আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব-২

আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব-২

(জবাব দিচ্ছেন মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী)

বারবার গোনাহ করলে তা আর মাফ হয় না?

প্রশ্ন

প্রশ্নকর্তা-সেলিম আহমাদ,

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্

আমি একজন অনার্স পড়ুয়া ছাত্র। বাহ্যিক সুরতে আমি সুন্নাতের উপর চলতেছি। আমি গত অনেকদিন যাবত একটি  স্পষ্ট কবীরা গোনাহ(আমি জানতাম এটি কবীরা গোনাহ) করেছি। যখন আমি গোনাহটা করেছি তখন আমার মনে এই চিন্তাও কাজ করত যে, আমি যা করছি তা একটা মারাত্বক গোনাহ্ এবং এর জন্য আমাকে আল্লাহর কাছে জবাদিহী করতে হবে। কিন্তু তারপরেও আমি কেন যেন গোনাহটা করেই ফেলেছি। আবার গোনাহটা করার পরপরই নিজের উপর ভীষণ রাগ হয়েছি যে, কেন আমি এই কাজটা করলাম এমনকি নিজেকে শারীরীক কষ্টও দিয়েছি। কিন্তু তার কিছুদিন পর ঐ একই কাজ আবার করেছি পূর্বের মত। এখন তওবা করার কথা চিন্তা করলে মনে করি, নফসের গোলামী করে যে গোনাহ বারে বারে ইচ্ছা করে  করেছি সেই গোনাহ্ কী আল্লাহ মাফ করবেন। বার বার একই গোনাহ করার কারনে এখন আমি নিজের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছি যে, আমাকে দ্বারা দ্বীন মানা সম্ভব নয় কারন যে ব্যাক্তি ইচ্ছা করে একই পথে বারবার আল্লাহর নাফরমানী করে তার দ্বারা তো দ্বীন মানা সম্ভব নয় ।  এখন আমার প্রশ্ন হল আল্লাহর কাছ থেকে আমার এই গোনাহর মাফ পাওয়ার কী কোন পথ/পদ্ধতি খোলা আছে?(যেহেতু গোনাহটা আমি পরপর অনেকবার করেছি তাও আবার জেনে শুনে) নাকি এইরকম জঘন্য কাজ করার কারনে সারাজীবন গোনাহগার হয়েই থাকতে হবে? যদি উত্তর দিতেন তাহলে হয়তো এই গোনাহগারের কিছুটা উপকার হত।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

গোনাহের কাজ করে মনে খারাপ লাগা, আফসোস আসা এটা ঈমানের আলামত। গোনাহ করে খারাপ না লাগাটা ঈমানহীনতার আলামত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا الْإِيمَانُ قَالَ إِذَا سَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ وَسَاءَتْكَ سَيِّئَتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا الْإِثْمُ قَالَ إِذَا حَاكَ فِي نَفْسِكَ شَيْءٌ فَدَعْهََََُ

হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূল সাঃ কে জিজ্ঞাসা করল, “ঈমান”কি? রাসূল সাঃ বললেনঃ যখ তোমার নেক কাজ তোমাকে আনন্দিত করে, আর গোনাহের কাজ তোমাকে পেরেশান করে তাহলে তুমি মুমিন। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করেঃ তাহলে গোনাহ কি? তিনি বললেনঃ যখন তোমার মনে কোন বিষয় নিয়ে সংশয় হয়,তাহলে তা ছেড়ে দাও। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২১৬৬, মুসনাদুল হারেস, হাদীস নং-১১, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-২৩৩, আলমুজামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৫৪০}

সুতরাং আপনার যেহেতু গোনাহের কাজটি করার সময়ই খারাপ লাগছিল, তারপর ও আফসোস লেগেছে তাহলে এটি সাচ্চা ঈমানের আলামত নবীর ভাষায়।

তবে বারবার একই গোনাহ করাটা কোন ভাল কাজ নয়। আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা করুন আর যেন কখনো এমন কাজ না হয় আপনার জীবনে।

তওবা করার পদ্ধতি

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا [٤:١٧] وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا [٤:١٨]

অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন,যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে,অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, রহস্যবিদ।

আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়,তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। {সূরা নিসা-১৭-১৮}

তওবা করার পদ্ধতি হল-

সুতরাং বুঝা গেল গোনাহ করে ফেললে মাফ করানোর পদ্ধতি হল খালেস দিলে তওবা করা। তওবা সহীহ হবার জন্য ৩টি শর্ত। যথা-

১-সাথে সাথে গোনাহের কাজটি ছেড়ে দিতে হবে।

২-ভবিষ্যতে এই গোনাহটি না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

৩-গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

এই ৩টি শর্ত পাওয়া গেলে তওবা সঠিক হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে।

عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم لا يلج النار رجل بكي من خشية الله حتى يعود اللبن في الضرع ولا يجتمع غبار في سبيل الله ودخان جنهم

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন-“যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে সে ব্যক্তিকে (জাহান্নামের) অগ্নি স্পর্শ করা সম্ভব নয় যদিও দোহনকৃত দুধ উলানে ফিরানো সম্ভব হয়। আর জাহান্নামের ধোঁয়া এবং আল্লাহর পথে (চলার কারণে) উড়ন্ত ধুলি কখনো একসাথে হতে পারেনা। (নাসায়ী শরীফ, হাদিস নং-৩১০৮, সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-১৬৩৩, ২৩১১, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪২৭)

বারবার গোনাহ করে তওবা বারবার কি আল্লাহ মাফ করবেন?

হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ বলতেনঃ যে ব্যক্তি এটা মনে করে যে, তার গোনাহ এত বেশি যে, আল্লাহ এটা ক্ষমা করবেন না। এমন ধারণাকারী দাম্ভিক ও অহংকারী। কারণ সে নিজেকে এত বড় মনে করে যে, তার গোনাহ ক্ষমা করার মত ক্ষমতাবান আল্লাহ তাআলাকে মনে করে না। তার গোনাহকে বড় মনে হয়, আল্লাহর রহমতকে তার তুলনায় ছোট মনে হয়।

তাই আল্লাহর রহমতকে বড় মনে করতে হবে। গোনাহ করে নিজের গোনাহকে বড় ও ক্ষমার অযোগ্য মনে করে তওবা না করাটা শয়তানের ওয়াসওয়াসা। তাই আপনি এ ধারণা থেকে ফিরে আসুন। গোনাহ হওয়ার সাথে সাথেই ক্ষমা চান আল্লাহর দরবারে। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা আপনার গোনাহকে মাফ করে দিবেন।

والله اعلم بالصواب

গীবত করা কখন জায়েজ কখন নাজায়েজ?

