গায়রে মুকাল্লিদ বা কথিত আহলে হাদিস দল এই উম্মতের একটি বাতিল ফিরক্বার নাম

রাসূল সাঃ থেকে নিয়ে ইংরেজদের শাসনকাল পর্যন্ত কোন গায়রে মুকাল্লিদ ছিলনা

রাসূল সাঃ এর জমানায় কোন গায়রে মুকাল্লিদ ছিলনা। হয়ত মুজতাহিদ নতুবা মুকাল্লিদ। তেমনি সাহাবাদের আমলে কোন গায়রে মুকাল্লিদ ছিলনা। হয়ত মুজতাহিদ নতুবা মুকাল্লিদ ছিলেন। এমনিভাবে তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী এমন কি ব্রিটিশদের ভারত শাসন পর্যন্ত কোন গায়রে মুকাল্লিদ ছিলনা। পূর্ববর্তীদের মাঝে ছিল দু’টি দল। একদল ছিল মুজতাহিদ। বাকিরা ছিলেন মুকাল্লিদ। কিন্তু ব্রিটিশরা এদেশ দখল করার পর আমাদের উপমহাদেশে ধর্মীয় কোন্দল সৃষ্টির নিমিত্তে যেই সকল কথিত ধর্মীয় ফিরক্বা উদ্ভাবন করেছে তাদের মাঝে অন্যতম হল এই গায়রে মুকাল্লিদ বা কথিত আহলে হাদিস দল। যাদের মূল কাজই হল মানুষের মাঝে ধর্মীয় বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করা। নবীজী সাঃ এর বিশাল হাদিস ভান্ডারকে অস্বিকার করার জন্য কেবল বুখারী মুসলিম আর ক্ষেত্র বিশেষে কেবল সিহাহ সিত্তার হাদিস মানা। এই দাবির মাধ্যমে মুয়াত্তা মালিকের মত স্বীকৃত সহীহ হাদিসের কিতাবসহ অসংখ্য হাদিসের কিতাবের সহীহ হাদিসকে অস্বিকার করার এক ভয়ংকর খেলায় মেতে উঠেছে এই দলটি।

চার মাযহাবকে কলুষিত করার এক নীল নকশা নিয়ে মাঠে নেমেছে এই দল। বিশেষ করে ফিক্বহে হানাফীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা তাদের মূল টার্গেট। নানাভাবে ইমাম আবু হানীফা কুফী রহঃ কে এবং ফিক্বহে হানাফীর কুৎসা রটাতে তারা সীদ্ধহস্ত।

কিন্তু মজার ব্যাপার হল-কুফাবাসীর সমালোচনাকারীরা বুখারী শরীফের একটি পৃষ্ঠাও দেখাতে পারবেনা, যাতে কুফী বর্ণনাকারী নাই। এটা একদম খোলা চ্যালেঞ্জ। একটা পৃষ্ঠাও দেখাতে পারবেনা যাতে কুফী বর্ণনাকারী নাই। কুফীদের এত বদনাম কর। কুফীরা সহীহ নয় বলে বকবক করে বেড়াও, তাহলে বুখারীর উপর কেন চোখ তুলনা? সাহস থাকলে বল বুখারীর বর্ণনাকারী কুফীরা দুর্বল!

শুনে রাখুন। আমাদের কুরআনও কুফী। আমাদের নামাযও কুফী। অর্থাৎ কুফাবাসীর মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত। আমরা গোটা গায়রে মুকাল্লিদ গোষ্ঠিকে চ্যালেঞ্জ করে বলি-তোমরা আমাদের সামনে স্রেফ এক রাকাত নামায তাকবীরে তাহরীমা থেকে নিয়ে সালাম পর্যন্ত প্রতিটি রুকন পড়ে দেখাও যার প্রতিটি সূরত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। পারলে দেখাও বাপের বেটা হলে।

 

এই উম্মতের বর্ধিত বাতিল ফিরক্বা হল কথিত আহলে হাদীস গ্রুপ

 

প্রথম উম্মতের মাঝে ছিল ৭২ ফিরক্বা। আর এই উম্মতের মাঝে হবে তিহাত্তর ফিরক্বা। ৭২ ফিরক্বার মাঝে ৭১ ফিরক্বা ছিল জাহান্নামী, আর ১ জামাত ছিল জান্নাতী। আর উম্মতে মুহাম্মদীতে ৭২ ফিরক্বা হল জাহান্নামী আর একটি ফিরক্বা হল জান্নাতী।

