আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব -১

আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব-১

(জবাব দিচ্ছেন মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী)

 

পেশাবের পর ঢিলা ব্যবহার ও তা নিয়ে হাটাহাটি করার হুকুম কি?

প্রশ্ন

Assalamulikum oa rojomuttallah.
Dear Brother. May ALLAH ST accept your effort (kjadmot) for din. I learned lots of thing from your writi g. Now a big advertise going against Dila Kulub  use in Estinja. I am 55 when I was kid learned and also read from Bahesti Jaor and steel following. My request could you please give some support from Hadis with reference
Sincerely yours

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

ইস্তিঞ্জা দ্বারা মূল উদ্দেশ্য হল নাপাক পরিস্কার হওয়া। যেভাবে তা পরিপূর্ণ পরিস্কার হয় সেভাবেই তা পরিস্কার করা উচিত। আর এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে পেশাবের ফোটা যেন শরীরে না লাগে। কারণ হাদীসে এসেছে অধিকাংশ মানুষের কবরের আজাব হয়ে থাকে পেশাবের ফোটার কারণে।

সেই হিসেবে যেহেতু পানির দ্বারা নাপাক বেশি পরিস্কার হয়, তাই পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা সুন্নত। আর ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা জায়েজ। {তিরমিজী-১/২৯, মুসতাদরাকে হাকেম-১/১৫৫, হেদায়া-১/৪৮, শরহে নুকায়া-১/৪৮, শরহে বেকায়া-১২৭}

عَطَاءُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «إِذَا خَرَجَ لِحَاجَتِهِ، أَجِيءُ أَنَا وَغُلاَمٌ، مَعَنَا إِدَاوَةٌ مِنْ مَاءٍ، يَعْنِي يَسْتَنْجِي بِهِ»

আতা বিন আবী মাইমুনা বলেন, আমি শুনেছি আনাস বিন মালিক রাঃ বলেছেন, রাসূল সাঃ যখন প্রয়োজন সম্পন্ন [টয়লেটে যাবার জন্য] করার জন্য বের হতেন, তখন আমি ও আরেক ছেলে আসতাম। আমাদের সাথে পানির পাত্র থাকতো। অর্থাৎ এ দিয়ে রাসূল সাঃ ইস্তিঞ্জা করতেন। {বুখারী, হাদীস নং-১৫০}

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-

وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ، مَنْ فَعَلَ فَقَدْ أَحْسَنَ، وَمَنْ لَا فَلَا حَرَجَ،

যে ব্যক্তি ঢিলা ব্যবহার করে সে যেন বেজোড় ব্যবহার করে। যে তা করবে সে উত্তম কাজ করল, আর যে করেনি তাতে কোন সমস্যা নেই। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৫}

ঢিলা হাতে হাটাহাটি করা

আসলে ঢিলা হাতে হাটাহাটি করা জরুরী বিষয় নয়। এটি দেখতেও সুন্দর দেখায় না। কিন্তু ইস্তিঞ্জার ক্ষেত্রে আবশ্যক হল পেশাব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। এটি আবশ্যকীয়।

ভাল করে বুঝে নেই। ঢিলা হাতে হাটাহাটি কোন জরুরী বিষয় বা সুন্নত নয়। কিন্তু পেশাবের ফোটা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা আবশ্যকীয় বিষয়। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ বিষয়ে আমরা দু’টি হাদীস লক্ষ্য করি-

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ، فَقَالَ: ” إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ، أَمَّا أَحَدُهُمَا: فَكَانَ لَا يَسْتَنْزِهُ مِنَ البَوْلِ – قَالَ وَكِيعٌ: مِنْ بَوْلِهِ – وَأَمَّا الْآخَرُ: فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ “.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল সাঃ দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম হচ্ছিলেন। বললেন, এ দু’টি কবরে আযাব হচ্ছে। কোন বড় কারণে আজাব হচ্ছে না। একজনের কবরে আজাব হচ্ছে সে পেশাব থেকে ভাল করে ইস্তিঞ্জা করতো না। আরেকজন চোগোলখুরী করতো। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৯৮০, বুখারী, হাদীস নং-১৩৬১}

عَنْ عِيسَى بْنِ يَزْدَادَ الْيَمَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلْيَنْتُرْ ذَكَرَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ»

হযরত ঈসাব বিন ইয়াযদাদ আলইয়ামানী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যখন তোমাদের কেউ পেশাব করে, তখন সে যেন তার লজ্জাস্থানকে তিনবার ঝেড়ে নেয় বা পবিত্র করে নেয়। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩২৬}

যেহেতু পেশাব এমন বস্তু। যার ছিটা শরীরে লাগলে কবরের আযাব হয়ে থাকে। আর হাদীসেও লজ্জাস্থানকে ঝেড়ে পবিত্র করার কথা এসেছে। তাই যাদের পেশাব করার পর পেশাবের ছিটা ফোটা ফোটা করে পড়ে, তাদের উচিত কিছুক্ষণ হেটে তা পবিত্র করা। নতুবা পেশাবের ছিটা শরীরে লাগার দরূন মারাত্মক গোনাহ হবে। যা কবরের আযাবের কারণ হবে। সেই সাথে কাপড় থাকবে নাপাক। আর নাপাক কাপড় দিয়ে নামায হয় না।

এ দৃষ্টিকোণ থেকে যাদের পেশাবের ফোটা পেশাব শেষ করার পর পড়ে না। তাদের পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করলেই যথেষ্ট। কিন্তু যাদের বের হয় তাদের কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাবার আশায় কিছুক্ষণ হেটে হলেও তা থেকে পবিত্রতা অর্জন করে নেয়া জরুরী।

والله اعلم بالصواب

তায়াম্মুমে দুইবার মাটিতে হাত মারার কোন দলীল আছে কি?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।

হুজুর, আমি জানতে চাই যে, আমি হানাফী মাসলাক মানি। কিন্তু প্রশ্ন হল,

তায়াম্মুমের ব্যাপারে দুইবার হাত মারার কোন সহীহ বর্ণনা আছে কি না? দলীলসহ জানাবেন।

প্রশ্নকর্তা- তানজিল, ঢাকা, বাংলাদেশ।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

তায়াম্মুমে দুইবার হাত মারা

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «التَّيَمُّمُ ضَرْبَتَانِ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ، وَضَرْبَةٌ لِلْيَدَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ»

হযরত ইবনে উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তায়াম্মুম দুই জরব তথা দুইবার হাত মারা। একবার চেহারার জন্য, আরেকবার দুই হাত কনুই পর্যন্তের জন্য।

আলমুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১৩৩৬৬,

সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৬৮৫,

মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদীস নং-৬৩৪,

সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৯৯৭,

মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৫৫৪,

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৬৬৮৮।

আল্লামা জারুল্লাহ সাদী, বলেন, হাদীসটি সহীহ। {আননাওয়াফেউল আতরাহ-১১০}

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «التَّيَمُّمُ ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ، وَضَرْبَةٌ لِلْكَفَّيْنِ

হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তায়াম্মুমে চেহারার জন্য একবার মাটিতে হাত মারবে, আর দুই হাতের জন্য আরেকবার হাত মারবে। {আলমুজামুল কাবীর, হাদীস নং-৭৯৫৯, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৬৬৯২}

عَنْ جَابِرٍ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:  التَّيَمُّمُ: ضَرْبَةٌ لِلْوَجْهِ , وَضَرْبَةٌ لِلذِّرَاعَيْنِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ

হযরত জাবের রাঃ থেকে বর্নিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, তায়াম্মুমে একবার চেহারার জন্য, আরেকবার দুই হাত কনুই পর্যন্তের জন্য মাটিতে হাত মারবে।{সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৬৯১, সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৯৯৯}

والله اعلم بالصواب

টয়লেটে যাবার সময় মাথায় কাপড় রাখা কি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।

কেমন আছেন? ভাইয়া! একটা প্রশ্ন, টয়লেটে গেলে কি মাথায় কাপড় রাখা ফরজ, নাকি সুন্নত? কোন হাদীস জানা আছে এ ব্যাপারে?

প্রশ্নকর্তা- সোহেল আব্দুর রাজ্জাক

দুবাই, আরব আমিরাত।

উত্তর

وعليكم السلامو ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহর রহমাতে আমরা  ভাল আছি। দুআ করি আল্লাহ তাআলা আপনি এবং আপনার আত্মীয় স্বজন দুনিয়া ও আখেরাতে ভাল থাকুক। আমীন।

টয়লেটে যাবার সময় মাথায় কাপড় রাখা সুন্নত। এমনটিই রাসূল সাঃ থেকে হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

عَنْ حَبِيبِ بْنِ صَالِحٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ لَبِسَ حِذَاءَهُ، وَغَطَّى رَأْسَهُ 

হযরত হাবীব বিন সালেহ রাঃ থেকে বর্র্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন, তখন জুতা পরিধান করতেন, এবং মাথা ঢেকে নিতেন।

সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৫৬।

খুলাসাতুল আহকাম, হাদীস নং-৩২৪।

আলফাতহুল কাবীর, হাদীস নং-৯০৭২।

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১৭৮৭৬।

আশ শামায়েলুশ শরীফাহ, হাদীস নং-১৯৮।

মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মদ জারুল্লাহ সা’দী বলেন, এটি সহীহ মুরসাল। { আননাওয়াফেউল আতরাহ, বর্ণনা নং-২৩৭}

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْخَلَاءَ غَطَّى رَأْسَهُ

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন তখন মাথা ঢেকে নিতেন। {সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৪৫৫, খুলাসাতুল আহকাম, হাদীস নং-৩২৩, হুলয়াতুল আউলিয়া}

والله اعلم بالصواب

ইমাম সাহেব ভুলে ওজু ছাড়া নামায পড়িয়ে ফেললে হুকুম কী?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম

প্রশ্ন: ইমাম সাহেব আসরের নামাজ জামাতের সহিত আদায় করার পর তিনি কিতাব পড়তে পড়তে কিছু সময় অতিবাহিত হবার পর  এক পর্যায়ে তাঁর অজু ছুঠে যায়, তিনি একটু পরে অজু করবেন বলে মনস্ত: করলেন। তারপর যথারিতি আবার কিতাব পড়তে পড়তে মাগরিবের নামাজের সময় হলে তিনি যথা রিতি নামাজ পড়ালেন, তারপর ধারাবাহিক ভাবে সালাতুল আওয়াবিন নামাজ পড়তে ছিলেন হঠাৎ স্বরণ হলো যে তার অজু ছিলনা আর মুসল্লিও প্রায় সকলে চলে গেলেন মসজিদ হতে (শহরের মসজিদ) এমতাবস্থায় বাচার উপায় কি? দয়া করে দলীল আদিল্লাহ সহ জানালে খুশি হব।

বিনীত

মোহাম্মাদ ইজদানী

লন্ডন

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

ইমাম সাহেবসহ তার পিছনে যারা নামায পড়েছেন, তাদের কারো নামাযই হয়নি। সকলের জন্য উক্ত নামায পুনরায় কাযা করা আবশ্যক।

কারণ, পবিত্রতা ছাড়া নামায হয় না।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ (6

হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর এবং পদযুগল গিটসহ। যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও এবং যদি তোমরা রুগ্ন হও, অথবা প্রবাসে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসে অথবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর, অতঃপর পানি না পাও, তবে তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-অর্থাৎ, স্বীয় মুখ-মন্ডল ও হস্তদ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল। আল্লাহ তোমাদেরকে অসুবিধায় ফেলতে চান না; কিন্তু তোমাদেরকে পবিত্র রাখতে চান এবং তোমাদের প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করতে চান-যাতে তোমরা কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ কর।{৫: ৬, সূরা মায়িদা-৬}

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةً إِلَّا بِطُهُورٍ،

হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ পবিত্রতা ছাড়া নামায গ্রহণযোগ্য হয় না। {সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২৭২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং- ১, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৩৬৬}

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- « إِذَا رَقَدَ أَحَدُكُمْ عَنِ الصَّلاَةِ أَوْ غَفَلَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ يَقُولُ أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِى

অনুবাদ-যখন তোমাদের কেউ নামায ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, বা নামায থেকে গাফেল হয়ে যায়, তাহলে তার যখন বোধোদয় হবে তখন সে যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-আমাকে স্মরণ হলে নামায আদায় কর।

সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৬০১

মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১২৯৩২

সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪১৮২

عن جابر بن عبد الله  : أن عمر بن الخطاب جاء يوم الخندق بعدما غربت الشمس فجعل يسب كفار قريش قال يا رسول الله ما كدت أصلي العصر حتى كادت الشمس تغرب قال النبي صلى الله عليه و سلم ( والله ما صليتها ) . فقمنا إلى بطحان فتوضأ للصلاة وتوضأنا لها فصلى العصر بعدما غربت الشمس ثم صلى بعدها المغرب

 [ 573 ، 615 ، 903 ، 3886 ]

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত-ওমর বিন খাত্তাব রা. খন্দকের দিন সূর্য ডুবার পর কুরাইশ কাফেরদের তিরস্কার করতে করতে এলেন। নবীজী সাঃ কে বললেন-“হে আল্লাহর নবী! আমি আসরের নামায পড়তে পারিনি এরই মাঝে সূর্য ডুবে গেছে”। নবীজী সাঃ বললেন-“হায় আল্লাহ! আমরাওতো পড়তে পারিনি! তারপর আমরা সমতল ভূমিতে দাঁড়ালাম। আর তিনি নামাযের জন্য অযু করলেন। আর আমরাও নামাযের জন্য অযু করলাম। তারপর সূর্য ডুবে গেলেও প্রথমে আমরা আসর পড়লাম। তারপর মাগরিব পড়লাম।(বুখারী শরীফ-হাদিস নং-৫৭১,৫৭৩,৬১৫,৯০৩,৩৮৮৬,)

عن أنس بن مالك قال : سئل رسول الله صلى الله عليه و سلم عن الرجل يرقد عن الصلاة أو يغفل عنها قال : كفارتها يصليها إذا ذكرها

হযরত আনাস বিন মালিক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ কে নামায রেখে ঘুমিয়ে যাওয়া ব্যক্তি ও নামায সম্পর্কে গাফেল ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন-এর কাফফারা হল যখনই নামাযের কথা স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে।

সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৯৯১

মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীস নং-১০৪১

মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩০৬৫

মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৩২৬২

সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-১৫৮৫

أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقُولُمَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَلَمْ يَذْكُرْهَا إِلَّا وَهُوَ مَعَ الْإِمَامِ فَإِذَا سَلَّمَ الْإِمَامُ فَلْيُصَلِّ الصَّلَاةَ الَّتِي نَسِيَ ثُمَّ لِيُصَلِّ بَعْدَهَا الْأُخْرَى

অনুবাদ-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ বলতেন-যে ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় তারপর তা স্মরণ হয় ইমামের সাথে জামাতে নামাযরত অব্স্থায়, তাহলে ইমাম সালাম ফিরানোর পর যে নামায ভুলে পড়েনি, তা আদায় করবে, তারপর অন্য নামায পড়বে।

মু্য়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৫৮৪

সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৩০১২

والله اعلم بالصواب

সন্তান প্রসবের পর নেফাসের রক্ত বের না হলেও কি গোসল করা আবশ্যক?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।

হুজুরের কাছে আমার প্রশ্ন হল, সন্তান প্রসবের পর যদি মহিলার নেফাসের কোন রক্ত বের না হয়, তাহলে উক্ত মহিলার উপর গোসল করা আবশ্যক কি না?

