কোরআন সুন্নাহ মতে নবীজি সা. এর নামায

দাঁড়ানোর সুন্নাত
১. তাকবীরে তাহরিমার সময় সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
قوموا لله قانتين. (البقرة-২৩৮)
“তোমরা আল্লাহর সামনে বিনয়াবনত হয়ে দাঁড়াও”।
তিরমিযী শরীফে আছে-
عن أبي حميد الساعدي قال : سمعته وهو في عشرة من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم أحدهم أبو قتادة بن ربعي يقول أنا أعلمكم بصلاة رسول الله صلى الله عليه و سلم…….فقال كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا قام إلى الصلاة اعتدل قائما (سنن الترمذي رقم الحديث:৩০৪)
হযরত আবু হুমাইদ সায়েদী রা. বলেন, রাসূল স. নামাযে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন।
২. উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী রাখা এবং উভয় পায়ের মাঝে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রাখা।
মা‘আরেফুস সুনান গ্রন্থে রয়েছে-
فالسنة أن لايفرج المصلي بين قدميه جدا ولايصل جدا بل بين التفريج والوصل فاذالم يكن التفريج كثيرا لم يكن الزاق كعب المصلي بكعب آخر (معارف السنن، باب ماجاء في اقامة الصفوف : ২/২৯৯) مكتبة أشرفية.
অর্থাৎ সুন্নাত হলো নামাযী উভয় পায়ের মাঝে বেশী ফাঁকা না রাখা। আবার বেশি মিলিয়েও না রাখা; বরং ফাঁকা এবং মিলানোর মাঝামাঝি রাখবে। সুতরাং বেশি ফাঁকা না হলে একের পা অপরের টাখনুর সাথে মিলবেনা।
আল্লামা শামী র. বলেন-
وينبغي أن يكون بينهما مقدار اربع اصابع اليد لانه أقرب الي الخشوع هكذا روي عن ابي نصر الدبوسي انه كان يفعله. (رد المحتار: ২/১৩১) زكريابكدفو.
অর্থাৎ উভয় পায়ের মাঝে হাতের চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রাখা উচিত। কেননা এটা বিনয়ী হওয়ার অতি নিকটবর্তী। আবু নছর দাবুসী র. এ রকম করতেন।
তাকবীরে তাহরিমাকালীন সুন্নাত
তাকবীরে তাহরিমার সময় হাত কান পর্যন্ত এভাবে উঠাবে যে, হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী থাকে এবং বৃদ্ধাঙ্গুল কানের লতি বরাবর থাকে।
মালেক বিন হুয়াইরিস রা. থেকে বর্ণিত-
عن مالك بن الحويرث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم-كان إذا كبر رفع يديه حتى يحاذى بهما أذنيه….(مسلم :১/১৬৮-رقم:৮৯১) (مصنف ابن ابي شيبة : ২/৪০৬) (ابوداود : ১/১০৫)
তিনি বলেন, রাসূল স. তাকবীর দেয়ার সময় উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠাতেন।
হাতের তালু কিবলামূখী করে আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিক খোলা রাখা
মা‘আরেফুস সুনান গ্রন্থে রয়েছে-
ذكر الامام الطحاوي: ان السنة في رفع اليدين للتكبير أن يمد أصابع يديه ويستقبل بها مع الكف القبلة ولايضم الاصابع كل الضم ولايفرج كل التفريج.(معارف السنن :২/৩৪৩)
ইমাম তহাবী র. উল্লেখ করেছেন, তাকবীরে তাহরিমার সময় উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিক খোলা রাখা এবং হাতের তালু কিবলামুখী রাখা সুন্নাত।
হযরত আবু হুরায়রা রা. সূত্রে বর্ণিত-
عن أبي هريرة قال : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا كبر نشر أصابعه قال أبو عيسى حديث أبي هريرة [ حسن ] (سنن الترمذي: ১/৫৬-رقم الحديث: ২৩৯)
তিনি বলেন, রাসূল স. তাকবীর দেয়ার সময় হাতের আঙ্গুলগুলো বিস্তৃত রাখতেন।
উক্ত হাদীসেنشر أصابعه শব্দের ব্যাখ্যায় আল্লামা যফর আহমাদ উসমানী র. বলেন-
أن المراد من النشر أن ينشرها غير مكلف في ضمها وتفريجها. (اعلاء السنن: ২/৬৭১.مكتبة دار الفكر)
“হাদীসে نشر দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাতের আঙ্গুলগুলো বেশী খোলাও না রাখা আবার বেশী মিলিয়েও না রাখা; বরং স্বাভাবিক রাখা।
হাত বাঁধার নিয়ম
হাত বাঁধার সময় ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রাখা এবং ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠা আঙ্গুল দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরা। অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের উপর স্বাভাবিক রেখে দেওয়া।
হযরত সাহল বিন সা‘দ রা. হতে বর্ণিত-
عن سهل بن سعد قال: كان الناس يؤمرون أن يضع الرجل اليد اليمنى على ذراعه اليسرى في الصلاة (بخاري : ১/১০২-رقم الحديث:৭০৭)
তিনি বলেন, মানুষকে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখে।
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী র. হাত বাঁধার পদ্ধতি এভাবে বর্ণনা করেছেন-
ويأخذ رسغها بالخنصر والابهام وهو المختار. (عمدة القاري : ৪/৩৮৭) زكريا بكدفو.