৭২ ফিরক্বাতো পূর্ব থেকেই আছে। যাতে ৭১ ফিরক্বা হল জাহান্নামী আর এক ফিরক্বা হল জান্নাতী। সুতরাং জান্নাতী ফিরক্বা পূর্ব থেকেই আছে। আর ৭১ জাহান্নামী ফিরক্বাও পূর্ব থেকেই আছে। সুতরাং কেবল জাহান্নামী একটি ফিরক্বা উম্মতে মুহাম্মদীতে বাড়বে। যেটা পূর্বে ছিলনা।

 

এই দলটা কারা? আল্লামা কুরতুবী রঃ তাফসীরে কুরতুবীতে লিখেন-

وقد مضى في “آل عمران” معنى قوله عليه السلام : “تفرقت بنو إسرائيل على اثنتين وسبعين فرقة وأن هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين” . الحديث. وقد قال بعض العلماء العارفين : هذه الفرقة التي زادت في فرق أمة محمد صلى الله عليه وسلم هم قوم يعادون العلماء ويبغضون الفقهاء ، ولم يكن ذلك قط في الأمم السالفة.( الجامع لأحكام القرآن

المؤلف : أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبي بكر بن فرح الأنصاري الخزرجي شمس الدين القرطبي (المتوفى : 671)

প্রথম উম্মতের মাঝে ইজতিহাদ ছিলনা। তাই ইজতিহাদের দুশমনও ছিলনা। এই উম্মতের মাঝে ইজতিহাদ আছে। তাই ইজতিহাদের দুশমনও আছে। আর এই উম্মতের অতিরিক্ত জাহান্নামী ফিরক্বা হল ইজতিহাদের দুশমন ফুক্বাহায়ে কিরামের দুশমন দল। {তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীর সূরাতুল আনআম}

এই ফুক্বাহাদের দুশমন জাহান্নামী ফিরক্বা বাড়বে উম্মতে মুহাম্মদীতে।

আল্লাহ তায়ালার কাছে ফুক্বাহাদের মর্যাদা

আল্লাহ তায়ালা কতটা মর্যাদা দিয়েছেন ফুক্বাহায়ে কিরামকে, হাদীস কুরআনের বিভিন্ন বর্ণনা দেখলেই তা আমাদের বুঝে আসে।

عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « إِذَا حَكَمَ الْحَاكِمُ فَاجْتَهَدَ فَأَصَابَ فَلَهُ أَجْرَانِ وَإِذَا حَكَمَ فَاجْتَهَدَ فَأَخْطَأَ فَلَهُ أَجْرٌ

হযরত আমর বিন আস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যখন কোন বিশেষজ্ঞ হুকুম দেয়, আর তাতে সে ইজতিহাদ করে তারপর সেটা সঠিক হয়, তাহলে তার জন্য রয়েছে দু’টি সওয়াব। আর যদি ইজতিহাদ করে ভুল করে তাহলে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব। {সহীহ বুখারী, হাদিস নং-৬৯১৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৫৭৬, সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-৪৫৮৪}

ফুক্বাহা কাকে বলে? দ্বীনের বিষয়ে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিকে বলে ফক্বীহ। ফুক্বাহাদের সাথে আল্লাহ তায়ালার এতটাই মোহাব্বত যে, তাদের মাসআলা যদি ভুলও হয়, তবু তাদের গোনাহ হয়না, বরং তাদের একটি সওয়াব হয়। আর যদি মাসআলা সহীহ হয়, তাহলে সওয়াব হয় ডাবল। এটাই হল পন্থা। হয়ত এক নেকি। নতুবা দুই নেকি। গোনাহ হবার কোন সম্ভাবনা নেই।

ইমাম আবু হানীফা রহ ১২ লাখ ৯০ হাজার মাসআলা ইস্তিম্বাত করেছেন। যদি ধরে নেওয়া হয় যে, তাঁর ইস্তিম্বাতকৃত সব মাসআলাই ভুল। তাহলেও তাঁর ১২ লাখ ৯০ হাজার সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হয়েছে। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ! তাঁর ইস্তিম্বাতকৃত একটি মাসআলাও ভুল নয়। আমরা চ্যালেঞ্জ করি।

ফুক্বাহাদের প্রতি আল্লাহর কতটা মোহাব্বত। আর শয়তানের কতটা শত্রুতা। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-وَلَكِنَّ الْمُنافِقِينَ لا يَفْقَهُونَ} [المنافقون:7] অর্থাৎ মুনাফিকরা ফক্বীহ হতে পারেনা। [সুরা মুনাফিকুন-৭] সুতরাং ফক্বীহ কখনো মুনাফিক হতে পারেনা।

