আত্মীয়তার-সর্ম্পক ও এর মাহাত্ম্য

আত্মীয়তার-সর্ম্পক ও এর মাহাত্ম্য

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
এটি এমন এক বষিয় যার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা মানুষরে রজিকি বাড়যি়ে দনে, হায়াত র্দীঘ করনে, এবং মানুষরে ধন-সম্পদে বরকত দনে। এটি হলো আত্মীয়তা-সর্ম্পক। আত্মীয়তা-সর্ম্পক বলতে বুঝানো হয়, পতিা-মাতা, ভাই-বোন, ছলে-েমযে়ে এবং এসবরে র্উধ্বতন ও নম্নিতন আত্মীয়।
আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষা করা যে জরুরী, আত্মীয়তা-সর্ম্পক ছন্নি করা যে হারাম আর আত্মীয়দরে ভালো-মন্দরে খোঁজ-খবর রাখা, বপিদাপদে তাদরে পাশে দাঁড়ানো এবং তাদরে র্সাবকি কল্যাণ কামনা করার ফযীলত সর্ম্পকে কুরআনে কারমিে এবং হাদীসে অনকে বাণী উল্লখিতি হয়ছে।ে আল্লাহ যে সর্ম্পক অটুট রাখার নর্দিশে দযি়ছেনে, যারা তা অটুট রাখে তাদরে প্রশংসায় তনিি ইরশাদ করনে,
﴿وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الْحِسَابِ (২১) ﴾
‘আর আল্লাহ যে সর্ম্পক অটুট রাখার নর্দিশে দযি়ছেনে, যারা তা অটুট রাখে এবং তাদরে রবকে ভয় কর,ে আর মন্দ হসিাবরে আশঙ্কা কর।ে’[সূরা আর-রা‘দ : ২১]