প্রশ্নকর্তা- নাম ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

বাচ্চা হবার পর নেফাসের রক্ত বের না হলেও গোসল করা আবশ্যক।

(قوله: أو ولدت لم تر دما) هذا قول الإمام، وبه أخذ أكثر المشايخ. وعند أبي يوسف، وهو رواية عن محمد لا غسل عليها لعدم الدم، وصححه في التبيين والبرهان كما بسطه في الشرنبلالية، ومشى عليه في نور الإيضاح؛ لكن في السراج أن المختار الوجوب احتياطا، وهو الأصح انتهى. (رد المحتار، كتاب الطهارة، مطلب فى ابحاث الغسل-1/307، الفتاوى الهندية-1/37

والله اعلم بالصواب

নামাযে বাজে চিন্তা আসলে করণীয় কী? নামাযরত অবস্থায় ওজু চলে গেছে মনে হলে কী করবে?

প্রশ্ন

খন্দকার শাহরিয়ার

আসসালামু আলাইকুম। একজন ব্যক্তি নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলো নিয়ে সমস্যায় আছেন। সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

১)

নামায আদায়ের সময় প্রায়ই বিভিন্ন খারাপ শব্দ/ বাজে কথা মনের মধ্যে চলে আসে। নামাযের বাইরেও মাঝে মাঝে এমন হয়। তিনি এটি নিয়ে মানসিক যন্ত্রণায় থাকেন।

২)

নামাযে দাঁড়ালে প্রায়ই মনে হয় যে, বাতাস বের হওয়ার কারণে ওযু ভেঙে গেছে। ফলে নামায ছেড়ে বারবার অযু করতে যান। কিন্তু এরকম হওয়ার মত কোন শারীরিক সমস্যা নেই।

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

নামাযের বাহিরে খারাপ কথা মনে আসলেই কবর মৃত্যুর কথা স্মরণ করুন। সাথে এটা মনে রাখুন যে, কেউ না জানুক, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনার সব কাজ, সকল অনুভূতি শুনছেন, দেখছেন। বেশি বেশি করে বুজুর্গদের লেখা কিতাব পড়তে পারেন। যেমন আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর লেখা কিতাব। হাকীম আখতার সাহেব রহঃ এর লেখা কিতাব। সাথে তাবলীগী কাজের সাথে বা হক্কানী কোন সংগঠন যেমন চরমোনাই হুজুরের ইসলামী আন্দোলন ইত্যাদির সাথে জড়িত হতে পারেন। দ্বীনী কাজে মগ্ন থাকলে ইনশাআল্লাহ দেখবেন এ সমস্যা দূরিভুত হয়ে যাবে।

আর নামাযের মাঝে সুন্নতের প্রতি খেয়াল করে নামায পড়–ন, আর সাথে সাথে স্মরণ করুন যে আল্লাহ তাআলা আপনাকে দেখছেন। আপনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কুদরতী পায়ে সেজদা করছেন। তাহলে নামাযে কু-ধারনা আসবে না আশা করি।

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, أَنْ تَعْبُدَ الله كَأَنَّكَ تَرَاهُ ، فَإِنَّكَ إِنْ لا تَكُنْ تَرَاهُ

“ইবাদত এমনভাবে কর, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো, যদি এমন হালাত না হয়, তাহলে জেনে নাও, আল্লাহ তাআলা তোমাকে দেখছেন”। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪১২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৬৪, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১২০, সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৯}

আর নামাযরত অবস্থায় যদি সুনিশ্চিতভাবে জানা না যায় যে, বায়ু বের হয়েছে। তাহলে নামায ছেড়ে দেয়ার কোন মানে হয় না। বায়ু বের হওয়ার নিদর্শন রাসূল সাঃ বলে দিয়েছেন দু’টি। তাহলো, হয়তো গন্ধ বের হবে। নতুবা আওয়াজ বের হতে হবে। এছাড়াও যদি সুনিশ্চিত ধারণা হয় যে, বায়ু বের হয়ে গেছে। তাহলেই কেবল নামায ছেড়ে অজু করতে হবে। শুধু ধারণার উপর নামায ছাড়া যাবে না।

أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ حَدَّثَهُ قَالَ رَأَيْتُ السَّائِبَ يَشُمُّ ثَوْبَهُ فَقُلْتُ لَهُ مِمَّ ذَاكَ فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ رِيحٍ أَوْ سَمَاعٍ

হযরত মুহাম্মদ বিন আমর বিন আতা বলেনঃ আমি একদা সায়েব বিন ইয়াজিদ রাঃ কে কাপড়ের ঘ্রাণ নিতে দেখে জিজ্ঞেস করলামৎ এটা কি? তখন তিনি বললেনঃ রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ অজু করা আবশ্যক হয় না বাতাস বা [বাতকর্মের] আওয়াজ ছাড়া। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৫৫০৬, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৫১২, মুসনাদুল হারেস, হাদীস নং-৮৩, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৬২৭৭, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৭৯৯৮}

والله اعلم بالصواب

গোসলের তিন ফরজের একটি আদায়ের পর বায়ু বের হয়ে গেলে এমতাবস্থায় গোসল পূর্ণ করলে গোসল হবে কি?

প্রশ্ন

ফারুক মজুমদার

প্রশ্ন :ফরয গোসলের ৩ ফরযের যে কোনটি আদায় করার সময় যদি বায়ু বের হয়ে যায় আর ঐ অবস্হায় গোসল শেষ করে, তবে কি শরীর পাক হবে? নাকি বায়ু বের হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় ফরয আদায় করে গোসল করতে হবে?

জবাব

بسم الله الرحمن الرحيم

গোসলের দ্বারা শরীর পাক হওয়ার ক্ষেত্রে বায়ু বের হওয়া ও না বের হওয়ার কোন সম্পর্কই নেই। এর দ্বারা গোসলের মাঝে কোন প্রভাব সৃষ্টি করবে না। গোসলের ফরজ আদায় করে গোসল আদায় করলে গোসল আদায় হবে যাবে। বায়ু বের হওয়ার দ্বারা মানুষ হুকুমের দিক থেকে নাপাক হয়, শারিরিক দিক থেকে নাপাক হয় না।

أن الغسل في الاصطلاح غسل البدن ، واسم البدن يقع على الظاهر والباطن إلا ما يتعذر إيصال الماء إليه أو يتعسر كما في البحر ، فصار كل من المضمضة والاستنشاق جزءا من مفهومه فلا توجد حقيقة الغسل الشرعية بدونهما ، ويدل عليه أنه في البدائع ذكر ركن الغسل وهو إسالة الماء على جميع ما يمكن إسالته عليه من البدن من غير حرج ، (رد المحتار، كتاب الطهارة، مطلب فى ابحاث الغسل-1/284

والله اعلم بالصواب

স্বপ্নদোষ হলে গোসল না করে সমস্ত কাপড় পরিবর্তন করে ওযু করে নামায আদায় করলে হবে কি?

প্রশ্ন

কাজী মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম,

কুয়েত অয়েল কোম্পানী,

আল-আহমাদী,

কুয়েত।

মুহতারাম!

আচ্ছালামু আলাইকুম! কেমন আছেন? আমরা আল্লাহর রাহমাতে ভালোই আছি। মুহতারাম! আপনার সাইট থেকে তাহাজ্জুত নামাজের নিয়ম জানতে গিয়ে আপনার ইমেইল পেলাম। এবং আপনার দলিল সহকারে বর্ণনাগুলি আমার খুবই ভালো লেগেছে এমনকি আমার অনেকদিনের কিছু প্রশ্নের জবাব সেখানে পেয়েছি বিধায় আপনার থেকে আরো উপকৃত হতে আশা করছি। তাই নিম্নে কিছু প্রশ্ন পাঠালাম আপনার সময়মত উত্তর দিলে আমরা প্রবাসে অনেকেই উপকৃত হবো ইনশাআল্লাহ॥ সেইসাথে আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি মহান আল্লাহর দরবারে।

প্রশ্ন

 স্বপ্নদোষ হলে গোসল না করে সমস্ত কাপড় পরিবর্তন করে ওযু করে নামায আদায় করলে হবে কি?

 

জবাব

 وعليكم السلام ورحة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

না, হবে না। গোসল করতে হবে। গোসল না করে যতই কাপড় পরিবর্তন করা হোক নামায পড়া জায়েজ হবে না।

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا ۚ وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا [٤:٤٣]

হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন নেশাগ্রস্ত থাক,তখন নামাযের ধারে-কাছেও যেওনা,যতক্ষণ না বুঝতে সক্ষম হও যা কিছু তোমরা বলছ,আর (নামাযের কাছে যেও না) ফরয গোসলের আবস্থায়ও যতক্ষণ না গোসল করে নাও। কিন্তু মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাক কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে কিংবা নারী গমন করে থাকে, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তি সম্ভব না হয়,তবে পাক-পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও-তাতে মুখমন্ডল ও হাতকে ঘষে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল। {সূরা নিসা-৪৩}

والله اعلم بالصواب

স্থায়ী কেপ লাগানো দাঁতের ভিতরে পানি প্রবেশ না করলে ওজু হবে কি?

প্রশ্ন:

জনাব

আসসালামু আলাইকুম

মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ডে আমার সামনের তিনটি দাত অর্ধেক ভেঙ্গে যায়। পরবর্তীতে রুট কানেল করে ডাক্তার তিনটি দাতেই স্থায়ী কেপ লাগিয়ে দেয়। এখন আমার প্রশ্ন এর কারনে কি আমার ফরজ গোসল, ওজু ইত্যাদিতে কোন সমস্যা হবে? জানালে উপকৃত হব।

যাযাকাল্লাহ
মো: মনিরুল ইসলাম
মালিবাগ,ঢাকা,বাংলাদেশ।

জবাব

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

না, কোন সমস্যা নেই। আপনার ফরজ গোসল মুখে পানি দিয়ে গড়গড়া করলেই আদায় হয়ে যাবে।

فى الفتاوى الهندية-  والصرام والصباغ ما في ظفرهما يمنع تمام الاغتسال وقيل كل ذلك يجزيهم للحرج والضرورةومواضع الضرورة مستثناة عن قواعد الشرع (الفتاوى الهندية-1/13

প্রামান্য গ্রন্থাবলী:

১- ফাতাওয়া আলমগীরী-১/১৩

২-ফাতাওয়া শামী-১/২৮৪

হায়েজের নির্ধারিত সময় শেষ হবার আগে তা বন্ধ হলে করণীয় কি?

প্রশ্ন:

From: samir
Subject: pobitrota
Country : bangladesh
Mobile :
Message Body

কারও হায়েজের নিয়ম ৫ দিন। যদি কখনও ৪ দিন পরে কোন নামাজের ওয়াক্তের শুরুতে তার হায়েজ বন্ধ হয়ে যায়,তখন পবিত্র হওয়ার গোসল করার জন্য কতক্ষন অপেক্ষা করতে হবে। ওয়াক্তের শুরুতে গোসল করে নামাজ আদায় করবে,নাকি ওয়াক্তের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে?একই ঘটনা যদি ৬ দিন পরে ঘটে,তখন কি করনীয়? যদি নামাজ পড়ার অনুমতি হয়,সেই একই অনুমতি কি পবিত্র অবস্থার অন্যান্য কাজেও?‎

জবাব:

بسم الله الرحمن الرحيم

যদি হায়েজের রক্ত নিয়মমাফিক বন্ধ হলে যেমন একদম বন্ধ হয়ে যায়, তেমনি যদি প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময় যেমন ৫ দিনের আগে ও ৩দিনের পর যদি রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে উক্ত নামাযের মুস্তাহাব সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, তারপর গোসল করে নামায পড়ে নিবে। ধরা হবে তার হায়েজ বন্ধ হয়ে গেছে।

কিন্তু যদি এমনভাবে বন্ধ হয় যে, যা দ্বারা এটা বুঝা যায় না যে, রক্ত একদম বন্ধ হয়ে গেছে তাহলে হায়েজ বন্ধ হয়নি বলেই ধর্তব্য হবে। নামায পড়া লাগবে না।

৪দিন পর বন্ধ হোক বা ৬দিন পর বন্ধ হোক, যেদিনই যে সময়ই ১০ দিনের মাঝে রক্ত বন্ধ হোক না কেন, যদি গোসল করে তাকবীরে তাহরীমা বলার সুযোগ থাকে তাহলে উক্ত ওয়াক্তের নামায সে মহিলার উপর আবশ্যক হয়ে যায়। তবে গোসল করতে নামাযের মুস্তাহাব সময় অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত হায়েজ ফিরে আসে কি না? এজন্য অপেক্ষা করা জায়েজ আছে।

যেহেতু রক্ত বন্ধ হওয়ার দ্বারা নামায পড়া জায়েজ হয়ে যায়, তাই অন্যান্য সকল আমল করাও জায়েজ হয়ে যাবে, যেমন কুরআন তিলাওয়াত করা ইত্যাদি।

فى رد المحتار- ( وإن ) انقطع لدون أقله تتوضأ وتصلي في آخر الوقت وإن ( لأقله ) فإن لدون عادتها لم يحل وتغتسل وتصلي وتصوم احتياطا (رد المحتار ، كتاب الطهارة، باب الحيض-1/489-490)

 তথ্য সূত্র

ফাতওয়ায়ে শামী-১/৪৮৯-৪৯০

আল বাহরুর রায়েক-১/৩৫৩-৩৫৫

ফাতহুল কাদীর-১/১৭৩-১৭৪

والله اعلم بالصواب

অজুর পানি শরীর থেকে মুছে ফেলা ঠিক নয়?