আর রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-একজন ফক্বীহ শয়তানের উপর একশত আবেদের চে’ বেশি কষ্টকর। [সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-২২২]

এই এই ফুক্বাহাদের সমালোচনা করে বেড়ায় গায়রে মুকাল্লিদরা ঠিক কার কাজটা করছে একবার ভেবে দেখি।

একটি ঘটনা মনে পড়ল। এক বাদশার দরবারে এক কবি বাদশার প্রশংসা করে কবিতা শুনালে বাদশা খুশি হয়ে এক হাজার টাকা পুরস্কার দেয়। এতে মন্ত্রী নাখোশ হয়ে বলে-“রাজা মশাই! আপনি তাকে একটি কবিতার জন্য পুরো এক হাজার টাকা দিয়ে দিলেন? টাকাটা ফেরত নিন”। রাজা মশাই বললেন-“তাকে টাকা দিয়ে আবার ফেরত নিতে আমার লজ্জা লাগছে। তুমি এক কাজ কর, তুমি তাকে বল তুমি তাকে একটি প্রশ্ন করবে সে যদি সুন্দর উত্তর না দিতে পারে তাহলে তার টাকা ফেরত নেয়া হবে”।

তখন মন্ত্রীকে কবিকে ডাক দিয়ে বলল-“কবি! এদিকে আস! তোমার কাছে আমার একটি প্রশ্ন আছে। সঠিক উত্তর না দিতে পারলে তোমার টাকা ফেরত দিয়ে দিতে হবে”। কবি বলল-“বলুন! আপনার কি প্রশ্ন?”।

মন্ত্রী বলল-“তুমি বল রাজার মাথায় কেন টাক পড়ল?”

কবি ঝটপট বলল-“রাজা মশাই আমার মত ব্যক্তিদের উপহার দিতে দিতে মাথায় টাক পরে গেছে”। এই কথা শুনে রাজা খুব খুশি হলেন। কবিকে আরো এক হাজার টাকা পুরস্কার দিলেন।

মন্ত্রী এবার আরো দিশেহারা হয়ে গেল। কবিকে বলল-“আমার আরেকটি প্রশ্ন আছে। সেটার সঠিক জবাব না দিতে পারলে তোমাকে দেয়া টাকা ফেরত নেয়া হবে”। কবি বলল-বলেন”। মন্ত্রী বলল-“তোমরা মাথায় টাক পড়ল কেন?” কবি বলল-রাজার মত মহানুভব ব্যক্তির দান গ্রহণ করতে করতে আমার মাথায় টাক পরে গেছে”। রাজা এই কথাও খুব খুশি হল। আরো এক হাজার টাকা কবিকে দান করলেন।

মন্ত্রী এবার মরিয়া হয়ে বলল-“কবি এবার আমার একটি শেষ প্রশ্ন আছে। সেটার জবাব না দিতে পারলে তোমাকে দেয়া সকল টাকা ফেরত নেয়া হবে”। কবি বলল-বলেন”। মন্ত্রী বলল-“তাহলে আমার মাথায় কেন টাক পড়ল?। কবি মুচকি হেসে জবাব দিল-“মহানুভব রাজা আমার মত ব্যক্তিদের দান করেন, আর আমার মত গুনিরা তা গ্রহণ করতে দেখে দেখে আপনি হিংসায় হাত কচলাত কচলাতে টাক হয়ে গেছেন”। কবির এই কথায়ও রাজা খুব খুশি হলেন। তাকে আরো এক হাজার টাকা হাদিয়া দিলেন”। মন্ত্রী শুধু হায়! হায় করেই গেল। কোন ফায়দা লুঠতে পারলনা। দাতা দিতেই রইল। আর গ্রহীতা নিতেই আছে। আর হিংসুক শুধু জ্বলতেই রইল।

তেমনি আল্লাহ তায়ালা ফক্বীহদের মর্যাদা দিয়েছেন। আর ইমাম আবু হানীফা রহঃ গ্রহণ করেছেন। ইমাম মালিক রহঃ গ্রহণ করেছেন। ইমাম শাফেয়ী রহঃ গ্রহণ করেছন। ইমাম আহমাদ রহঃ গ্রহণ করেছেন। আর গায়রে মুকাল্লিদরা শুধু শুধু হিংসা করে জ্বলতেই আছে।