পক্ষান্তরে যারা এ সর্ম্পক অটুট রাখে না তীব্র ভাষায় তাদরে ভর্ৎসনা করে আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿وَالَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ (২৫) ﴾
‘আর যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যে সর্ম্পক অটুট রাখার নর্দিশে দযি়ছেনে তা ছন্নি করে এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি কর,ে তাদরে জন্যই লা‘নত আর তাদরে জন্যই রয়ছে আখরিাতরে মন্দ আবাস।’[সূরা আর-রা‘দ : ২৫]
যারা পৃথবিীতে বশিৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং আত্মীয়দরে সাথে সুসর্ম্পক বজায় রাখে না তাদরে ধমক দযি়ে আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ (২২) أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ (২৩) ﴾
‘তবে কি তোমরা প্রত্যাশা করছ য,ে যদি তোমরা শাসন র্কতৃত্ব পাও, তবে তোমরা যমীনে বর্পিযয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদরে আত্মীয়তার বন্ধন ছন্নি করব?ে এরাই যাদরেকে আল্লাহ লানত করনে, তাদরেকে বধরি করনে এবং তাদরে দৃষ্টসিমূহকে অন্ধ করনে।’[সূরা মুহাম্মদ : ২২-২৩]
রক্ত-সর্ম্পকতি আত্মীয়দরে সঙ্গে সদাচাররে নর্দিশে দযি়ে আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا﴾
‘আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপররে কাছে চাও। আর ভয় কর রক্ত-সর্ম্পকতি আত্মীয়রে ব্যাপার।ে নশ্চিয় আল্লাহ তোমাদরে উপর র্পযবকে।’[সূরা আন-নসিা : ০১]
এসব আয়াত থকেে আমরা সুস্পষ্ট বুঝতে পারি আল্লাহ তা‘আলা আমাদরেকে আত্মীয়তা-সর্ম্পক অক্ষুণ্ন  রাখার নর্দিশে দযি়ছেনে এবং এ সর্ম্পক ক্ষুণ্ন করতে নষিধে করছেনে।
প্রযি় পাঠক, আমরা কি আল্লাহর বাণীর র্মম অনুধাবন করছে?ি আমরা কি রাব্বুল আলামনিরে ডাকনে সাড়া দবে না? নাকি এরপরও আমরা আত্মীয়-পরজিনদরে থকেে দূরত্ব বজায় রাখবো? নজিদেরে গোমরাহতিে ডুবে থাকবো? আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতার পুনরাবৃত্তি করতে থাকবো? আর রাব্বুল আলামনিরে নর্দিশে পালনে উদাসীন থাকবো?
আবু হুরায়রা রাদযি়াল্লাহু আনহু থকেে র্বণতি, তনিি বলনে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করনে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللهَ خَلَقَ الْخَلْقَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْ خَلْقِهِ قَالَتِ الرَّحِمُ هَذَا مَقَامُ الْعَائِذِ بِكَ مِنَ الْقَطِيعَةِ قَالَ نَعَمْ أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ أَصِلَ مَنْ وَصَلَكِ وَأَقْطَعَ مَنْ قَطَعَكِ قَالَتْ بَلَى يَا رَبِّ قَالَ فَهُوَ لَكِ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ ﴿فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ﴾
আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি জীবরে সৃজন কাজ শুরু করনে। যখন তনিি এ কাজ সমাপ্ত করনে, আত্মীয়তা-সর্ম্পক বলে উঠল, ‘এটি আপনার কাছে আত্মীয়তা-সর্ম্পক ছন্নিকারীর আশ্রয়স্থান’। আল্লাহ তা‘আলা বললনে, ‘হ্যা, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও, যে তোমাকে জুড়ে রাখবে আমওি তার সঙ্গে জুড়ে থাকবো আর যে তোমাকে ছন্নি করবে আমওি তাকে ছন্নি করবো?’ আত্মীয়তা-সর্ম্পক বলল, ‘জি হ্যা, হে আমার রব’। তনিি বললনে, ‘এটা শুধু তোমার জন্য’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলনে, তোমরা চাইলে এ আয়াত পড়ে দখে :