প্রশ্ন

নামঃ আব্দুর রহমান

দেশঃ বাংলাদেশ

বিষয়ঃ গীবত ও পরনিন্দা

প্রশ্নঃ আমরা জানি, গীবত বা পরনিন্দা করা একটি বড় গুনাহের কাজ। ধরলাম একজন মানুষ অত্যন্ত লম্পট প্রকৃতির ও দুর্নীতিবাজ। এখন যদি অপর কাউকে তার এই দুর্নীতি বা দুশ্চরিত্রের কথা (যা একেবারেই সত্য) যদি বলে দেয়া হয়.. স্বেচ্ছায় অথবা অপর কারো প্রশ্নের জবাবে… তাহলে কি এটা গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে? কোন ক্ষেত্রে একজন মানুষের নেতিবাচক আচরণের কথা অপরকে বলা যায়? যদি অপরকে সতর্ক করার উদ্দেশে এই কথা বলা হয় তবে কি তা গীবত হবে?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

প্রশ্নে উল্লেখিত কারণে এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করা জায়েজ আছে যিনি এর সমাধান করতে পারবেন, বা তার খারাবী থেকে রক্ষা পেতে পারবেন, না বললে যে বিপদে পড়তো,তার কাছে গীবত করাটা জায়েজ হবে।  তবে সীমাতিরিক্ত বলবে না। বরং যতটুকু বললে, মানুষ খারাপ ব্যক্তিটির খারাপী থেকে নিরাপদ থাকতে পারে, ততটুকু বলবে। ছয়টি কারণে গীবত করা জায়েজ আছে। যথা-

১- জুলুম থেকে নিচে বাঁচতে, অন্যকে বাঁচাতে। এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করতে পারবে, যে একে প্রতিহত করতে পারবে।

২- খারাপ কাজ বন্ধ করার জন্য সাহায্য চাইতে এমন ব্যক্তির কাছে গীবত করতে পারবে যে তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।

৩- বিষয়টি সম্পর্কে শরয়ী সমাধান জানতে গীবত করে মূল বিষয় উপস্থাপন করা জায়েজ আছে। যেমন বলা যে, আমাকে অমুক ব্যক্তি আমার উপর জুলুম করেছে, তাই আমারও কি তাকে আঘাত করা জায়েজ আছে? ইত্যাদি

৪- সাধারণ মুসলমানদের দ্বীনী ও দুনিয়াবী ধোঁকা ও খারাবী থেকে বাঁচাতে গীবত করা জায়েজ। যেমন সাক্ষ্য সম্পর্কে, হাদীস, আসার ও ইতিহাস বর্ণনাকারী সম্পর্কে, লেখক, বক্তা ইত্যাদি সম্পর্কে দোষ জনসম্মুখে বলে দেয়া, যেন তার ধোঁকা ও মিথ্যাচার থেকে মানুষ বাঁচতে পারে। উদাহরণতঃ মতিউর রহমান মাদানী, তাউসীফুর রহমান এমন ভ্রান্ত মানসিকতা ও মিথ্যাচারকারী ব্যক্তিদের দোষ মানুষের কাছে বলা সাধারণ মুসলমানদের ঈমান আমল হিফাযতের জন্য জায়েজ।

৫- প্রাকাশ্যে যদি কেউ শরীয়তগর্হিত করে, তাহলে তার খারাবী বর্ণনা করা এমন ব্যক্তির কাছে যারা এর দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে পারে। যেমন কেউ প্রকাশ্যে মদ খায়, তাহলে মানুষের সামনে তার সরাসরি বদনাম করা জায়েজ আছে। যেন এমন খারাপ কাজ করতে ভবিষ্যতে কেউ সাহস না করে।

৬- কারো পরিচয় প্রকাশ করতে। যেমন কেউ কানা। তার পরিচয় দেয়া দরকার। কিন্তু নাম কেউ চিনতেছে না। কিন্তু কানা বলতেই সবাই চিনে ফেলে। তখন কানা বলা বাহ্যিক দৃষ্টিতে গীবত হলেও এটা বলা জায়েজ আছে। এতে গীবতের গোনাহ হবে না। {তাফসীরে রুহুল মাআনী- ১৪/২৪২, সূরা হুজরাত-১২}

وقد تجب الغيبة لغرض صحيح شرعي لا يتوصل إليه إلا بها وتنحصر في ستة أسباب الأول : التظلم فلمن ظلم أن يشكو لمن يظن له قدرة على إزالة ظلمه أو تخفيفه . الثاني : الاستعانة على تغيير المنكر بذكره لمن يظن قدرته على إزالته . الثالث : الاستفتاء فيجوز للمستفتي أن يقول للمفتي : ظلمني فلان بكذا فهل يجوز له أو ما طريق تحصيل حقي أو نحو ذلك؛ والأفضل أن يبهمه .الرابع : تحذير المسلمين من الشر كجرح الشهود والرواة والمصنفين والمتصدين لإفتاء أو إقراء مع عدم أهلية فتجوز إجماعاً بل تحب ، وكأن يشير وإن لم يستشر على مريد تزوج أو مخالطة لغيره في أمر ديني أو دنيوي ويقتصر على ما يكفي فإن كفى نحو لا يصلح لك فذاك وإن احتاج إلى ذكر عيب ذكره أو عيبين فكذلك وهكذا ولا يجوز الزيادة على ما يكفي ، ومن ذلك أن يعلم من ذي ولاية قادحاً فيها كفسق أو تغفل فيجب ذكر ذلك لمن له قدرة على عزله وتولية غيره الخالي من ذلك أو على نصحه وحثه للاستقامة ، والخامس : أن يتجاهر بفسقه كالمكاسين وشربة الخمر ظاهراً فيجوز ذكرهم بما تجاهروا فيه دون غيره إلا أن يكون له سبب آخر مما مر . السادس : للتعريف بنحو لقب كالأعور . والأعمش . فيجوز وإن أمكن تعريفه بغيره (روح المعاني في تفسير القرآن العظيم والسبع المثاني، سورة حجرات- 12)

والله اعلم بالصواب

হস্তমৈথুনের শরয়ী বিধান

প্রশ্ন

হস্থ মৈথুন কি ইসলামে নাজায়েজ ?এটা না করলে তো মাঝে মাঝে আরো কঠিন কিছু হতে পারে .সেক্ষেত্রে করণীয় কি ?

