আহলে হাদীসদের তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে আহসানুল বয়ানের সিটিস্ক্যান

আহলে হাদীসদের তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে আহসানুল বয়ানের সিটিস্ক্যান ১-২

লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

প্রারম্ভিকা

যে সমস্ত ব্যক্তিরা সারাদিন ফাজায়েলে আমাল আর বেহেস্তী জেওরের দোষ তালাশ করতে ব্যস্ত। সেসব আহলে হাদীসদের হাড়ির খবর জানতে তাফসীরে আহসানুল বয়ান সম্পর্কে প্রবন্ধটি পড়ুন। ইনশাআল্লাহ তাদের ভ্রান্তিতা আর মুর্খতা ও খিয়ানতের পরাকাষ্ঠা দেখতে পাবেন। ইনশাআল্লাহ কয়েক পর্বে এ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হবে।

কুরআনে কারীমের শব্দকে যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কিয়ামত পর্যন্ত হিফাজত করবেন। ঠিক তেমনি এর অর্থ ও তাফসীরকেও হিফাযত করবেন। যুগে যুগে কুরআনের শত্রুরা কুরআনকে বিকৃত করার অপচেষ্টা করেছে। শব্দকে পরিবর্তিত করতে না পারলেও অর্থকে পাল্টে দিয়ে, ব্যাখ্যাকে পাল্টে দিয়ে নিজেদের মনগড়া ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর অপচেষ্টা করেছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তখন উলামায়ে হকের মাধ্যমে সেসবের জবাব দিয়ে কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা ও অর্থকে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন।

আজ আমরা আলোচনা করবো আহলে হাদীস নামধারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং তাদের প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত আহলে হাদীসদের তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে আহসানুল বয়ান” কিতাবের ব্যাপারে । যেটির কুরআনে কারীমের অনুবাদ করেছেন মাওলানা মুহাম্মদ জুনাগরী। আর তাফসীর লিখেছেন গায়রে মুকাল্লিদ হাফেজ সালাহুদ্দীন ইউসুফ।

যেটির বাংলা অনুবাদ করেছেন আরবের দাম্মামে বসে ফিতনা প্রচারকারী জামাত আহলে হাদীসদের কতিপয় নামধারী আলেম। তাদের নাম হল-

১- মুহাম্মদ হাশেম মাদানী। [যুলফী ইসলামিক সেন্টার]

২- সফিউর রহমান রিয়াযী। [মারাত ইসলামিক সেন্টার]

৩- মুসলেহুদ্দীন বুখারী। [হুরাইমালা ইসলামিক সেন্টার]

৪- মুহাম্মদ ইসমাঈল মাদানী। [রুমাহ ইসলামিক সেন্টার]

৫- যাকির হোসেন মাদানী। [রাবওয়াহ ইসলামিক সেন্টার]

৬- শামসুজ্জোহা রহমানী। [তুমাইর ইসলামিক সেন্টার]

৭- হাবীবুর রহমান ফাইযী। [মাজমাআহ ইসলামিক সেন্টার]

যার নেতৃত্বে একাজ সম্পাদন করা হয়, তার নাম হল আব্দুল হামীদ মাদানী। [ইসলামিক সেন্টার, আল-মাজমাআহ,সঊদী আরব।

এ তাফসীর গ্রন্থের শুরুতে আব্দুল হামীদ সাহেব একটি ভূমিকা লিখেছেন। তাতে তিনি বলেন,

“তাফসীর অনেক আছে, কিন্তু সহীহ নির্ভরযোগ্য সালাফী তাফসীর কম। তাই এই মহতি খিদমতের ময়দানে পিছনে পড়ে থাকতে মন তুষ্ট হলো না। সঊদী আরবে কর্মরত দ্বীনের দায়ীদের কাছে প্রস্তাব রাখলাম, বাংলা তাফসীর প্রকাশ করার। নির্ভরযোগ্য সালাফী তাফসীর মওলানা সালাহুদ্দীন ইউসুফ সাহেবের আহসানুল বয়ান। উর্দু ভাষায় “কিং ফাহাদ হোলি কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স” মদীনা নববিয়া হতে প্রকাশিত। সেটির বঙ্গানুবাদ হলেই যথেষ্ট। তাতে মেহনত কম হবে, পদস্খলনও ঘটবে না ইনশাআল্লাহ”।

ভূমিকার প্রথম পৃষ্ঠায় এই হল আব্দুল হামীদ আহলে হাদীস সাহেবের বক্তব্য। ১৮৪৭ ঈসাব্দে জন্ম নেয়া এ নব উদ্ভাবিত বিদআতি দলটির একনিষ্ট অনুসারী আব্দুল হামীদ সাহেব আফসোস করে প্রকাশ করলেন, বাংলায় তাদের মতবাদের কোন তাফসীর গ্রন্থ নেই। [যা আছে তার বেশিরভাগই হক্কানী জামাত আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআত হানাফী দেওবন্দীদের লেখা] তাই তিনি তার ভাষায় উর্দুতে লেখা আহলে হাদীস সালাহুদ্দীন ইউসুফের আহসানুল বয়ানকে আহলে হাদীস মতাদর্শীদের নির্ভরযোগ্য তাফসীর উল্লেখ পূর্বক তার অনুবাদ করতে চাইলেন।