﴿فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ﴾
‘তবে কি তোমরা প্রত্যাশা করছ য,ে যদি তোমরা শাসন র্কতৃত্ব পাও, তবে তোমরা যমীনে বর্পিযয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদরে আত্মীয়তার বন্ধন ছন্নি করব?ে’[{আয়াত সূরা মুহাম্মদ : ২২} বুখারী : ৫৯৮৭]
আনাস বনি মালকে রাদযি়াল্লাহু আনহু থকেে র্বণতি, তনিি বলনে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করনে,
. إنَّ الرَّحِمَ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ تُنَادِي بِلِسَانٍ لَهَا ذُلَقٍ : اللَّهُمَّ صِلْ مَنْ وَصَلَنِي ، وَاقْطَعْ مَنْ قَطَعَنِي.
‘নশ্চিয় আত্মীয়তা-সর্ম্পক আরশকে আকঁড়ে ধরা একটি কাণ্ড, যা জহ্বিার ডগা দযি়ে বল,ে ‘হে আল্লাহ, তুমি তার সাথে জুড়ো যে আমার সাথে জুড়ে আর তুমি তাকে ছন্নি করো যে আমাকে ছন্নি কর।ে’ তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়াতা‘আলা বলনে, ‘রহীম রহমান (আমি দয়ালু, পরম করুণাময়) আর ‘রাহীম’ (الرحم)  তথা আত্মীয়তা-সর্ম্পক শব্দটকিে আমার নাম থকেে বরে করছে।ি সুতরাং যে এর সাথে সুসর্ম্পক রাখবে আমি তার সাথে সুর্ম্পক রাখবো আর যে এ সর্ম্পক ভঙ্গ করবে আমি তার সাথে সর্ম্পক ভঙ্গ করবো।’[ইবন আব্দরি রাজজাক, মুসান্নফ : ২৫৯০১]
আবু সুফযি়ান রাদযি়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণরে আগে বাণজ্যি সফরে শাম দশেে গলেে বাদশা হরোকল তাঁর কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরে ববিরণ জানতে চান। জবাবে তনিি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ববিরণ তুলে ধরনে এভাবে :
يَأْمُرُنَا بِالصَّلاَةِ وَالصَّدَقَةِ وَالْعَفَافِ وَالصِّلَةِ.
‘তনিি আমাদরে আল্লাহর ইবাদত, সালাত, সত্যবাদতিা, চারত্রিতি শুভ্রতা ও আত্মীয়তা-সর্ম্পক বজায় রাখার আদশে করনে।’[বুখারী : ৫৯৮০]
আমরা এ থকেে জানতে পার,ি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামরে সূচনাকালে যসেব বষিয়রে দাওয়াত দযি়ছেনে আত্মীয়তা-সর্ম্পক তার মধ্যে অন্যতম। আমরা আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষা করতে পারি দু‌ভাব।ে এক. কছিু কাজ করার মাধ্যম।ে যমেন : আত্মীয়দরে সঙ্গে সদ্ব্যবহার এবং তাদরে সঙ্গে সদাচার অব্যাহত রাখা। দুই. কছিু কাজ না করার মাধ্যম।ে যমেন : আত্মীয়দরে কষ্ট না দযে়া এবং তাদরে অনষ্টি না করা। প্রথমটি আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষার র্সবোচ্চ স্তর আর দ্বতিীয়টি র্সবনম্নি স্তর।
উল্লখে করা দরকার, আত্মীয়তা-সর্ম্পক আবার কয়কে ধরনরে। প্রথম. সাধারণ মুসলমানরে সঙ্গে সর্ম্পক। এটি আসলে দীনদাররি ভত্তিতিে সর্ম্পক, যা তাকওয়ার একটি শাখাও বট।ে এটি র্অজতি হয় নম্নিোক্ত কাজগুলোর মাধ্যমে :
একে অন্যরে শুভ কামনা করা, পরার্মশ নযে়া, পরস্পরকে ভালোবাসা, ন্যায়-ইনসাফ রক্ষা করা, ওয়াজবি বা জরুরী হক এবং যথাসাধ্য নফল বা ঐচ্ছকি হকসমূহ আদায় করা, মানুষকে সুশক্ষিা দযে়া, সুপথ দখোনো, দকি-নর্দিশেনা দযে়া, সৎ কাজে আদশে ও অসৎ কাজে নষিধে করা, মানুষরে প্রতি সহানুভূতশিীল ও অন্যরে দুখে সমব্যথী হওয়া এবং মানুষরে জন্য কষ্ট দূর করা। আর আমরা তো জানইি য,ে মুসলমি ভাইয়রে পথ থকেে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ঈমানরে র্সবনম্নি শাখা।

আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষার ফযীলত

আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষার দ্বারা মানুষরে হায়াত লম্বা হয় এবং ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায়। এটি কন্তিু যার তার কথা নয়; মহা সত্যবাদী, চরম শত্রু  কাফরেদরে পক্ষ থকেে আল-আমীন বা বশ্বিস্ত উপাধী লাভকারী আল্লাহর নবীর ওয়াদা, যার সর্ম্পকে কুরআনে র্সাটফিকিটে দযে়া হয়ছেে এভাব,ে
﴿وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (৩) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (৪) ﴾
‘তনিি আর মনগড়া কথা বলনে না। তাতো কবেল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্ররেণ করা হয়।’[সূরা আন-নাজম : ৩-৪]
তনিি ইরশাদ করনে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ أَوْ يُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ
‘যে ব্যক্তি কামনা করে তার রজিকি প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ু র্দীঘ হোক সে যনে আত্মীয়তা-সর্ম্পক বজায় রাখ।ে’[বুখারী : ৫৯৮৫; মুসলমি : ৪৬৩৯]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাও বলে গছেনে য,ে প্রকৃতপক্ষে আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষার কৃতত্বি তারই প্রাপ্য যে অন্য পক্ষ থকেে সর্ম্পক ছন্নি করলওে নজিরে পক্ষ থকেে তা জোড়া লাগায়। পক্ষান্তরে যার সাথে সর্ম্পক বহাল রয়ছে,ে তার সাথে সর্ম্পক রক্ষা করলে ব্যাস তা হবে র্সবোচ্চ ভালো সর্ম্পকরে প্রতদিানে ভালো সর্ম্পক। এটি যদওি আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষার মধ্যইে পড়ে কন্তিু যে ব্যক্তি সর্ম্পকরে টানাপোড়নে চলছে এমন আত্মীয়দরে সাথে সর্ম্পক জুড়বে তার সওয়াব অনকে বশেি এবং তার প্রতদিান অনকে বড়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করনে,
لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ وَلَكِنْ الْوَاصِلُ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا
‘সে আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষাকারী নয় যে সর্ম্পক রক্ষার বনিমিয়ে সর্ম্পক রক্ষা কর।ে বরং প্রকৃত আত্মীয়তা-সর্ম্পক রাকারী সইে, যার সঙ্গে সর্ম্পকে ফাটল ধরলে সে তা জোড়া দযে়।’[বুখারী : ৫৯৯১]
মহান এই দীনে আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষার প্রতি এত বশেি গুরুত্ব দযে়া হয়ছেে য,ে কাফরেদরে সাথওে সর্ম্পক রাখতে আত্মীয় অমুসলমি হলওে তার সাথে সর্ম্পক অমলনি রাখতে উৎসাহতি করা হয়ছে।ে আসমা বনিতে আবু বকর রাদযি়াল্লাহু আনহুমা থকেে র্বণতি, তনিি বলনে,
قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَفْتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُلْتُ وَهِيَ رَاغِبَةٌ أَفَأَصِلُ أُمِّي قَالَ نَعَمْ صِلِي أُمَّكِ
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরে জীবদ্দশায় আমার আম্মা মুশরকি থাকতে একবার আমার কাছে আগমন করলনে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামরে কাছে জজ্ঞিসে করলাম, তনিি আমার সাথে সর্ম্পক রাখতে আগ্রহী, আমি কি আমার আম্মার সাথে সর্ম্পক রাখবো? তনিি উত্তর দলিনে, হ্যা, তুমি স্বীয় মাতার সাথে সর্ম্পক ঠকি রাখো।’[বুখারী : ২৬২০; মুসলমি : ২৩৭২]
প্রযি় পাঠক, আমাদরে প্রযি় র্ধমে আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষার র্মযাদা এমনই। আমরা কি আল্লাহর নর্দিশে সর্ম্পকে অবগত? আমরা পালন করি তাঁর নর্দিশে? র্বজন করি তার নষিধেকৃত বষিয়গুলো? ভবেে দখেুন, আমরা কি আত্মীয়তা-সর্ম্পকই ঠকি রাখ?ি তাদরে সাথে সাক্ষাৎ কর?ি তাদরে খোঁজ-খবর নইে? আমরা তাদরে সাথে যোগাযোগহীনতা, তাদরে ব্যাপারে অন্তররে অনুদারতাকে ক্ষমার যোগ্য ভাবছ?ি
হে দুনযি়া-আখরিাতরে সাফল্য প্রত্যাশী ভাই, আত্মীয়তা-সর্ম্পক বজায় রাখুন। আত্মীয়দরে সাথে সর্ম্পকোচ্ছদে করবনে না কখনো। তাদরে সাথে সুসর্ম্পক রাখল,ে তাদরে সাথে যোগাযোগ ঠকি রাখলে কত বশেি সওয়াব আর কত লাভ তা সবসময় মনে রাখবনে।
জাননে কি আত্মীয়তা-সর্ম্পক ঠকি রাখলে কত লাভ?এর লাভ দুনযি়া-আখরিাত উভয় জগত।ে সংক্ষপেে সদেকিে ইশারা করছি :
ক.  আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষা করা ঈমানরে র্পূণতা ও ইসলামরে সৌর্ন্দযরে প্রকাশ।
খ.  আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষা করা রজিকি ও হায়াত বৃদ্ধরি কারণ।
গ.  আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষা করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি র্অজন হয়।

আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষার গুরুত্ব সর্ম্পকে র্পূবসূরী বুর্যুগদরে উক্তি