জবাব:

بسم الله الرحمن الرحيم

হস্তমৈথুন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। হাদীসে এই ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তবে যদি হারামে নিপতিত হবার নিশ্চিত সম্ভাবনা থাকে তাহলে কিছুটা সুযোগ আছে। নিশ্চত সম্ভাবনা না থাকলে এমনিতে করা নিষিদ্ধ।

নিশ্চিত সম্ভাবনা থাকলেও গোনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করাটাই হল উত্তম। তখন অযু করে নামাযে দাঁড়িয়ে যাওয়া। বা এসব চিন্তা মন থেকে দূর করে মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে এ গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।  

দলিল:

فى كنز العمال فى سنن الأقوال والأفعال ألا لعنة الله والملائكة والناس أجمعين على من انتقص شيئا من حقي، ………. وعلى ناكح يده، (كنز العمال فى سنن الأقوال والأفعال تابع كتاب المواعظ والحكم، باب الترهيب الأحادي من الإكمال،فصل الترهيب العشاري فصاعدا من الإكمال، رقم الحديث-44057)

وأما ما رواه عبد الرزاق في “المصنف” (7/ 391/ 13590) ، وابن أبي شيبة (4/ 379) عن أبي يحيى

وفى رد المحتار وكذا الاستمناء بالكف وإن كره تحريما لحديث { ناكح اليد ملعون } ولو خاف الزنى يرجى أن لا وبال عليه (رد المحتار-كتاب الصوم، باب ما يفسد الصوم وما لا يفسده، مطلب فى حكم الإستمناء بالكف-3/371)

প্রামান্য গ্রন্থাবলী

১. কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-৪৪০৫৭ (হাদীসটি দূর্বল, কিন্তু অর্থটি সহীহ)

২. ফাতওয়ায়ে শামী-৩/৩৭১

৩. আল বাহরুর রায়েক-২/৪৭৫-৪৭৬

৪. ফাতহুল কাদীর-২/৩৩৪

পাইরেটেড সফটওয়্যার ক্রয় করার হুকুম কি?

প্রশ্ন:

বর্তমান বাংলাদেশে যে সকল পাইরেটেড সফটওয়্যার পাওয়া যায় যেমন-উইন্ডোজ সেভেন, ভিস্তা, এক্সপি, মাইক্রোসফটের অফিস ইত্যাদী কোম্পানীর, যার বিক্রয় সত্ব সংরক্ষিত। এই সকল সফটওয়্যারের পাইরেটেড কপি বাজার থেকে ক্রয় করা জায়েজ কী? শরয়ী সমাধান জানালে উপকৃত হব।

জবাব:

بسم الله الرحمن الرحيم

যেই সকল কোম্পানীর বিক্রয় সত্ব কোম্পানীর জন্য সংরক্ষিত তা তাদের অনুমতি ছাড়া কপি করা ও  ক্রয়-বিক্রয় করা শরীয়তে জায়েজ নেই। তবে যদি বাজারে এগুলো বা এগুলোর বিকল্প না পাওয়া যায়, তবে বাধ্য হলে ক্রয় করলে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু আমাদের জানা মতে এই সকল সফটওয়্যারের বিকল্প বাজারে রয়েছে, সুতরাং বর্তমানে পাইরেটেড সফটওয়্যার বাজার থেকে ক্রয় করা জায়েজ হবেনা। কারণ এর দ্বারা চোর বা ছিনতাইকারী তথা অপরাধীকে সহায়তা করা হয়, যা সম্পুর্ণ হারাম।

দলিল:

قوله تعالى- وَلاَ تَعَاوَنُواْ عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ (سورة المائدة-2

অনুবাদ-তোমরা গোনাহ ও সীমালংঘনের ক্ষেত্রে কারো সহায়তা করনা।( সুরা মায়িদা-২)

قوله تعالى-وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُواْ أَيْدِيَهُمَا جَزَاء بِمَا كَسَبَا (سورة المائدة-38

অনুবাদ-চোর এবং চুরিকারিনীর হাত কেটে দাও তারা যা করেছে এর শাস্তিস্বরূপ (সুরা মায়িদা-৩৮)

قوله تعالى-وَقَدْ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلاَّ مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ وَإِنَّ كَثِيرًا لَّيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِم بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ (سورة الانعام-119

অনুবাদ-আর তোমাদের জন্য যা নিষিদ্ধ তা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে তবে যেসব ক্ষেত্রে তোমরা বাধ্য হয়ে পর (তা ভিন্ন) আর অনেকেই ভ্রষ্ট হয় না জেনেই নিজেদের রীপুর কারণে, নিশ্চয় আল্লাহই অধিক জ্ঞাত সীমা লংঘনকারীদের ব্যাপারে।( সুরা আনআম-১১৯)

وفى سنن البيهقى الكبرى- عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه و سلم أنه قال : من اشترى سرقة وهو يعلم أنها سرقة فقد اشرك في عارها واثمها ( سنن البيهقى الكبرى-كتاب البيوع، باب كراهية مبايعة من أكثر ماله من الربا أو ثمن المحرم، رقم-10608

  অনুবাদ-আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত যে, নবীজি সা: বলেছেন যে, যে ব্যক্তি কোন চুরির বস্তু চুরির মাল জেনেও ক্রয় করে তবে সেও সেই অপরাধে এবং গোনাহে শরীক হবে।(সুনানে বায়হাকী-৫/৩৩৫)

প্রামান্য গ্রন্থাবলী

১.সুরায়ে মায়িদা-২

২. সুরা আনআম-১১৯

৩. সুরা মায়িদা-৩৮

৪. সুনানে বায়হাকী-৫/৩৩৫

শ্বশুর কর্তৃক পুত্রবধু ধর্ষিতা হলে হুকুম কি?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ।

মোঃ সাইফুল ইসলাম

গৌরনদী থানা মাদ্রাসা , গৌরনদী , বরিশাল

হুজুর !