আমরা বক্ষ্যমান প্রবন্ধের পাতায় দেখবো উক্ত তাফসীর গ্রন্থটি কতটা নির্ভরযোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছে। এ তাফসীর গ্রন্থটি কি আল্লাহ ও রাসূলের বাতলে দেয়া মতের নির্ভরযোগ্য তাফসীর? নাকি বিদআতি আহলে হাদীস মতবাদের নির্ভরযোগ্য তাফসীর? আমরা তা যাচাই করবো ইনশাআল্লাহ।

আমাদের কাছে উর্দুতে প্রকাশিত পাকিস্তানের আহলে হাদীসদের প্রকাশনী দারুস সালাম প্রকাশনীর উর্দু এডিশনও রয়েছে, সেই সাথে কিং ফাহাদ হোলি কুরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স প্রকাশিত উর্দু এডিশনও রয়েছে। সেই সাথে বাংলাটিতো আছেই।

তাই আমরা উর্দু এডিশনসহ বাংলা অনুবাদের উপর পর্যালোনা করবো। কারণ বাংলা অনুবাদক বলেছেন, উর্দু অনুবাদটি নাকি তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য। সেই নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার অধিকার নিশ্চয় আমাদের রয়েছে। পাঠকগণ হয়রান হয়ে যাবেন, কি পরিমাণ মুর্খতা আর অজ্ঞতা, সেই সাথে খেয়ানতের আশ্রয় নিয়ে উক্ত তাফসীর গ্রন্থটি সাজানো হয়েছে।

মুর্খতা নং -১

পাকিস্তানের আহলে হাদীস প্রকাশনী দারুস সালাম থেকে প্রকাশিত উর্দু “আহসানুল বয়ানের” ৭ নং পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে যে, এ তাফসীর গ্রন্থটি ১৬/১৭ মাসে লিখা হয়েছে।

ঠিক একই তাফসীর গ্রন্থের ৭৫৮ নং পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে যে, “আলহামদুলিল্লাহ! আজ ২৮শে রজব ১৪১৫ হিজরী ১লা জানুয়ারী ১৯৯৫ ইং সকাল নয়টায় এ তাফসীর গ্রন্থ লেখা শেষ হয়েছে। যার সূচনা ৪ঠা ফেব্রুয়ারী ১৯৯৪ ইং সৌদী আরবে শুরু হয়েছিল।

যদি তাই হয়, তা হল শেষ হচ্ছে কতদিনে? ১১মাসে। আর ৭ম পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে শেষ হয়েছে ১৬/১৭ মাসে। তাহলে মাঝখানে কত মাসের দূরত্ব? ৫/৬ মাসের।

যে ব্যক্তির ৫/৬ মাসের পার্থক্যও বুঝে আসে না এমন জাহিল ব্যক্তি কুরআনে কারীমের কি তাফসীর করবে তা বলাই বাহুল্য।

কেউ হয়তো বলতে পারেন, এটি ভুলে হয়ে গেছে, তাহলে সম্পাদনা পরিশোধ কি করেছিলেন? বারবার প্রকাশ হচ্ছে এ কিতাব, এখনো কিভাবে এ মুর্খতা বিদ্যমান এ গ্রন্থে?

মুর্খতা নং-২

সালাহুদ্দীন ইউসুফ সাহেব উর্দু এডিশনের শুরুতে একটি ভূমিকা লিখেছেন। সেই ভূমিকায় যা ১০ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান। ভূমিকাটি শেষ করার পর লিখেন-

“সালাহুদ্দীন ইউসুফ, জামে আহলে হাদীস, মাদানী রোড, মোস্তাফাবাদ লাহোর। রবিউল আউয়াল ১৫১৬হিজরী মোতাবিক আগষ্ট ১৯৯৫ হিজরী।

এবার পাঠগণ নিজেরাই বলুনতো, রবিউল আউয়াল ১৫১৬ কোথায়? আর আগষ্ট ১৯৯৫ ইং কোথায়? আগষ্ট ১৯৯৫ ইং হিসেবে রবিউল আউয়ালতো ১৫১৬ হিজরী হয় না, হয় ১৪১৬ হিজরী।

মাঝখানে এক শতাব্দির পার্থক্য। যে ব্যক্তি এক শতাব্দীর পার্থক্য জানা নেই, তারিখের ব্যপারেও নেই খবর। এমন ব্যক্তি কি কুরআনে কারীমের কি তাফসীর করবে?

মুর্খতা নং-৩

সূরা ফাতিহার তাফসীর করতে গিয়ে উর্দু এডিশনের ২ নং পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে-

واضح ہواکہ قرآن مجید میں جوآتا ہے (وَاِذَا قُرِئَ الْقُرْاٰنُ فَاسْتَمِعُوْا لَهٗ وَاَنْصِتُوْا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ)7۔ الاعراف:204)۔ جب قرآن پڑھا جائے تو سنو اور خاموش رہو،یاحدیث (واذاقرافانصتوا(بشرط صحت) جب امام قرات کرے توخاموش رہو۔ کا مطلب یہ ہے کہ جہری نمازوں میں مقتدی سورۃ فاتحہ کے علاوہ باقی قرات خاموشی سے سنیں ۔ امام کے ساتھ قرآن نہ پڑھیں ۔

উর্দু ইবারতের বাংলা করা হয়েছে বাংলা অনুবাদে এই শব্দে-

“একথা পরিস্কার হয়ে যায় যে, কুরআনে যে এসেছে, “আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনযোগ দিয়ে শোন এবং নিশ্চুপ থাক”। [আরাফ ২০৪ আয়াত] অনুরূপ এই হাদীস [সহীহ হলে] “যখন ইমাম কুরআন পাঠ করে, তখন চুপ থাক”।এর অর্থ হল জেহরী [সশব্দে কিরাতবিশিষ্ট] নামাযগুলোতে মুক্তাদী সূরা ফাতিহা ব্যতীত বাকি কুরআন পাঠ নিশ্চুপে শুনবে; ইমামের সাথে কুরআন পাঠ করবে না। {তাফসীর আহসানুল বয়ান বাংলা অনুবাদ-১}

এখানে দুটি বিষয় বিদ্যমান। একটি হল খেয়ানত। আরেকটি হল মুর্খতা।

খেয়ানত কি করা হয়েছে?