অর্থাৎ ডান হাতের কনিষ্ঠা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরাটাই গ্রহণযোগ্য আমল।
হযরত ওয়ায়েল বিন হুজর রা. থেকে বর্ণিত-
عن وائل بن حجر ، قال : رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم حين كبر أخذ شماله بيمينه. (مصنف ابن أبي شيبة : ২/৬৭৯-رقم الحديث: ৩৯৫৬. كذاي في سنن الترمذي : ১/৫৯)
তিনি বলেন, আমি রাসূল স. কে তাকবীরে তাহরিমার সময় ডান হাত দ্বারা বাম হাতকে ধরতে দেখেছি। (ইমাম তিরমিযী উক্ত হাদীসকে হাসান সহীহ বলেছেন)
নাভীর নিচে হাত বাঁধা
হযরত আলকামা বিন ওয়ায়েল বিন হুজর তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন-
عن علقمة بن وائل بن حجر ، عن أبيه ، قال : رأيت النبي صلى الله عليه وسلم وضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة. (مصنف ابن أبي شيبة : ৩/৩২০-رقم: ৩৯৫৯)
আমি রাসূল স. কে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভির নিচে রাখতে দেখেছি। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা-৩/৩২০)
উক্ত হাদীসের সনদ সহীহ। (আসারুস সুনান:পৃ: ৯০)
হাফেজ কাসেম বিন কুতলুবুগা র. ও তিরমিযী শরীফের ভাষ্যকার আবু তাইয়্যেব সিন্ধি র. হাদীসটিকে মজবুত ও শক্তিশালী বলেছেন। উক্ত হাদীসের সনদে কোন দুর্বল বর্ণনাকারী নেই। (ই‘লাউস সুনান: ২/৬৮৭, দারুল ফিকির) (আসারুস সুনান: পৃ: ৯০)
হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত-
عن انس (رض) قال ثلاث من اخلاق النبوة ….ووضع اليد اليمني علي اليسري في الصلاة تحت السرة. (رواه ابن حزم في المحلي تعليقا)
তিনি বলেন, তিনটি বিষয় নবীদের স্বভাব। ….. এবং ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভীর নিচে রাখা।
হযরত আলী রা. বলেন-
عَنْ أَبِى جُحَيْفَةَ أَنَّ عَلِيًّا – رضى الله عنه – قَالَ السُّنَّةُ وَضْعُ الْكَفِّ عَلَى الْكَفِّ فِى الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ.( سنن ابي داود رقم الديث : ৭৫৬ في نسخة ابن العربي، وكذا في مصنف ابن ابي شيبة:৩৯৬৬)
وفيه عبد الرحمن بن اسحاق الواسطي هو ضعيف ولكن يشهد له الحديث السابق.
নামাযে হাতের তালুকে অপর হাতের পিঠের উপর রেখে নাভির নিচে বাঁধা সুন্নাত।
এ হাদীসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে ‘আব্দুর বিন ইসহাক আল-ওয়াসেতী’ দুর্বল হলেও পূর্বোক্ত হাদীস তার সমর্থনে হওয়ায় তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য।
হযরত ইবরাহিম র. বলেন-
عن إبراهيم ، قال : يضع يمينه على شماله في الصلاة تحت السرة. (مصنف ابن ابي شيبة رقم الحديث: ৩৯৬০)
হযরত আবু হুরায়রা রা. সূত্রে বর্ণিত-
عن أبي هريرة ، قال :من السنة أن يضع الرجل يده اليمنى على اليسرى تحت السرة في الصلاة গ্ধ (الاوسط لابن المنذر: رقم الحديث: ১২৪৩)
তিনি বলেন, নামাযে পুরুষের জন্য ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রেখে নাভীর নিচে বাঁধা সুন্নাত।
নাভীর নিচে হাত বাঁধার পর ছানা পড়া
হযরত আবদাহ সূত্রে বর্ণিত-
عن عبدة أن عمر بن الخطاب كان يجهر بهؤلاء الكلمات يقول سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك…… (مسلم :২/১২-رقم الحديث: ৯১৮)
উমর রা. নামাযে নিম্নোক্ত বাক্যগুলো উচ্চস্বরে বলতেন-
سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك.