ফিক্বহ আক্বলকে বলে, সুতরাং ফিক্বহের যারা বিরোধিতা করে আল্লাহ তায়ালা তার থেকে আক্বলকে ছিনিয়ে নেন। আল্লাপহ তায়ালা ফুক্বাহাদের উপর সন্তুষ্ট আর শয়তান রাগাম্বিত।

শয়তান কেন নারাজ জানেন? কারণ হল দ্বীনের মাঝে তিনটি বিষয় ছিল। যাতে শয়তান হস্তক্ষেপ করার জন্য উদগ্রিব ছিল। যখন ওসব পথ বন্ধ করে দেয়া হল, তখন যারা বন্ধ করে দিল তাদের প্রতি শয়তান রেগে গেল।

প্রথম নাম্বার হল হাদীস সংরক্ষণের বিষয়। শয়তান চেয়েছিল রাসূল সাঃ এর হাদীসকে গড়বড় করে মিথ্যা হাদীসকে হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করে ফেলতে। তখন মুহাদ্দিসীনদের এক জামাত দাঁড়িয়ে গেল। যারা মেহনত করে হাদীস যাচাই বাছাই করার জন্য এমন কিছু মূলনীতি সাব্যস্ত করলেন, এবং তা সংরক্ষণের জন্য প্রচেষ্টা করলেন যে, সহীহ হাদীস বাতিল হাদীস থেকে মুক্ত হয়ে গেল। এই কারণে শয়তান মুহাদ্দিসীনদের উপর রাগাম্বিত।

আর দ্বিতীয় বিষয় হল-হাদীসের মূল অর্থকে সংরক্ষণ করা। আরবীতে এক শব্দের একাধিক অর্থ আছে। যেমন সালাত শব্দের অর্থ এক স্থানে নামায, আরেক স্থানে রহমত। আরেক স্থানে দরূদ ও সালাম। শয়তান চাইল এই সকল অর্থ মানুষ কোন স্থানে কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে তার সঠিক অর্থ মানুষ না জানলে বিভ্রান্ত হওয়া সহজ। নামাযের অর্থবোধক স্থানে বলা হবে দরূদ। দরূদের স্থানে রহমত ইত্যাদী। কিন্তু ফুক্বাহায়ে কিরাম তা হতে দেননি। তারা গবেষণা করে হাদীসের সঠিক অর্থ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

তৃতীয় বিষয় হল একাধিক হাদীদের মাঝে বাহ্যিক যে বিরোধ রয়েছে তা নিরসন করে সঠিক অর্থ বের করা। কিন্তু শয়তান চাইল বিরোধপূর্ণ হাদীস নিজের অবস্থানে থাকলে মানুষ ভুল আমল করে বিভ্রান্ত হবে। তাই সে এটা কামণা করছিল যে, মানুষকে হাদীসের ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে ফেলা হবে যে, হাদীস পরস্পর বিরোধী, সুতরাং কোন হাদীসই আমলযোগ্য নয়। কিন্তু ফুক্বাহায়ে কিরাম যখন পরস্পর বিরোধী হাদীসের মাঝে গবেষণা করে হাদীসের সঠিক অর্থ এবং আল্লাহ ও তারা রাসূলের মূল মাকসাদকে নির্ধারণ করে দিয়েছেন তখন শয়তান নারাজ হয়ে গেছে ফুক্বাহাদের উপর।

নবীজী সাঃ যখন কুরআনের ব্যাখ্যা করেন তখন তা হয় হাদীস। আর সাহাবায়ে কিরাম ও আয়িম্মায়ে দ্বীন যখন কুরআন সুন্নাহর মাসআলা থেকে মাসআলা বের করেন গবেষণা করে সেটা হয় ফিক্বহ।

সুতরাং যেহেতো শয়তানের একটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছেন মুহাদ্দিসীনরা। আর ফুক্বাহারা শয়তানের ২টি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাই শয়তান ফুক্বাহাদের উপর এতটা ক্ষ্যাপা। কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদরা কেন ফক্বীহদের উপর এতটা রাগাম্বিত শয়তানের মত?