যে আয়াত এবং হাদীস দলীল হিসেবে উপস্থাপন করা হল, এবং যে হাদীস উপস্থাপন করা হল, সেখানের কোথাও একথার স্পষ্টতা নেই যে, সশব্দে কিরাতবিশিষ্ট নামাযে মুক্তাদী সূরা ফাতিহা ব্যতিত বাকি কুরআন পাঠ নিশ্চুপে শুনবে; ইমামের সাথে কুরআন পাঠ করবে না।

বরং কুরআন ও হাদীসের মাঝে মুতলাকানভাবে কুরআন পাঠকে নিষেধ করা হয়েছে। যার দ্বারা মুক্তাদীর জন্য সূরা ফাতিহা পড়ার নিষিদ্ধতাও প্রমাণিত হচ্ছে। কিন্তু চালাকী করে কথিত তাফসীরকার কুরআনের অপব্যাখ্যা করে নিজের পক্ষ থেকে বলে দিলেন এখানে কুরআন বলতে বলতে জেহরী কিরাত তথা জোরে কেরাত পড়ার বিষয় বলা হয়েছে। অথচ কুরআনের উক্ত আয়াত ও হাদীসের কোথাও জোরে কিরাতের কথা উল্লেখ নেই।

নিজের মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য কুরআনে কারীমের অর্থের সাথে মনগড়া কথা বাড়িয়ে দেয়ার নাম খিয়ানত নয়তো কি?

মুর্খতা কি আছে?

আহলে হাদীস নামধারী এই তাফসীরকার এবং অনুবাদকারী জাহিল আহলে হাদীসগণ হাদীসটি উল্লেখপূর্বক ব্রেকেটে মন্তব্য করেছেন “হাদীসটি সহীহ হলে”।

সন্দেহ প্রকাশ করে পাঠকদের ধোঁকা দিতে চেয়েছেন যে, বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয় কি না তা নির্দিষ্ট নয়।

আসুন আমরা দেখি উক্ত হাদীসটির মানের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিস ইমাম মুসলিম রহঃ কি বলেন?

هُوَ صَحِيحٌ يَعْنِي وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا فَقَالَ: هُوَ عِنْدِي صَحِيحٌ

১-   ইমাম মুসলিম রহঃ বলেন, উক্ত হাদীসটি আমার কাছে সহীহ। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪০৯}

২-    গায়রে মুকাল্লিদদের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস নাসীরুদ্দীন আলবানী বলেন, হাদীসটি সহীহ। {সহীহ আবু দাউদ, বর্ণনা নং-৬০৪}

৩-   প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ইবনে হাযাম রহঃ বলেন, হাদীসটি সহীহ। {আলমুহাল্লা-৩/২৪০}

৪-   ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ বলেন, হাদীসটি সহীহ। {আলইস্তিজকার-১/৫১০}

৫-   ইবনে আব্দিল বার রহঃ বলেন, হাদীসটি সহীহ। {আততামহীদ-১১/৩৩}

এতগুলো মুহাদ্দিস যেখানে হাদীসটিকে সহীহ বলছেন। যেখানে তাদের অন্ধ অনুসরনীয় নাসীরুদ্দীন আলবানী পর্যন্ত একাধিক কিতাবে হাদীসটিকে সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন, সেখানে কথিত তাফসীরকার এবং কথিত আহলে হাদীস অনুবাদকবৃন্দ হাদীসটিকে পাঠকদের সামনে সন্দিহান করে তুলতে মন্তব্য করে দিলেন হাদীসটি “সহীহ হলে”।

হাদীস সহীহ না জঈফ একথা যারা জানে না, তারা নিজেরা কিভাবে নিজেদের আহলে হাদীস বলে দাবি করে? একথা আমাদের বোধগম্য নয়।

মুর্খতা নং-৪

সূরা নামলের ৪৫ ও ৪৬ নং আয়াতের অনুবাদ আমরা প্রথমে বাংলা আহসানুল বয়ান থেকে দেখে নেই-

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ (45) قَالَ يَا قَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ (46)

[৪৫] আমি অবশ্যই সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম, এ আদেশসহ যে, তোমরা আল্লাহর উপসনা কর, কিন্তু ওরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হল।

[৪৬] সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছ? কেন তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছো না; যাতে তোমরা করুণার পাত্র হতে পার?