হযরত আয়েশা রা. সূত্রে বর্ণিত-
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ-صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلاَةَ قَالَ سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ গ্ধ.(ابوداود: ১/১১৩-رقم الحديث: ৭৭৬)
তিনি বলেন, রাসূল স. নামাযের শুরুতে কিরাত পাঠ করার পূর্বে
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ
পাঠ করতেন।
ইমাম আবু দাউদ র. বলেছেন, এ সনদের দিক থেকে এ হাদীসটি প্রসিদ্ধ নয়।
হযরত আনাস রা. বলেন-
عن أنس عن النبي صلى الله عليه و سلم أنه كان إذا كبر رفع يديه حتى يحاذي أذنيه يقول سبحانك اللهم وبحمدك وتبارك اسمك وتعالى جدك ولا إله غيرك لا يروى هذا الحديث عن أنس إلا بهذا الإسناد تفرد به مخلد بن يزيد. (معجم الاوسط: ৩/২৬২-رقم الحديث:৩.৩৯)
রাসূল স. নামাযে কিরাতের পূর্বে উক্ত ছানা পাঠ করতেন।
এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। (আসারুস সুনান: পৃ:৯৩, ই‘লাউস সুনান: ২/৬৮৯)
কিরাতের সুন্নাত
আউযুবিল্লাহ পড়া
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন,
فَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآَنَ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ (سورة النحل-৯৮)
“আপনি যখন কুরআন পাঠ করার ইচ্ছা করবেন তখন শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চান।”
সুনানে দারা কুতনীতে আছে-
عن الأسود بن يزيد قال : رأيت عمر بن الخطاب رضي الله عنه حين افتتح الصلاة كبر ثم قال سبحانك اللهم مثله أخبرنا محمد بن نوح ثنا هارون بن إسحاق ثنا بن فضيل عن حصين : بهذا وزاد ثم يتعوذ (سنن الدار قطني: رقم الحديث: ১০،১১)
আসওয়াদ বিন ইয়াযিদ র. বলেন, আমি উমর বিন খাত্তাব রা. কে নামাযের শুরুতে তাকবীর বলার পর سبحانك اللهم পড়তে দেখেছি। অপর বর্ণনায় রয়েছে অতপর উমর রা. আউযুবিল্লাহ পড়তেন।
বিসমিল্লাহ পড়া
আনাস রা. হতে বর্ণিত-
عن انس أن رسول الله صلي الله عليه وسلم كان يسر ببسم الله الرحمن الرحيم،وابو بكر وعمر رضي الله عنهما. (رواه الطبراني في الكبير والاوسط ورجاله ثقات)
তিনি বলেন, হযরত রাসূল স., আবু বকর রা. ও উমর রা. নামাযে বিসমিল্লাহ পাঠ করতেন। (তবরানী শরীফ)
এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। (ই‘লাউস সুনান: ২/৭০২)
হযরত ইবরাহীম নাখয়ী র. বলেন-
عن إبراهيم ، قال : يخفي الإمام {بسم الله الرحمن الرحيم} والاستعاذة ، وآمين ، وربنا لك الحمد.(مصنف ابن ابي شيبة : رقم الحديث: ৪১৫৯)
ইমাম চারটি আমল নিঃশব্দে আদায় করবে।
১. বিসমিল্লাহ ২. আউযুবিল্লাহ ৩. আমীন। ৪. ربنا لك الحمد
হাদীসটির সনদ সহীহ। (আসারুস সুনান: পৃ: ১২৬)
সূরায়ে ফাতেহার পর নিঃশব্দে আমীন বলা
আল্লাহ তা‘য়ালা ইরশাদ করেন-
ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ (الاعراف-৫৫)
অর্থ: আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের প্রভুকে প্রকাশ্যে গোপনে সর্বাবস্থায় ডাকো। নিশ্চই আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।
আল্লাহ তায়ালা উক্ত আয়াতে নিঃশব্দে দুআর নির্দেশ দিয়েছেন। আর আমীন ও একটি দুআ। সুতরাং আমীন নিঃশব্দে বলাই শ্রেয়।
হযরত আলকামা বিন ওয়ায়েল রা. তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে-
عن علقمة بن وائل عن أبيه أن النبي صلى الله عليه و سلم قرأ (غير المغضوب عليهم ولا الضالين( فقال آمين وخفض بها صوته (سنن الترمذي: ১/৫৮-رقم الحديث: ২৪৮)
তিনি রাসূল স. এর সাথে নামায আদায় করেছেন। যখন রাসূল স. غير المغضوب عليهم শেষ করলেন, তখন নিঃশব্দে আমীন বললেন। এ ছাড়াও এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদ, দারা কুতনী এবং মুসতাদরাকে উল্লেখ আছে।
হযরত ইবরাহীম নাখয়ী র. বলেন-
