আহলে হাদীস যে, একটি ভ্রান্ত দল তা প্রমাণ করতে বেশি দূর যেতে হয়না

পাঠককে বলা: আপনি যদি হক নাহক, সত্য অসত্য বুঝার জন্য পড়েন তবে আর কিছু পড়া লাগবে না। সামান্য কথাতেই আপনি বুঝতে পারবেন কথিত আহলে হাদীস কি? আমিও অবশ্য কাউকে ঘায়ের করার উদ্দেশ্যে নয় বরং আমার গবেষণায়  যেটুকু ধরেছে তাই প্রকাশ করতে চেষ্টা করলাম। যদি কোন লোক হেদায়াত প্রাপ্ত হয় তার সওয়াব নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার বেলায়ও বরাদ্দ করবেন। এই আশায় সামান্য লেখাটা লেখলাম।

১। আহলে হাদীসদের দাবী হলো তাকলীদ করা যাবে না। তাকলীদ যারা করে তারা মুশরিকের পর্যায়ভুক্ত। তবে ইত্তিবা করা যাবে।

উত্তর: তাকলীদ আর ইত্তিবার মধ্যে পার্থক্য কি? তাকলীদ অর্থ অনুস্মরণ। ইত্তিবা অর্থও অনুস্মরণ।

২। তারা বুঝাতে চায় তাকলীদ অর্থ অন্ধ অনুসরণ। আর ইত্তিবা অর্থ দলীল প্রমাণ দেখে দেখে আমল করা।

উত্তর: তাদের কথায় খুব রস দেখা যায়। অর্থাৎ দলীল প্রমাণ দেখেই আমল করার নাম ইত্তিবা। তারা সহীহ হাদীস দেখে দেখে আমল করেন, এটি তাদের মুখ্য দাবী। আচ্ছা হাদীসটাযে সহীহ তা কি রাসূল স. বলেছেন নাকি আললাহ তাআল বলেছেন। নাকি হাদীস গুলো নবী (সা.) দিনের কোন সময় তাদেরকে এসে বলে যান।  বরং হাদীস সহীহ হওয়া আর জয়ীফ হওয়া সবই মুহাদ্দিসের কথার উপর নির্ভর। অর্থাৎ মুহাদ্দিসগণ অন্য লোক থেকে হাদীসটি গ্রহণ করার সময় দেখেছেন সে লোকের চরিত্র কি, তার মেধা কিরকম? সে আহলে সুন্নাত জামাতের লোক কি না? না কি সে শিয়া বা খারেজী (সে সময় অবশ্য আহলে হাদীছ ছিল না তাই মুহাদ্দিসগণ সে বিষয়ে যাচাই করেন নি। বর্তমানের কথিত আহলে হাদীসরা যদি সে যুগে থাকত তবে তাদেরকেও ঐরূপ বাতিল ফেরকায় শামিল করে তাদের বর্ণিত হাদীসকে জয়ীফ না বরং মওজু বলতেন) ইত্যাদি বাতিল ফেরকার লোক কি না। এসব যাচাই করার পর যার কাছে নিজ শরত অনুযায়ী সেলোককে ভাল পেয়েছেন তার কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন। সেরূপ হাদীস সংরক্ষণকারী লোকদের চরিত্র ইত্যাদি বিবেচনা করে যে মুহাদ্দিস যাকে ভাল পেয়েছেন তার উপর নির্ভর করে হাদীসকে সহীহ বা জয়ীফ বলে মত প্রকাশ করেছেন।

তা হলে বুঝা যায় হাদীস জয়ীফ বা সহীহ হওয়ার মাপকাঠি হলো একমাত্র মুহাদ্দিসগণের মত। সে মতের ভিত্তিতেই হাদীস সহীহ বা জয়ীফ হওয়া। এটি এমন বিষয় যার কোন দলীল ও প্রমাণও নেই। সেরূপ মতকে অন্ধ বিশ্বাস করে কথিত আহলে হাদীসরা হাদীস মানছে। তাকি অন্ধ বিশ্বাস নয়? তা যদি অন্ধ ব্শ্বিাস না হয় তাহলে বলেন অন্ধ বিশ্বাস আর কাকে বলে।