এই হল আয়াতও অর্থ। যার দ্বারা একজন সাধারণ পাঠকগণও বুঝতে সক্ষম এখানে হযরত সালেহ আঃ নবী। আর তার সম্প্রদায়ের নাম হল সামুদ। হযরত সালেহ আঃ তার কওম সামুদকে সতর্ক করছেন। কিন্তু জাহিল তাফসীরকার সালাহুদ্দীন ইউসুফ দারুস সালাম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত মূল উর্দু তাফসীরে কি তাফসীর করেছেন জানেন? দেখুন, তিনি লিখেছেন-

یعنی ایمان قبول کرنے کی بجائے، تم کفر پر  اصرار کر رہے ہو، جو عذاب کا باعث ہے۔ علاوہ ازیں اپنے عناد و سرکشی کی وجہ سے کہتے بھی تھے کہ ہم پر عذاب لے آ۔ جس کے جواب میں حضرت ثمود نے یہ کہا۔

অনুবাদ- অর্থাৎ তোমরা ঈমান আনার পরিবর্তে কুফরীর উপর চলতে চাচ্ছ, যা আযাবের কারণ হবে। এছাড়া তাদের অবাধ্যতা ও ঔদ্ধত্বের কারণে তারা বলতো আমাদের উপর আযাব নিয়ে আস। যার জবাবে হযরত সামুদ একথাগুলো বললেন। {তাফসীরে আহসানুল বয়ান, উর্দু, প্রকাশনী-দারুস সালাম, সূরা নমল, আয়াত নং-৪৫-৪৬, টিকা নং-৭}

কেউ হয়তো বলবেন, লোকটি ভুলে এমনটি করেছেন। আচ্ছা, তাহলে মানুষ ভুল কয়বার করে?

এই আহসানুল বয়ানেরই ৪৯৯ নং পৃষ্ঠায় টিকা নং ১ এ হযরত সালেহ আঃ এর বদলে লিখেছেন, “হযরত সামুদ বলেছেন”।

শুধু তাই নয়, এ তাফসীরের ৪২১ নং পৃষ্ঠায়ও সূরা আম্বিয়ার ৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

بَلْ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الْأَوَّلُونَ (5)

যার উর্দু অনুবাদ করা হয়েছে আহসানুল বয়ানের দারুস সালাম প্রকাশনীর ৪২১ নং পৃষ্ঠায় এবং কিং ফাহাদ প্রকাশনীর ৮৮৪ পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত শব্দে-

اتنا ہی نہیں بلکہ یہ کہتے ہیں کہ یہ قرآن حیران کن خوابوں کا مجموعہ ہے بلکہ اس نے از خود اسے گھڑ لیا بلکہ یہ شاعر (١) ہے، ورنہ ہمارے سامنے یہ کوئی ایسی نشانی لاتے جیسے اگلے پیغمبر بھیجے گئے (٢) تھے

এতটুকুই নয়, বরং ওরা বলল, ‘এ কুরআন হল আবোল তাবোল স্বপ্ন; বরং সে তা উদ্ভাবন করেছেন, বরং তিনি একজন কবি। অতএব সে আমাদের নিকট এমন নিদর্শন আনুক, যেমন নিদর্শনসহ পূর্ববর্তী নবীদের পাঠানো হয়েছে। {সূরা আম্বিয়া-৫}

এ আয়াতে কি বলা হল? রাসূল সাঃ এর উপর নাজিলকৃত কুরআনের ব্যাপারে মক্কার কাফেররা সন্দিহান হয়ে বলতে লাগল যে, রাসূল সাঃ যেন এমন নিদর্শন নিয়ে আসেন, যেমন পূর্ববর্তী নবীগন নিয়ে এসেছেন,

পূর্ববর্তীগণ নবীগন কি নিদর্শন এনেছেন? একথা বুঝাতে তাফসীরকার দারুস সালাম প্রকাশনীর উক্ত পৃষ্ঠার ৭ নং টিকায় আর কিং ফাহাদ প্রকাশনীর ২ নং টিকায় লিখেন-

یعنی جس طرح ثمود کے لئے اونٹنی، موسیٰ علیہ السلام کے لئے عصا اور ید بیضا وغیرہ

“অর্থাৎ যেমন সামুদের জন্য উটনী, আর মুসা আঃ এর জন্য লাঠি ও সাদা হাত ইত্যাদি”।

এবার কী বলবেন পাঠক? ভুল কয়বার হয় মানুষ থেকে? কোথায় নবী সালেহ আঃ, আর কোথায় তার জাতি সামুদ। জাতিকেই বানিয়ে দিলেন নবী নাউজুবিল্লাহ। এক স্থানে হলে আমরা মেনে নিতাম ভুলে করেছেন। কিন্তু বারবার?

অথচ আল্লাহ তাআলা সামুদ জাতিকে কাফের বলে সম্বোধন করেছেন সূরা হুদের ৬৮ নং আয়াতে।

কাফের সামুদ জাতিকে একবার নয়, তিনবার নবী বলে সম্বোধনকারী ব্যক্তিও নাকি তাফসীরকার?!

আল্লাহ তাআলা এমন বেখবর মুফাসসির থেকে উম্মতে মুসলিমাকে হিফাযত করুন।

এ ভুল বুঝতে পেরে বাংলা অনুবাদের ৫৬৩ পৃষ্ঠার ৭ নং টিকায় অনুবাদকারীরা নিজের পক্ষ থেকে “জাতি” শব্দ বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ মূল উর্দুর দারুস সালাম প্রকাশনী এবং কিং ফাহাদ প্রকাশনীর কোথাও “জাতি” শব্দ নেই। সেখানে পূর্ববর্তী পয়গম্বরদের কথা বলতে গিয়ে দুইজনের নাম নিয়েছে, প্রথমে সামুদের জন্য উটনী তারপর হযরত হযরত মুসা আঃ এর জন্য লাঠি ও সাদা হাত।

তাহলে তাদের কাছে সামুদ নবী নাউজুবিল্লাহ!