عن إبراهيم ، قال : يخفي الإمام {بسم الله الرحمن الرحيم} والاستعاذة ، وآمين ، وربنا لك الحمد.(مصنف ابن ابي شيبة : رقم الحديث: ৪১৫৯)
চারটি আমল ইমাম নিঃশব্দে আদায় করবে:
১.বিসমিল্লাহ। ২. আউযুবিল্লাহ । ৩. আমীন। ৪. রাব্বানা লাকাল হামদ্ ।
সুরা ফাতেহার পর সূরা মিলানো
তিরমিযী শরীফে আছে-
روي أن عمر رضي الله عنه كتب إلى أبي موسى الأشعري أن اقرأ في الفجر. والظهر: بطوال المفصل، وفي العصر. والعشاء: بأوساط المفصل، وفي المغرب: بقصار المفصل (نصب الراية: ২/৯،كذا في سنن الترمذي:رقم الحديث: ৩০৬)
হযরত উমর রা. আবু মুসা আশআরী রা. এর কাছে লিখে পাঠালেন যে, ফজর এবং যোহরের নামাযে তিওয়ালে মুফাস্সাল অর্থাৎ সুরা হুজুরাত থেকে সুরা বুরুজ পর্যন্ত। আছর ও ইশার নামাযে আওসাতে মুফাস্সাল তথা সূরা বুরুজ থেকে সূরা বায়্যিনাহ পর্যন্ত। মাগরীবের নামাযে কিসারে মুফাস্সাল অর্থাৎ সূরা যিলযাল থেকে নাছ পর্যন্ত। এ পদ্ধেতিতে নামাযে কেরাত পাঠ করবে।
ইমাম তিরমিযী র. বলেন, উক্ত হাদীসের উপর উলামায়ে কেরামের আমল রয়েছে। ইবনুল মুবারক, ইসহাক, আহমদ র.ও এ ব্যাপারে সমর্থন দিয়েছেন। (তিরমিযী শরীফ : ১/৬৭)
ফরযের ৩য় ও চতুর্থ রাকাতে শুধু সূরা ফাতেহা পাঠ করা
ইমাম বুখারী র. বর্ণনা করেন-
عن عبد الله بن أبي قتادة عن أبيه : أن النبي صلى الله عليه و سلم كان يقرأ في الظهر في الأوليين بأم الكتاب وسورتين وفي الركعتين الآخريين بأم الكتاب ويسمعنا الآية ويطول في الركعة الأولى مالا يطول في الركعة الثانية وهكذا في العصر وهكذا في الصبح (بخاري: ১/১০৭-رقم :৭৪৩)
হযরত আবু কাতাদা রা. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল স. যোহরের প্রথম দু’রাকাতে ফাতেহার সাথে দুটি সূরাও পাঠ করতেন এবং শেষ দুরাকাতে শুধুমাত্র সূরা ফাতেহা পাঠ করতেন। এভাবে আছর ও ফজরের নামায আদায় করতেন। (বুখারী শরীফ : ১/১০৭)
রুকুর সুন্নাত
১. তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাওয়া
হযরত আবু সালামা রা. সূত্রে বর্ণিত-
عن أبي سلمة : عن أبي هريرة أنه كان يصلي بهم فيكبر كلما خفض ورفع فاذا انصرف قال إني لأشبهكم صلاة برسول الله صلى الله عليه و سلم (بخاري : ১/১০৮-رقم: ৭৫২)
হযরত আবু হুরায়রা রা. মুসল্লীদের নিয়ে নামায আদায়কালে কোনো রুকন আদায়ের জন্য যখনই নিচু হতেন বা নিচু অবস্থা থেকে উঠতেন তখনالله اكبر বলতেন। নামায শেষে বললেন, নিশ্চই আমি রাসূল স. এর নামাযের মতোই নামায পড়িয়েছি।
২.রুকুতে উভয় হাত দ্বারা হাঁটু ধরা
বুখারী শরীফে আছে-
وقال أبو حميد في أصحابه أمكن النبي صلى الله عليه و سلم يديه من ركبتيه (بخاري:১/১০৯-رقم: ৭৯৪)
হযরত আবু হুমাইদ র. বলেন, রাসূল স. রুকু অবস্থায় হাঁটু ধরতেন।
৩. হাঁটু ধরাবস্থায় হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁকা রাখা
ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণিত-
عن علقمة بن وائل عن أبيه قال : كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا ركع فرج أصابعه وإذا سجد ضم أصابعه (المعجم الكبير: ২২/১৯- رقم:২৬)
তিনি বলেন রাসুল স. রুকুতে হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁকা রাখতেন।
এই হাদীসের সনদ হাসান।
৪. রুকুতে পিঠ বিছিয়ে দেয়া
হযরত বারা রা. বলেন-
عَنْ أَبِي إسْحَاقَ عَنْ الْبَرَاءِ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إذَا رَكَعَ بَسَطَ ظَهْرَهُ، وَإِذَا سَجَدَ وَجَّهَ أَصَابِعَهُ قِبَلَ الْقِبْلَةِ، انْتَهَى.(نصب الراية: ১/৪৫৬)
রাসূল স. রুকুতে পিঠ বিছিয়ে দিতেন। …. (নসবুর রায়া-১/৪৫৬)
৫. রুকুতে মাথা ও নিতম্ব সমান করে রাখা
তিরমিযী শরীফে বর্ণিত আছে-
عن أبي حميد الساعدي ….. كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا قام إلى الصلاة اعتدل قائما ….فإذا أراد أن يركع رفع يديه حتى يحاذي بهما منكبيه ثم قال الله أكبر وركع ثم اعتدل فلم يصب رأسه ولم يقنع ووضع يديه على ركبتيه ثم قال سمع الله لمن حمده ورفع يديه واعتدل حتى يرجع كل عظم في موضعه معتدلا…. قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح (سنن الترمذي: ১/৬৭- رقم الحديث: ৩০৪)