শশুর কর্তৃক পুত্র বধু ধর্ষিতা হলে । এই স্ত্রী , তার স্বামীর জন্য অর্থাৎ ধর্ষণকারির ছেলের জন্য বৈধ অবৈধ হওয়ার ব্যাপারে দলিল ভিত্তিক চার মাজহাবের চার ইমামের মতামত কি ? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

পাপিষ্ঠ পিতার এ ঘৃণ্য কর্ম দ্বারা ছেলের জন্য স্বীয় স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে কি না? এ বিষয়ে চার ইমামের মাঝে দু’টি মত রয়েছে। যথা-

১-  ইমাম আবূ আজম আবূ হানীফা রহঃ এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ এর মতে ধর্ষণ করার দ্বারা ছেলের জন্য উক্ত স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে। ইমাম মালেক রহঃ এর একটি কওলও এটি। তবে মালেকী মাযহাবের বিশুদ্ধ কওল দ্বিতীয়টি।

২-   ইমাম শাফেয়ী রহঃ এবং ইমাম মালিক রহঃ এর মতে ছেলের জন্য স্ত্রী হারাম হবে না। {কিতাবুল ফিক্বহ আলালমাযাহিবিল আরবাআ-৪/৬২-৬৫}

الحنفية: وأما الذى يوجب حرمة المصاهرة فهو اربعة أمور، أحدهما العقد الصحيح، ثانيها: الوطء سواء كان بعقد صحيح أو فاسد، أو زنا، ثالثها المس، رابعها: نظر الرجل الى داخل فرج المرأة، ونظر المرأة إلى ذكر الرجل،

الشافعية: أم الزنا فإنها لا يوجب حرمة المصاهرة على أى حال، لأنها نعمة من الله لا يصح زوالها بذلك الفعل المحرم، وكما لا يحرم الزنا لا يحرم المس ولا النظر بشهوة على أى حال،

المالكية: أم الزنا فأن المعتمد أنه لا ينشر الحرمة، فمن زنى بامرأة فإن له أن يتزوج بأصولها وفروعها ولأبيه وابنه أن يتزوجها،

الحنابلة: أما وطء الشبهة والزنا فإنه تثبت به حرمة المصاهرة على الصحيح من المذهب، فمن زنى بإمرأة حرمت عليه أمها وبنتها وحرمت على أبيه وابنه (كتاب الفقه على المذاهب الأربعة، كتاب النكاح، مبحث فيما تثبت به حرمة المصاهرة-61-66)

জিনা করার দ্বারা হুরমাতে মুসাহারাত তথা সুনির্দিষ্ট কিছু আত্মীয়কে আজীবন বিবাহ নিষিদ্ধতার বিধান আরোপিত হয় কি না? ব্যাখ্যা করলে এমন দাঁড়ায়, যেমন আব্দুল আলীম এক মহিলাকে বিবাহ করল, এখন আব্দুল আলীমের জন্য তার স্ত্রীর মাকে বিবাহ করা হারাম। সেই সাথে তার স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়ে এবং তার নিচের কাউকে বিবাহ করা হারাম। সেই সাথে আব্দুল আলীমের আগে ঘরের ছেলের জন্য আব্দুল আলীমের নতুন স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম।

আব্দুল আলীম বিবাহ না করে কোন মহিলার সাথে [নাউজুবিল্লাহ] জিনা করলেও কি এরকম হুরমতে মুসাহারাত এর হুকুম আরোপিত হবে  কি না? এ বিষয়ে চার ইমামের মাঝে মতভেদ আচে।

তবে দলীলের দিক থেকে শক্তিশালী বক্তব্যটি ইমাম আবু হানীফা রহঃ এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহঃ এর। তথা বিয়ের দ্বারা যেমন হুরমাতে মুসাহারত সাব্যস্ত হয়, তেমনি জিনার দ্বারাও হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয়।  কয়েকটি প্রমাণ নিচে উপস্থাপন করা হল।

কুরআন থেকে

وَلاَ تَنكِحُواْ مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاء إِلاَّ مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتًا وَسَاء سَبِيلاً

যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না। কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ। {সূরা নিসা-২২}

নিকা তথা বিয়ের অর্থ দু’টি। যথা- ১- আকদ করা। ২- সহবাস করা।

আসলে মৌলিক অর্থ সহবাসই। কিন্তু যেহেতু আকদের মাধ্যমেই সহবাস জায়েজ হয়, তাই নিকাহ বলে আকদকেই সাধারণত বুঝানো হয়ে থাকে।

ইমাম রাজী রহঃ উক্ত আয়াতের অধীনে বিধান লিখতে গিয়ে লিখেন-

قَوْله تَعَالَى وَلا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آباؤُكُمْ مِنَ النِّساءِ قَدْ أَوْجَبَ تَحْرِيمَ نِكَاحِ امْرَأَةٍ قَدْ وَطِئَهَا أَبُوهُ بِزِنًا أَوْ غَيْرِهِ إذْ كَانَ الِاسْمُ يَتَنَاوَلُهُ حَقِيقَةً فَوَجَبَ حَمْلُهُ عَلَيْهَا

অনুবাদ- আল্লাহ তাআলার বাণী “যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না” আবশ্যক করছে ঐ মহিলাকে বিবাহ করা, যার সাথে তার পিতা সহবাস করেছে জিনার মাধ্যমে বা অন্যকোনভাবে। যেহেতু নিকাহ শব্দটির আসল অর্থ সহবাস। তাই আসল অর্থে এটিকে নিহিত করাই আবশ্যক। {আহকামুল কুরআন লিররাজী-২/১৩৬, সূরা নিসা-২২}