এরকম মারাত্মক ভুল যে কিতাবে আছে, সেটিকে বাংলা অনুবাদকারীদের প্রধান আব্দুল হামীদ বলেছেন নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ। আসলেই নির্ভরযোগ্য। তবে মুহাক্কিকদের কাছে নয়। অন্ধ আহলে হাদীসদের কাছে এরকম তাফসীর গ্রন্থ নির্ভরযোগ্য থাকতে পারে।

এরকম মারাত্মক ভুল কথা বলার পরও আমরা এটিকে মুর্খতা বলে ছেড়ে দিলাম। কিন্তু যদি এমন কোন ভুল কথা আমাদের উলামায়ে দেওবন্দের কিতাবে থাকতো, তাহলে কি সব শব্দ তাউসীফুর রহমান, মেরাজ রব্বানী আর মতিউর রহমান মাদানীরা বলে থাকেন, তা আশা করি পাঠকরা অবগত।

মুর্খতা নং-৫

গায়রে মুকাল্লিদদের প্রকাশনী দারুস সালাম প্রকাশনী পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত “আহসানুল বয়ান” এর ৬৩০ নং পৃষ্ঠার ৬ নং টিকায় কি লেখা হয়েছে তা আমরা দেখবো। ২৪ পারা সূরা হা মীম সেজদার ৪৩ নং আয়াতের শেষাংশ-

إِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ وَذُو عِقَابٍ أَلِيمٍ (43)

অনুবাদ-নিশ্চয় আপনার রব ক্ষমাকারী এবং কষ্টদায়ক শাস্তিদাতা। {সূরা হা-মীম সাজদা-৪৩}

এ আয়াতের তাফসীরে লিখা হয়েছে-

ان کے لئے جو کافر اور اللہ کے پیغمبروں کے دشمن ہیں۔ یہ آیت بھی سورہ نمل کی آیت نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ (49) وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ (50) کی طرح ہے

সূরা হিজরের ৪৯ ও ৫০ নং আয়াতকে বলা হয়েছে সূরা নামলের আয়াত। {আহসানুল বয়ান, প্রকাশনী দারুস সালাম, পাকিস্তান, পৃষ্ঠা নং-৬৩০, টিকা নং-৬}

কিং ফাহাদ প্রকাশনী এবং বাংলা প্রকাশনীর লোকেরা এ ভুল শুধরে নিয়েছেন।

যে ব্যক্তি একথাই জানে না এ আয়াত কোন সূরার? সূরা নামলের না সূরা হিজরের? এরকম অজ্ঞ ব্যক্তির তাফসীরই নাকি আব্দুল হামীদ আহলে হাদীসদের কাছে খুবই নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। সাবাশ এ নির্ভরযোগ্যতার। সাবাশ এ অন্ধ তাকলীদের।

মুর্খতা নং-৬

এ তাফসীরের ৭ নং পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে-

যার অনুবাদ হল, “উর্দুতে আল্লাহর স্থলে খোদা শব্দ লেখা ও বলায় আম হয়ে গেছে। তবে মূলত এ শব্দ ফার্সি ভাষার। আর পারস্যে অগ্নিপূজকদের মাঝে এ শব্দ বিশেষ করে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যারা দুই খোদার প্রবক্তা। একজনকে “আহরামান” আর দ্বিতীয়জনকে “ইয়াজদাহ” বলা হয়। এ কারণে এ শব্দ মূলত অগ্নিপূজকদের দুই খোদা হওয়ার আকিদার সৃষ্টি। তাই তাওহীদবাদীরা খোদা শব্দ ব্যবহার না করে আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করাই উচিত। এটি উত্তমও আবার সওয়াবের কারণও।

যাইহোক, এ সংক্ষিপ্ত তাফসীরের বৈশিষ্ট এটাও যে, এখানে চেষ্টা করা হয়েছে যেন, তারকীব পাল্টে যাওয়ার শংকা যেখানে আছে সেখানে ছাড়া আর কোথাও ব্যবহৃত না হয়। এর সাথে যে অনুবাদ দেয়া হয়েছে, সেটি মুহাম্মদ জুনাগরী সাহেবের। যা ইবনে কাসীরের অনুবাদের সাথে রয়েছে। {আহসানুল বয়ান, প্রকাশনী দারুস সালাম পাকিস্তান, পৃষ্ঠা নং-৭}

দাগ দেয়া অংশটি ভাল করে পড়ুন।

এখানে তাফসীরকার দুটি কথা বলেছেন। যথা-

১-মাওলানা জুনাগরী সাহেব তার অনুবাদে খোদা লেখেছেন। আর সালাহুদ্দীন ইউসুফ খোদার স্থলে আল্লাহ লিখেছেন।

২- তারকীব পাল্টে যাওয়ার ভয় যেখানে নেই, সেখানে খোদার স্থলে আল্লাহ লেখা হয়েছে। কিন্তু যেখানে তারকীব পাল্টে যাওয়ার ভয় নেই সেখানে পাল্টানো হয়নি।

প্রথম কথার ক্ষেত্রে আমাদের প্রশ্ন হল, যদি খোদা শব্দের মাঝে দুই খোদার আকিদা বিদ্যমান, এতে শিরক থাকে, তাহলে যে জুনাগরী সাহেবের অনুবাদের উপর ভিত্তি করে তারা তাফসীর লিখেছেন। সেই জুনাগরী সাহেব খোদা শব্দের মাঝে শিরক আছে একথা জানেন না? দুই খোদার আকিদা রয়েছে এ ব্যাপারে জাহিল ছিলেন? দুই খোদার আকিদার শব্দ ব্যবহারকারী, শিরকী শব্দ ব্যবহারকারী এরকম ব্যক্তির অনুবাদকে ভিত্তি বানিয়ে তাফসীর কি কোন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী লিখতে পারে?