হযরত আবু হুমাইদ সায়াদী রা. বলেন, রাসূল স. যখন রুকু করতেন তখন পিঠ কে সোজা করে রাখতেন এবং মাথাকে উঁচু ও করতেন না, নিচুও করতেন না। (সাংক্ষেপিত)
৬. রুকুর মধ্যে তিন বার سبحان ربي العظيمপাঠ করা
তিরমিযী শরীফে আছে-
عن ابن مسعود : أن النبي صلى الله عليه و سلم قال إذا ركع أحدكم فقال في ركوعه سبحان ربي العظيم ثلاث مرات فقد تم ركوعه وذلك أدناه ………(سنن الترمذي: ১/৬০- رقم: ২৬১)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসূল স. বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন রুকু করবে তখন কমপক্ষে তিন বার العظيم سبحان ربي বললে তার রুকু পূর্ণ হয়ে যাবে।
ইমাম আবু দাউদ র.উক্ত হাদীসটি কে মুরসাল বলেছেন।
তিরমিযী শরীফে আরো বর্ণিত আছে-
عن حذيفة (رض) أنه صلي مع النبي صلي الله عليه وسلم فكان يقول في ركوعه سبحان ربي العظيم. (رواه الترمذي: ১/৬১)
হযরত হুযাইফা রা. বলেন আমি রাসুল স. এর সাথে নামায আদায় করেছি । তিনি রুকুতেسبحان ربي العظيم পাঠ করতেন।
ইমাম তিরমিযী র. হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
৭. রুকু থেকে উঠার সময় ইমাম سمع الله لمن حمده এবং মুক্তাদি ربنا لك الحمد বলবে
বুখারী শরীফে বর্ণিত আছে-
عن هريرة (رض) أن رسول الله صلي الله عليه وسلم اذا قال الامام سمع الله لمن حمده فقولوا اللهم ربنا لك الحمد (رواه البخاري:১/১০৯)
হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল স. বলেছেন ইমাম যখন سمع الله لمن حمده বলবে তখন তোমরা ربنا لك الحمد বল।
৮. রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়ানো
হযরত আবু হুরায়রা রা. সূত্রে বর্ণিত-
عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم دخل المسجد فدخل رجل فصلى فسلم على النبي صلى الله عليه و سلم فرد وقال (ارجع فصل فإنك لم تصل).فرجع يصلي كما صلى ثم جاء فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم فقال (ارجع فصل فإنك لم تصل) . ثلاثا فقال والذي بعثك بالحق ما أحسن غيره فعلمني ؟ فقال (إذا قمت إلى الصلاة فكبر ثم اقرأ ما تيسر معك من القران ثم اركع حتى تطمئن راكعا ثم ارفع حتى تعتدل قائما ثم اسجد حتى تطمئن ساجدا ثم ارفع حتى تطمئن جالسا وافعل ذلك في صلاتك كله (بخاري: ১/১০৯- رقم الحديث: ৭২৪)
তিনি বলেন রাসূল স. এক ব্যাক্তি কে নামায শিখাতে গিয়ে বলেছেন, তুমি যখন রুকু থেকে মাথা উঠাবে তখন সোজা হয়ে দাড়াবে। [সংক্ষেপ]
সিজদার সুন্নাত
১ . الله اكبر(তাকবীর) বলতে বলতে সিজদায় যাওয়া
বুখারী শরীফে আছে-
عن أبي سلمة : عن أبي هريرة أنه كان يصلي بهم فيكبر كلما خفض ورفع فاذا انصرف قال إني لأشبهكم صلاة برسول الله صلى الله عليه و سلم (بخاري : ১/১০৮-رقم: ৭৫২)
হযরত আবু হুরায়রা রা. মুসল্লিদের নিয়ে নামায আদায়কালে প্রতি রুকনে যখনই নিচু হতেন বা নিচু অবস্থা থেকে উঠতেন তখন আল্লাহু আকবার বলতেন।
২. সিজদায় প্রথমে হাঁটু রাখা
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন-
عن وائل بن حجر قال : رأيت رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا سجد يضع ركبتيه قبل يديه وإذا نهض رفع يديه قبل ركبتيه (سنن الترمذي: ১/৬১-رقم الحديث: ২৬৮)
আমি রাসূল স. কে দেখেছি সিজদায় যাওয়ার সময় যমিনে হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখতেন এবং উঠার সময় হাঁটুর আগে হাত উঠাতেন।
৩. যমিনে হাত রাখা
মুসলিম শরীফে আছে-
عن البراء قال قال رسول الله -صلى الله عليه وسلم إذا سجدت فضع كفيك وارفع مرفقيك (مسلم: ১/১৯৪- رقم الحديث: ১১৩২)