সাহাবায়ে কেরামের ফাতওয়ার আলোকে

নিচে উদ্ধৃত সাহাবায়ে কেরাম জিনাকে হুরমাতে মুসাহারাত হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। যেমন-

১-  হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ। {আহকামুল কুরআন লিররাজী-২/১৩৭}

২-   হযরত উবাই বিন কা’ব রাঃ। {ইলাউস সুনান-১১/২০}

৩-  হযরত উমর রাঃ।

৪-   হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ।

৫-  হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ। [সহীহ কওল অনুপাতে]

৬-  জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ।

৭-   হযরত আয়শা রাঃ। {ফাতহুল কাদীর লিইবনে হুমাম]

তাবেয়ীগণের ফাতওয়া

নিচে উদ্ধৃত তাবেয়ীগণও একই ফাতওয়া প্রদান করতেন। যেমন-

১-  হযরত হাসান বসরী রহঃ।

২-   হযরত কাতাদা বিন দাআমা রহঃ।

৩-  সাঈদ বিন মুসাইয়িব রহঃ।

৪-   সুলাইমান বিন ইয়াসার রহঃ।

৫-  সালেম বিন আব্দুল্লাহ রহঃ।

৬-  মুজাহিদ রহঃ।

৭-   আতা রহঃ।

৮-  ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ।

৯-  আমের রহঃ।

১০-  হাম্মাদ রহঃ।

এছাড়াও রয়েছেন ইমাম মুহাম্মদ রহঃ, ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ, ইমাম যুফার রহঃ, ইমাম সুফিয়ান বিন সাঈদ সওরী রহঃ, ইমাম আওযায়ী রহঃ, জাবের বিন জায়েদ রহঃ, তাউস রহঃ, ইমাম ইসহাক রহঃ প্রমূখ মুহাদ্দিস ও ফক্বহগণ। {আহকামুল কুরআন লিলজাসসাস, উমদাতুল কারী, ফাতহুল কাদীর}

যুক্তির নিরিখে

হুরমাতে মুসাহারাতের মূল কারণ হল সহবাসকারীর অংশ হওয়া। যার সাথে সহবাস করা হয়, তার মাঝে সহবাসকারীর একটি অংশ থাকে। পিতা যদি কারো সাথে সহবাস করে, তাহলে উক্ত মহিলার মাঝে পিতার একটি অংশ চলে যায়, আর সন্তানও পিতার একটি অংশ। আর এক অংশ অন্য অংশকে বিবাহ করতে পারে না। এ কারণে পিতা যার সাথে সহবাস করবে, সন্তানের জন্য উক্ত মহিলা হারাম হয়ে যাবে।

তাহলে বুঝা গেল, হুরমাতের মূল কারণ হল অংশ হওয়া তথা বাচ্চা হওয়া। আর যেহেতু বাচ্চা হওয়াটি দেখা যায় না, এটি লুকায়িত বিষয়। তাই হুরমাতে মুসাহারাতের বাহ্যিক কারণ ধরা হয় বিবাহকে। তথা বিয়ের মাধ্যমে হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয়ে যায়।

আর একথাতো পরিস্কার যে, বাচ্চা হওয়া হুরমতে মুসাহারাতের মূল কারণ হলেও তা লুকায়িত থাকায় বিয়েকে রাখা হয়েছে তার বাহ্যিক কারণ। তাহলে বিবাহ ছাড়াই যদি বাচ্চা হওয়ার কারণ পাওয়া যায়, তাহলে কেন হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে না? যেখানে দূরবর্তী কারণ বিবাহকে হুরমাতে মুসাহারাতের কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেখানে নিশ্চিত ও মূল কারণ পাওয়া যাওয়া সত্বেও হুরমাত সাব্যস্ত না করার কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে?

এ কারণেই যেহেতু পিতা ছেলের স্ত্রীর সাথে জিনা করেছে, এ কারণে উক্ত স্ত্রী ছেলের জন্য হারাম হয়ে গেছে।

শেষ কথা

আখেরাতের জীবনই অনন্ত জীবন। সেটিই আসল জীবন। তাই ৭০/৮০ বছরের অল্প ক’দিনের জীবনের টানে আখেরাতের অনন্ত জীবন বরবাদ করা কোন বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তাই যে পরিবারেই এ জঘন্য কাজটি সম্পাদিত হয়েছে উক্ত ছেলে যেন স্বীয় স্ত্রী থেকে পৃথক হয়ে যায়।

আর ইসলামী খেলাফত থাকলে উক্ত পাপিষ্ঠ নির্লজ্জ পিতাকে প্রকাশ্যে প্রস্তারাঘাত করে হত্যা করা হতো। এরকম জঘন্য কর্ম কোন মনুষত্বের কাজ নয়। পাপিষ্ঠ পিতাকে আল্লাহ তাআলার কাছে কায়মানোবাক্যে তওবা করার জন্য বলতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের তার বিধান অনুপাতে জীবন যাপিত করার তৌফিক দান করুন।

والله اعلم بالصواب

সমকামিতা পশুত্বের নিদর্শন

প্রশ্ন

সমকামিতা ইসলামে হারাম। সেহ্মেত্রে সমকামি বিয়েও তো হারাম হবার কথা। সঠিক নিয়ম মেনে বিয়ে করলে নাকি সমকামিতা হারাম থাকেনা এইসব আজকাল শুনতে পাচ্ছি। এইসব শুনে আমি মর্মাহত। এহ্মেত্রে ইসলাম কি বলে?