দ্বিতীয় কথার ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হল, লেখা হয়েছে- “এখানে চেষ্টা করা হয়েছে যেন, তারকীব পাল্টে যাওয়ার শংকা যেখানে আছে সেখানে ছাড়া আর কোথাও ব্যবহৃত না হয়”।

তাহলে যেখানে তারকীব পাল্টে যাওয়ার ভয় আছে, সেখানে তাদের বক্তব্য অনুপাতে দুই খোদার আকিদাগত শব্দ এবং শিরকী শব্দ ব্যবহার জায়েজ হয়ে গেছে? তারকীব রক্ষার্থে শিরকী কথা বলা জায়েজ?

তাহলে কি বুঝা গেল? আহলে হাদীস ভাইদের কাছে, বাক্যের তারকীব রক্ষার্থে শিরক করা জায়েজ? নাউজুবিল্লাহ!

এরকম তাফসীরকারের তাফসীরই আহলে হাদীস আব্দুল হামীদ সাহেবের কাছে নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থের প্রণেতা!

এতক্ষণ আমরা আহসানুল বয়ানের তাফসীরকারের মুর্খতা নিয়ে কথা বললাম। এবার আমরা আলোচনা করবো, আহসানুল বয়ান তাফসীরের খেয়ানত ও ধোঁকাবাজী সম্পর্কে।

পর্ব-২

মুর্খতা নং-৪

সূরা নামলের ৪৫ ও ৪৬ নং আয়াতের অনুবাদ আমরা প্রথমে বাংলা আহসানুল বয়ান থেকে দেখে নেই-

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ فَإِذَا هُمْ فَرِيقَانِ يَخْتَصِمُونَ (45) قَالَ يَا قَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ (46)

[৪৫] আমি অবশ্যই সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম, এ আদেশসহ যে, তোমরা আল্লাহর উপসনা কর, কিন্তু ওরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হল।

[৪৬] সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছ? কেন তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছো না; যাতে তোমরা করুণার পাত্র হতে পার?

এই হল আয়াতও অর্থ। যার দ্বারা একজন সাধারণ পাঠকগণও বুঝতে সক্ষম এখানে হযরত সালেহ আঃ নবী। আর তার সম্প্রদায়ের নাম হল সামুদ। হযরত সালেহ আঃ তার কওম সামুদকে সতর্ক করছেন। কিন্তু জাহিল তাফসীরকার সালাহুদ্দীন ইউসুফ দারুস সালাম প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত মূল উর্দু তাফসীরে কি তাফসীর করেছেন জানেন? দেখুন, তিনি লিখেছেন-

 

یعنی ایمان قبول کرنے کی بجائے، تم کفر پر  اصرار کر رہے ہو، جو عذاب کا باعث ہے۔ علاوہ ازیں اپنے عناد و سرکشی کی وجہ سے کہتے بھی تھے کہ ہم پر عذاب لے آ۔ جس کے جواب میں حضرت ثمود نے یہ کہا۔

 

অনুবাদ- অর্থাৎ তোমরা ঈমান আনার পরিবর্তে কুফরীর উপর চলতে চাচ্ছ, যা আযাবের কারণ হবে। এছাড়া তাদের অবাধ্যতা ও ঔদ্ধত্বের কারণে তারা বলতো আমাদের উপর আযাব নিয়ে আস। যার জবাবে হযরত সামুদ একথাগুলো বললেন। {তাফসীরে আহসানুল বয়ান, উর্দু, প্রকাশনী-দারুস সালাম, সূরা নমল, আয়াত নং-৪৫-৪৬, টিকা নং-৭}

কেউ হয়তো বলবেন, লোকটি ভুলে এমনটি করেছেন। আচ্ছা, তাহলে মানুষ ভুল কয়বার করে?

এই আহসানুল বয়ানেরই ৪৯৯ নং পৃষ্ঠায় টিকা নং ১ এ হযরত সালেহ আঃ এর বদলে লিখেছেন, “হযরত সামুদ বলেছেন”।

শুধু তাই নয়, এ তাফসীরের ৪২১ নং পৃষ্ঠায়ও সূরা আম্বিয়ার ৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

بَلْ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الْأَوَّلُونَ (5)

যার উর্দু অনুবাদ করা হয়েছে আহসানুল বয়ানের দারুস সালাম প্রকাশনীর ৪২১ নং পৃষ্ঠায় এবং কিং ফাহাদ প্রকাশনীর ৮৮৪ পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত শব্দে-

