مِنۡ هَٰذِهِ ٱلۡقَرۡيَةِ ٱلظَّالِمِ أَهۡلُهَا وَٱجۡعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيّٗا وَٱجۡعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا ٧٥﴾ [النساء:75]
আর তোমাদের কী হল যে, তোমরা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছ না! অথচ দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা বলছে, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে বের করুন এ জনপদ থেকে’ যার অধিবাসীরা যালিম এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক নির্ধারণ করুন। আর নির্ধারণ করুন আপনার পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী। (সূরা নিসা-৭৫)
জ ) যালিমের পক্ষ ত্যাগ করা এবং তাকে যুলুম করা থেকে বিরত রাখা । আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَلَا تَرۡكَنُوٓاْ إِلَى ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ فَتَمَسَّكُمُ ٱلنَّارُ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِنۡ أَوۡلِيَآءَ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ ١١٣﴾ [هود:113]
আর যারা যুলম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক থাকবে না। অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। (সূরা হুদ-১১৩)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, যুলুম একটি পাপকাজ এবং এর জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে সবাইকে জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে। তাই আমাদেরকে  মাযলুমের পক্ষাবলম্বন করে যালিমের বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا»
তোমার ভাই যালিমকে (যুলুম করা থেকে বিরত রাখার মাধ্যমে) সাহায্য কর এবং মাযলুমকে (যুলুমের হাত থেকে বাঁচানো মাধ্যমে) সাহায্য কর। [বুখারী: ২৪৪৩]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s