প্রশ্ন:

From: Tamzidul Ashraf
Subject: Ozur Pani
Country : Bangladesh
Mobile :
Message Body:

(আস সালামু আলাইকুম! ভাই! আমি শুনেছি যে, অযুর পানি শরীর থেকে না মুছা ভাল। এটা কি ঠিক? না ভুল? জানালে কৃতার্থ হব।)

জবাব:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনার শোনা কথাটি সঠিক নয়। হাদিসে এসেছে যে, “রাসূল সা. অযু করে নেকড়া বা কাপড়ের টুকরা দিয়ে অযুর পানি মুছতেন”। তাছাড়া অন্য হাদিসে এসেছে যে, “অযুর পানির সাথে গোনাহ ঝরে যায়”।

আর গোনাহ ঝরা পানিকে না মুছে রেখে দেবার কোন মানে হয়না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

فى سنن الترمذى- حدثنا سفيان بن وكيع بن الجراح حدثنا عبد الله بن وهب عن زيد بن حباب عن أبي معاذ عن الزهري عن عروة عن عائشة قالت : كان لرسول الله صلى الله عليه و سلم خرقة ينشف بها بعد الوضوء (سنن الترمذى، ابواب الطهور، باب ما جاء في التمندل بعد الوضوء، رقم الحديث-53)

وفى صحيح مسلم حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو الطَّاهِرِ – وَاللَّفْظُ لَهُ – أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِى صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ « إِذَا تَوَضَّأَ الْعَبْدُ الْمُسْلِمُ – أَوِ الْمُؤْمِنُ – فَغَسَلَ وَجْهَهُ خَرَجَ مِنْ وَجْهِهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ نَظَرَ إِلَيْهَا بِعَيْنَيْهِ مَعَ الْمَاءِ – أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ – فَإِذَا غَسَلَ يَدَيْهِ خَرَجَ مِنْ يَدَيْهِ كُلُّ خَطِيئَةٍ كَانَ بَطَشَتْهَا يَدَاهُ مَعَ الْمَاءِ – أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ – فَإِذَا غَسَلَ رِجْلَيْهِ خَرَجَتْ كُلُّ خَطِيئَةٍ مَشَتْهَا رِجْلاَهُ مَعَ الْمَاءِ – أَوْ مَعَ آخِرِ قَطْرِ الْمَاءِ – حَتَّى يَخْرُجَ نَقِيًّا مِنَ الذُّنُوبِ (صحيح مسلم، كتاب الطهارة، باب خُرُوجِ الْخَطَايَا مَعَ مَاءِ الْوُضُوءِ، رقم الحديث-600)

প্রামান্য গ্রন্থাবলী:

১. তিরমিযী শরীফ-হাদিস নং-৫৩

২. সহীহ মুসলিম শরীফ, হাদিস নং-৬০০

৩. সুনানে বায়হাকী, হাদিস নং-৮৪০

৪. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং-৭১৪

৫. সুনানে দারে কুতনী, باب التنشف من ماء الوضوء হাদিস নং-১

والله اعلم بالصواب

মগে হাত দিয়ে অজু করার হুকুম কি?

প্রশ্ন:

 From: Shamim Ahmed
Subject: Ozu
Country : Bangladesh
Mobile :
Message Body:

‎ওযু করার সময় এক মগ পানি নিয়ে মগের ভিতর হাত দিয়ে সেই পানি দিয়ে ওযু (হাত ধোয়া, কুলি করা, নাকে পানি দেয়া——) করা যাবে কিনা?‎

জবাব:

بسم الله الرحمن الرحيم

হাতের মাঝে স্পষ্ট নাপাক না থাকলে হাত দিয়ে অযু করলে পানি নাপাক হবেনা। সুতরাং তা দিয়ে অযু গোসল করা সহীহ হবে।  তবে এরকম না করা উচিত।

আর যদি হাতে স্পষ্ট নাপাকি থাকে, তাহলে তা ঢুকিয়ে দিলে পাত্র নাপাক হয়ে যাবে।

فى بدائع الصنائع-ولو أدخل جنب أو حائض أو محدث يده في الإناء قبل أن يغسلها وليس عليها قذر أو شرب الماء منه فقياس أصل أبي حنيفة وأبي يوسف أن يفسد وفي الاستحسان لا يفسد

 وجه القياس أن الحدث زال عن يده بإدخالها في الماء وكذا عن شفته فصار مستعملا

 وجه الاستحسان ما روي عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت كنت أنا ورسول الله نغتسل من إناء واحد وربما كانت تتنازع فيه الأيدي

 وروينا أيضا عن عائشة رضي الله عنها أنها كانت تشرب من إناء وهي حائض وكان رسول الله يشرب من ذلك الإناء وكان يتتبع مواضع فمها حبا لها ولأن التحرز عن إصابة الحدث والجنابة والحيض غير ممكن وبالناس حاجة إلى الوضوء والاغتسال والشرب وكل واحد لا يملك الإناء ليغترف الماء من الإناء العظيم ولا كل أحد يملك أن يتخذ آنية على حدة للشرب فيحتاج إلى الاغتراف باليد والشرب من كل آنية فلو لم يسقط اعتبار نجاسة اليد والشفة لوقع الناس في الحرج حتى لو أدخل رجله فيه يفسد الماء لانعدام الحاجة إليه في الإناء ولو أدخلها في البئر لم يفسده كذا ذكر أبو يوسف في الأمالي لأنه يحتاج إلى ذلك في البئر لطلب الدلو فجعل عفوا ولو أدخل في الإناء أو البئر بعض جسده سوى اليد والرجل أفسده لأنه لا حاجة إليه (بدائع الصنائع-كتاب الطهارة، فصل وأما الطهارة الحقيقية-1/213-214)

وفى مسند الطيالسىحدثنا أبو داود قال حدثنا شعبة عن عاصم الأحول عن معاذ عن عائشة قالت : كنت انا ورسول الله صلى الله عليه و سلم نغتسل من اناء واحد حتى يقول ابقى لي ابقى لي (مسند الطيالسى، معاذة العدوية عن عائشة رضي الله عنها-رقم الحديث-1573،1/220)

প্রামান্য গ্রন্থাবলী:

১. বাদায়েউস সানায়ে’-১/২১৩-২১৪

২. ফাতওয়ায়ে তাতারখানিয়া-১/৩৩১

৩. মুসনাদে তায়ালিসী-হাদিস নং-১৫৭৩

৪. তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-৫১

والله اعلم بالصواب

ওষুধ খেয়ে হায়েজ বন্ধ করে মহিলারা যদি রমজানের রোযা রাখে তাহলে কি রোযা হবে?

প্রশ্ন

ওষুধ খেয়ে হায়েজ বন্ধ করে মহিলারা যদি রমজানের সকল রোযা রাখে তাহলে কি রোযা হবে? নাকি পরে আবার কাজা করতে হবে? বিষয়টি পরিস্কারভাবে ভাল হতো।

জবাব
بسم الله الرحمن الرحيم

প্রতি মাসে মহিলাদের হায়েজ হওয়াটা স্বাভাবিক প্রাকৃতিক বিষয়। এটা আল্লাহ তাআলার নেজাম। রমজানে এটাকে বন্ধ করে রাখাটা উচিত হবে না। এতে শারিরীকভাবে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা যেহেতু হায়েজের কারণে রোযা না রাখার অনুমতি প্রদান করেছেন, তাই সে সময় হায়েজ স্বাভাবিক রেখে রোযা না রাখাটাই উচিত। পরে তা কাযা করে নিবে। ইনশাআল্লাহ এতে সওয়াব হবে বেশি। কারণ রমজানে সবার সাথে রোযা রাখা সহজ। কিন্তু রমজানের পর একা একা রোযা রাখাটা কঠিন। আর যে ইবাদত পালন যত কষ্টকর, তার সওয়াবও তত বেশি।

তবে যদি কোন মহিলা রমজান আসার আগেই এবং হায়েজ শুরু হওয়ার আগে ওষুধ খেয়ে তা বন্ধ করে দেয়, তাহলে তার জন্য রোযা রাখা জায়েজ হবে। কোন সমস্যা নেই।
কিন্তু যদি রমজান চলে আসে, আর রক্ত জারি হয়ে যাওয়ার পর ওষুধ খেয়ে বন্ধ করে দেয়, তাহলে হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা কমপক্ষে ৩ দিন পর্যন্ত রোযা রাখতে পারবে না। এর পর থেকে রাখতে পারবে। {কিতাবুল ফাতওয়া-৩/৪০৫}

والله اعلم بالصواب

বৃষ্টির কারণে রাস্তায় জমা কাদা-মাটি ও পানির হুকুম কী?

প্রশ্ন:

 বৃষ্টির কারণে রাস্তায় জমা কাদা-মাটি ও পানির হুকুম কী? এগুলো কাপড়ে বা গায়ে লাগলে ধোয়া ছাড়া নামায পড়া যাবে কী?

জবাব:

بسم الله الرحمن الرحيم

বৃষ্টিপাতের ফলে রাস্তায় জমা কাদা-মাটি ও পানি পাক। শরীরে বা কাপড়ে লাগলে তা ধৌত করা ছাড়া নামায পড়া জায়েজ। কেননা এ থেকে বাঁচা অসম্ভব। তবে ধুয়ে নেয়া উত্তম।

কিন্তু যদি পানিতে স্পষ্ট নাপাক দেখা যায় বা নিশ্চিত নাপাক স্থানে পানি জমে, তবে সে পানি লাগলে তা ধোয়া ছাড়া নামায হবেনা।

فى رد المحتار- ( قَوْلُهُ : وَطِينُ شَارِعٍ ) مُبْتَدَأٌ خَبَرُهُ قَوْلُهُ : عَفْوٌ وَالشَّارِعُ الطَّرِيقُ ط .وَفِي الْفَيْضِ : طِينُ الشَّوَارِعِ عَفْوٌ وَإِنْ مَلَأَ الثَّوْبَ لِلضَّرُورَةِ وَلَوْ مُخْتَلِطًا بِالْعَذِرَاتِ وَتَجُوزُ الصَّلَاةُ مَعَهُ ……….. أَقُولُ : وَالْعَفْوُ مُقَيَّدٌ بِمَا إذَا لَمْ يَظْهَرْ فِيهِ أَثَرُ النَّجَاسَةِ كَمَا نَقَلَهُ فِي الْفَتْحِ عَنْ التَّجْنِيسِ .(رد المحتار-1/530-531

প্রামান্য গ্রন্থাবলী:

১. ফাতওয়ায়ে শামী-১/৫৩০-৫৩১

২. ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৪৩

৩. হেদায়া-১/৭৬

৪. আহসানুল ফাতওয়া-২/৮৩,১০১

৫. ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-৫/১২৮,২৭৩

والله اعلم بالصواب

এন্ডোসকপি করালে ওজু ভেঙ্গে যাবে?

প্রশ্ন

এন্ডোসকপি নামক একটি মেডিকেল টেষ্ট আছে, যার দ্বারা মুখের ভিতর দিয়ে পাইপ পেটে প্রবেশ করানো হয়, এখন প্রশ্নহল, এন্ডোসকপি করানোর দ্বারা কি রোগীটির অজু ভেঙ্গে যাবে?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

হ্যাঁ, এন্ডোসকপি করানোর দ্বারা রোগীটির অজু ভেঙ্গে যাবে। কারণএন্ডোসকপির পাইপটি পাকস্থলি পর্যন্ত পৌঁছে। আর পাকস্থলি হল নাপাকের স্থান। তাই এন্ডোসকপির পাইপটি বের করার সময় যদিও তা পরিস্কার দেখা যায়, কিন্তু তাতে নাপাক থাকা অস্বাভিক নয়। তাই অজু ভেঙ্গে গেছে বলেই ধর্তব্য হবে।

وَكَذَلِكَ خُرُوجُ الْوَلَدِ، وَالدُّودَةِ، وَالْحَصَا، وَاللَّحْمِ، وَعُودِ الْحُقْنَةِ بَعْدَ غَيْبُوبَتِهَا؛ لِأَنَّ هَذِهِ الْأَشْيَاءَ.وَإِنْ كَانَتْ طَاهِرَةٌ فِي أَنْفُسِهَا لَكِنَّهَا لَا تَخْلُو عَنْ قَلِيلِ نَجَسٍ يَخْرُجُ مَعَهَا، (بدائع الصنائع-1-35

والله اعلم بالصواب

ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরে ওষুধ প্রবেশ করালে বা রক্ত বের করলে অজু ভেঙ্গে যাবে?

প্রশ্ন

ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরে ওষুধ প্রবেশ করালে অজু ভাঙ্গবে কি? ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীর থেকে রক্ত বের করলে অজুর হুকুম কি?