হযরত বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল স. বলেছেন, যখন তুমি সিজদা করবে তখন তোমার হাতের তালু যমিনে রাখ এবং কনুই যমিন থেকে উঠিয়ে রাখ। (মুসলিম শরীফ ১/১৯৪)
আবু দাউদ শরীফে আছে-ووضع كفيه علي الارض (আবু দাউদ শরীফ১/১২৫)
৪. তার পর নাক রাখা এবং এর পর কপাল রাখা
তিরমিযী শরীফে আছে-
عن أبي حميد الساعدي :أن النبي صلى الله عليه و سلم كان إذا سجد أمكن أنفه وجبهته[ من ] الأرض ونحى يديه عن جنبيه ووضع كفيه حذو منكبي (سنن الترمذي : ১/৬১-رقم :২৭০)
হযরত আবু হুমাইদ সায়েদী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল স. যখন সিজদায় যেতেন তখন নাক ও কপাল ভালভাবে যমিতে রাখতেন।
ইমাম তিরমিযী উক্ত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। (তিরমিযী-১/৬১)
৫. উভয় হাতের মাঝখানে সিজদাকরা
আবু দাউদ শরীফে আছে-
عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فِى هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَلَمَّا سَجَدَ وَقَعَتَا رُكْبَتَاهُ إِلَى الأَرْضِ قَبْلَ أَنْ تَقَعَ كَفَّاهُ – قَالَ – فَلَمَّا سَجَدَ وَضَعَ جَبْهَتَهُ بَيْنَ كَفَّيْهِ وَجَافَى عَنْ إِبْطَيْهِ. (ابو داود: ১/১০৭-رقم الحديث: ৭৩৬)
হযরত ওয়াইল বিন হুজর রা. বলেন, রাসূল স. উভয় হাতের তালুর মাঝখানে কপাল রাখতেন।
উক্ত হাদীসটি সহীহ। কারণ, ইমাম আবু দাউদ র. এ হাদীসের ব্যাপারে কিছুই বলেনি এবং শাইখ আলবানী উক্ত হাদীসকে সহীহ বলেছেন।
৬. সিজদার মধ্যে বাজু বগল থেকে পৃথক রাখা।
ইমাম বুখারী র. বলেন-
عن عبد الله بن مالك بن بحينة : أن النبي صلى الله عليه و سلم كان إذا صلى فرج بين يديه حتى يبدو بياض إبطيه (بخاري : ১/১১২- رقم الحديث: ৩৮৩)
হযরত ইবনে বুহায়না রা. বলেন, রাসূল স. যখন সিজদা করতেন তখন উভয় হাতের মাঝে এতটুকু ফাঁকা রাখতেন যে, তার বগল মুবারকের শুভ্রতা প্রকাশ পেতো। অর্থাৎ দেখা যেতো।
৭. সিজদায় পেট কে রান থেকে পৃথক রাখা
আবু দাউদ শরীফে আছে-
عن أبى حميد بهذا الحديث قال وإذا سجد فرج بين فخذيه غير حامل بطنه على شىء من فخذيه. (ابوداود: ১/১০৭- رقم الحديث: ৭৩৫)
হযরত আবু হুমাইদ রা. থেকে বর্ণিত রাসূল স. বলেছেন, যখন তোমরা সিজদা করবে। তখন পেট কে উভয় রান থেকে পৃথক রাখ, যাতে পেটের কোনো অংশই রানের সাথে লেগে না থাকে।
৮.সিজদার মধ্যে উভয় কনুই জমিন থেকে পৃথক রাখবে।
মুসলিম শরীফে আছে-
عن أنس عن النبي صلى الله عليه و سلم قال: ( اعتدلوا في السجود ولا يبسط ذراعيه كالكلب (يخاري : ১/১১৩-رقم الحديث: ৫০১، مسلم : ১/১৯৩)
হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত রাসূল স. বলেছেন, তোমরা ধীরস্থির ভাবে সিজদা করবে। আর তোমাদের কেউ যেন তার কনুইকে কুকুরের মতো বিছিয়ে না রাখে।
৯. সিজদার মধ্যে কমপক্ষে তিন বার سبحان ربي الاعلي পাঠ করা
তিরমিযী শরীফে আছে-
عن ابن مسعود : أن النبي صلى الله عليه و سلم قال ….. وإذا سجد فقال في سجوده سبحان ربي الأعلى ثلاث مرات فقد تم سجوده وذلك أدناه (سنن الترمذي : ১/৬০- رقم الحديث: ২৬১)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত রাসূল স. বলেছেন, যখন তোমরা সিজদা করবে তখন কমপক্ষে তিন বার سبحان ربي الاعلي বললে সিজদা পূর্ণ হয়ে যাবে।
১০. সিজদা অবস্থায় হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে কিবলামুখি রাখা
মু‘জামূল কাবীরে আছে-
عن علقمة بن وائل عن أبيه قال : كان رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا ركع فرج أصابعه وإذا سجد ضم أصابعه (معجم الكبير: رقم: ২৬)
আলকামা বিন ওয়াইল বিন হুজর বলেন, রাসূল স. সিজদার মধ্যে আঙ্গুল মিলিয়ে রাখতেন।
মু’জামূল কাবীর হাদিস নং-২৬
১১. সিজদাহ থেকে উঠার সময় আগে হাত উঠানো
তিরমিযী শরীফে আছে-
عن وائل بن حجر قال : رأيت رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا سجد يضع ركبتيه قبل يديه وإذا نهض رفع يديه قبل ركبتيه (سنن الترمذي : ১/৬১- رقم الحديث: ২৬৮)
ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন, রাসূল স. সিজদা হতে হাটুর আগে হাত উঠাতেন।
১২. পায়ের উপর ভর দিয়ে সিজদা থেকে উঠা
তিরমিযী শরীফে আছে-
عن أبي هريرة قال : كان النبي صلى الله عليه و سلم ينهض في الصلاة على صدور قدميه(سنن الترمذي: ১/৬৪- رقم الحديث: ২৮৮)
আবু হুরায়রা রা. বলেন রাসূল স. পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে সিজদা থেকে উঠতেন। সাহাবাগণও পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে উঠতেন।
ইমাম শা‘বী র. সূত্রে বর্ণিত-
عن الشعبي ؛ أن عمر وعليا وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كانوا ينهضون في الصلاة على صدور أقدامهم (مصنف ابن ابي شيبة : رقم الحديث: ৪০০৪)
তিনি বলেন, উমর, আলী রা. ও নবীর অন্যান্য সাহবাগণ পায়ের উপর ভর দিয়ে সিজদা হতে উঠতেন।
বসার সুন্নাত
১ . বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা এবং ডান পা দাঁড় করিয়ে পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী রাখা।
বুখারী শরীফে আছে-
…فقال أبو حميد الساعدي أنا كنت أحفظكم لصلاة رسول الله صلى الله عليه و سلم رأيته إذا كبر جعل يديه حذاء منكبيه وإذا ركع أمكن يديه من ركبتيه ثم هصر ظهره فإذا رفع رأسه استوى حتى يعود كل فقار مكانه فإذا سجد وضع يديه غير مفترش ولا قابضهما واستقبل بأطراف أصابع رجليه القبلة فإذا جلس في الركعتين جلس على رجله اليسرى ونصب اليمنى وإذا جلس في الركعة الآخرة قدم رجله اليسرى ونصب الأخرى وقعد على مقعدت (بخاري: ১/১১৪- رقم الحديث: ৭৯৪)
হযরত হুমাইদ সাআদী রা. বলেন, আমি তোমাদের থেকে রাসূল স. এর নামাযের অবস্থা বেশি স্মরণ রেখেছি …………তিনি বলেন, রাসূল স. যখন দুই রাকাতের পর বসতেন তখন বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতেন এবং ডান পা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। (বুখারী শরীফ ১/১১৪)
নাসায়ী শরীফে আছে-
عن عبد الله وهو بن عبد الله بن عمر عن أبيه قال : من سنة الصلاة أن ينصب القدم اليمنى واستقباله بأصابعها القبلة والجلوس على اليسرى (سنن للنسائي : ১/১৩০-رقم الحديث: ৭৪৪)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. তার পিতার সুত্রে বর্ণনা করেন, নামাযে বসার সুন্নাত হলো, ডান দাড় করে রাখা এবং আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী রাখা এবং বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসা।
২. উভয় হাত রানের উপর রাখ্
াআবু দাউদ শরীফে আছে-
عن وائل بن حجر قال قلت لأنظرن إلى صلاة رسول الله-صلى الله عليه وسلم كيف يصلى قال …..فلما سجد وضع رأسه بذلك المنزل من بين يديه ثم جلس فافترش رجله اليسرى ووضع يده اليسرى على فخذه اليسرى وحد مرفقه الأيمن على فخذه اليمنى وقبض ثنتين وحلق حلقة ورأيته يقول هكذا. وحلق بشر الإبهام والوسطى وأشار بالسبابة (ابو داود : ১/১৩৮رقم الحديث :৪২৬، وأيضا في سنن الترمذي: ১/৬৫)
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর বলেন যে, রাসূল স. এর নামাযের রূপ আমি দেখেছি তিনি ডান হাত কে ডান রান এবং বাম হাত কে বাম রানের উপর রাখতেন।
৩. তাশাহ্হুদ পড়ার সময় أشهد বলে বৃৃদ্ধাঙ্গুল এবং মধ্যমাঙ্গুল দ্বারা গোলাকৃতি বানিয়ে لااله বলার সময় শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করবে এবং الاالله বলার সময় ঝুকিয়ে দিবে।
ইবনে মাজা শরীফে আছে-
عن وائل بن حجر قال رأيت النبي صلى الله عليه و سلم قد حلق الإبهام والوسطى ورفع التي تليهما يدعو بها في التشهد في الزوائد إسناده صحيح ورجاله ثقات .(ابن ماجه:ص ৬৫- رقم الحديث: ৯১২)
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন, আমি রাসূল স. কে বৃদ্ধাঙ্গুল এবং মধ্যমাঙ্গুল দ্বারা গোলাকৃতি বানাতে এবং শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতে দেখেছি। উক্ত হাদীসটির সনদ সহীহ এবং বর্ণনাকারী নির্ভরশীল।