প্রশ্নকর্তা- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

সমকামিতা বিকৃত রূচির নোংরা ব্যক্তিদের কাজ। এটি কোন প্রকৃত মানুষের কাজ নয়। পশুত্বের নিদর্শন এহেন জঘন্য কাজ। মানুষ অন্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠ হওয়ার একটি মৌলিক কারণের মাঝে রয়েছে, মানুষ ভদ্রতা ও শালীনতা জানে। অন্য কোন প্রাণী ভদ্রতা ও শালীনতা কি জিনিস বুঝে না। মানুষের লজ্জা রয়েছে। অন্য কোন প্রাণীর লজ্জা নামক এই ভূষণটি নেই।

সমকামি মনোবৃত্তি ব্যক্তিকে মনুষত্বের ভদ্র আর শালীন ও লজ্জাশীলতার সেই শ্রেষ্টত্বের মানদন্ড থেকে হটিয়ে পশুত্বের স্তরে নামিয়ে দেয়।

আল্লাহ তাআলা হযরত লুত আঃ এর জমানার লোকদের শুধুমাত্র এই কারণেই সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন যে, তারা সমকামি ছিল।

বিবাহ করার মাধ্যমে এ নি¤œস্তরের খারাপ কাজটি বৈধতা পাবে না। যেমন মায়ের সাথে, বোনের সাথে জিনা করা হারাম। বিবাহ করে জিনা করলে সেটি হালাল হয়ে যাবে না। আগে যেমন হারাম ছিল তখনো হারামই থাকবে। বরং বিবাহ করার কারনে আরেকটি গোনাহে জড়িত হল। হারাম কাজটি প্রকাশ্যে, সকলকে জানিয়ে করা আরো মারাত্মক অপরাধ। একেতো হারাম ও অভদ্র পশুত্বের কাজ। আবার সেটিকে সবাইকে জানিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিবাহ করে করতে চাচ্ছে, তাই এটি গোনাহটির প্রতি বেপরোয়া মনোভাব প্রদর্শন করে করা হচ্ছে। যা আরো জঘন্য পর্যায়ের অপরাধ। তাই এরকম নি¤œস্তরের পশুবৃত্তির কাজ থেকে সকলকে বিরত থাকা আবশ্যক।

وَجَاءَهُ قَوْمُهُ يُهْرَعُونَ إِلَيْهِ وَمِنْ قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ قَالَ يَا قَوْمِ هَؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ فِي ضَيْفِي أَلَيْسَ مِنْكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ (78) قَالُوا لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِي بَنَاتِكَ مِنْ حَقٍّ وَإِنَّكَ لَتَعْلَمُ مَا نُرِيدُ (79) قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ (80) قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنْ يَصِلُوا إِلَيْكَ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِنَ اللَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ (81) فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ (82

আর তাঁর কওমের লোকেরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে তার (গৃহ) পানে ছুটে আসতে লাগল। পূর্ব থেকেই তারা কু-কর্মে তৎপর ছিল। লূত (আঃ) বললেন-হে আমার কওম, এ আমার কন্যারা রয়েছে, এরা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্রতমা। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং অতিথিদের ব্যাপারে আমাকে লজ্জিত করো না, তোমাদের মধ্যে কি কোন ভাল মানুষ নেই।

তারা বলল তুমি তো জানই, তোমার কন্যাদের নিয়ে আমাদের কোন গরজ নেই। আর আমরা কি চাই, তাও তুমি অবশ্যই জান।

লূত (আঃ) বললেন-হায়, তোমাদের বিরুদ্ধে যদি আমার শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সূদৃঢ় আশ্রয় গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম।

মেহমান ফেরেশতাগন বলল-হে লূত (আঃ) আমরা তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে প্রেরিত ফেরেশতা। এরা কখনো তোমার দিকে পৌঁছাতে পারবে না। ব্যস তুমি কিছুটা রাত থাকতে থাকতে নিজের লোকজন নিয়ে বাইরে চলে যাও। আর তোমাদের কেউ যেন পিছনে ফিরে না তাকায়। কিন্তু তোমার স্ত্রী নিশ্চয় তার উপরও তা আপতিত হবে, যা ওদের উপর আপতিত হবে। ভোর বেলাই তাদের প্রতিশ্রুতির সময়, ভোর কি খুব নিকটে নয়?

অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছাল, তখন আমি উক্ত জনপদকে উপরকে নীচে করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম।   {সূরা হুদ-৭৮-৮২}

عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَتَى الرَّجُلُ الرَّجُلَ فَهُمَا زَانِيَانِ، وَإِذَا أَتَتِ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَهُمَا زَانِيَانِ

হযরত আবূ মুসা আশআরী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে পুরুষ পুরুষের সাথে নোংরা কাজে লিপ্ত হয়, উভয়ে জিনাকারী সাব্যস্ত হবে। তেমনি যে নারী আরেক নারীর সাথে কুকর্মে লিপ্ত হয় উভয়ে জিনাকারী সাব্যস্ত হবে। {শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৫০৭৫, সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১৭০৩৩}

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” اقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ، فِي عَمَلِ قَوْمِ لُوطٍ،

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, লুত আঃ এর কওমের মত কুকর্মে লিপ্ত উভয়কে হত্যা করে ফেল। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৭২৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২৫৬১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৪৬২, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৪৫৬, সুনানে দারাকুতনী, হাদীস নং-৩২৩৪}

والله اعلم بالصواب

অর্থের বিনিময়ে মেয়ে ক্রয় করার দ্বারা তার সাথে শারিরিক সম্পর্ক করা জায়েজ হয়ে যায়?

প্রশ্ন

আমার খুব কাছের এক বন্ধু ৪ বছর আগে কিছু জমির বিনিময়ে এক কৃষকের ১২ বছর বয়সি কন্যাকে  নিয়ে নেয়। গত এক বছর  যাবত ঐ মেয়েটির সাথে শারিরীক সম্পর্ক রাখছে। শুধু তাই নয় এটাকে বৈধ  বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এটাকি পরিষ্কার না যে সে জিনা করছে?