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে শরীরে অষুধ প্রবেশ করালে অজু ভাঙ্গবে না। কারণ ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে যদি সূচের আগা দিয়ে অল্প রক্ত বেরও হয়, সেটি প্রবাহিত পরিমাণ হয় না। তাই এতে অজু ভাঙ্গে না। যদি প্রবাহিত হয়ে যেত এমন পরিমাণ হয়, তাহলে এতে অজু ভেঙ্গে যাবে।

তবে যদি সিরিঞ্জের মাধ্যমে রক্ত বের করে আনা হয়, তাহলে এর দ্বারা অজু ভেঙ্গে যাবে। কারণ এই পরিমাণ রক্ত বের হয়, যা প্রবাহিত পরিমাণ হয়ে থাকে।

القراد إذا مص عضو إنسان فامتلأ دما إن كان صغيرا لا ينقض وضوءه كما لو مصت الذباب أو البعوض وإن كان كبيرا ينقض وكذا العلقة إذا مصت عضو إنسان حتى امتلأت من دمه انتقض وضوءه الخ

إذا خرج من الجرح دم قليل فمسحه ثم خرج أيضا ومسحه فإن كان الدم بحال لو ترك ما قد مسح منه سال انتقض وضوءه وإن كان لا يسيل لا ينتقض وضوءه (الفتاوى الهندية، كتاب الطهارة، الفصل الخامس في نواقض الوضوء-1/6

والله اعلم بالصواب

অজু সংক্রান্ত বিসমিল্লাহিল আলিয়্যিল আজীম নামক দুআর প্রমাণ আছে কি?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম,

আমার অযু নিয়ে আরেকটি প্রশ্নঃ

অযু সংক্রান্ত একটি দু’আ ছোটবেলা থেকেই মুখস্থ করে আসছি। দু’আটি হলোঃ

“বিসমিল্লাহিল আলিয়্যিল আযিম, ওয়াল আলহামদু লিল্লাহি আলা দ্বীনিল ইসলাম।

আল ইসলামু হাক্কুও ওয়াল কুফরু বাতিলুন, ওয়াল ইসলামু আলা কুফরু যুলমাহ।”

এই দু’আাটির কোন রেফারেন্স কি আছে, নাকি আমি এত বছর ধরে একটি বিদ’আত আমল করছি? এই বিষয়টি নিয়ে অনেক টেনশনে আছি আমাকে টেনশন মুক্ত করবেন আশা করছি।

মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

আপনার বলা দুআটির কোন রেফারেন্স আমরা খুজে পাইনি। তবে অজু করার শুরুতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়ার কথা হাদীসে এসেছে। {আবু দাউদ-১/১৪, তিরমিজী-১/১৩, কিতাবুল আজকার-২/২}

আর অজুর মাঝে পড়বে

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي ، وَوَسِّعْ لِي فِي دَارِي ، وَبَارِكْ لِي فِي رِزْقِي

বাংলা উচ্চারণ– আল্লাহুম্মাগফিরলী জাম্বী ওয়া ওয়াসসি’লী ফী দারী ওয়া বারিকলী ফী রিযকী। {সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৯৯০৮, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৫০৮০, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৭২৭৩, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৯৩৯১}

অজুর শেষে উপরের দিকে তাকিয়ে পড়বে

أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

বাংলা উচ্চারণ– আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহূ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। {সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৯৯১২, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৬৯, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৭১৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৩৪, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৬০৭৪}

والله اعلم بالصواب

গর্দান মাসাহ করার হুকুম কি?

প্রশ্ন:

From: abdullah bhuiya
Subject: গরদান মাছেহ
Country : মক্কা সৌদি আরব
Message Body:

গরদান মাছেহ করার হুকুম দলীলসহ জানতে চাই

জবাব:

بسم الله الرحمن الرحيم

গর্দান মাসাহ করা সুন্নাত।

عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ قَالَ: “مَنْ مَسَحَ قَفَاهُ مَعَ رَأْسِهِ وُقِيَ الْغُلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ (أخرجه أبو عبيد في “كتاب الطهور” ص “373” رقم “368)

قُلْتُ: فَيَحْتَمِلُ أَنْ يُقَالَ هَذَا وَإِنْ كَانَ مَوْقُوفًا فَلَهُ حُكْمُ الرَّفْعِ لِأَنَّ هَذَا لَا يُقَالُ مِنْ قِبَلِ الرَّأْيِ فَهُوَ عَلَى هَذَا مُرْسَلٌ (التلخيص الحبير، كتاب الطهارة، باب سنن الوضوء، رقم الحديث-97

অনুবাদ-হযরত মুসা বিন তালহা বলেন-যে গর্দান মাসাহ করবে, সে কিয়ামতের দিন গলায় বেড়ি পরানো থেকে মুক্ত থাকবে। {কিতাবুত তুহুর-৩৭৩, হাদীস নং-৩৬৭}

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন-বর্ণনাটি সম্পর্কে একথা বলা যায় যে, যদিও তা একজন তাবেয়ীর কথা হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে তা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর হাদীস গণ্য হবে। কেননা, তিনি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এমন সংবাদ দেওয়া সম্ভব নয়। {আত তালখীসুল হাবীর-১/৯২, হাদীস নং-৯৭}

এছাড়া আল্লামা বাগাভী রহঃ, ইবনে সাইয়িদুন্নাস রহঃ, শাওকানী রহঃ প্রমূখও অযুতে গর্দান মাসাহ করার কথা বলেছেন। {নাইলুল আওতার-১/২০৪}

কথিত আহলে হাদীসদের বড় ইমাম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান এ মতকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন-গর্দান মাসাহ করাকে বিদআত বলা ভুল। আত তালখীসুল হাবীর গ্রন্থের উপরোক্ত বর্ণনা ও অন্যান্য বর্ণনা এ বিষয়ের দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া এর বিপরীত বক্তব্য হাদীসে আসেনি। {বুদূরুল আহিল্যাহ-২৮}

والله اعلم بالصواب

সারাক্ষণ পায়ুপথে বাতাস বের হবার সন্দেহ হলে করণীয় কি?

প্রশ্ন

From: ফয়সাল আহমেদ
Subject: নামাজ ভঙ্গ  হবে কখন বুঝার উপায়?
Country : বাসাবো, ঢাকা, বাংলাদেশ
Mobile : 01914390831
Message Body:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,

আমরা যখন নামাজ পড়ি, তখন অনেক সময় মনে হয় পিছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু বের হয়েছে, তবে কোন আওয়াজ বা গন্ধ বের হয় নাই,অথবা হালকা আওয়াজ আসছে যাকিনা মনে হচ্ছে ভিতর থেকে আসছে, এক্ষেত্রে
1. নামাজ না ভেঙ্গে নামাজ পড়তে থাকলে কি হতে পারে?
2. অথবা কখন বুঝবো নামাজ ভাংতে হবে?
3. আর যদি সেদিন পেট সারাদিন ঘুট ঘুট করে অসুস্থতার কারনে, বার বার অজু ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিধায় জামাতে নামাজ/একা নামাজ পড়তে থাকলে কি সমস্যা হতে পারে?
4. অন্য কোন সমাধান আছে যদি নামাজে মনে হয় বার বার বায়ু বের হচ্ছে, পেটে যদি সমস্যা থাকে।

  1. কি করতে পারি যখন মনে হয় পিছনে দিয়ে বায়ু বের হচ্ছে জামাত অথবা নামাজ ছেড়ে দিবো কিনা?

সমাধান দিলে উপকৃত হবো

জবাব

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

ওয়া আলাইকুম আস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

মৌলিকভাবে আপনার প্রশ্নটি হল ৩ টি। যথা-

১-আওয়াজ ও গন্ধ না হয়ে পিছনের রাস্তা দিয়ে বাতাস বের হলেও কি অযু ভাঙ্গবে?

২-যদি কারো অনবরত এমনটি হতে থাকে তাহলে তার ক্ষেত্রে বিধান কি?

৩-নামাযের মাঝে এমন হলে করণীয় কি?

উত্তরগুলো খেয়াল করুন উত্তরের শুরুতে প্রশ্ন বিন্যাস অনুযায়ী-

১ নং এর উত্তর

আওয়াজ বা গন্ধ বের হওয়া জরুরী নয়, বরং যদি নিশ্চিত ধারণা হয় যে, পিছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু বের হয়েছে তাহলে অযু ভেঙ্গে যাবে। শুধুমাত্র ধারণা বশতঃ হলে অযু ভাঙ্গবে না। {ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ-১/১৪৭}

فى رد المحتار-  وينقضه خروج نجس الخ___  ( و ) خروج غير نجس مثل ( ريح أو دودة أو حصاة من دبر لا ) خروج ذلك من جرح ، ولا خروج ( ريح من قبل ) الخ___لو خرج ريح من الدبر وهو يعلم أنه لم يكن من الأعلى فهو اختلاع فلا ينقض، (الفتاوى الشامية، كتاب الطهارة، مطلب نواقض الوضوء-1/260-264

২ নং এর উত্তর

যে ব্যক্তির অনবরত বায়ু বের হয় পিছনের রাস্তা দিয়ে বা রক্ত ঝরে বা প্রশ্রাব ঝরে, বা এ জাতীয় কোন রোগে আক্রান্ত যার কারণে এতটুকু সময় পাক থাকা সম্ভব নয়, যাতে সে সময়ের ফরজ নামাযটি আদায় করা যায়। শরীয়তের পরিভাষায় উক্ত ব্যক্তি মাজুর। এরকম মাজুর ব্যক্তির হুকুম হল নামাযের সময় হয়ে গেলে অযু করবে আর সে অযু দিয়ে সামনের নামাযের সময় শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত নামায পড়তে পারবে। নামায ভাঙ্গবে না। কিন্তু পরের নামাযের সময় হয়ে গেলেই অযুটি ভেঙ্গে যাবে। আবার নতুন করে অযু করে নামায পড়তে হবে। এভাবে মাজুর ব্যক্তি নামায আদায় করবে।

فى حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-وتتوضأ المستحاضة ومن به عذر كسلس بول واستطلاق بطن لوقت كل فرض ويصلون به ما شاءوا من الفرائض والنوافل

 ويبطل وضوء المعذورين بخروج الوقت فقط  متى يثبت العذر 

 ولا يصير معذورا حتى يستوعبه العذر وقتا كاملا ليس فيه انقطاع بقدر الوضوء والصلاة وهذا شرط ثبوته

 وشرط دوامه وجوده في كل وقت بعد ذلك ولو مرة

 وشرط انقطاعه وخروج صابحه عن كونه معذورا خلو وقت كامل عنه

 (حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح ، كتاب الطهارة، باب الحيض والنفاس والاستحاضة-148-151)

তথ্যসূত্র

১-হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-১৪৮-১৫১

২-ফাতওয়ায়ে শামী-১/৫০৪-৫০৫

৩-মাজমাউল আনহুর-১/৮৪

৪-ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-১০/২৬১

৩ নং প্রশ্নের জবাব

নামাযের মাঝে অযু ভেঙ্গে গেলে নামায ছেড়ে দিয়ে আবার অযু করে এসে পূর্ব নামাযের উপর বেনা করতে পারবে। তথা যেমন ফজরের দুই রাকাত নামাযের এক রাকাত পড়ার পর অযু ভেঙ্গে গেছে, তাহলে কথাবার্তা না বলে নিকটবর্তী অযুখানা থেকে অযু করে এসে নামাযে শরীক হয়ে যাবে। তাহলে নতুন করে নামায শেষে প্রথমে আদায় করা এক রাকাত নামায আর দ্বিতীয়বার আদায় করতে হবে না। ধরা হবে মূলত নামায ভঙ্গই হয়নি হুকুমের দিক থেকে। আর যদি এসে দেখা যায় যে, ইমাম সাহেব আখেরী বৈঠকে বসে গেছে, তাহলে নিজে নিজে রুকু সেজদা দিয়ে ইমাম সাহেবের সাথে তাশাহুদে বসে যাবে। এবং ইমামের সাথে সালাম ফিরাবে। নামায হয়ে যাবে। কোন সমস্যা নেই।

فى الفتاوى الهندية- من سبقه حدث توضأ وبنى كذا في الكنز والرجل والمرأة في حق حكم البناء سواء (الفتاوى الهندية، كتاب الصلاة، الباب السادس في الحدث في الصلاة-93، والبحر الرائق، كتاب الصلاة، باب الحدث فى الصلاة-1/642

والله اعلم بالصواب

মেহ-প্রমেহ রোগাক্রান্ত ব্যক্তি কিভাবে নামায পড়বে?