উমর রাদযি়াল্লাহু আনহু বলনে, ‘তোমরা তোমাদরে বংশগতি বদ্যিা শক্ষিা করো অতপর আত্মীয়দরে সাথে সর্ম্পক রক্ষা করো। আল্লাহর কসম! নশ্চিয় তোমাদরে একজনরে সাথে তার ভাইয়রে ববিাদ হব,ে যদি সে জানতো তার ও এর মাঝে আত্মীয়তা-সর্ম্পকরে কী গুরুত্ব রয়ছেে তাহলে তা তাদরে এই সর্ম্পক বনিষ্ট করা থকেে বরিত রাখতো।’(তাফসরিে তাবারী : ১/১৪৪)
আতা বনি আবি রাবাহ রহ. বলনে, ‘আমি আমার আত্মীয়র জন্য এক টাকা খরচ করাকে দরদ্রি ব্যক্তরি জন্য এক হাজার টাকা খরচ করার চযে়ে উত্তম মনে কর।ি একজন তাঁকে জজ্ঞিসে করলো, হে আবু মুহাম্মদ, যদি আত্মীয়টি ধনাঢ্যতায় আমার মতো হয় তবুও? তনিি বললনে, যদি সে তোমার চযে়ওে বড় বত্তিশালী হয় তবুও।’ (ইবনে আবদ্দিুনযি়া, মাকারমিুল আখলাক : ৬২ পৃ.)
সাঈদ বনি মুসায়্যাব রহ. কছিু র্অথ রখেে গযি়ছেলিনে। তনিি বলতনে, ‘হে আল্লাহ, আপনি জাননে আমি টাকা কবেল নজিরে দীন ও বংশকে নরিাপদ রাখার জন্য সঞ্চয় করছে।ি যে ব্যক্তি র্অথ সঞ্চয় করল না আর তা দযি়ে অন্যরে পাওনা পরশিোধ করল না এবং আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষা করতে পারল আর নজিকেে বাঁচাতে পারল না, তাতে কোনো কল্যাণ নইে।’ (ইবনে মুফলহি, আদাবে শরইয়্যা : ৩/২৬২।)
আমর বনি দনিার রহ. বলনে, ‘নশ্চিতি জনেো, ফরজ আদায়রে জন্য কদম ফলোর র্সবোত্তম পদক্ষপে সটে,ি যা আত্মীয়তা-সর্ম্পক রার জন্য ফলো হয়।’
সুলাইমান বনি মুসা রহ. বলনে, ‘আব্দুল্লাহ বনি মুহাইরসিকে জজ্ঞিসে করা হলো, আত্মীয়তা-সর্ম্পকরে হক কী? তনিি বললনে, যখন সে এগযি়ে আসে তখন তাকে স্বাগত জানানো আর যখন সে পছিযি়ে যায় তখন তার পছেনে যাওয়া।’ (প্রাগুক্ত)