اتنا ہی نہیں بلکہ یہ کہتے ہیں کہ یہ قرآن حیران کن خوابوں کا مجموعہ ہے بلکہ اس نے از خود اسے گھڑ لیا بلکہ یہ شاعر (١) ہے، ورنہ ہمارے سامنے یہ کوئی ایسی نشانی لاتے جیسے اگلے پیغمبر بھیجے گئے (٢) تھے

এতটুকুই নয়, বরং ওরা বলল, ‘এ কুরআন হল আবোল তাবোল স্বপ্ন; বরং সে তা উদ্ভাবন করেছেন, বরং তিনি একজন কবি। অতএব সে আমাদের নিকট এমন নিদর্শন আনুক, যেমন নিদর্শনসহ পূর্ববর্তী নবীদের পাঠানো হয়েছে। {সূরা আম্বিয়া-৫}

এ আয়াতে কি বলা হল? রাসূল সাঃ এর উপর নাজিলকৃত কুরআনের ব্যাপারে মক্কার কাফেররা সন্দিহান হয়ে বলতে লাগল যে, রাসূল সাঃ যেন এমন নিদর্শন নিয়ে আসেন, যেমন পূর্ববর্তী নবীগন নিয়ে এসেছেন,

পূর্ববর্তীগণ নবীগন কি নিদর্শন এনেছেন? একথা বুঝাতে তাফসীরকার দারুস সালাম প্রকাশনীর উক্ত পৃষ্ঠার ৭ নং টিকায় আর কিং ফাহাদ প্রকাশনীর ২ নং টিকায় লিখেন-

یعنی جس طرح ثمود کے لئے اونٹنی، موسیٰ علیہ السلام کے لئے عصا اور ید بیضا وغیرہ

“অর্থাৎ যেমন সামুদের জন্য উটনী, আর মুসা আঃ এর জন্য লাঠি ও সাদা হাত ইত্যাদি”।

এবার কী বলবেন পাঠক? ভুল কয়বার হয় মানুষ থেকে? কোথায় নবী সালেহ আঃ, আর কোথায় তার জাতি সামুদ। জাতিকেই বানিয়ে দিলেন নবী নাউজুবিল্লাহ। এক স্থানে হলে আমরা মেনে নিতাম ভুলে করেছেন। কিন্তু বারবার?

অথচ আল্লাহ তাআলা সামুদ জাতিকে কাফের বলে সম্বোধন করেছেন সূরা হুদের ৬৮ নং আয়াতে।

কাফের সামুদ জাতিকে একবার নয়, তিনবার নবী বলে সম্বোধনকারী ব্যক্তিও নাকি তাফসীরকার?!

আল্লাহ তাআলা এমন বেখবর মুফাসসির থেকে উম্মতে মুসলিমাকে হিফাযত করুন।

এ ভুল বুঝতে পেরে বাংলা অনুবাদের ৫৬৩ পৃষ্ঠার ৭ নং টিকায় অনুবাদকারীরা নিজের পক্ষ থেকে “জাতি” শব্দ বাড়িয়ে দিয়েছেন। অথচ মূল উর্দুর দারুস সালাম প্রকাশনী এবং কিং ফাহাদ প্রকাশনীর কোথাও “জাতি” শব্দ নেই। সেখানে পূর্ববর্তী পয়গম্বরদের কথা বলতে গিয়ে দুইজনের নাম নিয়েছে, প্রথমে সামুদের জন্য উটনী তারপর হযরত হযরত মুসা আঃ এর জন্য লাঠি ও সাদা হাত।

তাহলে তাদের কাছে সামুদ নবী নাউজুবিল্লাহ!

এরকম মারাত্মক ভুল যে কিতাবে আছে, সেটিকে বাংলা অনুবাদকারীদের প্রধান আব্দুল হামীদ বলেছেন নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থ। আসলেই নির্ভরযোগ্য। তবে মুহাক্কিকদের কাছে নয়। অন্ধ আহলে হাদীসদের কাছে এরকম তাফসীর গ্রন্থ নির্ভরযোগ্য থাকতে পারে।

এরকম মারাত্মক ভুল কথা বলার পরও আমরা এটিকে মুর্খতা বলে ছেড়ে দিলাম। কিন্তু যদি এমন কোন ভুল কথা আমাদের উলামায়ে দেওবন্দের কিতাবে থাকতো, তাহলে কি সব শব্দ তাউসীফুর রহমান, মেরাজ রব্বানী আর মতিউর রহমান মাদানীরা বলে থাকেন, তা আশা করি পাঠকরা অবগত।

মুর্খতা নং-৫

গায়রে মুকাল্লিদদের প্রকাশনী দারুস সালাম প্রকাশনী পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত “আহসানুল বয়ান” এর ৬৩০ নং পৃষ্ঠার ৬ নং টিকায় কি লেখা হয়েছে তা আমরা দেখবো। ২৪ পারা সূরা হা মীম সেজদার ৪৩ নং আয়াতের শেষাংশ-

إِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ وَذُو عِقَابٍ أَلِيمٍ (43)

অনুবাদ-নিশ্চয় আপনার রব ক্ষমাকারী এবং কষ্টদায়ক শাস্তিদাতা। {সূরা হা-মীম সাজদা-৪৩}

এ আয়াতের তাফসীরে লিখা হয়েছে-

ان کے لئے جو کافر اور اللہ کے پیغمبروں کے دشمن ہیں۔ یہ آیت بھی سورہ نمل کی آیت نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ (49) وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ (50) کی طرح ہے