প্রশ্ন

From: Md Shahadat
Subject: Namaj
Country : France
Mobile :
Message Body:

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ্।

জনাব,যথাবিহীত সম্মানপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, জনৈক ব্যাক্তি মেহ-প্রমেহ রোগে আক্রান্ত।
অর্থাৎ,তিনি নামাযের ওয়াক্তের মধ্যে এতটুকু সময় পান না যে সময়ের মধ্যে নামাযের ফরজ পড়তে পারেন। এমতাবস্থায় তাঁর জন্য নামাযের ইমামতি করা কি বৈধ হবে। অনুগ্রহ করে কোরআন-হাদীসের আলোকে বিষয়টির সমাধান দানে উপকৃত করবেন ।

জবাব:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

যে ব্যক্তির অনবরত রক্ত ঝরে বা প্রশ্রাব ঝরে, বা এ জাতীয় কোন রোগে আক্রান্ত যার কারণে এতটুকু সময়  পাক থাকা সম্ভব নয়, যাতে সে সময়ের ফরজ নামাযটি আদায় করা যায়। শরীয়তের পরিভাষায় উক্ত ব্যক্তি মাজুর। এরকম মাজুর ব্যক্তি কোন সুস্থ্য ব্যক্তির ইমাম হওয়া জায়েজ নয়। যদি সুস্থ্য ব্যক্তি এরকম মাজুর ব্যক্তির পিছনে নামায পড়ে তাহলে উক্ত ব্যক্তির নামায হবে না। কারণ সুস্থ্য ব্যক্তি শক্তিশালী পবিত্রতার দিক থেকে, আর মাজুর ব্যক্তি দুর্বল। আর শক্তিশালীর দুর্বলের পিছনে ইক্তিদা করা সহীহ হবে না। তবে এরকম অন্য মাজুর ব্যক্তির ইক্তিদা মাজুর ব্যক্তির পিছনে সহীহ আছে।

فى البحر الرائق ( وطاهر بمعذور ) أي فسد اقتداؤه به لأن أصحاب الأعذار كمن به سلس البول والمستحاضة يصلون مع الحدث حقيقة لكن جعل الحدث الموجود حقيقة كالمعدوم حكما في حقهم للحاجة إلى الأداء فلا يتعداهم وهذا لأن الصحيح أقوى حالا منهم فلا يجوز بناء القوي على الضعيف وهو الحرف في جنس هذه المسائل ويجوز اقتداء  المعذور بالمعذور إن اتحد عذرهما (تبيين الحقائق، كتاب الصلاة، باب الإمامة والحدث في الصلاة -1/358-359

তথ্যসূত্র

১-আল বাহরুর রায়েক-১/৬২৮

২-তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-২৩৪

৩-ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১/৮৪,

৪-ফাতওয়ায়ে তাতারখানিয়া-২/২৫৮

৫-তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/৩৫৮-৩৫৯

৫-ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-১০/২৬১

والله اعلم بالصواب

হায়েজ ও নেফাসকালীন সময়ে বিয়ের হুকুম কি?

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম।

আমার প্রশ্ন হল, হায়েজ নিফাসকালীন বিবাহ [আকদ] শুদ্ধ কি না?

প্রশ্নকর্তা-আলাউদ্দীন আহমাদ

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

এ বিষয়টি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ ব্যাপার। কোন মহিলার বিবাহ তার উপর নির্ভরশীল হুকুম।

কারণ এখানে হায়েজ নেফাসওয়ালী মহিলা দুই ধরণের হবে। যথা-

১-   তালাকের ইদ্দত পালনকারী মহিলা।

২-    অবিবাহিত বা ইদ্দত শেষ হয়ে যাওয়া মহিলা।

১ম প্রকার মহিলার বিধান

যদি তালাক পরবর্তী হায়েজের মাধ্যমে ইদ্দত সম্পন্ন করাকালীন সময়ে বিবাহ করে তাহলে বিবাহটি শুদ্ধ হবে না। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর বিবাহ করতে হবে।

وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنْتُمْ فِي أَنْفُسِكُمْ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ سَتَذْكُرُونَهُنَّ وَلَكِنْ لَا تُوَاعِدُوهُنَّ سِرًّا إِلَّا أَنْ تَقُولُوا قَوْلًا مَعْرُوفًا وَلَا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي أَنْفُسِكُمْ فَاحْذَرُوهُ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ (235)

আর যদি তোমরা আকার ইঙ্গিতে সে নারীর বিয়ের পয়গাম দাও, কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ, তবে তাতেও তোমাদের কোন পাপ নেই, আল্লাহ জানেন যে, তোমরা অবশ্যই সে নারীদের কথা উল্লেখ করবে। কিন্তু তাদের সাথে বিয়ে করার গোপন প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখো না। অবশ্য শরীয়তের নির্ধারিত প্রথা অনুযায়ী কোন কথা সাব্যস্ত করে নেবে। আর নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্তি পর্যায়ে না যাওয়া অবধি বিয়ে করার কোন ইচ্ছা করো না। আর একথা জেনে রেখো যে, তোমাদের মনে যে কথা রয়েছে, আল্লাহর তা জানা আছে। কাজেই তাঁকে ভয় করতে থাক। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ ক্ষমাকারী ও ধৈর্য্যশীল। {সূরা বাকারা-২৩৫}

২য় প্রকার মহিলার বিধান

এ প্রকার মহিলাদের ক্ষেত্রে হায়েজ বা নিফাস চলাকালীন সময়ে বিবাহ শুদ্ধ। কিন্তু সহবাস করা হারাম।

وفى رد المحتار ويمنع الحيض قربان زوجها ما تحت إزارها، (رد المحتار، كتاب الطهارة، باب الحيض-1/486، البحر الرائق، كتاب الطهارة، باب الحيض-1/197، الفتاوى الهندية، كتاب الطهارة، الباب السادس، الفصل الرابع فى احكام الحيض والنفاس والإستحاضة-1/39)

فى تنوير الأبصار- ودخول مسجد…وقربان ما تحت ازار الخ وحكمه كالحيض في كل شيء (رد المحتار، كتاب الطهارة، باب الحيض-1/496

والله اعلم بالصواب

মাসিকের সময় কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে? একটি দালিলিক বিশ্লেষণ

প্রশ্নঃ

মাসিকের সময়ে কি কুরআন তিলাওয়াত করা যাবে?

আমি বেশ কিছুদিন যাবত ফেইসবুকে উপরোক্ত বিষয়ে কিছু পোস্ট দেখে বিব্রত বোধ করছি। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আপনি যদি বিস্তারিত লিখে জানান তাহলে খুব ভাল হয়। রেফারেন্স হিসেবে লিখাটি আমি এটাচ করে পাঠিয়েছি।

লেখাটির পূর্ণ বিবরণ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

কুরআনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমি খেয়াল করলাম যে এই একটা বিষয় নিয়ে আমরা আসলে খুব কম জানি। যা জানি, সেটাও সেই ছোটবেলায় মা চাচীর মুখে শোনা “ফতোয়া।” আসলে ব্যাপারটা কী, সেটা আমরা জানতে পারি না। তাই আমি যতটুকু জানি, বিভিন্ন জায়গা থেকে, সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

শেখ মুহাম্মাদ মুস্তাফা আল জিবালি তাঁর বই Worship during Menses এ বলেনঃ

মাসিকের সময় কুরআন ধরাঃ

এই বিষয়ে আলীমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। যারা নিষেধ করেন, তাঁরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেনঃ

১) মুসহাফের ব্যাপারে, বাইন্ডিং সহ। (মুসহাফ হল যেটাতে শুধু কুরআনের টেক্সট থাকে)

২)মুসহাফ কিন্তু বাইন্ডিং ছাড়া।

৩) কুরআনের যেকোনো আয়াত, এক বা একের অধিক। এর মাঝে তাফসীর বা অনুবাদের বইগুলোও রয়েছে।

কুরআন ধরা যাবে না, এর প্রমাণ পেশ করা হয় কুরআনের একটি আয়াত দ্বারাঃ

নিশ্চয় এটা সম্মানিত কুরআন, যা আছে এক গোপন কিতাবে, যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না। (সূরা আল অয়াকিয়াঃ ৭৭-৭৯)

যারা বলেন যে কুরআন মাসিকের সময় ধরা যাবে, তাঁরা বলেন যে, এই আয়াত নিম্ন লিখিত কারণে প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যাবে নাঃ

১)এই আয়াতে “গোপন কিতাব” বলতে যেই কিতাবকে বুঝানো হয়েছে, সেটা হল “আল লাওহ আল মাহফুজ” যা কিনা আমাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ইমাম মালিক বলেছেন যে এর সবচেয়ে উত্তম ব্যাখ্যা যা তিনি শুনেছেন তা হল,

(It is) in Records held (greatly) in honour (Al-Lauh Al-Mahfuz).

Exalted (in dignity), purified,

In the hands of scribes (angels).

Honourable and obedient.

(সূরা আবাসাঃ ১৩-১৬)

২) এই আয়াতে পাক পবিত্র মানুষের কথা আসেনি। এখানে ফেরেশতাদের কথা বলা হয়েছে। “mutahharun –the purified” টার্মটা কোনও মানুষের জন্য প্রযোজ্য নয় এই পৃথিবীতে। মানুষের জন্য প্রযোজ্য “mutahhirun– purify themselves” যেমন আল্লাহ বলেছেনঃ

…Truly, Allah loves those who turn unto Him in repentance and loves those who purify themselves

সূরা আল বাকারা, ২২২

মানুষ স্বভাবগতভাবে পবিত্র না, যেমন কিনা ফেরেশতারা। মানুষ পবিত্রতা অর্জনের চেষ্টা করতে থাকে।

সূরা আল ওয়াকিয়ার এই আয়াতগুলো সম্পর্কে ইবন কাসীর বলেছেনঃ

Indeed, this Quran that has been revealed to Muhammad is surely a great book. It is dignified in a dignified Register that is preserved and respected. This Register–that is in Heaven– cannot be touched except by the purified Angels. This meaning was stated by Ibn Abbas, Anas, Mujahid, Ikrimah, Sa’d bin Jubair, Ad Dahhak, Abu ash-Shatha, ABu Nuhayk, As Suddi, Adb ur Rahman Bin Zayd Bin Aslam and others.

আর শেখ আলবানি বলেছেনঃ

This ayah is an informative sentence and not a command. Allah informs us that the Qur’an in al lawh al Mahfuz is only touched by the purified angels who are close to Him. As for the Mushaf, that is in our hands, it is touched by the righteous and evil, believers and non believers.

৩) এই আয়াতে আল লাওহ আর মাহফুজের মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। কোনও বিধি নিষেধ রূপে আসেনি আয়াতটি। বলা হয়েছে “laa yamassuhu– not touched) বলা হয়নি (laa yamsashu– it may not be touched)

ইবনুল কাইয়্যিম এই প্রসঙ্গে বলেছেনঃ

“এই আয়াতটি informative, prohibitive না!”

অনেক উলামা বলেন যে যদিও এই আয়াতে মুসহাফের কথা আসেনি, তবু যেহেতু আল লাওহ আল মাহফুজ কেবল ফেরেশতারা ধরেন, এই পৃথিবীর পবিত্র কিতাব কেবল এই পৃথিবীর পবিত্র মানুষেরাই ধরবে। আমাদের উত্তর হল, এই একটি আয়াত দিয়ে আমরা শরিয়তের বিধি নিষেধ নির্ধারণ করতে পারি না। বড়জোর বলা যেতে পারে, কুরআন ধরার সময় অজু করাটা মুস্তাহাব।

আরেকটি প্রমাণ যা পেশ করা হয় কুরআন না ধরার পক্ষে, তা হল আল্লাহর রাসুলের লেখা একটি চিঠির কথাঃ

তহির ছাড়া আর কেউ কুরআন ধরবে না।

এর বিপক্ষে যারা তাঁরা বলেন,

১) শেখ আলবানির মতে, এই হাদিসের প্রতিটি narration দুর্বল। কিন্তু এমন প্রমাণ পাওয়া যায়না যে কোনও বর্ণনাকারী মিথ্যাবাদী। তাই এটাকে গ্রহণ করার দিকেই বেশী মত দিয়েছেন তিনি।

এটা প্রমাণ করে যে এই হাদিস অনেকেই দুর্বল হাদিস হিসেবে বিবেচনা করেন। এটাকে তাই প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

২) তহির কথাটার তিনটা পর্যায় আছেঃ

ক) প্রতিটি মুমিনই পবিত্র (সর্ব নিম্ন পর্যায়)

খ) এমন কেউ যে বড় অপবিত্রতা হতে পাক কিন্তু ছোট অপবিত্রতা হতে পাক না।

গ) সেই মুমিন যে সকল দৈহিক অপবিত্রতা মুক্ত।

এই হাদিসকে যদি প্রমাণ হিসেবে নেয়া হয়, তাহলে সেটা কোন পর্যায়ের তহিরের জন্য প্রযোজ্য তা কি কেউ বলতে পারে এই হাদিস থেকে??

নাজাস কথাটা মুশরিকদের জন্য এসেছে।

O you who believe (in Allah’s Oneness and in His Messenger (Muhammad )! Verily, the Mushrikun (polytheists, pagans, idolaters, disbelievers in the Oneness of Allah, and in the Message of Muhammad ) are Najasun (impure) .

সূরা তাওবাঃ২৮

অপর পক্ষে, আল্লাহর রাসুল (সা) বলেছেন, সুবহানআল্লাহ একজন মুমিন কখনোই অপবিত্র নয়! (বুখারি)

এই কথাটা এসেছিলো যখন আবু হুরাইরাহ(রা) তাঁকে (সা) কে বলেছেন যে “আমি আপনার কাছে বসতে চাইনি জানাবা থেকে মুক্ত হয়ে গোসল করার পূর্বে।

আমি এই বইটি থেকে দুটি প্রমাণের যুক্তিখণ্ডন তুলে ধরলাম। কারণ আমরা যখন মাসিকের সময় কুরআন ধরতে বা পড়তে যাই, তখন এই দুটা প্রমাণ খুব বেশী করে তুলে ধরা হয়।

বইটিতে আরও আছে

আইশা (রা) হতে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সা) আল্লাহর কথা বলতেন যেকোনো সময়ে এবং যেকোনো অবস্থায়। (মুস্লিম,৩৭৩)**

এখানে আরবিতে এসেছে যে আল্লাহর কথা “জিকির” করতেন (mention করা অর্থে)।

আর আল্লাহর কথা বলা আর কিছুর চেয়ে বেশী আসে কুরআনের কথা বলার ব্যাপারে, কারণ আল্লাহ বলেছেন,

Verily We: It is We Who have sent down the Dhikr (i.e. the Qur’an) and surely, We will guard it (from corruption) . সূরা হিজরঃ ৯

আইশা (রা) এই হাদিসে সব রকমের জিকির করাকেই বুঝিয়েছেন। আমরা কেন ধরে নেব যে এটা কুরআনের জন্য প্রযোজ্য নয়??

মাসিকের সময় মেয়েদের জন্য বিশেষ অনুমতিঃ

শেখ আলবানি এ প্রসঙ্গে তাঁর আলচনায় বলেনঃ

একজন মেয়ে এই সময় কী করবে? আমরা কি তাকে নিষেধ করবো এই সময় কুরআন পড়তে এবং তার অন্তরকে আলোকিত করতে? আমরা কি তাকে ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়ে নিজেকে শয়তানের হাত থেকে বাঁচাতে বাঁধা দিবো? ও কি সেই কদিন কিছুই পড়বে না?? না! ও তিলাওয়াত করবে!!