আত্মীয়তা-সর্ম্পক বনিষ্ট করা থকেে সর্তককিরণ

এ আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষার মধ্যে যমেন অনকে সওয়াব ও বড় নকেি রয়ছে,ে তমেনি তা নষ্ট করার মধ্যে রয়ছেে অনকে গুনাহ ও ক্ষতকিারতিা। যমেন : বলা হয়ছেে আত্মীয়তা-সর্ম্পক বনিষ্টকারী জান্নাতে যাবে না। জুবাইর বনি মুতয়মি রাদযি়াল্লাহু আনহু থকেে র্বণতি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করনে,
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ
‘আত্মীয়তা-সর্ম্পক বচ্ছিন্নিকারী জান্নাতে প্রবশে করবে না।’[বুখারী : ৬৬৮৫; মুসলমি : ৪৬৩৭]
অন্য এক র্বণনায় রয়ছেে এ সর্ম্পক ছন্নিকারী যনে উত্তপ্ত বালি ভক্ষণ কর।ে আবু হুরায়রা রাদযি়াল্লাহু আনহু থকেে র্বণতি,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي قَرَابَةً أَصِلُهُمْ وَيَقْطَعُونِي وَأُحْسِنُ إِلَيْهِمْ وَيُسِيئُونَ إِلَيَّ وَأَحْلُمُ عَنْهُمْ وَيَجْهَلُونَ عَلَيَّ فَقَالَ لَئِنْ كُنْتَ كَمَا قُلْتَ فَكَأَنَّمَا تُسِفُّهُمْ الْمَلَّ وَلَا يَزَالُ مَعَكَ مِنْ اللَّهِ ظَهِيرٌ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَى ذَلِكَ
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জজ্ঞিসে করলো, হে আল্লাহর রাসূল, আমার কছিু আত্মীয় রয়ছে-ে আমি তাদরে সাথে সর্ম্পক রক্ষা করি আর তারা তা নষ্ট কর,ে আমি তাদরে সাথে ভালো ব্যবহার করি আর তারা আমার সাথে মন্দ ব্যবহার করে এবং তারা আমার সাথে র্মূখতাসূলভ আচরণ করে আর আমি তাদরে আচরণে ধর্য্যৈ ধর।ি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললনে, ঘটনা যদি তমেনই হয় যমেন তুমি বলছো, তাহলে তুমি যনে তাদরেকে উত্তপ্ত বালু খাওয়াচ্ছো আর যতক্ষণ তুমি তোমার এ অবস্থানে থাকব,ে তোমার সাথে আল্লাহর পক্ষ থকেে তাদরে বরিুদ্ধে সাহায্যকারী থাকব।ে’[বুখারী : ৬৬৮৯; মুসলমি : ৪৬৪০]
তাছাড়া আগইে যমেন উল্লখে করা হয়ছেে যে আত্মীয়তা-সর্ম্পক বনিষ্টকারীর জন্য রয়ছেে আল্লাহর লানত ও শাস্ত।ি আল্লাহ তা‘আলা বলনে,
﴿فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ (২২) أُولَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ (২৩) ﴾
‘তবে কি তোমরা প্রত্যাশা করছ য,ে যদি তোমরা শাসন র্কতৃত্ব পাও, তবে তোমরা যমীনে বর্পিযয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদরে আত্মীয়তার বন্ধন ছন্নি করব?ে এরাই যাদরেকে আল্লাহ লানত করনে, তাদে কে বধরি করনে এবং তাদরে দৃষ্টসিমূহকে অন্ধ করনে।’[সূরা মুহাম্মদ : ২২-২৩]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলনে,
﴿وَالَّذِينَ يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَنْ يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ أُولَئِكَ لَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ (২৫) ﴾
‘আর যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যে সর্ম্পক অটুট রাখার নর্দিশে দযি়ছেনে তা ছন্নি করে এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি কর,ে তাদরে জন্যই লা‘নত আর তাদরে জন্যই রয়ছে আখরিাতরে মন্দ আবাস।’[সূরা আর-রা‘দ : ২৫]
আর আত্মীয়তা-সর্ম্পক বনিষ্টকরার সবচযে়ে বড় নমুনা হলো পতিা-মাতার সাথে সর্ম্পক নষ্ট করা। তারপর যে সবচযে়ে কাছরে তার সাথ,ে তারপর যে সবচযে়ে নকিটতর তার সাথ।ে এজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলনে,
أَلَا أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ ثَلَاثًا قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ
‘আমি কি তোমাদরে সবচযে়ে বড় কবীরা গুনাহ সর্ম্পকে সর্তক করবো না? কথাটি তনিি তনিবার বললনে। আমরা বললাম, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। তনিি বললনে, আল্লাহর সাথে শরীক করা এবং পতিামাতার অবাধ্য হওয়া।’[বুখারী : ২৬৫৪; মুসলমি : ২৭০]
হায় আল্লাহ! পতিামাতার অবাধ্য হওয়া কত বড় অপরাধ যে আল্লাহর সাথে শরিকরে সাথে সাথইে এর কথা বলা হয়ছে!ে
আত্মীয়তা-সর্ম্পক বনিষ্ট করার আরকেটি হলো, আখরিাতরে আগইে দুনযি়াতে এর শাস্তি প্রদান করা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলনে,
مَا مِنْ ذَنْبٍ أَحْرَى أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى الْعُقُوبَةَ لِصَاحِبِهِ فِي الدُّنْيَا مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ الْبَغْيِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ
‘আত্মীয়তা-সর্ম্পক বনিষ্ট করা ও জুলুমরে চযে়ে অধকি উপয্ক্তু কোনো অপরাধ নইে যার শাস্তি সত্বরই দুনযি়াতে দযে়া হয়। অথচ আখরিাতরে শাস্তি তার জন্য বরাদ্দই থাক।ে’[মুসনাদে আহমদ : ২০৪১৪]

আল্লাহকে ভয় করার আহ্বান

অতএব হে আল্লাহর বান্দাগণ, আল্লাহকে ভয় করুন এবং আত্মীয়তা-সর্ম্পক ঠকি রাখুন। আত্মীয়তা-সর্ম্পক রক্ষা করুন তাদরে সাথে সাক্ষাৎ করা, তাদরেকে উপহার দযে়া, তাদরে পছেনে র্অথ ব্যয় করার মাধ্যম।ে তাদরে সাথে সর্ম্পক রাখুন ভালোবাসা, আন্তরকিতা, নম্র কথা, হাসমিুখ, সম্মান, শ্রদ্ধা এবং সমাজে প্রচলতি সব ধরনরে আত্মীয়তা রক্ষার উপায় অবলম্বনরে মাধ্যম।ে কামযি়াব হোন এর দ্বারা দুনযি়াতে ও আখরিাত।ে  আর অবশ্যই আপনারা এ সর্ম্পক নষ্ট করবনে না। কারণ তা দুনযি়া-আখরিাত উভয় জগতরে ক্ষতি ও বপিদ ডকেে আন।ে আল্লাহ তা‘আলা আমাদরে তাওফকি দনি। আমীন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s