সূরা হিজরের ৪৯ ও ৫০ নং আয়াতকে বলা হয়েছে সূরা নামলের আয়াত। {আহসানুল বয়ান, প্রকাশনী দারুস সালাম, পাকিস্তান, পৃষ্ঠা নং-৬৩০, টিকা নং-৬}

কিং ফাহাদ প্রকাশনী এবং বাংলা প্রকাশনীর লোকেরা এ ভুল শুধরে নিয়েছেন।

যে ব্যক্তি একথাই জানে না এ আয়াত কোন সূরার? সূরা নামলের না সূরা হিজরের? এরকম অজ্ঞ ব্যক্তির তাফসীরই নাকি আব্দুল হামীদ আহলে হাদীসদের কাছে খুবই নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। সাবাশ এ নির্ভরযোগ্যতার। সাবাশ এ অন্ধ তাকলীদের।

মুর্খতা নং-৬

এ তাফসীরের ৭ নং পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে-

যার অনুবাদ হল, “উর্দুতে আল্লাহর স্থলে খোদা শব্দ লেখা ও বলায় আম হয়ে গেছে। তবে মূলত এ শব্দ ফার্সি ভাষার। আর পারস্যে অগ্নিপূজকদের মাঝে এ শব্দ বিশেষ করে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যারা দুই খোদার প্রবক্তা। একজনকে “আহরামান” আর দ্বিতীয়জনকে “ইয়াজদাহ” বলা হয়। এ কারণে এ শব্দ মূলত অগ্নিপূজকদের দুই খোদা হওয়ার আকিদার সৃষ্টি। তাই তাওহীদবাদীরা খোদা শব্দ ব্যবহার না করে আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করাই উচিত। এটি উত্তমও আবার সওয়াবের কারণও।

যাইহোক, এ সংক্ষিপ্ত তাফসীরের বৈশিষ্ট এটাও যে, এখানে চেষ্টা করা হয়েছে যেন, তারকীব পাল্টে যাওয়ার শংকা যেখানে আছে সেখানে ছাড়া আর কোথাও ব্যবহৃত না হয়। এর সাথে যে অনুবাদ দেয়া হয়েছে, সেটি মুহাম্মদ জুনাগরী সাহেবের। যা ইবনে কাসীরের অনুবাদের সাথে রয়েছে। {আহসানুল বয়ান, প্রকাশনী দারুস সালাম পাকিস্তান, পৃষ্ঠা নং-৭}

 

দাগ দেয়া অংশটি ভাল করে পড়ুন।

এখানে তাফসীরকার দুটি কথা বলেছেন। যথা-

১-মাওলানা জুনাগরী সাহেব তার অনুবাদে খোদা লেখেছেন। আর সালাহুদ্দীন ইউসুফ খোদার স্থলে আল্লাহ লিখেছেন।

২- তারকীব পাল্টে যাওয়ার ভয় যেখানে নেই, সেখানে খোদার স্থলে আল্লাহ লেখা হয়েছে। কিন্তু যেখানে তারকীব পাল্টে যাওয়ার ভয় নেই সেখানে পাল্টানো হয়নি।

প্রথম কথার ক্ষেত্রে আমাদের প্রশ্ন হল, যদি খোদা শব্দের মাঝে দুই খোদার আকিদা বিদ্যমান, এতে শিরক থাকে, তাহলে যে জুনাগরী সাহেবের অনুবাদের উপর ভিত্তি করে তারা তাফসীর লিখেছেন। সেই জুনাগরী সাহেব খোদা শব্দের মাঝে শিরক আছে একথা জানেন না? দুই খোদার আকিদা রয়েছে এ ব্যাপারে জাহিল ছিলেন? দুই খোদার আকিদার শব্দ ব্যবহারকারী, শিরকী শব্দ ব্যবহারকারী এরকম ব্যক্তির অনুবাদকে ভিত্তি বানিয়ে তাফসীর কি কোন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী লিখতে পারে?

দ্বিতীয় কথার ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হল, লেখা হয়েছে- “এখানে চেষ্টা করা হয়েছে যেন, তারকীব পাল্টে যাওয়ার শংকা যেখানে আছে সেখানে ছাড়া আর কোথাও ব্যবহৃত না হয়”।

তাহলে যেখানে তারকীব পাল্টে যাওয়ার ভয় আছে, সেখানে তাদের বক্তব্য অনুপাতে দুই খোদার আকিদাগত শব্দ এবং শিরকী শব্দ ব্যবহার জায়েজ হয়ে গেছে? তারকীব রক্ষার্থে শিরকী কথা বলা জায়েজ?

তাহলে কি বুঝা গেল? আহলে হাদীস ভাইদের কাছে, বাক্যের তারকীব রক্ষার্থে শিরক করা জায়েজ? নাউজুবিল্লাহ!

এরকম তাফসীরকারের তাফসীরই আহলে হাদীস আব্দুল হামীদ সাহেবের কাছে নির্ভরযোগ্য তাফসীর গ্রন্থের প্রণেতা!

এতক্ষণ আমরা আহসানুল বয়ানের তাফসীরকারের মুর্খতা নিয়ে কথা বললাম। এবার আমরা আলোচনা করবো, আহসানুল বয়ান তাফসীরের খেয়ানত ও ধোঁকাবাজী সম্পর্কে।

চলবে ইনশাআল্লাহ

http://jamiatulasad.com/

One thought on “আহলে হাদীসদের তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে আহসানুল বয়ানের সিটিস্ক্যান

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s