…একজন মহিলা যখন জানাবার অবস্থায় থাকে, আমরা তাঁকে বলবো পবিত্র হয়ে নিতে যেমন কিনা আমরা একজন পুরুষকেও বলবো। কিন্তু মাসিকের সময় একজনকে আমরা এই কথা কিভাবে বলবো? আমরা জানি নামায রোজা ওরা এই সময়ে করতে পারে না। কিভাবে জানি?? নিজেরা বানিয়ে নিয়েছি কি এই কথা? না!! শরিয়াতে আছে স্পষ্টভাবে!! তাহলে কুরআন তিলাওয়াত নিষেধ এই সময়ে, সেটা আমরা কোথা থেকে নিচ্ছি যখন স্পষ্টভাবে বলা নেই কিছু? যদি বলেন নামাজ রোজার মতই এটাও নিষিদ্ধ তাহলে বলুন কেন রোজা আবার রাখতে হয় কিন্তু নামায আবার পড়তে হয় না পবিত্র হওয়ার পর? আমরা নিজেদের মনের দাবীতে চলবো না, আমরা সুন্নাহ কী বলে দেখবো।

আইশা (রা) যখন বিদায় হজের সময় কাঁদছিলেন মাসিকে উপনীত হওয়ার দরুন, তখন আল্লাহর রাসুল (সা) বলেছেন

Indeed, this is something that Allah has ordained for the daughters of Adam. So do as other pilgrims do, but do not circumambulate around the House or pray until you are clean (from menses)

এখানে তিনি নামায পড়তে নিষেধ করেছেন, তাওয়াফ করতেও। কিন্তু অন্যদের মত তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেননি!

উপরে যা কিছু লিখেছি, সবই সেই একটি বই থেকে নেয়া। এসব নিয়ে প্রচুর মতভেদ আছে। আমি পক্ষে বিপক্ষে পড়াশোনা করে যা বুঝেছি, তাতে আমি উপরের শেখদের মতামতটাই মেনে চলি।

সৌদি আরবের কুরআন স্কুল গুলো দেখেছি, এমনকি মসজিদুন নববীতে দেখেছি, শিক্ষিকা, ছাত্রী সবাই এই অবস্থায় পড়ছে। পড়া যাবে এটা গ্রহণযোগ্য। ধরা যাবে কিনা, সে নিয়ে সবাই খুব সহজ উপায় বের করে নিয়েছে– হাত মোজা পরে ধরে। আর যারা তাফসীর এর বই থেকে পড়ে, তাঁরা হাত মোজা পরে না। আয়াতে হাত দেয় না, কিন্তু বই বা বইয়ের পাতা খালি হাতেই ধরে।

আর পড়ছে তো সবাই। হিফজ করছে যারা, তাঁরা প্রতিদিন বিশাল একটা সময় ব্যয় করে কুরআন নিয়ে।

অনলাইনে যখন আমি পড়েছি এই বিষয়ে, আমাদের শেখ আব্দুল ওহাব বলেছিলেন যে তাফসীর বা আরও যেকোনো বই যার মাঝে কুরআনের আয়াতের চেয়ে অন্য লেখা বেশী, সেটা যেকোনো অবস্থায় ধরা যাবে। আর কুরআন ওভাবে না ধরাই ভালো। ধরতে চাইলে হাত মোজা পরে ধরতে… তাহলে আর কোনও সমস্যা নেই।

আরও জানতে চাইলে islamqa.com এই পেজে যেয়ে খুঁজে নিতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য।

যেহেতু বিষয়টা ফিকহের, সাধারণ মানুষ হিসেবে কোনও একটা বেছে নেয়ার মাঝে ভয় লাগতেই পারে। কিন্তু আল্লাহ তো আমাদের অন্ধভাবে কিছু মেনে নিতে বলেননি! যুক্তি প্রমাণ পড়ে দেখার সুযোগ আমাদের আছে। কেন দেখবো না আমরা?? কোনোকিছু সবাই করে, শুনে আসছি মানেই তো তা ভুলের বাইরে না!

একটা মেয়ের মাসে ৭-১০ দিন চলে যায় এই অবস্থায়। যদি সত্যিই কোনও পরিষ্কার বক্তব্যে কুরআনে বা হাদিসে এসে না থাকে যে “মাসিকের সময় কুরআন পড়া না জায়েজ” আর এই নিয়ে বড় বড় আলীমরা প্রমাণ দিয়ে বলে গিয়েছেন যে জায়েজ অথবা বলেছেন যে নাজায়েজ হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ নেই, তাহলে কেন আমরা মেয়েটার জন্য সবকিছু জটিল করে তুলবো?? সন্তান হওয়ার পর ৪০ টা দিন একটা মা কুরআন পড়বে না?? কেন আমরা সেই নিয়ম জারি করবো যখন স্পষ্ট প্রমাণ নেই কোনোকিছু নিষেধ করার??

তারপরও বলছি, যা কিছু বলেছি এখানে, আমার নিজের কথা না। তাই এ নিয়ে আরও প্রশ্ন থাকলে এর উত্তর আমি নিজে থেকে দিতে পারবো না। এ শুধু আমি যা জানি, সেটা জানানোর উদ্যোগ। অনেকে সঠিক যুক্তি না বুঝেই এতদিন কোনোকিছু মেনে এসেছি– তাই আমি যেটুকু জানতে পেরেছি, সেটুকু তুলে ধরার উদ্যোগ এটা। আর হয়ত ইনশাআল্লাহ এর মাধ্যমে অনেকের সমস্যার সমাধান হবে, আল্লাহ যেন কবুল করে নেন সেই নিয়ত। আমীন।

এখানে তুলে ধরা প্রতিটি কথার রেফারেন্স আছে। যেহেতু বইটির নাম আগেই দিয়েছি, একটা একটা করে বাকি রেফারেন্স দেইনি। তবু যদি কেউ জানতে চান, তর্কের জন্য না, স্রেফ জানার জন্য, আমাকে আয়াত/হাদিস/বক্তব্যের অংশটুকু ইনবক্স করলে আমি বিস্তারিত রেফারেন্স জানিয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ।

অনেকে এই গোটা বিষয়টি নিয়ে এই একটি হাদিস দিচ্ছেনঃ “No menstruating woman or person who is junub should recite anything from the Qur’aan”

এই হাদিসটি দুর্বল। বিস্তারিত দেখে নিনঃ http://islamqa.info/en/70438

**A’isha said:The Apostle of Allah () used to remember Allah at all moments.حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ الْبَهِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ اللَّهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ .Reference : Sahih Muslim 373In-book reference : Book 3, Hadith 147USC-MSA web (English) reference : Book 3, Hadith 724(deprecated numbering scheme)

সম্মানিত মুফতী সাহেব! কুরআন ও হাদীসে আলোকে উক্ত বিষয়টির সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

প্রশ্নকর্তা- Zakia Sultana

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

عن ابن عمر : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئا من القرآن (سنن الترمذى، ابواب الطهارات، باب ما جاء في الجنب والحائض : أنهما لا يقرأن القرآن، رقم الحديث-131

অনুবাদ-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-ঋতুবতী মহিলা এবং গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি কোরআন পড়বে না।

সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১৩১,

সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৯৯১,

মুসনাদুর রাবী, হাদীস নং-১১,

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১০৯০,

মুসন্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৩৮২৩

জাহিল আর মুর্খদের জন্য দ্বীনী বিষয়ের গবেষণার অধিকার আল্লাহ তাআলা দেননি। শুধুমাত্র নবী এবং মুজতাহিদকেদায়িত্ব দিয়েছেন গবেষণা করে সিদ্ধান্ত দিতে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে

وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ ۖ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَىٰ أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنبِطُونَهُ مِنْهُمْ ۗ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا [٤:٨٣]

আর যখন তাদের কছে পৌঁছে কোন সংবাদ শাস্তি সংক্রান্ত কিংবা ভয়ের, তখন তারা সেগুলোকে [যাচাই না করেই] রটিয়ে দেয়। তারা যদি তা রাসূল বা যারা কর্তৃত্বের অধিকারী তাদের কাছে নিয়ে যেত, তবে তাদের মধ্যে যারা তার তথ্য অনুসন্ধানী তারা তার বাস্তবতা জেনে নিত। {সূরা নিসা-৮৩}

এ আয়াতে রাসূল সাঃ এবং গবেষক মুজতাহিদদের জন্য গবেষণাকে খাস করে দিয়েছেন। কারণ জাহেল ব্যক্তিরাও ধর্ম নিয়ে গবেষণা শুরু করে দিলে, কুরআনও হাদীসের বাহ্যিক অর্থ দেখেই ফাতওয়া দেয়া শুরু করলে ফলাফল কতটা ভয়াবহ হবে, উপরোক্ত উদ্ভট গবেষকের উর্বর গবেষণা এর জ্বলন্ত প্রমাণ।

যারা সারাদিন কিয়াস করা হারাম হারাম বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন সেই সব কথিত আহলে হাদীসরা যখন স্পষ্ট আয়াত ও হাদীস রেখে ¯্রফে যুক্তির উপর নির্ভর করে এ মাসআলাকে বিকৃত করার অপচেষ্টা করে থাকে, তখন শুধু অবাকই হই।

অনেকগুলো বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞতা আর মুর্খতার কারণে উক্ত গবেষকের গবেষণাটি অস্তিত্ব লাভ হয়েছে। আমরা সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-

আরবী ব্যকরণ সম্পর্কে অজ্ঞতা

কুরআন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পবিত্র কালাম। এ পবিত্র কালাম কোন অপবিত্রের জন্য ধরা জায়েজ নেই। এ বিধান মুসলমানদের জন্য। যেমন নামায রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদির বিধান মুসলমানদের জন্য। এ বিধান বিধর্মী ব্যক্তি পালন নাও করতে পারে। কিন্তু মুসলমানদের জন্য এ বিধান লঙ্ঘণ করার কোন সুযোগ নেই।

কুরআন স্পর্শ করতে হলে পবিত্র থাকতে হবে। অপবিত্র অবস্থায় কোন মুসলমানের জন্য কুরআন স্পর্শ জায়েজ নয়। যদি নিজেকে মুসলিম দাবি করে নিজেকে অমুসলিমের মতই মনে করে থাকে, তাহলে তার জন্য ভিন্ন কথা।

এ বিষয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-

لَّا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ[٥٦:٧٩]

যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না। {সূরা ওয়াকিয়া-৭৯}

অর্থ উক্ত আয়াতের শব্দেই স্পষ্ট। আরো স্পষ্ট হতে এ আয়াতের পূর্বের আয়াতের দিকে দৃষ্টি দেই-

إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ [٥٦:٧٧] فِي كِتَابٍ مَّكْنُونٍ [٥٦:٧٨]

নিশ্চয় এটা সম্মাণিত কুরআন। যা আছে এক গোপন কিতাবে {সূরা ওয়াকিয়া-৭৭-৭৮}

একথা বলার পরই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআন স্পর্শ করার আদবের প্রতি নির্দেশ দিয়ে আরবী ব্যাকরণের মুজারে’ তথা বর্তমান ও ভবিষ্যতকালীন অর্থবোধক ক্রিয়া ব্যবহার করে বলেন- যারা পাক পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করছে না এবং করবে না।

কিন্তু لَّا يَمَسُّهُ এর অনুবাদ “স্পর্শ করতে পারে না” করাটা আরবী ব্যকরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত মুর্খতা ছাড়া কিছু নয়। কোথায় ভবিষ্যত অর্থবোধক শব্দ আর কোথায় অতীত কালীন শব্দ “পারে না”। একেই বলে আদার বেপারী জাহাজের খবর নেয়।

এ বিষয়ের হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতা

হাদীসে এসেছে-

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন হাযম বলেনঃ রাসূল সাঃ আমর বিন হাযম এর কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন যে, পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন কেউ স্পর্শ করবে না”। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৬৮০, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৮৩০, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-২০৯, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১৩২১৭, আল মুজামুস সাগীর, হাদীস নং-১১৬২, মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৪৬৫, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২২৬৬}

মুয়াত্তা মালিকে বর্ণিত এ সহীহ হাদীসকেও গবেষক সাহেব আলবানী রহঃ এর একটি ভুল গবেষণার উপর ভিত্তি করে বাদ দিয়ে দিতে চাচ্ছেন। অথচ সমস্ত মুহাদ্দিসীনে কেরাম এ ব্যপারে একমত যে, মুয়াত্তা মালিকের সকল হাদীসই সহীহ।

এবার আসুন দেখি মুহাদ্দিসীনে কেরাম উক্ত হাদীসের ব্যাপারে কী মন্তব্য করেছেন?-

হযরত ইমাম আহমাদ রহঃ বলেন, আমার ধারণা মতে উক্ত হাদীসটি সহীহ। {তানকীহ তাহকীকুল তালীক-১/১৩১}

ইমাম দারেমী রহঃ বলেন, সনদটি হাসান। {সুনানে কুবরা, লিলবায়হাকী-৪/৮৯}

আবু যুরআ রাজী রহঃ বলেন, সনদটি হাসান। {সুনানে কুবরা, লিলবায়হাকী-৪/৮৯}

আবূ হাতেম রাজী রহঃ বলেন, সনদটি হাসান।{সুনানে কুবরা, লিলবায়হাকী-৪/৮৯}

আল্লামা ইবনে আসাকীর রহঃ বলেন, আমার জানা মতে উক্ত হাদীসটি সহীহ। {তারীখে দামেস্ক-২২/৩০৫}

ইবনে দাকীকুল ঈদ রহঃ বলেন, উক্ত হাদীসটি কতিপয় আহলে হাদীসদের রীতি অনুযায়ী সহীহ। {আললমাম বিআহাদীসিল আহকাম-২/৭২২}

ইবনুল মুলাক্কিন রহঃ বলেন, এটি সহীহ কিংবা হাসান। {তুহফাতুল মুহতাজ-২/৪৪৯}

আবনে আব্দিল বার রহঃ বলেন, এটি সহীহ হওয়ার দলীল হল, জমহুর উলামাগণ এটাকে গ্রহণ করেছেন। {তামহীদ-১৭/৩৯৬}

ইমাম জুরকানী রহঃ বলেন, মশহুর ও হাসান। {আলআবাতীল ওয়াল মানাকীর-১/৫৫৩}

১০

আব্দুল হক আলইশবিলীর মতে হাদীসটির সনদ সহীহ। {আলআহকামুস সুগরা- নং-১৩৫}

১১

মুয়াফফিকুদ্দীন ইবনে কুদামা রহঃ বলেন, এটি মাশহুর চিঠি। {আলমুগনী-১/২০৩}

১২

আল্লামা হায়সামী রহঃ বলেন, এর রিজালবৃন্দ সিকা। {মাযমউজ যাওয়ায়েদ-১/২৮১}

১৩

আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহঃ বলেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ। {উমদাতুল কারী-৩/৩৮৭}

১৪

আব্দুল্লাহ বিন বিন বাজ রহঃ বলেন, হাদীসটি সহীহ। {মাজমুআ ফাতাওয়া বিন বায-৪/৩৮৩, ১০/১৪৯, ১০/১৫৩} আরো দেখতে- {http://www.binbaz.org.sa/mat/130}

১৫

নাসীরুদ্দীন আলবানী রহঃ বলেন, হাদীসটি সহীহ। {ইরওয়াউল গালীল, নং-১২২, সহীহুল জামে-৭৭৮০, তাখরীজু মিশকাতুল মাসাবীহ-নং-৪৪৩}

عن عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:”لا يمس القرآن إلا طاهر“.