একমাত্র মধ্যপন্থী জামাত হল এই উপমহাদেশে ওলামায়ে দেওবন্দ

 

আমাদের দেশে মোট তিনটি জামাআত আছে। যথা-১-তরীকতপন্থী। ২-দেওবন্দী। ৩-গায়রে মুকাল্লিদ বা আহলে হাদীস। যদি কোথাও তিনটি দলের বড় একজন করে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের একসাথে করা হয়, তাহলে যদি এক এক করে মতভিন্নতার সকল মাসআলা উপস্থাপন করা হয়। আর যেই মাসআলায় দুইজন একমত হবে সেটাকে সঠিক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়, আর যেটাতে একজন দাবিদার হয় সেটাকে বাতিল সাব্যস্ত করা হয়, তাহলে দেখা যাবে দেওবন্দীদের সকল মাসআলাই সঠিক অন্যদেরটা নয়।

উপস্থাপন করা হয় যদি-প্রথমে তাওহীদের মাসআলা। তারপর রিসালাতের। তারপর নবীজী সাঃ এর হাজির নাজির এর। তারপর ক্বিরাত খালফাল ইমামের। তারপর মিলাদ-কিয়ামের। তারপর আমীন জোড়ে পড়া আস্তে পড়াকে রাখা হয়। তারপর কবরে আজান দেয়াকে রাখা হয়। এমন করে সকল মতভিন্নতাময় মাসআলাকে যদি একের পর এক উপস্থাপিত করা হয় তাহলে সকল মাসআলাই দেওবন্দীদের পক্ষে একজন থাকবেই। আর অন্য দুই দলের একদল থাকবে একাকি অবশ্যই ইনশাআল্লাহ। সুতরাং আমরা হল মাঝামাঝি। আমাদের মাঝে অতিরঞ্জন যেমন নাই আবার কঠোরতাও নেই।

তাওহীদের এবং রাসূল সাঃকে সম্মান জানানোর মাসআলা আসলে আমাদের সাথে থাকবে গায়রে মুকাল্লিদরা। আর বিশ রাকাত তারাবীহের মাসআলা আসলে আমাদের সাথে থাকবে তরীকতপন্থীরা। কিরাত খালফাল ইমামের মাসআলা আসলে আমাদের সাথে থাকবে তরীকতপন্থীরা। কিয়ামের মাসআলা আসলে আমাদের সাথে থাকবে গায়রে মুকাল্লিদরা। উরসের মাসআলা আসলে আমাদের সাথে গায়রে মুকাল্লিদরা। এমনিভাবে আমীন জোরে আস্তে বলার মাসআলা আসলে আমাদের সাথে থাকবে তরীকতপন্থীরা। এমনিভাবে মহিলা-পুরুষের নামাযের পার্থ্যক্যের মাসআলা আসলে আমাদের সাথে থাকবে তরীকতপন্থীরা। এমনিভাবে মাযার পূজার মাসআলা আসলে আমাদের সাথে থাকবে গায়রে মুকাল্লিদরা। এমনিভাবে প্রতিটি মতভিন্নতাময় মাসআলায় আমাদের সাথে দুই দলের একদল থাকবেই। সুতরাং আমাদের দলটাই একমাত্র মধ্যপন্থী দল। যাদের আল্লাহ তায়ালা সুসংবাদ জানিয়েছেন কুরআনে امة وسطا বা মধ্যপন্থী উম্মত বলে।{সূরা বাক্বারা-১৪৩]

 

সীরাতে মুস্তাকীমের অনুসারী কারা?

 

এক হাদিসে এসেছে যে, রাসূল সাঃ একটি একটি দাগ আঁকলেন। এক দাগ আঁকলেন সোজা। আর চারিদিকে কয়েকটি বাঁকা দাগ টানলেন। নবীজী সাঃ এরপর বললেন-“সোজা রাস্তায় যারা চলবে তারা হবে সফলকাম। আর যারা বাকি আঁকাবাঁকা রাস্তায় চলবে তারা হবে ধ্বংস”। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-১১}

 

গায়রে মুকাল্লিদরা বলে থাকে-সোজা রাস্তা হল কুরআন ও সুন্নাহ আর বাকি রাস্তা হল ইমামদের রাস্তা।

আসলে এই কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। আমরা বলি-মূলত সোজা রাস্তাটি হল শরীয়তের চার দলিল মান্যকারীদের রাস্তা। অর্থাৎ যারা কুরআনও মানে। হাদিসও মানে। ইজমায়ে উম্মত ও মানে। আবার কিয়াসে শরয়ীও মানে।

আর বাকি রাস্তাগুলি হল এগুলির অস্বিকারকারীদের রাস্তা। এক রাস্তা হল যারা কুরআন অস্বিকার করে। আরেক রাস্তা হল যারা হাদিস অস্বিকার করে। আরেক রাস্তা হল ইজমা অস্বিকার করে। আরেক রাস্তা হল যারা কিয়াসে শরয়ী অস্বিকার করে।

সুতরাং এই সকল অস্বিকারকারীরা হল ঐ আঁকা বাঁকা পথের যাত্রী। চারটি বিষয়কেই যারা মানে তারা নয়।

 

আসলে তাক্বলীদ কাকে বলে?