প্রশ্নকর্তা- সাঈদ ইসলাম

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

যদি শরয়ী পদ্ধতি বিবাহ করা ছাড়াই উক্ত মেয়েকে নিয়ে শারিরিক সম্পর্ক করে থাকে, তাহলে লোকটি সুনিশ্চিতভাবেই জিনা করছে। জিনা খুবই মারাত্মক গোনাহ। আর জিনার মত গোনাহকে যদি জায়েজ বলে থাকে, তাহলে লোকটির ঈমান চলে গেছে। কারণ হারামকে হালাল মনে করা কুফরী। তার আবার কালিমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করতে হবে।

আপনার বন্ধুকে এখনি পরামর্শ দিন যেন সে তওবা করে মেয়েটিকে বিয়ে করে নেয়। নতুবা আখেরাতে তার জন্য কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا (32

তোমরা যিনার নিকটবর্তীও হয়ো না। কেননা, তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। {সূরা বনী ইসরাঈল-৩২}

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا (36)

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিসয়ে নির্দেশ দিলে কোন মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকার নেই। কেউ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সে তো স্পষ্টই পথভ্রষ্ট হবে। {সূরা আহযাব-৩৬}

والله اعلم بالصواب

তওবা করার পরও কি আখেরাতে শাস্তি হবে?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ।

কেউ মদ পান এবং ব্যভিচার করার পর তওবা করে ; তাহলে, আল্লাহ্ কি তাকে ক্ষমা করে দিবেন ???

এর জন্য মৃত্যুর পর কি কোন শাস্তি হবে (তওবা করার পর) ?

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

সঠিক পদ্ধতিতে তওবা করলে ইনশাআল্লাহ আখেরাতে কোন শাস্তি হবে না।

তওবা করার পদ্ধতি

إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا [٤:١٧] وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّىٰ إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ ۚ أُولَٰئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا [٤:١٨

অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন,যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে,অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী,রহস্যবিদ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে,এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়,তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। {সূরা নিসা-১৭-১৮}

সুতরাং বুঝা গেল গোনাহ করে ফেললে মাফ করানোর পদ্ধতি হল খালেস দিলে তওবা করা। তওবা সহীহ হবার জন্য ৩টি শর্ত। যথা-

১-সাথে সাথে গোনাহের কাজটি ছেড়ে দিতে হবে।

২-ভবিষ্যতে এই গোনাহটি না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

৩-গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

এই ৩টি শর্ত পাওয়া গেলে তওবা সঠিক হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে।

عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم لا يلج النار رجل بكي من خشية الله حتى يعود اللبن في الضرع ولا يجتمع غبار في سبيل الله ودخان جنهم

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন-“যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে সে ব্যক্তিকে (জাহান্নামের) অগ্নি স্পর্শ করা সম্ভব নয় যদিও দোহনকৃত দুধ উলানে ফিরানো সম্ভব হয়। আর জাহান্নামের ধোঁয়া এবং আল্লাহর পথে (চলার কারণে) উড়ন্ত ধুলি কখনো একসাথে হতে পারেনা। (নাসায়ী শরীফ, হাদিস নং-৩১০৮, সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-১৬৩৩, ২৩১১, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪২৭)

والله اعلم بالصواب

ধর্ষিতা কি গোনাহগার হয়?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ।

আমার পরিচিত একজনকে তার প্রতিবেশী এক লোক তাকে ধর্ষণ করে । তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর । এতে তার কি কোন গুনাহ্ হবে ?

দয়া করে উত্তরটি দিবেন ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

অবশ্যই এতে ধর্ষণকারী মারাত্মক গোনাহগার হয়েছে। তওবা না করলে হাশরের ময়দানে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তবে ধর্ষিত নিরূপায় হলে তার কোন গোনাহ হবে না।

الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِئَةَ جَلْدَةٍ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ (2

অনুবাদ- ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী তাদের প্রত্যেককে একশতটি বেত্রাঘাত করবে। আর যেন তাদের প্রতি দয়াশীলতা আল্লাহর বিধান পালনে তোমাদেরকে প্রভাবিত না করে। যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখ। আর তাদের শাস্তির সময় মু’মিনদের একটি দল যেন উপস্থিত থাকে। {সূরা নূর-২}

وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ فَإِنْ شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا (15

وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنْكُمْ فَآَذُوهُمَا فَإِنْ تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ تَوَّابًا رَحِيمًا (16

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা যিনা করে তোমরা তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের চারজন সাক্ষী উপস্থিত কর। যদি তারা সাক্ষ্য দেয় তবে স্ত্রীদেরকে ঘরে আবদ্ধ কর রাখ। যে পর্যন্ত না মওত তাদের জীবন শেষ করে দেয়। কিংবা আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য কোন পথ করে দেন। তোমাদের মধ্যে য দু’জন এতে লিপ্ত হবে, যন্ত্রণা দেবে তাদের উভয়কে। এর পরে তারা তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, তবে তাদের থেকে বিরত থাকবে। নিশ্চয় আল্লাহতাআলা ক্ষমাশীল। {সূরা নিসা-১৫-১৬}

فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ [٢:١٧٣

অবশ্য যে লোক অনন্যোপায় হয়ে পড়ে এবং নাফরমানী ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়, তার জন্য কোন পাপ নেই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহান ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু। {সূরা বাকারা-১৭৩}

والله اعلم بالصواب

বাথরুমে উলঙ্গ হয়ে গোসল করলে কি গোনাহ হবে?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ।

১. স্বামী এবং বিবি একসাথে গোসলখানা অথবা একবারে আবদ্ধ জায়গায় উলঙ্গ হয়ে গোসল করলে কি কোনো গুনা হবে? এবং উত্তেজনা বসত ঐ সব স্থান এ যদি মিলন /সহবাস করে তাহলে কি কোনো গুনা হবে?

২. হাত থেকে বুখারী শরিফ,নেক আমালিয়াত,খাজায়েনে কোরআন ও হাদিস ইত্যাদি বই পরে গেলে কি করণীয়?