رواه الطبراني في الكبير والصغير ورجاله موثقون.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না। {মাযমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৫১২}

আল্লামা হাফেজ নূরুদ্দীন বিন আবু বকর হায়সামী বলেনঃ ইমাম তাবারানী কাবীর ও সাগীর উভয় গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন। আর এর সকল বর্ণনাকারী সিক্বা তথা গ্রহণযোগ্য।

হায়েজা মহিলা এবং যার উপর গোসল ফরজ উক্ত ব্যক্তির জন্যতাসবীহ ও দুআ দরূদ পড়তে কোন সমস্যা নেই। তবে কুরআন তিলাওয়াত ও নামায পড়া নিষিদ্ধ। সেই সাথে রোযা রাখাও নিষিদ্ধ।

عن إبراهيم قال : الحائض والجنب يذكران الله ويسميان (مصنف عبد الرزاق، كتاب الطهارة، باب الحائض تذكر الله ولا تقرأ القرآن، رقم الحديث-989)

অনুবাদ-হযরত ইবরাহীম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন-হায়েজ এবং গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি আল্লাহর জিকির করতে পারবে, এবং তার নাম নিতে পারবে। {মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৩০৫, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৯৮৯}

হায়েজা ও গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তির জন্য কুরআন পড়া নিষিদ্ধ হওয়ার আরেকটি স্পষ্ট হাদীস

عن ابن عمر : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئا من القرآن (سنن الترمذى، ابواب الطهارات، باب ما جاء في الجنب والحائض : أنهما لا يقرأن القرآن، رقم الحديث-131)

অনুবাদ-হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-ঋতুবতী মহিলা এবং গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি কোরআন পড়বে না। {সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১৩১, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-৯৯১, মুসনাদুর রাবী, হাদীস নং-১১, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১০৯০, মুসন্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৩৮২৩}

এরপরও যদি কোন ব্যক্তি এ হাদীসের হুকুমকে অগ্রাহ্য করার জন্য নিজের মনের পূজা করে মনগড়া ব্যাখ্যা দাঁড় করায়, তাহলে তার জন্য হিদায়াতের দুআ করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই।

গবেষকের ভুলের আরেকটি কারণ

কথিত বিজ্ঞ গবেষক সাহেব উল্লেখিত সহীহ হাদীস জানার পরও ভুলে নিপতিত হওয়ার কারণ হল, ইসলামী ফিক্বহ সম্পর্কে তার নিখাদ অজ্ঞতা। তিনি যদি ইসলামী ফিক্বহ সম্পর্কে সামান্য পড়াশোনাও করতেন, তাহলে তিনি জানতেন যে, ইসলামের ফিক্বহের পরিভাষায় অপবিত্রতা তথা নাপাক হওয়া দুই প্রকার। যথা-

১-হদসে আসগর তথা যেসব কারণে অজু আবশ্যক হয়।

২-হদসে আকবর তথা যেসব কারণে গোসল আবশ্যক হয়।

এ দুই কারণে মানুষ অপবিত্র বলে সাব্যস্ত হয়। আর কুরআনের ক্ষেত্রে নির্দেশ এসেছে যে, অপবিত্র কেউ তা স্পর্শ করবেন না, মানে যার উপর অজু আবশ্যক, এবং যার উপর গোসল আবশ্যক, তাদের কেউ পবিত্র না হয়ে কুরআন স্পর্শ করবে না।

উল্লেখিত হাদীস দিয়ে কোন প্রকার অপবিত্রতা উদ্দেশ্য তা সকল ফিক্বহের ছাত্র জানলেও, অজ্ঞতার কারণে গবেষক সাহেব জানেন না, তাই নিজের মুর্খতার পরিচয় দিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন-

“এই হাদিসকে যদি প্রমাণ হিসেবে নেয়া হয়, তাহলে সেটা কোন পর্যায়ের তহিরের জন্য প্রযোজ্য তা কি কেউ বলতে পারে এই হাদিস থেকে?”

আরো একটি অজ্ঞতা

গবেষক সাহেবের লেখাটি যত পড়েছি,ততই অবাক হয়েছি। এরকম মুর্খগুলো কি করে প্রচার করে যে, তারা সহীহ, জঈফ জাযাই করে, সঠিক বেঠিক জাযাই করে আমল করবে? যে ব্যক্তি কুরআন ও হাদীস তার মূল ভাষা তথা আরবী থেকে গ্রহণ করার মতই যোগ্যতা নেই। এরকম জাহিল ব্যক্তিও নিজেকে মুজতাহিদের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে চায়।

অজ্ঞ গবেষক প্রশ্ন রেখেছেন-

“হাদীসে এসেছে, রাসূল সাঃ সর্বদাই আল্লাহর জিকির করতেন”। [মুসলিম]

এ হাদীস দিয়ে তিনি প্রমাণ করতে চাচ্ছেন যে, যেহেতু রাসূল সাঃ সর্বাবস্থায় জিকির করতেন, আর সে সর্বাবস্থার মাঝে নাপাক অবস্থাও শামিল। সুতরাং গোসল ফরজ থাকলেও কুরআন স্পর্শ করা যাবে।

হে আল্লাহ! আমাদের মুর্খদের উদ্ভটতা থেকে হিফাযত করুন।

গবেষক সাহেবকে সাবাশ! এত সুন্দর গবেষণার জন্য। গবেষক সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন- আপনি কি স্পর্শ করা আর উচ্চারণ করা এ দুই শব্দের মাঝের কোন পার্থক্য জানেন? না বাংলা এ দুটি শব্দ সম্পর্কে আপনার কোন ধারণাই নেই?

যদি ধারণা না থাকে, তাহলে শুনুন, স্পর্শ এর সম্পর্ক ধরার সাথে। ধরার যন্ত্রটি নাপাক হলে স্পর্শ করা বস্তুটির অসম্মান হবে বা নাপাক করে দিবে। একথা একজন সাধারণ বিবেকবান মানুষই বুঝতে সক্ষম।

আর মুখে উচ্চারণের দ্বারা যে শব্দ উচ্চরণ করছে সে শব্দকে নাপাক অবস্থায় উচ্চারণ করলে অপবিত্র করে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু অসম্মান করার সুযোগ আছে। যেমন সহবাসরত অবস্থায় আল্লাহর জিকির করা নিষিদ্ধ। টয়লেটে গমন করে আল্লাহর নাম নেয়া নিষিদ্ধ।

আল্লাহর নাম উচ্চারণ করার দ্বারা কিন্তু আল্লাহর নামকে অপবিত্র করে দেয়া যায় না। কিন্তু অসম্মান করা হয়, এ কারণে তা নিষিদ্ধ।

এতটুকু পার্থক্য যদি না বুঝে থাকেন, তাহলে এরকম স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে আপনাকে কে বলল?

হাদীস আনলেন জিকির করার, অথচ দলীল দিচ্ছেন কুরআন স্পর্শ করার। এ কেমন মুর্খতা?

আশা করি এবার বুঝতে সক্ষম হবেন, আপনার এ মন্তব্যের মুর্খতা-

“আইশা (রা) এই হাদিসে সব রকমের জিকির করাকেই বুঝিয়েছেন। আমরা কেন ধরে নেব যে এটা কুরআনের জন্য প্রযোজ্য নয়??”

জিকির করা আর স্পর্শ করাকে ঘুলিয়ে ফেলার কারণে এ বোকামীসূলভ যুক্তি আপনার মাথায় খেলা করেছে।

প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের মত সম্পর্কে অজ্ঞতা

কুরআন হাদীস ও ইসলামী শরীয়ত সম্পর্কে সকল হকপন্থী মুসলমানদের নিকট স্বীকৃত চার মাযহাবের ইমামদের মত হল, পবিত্র ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা যাবে না।

قال ابن عبد البر في الاستذكار (8/10): ((أجمع فقهاء الأمصار الذين تدور عليهم الفتوى وعلى أصحابهم بأن المصحف لا يمسه إلا طاهر

আল্লামা ইবনে আব্দিল বার রহঃ বলেনঃ সমগ্র পৃথিবীর সকল ফক্বীহগণ ও তাদের অনুসারীগণ একমত এবং এর উপরই সকলে ফাতওয়া প্রদান করে থাকেন যে, কুরআনে কারীম পবিত্র হওয়া ছাড়া স্পর্শ করা জায়েজ নেই। {আল ইসতিজকার-১০/৮}

সাহাবাগণের মত সম্পর্কে অজ্ঞতা

এ সঙ্গীন বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম কী মত পোষণ করতেন? একবারও কি কথিত গবেষক সাহেব ভেবে দেখেছেন। দেখুন সাহাবায়ে কেরাম কী মত পোষণ করতেন?

“إنه قول علي وسعد بن أبي وقاص وابن عمر رضي الله عنهم، ولم يعرف لهم مخالف من الصحابة”،

ইমাম নববী রহঃ বলেনঃ পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা নিষেধ বক্তব্যটি হযরত আলী রাঃ এবং সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রাঃ এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ দের। এ মতের উল্টো কোন মত সাহাবাগণ থেকে বর্ণিত নয়। {শরহুল মুহাজ্জাব-২/৮০}

وقال شيخ الإسـلام ابن تيمية في مجموع الفتاوى (21/266): “وهو قول سلمان الفارسي، وعبد الله بن عمر، وغيرهما، ولا يعلم لهما من الصحابة مخالف

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেনঃ পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ নিষেধ বক্তব্যটির পক্ষে মত দিয়েছেন হযরত সালমান ফারসী রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ এবং অন্যান্যরা। কোন সাহাবী থেকে এর বিপরীত বক্তব্য বর্ণিত নেই। {মাজমূউল ফাতাওয়া-২১/২৬৬}

হযরত ওমর রাঃ এর ঘটনা সম্পর্কে অজ্ঞতা

হযরত ওমর রাঃ যখন কাফের থাকা অবস্থায় বোনকে কুরআন দেখাতে বলেছিলেন, তখন তার বোন বলেছিলেন যে, তুমি নাপাক! আর এ গ্রন্থ পবিত্র ছাড়া কেউ ধরতে পারে না। {মুসনাদুল বাজ্জার-১/৪০১, মুস্তাদরাকে হাকেম-৪/৬৬, সুনানে দারা কুতনী-১/১২১, তাবাকাতুল কুবরা লিইবনে সাদ-৩/২৬৭, সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী-১/৮৭}

লৌহে মাহফুজের কুরআন ধরা নিষিদ্ধ জমিনের কুরআন নয়?