কোন হাদীস তো এমন নেই যে, বর্তমানেও আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল এসে বলে দিচ্ছেন যে, এই হাদীসটি সহীহ এটি জয়ীফ।তাহলে কোন দলীলের ভিত্তিতে তারা হাদীসগুলোকে সহীহ বা জয়ীফ বলছে।

যেহেতু হাদীছ জয়ীফ হওয়া এবং সহীহ হওয়া মুহাদ্দিসের মতের উপর নির্ভর সে কারণে একই হাদীস এক মুহাদ্দিসের কাছে সহীহ আরেক মুহাদ্দিসের কাছে জয়ীফ বলে বিবেচিত। এখানেও মতানৈক্য। এর ভিতর কিথিত আহলে হাদীসরা যদি যে কোন একজনের হাদীস গ্রহণ করে তাহলে বুঝা যায় তারা যে কোন একটি মাযহাব গ্রহণ করল। কারণ মাযহাব মানে হলো মত।

এই আলোচনা থেকে বুঝা গেল আহলে হাদীসরা মাযহাবও মানে আবার অন্ধবিশ্বাস তথা তাকলীদও করে।

আচ্ছা দেখুন: তাদের তাকলীদটা বেশি অন্ধ বিশ্বাস নাকি মাযহাব যারা মানে তাদের তাকলীদটা অন্ধ বিশ্বাস।

মাযহাব যারা মানে তারা শরয়ী মাসআলার দলীল খোজতে গেলে কুরআন হাদীস সামনে আছে। সেখান থেকে দলীল খোঁজে তার মাযহাবের মতটা সঠিক না বেঠিক তা বিচার করতে পারে।

কিন্তু তথাকথিত আহলে হাদীসরা কোন দলীলের ভিত্তিতে হাদীস মানে? কারণ যে সকল বর্ণনাকারীর চরিত্র ও মেধা ইত্যাদির উপর নির্ভর করে মুহাদ্দিসগণ হাদীসকে সহীহ বা জয়ীফ বলেছেন সে সকল রাবীতো একজনও জীবিত নেই্। তাহলে তারা ঐ রাবী ভাল ছিলেন কি খারাপ ছিলেন তা জানার কোন উপায়ও নেই। তাহলে বুঝা যায় কথিত আহরে হাদীসরা যাদের মত অনুসরণ করে যাদের কথার অধীনে চলে যাদের অন্ধ তাকলীদ করে তাদের মত প্রমাণ করার জন্য কোন দলীল পাওয়াও সম্ভব নয়। বরং দলীল প্রমাণ ছাড়াই খালেস অন্ধ বিশ্বাসের মাধ্যমেই মুহাদ্দিসের কথা মান্য করতে হচ্ছে।

এখন পাঠকগণ বিচার করুন। যারা মাযহাব মানে তাদের তাকলীদটা অন্ধ বিশ্বাস না কি কথিত আহলে হাদীসদের তাকলীদটা পুরোপুরি অন্ধ বিশ্বাস?

এখন আপনি নিজেই বলুন তাদের ভাষায় যদি তাকলীদ করা শিরিক হয় তাহলে বড় শিরিক কারা করে? আহলে হাদীস না মুযহাবীগণ।

আরো দেখুন : বর্তমানে আহলে হাদীসরা হাদীসের বেলায় জনাব আলবানী সাহেবকেই মানে। কারণ যে সকল হাদীসকে আলবানী সাহেব সহীহ বলেছেন সেগুলোকেই তারা সহীহ বলে। বাকী সবগুলোকে তারা জয়ীফ বলে উপহাস করে।

এক নম্বরে হাদীস নিয়ে উপহাস করা ঈমান বিধ্বংসী। দুই নম্বরে তারা ইসলাম ধর্মের চৌদ্দশ বছর পরে এসে এহেন ফিতনার যুগের কোন একজন লোককেই নিজেদের ইমাম মানছে। আর যারা মাযহাব মানে তারা তাবেয়ী, তবে তাবেয়ীদের যুগের লোকদেরকেই মানে।যাদেরে কাছে হাদীস পৌছেছে মাত্র এক বা দুই মাধ্যমের দ্বারা। যারা নবী সা. ও সাহাবী যুগের একেবারে সন্নিকটে। যাদের ‍যুগ যুগ ধরে ধর্মের ব্যাপারে সঠিক ও আহলে হক্ব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমাম বলে সর্বজন স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। যারা ইসলাম বিরোধী যাবতীয় শক্তির সাথে মোকাবেলা করে সঠিক ইসলাম বর্তমান যুগ পর্যন্ত মুসলমানদের কাছে পৌছার ব্যবস্থা করে গেছেন।