প্রশ্নকর্তা- মোঃ শামসুল আরিফিন

মহাখালী, তেজগাঁও, ঢাকা

উত্তর

وعليكم السلامو ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

১ নং প্রশ্নের জবাব

প্রয়োজন ছাড়া বাথরুমে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা উচিত নয়। হাদিসে এ ব্যাপারে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। সুতরাং তা পরিহার করা উচিত। তবে গোনাহ হবে মর্মে কোন বক্তব্য আমরা পাইনি।

এক হাদিসে এসেছে যে, মুয়াবিয়া বিন হাইদা হতে বর্ণিত। একদা রাসূল সা. বলেছেন যে, তুমি তোমার বিবি ও তোমার দাসী ছাড়া অপরের নিকট হতে তোমার লজ্জাস্থানকে সর্বদা রক্ষা কর (অর্থাৎ ঢেকে রাখবে)। আমি বললাম-“ইয়া রাসূলাল্লাহ! বলুন! যদি কোন ব্যক্তি নির্জনে একাকী থাকে! (তখনও কি তা ঢেকে রাখতে হবে? প্রয়োজন ছাড়া খোলা নিষিদ্ধ?) তিনি বললেন (হ্যাঁ) আল্লাহ তায়ালাকে অধিক লজ্জা করা উচিত। (তিরমিজী শরীফ)

দলিল:

فى سنن الترمذى-حدثنا أحمد بن محمد بن نيزك البغدادي حدثنا الأسود بن عامر حدثنا أبو محياة عن ليث عن نافع عن ابن عمر : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال إياكم والتعري فإن معكم من لايفارقكم إلا عند الغائط وحين يفضي الرجل إلى أهله فاستحيوهم وأكرموهم (سنن الترمذى، كتاب الأدب، باب ما جاء في الاستتار عند الجماع، رقم الحديث-2800)
وفيه ايضا-حدثنا محمد بن بشار حدثنا يحيى بن سعيد حدثنا بهز بن حكيم حدثني أبي عن جدي قال قلت : يا رسول الله عوراتنا ما نأتي منها وما نذر ؟ قال احفظ عورتك إلا من زوجتك أو مما ملكت يمينك فقال الرجل يكون مع الرجل ؟ قال إن استطعت أن لا يراها أحد فافعل قلت والرجل يكون خاليا قال فالله أحق أن يستحيا منه (سنن الترمذى، كتبا الادب، باب 39 ما جاء في حفظ العور، رقم الحديث-2769)

প্রামান্য গ্রন্থাবলী

১. তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং-২৮০০

২. তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং-২৭৬৯

৩. মুসনাদে আহমদ-হাদিস নং-২০০৩৪

৪. তাহাবী শরীফ, হাদিস নং-১১৮২

২য় নং প্রশ্নের জবাব

এক্ষেত্রে সম্মানপূর্বক তা যথাস্থানে রেখে দেয়া উচিত। সেই সাথে ভবিষ্যতে এমন কাজ যেন না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

والله اعلم بالصواب

গীবত থেকে বাঁচার উপায় কি?

প্রশ্ন

নাম: রেহেনা ইয়াস্মিন

ফটিকছড়ি চট্টগ্রাম

আসসালামুয়ালাইকুম ,

জনাব, গীবত করা থেকে বাঁচার উপায় কি জানালে কৃতার্থ হব

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

গীবত কি?

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ؟» قَالُوا: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ» قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ؟ قَالَ: «إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ، فَقَدِ اغْتَبْتَهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ»

হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম বলেছেনঃ তোমরা কি জান, গীবত কি? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ গীবত হল তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। প্রশ্ন করা হলঃ আমি যা বলেছি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থেকে থাকে, তাহলে আপনি কি বলেন? তিনি বললেনঃ তুমি তার সম্পর্কে যা বলেছ তা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তো তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৫৮৯, ৭০, সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১১৪৫৪, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৭৫৮, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬২৯৩, মুজামে ইবনে আসাকীর, হাদীস নং-১৪১৭, সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২১১৬৩}

গীবতের দুই সুরত। এক হল গীবত করা। আর আরেক হল গীবত শোনা। উভয়ই গোনাহের কাজ। এরকম গোনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার সহজ উপায় হল, গীবত করতে মনে চাইলেই কুরআনের আয়াত ও রাসূল সাঃ এর হাদীস মনে করা। যেমন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ [٤٩:١٢]

মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। {সূরা হুজুরাত-১২}

وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ [١٠٤:١]

প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, {সূরা হুমাজা-১}

عَنْ أَبِي سَعْدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:  الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ الْغِيبَةُ أَشَدُّ مِنَ الزِّنَا؟ قَالَ: ” إِنَّ الرَّجُلَ لَيَزْنِي فَيَتُوبُ فَيَتُوبُ اللهُ عَلَيْهِوَفِي رِوَايَةِ حَمْزَةَ ” فَيَتُوبُ فَيَغْفِرُ لَهُ، وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَغْفِرَهَا لَهُ صَاحِبُهُ  

হযরত আবু সাঈস এবং জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। উভয়ে বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ গীবত করা ব্যভিচার করার চেয়েও জঘন্য। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! গীবত করা ব্যভিচারের চেয়ে জঘন্য হয় কি করে? রাসূল সাঃ বললেনঃ নিশ্চয় ব্যভিচারকারী ব্যভিচার করে তওবা করে থাকে, ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিন্তু গীবতকারীকে ক্ষমা করা হয় না, যতক্ষণ না যার গীবত করেছে সে তাকে ক্ষমা করে। {শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৬৩১৫, আলমুজামুল আওসাত, হাদীস নং-৬৫৯০}

যখনি গীবত করার কথা মনে আসবে, কিংবা কেউ আপনার কাছে বলতে চাইবে তখনি এসব আয়াত ও হাদীসের কথা মনে করুন। যিনি আপনাকে বলতে চাচ্ছে তাকে শুনান গীবত সংক্রান্ত মারাত্মক সব ধমকি সম্বলিত আয়াত ও হাদীসের কথা। আশা করি গীবতের মত ভয়াবহ গুনাহ থেকে আল্লাহ তাআলা হিফাযত করবেন।


والله اعلم بالصواب

2 thoughts on “আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব-২

  1. নাম প্রকাসে অনইচ্ছুক says:

    আমি একটি মেয়েকে ভালোবাসি তারসাথে সমোকামিতায় লিপ্ত হয়েছিলাম। সে আমাকে আর বিয়ে করতে চাচ্ছে না। আমি জানি জেনা একটি জঘন্ন কাজ।
    আমার প্রশ্ন হলো আমি তাকে বিয়ে করলে কি হবে আর না করলে কি হবে।

  2. Md. Nuhan Tahery says:

    ধর্ষিতা কে বিয়ে করা কি জায়েজ???

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s