এটি একটি স্বাভাবিক যুক্তি যে, যে কুরআন আসমানে পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ ধরতে পারে না। সেই কুরআন জমিনে আসার পর পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া ধরতে পারবে না। এটাই স্বাভাবিক।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেনঃ

وقال شيخ الإسـلام ابن تيمية في شرح العمدة (ص384): “الوجه في هذا، والله أعلم أن الذي في اللوح المحـفوظ هو القرآن الذي في المصحف كما أن الذي في هذا المصحف هو الذي في هذا المصحف بعينه سواء كان المحل ورقاً أو أديماً أو حجراً أو لحافاً، فإذا كان مِنْ حكم الكتاب الذي في السماء أن لا يمسه إلا المطهرون وجب أن يكون الكتاب الذي في الأرض كذلك؛ لأن حرمته كحرمته، أو يكون الكتاب اسم جنس يعم كل ما فيه القرآن سواء كان في السـماء أو الأرض، وقد أوحـــى إلى ذلك قوله تعالى: {رَسُولٌ مِنَ اللَّهِ يَتْلُو صُحُفاً مُطَهَّرَةً} [البينة:2]، وكذلك قوله تعالى: {فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ} [عبس:13-14]. فوصفها أنها مطهرة فلا يصلح للمحدث مسها

আমাদের কাছে যে কুরআন রয়েছে এটি সেই কুরআনই যা লৌহে মাহফুজে রয়েছে। যেমন কুরআন তাই, যা কুরআনের মাঝে রয়েছে, চাই তার স্থান পাতা হোক, বা চামড়া হোক, বা পাথর হোক বা মোড়ক হোক। সুতরাং আসমানে অবস্থিত লিখিত কিতাবের হুকুম যেহেতু তা পবিত্র ছাড়া কেউ স্পর্শ করে না, জমিনে থাকা কুরআনের ক্ষেত্রে একই বিধানকে আবশ্যক করে। কেননা, এ [জমিনে থাকা কুরআন] কুরআনের সম্মান সে [আসমানে থাকা কুরআন] কুরআনের মতই। অথবা আয়াতে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য হল ইসমে জিনস। যা কুরআনকে বুঝাচ্ছে, চাই তা আসমানে থাকুক বা জমিনে থাকুক। {শরহুল উমদাহ-৩৮৪}

এদিকেই ইংগিত বহন করছে আল্লাহ তাআলার বাণী رَسُولٌ مِنَ اللَّهِ يَتْلُو صُحُفاً مُطَهَّرَةً তথা আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল; যিনি পবিত্র সহীফা তিলাওয়াত করেন। {সূরা বায়্যিনাহ-২}

অন্যত্র এসেছে فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ অর্থাৎ সমুচ্চ এবং পবিত্র যা রয়েছে সম্মানিত সহীফায়। {আবাসা-১৩-১৪}

এরকম স্পষ্ট আয়াত ও সহীহ হাদীস এবং স্পষ্ট যুক্তির পরও যদি কেউ নাপাক পুরুষ ও মহিলার হাতে কুরআন তুলে দেয়ার দুঃসাহস প্রদর্শন করে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি কুরআন অবমাননাকারী ছাড়া আর কিছু নয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের অজ্ঞ গবেষকদের বিভ্রান্তিকর গবেষণা থেকে হিফাযত করুন।

والله اعلم بالصواب

ব্যবহৃত ঢিলা দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন

আমরা জানি যে মাটির পবিত্রতা হচ্ছে শুকিয়ে যাওয়া। এবং এও জানি যে ব্যাবহারিত ঢিলা দ্বিতীয়বার ব্যাবহার করা জায়েজ নেই । এখন প্রশ্ন হল। মাটির যে ঢিলাটি দ্বারা , পেশাব করে একবার কুলুখ করা হয়েছে , সেটা যদি শুকিয়ে যায় । তখন সেই ঢিলা দ্বারা কুলুখ করা কী জায়েয ?

উত্তর দানে জনাবের মর্জি হয়।

প্রশ্নকর্তা- -মুহাম্মাদ শরিফুল ইসলাম,ঢাকা বাংলাদেশ।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحمن

পেশাবের পর ঢিলা নেয়া মাটির টুকরা শুকিয়ে যাওয়ার দ্বারা পবিত্র হয়ে যায়, তবে যদি নাপাকীর প্রতিক্রিয়া বাকি থাকে, তথা যেমন গন্ধ আসে তাহলে পবিত্র হবে না।

যদি গন্ধ না থাকে, তাহলে তা দিয়ে পুনরায় ইস্তেঞ্জা করা জায়েজ আছে। তবে তা ঘষে নেয়া উচিত। ব্যবহার না করা উত্তম।

যে ঢিলায় নাপাক লেগে আছে তা দিয়ে দ্বিতীয়বার ইস্তেঞ্জা করা নিষেধ।

فى حلبى كبيرى- بخلاف الجلد والأرض زالبئر فان الحكم بطهارتها مطلق وموافق للقياس لزوال اثر النجاسة، وكذا الارض اذا اصابها نجس وجفت، وحكم بطهارتها ثم اصابها الماء فى رواية تعود نجسة، وفى رواية لا والمختار الثانى لما قلنا، وكذا قال قاضىخان الصحيح انها لا تعود نجسة (غنية المستملى فى شرح منية المصلى المعروف الحلبى الكبيرى، فصل فى الأنجاس-136، قاضى خان مع الهندية-1/65 و الفتاوى الهندية-1/44

والله اعلم بالصواب

নামায না পড়লে ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়?

প্রশ্ন

নাম- উম্মে মারুফা আক্তার , কুমিল্লা

ভাইয়া, সালাফি আকিদার বেশ কিছু লোক প্রচার করছে। বে নামাজি কাফের , নামাজ ছেড়ে দিলে কাফের তাহলে কি ১৫০ কোটি মুসলিমের মধ্যে যারা নামাজ পড়ে না ; তারা কাফের হয়ে যাবে ? আজ পড়ে না হয়ত কাল পড়বে ।কিন্তু তারা কি করে কাফের বলছে ? ইবনে বায সাহেব নাকি ফতোয়া দিয়েছে ।

তাদের হাদিস গুলো –  ঈমান ও কুফরের পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ( মুসলিম ) – তাই বেনামাজি কাফের ?

২য় –  যে নামাজ ছেড়ে দিল সে কুফরি করলো !!

এই সম্পর্কে একটু গবেষণা মূলক বিস্তারিত ফেলে খুবি খুশি হবো ভাইয়া ।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

ইসলামী শরীয়তের মাসায়েল সম্পর্কে তাহকীক করে বিধান বলার অধিকার আল্লাহ তাআলা সবাইকে দেননি। দিয়েছেন। দুই ব্যক্তিকে। একজন হলেন নবীজী সাঃ। তিনি না থাকা অবস্থায় মুজতাহিদকে।

এ দায়িত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পরিস্কার ইরশাদ করেছেন-

وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ ۖ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَىٰ أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنبِطُونَهُ مِنْهُمْ ۗ وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَاتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلَّا قَلِيلًا [٤:٨٣]

আর যখন তাদের কছে পৌঁছে কোন সংবাদ শান্তি-সংক্রান্ত কিংবা ভয়ের, তখন তারা সেগুলোকে রটিয়ে দেয়। আর যদি সেগুলো পৌঁছে দিত রসূল পর্যন্ত কিংবা তাদের জ্ঞানী[ শরীয়ত বিশেষজ্ঞ মুজতাহিদ] পর্যন্ত,তখন তাদের মাঝে যাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা রয়েছে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতেন। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা যদি তোমাদের উপর বিদ্যমান না থাকত তবে তোমাদের অল্প কতিপয় লোক ব্যতীত সবাই শয়তানের অনুসরণ করতে শুরু করত! [সূরা নিসা-৮৩]

আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে একটি দু’টি হাদীস দেখেই পন্ডিতি করতে শুরু করে দেই। এ বিষয়ক হাদীসের পূর্ণ ভান্ডার তালাশ করে দেখি না। গায়রে মুকাল্লিদ মতবাদ ভ্রান্ত হবার মূল কারণও এটা। এক দু’টি হাদীস দেখেই লাফাতে শুরু করে দেয়। এ বিষয়ক হাদীসের ভান্ডার তালাশ করে দেখে না। দেখে না রাসূল সাঃ এর উক্ত ইরশাদ দিয়ে উদ্দেশ্য কি? মূলত এসব কম ইলম এবং গবেষণার অপরিপক্কতার কারণেই এসব লোক সমাজে হাদীসের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকে।

এ বিষয়টি বুঝতে হলে প্রথমে আমরা পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত ও তারপর কয়েকটি হাদীস দেখে নেই-

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ ۚ وَمَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا [٤:١١٦]

নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না,যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা,ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। [সূরা নিসা-১১৬]

عَنْ سَلَمَةَ بْنِ نُعَيْمٍ، قَالَ: وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ الرَّسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” مَنْ لَقِيَ اللهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَإِنْ زَنَى، وَإِنْ سَرَقَ

হযরত সালামা বিন নুআইম রাঃ বলেন, রাসূল সাঃ এর একদল সাহাবা রাঃ বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হয় [মৃত্যুবরণ করে] যে সে শিরক করেনি, তাহলে সে ব্যক্তি জান্নাতী হবে। যদিও সে যিনা এবং চুরি করে থাকে। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৮২৮৪, ২১৪৩৪, বুখারী, হাদীস নং-১২৩৭]

হযরত আবু জর গিফারী রাঃ থেকে একটি দীর্ঘ হাদীসে এসেছে। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন-

فَقَالَ: “مَا مِنْ عَبْدٍ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ ” قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: “وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ ” قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: “وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ ” ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ فِي الرَّابِعَةِ: “عَلَى رَغْمِ أَنْفِ أَبِي ذَرٍّ

যে ব্যক্তি বলে আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোন মাবুদ নেই, তারপর সে উক্ত হালাতে ইন্তেকাল করে তাহলে সে  জান্নাতী হবে। আমি বললাম, যদি সে যিনা করে এবং চুরি করে তাহলেও? রাসূল সাঃ ইরশাদ করলেন, যদিও সে যিনা করে বা চুরি করে। আমি আবার বললাম- যদি সে যিনা করে এবং চুরি করে তাহলেও? রাসূল সাঃ ইরশাদ করলেন, যদিও সে যিনা করে বা চুরি করে। এভাবে তিনবার বললাম, তখন চতুর্থবারের সময় রাসূল সাঃ বললেন, যদিও আবু জরের নাক কুঞ্চিত হয় তবু। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২১৪৬৬]

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلاَ يَشْرَبُ الخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلاَ يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ،

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, কোন যিনাকারী যিনা করার সময় মুসলমান থাকে না, কোন মদ পানকারী মদ পান করার সময় মুসলমান থাকে না, কোন চুরিকারী ব্যক্তি চুরি করার সময় মুসলমান থাকে না। [বুখারী, হাদীস নং-২৪৭৫, ২৩৪৩]

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيُّمَا مَمْلُوكٍ تَزَوَّجَ بِغَيْرِ إِذْنِ سَيِّدِهِ، فَهُوَ عَاهِرٌ»

অনুবাদ- হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে গোলাম মনীবের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে তাহলে সে জিনাকারী। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২০৭৮, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৪২১২, সুনানে দারামী, হাদীস নং-২২৭৯, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১১১১, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-২৭০৫}
এবার দেখুন নামায তরককারী সম্পর্কে হাদীস-

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ»

হযরত আবু বুরাইদা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূ সাঃ ইরশাদ করেছেন, আমাদের ও [মুনাফিকদের মাঝে] অঙ্গিকার রয়েছে তাহল নামায। সুতরাং যে নামায ছেড়ে দিল সে কাফের হয়ে গেল। [ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১০৭৯]

সারকথা

উপরোক্ত আয়াতে কারীমা এবং হাদীসগুলো সামনে রাখলে আমরা দেখতে পাই-

কুরআনের আয়াত বলছে শিরক ছাড়া আল্লাহ তাআলা যেকোন অপরাধ ক্ষমা করে দিতে পারেন। মানে শিরক ছাড়া এমন কোন অপরাধ নেই যা কাফেরদের মত চিরস্থায়ী জাহান্নামী বানায়।

৩ নাম্বারে উদ্ধৃত হাদীসটি বলছে যিনা বা চুরি করলে ব্যক্তি মুসলমান থাকে না, কিন্তু ১ ও ২ নং হাদীস বলছে যিনা বা চুরি করলেও ব্যক্তি জান্নাতী হবে। মানে এসব অপরাধের কারণে ব্যক্তি কাফের হয় না। কারণ কাফের চিরস্থায় জাহান্নামী। অথচ হাদীস বলছে যিনা বা চুরি করলেও ব্যক্তি জান্নাতী হবে।

আর চার নং হাদীসটি প্রমাণ করছে মনিবের অনুমতি ছাড়া বিয়েকারী যিনাকারী। কিন্তু উক্ত ব্যক্তির উপর যিনার শরয়ী শাস্তি প্রয়োগ হবে একথা কেউ বলেন না। কারণ এখানে আসলে যিনাকারী সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য নয়, বরং একাজটি গর্হিত অন্যায় এটি বুঝানো উদ্দেশ্য।

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসগুলো সামনে রাখলে আমাদের কাছে পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে। আসলে নামায ছেড়ে দেয়া মারাত্মক গোনাহের কাজ। এটি কাফেরদের মত কাজ। কিন্তু ব্যক্তি এতে করে কাফের হয়ে যায় না।

যেমন  চার নং হাদীসে গোলামটিকে যিনাকারী বলা হলেও তার উপর যিনার শাস্তি আসে না। মানে সে আসলে যিনাকারী হয় না। বরং ধমকের জন্য এটি বলা হয়েছে।

সুতরাং নামায ছেড়ে দিলেই ব্যক্তি কাফের হবে না। বরং কাফেরদের মত কাজ হয়। যদি কাফের হয়ে যেত তাহলে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদীস আসতো। অথচ নামায ছেড়ে দিলে চিরস্থায় জাহান্নামী হবার কোন হাদীস বা আয়াত বর্ণিত হয়নি।  বরং আল্লাহ তাআলা এবং রাসূল সাঃ পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন শিরক ছাড়া আর যত গোনাহই হোক না কেন, আল্লাহ তাআলা তা মাফ করে দিতে পারেন।

তবে হ্যাঁ, যদি কেউ নামায পড়া ফরজ নয় মনে করে নামায ছেড়ে দেয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তি কাফের। এতে কোন সন্দেহ নেই। কিংবা নামাযকে তাচ্ছিল্য করে নামায পড়া ছেড়ে দেয় তাহলেও উক্ত ব্যক্তি কাফের। কিন্তু অলসতাবশত নামায ছেড়ে দিলে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায় বলাটা কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক ছাড়া আর কিছু নয়।

আল্লাহ তাআলা এসব গবেষকদের হাত থেকে উম্মতী মুসলিমাকে হিফাযত করুন। আমীন।

والله اعلم بالصواب

3 thoughts on “আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব -১

  1. zaan ahsan says:

    ফরয গোসলের সময় শরীরে পানি ঢালার সময় যদি মূত্রনালী দিয়ে দু এক ফোটা মূত্র বের হয় তবে কি ফরয গোসল হবে??

  2. abdan rahman says:

    ডায়ালাইসিসের কারনে ওজু ভাঙ্গবে কিনা ?

  3. আহ্নাফ says:

    আমিও একটা প্রশ্ন করতে চাই

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s