তাশাহ্হুদ
التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك ايها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلي عباد الله الصالحين، أشهد أن لا اله الاالله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
عن عبد الله قال كنا نقول فى الصلاة خلف رسول الله -صلى الله عليه وسلم- السلام على الله السلام على فلان. فقال لنا رسول الله -صلى الله عليه وسلم- ذات يوم إن الله هو السلام فإذا قعد أحدكم فى الصلاة فليقل التحيات لله والصلوات والطيبات السلام عليك أيها النبى ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين فإذا قالها أصابت كل عبد لله صالح فى السماء والأرض أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله ثم يتخير من المسألة ما شاء .( مسلم : ১/১৭৩- رقم الحديث:৯২৪)
হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন রাসূল স. আমাদেরকে উক্ত তাশাহ্হুদ পাঠ করার জন্য হুকুম করেছেন।
২.আখেরী বৈঠকে দুরুদ শরীফ পাঠ করা
মুসলিম শরীফে আছে-
عن أبى مسعود الأنصارى قال أتانا رسول الله -صلى الله عليه وسلم- ونحن فى مجلس سعد بن عبادة فقال له بشير بن سعد أمرنا الله تعالى أن نصلى عليك يا رسول الله فكيف نصلى عليك قال فسكت رسول الله -صلى الله عليه وسلم- حتى تمنينا أنه لم يسأله ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم-قولوا اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على آل إبراهيم وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على آل إبراهيم فى العالمين إنك حميد مجيد. والسلام كما قد علمتم (مسلم : ১/১৭৫- رقم الحديث : ৯৩৪)
সাহাবায়ে কিরাম রাসূল স. থেকে জানতে চাইলেন যে, আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে আপনার উপর দরুদ পাঠ করার হুকুম করেছেন। আমরা কীভাবে দরুদ পাঠ করবো ? তখন রাসূল স. তাদের কে
اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على ابراهيم وعلي آل إبراهيم انك حميد مجيد، اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على ابراهيم وعلي آل إبراهيم إنك حميد مجيد.
এ দরুদটি পাঠ করার হুকুম দিয়েছেন। (ভাবার্থ) (মুসলিম শরীফ:১/১৭৫)
৩ . দরুদ শরীফের পরে দুআয়ে মাসূরা পাঠ করা
বুখারী শরীফে আছে-
عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه : أنه قال لرسول الله صلى الله عليه و سلم علمني الدعاء أدعو به في صلاتي . قال ( قل اللهم إني ظلمت نفسي ظلما كثيرا ولا يغفر الذنوب إلا أنت فاغفر لي مغفرة من عندك وارحمني إنك أنت الغفور الرحيم ) (بخاري : ১/১১৫-رقم الحديث : ৭৯৯)
হযরত আবু বকর রা. রাসূল স. এর নিকট আবেদন করলেন হে আল্লাহর রাসূল ! আমাকে একটি দোয়া শিক্ষা দিন। যদ্বারা আমি নামাযে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবো। তখন রাসূল স.
اللهم إني ظلمت نفسي ظلما كثيرا ولا يغفر الذنوب إلا أنت فاغفر لي مغفرة من عندك وارحمني إنك أنت الغفور الرحيم
দোয়াটি শিখিয়ে দিলেন। (বুখারী শরীফ :১/১২৫)
৪. দুই সালামে নামায শেষ করা। উভয় দিকে সালাম ফিরানো এবং ডান দিকে আগে ফিরানো।
মুসলিম শরীফে আছে-
عن عامر بن سعد عن أبيه قال كنت أرى رسول الله -صلى الله عليه وسلم- يسلم عن يمينه وعن يساره حتى أرى بياض خده. (مسلم : ১/২১৬- رقم الحديث:১৩৪৩)
হযরত আমের ইবনে সা‘দ রা. তার পিতার সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল স. কে এভাবে ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরাতে দেখেছি যে, তার গাল মোবারকের শুভ্রতা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। (মুসলিম শরীফ:১/২১৬)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s