ইসলামের সে সোনালী ব্যক্তিদেরকে কলোষিত করতে কথিত আহলে হাদীসদের এক মিনিট সময় লাগে না। এমনকি কথিত আহলে হাদীসরা সাহাবায়েকেরামকে পর্য্ত মানতে নারাজ। এক দিকে ১৩/১৪শত বছর পরের লোকের তাকলীদ করা, অপর দিকে ইসলামের সোনালী যুগের ব্যক্তিদের সমালোচনা করা, অধিকনতু সাহাবায়ে কেরামকে না মানা এসব তারা যে, ইসলামের মধ্যে ষড়যন্ত্রমূলক একটি দলের উত্তপত্তি তার অকাট্য দলীল নয় কি?

আচ্ছা যারা তাকলীদ বা অন্ধ বিশ্বাস করেও কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলে তাকলীদ করার কথা অস্বীকার করে এও কি তাদের গোমরাহীর দলীল নয়?

তারা যেসকল মাসআলা নিয়ে বিতর্ক করে সেগুলোর সকল প্রকার দলীল দেয়ার পর হুকুম বের হয় হয়ত সুন্নাত বা মুস্তাহাব।

একটা মুস্তাহাবের জন্য পুরো মুসলিম দুনিয়ায় মতপার্থক্য সৃষ্টির মত কবীরা গোনাহ করতে পারবে এর প্রমাণ কোন সহীহ হাদীসে আছে?

এরা বলে মাযহাব মানে মতভেদ করা। আচ্ছা চার মাযহাব দীর্ঘ দিন থেকে চলে এসেছে। সেখানে পঞ্চম আরেকটি দল করে মতভেদ ভাড়ানো কোন ধরনের ভদ্রতা বা কোন ধরনের ইসলাম পালন? তাওতো মুসলমানদের বুঝা উচিৎ।

সামান্য একথাগুলো একটু চিন্তা করলে আপনি একজন মুসলমান হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধা কোথায় যে, আহলে হাদীস মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে মতভেদ সৃষ্টি করার জন্যই জন্ম হয়েছে। মিথ্যা কথা বলাই এদের স্বভাব। যারা সব সময় মিথ্যার মধ্যে ডুবে থাকবে, যারা ইসলামের কর্ণধার সাহাবায়ে কেরামকে পর্যন্ত মানতে রাজি হবে না, এরা আবার কি করে সঠিক ইসলামের দাবীদার হতে পারবে?

প্রিয় পাঠক: আশা করি কথাগুলো চিন্তা করবেন। আহলে হাদীসদের কাছ থেকে এসবের জবাব চাইবেন। তখন বুঝতে পারবেন এরা কি সঠিক ইসলামে আছে? নাকি ইসলামের নামে মুসলমানদের ধোকা দেয়ার জন্য মাঠে ময়দানে কাজ করছে।

আমার মতে আহলে হাদীস যে, একটি ভ্রান্ত দল তা বুঝার জন্য এর চাইতে বেশি দলীল প্রমাণ ও কথার প্রয়োজন পড়ে না।

এর বাইরে দেখতে চাইলে তাদের ইতিহাসও দেখা যায়। এরা ইংরেজ সৃষ্ট কাদিয়ানীদের মতই ইংরেজদের সৃষ্ট। সেটা দেখলে তো আর বলতেই হয়না যে, এরা ভ্রান্ত দল। বরং নিজে নিজেই বুঝে আসে।

ওয়মা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।

10 thoughts on “আহলে হাদীস যে, একটি ভ্রান্ত দল তা প্রমাণ করতে বেশি দূর যেতে হয়না

  1. Admin, please contact with me.

    • Tahmina says:

      আসসালামুআলাইকুম ওয়ারহ্-মাতুল্লাহী ওয়াবারকাতুহ….আপিন বললেন যে,আহলে হাদীসরা মাযহাব মানে না , সরাসরি হাদিস মানে , আর হাদীসের মুহ্হাদিসদের অন্ধ আনুসরন করে I আর “””মাযহাব যারা মানে তারা শরয়ী মাসআলার দলীল খোজতে গেলে কুরআন হাদীস সামনে আছে। সেখান থেকে দলীল খোঁজে তার মাযহাবের মতটা সঠিক না বেঠিক তা বিচার করতে পারে “”” তার মানে আপনারা মাযহাবও মানেন , আবার হাদীসও মানেন…ঠিক কীনা ? সুতরাং আপনারা মাযহাবের ইমামেরও অনুসরন করেন এবং শরয়ী মাসআলার দলীল খোজতে গেলে কুরআন হাদীস সামনে রাখেন , মানে হাদীসের মুহ্হাদিসদের অন্ধ আনুসরন করে I তাহলে আপনারা কোন দলীলের ভিত্তিতে হাদীস মানে? তাহলে আপনাদের কাছে আগে মাযহাব তারপর নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর হাদীস I আর আহলে হাদীসের কাছে সরাসরি নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর হাদীস I..ঠিক কীনা ? জাযাকাল্লাখাইর…আল্লাহ আমাদদের সকলকে দ্বীনে সঠিক জ্ঞান দান করুন..আমিন….

  2. gazi says:

    apni khub valo likesen karon apni nissoy majar ba pirer murid
    sadaron manuske onek doka diye pocket puraisen ahkon aktu bondo den na

  3. Jahangir Alam Molla says:

    অত্যন্ত যুক্তি আছে তথ্যগুলিতে,আলহামদুলিল্লাহ্‌।

  4. Kamrul Hasan says:

    আলহামদুলিল্লাহ্‌।

  5. Abdur Rouf says:

    অবশ্যই আহলে হাদীস একটি ফেৎনা

  6. Tahmina says:

    আসসালামুআলাইকুম ওয়ারহ্-মাতুল্লাহী ওয়াবারকাতুহ….আপিন বললেন যে,আহলে হাদীসরা মাযহাব মানে না , সরাসরি হাদিস মানে , আর হাদীসের মুহ্হাদিসদের অন্ধ আনুসরন করে I আর “””মাযহাব যারা মানে তারা শরয়ী মাসআলার দলীল খোজতে গেলে কুরআন হাদীস সামনে আছে। সেখান থেকে দলীল খোঁজে তার মাযহাবের মতটা সঠিক না বেঠিক তা বিচার করতে পারে “”” তার মানে আপনারা মাযহাবও মানেন , আবার হাদীসও মানেন…ঠিক কীনা ? সুতরাং আপনারা মাযহাবের ইমামেরও অনুসরন করেন এবং শরয়ী মাসআলার দলীল খোজতে গেলে কুরআন হাদীস সামনে রাখেন , মানে হাদীসের মুহ্হাদিসদের অন্ধ আনুসরন করে I তাহলে আপনারা কোন দলীলের ভিত্তিতে হাদীস মানে? তাহলে আপনাদের কাছে আগে মাযহাব তারপর নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর হাদীস I আর আহলে হাদীসের কাছে সরাসরি নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর হাদীস I..ঠিক কীনা ? জাযাকাল্লাখাইর…আল্লাহ আমাদদের সকলকে দ্বীনে সঠিক জ্ঞান দান করুন..আমিন….

  7. sarkarpervez says:

    অবশ্যই আহলে হাদীস একটি ফেৎনা – বলছেন, ভালো কথা কিন্তু তারা কি কি ভুল করে বা কি কি বেদআত করে, এটি বলেন মিয়া ভাই । হাদীস নিয়ে উপহাস করা ঈমান বিধ্বংসী – বলেছেন – উদারহন দিতে পারলেন না । আবার বলেছেন ” আমার মতে আহলে হাদীস যে, একটি ভ্রান্ত দল তা বুঝার জন্য এর চাইতে বেশি দলীল প্রমাণ ও কথার প্রয়োজন পড়ে না। – নিজে এতো জ্ঞানী ভাবছেন তার মানে আপনার মাঝে সমস্যা আছে “

  8. যাদের মধ্যে আহলে হাদীস নিয়ে চুলকানি তারাই অন্ধকারে নিমজ্জিত

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s