 

তাক্বলীদ কাকে বলে? আহলে হাদীসরা মিথ্যা প্রপাগান্ডা করে বেড়ায় যে, তাক্বলীদ বলা হয় “কুরআন হাদীস ছেড়ে দিয়ে আবু হানীফা রঃ এর অনুসরণ করাকে বলা হয় তাক্বলীদ”। এই কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং অপবাদ। মূলত তাক্বলীদ বলা হয় “শরীয়তের মাসায়েলে প্রাজ্ঞ ব্যক্তির পথপ্রদর্শনে শরীয়ত অনুসরণ করাকে বলে”।

 

আমাদের সংজ্ঞাটাই মূল সংজ্ঞা, গায়রে মুকাল্লিদেরটা নয়। কারণ যেমন এক ব্যক্তি নামাযকে অস্বিকার করে, সেতো নামাযের সংজ্ঞা বিকৃত করে করবেই। আর যে নামায পড়ে সে নামাযের সংজ্ঞা সঠিক করে করবে। তেমনি আমরা তাক্বলীদকে মানি। আর গায়রে মুকাল্লিদরা তাক্বলীদ অস্বিকার করে। তাই তাদের তাক্বলীদের সংজ্ঞা বিকৃত। সঠিক নয়।

 

আমাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী তাক্বলীদ মানে হল-“শরীয়তের প্রাজ্ঞ ব্যক্তির পথপ্রদর্শনে শরীয়তের অনুসরণ করা”। যেমন ইমাম এর পিছনে মুক্তাদীরা ইক্তিদা করে। ইমাম যখন তাক্ববীর বাঁধে মুসল্লিও বাঁধে। সকল রুকন ইমামের অনুসরণ করে। এখানে যেমন ইমামও আল্লাহর অনুসরণ করে ইবাদত করে, তেমন মুসল্লিও আল্লাহর অনুসরণ করে ইমামের অনুসরণ এর মাধ্যমে। ইবাদত মূলত আল্লাহর। কিন্তু বাহ্যিক অনুসরণ ইমামের। তেমনি আমরা ইবাদত করি আল্লাহর। কিন্তু বাহ্যিক অনুসরণ দেখা যায় ইমামে আজম আবু হানীফা রঃ। মূলত শরীয়তের জ্ঞানে প্রাজ্ঞ ইমামে আযম আবু হানীফা রহঃ এর পথ প্রদর্শনে আমরা শরীয়তের অনুসরণ করি। মৌলিক অনুসরণ ইমামের নয়, শরীয়তের।

 

أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ مُحَمَّدٌ -صلى الله عليه وسلم- « أَمَا يَخْشَى الَّذِى يَرْفَعُ رَأْسَهُ قَبْلَ الإِمَامِ أَنْ يُحَوِّلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত যে ব্যক্তি ইমামের আগে মাথা উঠায় তার ক্ষেত্রে আমার আশংকা হয় আল্লাহ তায়ালা তার মাথাকে গাধার মাথায় রুপান্তরিত করে দিবেন। {সহীহ মুসলিম, হাদিস নং-৯৯১, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৬২৩}

কোন ব্যক্তি যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে ইমামের অনুসরণ না করে আগে পরে রুকু সেজদা করে তাকে নবীজী সাঃ গাধা বলেছেন। সুতরাং ৫ বা ১০ মিনিটের ইমামের অনুসরণ ছেড়ে দিলে যেহেতো গাধা হয় তাহলে পূর্ণ শরীয়তের বিধানের অনুসরণে যারা ইমামে আযমের বিরোধিতা করে তারা হল বড় গাধা।

 

আল্লাহ তায়ালা আমাদের গায়রে মুকাল্লিদদের ফিতনাবাজী থেকে হিফাযত করুন।

লুৎফর ফরাজী

http://www.shodalap.org/lutforfarazi/10647

Advertisements

3 thoughts on “গায়রে মুকাল্লিদ বা কথিত আহলে হাদিস দল এই উম্মতের একটি বাতিল ফিরক্বার নাম

  1. Babul Akter says:

    Allah Apnader Porisrom Kobul Korun

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s